বন্ধুর সাহচর্য
এ বি তে এখন ঈদ আনন্দ। মোবাইল দিয়ে চেক করি যখন তখন। অনেক নতুন নতুন লেখা পড়তে পারছি। আহ কি শান্তি! আচ্ছা এবি'র এই আনন্দ কি শুধু ঈদ পর্যন্ত থাকবে? তারপর আবার আগের মত ঘুম ঘুম পরিবেশ চলে আসবে? আচ্ছা, যতক্ষন আনন্দ হচ্ছে সেইটা উপভোগ কইরা লই। এখুনি এত হা হুতাশ করে কি হবে !।
আজ ব্লগে ঢিকে আমার আগের লেখাটায় অনেক কমেন্ট দেখে আমিতো পুরাই টাস্কি। সবাই কত মহান। আমার লেখাও পড়সে। অনেক ধন্যবাদ সবাইকে। আমার ভাল লাগতেসে এই ভেবে যে আমি আস্তে আস্তে এবি তে যায়গা করে নিচ্ছি সবার ভিতর। সত্যি কথা বলি, এমন প্রানবন্ত একটা গ্রুপের অংশ হতে পেরে আমার মহা শান্তি লাগতেসে। যেখানে কেউ আজাইরা খালেদা / হাসিনা'র গীত গেয়ে গলা ফাটায় না। বরং সবাই খুব আন্তরিক ভাবে ইফতার পার্টির কথা বলে। শান্ত অভিমানি কথা লিখে। ওর কথা শুনে অনেকে শান্তকে শান্তনা দেয়। দেখলেই ভাল লাগে। সবার প্রতি সবার অন্যরকম ভাল বাসা আছে দেখে। এমন একটা ফোরাম অংশ হতে পারলে আমার আর কিছুই চাইনা। আসোলেই।
যাইহোক, আমি এখন মহা ব্যস্ত আমার প্রিয় বন্ধু কে নিয়ে। আর দুইদিন পর বেটা টেক্সাসে চলে যাবে আমাকে ফেলে। তখন আমি আবার আগের মত একা হব। বন্ধুরে নিয়া কত কি করি তার হিসাব নাই। আমার যত পছন্দের খাবারের দোকান আছে, সব যায়গায় নিয়ে যাচ্ছি।
আজ দুপুরে খাইতে গেসিলাম গ্রিক রেস্তোরায়। দোস্তরে কইলাম কি খাবি, মেন্যু দেখ। বলে তুই তোর পছন্দ মত অর্ডার দে। আমি আমার পছন্দের সালাদ, গ্রিল্ড চিকেন, রাইস পিলাফ ( সেদ্ধচাল অলিভ অয়েল দিয়ে নরম করে রাঁধা), ম্যাসড পটেটো আর স্টার ফাইড মিক্সড ভেজিটেবলএর অর্ডার দিলাম। গ্রিক মহিলা অর্ডার নিয়ে এসে টেবিলে সাজিয়ে দিয়ে " এঞ্জয়" বলে চলে গেলো। বরফ দেয়া ঠান্ডা পানির জগ দিয়ে গেলো।
খুব সুন্দর সুগন্ধ বের হচ্ছিল খাবার থেকে ।আমার জ্বিবে পানি চলে এলো । কিন্তু বন্ধুর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর মুখ পুরা কালো। জিজ্ঞেস করলাম , "কিরে তর মন খারাপ কেন ? হটাত কি দেশের কথা মনে হইসে নাকি? " সে আমার দিকে ত্যেড়া করে তাকায়ে বলে এসব কি অর্ডার দিলি তুই। এসব লতা পাতা মাইনষে খায় নাকি বেটা। আমি হাসব না কাদব বুঝতেসিলাম না। কইলাম খেয়েই দেখনা কেমন মজা। এক চামচ ভাত মুখে দিয়ে কয় , ভাতের স্বাদ নাকি বস্তিতে ক্ষুদ দিয়ে জাউ রান্না করলে যেমন গন্ধ বাইর হয় ঠিক তেমন। শুনে আমি হো হো করে হেসে উঠলাম।কিন্তু যখন অনেক ভাল করে ম্যারিনেট করা গ্রিল্ড চিকেনের টুকরা মুখে দিলো,দেখলাম চেহারায় একটু খুশির ভাব। বুঝলাম পছন্দ হইসে। মিক্সড ভেজিটেবলের মধ্যে বেগুন দেখে বলে বেগুন ও একটা তরকারি হইলো নাকি? ওরে কইলাম যে বেগুন এখানে অনেক প্রিয় একটা সবজি। আর খাইতে আসোলেই অনেক মজা। আমি দেশে যখুনি যাই , অনেক দাওয়াত খেতে যাই। খেয়াল করেছি সালাদ আর সবজি খুব অবহেলিত খাবার আমাদের দেশের খাবারের তালিকায়। তার বদলে থাকে সব তেল তেলে খাবার। ওসব খেলে কোন সমস্যা হয়না কারো। কিন্তু সালাদ খেলে পেট নাকি ফাপায়। রাতে নাকি সবজি খেলে বদ হজম হয়। দুধ খাইলে পেট খারাপ হয়। কিন্তু বাটি ভর্তি দই আর মিষ্টী খাইলে কোন সমস্যা হয়না।
যাইহোক আগের কথায় ফিরে আসি। আমি খুব মজা করে খাইলাম তেল মশলা ছাড়া গ্রিল্ড আর সেদ্ধ সবজি , সালাদ দিয়ে। বন্ধু বেশি খাইতে পারে নাই। বেচারা চেহারা কালো করে খাওয়া শেষ করলো কোনমতে। জিজ্ঞেস করলাম চা কফি কিছু খাবি নাকি, বলে এস্প্রেসো কফি দিতে বল। আমি কইলাম দোস্ত তুই কি জানিস, এস্প্রেসো কফি কি জিনিস? কয় কেন জানুম না, ওইযে ফেনা উঠানো কফি। আমি বুঝলাম দেশে কেউ ভুল নামে চালাচ্ছে এটা। তখন আমি ওর জন্য একটা কাপোচিনো কফির অর্ডার দিলাম। ওটা আসলে দেখে বলল, হ্যাঁ, এটাই তো চাইলাম। আমি তখন ওরে বুঝাইলাম যে এটা এস্প্রেসো না, কাপোচিনো। আর এস্প্রেসো হইলো খুব ছোট কাপে থক থকে ঘন কালো আর অনেক তিতা কফি , যা খুব সকালে কিছু মানুষ খেয়ে থাকে। আমি একবার এস্প্রেসো মুখে দিয়ে মনে হইসিলো ছোট বেলায় জ্বর হইলে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার লাল রঙের অনেক বিস্বাদ মিকচার খাইতে দিতো, সেই কথা। যেটা মুখে দিলেই পেট উলটে সব বের হয়ে যেতে চাইতো। কোনভাবেই ওই মিকচার আমি খেতে পারতাম না।
বন্ধু আমার খাবারের অভ্যাস দেখে বলে তুই দেখি পুরাই বদলায়ে গেসস বেটা। আমি জবাবে কই , শুন, আমাগো দেশি ডাইল ভাত আর আলুভর্তার উপর কোন খাবার নাই আমার কাসে। কিন্তু সেইটা শুধু ভাল লাগে বাসায় রান্না করে খাইতে। বাঙ্গালী রেস্তোরায় খেয়ে অযত্নে বানানো খাবারে শুধু যে অরুচি হয় তা নয়, পেট ও খারাপ হয় । কিন্তু অন্য দেশের এত স্বুসাধু খাবার খেতে যেমন মজা, আর খাওয়ার পর পেটে কোন ব্যড ফিলিংস হয়না।
আমাদের দেশের মানুষের ইগো প্রব্লেম মারাত্বক। সবার ধারনা যারা বড়লোক, ওদের লাইফ স্টাইল পুরাই বনেদি আর ফরেন। কিন্তু দেশ বিদেশ না ঘুরলে , ভিন্দেশি মানুষের সাথে না মিশলে, ওদের কালচার না দেখলে, ওদের খাবার না খেলে কেমন করে সবাই জানবে দুনিয়াতে কত কি জানার বাকি রয়ে গেসে। আমাদের দেশের মানুষগুলি দেশে অনেক টাকা কামিয়ে শুধু নিজের বউ পরিবার নিয়ে অট্রালিকায় থেকে ভাল তেলতেলে খাবার খেয়ে আর বিদেশে বেড়াতে গিয়েও শুধু হালাল (?) আর দেশি খাবারের খোজ করে।, কিন্তু বিদেশি মদ, বিদেশি সিগারেট না হলে কিন্তু ওদের চলে না। আর শপিং এর বেলায় ত সব দামি ব্র্যান্ডের না হলে চল্বেই না। এখানে একটা কথা বলি। আমেরিকার যে কোন শপিং মলে যে কোন ব্রান্ড এর জিনিস কিনতে গেলে আপনি যদি চেক করেন সেটা কোন দেশে বানানো, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে সেটা মেইড ইন চায়না/ শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ বা অন্য তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশে বানানো।ার দেশ থেকে আসা মানুষেরা কিছু না বুঝেই বলে ফেলে, ধুর চায়না'র মাল ভুয়া। এই দেশে কি কিছুই বানায় না? এই মানুষ গুলি কেন বুঝে না যেই মালের লেবেলে মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা আছে সেটা শুধু ওইদেশে বানানো হয়েছে কিন্তু ওখানে ওটা পাওয়া যাবেনা। আর আমেরিকা নিজের দেশে কোন পন্য বানায় না নিজেরা লেবার কস্টের কারনে।
ঈদ প্রায় কাছা কাছি চলে আসছে। বন্ধু দেশ থেকে আমার দেয়া অনেক বইয়ের অর্ডারের সাথে আরেক প্রিয় বন্ধুর পাঠানো আড়ঙ্গের একটা পাঞ্জাবিও নিয়ে এসেছে। দেখে খুব খুব খুশি লাগ্লো। ওয়েল, উপহার পেতে কার না ভাল লাগে 
খাইসে, অনেক লম্বা হয়ে গেসে গল্প। আইজ শেষ করি।





এবি আসলে একটা একান্নবর্তী পরিবারের মত। ছোটখাট কিছু ঝামেলা তো থাকেই। কিন্তু একটু ধৈর্য্য ধরে লেগে থেকে যদি মানুষজনরে চিনা নিতে পারেন। ব্যাস, আর বের হইতে পারবেন না এই বন্ধুদের পাল্লা থিকা।
তা ভাই,
এই রোজার দিনে এত খানাপিনার কথা বললে চলপে?!
এবিতে কবে কার সাথে ছোট খাটো ভেজাল ক্যাচাল লাগলো বর্ণ? জবাব দাও?
এই ব্লগের ছোটখাটো ঝামেলা হইল
কমেন্টহীনতা লগিনফোবিয়া ইত্যাদি!
এই ব্লগের ছোটখাটো ঝামেলা হইল
কমেন্টহীনতা লগিনফোবিয়া ইত্যাদি!
রোযার দিনে খানা পিনা'র গল্প শুনলে রোযা শক্ত হয়
এতো খাওন দাওনের কথা রোজা রমজানের দিনে বলা ঠিক না।

খালি ক্ষিদা লেগে যায়
অন্যের ব্লগে কমেন্ট করুন, পাল্টা কমেন্টের উত্তর দিন, দেখবেন অনেকের অনেক আপন হয়ে গেছেন।
রমজানের ভিতর খাবারের গল্প শুনবেন আর সংযম করবেন, এটাই তো সাচ্চা মুসলমানের কাম
বিদেশ গেলে মাইনষে কত খাওনের নাম জানে!!!বিদেশ যাইতে মন্চায় ।
হ, কথা ঠিক ই কইসেন। কত্ত কি শিকলাম
বইদেসে আইসা। আইসসা পরেন লোটা বাটি লয়া রেল গারির ছাদে বইসসা
বন্ধুরে টাকিলা খাওয়ান নাই!!!! তাও আবার গ্রিকে!!!!
পুরা প্যারার সাথে একমত
টাকিলা'র কথা পোস্টে লেহি ক্যাম্নে, রোযার দিন। আর আপ্নে ক্যাম্নে টের পাইলেন টাকিলা'র কথা? ব্রাজিলের একটা টাকিলা আসে, নাম হইল " পিঙ্গা" ( পর্তুগিজ শব্দ, অর্থ আপ্নে খুইজা লইয়েন), ঐটার খাওয়ায়ে দিসিলাম লেবু দিয়া। আগেই সাবধান করসিলাম যে বেশি খাইলে উরাল দিতে ইচ্ছা করবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। তিন শর্ট মেরেই নাই হয়ে
গেসে।
এক আঙ্গুলে করেন আর যেভাবেই লিখেন, আপনার লেখা ভালোই হচ্ছে। লিখে যান।
থ্যাঙ্কু ম্যাঙ্কু শান্ত
ধুর মিয়া, খাওয়েনের কথা কন, ক্ষুধা লাগছে
ওমা, আমার কি দোষ! আপ্নে যখন রো্যা আমি তখন ইফতার খাই। রাইত আর দিনের ফারাক।আর আমার দিনের বেলায় খাওনের গপ্পো লেখলে আমার নিজের যে ক্ষিদা লাগবো তার কি ব্যবস্থা হইবো?
খাওন-দাওন-বেড়ানোর গল্প! দারুণ!
খাওন-দাওন-বেড়ানোর গল্প! দারুণ!
খাওনের লেইগাই তো দুনিয়াতে বাইচা থাকন। খামু আর ঘুরুম , বেশি কিছু তো চাই নাই।
কফির বর্ননা ভাল লাগল। আসলে খাইতে হলে সরি বিভিন্ন রিতী সংস্কৃতি জানতে হলে দেশ বিদেশ ঘুরতে হবে প্রিয় গুলাশ।
ঠিকই কইসেন
খাওন ভরা দুইন্যা...
্খাওন না থাকলে কি আর দুনিয়াতে কন সমস্যা থাকত মিয়া ভাই?
মন্তব্য করুন