রিপোষ্ট "সামন্ততান্ত্রিকতা "
আমাদের সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা বদলাচ্ছে ধীরে ধীরে কিন্তু এখনও কারো কারো দাসমালিকসু্লভ আচরণে আশ্চর্য হই। আমরা হয়তো সভ্যতা কিংবা সুশীলতার গরিমায় অস্বীকার করতে পারি কিংবা স্বয়ং মার্ক্সও ভ্রান্ত হতে পারেন, বাস্তবতা হলো আমাদের ভুখন্ডেই দাস ব্যবসা প্রচলিত ছিলো। অচ্ছুতেরা বাজার থেকে বৌ কিনে নিজের যৌনযন্ত্রনা নিরসন করতেন একদা।
আমাদের সামন্ততান্ত্রিকতার প্রকোপ স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কমেছে, সমাজ থেকে একেবারে উচ্ছেদ হয়ে গেছে এমনটা বলা যাবে না। পুরোনো দিনের বাংলা ছবিতে যেমন দেখা যায় বাস্তবতা ছিলো অনেকটা সে রকমই, সেই সময়ে অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা দেশের একটা ছবি এঁকেছিলেন সুনীল, সেখানেও একই রকম দৃশ্যের চিত্রায়ন দেখে বলা যায় এই সামন্ততান্ত্রিক প্রথাটা তখনও ছিলো।
কূলীন কিংবা অর্থবিত্তের মালিক পরিবারের বাধা ঝি এবং চাকর ছিলো, ঘরের চাকরের সাথে ঘরের ঝিয়ের বিয়ে দেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সুত্রে নতুন নতুন কাজের লোক উৎপাদনের এই দাসপ্রজননের বিষয়টা এতই স্বাভাবিক এটাকে আলাদা চোখে কেউ দেখে নি তেমন করে।
ঘরের চাকরের ছেলে নতুন চাকর হবে, ফুটফরমাশ খাটবে এটাই স্বাভাবিক এবং বাংলা ছবির জমিদার বান্দীর পুত আমার মেয়ের দিকে নজর বলে দুই নলা বন্দুক দিয়ে নিশানা করবে বুক বরাবর, এটাই আলীশান চিত্রনাট্য। সময়ের সাথে এইসব দৃশ্য বদলে যাচ্ছে, যখন ফিটন গাড়ীর বদলে মোটর গাড়ীর যুগ শুরু হলো তখনও এই দৃশ্য বদলে যায় নি, ড্রাইভারের সাথে ঝিয়ের বিয়ে, সেই সুত্রে আরও অনেক ফুটফরমাশ আর গা টেপানোর বালক জুটে যাওয়া সম্ভ্রান্ত পরিবারের ঐতিহ্য মেনেই কয়েক দশক আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর মেয়ের সাথে মেয়ের ঝিও আসতো শ্বশুড় বাড়িতে।
এদের অন্য কোনো পরিণতি আদৌ সম্ভব কৃষিজীবী দরিদ্র সমাজে তেমনটা কল্পনা করা যেতো না। শিক্ষার আলো জ্বেলে তাদের জীবন পরিবর্তনের উদ্দীপনা জাগানো তেমন সামাজিক আন্দোলন তখনও গড়ে উঠে নি, মোটর গাড়ীর সংখ্যা বেড়েছে, সেই তুলনায় নতুন পয়সা হওয়া মানুষ বেড়েছে, এদের অনেকেরই বান্ধা বাঁদি ছিলো না, তাই তাদের অনুগত ড্রাইভারেরাও ছিলো না, সে কারণেই কিংবা শহরে দ্রুত উদ্বাস্তু মানুষ বেড়ে যাওয়ায় ঠিকে ঝিয়ের কদর বাড়ায় এখন বাসার ড্রাইভারের সাথে ঝিয়ের বিয়ে দেইয়ে দেওয়ার ঐতিহ্য এখন শেষ।
দিন বদলাচ্ছে, সেলাইম্যাশিন বদলে দিয়েছে সব, গার্মেন্টে প্যাডেল চাপলেই টাকা, শিক্ষার অধিকারের বানী বলে বলে কতিপয় বুদ্ধিজীবীর ঘরের ফুটফরমাশ খাটা বালকের শিক্ষার বন্দোবস্ত করা গেলেও সেইসব হাইক্লাশ বুদ্ধিজীবীদের এই উপলব্ধি হওয়ার আগেই সমাজে এই আন্দোলন শুরু হোয়ে গিয়েছিলো, ব্রাক আর সুরভী গত এক যুগ ধরে কাজের ছেলে মেয়েদের পড়াচ্ছে, বিকেল কিংবা সকালে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার কাজটি করছে তারা আর এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন এপার্টমেন্টের মালিকেরা তাদের বাসার গৃহপরিচারিকা এবং কাজের ছেলেকে পাঠাচ্ছেন এখানে এক দুই আর স্বরে আ স্বরে অ পড়তে, এইসব সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সামাজিক মানস বদলেছে।
এই সামন্তসুলভ কিংবা দাসমালিকসুলভ মানসিকতা একেবারে ভুলে যেতে পারেন নি অনেকে।
গত পরশু সকালে বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছি, এমন সময় পাশে একটি গাড়ী দাড়ালো, গাড়ীর দরজাও খুললো, কিন্তু গাড়ীর ভেতরে বসে থাকা মানুষটা নামছে না। প্রায় পঞ্চাশ কিংবা তার সামান্য বেশী হবে ভদ্রলোকের বয়েস, তিনি কানে মোবাইল চেপে বসে আছেন। ভাবলাম হয়তো বিকলাঙ্গ। ধরে নামাতে হবে।
ড্রাইভার দরজা খুলে অন্য পাশে আসলো, এসে সসম্ভ্রমে দরজা খুলে দিলো,আমাকে আশ্চর্য করে তিনি মাটিতে পা রাখলেন , আমি ভাবছিলাম ড্রাইভার গায়ের জামা খুলে মাটিতে না বিছালে তার চরণ এই ধুলির পৃথিবীতে পড়বে না। তিনি এরপর অনেক কষ্ট করে হেঁটে সামনের কলিং বেল চাপলেন।
এইসব অলস সম্ভ্রান্ত মানুষেরা কায়িক শ্রমে কিছুই অর্জন করেন নি, কোনো এক সময়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে তাদের ব্যপক বিত্ত জমেছিলো, সেই জমি আর বিত্ত ভাঙিয়ে এখনও চালিয়ে নিচ্ছেন তাদের জীবন । হয়তো তার পৌত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ব্যবসা আছে কিন্তু পরিশ্রম করবার মানসিকতা সেটা হারিয়ে ফেলেছেন নিজের অজান্তেই।
এইসব ফুলের ঘায়ে মুর্ছ্বা যাওয়া বাবুরা এমন কি নিজের গায়ের জামা খুলতে পারেন না, নিজের হাতে পানি ঢেলে খেতে পারেন না, এবং এদের ভেতরে আরও বেশী সম্ভ্রান্ত যারা তারা এমন কি নিজেদের সন্তান নিজেরা জন্মাবেন এই কষ্টটুকুও করতে নারাজ। তাদের হয়ে এই কাজ করছেন হুজুর সায়েদাবাদী। তিনি বেশ অনেক দিন ধরেই ডিমপড়া আর পানি পড়া দিয়ে এদের সন্তান বাসনা তৃপ্ত করছেন।
[ ফুটনোটঃ মার্ক্স বলেছেন দাস ব্যবসাকে যতই ঘৃন্য ভাবা হোক না কেনো সভ্যতার উতকর্ষ বিধানে এদের একটা ভুমিকা ছিলো। এইসব দাসেদের কল্যানে কায়িক শ্রমের ভার লাঘব হওয়ায় অন্য সব সৃজনশীল সমাজ পরিবর্তনকারী কাজ এবং ভাবনার অবসর পেয়েছিলো সামন্তযুগের মানুষেরা। এদের কারণেই পূজিবাদী সমাজে শ্রমশোষণের বিষয়টা ততটা আলোচিত হতে পারে নি।
ভারতের সমাজ বিশ্লেষণ করে মার্ক্সের অভিমত তার নিজের গ্রন্থে আছে, সেখানে ভারতের জন্য ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাই অধিকতর প্রয়োজনীয় এবং সেটাই ভারতীয় সমাজের উন্নতির নেপথ্য কারণ এমন অভিমতই ছিলো মার্ক্সের। হয়তো আমার মতো এমন সরলী করণ করেন নি তিনি কিন্তু মোদ্দা কথা এই ব্রিটিশদের ঔপনিবেশ না হলে ভারতের অধপতন হতে পারতো কিংবা তাদের পুঁজিবাদী সমাজে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ আসতো আরও দেরীতে। ]





নীতিমালা পেষ্টানোর মাজেজা বুঝি নাই
এইটা আগে কোথায় পোস্ট করছিলা? আগে পড়া হয় নাই।
নীতিমালার এই এক অদ্ভুত ক্যারিশমা...যেই পোস্ট কেউ আগে পড়ে নাই সেইটারেও সরাইতে হইবো, প্রয়োজনীয় হইলেও।
লেখক যেখানে নিজেই পোস্টের শিরোনামে "রিপোস্ট" লিখেছেন সেখানে কি নতুন করে খুঁজতে হবে কোথায় কোথায় পোস্ট দিয়েছেন?
অদ্ভুত সব যুক্তি আপনাদের।
সাজেশন হাতে নিয়া চোথা পড়লে মানুষের আলস্য বাড়ে, এইটা নতুন কিছু না। গ্রে ম্যাটারের বৈশিষ্ঠ্যই এমন ব্যবহার না করলে নিউরাল নেটওয়ার্ক বাড়ে না।
আপনেরে একটা কৌতুক শুনাই, কুট্টিকালে শুনছিলাম।
তখন দেশে অনেক নকল হইতো, মনে করেন নকল করতে পাবলিক গ্রামের স্কুলে যাইতো গা, সেইখানে একমাস আত্মীয় বাসায় থাইক্যা ধুম ধাম নকল কইরা মেট্রিক পাশ দিয়া ফিরতো , তো এই রকম একটা স্কুলে গেছে দেবর ভাবী।
নকল দিতে গেছে বড় ভাই, নকলের ভিতরে ইট ভইরা দিছে ছুইড়া, ছোটো ভাইয়ের কাছে, নীচে লিখছে তোর ভাবিকেও দিস।
তো কাবিল ছোটো ভাই পরীক্ষার খাতায় লিখা দিয়া আসছে ভাবীরেও দিস।
আপনেরে আমি ছোটো ভাই কইতাছি না, কিন্তু ক্যান জানি আমার সন্দেহ .।.।.।.।.।
রিপোস্ট কথাটা বিভ্রান্ত করছে।
ছোট বেলা একটা কৌতুক পড়ছিলাম
প্রশ্নঃ একটা হাতি সুইয়ের ফুটা দিয়া বাইরে চলে যাচ্ছে, ঐটাকে আটকাবা কিভাবে
উত্তরঃ ঐটার লেজে একটা গিট্টু দিয়ে
প্রায় হাজার শব্দের একটা আলোচনা পোষ্টের আলোচনা মাত্র একটা শব্দে আটকে গেলো।
পোস্টে 'রিপোষ্ট' কথাটা যোগ করাতে বোধহয় এ অবস্থা।
সমাজে সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা কমেছে বলে আমার মনে হয় না! বড়োজোর তার ধরন-ধারণ-রূপ বদলেছে, যেমনটি আপনি উদাহরণ দিয়েছেন গাড়ির মালিক আর ড্রাইভারকে দিয়ে! বাসা-বাড়িতে, অফিস-আদালতে, কল-কারখানায়, এমনকি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও নিচু-পদে কাজ করা শ্রমজীবিরা ভৃত্যের চেয়ে বেশিকিছু মর্যাদা পায় না! তবে উচ্চশ্রেণীর লোকেরা এই আচরণটি করে কিঞ্চিৎ শালীনভাবে, যেন কেউ মনে করতে না পারে, তিনি ওদের সঙ্গে ভৃত্যসুলভ আচরণই করছেন!
হুজুর সায়েদাবাদীর প্রসঙ্গটা দুর্দান্তভাবে এনেছেন!
অনেকদিন পর আপনার লেখা পড়লাম। কি নিয়ে ব্যস্ত এত?
কামাল ভাই ব্যস্ত না, নেট লাইন ছাড়া দুই সপ্তাহ কাটাইলাম, দেখলাম পারা যায় কি না, একটু সমস্যা হয় কিন্তু সেইটা আমলে না নিলে নেট ছাড়া ভালো সময় কাটে
সামন্তমননে যে কুতুব সন্তান চালিত হয় তার অবস্থা হয় মুঘল সম্রাটের বংশগধরদের মতো, অতীত আছে বর্তামান নাই। এই সব আঙুল ফুলে কলাগাছ সমান্তদের জন্য করুনা হয়।
সামন্ত সুলভ আচরনের আরেকটা প্রকাশ হতে পারে " অন্যরা এসে তাকে সালাম দেবে, সে সেটা অবহেলা ভরে নেবে, নিজে কখনোই দেবে না "। রাজনীতির মাঝেই দেখবেন, খালেদা - হাসিনার আচরন; বিশেষ করে খালেদার আচরন। পদে পদে সেই সামন্ত সুলভ আচরন- চারিদিকে চাটুকার - ছোট সামন্তদের হাত কচলানী।
অনেক আগে ঈসা খাঁর বংশধরদের নিয়ে একটা প্রতিবেদনে তার এক উত্তরসুরী বলেছিলে, আমরা কুলীন তাই মাঠে নেমে চাষ করতে বাঁধে। অথচ টাকার অভাবে এরা মেয়ের বিয়ে দিতে পারে না।
আপনি গাড়ির যে ঘটনা কথা বল্লেন,সেটা তো হরহামেশাই দেখা যায়। এছাড়াও হয়ত খুঁজলে আরো অনেক কিছুই চোখের সামনে চলে আসবে।
সামন্ততান্ত্রিকতা এখন ও রয়েছে আমাদের মাঝে। আমাদের বসদের আমরা যে ভাবে তেল দেই । আমাদের মাঝে যে কম্পিটিশন হয় কে পেট্রোল দিবে আর কে অক্টেন, কে বালতি নিয়ে দিল আর কে কলসি, সেটা কি দাসের মানসিকতা নয়।
আমারাই প্রভু আমাদের নিচের স্তরের মানুষের কাছে আমরাই দাস আমাদের উপরের স্তরের মানুষের কাছে।
নিজের বাচ্চার চেয়ে ছোট বাচ্চা স্কুলের ব্যাগ আর পানির ফ্লাস্ক নিয়ে যায়
কাজের লোকের বাচ্চা < কাজের লোক < গৃহকত্রী < গৃহকর্তা < অফিসের বস < তস্য বস < তস্য তস্য বস <<< সরকারী আমলা << মন্ত্রী <<< আম্রিকা/বা পয়সাওয়ালা দ্যাশ কোন একটা। (জায়গায় জায়গায় ঘাপলা আছে মানি, কিন্তু এমনে সরলীকরন কইরা ফেলা যায়।)
মন্তব্য করুন