অফুরন্ত অবসর
দেশে বিদেশে বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়স্বজন , ভাই বোন যারেই ফোন দেই, সবাই মহা ব্যস্থতা দেখায়। এক্সপ্রেস ট্রেনের মত ছুটছে সবাই। কারো কোন সময় নাই থেমে একটু বাতচিত করার। আমার কেন জানি কোন ব্যস্থতা নাই। তাই বলে মনে কইরেন না যে আমি বেকার , অলস কোন চাল কুমড়া। আমার প্রতিদিনের যত কাজ আমি ঠিক করে ফেলি, তারপর ও দেখি আমার হাতে অনেক সময়।
সেই ছাত্রজীবন থেকেই শুরু। পরিক্ষার আগের দিন ও আমি সারা রাত জেগে , না ঘুমিয়ে চোখ লাল করে পরিক্ষার হলে যাইনি কোন দিন। যতটুকু পড়ার সেটা ওই রেগুলার সময়ের ভিতরেই শেষ করে তারপর " মাসুদ রানা" পড়তাম। পরিক্ষার হলে আমি জীবনেও পুরা তিন ঘন্টা কাটাতে পারি নাই। দুই আড়াই ঘন্টার ভিতর লেখা শেষ হয়ে যেতো, বার বার রিভাইস দেয়ার ধৈর্য আমার কোন্ দিন ছিল না। দেখা যেতো সবার আগে পরিক্ষার হল থেকে বের হয়ে বাইরে একা বসে সিগারেট টানছি। বন্ধুরা বের হয়ে জিজ্ঞেস করতো কিরে, পরিক্ষা কেমন হল? জবাব দিতাম যেমন হবার তাই হয়েছে। আমি কখনোই সুপার স্টুডেন্ট ছিলাম না। কখনই পড়তে পড়তে পাগল হয়ে যাবার মত বান্দা আমি ছিলাম না। তাই বলে ফেল মারা টাইপ ছিলাম না কিন্তু। সব কিছুতেই মাঝা মাঝি, আর ওইটুকুতেই আমি মহা সন্তষ্ট।
সবকিছুতেই আমি তাড়াহুরা করি খুব। যেটা পরে করতেই হবে তাই আমি লাস্ট মিনিটের জন্য অপেক্ষা করতে পারি না। সময়ের আগেই শেষ করে হাত পা গুটিয়ে বসে ঝিমাই। ফ্লাইট এর রিপোর্টিং টাইমের আগেই আমি চেক ইন করে বোর্ডিং পাস হাতে নিয়ে চা কফি , বাদাম কিনে বই খুলে ওয়েটিং লাউঞ্জে আরাম করে হাত পা ছরায়ে বসে খাই আর পড়ি। কোন দাওয়াত , আড্ডায় ও আমি সবার আগে হাজির হয়ে দেখি তখনো কেউ আসে নাই, আমার খারাপ লাগে না। লাস্ট মিনিটে দৌড়াতে আমার একটুও ভাল লাগেনা। আর এই কারনে আমার অফুরন্ত অবসর। বন্ধুদের ফোন করি গেজানোর জন্য। কিন্তু সব সময় লম্বা গল্প করার মানুষ খুজে পাইনা। সবাই ব্যস্থ। বই কিনে শেষ না হয়া পর্যন্ত শান্তি নাই। অনেকদিন লাগিয়ে পড়তে গেলে আমি আগে কতটুকু আর কি পড়সিলাম তার খেই হারায়ে ফেলি। তাই যখন ধরি, শেষ করে উঠি।
কেউ যখন ধার চায় সেটা যদি দেবার মনস্থির করি, ,তাড়াতাড়ি টাকাটা দিয়ে ফেলার জন্য অস্থির হই মনে মনে। ভাবটা এমন যে দিতেই যখন হবে আজাইরা ঘুরানোর কি দরকার। কিছু যদি পছন্দ হয়ে যায় , ওটা না পাওয়া পর্যন্ত শান্তি নাই। অবাক ব্যাপার হল, আগেই বলসি আমি কোন সুপার স্টুডেন্ট ছিলাম না। কিন্তু জীবনে কখনো কোথাও আটকাই নাই। কেমন করে যেন পার হয়ে গেসি কারো সাহায্য ছাড়াই। কোন কিছু করার জন্য আমি কোন দিন মহাপরিকল্পনা করি নাই। যখন যা মনে আসে করে ফেলার চেস্টা করসি। আর সব হয়েও গেসে। ছোটবেলায় বড়দের প্রেসারে অনেক নামায পড়লেও বড় হবার সাথে সাথেই ওটায় ভাটা পড়ে গেসে, মানে ফাঁকিবাজ হয়ে গেসি। তারমানে এইনা যে আমি ধর্মের বিপক্ষে কোন কথা বলবো। প্রশ্নই আসেনা। আমি মনে প্রানে ধর্মে বিশ্বাস করি। আর মনে মনে এও ভাবি, বড় মিয়া মনে হয় আমারে খুব ভালা ফায়, তাই পার কইরা দেয় বৈতরনী।
সেই কবে থেকে শুরু। ছিলাম কচি বয়সের একা মানুষ। আস্তে আস্তে বয়স বাড়সে, শাখা প্রশাখা গজাইসে। জীবনের পরিধি বড় হইসে। কিন্তু আমি আগের মতই সব তাড়াতাড়ি ম্যানেজ করে ফ্রি হয়ে যাই। হাতে প্রচুর সময় পাই। এত সময় পাই, মাঝে মাঝে করার কিছু পাইনা, কথা বলার সংগীও পাইনা। আগে বিরক্ত হতাম কেউ ব্যস্ততা দেখালে। মনে করতাম মানুষ এত ল্যাথারজিক আর প্যাথেটিক স্লো কেন সব কিছুতে। কেন নিজের মত করে একা নিজের জন্য কিছু সময় বের করে উপভোগ করার কথা ভাবেনা?
আমি আমার পরিচিত আর দশজনের মত মহা জ্ঞ্যানী, মহাব্যস্ত ভাব নিয়ে চলতে পারলাম না। খেতে বসলেও আমার তাড়াহুড়া । যত মজার খাবারই হোকনা কেন সবার আগে খেয়ে হাত গুটিয়ে বসে অন্যদের খাওয়া দেখি। কি করবো খুজে পাইনা। একা হয়ে যাই নিজের এই অভ্যাসের জন্য।
বই পড়ি, বাগান করি, বেশ কয়টা সিরিয়াল কখনোই মিস করিনা। রান্না করতেও দারুন মজা লাগে। ভিন্ন ধরনের কোন রান্না। ফুড চ্যানেল এ অনেক রেসিপি দেয়। মুড থাকলে খুব আয়োজন করে রান্না করা শুরু করে দেই। বিরক্ত লাগেনা।
বই পড়ার নেশা অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সারাক্ষন বই পড়তে আমার ভাল লাগে না। আর পছন্দের বই পাওয়া প্রবাশে আরেক বড় ঝামেলা। রকমারি ডট কম থেকে আনাইসি কিছু, কিন্তু ভাইয়েরা ডলারে চার্জ করে আমার বারোটা বাজায়, ইমেইল করে কাকুতি মিনতি করলাম দেশি টাকায় দাম নিতে। মহা ত্যাদড়! বিনয়ের সাথে আমার আবেদন নাকচ করে দিলো। অগত্যা কে কখন দেশে যাচ্ছে আসছে তাদের রিকোয়েস্ট কইরা কিছু আনাই। যদিও এই কাজটা আমি খুব হেট করি।
প্রিয় বন্ধু হামিদ কে বললাম আরজ আলি মাতব্বরের পুরা সিরিজ পাঠাইতে। শুইনা কয় ওইদিকে যাবি কেন? বুঝি নাই কথাটা। পরে যখন এক্সপ্লেইন করলো, কইলাম , বাপ কারো কোন লেখা পইড়া মত পরিবর্তনের বয়স আর নাই। শুধু জানতে চাই কে কি লিখল?
হিরক রাজার মত চিন্তা করলে তো আর হইবো না, ওইযে কইসিলো " জানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই।"





রকমারির মাধ্যমে বিদেশে বই পাঠানো যায়?! জানতামনা তো!
রকমারি ডট কম থেকে অর্ডার করা যায়।
অফুরন্ত অবসর উদযাপন করেন আনন্দে। গুড পোস্ট!
আগে দিনের বেশীর ভাগ সময়ই বইয়ের মাঝে ডুবে থাকতাম আর এখন বই পড়ারও সময় পাইনা।
চমৎকার পোষ্ট।
বই পড়ার, সিনেমা দেখার আরো সবয় চাই
ঠিক কইসেন মাসুম ভাই
আমারো বেকার সময় যাচ্ছে
মন্তব্য করুন