ইউজার লগইন

বিজ্ঞাপন বার্তা

দেশের টিভি চ্যানেল দেখি আমি খুব। আর মজার ব্যাপার হল এইসব চ্যানেল এ মুল অনুষ্ঠানের প্রতি আমার আগ্রহ খুব কম। মানে আগ্রহ কমে গেছে কারন গতানুগতিক জিনিস হয় যেন ভাড়া করা মানুষ নিয়ে এসে কারো গুন গান শোনানো টক শো নামক অনুষ্ঠাণ গুলিতে, গানের অনুষ্ঠান গুলিতেও খুব কম পাই কাউকে যার গান ঘন্টা ধরে শুনতে ইচ্ছা করে আর খবরে তো দেখার কিছুই নাই কারণ ওখানে থাকে শুধুই সূয়োরানী আর দূয়ো রানীর কিসসা কাহিনী আর বক্তিমা , দেখলেই মনে হয় বলে উঠি " আ জাইগা ", কারন আমার খালি মনে হয় আমি যেন বাংলা সিনেমা দেখছি ।

অনেকদিন আগের কথা, তখন বাংলা সিনেমায় রানী সরকার নামের একজন ভদ্রমহিলা অভিনয় করতেন যিনি বেশিরভাগ ছবিতেই সৎ মা, চাচী কিংবা মোড়লের হিংসুক বউ এই ধরনের চরিত্রে, ওনার অভিনয় এতই নিখুত হত যে মনেই হত না সিনেমা দেখছি , যেন বাস্তবে কিছু দেখছি আর ইচ্ছা করত ওনাকে ধরে ওখানেই পিটাই, এতটাই বাস্তব সম্মত অভিনয় ছিল।
বাংলাদেশের আজকের রাজনিতি এখন রানি সরকার টাইপ চরিত্রের মানুষে ভরপুর, ওনাদের কাইজ্জা ফাসাদ এতই নিখুত যে দেশের রিক্সাওয়ালারাও নাকি এখন আর সিনেমাহলে গিয়ে মুভি দেখেনা কারন বাস্তবে, পত্র পত্রিকায়, টিভিতে সংসদে সারাক্ষন ই রগ রগে বাংলা সিনেমা হচ্ছে যা দেখতে একটা বাঘ মার্কা সিকিও খরচ হয়না, আহা কি শান্তি!

বাংলা টিভিতে আমার দেখার প্রিয় জিনিস গুলি হোলো ওদের বিজ্ঞাপন আর বাংলা সিনেমা।
আগে বাংলা সিনেমার কথা বলি। সিনেমার কালার , ফটোগ্রাফি, ভিডিও কম্পোসিশন দেখলে মনে হয় যেন ছবি গুলি সাম্প্রতিক কালের নয়, যেনো মোগল আমলের আগের বানানো ছবি যখন ছবি বানানোর টেকনোলজি আজকের মত এত উন্নত ছিলনা।ঝির ঝির করে আওয়াজ হয়, প্রায় ঝাপ্সা দৃশ্যগুলি, সম্পুর্ন রঙ্গিন হলেও দেখলে মনে হয় ছবি বানাতে গিয়ে রঙের ডিব্বা প্রায় খালি ছিল তাই রঙ খুজে পাওয়া যায়না, আর কাহিনি তো প্রায় আমার আগে থেকেই জানা, প্রায়শই কমন পড়ে যায়, একটু খানি দেখেই বলে দিতে পারি এরপর কি কি হবে। আর আগে ভিলেন এখন বড়ভাই চরিত্রে যখন ডিপজল ভাইয়াকে দেখি তখন ত আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই, হড় হড় করে বলে দিতে পারি ডিপজল ভাইয়া কোন ডায়ালগে কি কি গালি দিবে আর কোন ইশটাইলে ফ্লাইং কিক দিয়ে সবাইকে ধরাশায়ি করে ফেলবে। ছবি গুলির নাম নির্ধারন যারা করেন আর সেন্সর বোর্ডে যারা থাকেন ওদের কৃতিত্ব না দিয়ে পারা যায়না কিন্তু। নামগুলি র কথা চিন্তা করেন___ " বাবা কেন চাকর", "শান্ত কেন মাস্তান" , "বউ কেন বুয়া',
এগুলি হল বানিজ্যিক ছবি। আর যদি আর্ট ফিল্মের কথায় যাই, সেখানে জম্নের পর থেকেই দেখে আসছি ছবির কাহিনি হবে টিপিক্যাল । গ্রামের দৃশ্য, খুব গরিব পরিবারের কাহিনি, ভাত খেতে পায়না, একদম জরাজীর্ন অবস্থা, দেখলেই চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি ঝরে, কেউ কেউ আবার ফোস ফোস করে কাঁদে, কারন বাস্তবে বাপের জন্মেও মানুষ এমন করুন অবস্থা দেখে নাই কারো। আর এই ছবি গুলি আবার সিনেমা হলে চলে না, কারন সাধারন মানুষেরা আর্ট ফিল্ম দেখেনা,শুধুমাত্র আর্ট ফিল্ম বানালেই শুধু আপনি তাসখন্দ এ একটা পুরস্কার পাবেন, ওটা বান্ধায়ে দেয়ালে ঝুলায়ে পরিচালক আস্তের উপর হারায়ে যায়। বাঙালি আসোলে নকল করেও কিছু বানাতে পারেনা। ছবির উপর লেখাপড়া না করে, বাজেট না নিয়ে নেমে কি আর হুট করে সত্যজিত রায় হয়া যায়?

বাংলা টিভিতে আমার দেখার প্রিয় বিষয় হল বিজ্ঞাপন। কিছু কিছু বিজ্ঞাপন মনের ভিতর নাড়া দিয়ে ফেলে,চোখে পানি এনে দেয়, মুখে হাসি আনে, অনেক সময় অট্টহাসি আসে।
যেই মানুষগুলির মাথা থেকে এই বিজ্ঞাপন গুলির আইডিয়া আসে, আমি তাদেরকে স্যালুট করি।
বিশেষ কোরে রবি আর গ্রামিন ফোনের এড গুলি র তুলনা হয়না, যদিও এই মিষ্টি মধুর এড দেখিয়ে চোখের পানি আর মুখের হাসি এনে মানুষের মন কেড়ে নিয়ে মোবাইল কোম্পানি গুলি বোকা মানুষগুলিকে একের অধিক মোবাইল সিম কিনতে বাধ্য করে, আর পর্দার অন্তরালে এই মোবাইল কোম্পানিগুলি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাইতেও বেশি হারামি পনা করে বিদেশি কোম্পানির অংশীদার হয়ে অর্জিত লাভের বেশির ভাগ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ওসব নিয়ে আজ মাথা না ঘামাই, কারন আমরা তো এম্নিতেই নিজের সামান্য লাভের জন্য প্রভুদের পা চেটে মহা আনন্দ পাই। ধুর আমার সমস্যা হল আনন্দের কথা লিখতে গিয়ে আমি খালি নীতি কথা আউড়াই, খুব বিরক্তিকর!

যা বলছিলাম সেই কথায় ফিরে আসি, রবি'র ইদানিংকালের নতুন এড টা দেখে আমি আসোলেই অনেক খুশি, খুব ভাল লাগে, বার বার দেখি। এত সুন্দর আইডিয়া যা কিনা নতুন প্রজন্মের মনে সুন্দর , গঠন মুলক কিছু করার ধারনা তৈরি করতে পারে। এটা খুব পজিটিভ আইডিয়া।
এই ধরনের টাচি কাহিনী দিয়ে যদি সরকার জন্ম নিবন্ধন, প্রাথমিক শিক্ষা, ভোট দেয়া, আইন মানা, মানুষের নিরাপত্তা বিষয়, শিশুর নিরাপত্তা, নারীর নিরাপত্তা , দেশের প্রতি ভালবাসা, ঘুষ না দেয়া, বৃক্ষ রোপন,এসব জাবতিয় নাগরিক দায়িত্ব বিষয়ক ভিডিও চিত্র বানিয়ে সকল টিভি চ্যানেলে প্রচার করে , আমার মনে হয় মানুশের মনে সেটা প্রভাব বিস্তার করবে অনেক বেশি।

একটা উদাহরন দেই, শাহবাগের গনজাগরন মঞ্চ কিন্তু কোন রাজনোইতিক নেতার আয়োজন ছিলো না, ওটা ছিল অল্প কয়জন ব্লগারের বুদ্ধি আর আয়োজন, আর আমরা দেখেছি দেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতা কেমন ভাবে ওখানে সাড়া দিয়েছিল, যদিও দুষ্ট রাজনিতী সেটা থেকে ফায়দা লুটতে গিয়ে সেটার সর্বনাশ করে দিয়েছে। কিন্তু আসল কথা হল , পরে কি হয়েছে সেটা কথা নয়, কথা হল আমাদের দেশের মানুষ ঘুমের বড়ি খেয়ে আধ্মরা ভাব নিয়ে পড়ে থাকলেও ভাল কোন উদ্যোগ দেখলে সেটায় সায় দিতে ভয় পায়না। এটা বিরাট পজিটিভ সাইন। শুধু যুদ্ধ অপরাধির বিচার নিয়ে নয়, দেশের যেকোন নাগরিক স্বার্থ বিষয়েই এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত নাগরিক সমাজের। সারাক্ষন সারাবেলা মুখে এক কথা আর মনে আরেক কথা এই চিন্তা নিয়ে বস্তা পচা ফালতু সুশীল সমাজ নামধারি জাতির বোঝাদের কথা না শুনে "নতুন প্রজন্ম তোমরা এগিয়ে যাও, নিজের বুদ্ধিতে চল, দেশের কাজ কর, নিজের এলাকা দিয়ে শুরু কর, ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু কর, আগের মত পাঠাঘার গড়ে তুলো, ক্লাব বানাও, খেলা ধুলার আয়জন কর, ব্যায়ামাঘার বানাও, রাস্তা পরিস্কার কর, ময়লা পরিস্কার কর, মানুষ কে সচেতন কর যেন যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে।" শুরু করলেই শুরু হয়ে যায়, তোমরা শুরু করলে প্রবীন রা অবশই তোমাদের বাহবা দিবে, তমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে। তোমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়োজন দেখে সেটা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে তরুন সমাজের ভিতর, দেশে তখন একদিন বিশাল বিপ্লব ঘটবে দেশ রক্ষা করায়। হবে হবেই একদিন, শুধু তোমাদের সাহস করে এগিয়ে যেতে হবে, নইলে যে দেশ মানেই " মা ", আর সেই মা একদিন জরাজির্ন হয়ে হারিয়ে যাবে ধরা ছোয়ার বাইরে, আর তখন তোমরাই দায়ি থাকবে তার জন্য

আমি আমার আজকের বস্তা পচা বিরক্তিকর লেখাটা আমার খুব প্রিয় ছোটভাই , যার লেখায় আমি আমার হারিয়ে যাওয়া তারুন্যের দিন গুলি দেখতে পাই , সেই আরাফাত শান্ত'কে উতসর্গ করছি।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস ভাই!
ভালো ভালো কথা কিন্তু কারোর শুনার সময় নাই!

শওকত মাসুম's picture


শান্ত মোটেই মাস্তান না Laughing out loud

টোকাই's picture


হ্যাঁ কথা ঠিক ! শান্ত মোটেও মাস্তান না, খালি চা খায়

টুটুল's picture


শান্তর লাইফটা খুবি ভাল্লাগে

টোকাই's picture


আমার ইচ্ছা করে শান্ত'র সাথে লাইফ বদলা বদলি করতে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.