ভিন্নমত
৪/৫টা পৌরসভার নির্বাচনে জিতে বিএনপি নিজেদের খুব জনপ্রিয় ভেবে নিজেরাই নিজেদের পিঠ চাপড়াচ্ছে আর ভাবছে জাতীয় নির্বাচনেও বিজয় সুনিশ্চিত। আসল ব্যাপার দেশের মানুষ যেমন জানে ,ওরাও জানে।এটা কারোই জনপ্রিয়তার ফল নয়, এটা দিশেহারা মানুষের খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টার বহিঃপ্রকাশ।
স্বাধীনতার পর থেকেই সব কয়টা সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে যখুনি নির্বাচন হয়েছে মানুষ বিরোধি দলকে ভোট দিয়ে স্বস্তি পেতে চেষ্টা করেছে। এটা কারোই জনপ্রিয়তার কারণে নয়, যদিও মানুষ খুব ভাল করেই জানে যে যারা ক্ষমতায় আসছে তারা মোটেও ধোয়া তুলসি পাতা নয়, তবুও মন্দের ভাল এটাই ভাবার চেষ্টা করে।
আজ যারা বিরোধি দলে আছে ওরাই পাঁচ বছর আগে ক্ষমতায় ছিল । চুরি ডাকাতিতে আমাদের দেশের রাজনিতিবিদরা বিশ্বের নাম করা। সেটা যেই হোকনা কেন। অতীতের রেকর্ড ভুলে গিয়ে নতুন করে আবার ক্ষমতায় যাবার আশায় যখন হৃদয় স্পর্শি বক্তৃতা দেয়, আমি অবাক হয়ে ভাবি , এরা কি সত্যি রক্ত মাংশের স্বাভাবিক মানুষ নাকি কান্ড জ্ঞ্যানহীন দানব !
সংসদে কথা বলার বিষয়বস্তু আর আচরণ দেখে হতবাক হয়ে ভাবি , এরা কত বড় নির্লজ্জ বেহায়া যে জাতিয় টেলিভিশনের সামনে যা মনে আসছে তাই বলে যাচ্ছে যেন বস্তিতে অশিক্ষিত দিন মজুরেরা ঝগড়া করছে। শুধু আমাদের দেশেই মনে হয় মানুষ রাজনিতি করে বিনা পুঁজিতে সীমাহীন অর্থ উপার্জনের সহজ পেশা হিসেবে, জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে ওদের সেবা করার জন্য নয়।
কান্ড জ্ঞ্যান নাই বলেই তো নিজের দেশের নোবেল বিজয়ী সারা বিশ্বের নন্দিত মানুষটাকে অপমান করে এক ধরনের পৈচাশিক আনন্দ লাভ করে দেশের বিজ্ঞ রাজনিতিকরা। আমিতো কোন মানুষের নীতিবোধ দেখি না। আগে ভাবতাম যারা বাম রাজনিতী করে ওরা কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়না, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা সম্পুর্ন উলটা। যখন দেখি দিলীপ বড়ুয়া'র তেল চকচকে চেহারা আর দাম্ভিক কথা বার্তা,যখন দেখি ঢা বি তে স্পঞ্জের স্যান্ডাল আর গেরুয়া পাঞ্জাবি পড়া নুর আলি কে দেশের প্রথম সারির শিল্পপতি হিসেবে, আর অবাক হইনা। এখন আমার মাথা একদম পরিস্কার। সেটা হল, আমাদের দেশে কোন ভাল মানুষ নাই, সব দুই মুখি সাপ। আগেও বলসিলাম আমাদের রক্তে বিরাট সমস্যা আছে যার জন্য আমাদের এই করুন অবস্থা আর ফিরিঙ্গি মনোভাব।
শুধু রাজনিতিকরা নয়, যেদিকেই তাকাই এক ই দৃশ্য। আমরা সবাই রাজা, সবাই কুতুব , সবাই মহাজ্ঞ্যানের ভান্ডার। আমার মনে হয় ওইজে গ্রাম্য প্রবাদ " ছাল নাই কুত্তার বাঘা নাম" এটাই মনে হয় আমাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। আর তাইতো দেশের বাইরে এসেও আমরা আমরা আমাদের কম্যুনিটি;'র সাথেও রাজনিতি করে নিজের একার আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করি সব সময়।
পৃথিবীর অনেক দেশের মুস্লিম আছে বিদেশে। কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশিরা কোন দিন একসাথে রো্যা আর ঈদ করতে পারেনা। সব সময় ভিন্ন দিনে রোযা শুরু করে আর তাই ঈদ ও একাধিক দিনে হয়ে থাকে। ইউনিটির অভাবে আর সত্যিকারের শিক্ষার অভাবে এক পরিবারের আত্মিয়রাও ভিন্ন দিনে ঈদ পালন করে। এমন দুঃখজনক ব্যাপার মনে হয় আর কোন দেশের মানুষের জীবনে ঘটেনা।
আমাদের দেশের মানুষ শুধু আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে নয়, ইনফেরিয়রিটি কমপ্লেক্সেও ভুগে মারাত্তকভাবে। নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় প্রমান করার জন্য লাগামহীন কথাবার্তাও বলে ফেলে যা আসোলেই হাস্যকর। একটা ঘটনা বলি। কয়দিন আগে কানাডা'র মন্ট্রিয়েল শহরে বেড়াতে গেসিলাম। তার আগে বলে নেই, কানাডায় বাংলাদেশের অনেক মানুষ কাজ করার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অফিসিয়ালি কাজ না করে ওয়েলফেয়ার মানে খয়রাত খায় বসে বসে, আর লুকায়ে নগদে কোথাও কাজ করে। হয়ত এসবের সত্যি ই কোন দরকার ছিল না । কিন্তু খয়রাত খাবার লোভ আমাদের দেশের মানুষ কখনোই ত্যাগ করতে পারেনা। আগের কথায় ফিরে আসি। মন্ট্রিয়েল এর এক বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে আরো দু'চারজন দেশি মানুষের সাথে গল্প হচ্ছিল, এক পর্যায়ে একজন বলে ফেললো " ওহ , আপনি নিউইয়র্কে থাকেন? কি বল্বো ভাই, গেইসিলাম ওখানে বেড়াতে, ব্রুকলিনে গিয়ে দেখি সব বাঙ্গালিরা রাস্তায় ভিড় করে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারতেসে, আর কি নোংরা সবার কাপড় চোপড় , গ্রাম্য কথা বার্তা", এমন কমেন্ট শুনে আমি উত্তর না দিয়ে পারলাম না, আর সেই উত্তর অনেক রুড় ভাষায় দিয়ে ফেলসি।
আমি বললাম " ভাই, আপনি ব্রুকলিন এর যে বাঙ্গালিদের দেখে এমন কমেন্ট করলেন, যদি ওদের আসল খবর জানেন, তাহলে মুর্ছা যাবেন। ওরা কিন্তু আপনাদের মত বসে বসে খয়রাত খায়না, উলটা ওদের সবার নিজস্ব কন্সট্রাকশন কোম্পানি আছে, ওরা এত টাকা কামায়, ট্যাক্স দেয়, দেশে পাঠায়, আর ওদের তোষকের নীচে যেই পরিমান ক্যাশ থাকে তা আপনি খয়রাত খেয়ে সেটা কল্পনাও করতে পারবেন না "
ভদ্রলোক আমার কথায় রিতিমত অপমানিত বোধ করলেন, কিন্তু আর কথা না বাড়িয়ে চুপ হয়ে গেলেন। এই হোল আমাদের সমস্যা। আমরা নিজে কি সেটা চিন্তা না করেই অন্যকে নিয়ে মতামত দিয়ে ফেলি অবলীলায়।





বাংলাদেশে কোনো দল জেতে না, হারে। হারে বলেই আরেক দলকে বিজয়ী বলতে হয়
আমরা এমনি। মঙ্গলে গেলেও এমন থাকবো!
আমরা অতি সহজেই সবকিছু ভুলিয়া যাই আর আমাদের অতি প্রিয় রাজনীতিবিদগণ ইহা খুব ভাল করিয়াই জানেন!
বাঙ্গালীরা যখন অনার্য, জৈন, বৌদ্ধ, হিন্দু ছিল--এত খারাপ ছিল কি? এখন হিন্দু,মুসলমার নির্বিশেষে বাঙ্গালীরা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন