ইউজার লগইন

আমি ও আমার বিশ্বাস

এখন আর কোন খবরেই মনের ভিতর আগের মত সেই ফুরা ফুরা ভাব আসেনা। আগে যেমন যেকোন ছোট খাট ভাল খবর শুনলেই মনের ভিতর শিহরন জাগতো, এখন চারিদিকে এত বেশি অন্যায় অবিচার আর কাঠ খোট্টা মনোভাব দেখে সত্যি খবর ও বিশ্বাস হতে চায়না, আমার কি দোষ!

দেশের পত্র পত্রিকায় যদি দেখি কেউ খুব অসুস্থ হয়ে সাহায্য চেয়ে একেবারে ব্যাঙ্ক একাউন্ট নাম্বার ও একাধিক মোবাইল নাম্বার দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় , দেখে আগে মনে হত আহারে সত্যি ই মনে হয় মানুষটা অনেক অসহায়, আর এখন মনে হয় এটা নিশ্চয় ই ফাও পয়সা কামানোর কোন ফন্দি। কে জানে হয়তো সত্যি কেউ অসুস্থ আর নিরুপায় হয়ে এমন বিজ্ঞাপন দিয়েছে কিন্তু যেহেতু এমন বিজ্ঞাপন ভন্ডরাও দিয়ে থাকে তাই মানুষ আর আজকাল কোনটাই বিশ্বাস করেনা। আর বিশ্বাস হবেই বা কেমন করে?

বিজ্ঞাপনে যদি লেখা হয় যে অমুকের ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে, চিকিতসার জন্য আশি লক্ষ টাকার প্রয়োজন, সবাই দয়া করে সাহায্য পাঠান অমুক ব্যাঙ্কের অমুক একাউন্টে, তখন কি যে কোন সাধারন মানুষের মনে প্রশ্ন আসেনা যে, চিকিতসার আগেই কেমন করে জানলো যে রোগীর ব্লাড ক্যান্সার, বেশিদিন বাঁচবে না যদি না বিদেশে না নেয়া হয় , আর চিকিতসার জন্য আশি লক্ষ টাকা র হিসাব কেমন করে জানা গেলো? এসবে মানুষ আর বিশ্বাস করেনা আজকাল।

দেশে যখন কথা বলি , অনেক সময় অনেক অবস্থাপন্ন আত্মীয় যার অবস্থা হয়ত বর্ননাতীতভাবে ভাল, আমাকে অনুরোধ করে বসবেন , " তুমি তোমার যাকাতের টাকা থেকে আমাকে কিছু দিও, আমার কিছু মানুষ আছে খুব গরিব, ওদের দিবো' এমন কথা শুনলে আমি খুব বিরক্ত হই কারণ যিনি বলছে ওনার সামর্থ আছে একাই নিজের সব গরিব আত্মিয়স্বজনের দেখাশুনা করতে পারেন, তবুও চারিত্রিক চোটলোকী অভ্যাস বশত অন্যের কাছে চেয়ে বসবেন।

অনেকেই মসজিদের জন্য চাঁদা চান এই বলে যে আখেরাতের জন্য ভাল হবে। আমি বিনয়ের সাথে বলি আপনি পারলে আপনার নিজের টাকায় মসজিদ করেন, আমি আমারটা করি, অন্যের কাছে চাওয়া খুব ই অন্যায়, কারন আপনার বুঝতে হবে অন্য মানুষের নিজস্ব হিসাব নিকাশ আছে, আপনি কেন অন্যদের কাছে চেয়ে তাদের বিব্রত করছেন।

আমাদের এই চাঁদাবাজি এখন আর শুধু এলাকার মাস্তান আর রাজনিতীবিদ দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। বিভিন্ন কায়দায় সকল স্তরে এমন কি পারিবারিক পর্যায়েও চলে চাঁদাবাজী।
কথাটা শুনতে হয়ত ভাল লাগবে না, কিন্তু এটাই সত্যি।

যেখানে বসে সাংসদ্ রা দেশের নীতি নির্ধারন করবে, সেখানে জাতিয় টেলিভিষনে আমরা দেখি, গালা গালি, কাদা ছোড়াছুড়ি। স্কুল কলেজ বিস্ববিদ্যালয়ে যেখানে থাকার কথা শুধুই পড়াশুনা, সেখানে হয় সারাক্ষন রাজনিতি, মারা মারি, চাঁদাবাজি, হয়রানি, নানান ব্যবসা বানিজ্য আর তারপর দেখি লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে গোল্ডেন জিপিএ ৫ জাতিয় রেসাল্ট করছে, কিন্তু ভাল কলেজ ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্ন পত্রই বুঝতে পারেনা। সেদিন এক টিভি চ্যানেলে দেখছিলাম এক সাংবাদিক কোন স্কুলের ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করছিল সে কোন ক্লাস এ পড়ে এটা্র উত্তর ইংরাজীতে দিতে, ছাত্রী তার উত্তরে অনেক্ষন হাঁ করে বসে থাকলো, এক ছাত্রী তো বলতেই পারলো না, আগের বছর সে কোন ক্লাস এ পড়ত, এই হল আমাদের দেশের পড়াশুনার মান।

দেশ গড়ার কারিগর রা যদি সারাক্ষন সংসদ আর টি,ভি'র পর্দায় মুখ খারাপ করে আক্রমনাত্তক কথা বলে বেড়ান, আর মানুষ বানানোর কারিগর যদি পড়ানো বাদ দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে মানুষ তো আর তৈরি হবেনা হবে কিছু গরু গাধা , কালোবিড়াল এসব।

আর এই অবস্থা যদি চলতেই থাকে এমন ভাবে তাহলে আমাদের মনের ভিতর আনন্দ, ফুর ফুরা ভাব, মানুষ কে বিশ্বাস করার প্রবনতা থাকবে কি করে !

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


সুন্দর লাগলো!

কুহেলিকা's picture


ভাল বলেছেন। মনের কথা।

টোকাই's picture


থ্যাঙ্কিউ

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.