ইউজার লগইন

মুক্তিযুদ্ধের ফ্যান্টাসী ছবি গেরিলা " দর্শক প্রতিক্রিয়া "

ডিসক্লেইমারঃ এটা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ দর্শকের অনুভুতি, সুতরাং এই রিভিউ পড়ে যারা ছবিটা দেখতে না যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই হলে যাবেন। দিল্লীর লাড্ডু একা একা খেতে হয় না

মেহেরজানকে মুক্তিযুদ্ধের ফ্যান্টাসী সিনেমা বলা হলে গেরিলাও একই কারণে মুক্তিযুদ্ধের উপর ফোক ফ্যান্টাসি ঘারানার ছবি বিবেচিত হতে পারে। নাসিরউদ্দীন ইউসুফ এবং এবাদুর রহমানের যৌথ ধর্ষণে সৈয়দ শামসুল হলের নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস থেকে যেই চিত্রনাট্য পয়দা হয়েছে সেটার গভীরতা নেই, একজন মুক্তিযোদ্ধার অভিজ্ঞতা এবং নিষিদ্ধ লোবানের ছায়া অবলম্বনে আমার স্বল্প জীবনে দেখা মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বাজে ছবিটা "গেরিলা"

অনেক প্রত্যাশা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে হলে গিয়েছিলাম উৎসাহ নিয়ে 'গেরিলা' দেখতেই হবে। মেহেরজান বিতর্কের পর আফসুস ছিলো ছবিটা দেখতে পারলাম না আর এ ছবিটা অনেককেই আবেগাপ্লুত করেছে, সুতরাং এটা খুব বেশী পীড়াদায়ক হবে এমন শঙ্কা ছিলো না। কল্লোল তার নিজের ফেসবুক নোটে লিখেছিলো এটা একটা প্রোপাগান্ডা মুভি, তবে আমার ধারণা প্রোপাগান্ডা ছবি হিসেবেও এটা অনেক নিম্ন মানের পরিবেশনা। তবে আমাদের অতিআবেগী দর্শকদের জন্য হয়তো বিষয়টা উপভোগ্য, আমার আবেগ অনুভুতি কম, সে কারণে হয়তো সম্পূর্ণ ছবিটাতে কোনো রকম ইমোশন্যাল এটাচমেন্ট বোধ করতে পারি নি। সেটা হয়তো আমার নিঃসাড় অনুভুতির সমস্যা।

ছবির বড় প্রাপ্তি কি্ংবা একমাত্র ভালো দিক হলো আজাদ আবুল কালামের অভিনয়, তার অতি স্বল্প সময়ের পর্দার উপস্থিতিতে সে বুঝিয়ে দিতে পেরেছে অভিনেতা ভালো হলে একটা চলচিত্রমুহূর্ত তৈরিতে একটা চাউনিই যথেষ্ট, সারাক্ষণ লাফিয়ে ঝাপিয়ে অনেক বেশী কসরত করতে হয় না ছবিতে দাগ রাখবার জন্য।

ছবিটির দীর্ঘ আড়াই ঘন্টার পটোভুমিতে ছবিটা কেনো শুরু হলো, কোথায় এর গন্তব্য, কেনোই বা এমন হবে কিংবা এমন হওয়াটাই অনিবার্য ছিলো কেনো এমন কোনো কিছুই প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি । ছবির সূচনা ফেরদৌসের সংবাদ পত্র অফিসে যাওয়ার দৃশ্যে, মুজিব ইয়াহিয়া সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে এই বাস্তবতাটুকু সম্ভবত আশায় আশায় থাকা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বাইরে সকলেই অবহিত ছিলো, এবং সেখানেই ফেরদৌসের উপস্থিতি শেষ হয়ে গেলে ভালো হতো, ফেরদৌস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফ্রেমে উঁকি দিয়ে তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে, এবং সেটা যথেষ্ট পীড়াদায়ক অনুভুতি ছিলো।

জয়া পরবর্তীতে গে্রিলা নামের একটি পত্রিকা প্রকাশের কাজে জড়িয়ে পড়ে, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলা নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছেন সাইকোস্টাইলে ছেপে, সেটা তিনি ঢাকার মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণমূলক একটি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি আরও দুইজন নারী মুক্তিযোদ্ধার কথাও স্মরণ করেছিলেন, প্রথমে মনে হয়েছিলো এটা সম্ভবত সেই দুইজন নারী মুক্তিযোদ্ধের ছবি। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো তার স্মৃতিচারণের দুই নারী মুক্তিযোদ্ধর সাথে বিলকিসের মিল নেই।

এবাদুর রহমানের গুলমেহের উপন্যাস নিয়ে মেজের জান চলচিত্র হয়েছিলো, সেটা ছবি হিসেবে দাঁড়ায় নি তেমন, আমি দেখি নি, আমি শুরু শুনেছি, কিন্তু গেরিলা ছবিতেও এবাদুরিফেক্ট ছিলো প্রবল ভাবেই, অনেক সম্ভবনার অপমৃত্যু ঘটাতে একা এবাদুরের নামোচ্চারণই যথেষ্ট মনে হয়।

ছবিটাতে একের পর এক ধারাবাহিক দৃশ্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে, অধিকাংশ সময়ই কোনো কারণ ছাড়াই অনেকগুলো আপাতবিচ্ছিন্ন দৃশ্য জুড়ে কোনো একটা কিছু বলবার চেষ্টা করা হয়, চলচিত্রের ভাষা না বুঝায় আমার পক্ষে যে ভাষা উপলব্ধি করা সম্ভব হয় নি আর ফারুক ওয়াসিফ এখনও 'গেরিলা মেডইজি ' লিখে নি কোথাও যে আমি সেটা পড়ে উপলব্ধির সামান্য চেষ্টা করবো।

ছবির ঘটনার ঘনঘটায় চরিত্রগুলো দানা বাধে নি তেমন ভাবে, অধিকাংশ সময়ই অপ্রয়োজনীয় অনেক দৃশ্য, অপ্রয়োজনীয় অনেক নৃশংসতা দেখানো হয়েছে, এবং জয়া আহসান, এটিএম শামসুজ্জামান কিংবা আহমেদ রুবেলের পাশে যারা এসেছে তাদের সবার আড়ষ্ট অভিনয়ও চোখে লাগবে। ছবির কাস্টিং খুব খারাপ হয়েছে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অন্তত ন্যুনতম অভিনয় করবার ক্ষমতা আছে এমন কাউকে সুযোগ দেওয়া হলে ভালো হতো।

ছবির চিত্রনাট্য এবং শতাব্দী ওয়াদুদের অভিনয় পাকিস্তান মেজর চরিত্রটাকে তেমন নৃশংস কিংবা ভয়াবহ কোনো চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে নি বরং অধিকাংশ সময়ই এই মেজরের উপস্থিতি ছবির অদৃশ্য ভাঁড়ের অভাবটুকু পুরণ করেছে। " ও ম্যায় মার যাঁয়ু গুর খাকে" বাক্য এবং ধর্ষনোদ্যত শতাব্দী ওয়াদুদ ছবির সবচেয়ে কমিক দৃশ্যের একটি তৈরি করেছে।

বিলকিস এবং তার বন্ধুরা যুদ্ধে জড়িয়ে পরে এবং ঢাকায় বিভিন্ন গেরিলা অপারেশন করতে থাকে, বিলকিসের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু, সুরকার আলতাফ মাহমুদ এবং জলেশ্বরীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ, এই চরিত্রগুলোর আগমন প্রস্থান এবং সাপ্তির ভেতরে আলতাফ মাহমুদের পরিসমাপ্তি মন্দের ভালো।

ছবির ভেতর যৌনভাবনার উপস্থিতি দৃষ্টিকটু ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, প্রথমত আলতাফ মাহমুদের বাসায় বিলকিসের বন্ধু যখন তার দিকে তাকায় তখন তাকে দেখে মনে হয়েছে স্বামীর অবর্তমানে হি ইজ ট্রাইং টু টেক হিজ চান্সেস এন্ড বিলকিস ইজ ফুললি এওয়ার অফ দ্যাট ফ্যাক্ট। অভিনেতার চাউনিতে বন্ধুর প্রতি ভালোবাসার বদলে কামনাই ছিলো বেশী। আর শুটকির গুদামে যখন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজের হাত লাগে বিলকিসের গায়ে তখন বিলকিসের প্রতিক্রিয়াটাতেও নিজেকে যৌন আক্রান্ত মনে করবার বিষয়টা প্রকট ভাবে এসেছে।

শিমুল ইউসুফের আবহ সঙ্গীত যেকোনো মানুষকেই বিক্ষুব্ধ এবং আত্মহত্যাপ্রবন করে ফেলতে পারে, তবে এর সাথে আরও বিকট যন্ত্রনা হলো নাসিরউদ্দীন ইউসুফের মিউজিক ভিডিও বানানোর বাসনা, সম্ভবত ছবিতে যে গানগুলো এসেছে তা এসেছে বাণিজ্যিক ভাবনা থেকেই, একটা আড়াই ঘন্টার ছবিতে যদি আড়াই খানা গানই না থাকলো তাহলে আর কিসের ছবি বানালাম ভাইগন্যা ,

ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ডে বন্দী নির্যাতনের স্থির চিত্র সম্ভবত নাসিরউদ্দীন ইউসুফের থিয়েটারের ব্যাকগ্রাউন্ডের অভিঘাত, বিভিন্ন ভঙ্গিতে উপস্থাপিত মানুষের ফ্রেমগুলো খুব বেশী স্পর্শ্ব করে নি, হয়তো অনেকেই এটার সাথে একাত্মতা বোধ করেছেন, ছবির গালির দৃশ্যে দর্শকদের হাততালি ছিলো বাড়তি পাওনা, আমার সাথে বসে থাকা আরও প্রায় শ খানেক মানুষ 'আমি টিকটিকি দিয়া চুদি চুতমারানি' শব্দগুচ্ছে বিমল আনন্দ উপভোগ করেছেন। এটিএম শামসুজ্জামানের চলচিত্র অভিনয়ের কারণে প্রথম দৃশ্যে তার অতিঅভিনয়টুকু বাদ দিলে চমৎকার না করলেও পর্দায় তার চরিত্রটির উপস্থিতি সহনীয় ছিলো । আহমেদ রুবেল হয়তো আরও ভালো করতেন পারতেন যদি তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হতো, কিন্তু আমার মূল প্রশ্ন আলতাফ মাহমুদের মেয়ের চরিত্রে এবং ছোট্ট বেলার খোকন কমান্ডারের চরিত্রে অভিনয় করা বাচ্চা দুটো কারা, তাদের সাথে পরিচালকের সম্পর্ক কি, তাদের সরব উপস্থিতি ছাড়াই ছবিটা চলতে পারতো,

ছবিটা বিষয়ে অনেক বিষেদাগার হয়ে গেলো বোধ হয়, কিন্তু ছবির সবচেয়ে নিন্দনীয় বিষয়টি হলো ক্যামেরার কাজ, ক্লোজ আপ শটে কিংবা অন্য অনেক দৃশ্যেই দেখা গেলো ফ্রেম থরথর করে কাপছে, সম্ভবত যুদ্ধের কারণে আমিই ভয়ে কাঁপছিলাম কিংবা কোনো কারণে পরিচালক ভেবেছেন তিনি হাতেই শ্যুটিং করতে পারবেন, তার সে আত্মবিশ্বাস ছবির কোয়ালিটির বারোটা বাজাতে পারে এমন আশংকা তার মাথায় আসে নি।

ছবিটাতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেয়াল লিপি দেখা যায়, রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিন গোলাম আজম, কিংবা শেখ মুজিবের ফাসী চাই আল মুজাহিদী সেসব দৃশ্য হয়তো একাত্তরে বাস্তব ছিলো, সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগদানের আহবান হয়তো মুক্তিযোদ্ধার অভিজ্ঞতার আলোকেই উপস্থাপিত কিন্তু আল মুজাহিদ কি তখন এতটা হ্যাডম ছিলো ঢাকা শহরে, বিশেষত তার নামে দেয়ালে লিখে রাখবার মতো হ্যাডম কি মুজাহিদীর ছিলো।

ছবিটিতে অনেক কিছুই বলবার চেষ্টা করা হয়েছে, সে কারণে ছবিটি কোথাও ফোকাস করতে পারে নি, ছবিটি কোথাও ফোকাস করতে ব্যর্থ হয়েছে এটা ছবিটার একমাত্র ব্যর্থতা নয় বরং ছবিটার ব্যর্থতা হলো ছবিটার সাথে আমার কোনো সম্পর্কই তৈরি হয় নি, বরং ছবিটা আবহসংগীত দুর্বল ক্যামেরার কাজের জন্য ক্রমশ বিরক্তিকর হয়ে উঠতে থাকে, অসীম ধৈর্য্য নিয়ে ছবিটা দেখতে বাধ্য হয়েছি কারণ বলাকার বাইরের গেট বন্ধ ছিলো, এভাবে গেট বন্ধ করে দর্শককে ছবিটা দেখতে বাধ্য করবার কৌশলটা দর্শককে আগ্রহী করতে পারবে এমনটা মনে হয় না।

তবে আমার মনে হয় ছবিটা এক হাত কাপড়ে স্যুট টাই ব্লেজার এবং কুর্তা আচকান তৈরীর চেষ্টা, তাতে কোনো কিছুই তৈরি হয় নি, নাসির উদ্দীন ইউসুফের পরবর্তী ছবি বানানোর আগে অন্তত সে কি বলতে চায় এবং ছবিতে কি দেখাতে চায় এটা ঠিক করে নেওয়া জরুরী, আড়ী ঘন্টার দর্শকপীড়নের প্রয়োজন ছিলো না, ছবিত অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যগুলো , অতি অভিনয়গুলো যদি সম্পাদনার সময় বাদ দেওয়া হতো তাহলে হয়তো ছবিটার দৈর্ঘ্য দাঁড়াত কুল্লে আশি মিনিট, আশি মিনিট সহ্য করবার মতো জিনিষ পয়দা করতে এত ফ্লিম নষ্ট করবার কোনো প্রয়োজন ছিলো না।

ছবিটা শেষ হওয়ার পর ১৬ই ডিসেম্বরে বন্দী শিবির থেকে মুক্তি পাওয়া মানুষদের অনুভুতিটা স্পষ্ট বুঝা যায়, আর কোনো নির্যাতন সহ্য করতে হবে না। আড়াই ঘন্টা ব্যাপী ধারাবাহিক নির্যাতনের সমাপ্তিটা হাস্যকর হলেও এর পর আর কোনো নির্যাতন না ঘটনার উপলব্ধিটুকু ভাবলেই নিজেকে স্বাধীন সার্বভৌম মনে হয়।

ফুট নোটঃ সরকার ছবিটির সকল ট্যাক্স মওকুফ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ছবির পৃষ্টপোষকতার জন্য সরকারের এমন উদারতা প্রয়োজনীয়, এক বন্ধু বলেছিলো ডীপজল নাকি তার কোনো এক ছবিকে সেন্সরবোর্ডর হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য ধর্ষণের দৃশ্যের সাথে সাথেই শেখ মুজিবের সাতই মার্চের ভাষণ শ্যুট করেছিলো, শেষ রক্ষা হয় নি সেন্সরবোর্ড অশ্লীলতার দায়ে ছবিটা আটকে দিয়েছিলো,গেরিলা অশ্লীল ছবি না, মাঝে মাঝে বেশ কিছু বাংলা সিনেমাটাইপ ক্যামেরার কাজ ভুলে বেখেয়ালে হয়ে গেলেও সেটা শোভনতার সীমা অতিক্রম করে না। তবে অতিরিক্ত খুন খারাপির দৃশ্য থাকবার জন্য এটা শিশুদের জন্য নয় এমন ট্যাগিং সহ সেন্সরবোর্ড অনুমোদন দিলে সেটা সরকারের আন্তরিকতা এবং সচেতনতার নিদর্শন হতো।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রোবায়দা নাসরীন's picture


ধন্যবাদ, ছবিটি এখনও দেখা হয় নাই.......দেখবো।

আহমেদুর রশীদ টুটুল's picture


আজই সন্ধ্যায় সিনেমাটি দেখলাম। ফেরার পথে আমি আর রুনা সিনেমাটি নিয়ে যা যা আলাপ করছিলাম, এখন দেখছি আপনার সাথে সবই মিলে যাচ্ছে। আসলেই আমি বুঝতে পারছিনা- গেরিলাকে সিনেমা বলি কোন যুক্তিতে?

নরাধম's picture


আবেগের ব্যবসায়ীরা শীঘ্রই আপনাকে পাকি-দালাল বানিয়ে ছাড়বে!! আবেগে গদগদ না হয়ে আপনি ক্রিটিকালি দৃষ্টিভংগীতে ছবি দেখতে গিয়েছেন, আপনার খবর আছে, হেহে!

উলটচন্ডাল's picture


ফুটনোট বাদ দিলে আপনি এই লেখায় ক্রিটিকাল বিশ্লেষণ কী পেয়েছেন যদি একটু বলতেন নরাধম ভাই। আমার চোখে তো মূলত উস্কানি আর ব্যক্তিগত বিলাপ ছাড়া চোখে কিছু পড়ছে না।

উলটচন্ডাল's picture


রাসেল সাহেব, সিনেমা বানাতে গেলে ক্যামেরার ব্যাকরণ জানা দরকার। তেমনি লেখার জন্য দরকার ন্যূনতম ভাষাজ্ঞান। টাইপো আর বানান ভুলে ভরা এই পোস্ট পড়ে আমার শুধু মনে হল - আলোচনার কেন্দ্রে আসার জন্য অযথাই নিজেকে বিতর্কিত করতে চাইছেন।

"গেরিলা" - সিনেমার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপনি যতটা চিন্তা করছেন, তার চাইতে বেশি কসরত করেছেন কিছু ফালতু ব্যঙ্গ করতে ও লোক খোঁচাইতে।

চেষ্টা চালিয়ে যান। শুভ কামনা থাকলো।

ভাস্কর's picture


আপনি যেহেতু গেরিলা সিনেমাটা এখনো দেখেন নাই, তাই আপনের এই কমেন্টরে বরং আমার অনেক ব্যক্তিগত আক্রমণ মনে হইলো। এইরম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করার ধরণ কখনোই প্রত্যাশিত না...

উলটচন্ডাল's picture


ভাস্কর ভাই,

আমি তো গেরিলা নিয়ে কোন কথা বলি নাই। বলি নাই যে এই সিনেমাটার মেকিং বা আবহসঙ্গীত ভালো। আমি ওনার ব্লগ পোস্ট পড়েছি। সেই পোস্টকে নিয়ে কথা বলেছি।

ওনাকে কোথায় ব্যক্তি আক্রমণ করা হল একটু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখান। আমি ওনার শিক্ষা, চরিত্র, ব্যক্তিত্ত্ব - কোনটা নিয়েই মন্তব্য করি নাই।

ব্যক্তি আক্রমণ তখনি হয়, যখন ব্যক্তিকে নিয়ে কথা হয়।

আমি ওনার লেখা সম্পর্কে দুইটা মন্তব্য করেছি -

১। এই লেখা বানান ভুল আর টাইপোতে ভর্তি। "মেহেরজান" নামটা পর্যন্ত শুদ্ধ না, লিখেছেন মেজেরজান।

২। এই লেখায় উস্কানিমূলক কথা বলা হয়েছে।

তবে আমার ধারণা প্রোপাগান্ডা ছবি হিসেবেও এটা অনেক নিম্ন মানের পরিবেশনা।

আমার স্বল্প জীবনে দেখা মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বাজে ছবিটা "গেরিলা"

এইসব অতি জাজমেন্টাল, খোঁচা মারা, ফালতু কথার মূল লক্ষ্য যে উস্কানি তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

পারলে যুক্তিখন্ডন করে দেখান কোন জায়গায় ব্যক্তি আক্রমণ হয়েছে -

হাসান রায়হান's picture


তবে আমার ধারণা প্রোপাগান্ডা ছবি হিসেবেও এটা অনেক নিম্ন মানের পরিবেশনা। আমার স্বল্প জীবনে দেখা মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বাজে ছবিটা "গেরিলা"

এই কথা গুলি ফালতু কথা, খোঁচা মারা কীভাবে হল আমার বুঝে আসলানা উলট ভাই। সম্ভবতঃ মুক্তিযুদ্ধ নিয়া নীচুমানের প্রোপাগান্ডা ফিল্ম গেরিলা, এইটা আমার ধারণা, গেরিলা না দেখেই । নাসির‌্উদ্দিনের আগের এক রদ্দামার্কা মুক্তিক্সুদ্ধের ছবি দেখার দুর্ভাগ্য থেকে এই আশংকা।

জ্যোতি's picture


রায়হান ভাই, ছবিটা আগে দেখেন।

১০

ভাস্কর's picture


আপনি যে রাসেলের মন পইড়া ফেলতেছেন...তার উদ্দেশ্য বুইঝা ফেলতেছেন একটা লাইন পইড়া, সেইটা কি আরো বেশি ব্যক্তিগত জাজমেন্ট হইতেছে না?

রাসেল একজন দর্শক হিসাবে তার প্রতিক্রিয়া জানাইতে একটা ব্লগ পোস্ট দিছে সেইটা আপনার ভালো না'ই লাগতে পারে...কিন্তু তার উদ্দেশ্য বুঝনের স্টেইটমেন্টে আপনি তারে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া আর কিইবা করতে পারেন?

১১

উলটচন্ডাল's picture


রাসেল সাহেব একজন দর্শক হিসাবে তার প্রতিক্রিয়া পোস্টে লিখেছেন।

আমি পাঠক হিসেবে আমার প্রতিক্রিয়া মন্তব্যে লিখেছি।

"গেরিলা" সিনেমা দেখে উনার মনে হয়েছে প্রোপাগান্ডা হিসেবে এইটা নিম্ন শ্রেণীর পরিবেশনা। ওনার দেখা মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত সবচেয়ে বাজে ছবি।

পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে আমার পড়া মুভি রিভিউ/ দর্শক প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত পোস্টগুলোর মাঝে এইটা সবচেয়ে ফালতু ও উস্কানিমূলক লেখা।

রাসেল সাহেবের উদ্দেশ্য নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নাই। ওনার পোস্টের উদ্দেশ্য খোঁচা মারা - এইটাই আমার মোদ্দা কথা। পোস্ট পড়েই সে কথা আমি বলছি।

আপনি একটু আমাকে ব্যাখ্যা করেন কোন যুক্তিতে এই পোস্টকে আপনার যৌক্তিক সমালোচনা মনে হচ্ছে।

১২

ভাস্কর's picture


এই পোস্টের অনেক বিষয় আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় আবার অনেক বিষয়রে ব্যক্তিগত স্টেইটমেন্ট মনে হয়, তাতে কি আমি বলতে পারি এইটা রাসেল উদ্দেশ্যমূলক এজেন্ডা নিয়া করতেছে? আমি একটা সিনেমা নিয়া আমার ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানাইতেই পারি...আপনেও রাসেলের পোস্ট ভালো লাগা কিম্বা মন্দ লাগা নিয়া মন্তব্য করতেই পারেন, কিন্তু যখন বলেন

আলোচনার কেন্দ্রে আসার জন্য অযথাই নিজেকে বিতর্কিত করতে চাইছেন।

তখন সেইটা ব্যক্তি আক্রমণ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। কারণ আপনে আরো বড় স্টেইটমেন্ট দিতেছেন...তার উদ্দেশ্য বুইঝা ফেলার চেষ্টা করতেছেন।

১৩

উলটচন্ডাল's picture


ভাস্কর ভাই,

কারণ আপনে আরো বড় স্টেইটমেন্ট দিতেছেন...তার উদ্দেশ্য বুইঝা ফেলার চেষ্টা করতেছেন।

আমার মন্তব্য/স্টেইটমেন্ট ডিরাইভড। আমি লেখা পড়ে লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছি। আপনি বারবার রাসেলের উদ্দেশ্য নিয়ে টানাটানি করছেন কেন বুঝলাম না। আপনার কথার পুনারাবৃত্তি বিরক্তিকর ঠেকছে। রাসেল তো আমার দোস্ত লাগে না যে তিনি কী উদ্দেশ্য নিয়ে কী করেন তা নিয়ে আমার আগে ধারণা আছে!

আমি ওনার আগের লেখা পড়েছি। এই লেখাও পড়লাম। পড়ার পর মনে হল উনি আলোচনার কেন্দ্রে থাকার জন্য, বিতর্ক করার জন্য এই পোস্ট দিয়েছেন। এইখানে ব্যক্তি আক্রমণ কোথায়??

ব্যক্তি আক্রমণ হল উনি যখন অশ্লীলভাবে মাস্টারবেট করার কথা লিখেন আর সেইটা নিয়ে কেউ আপত্তি করলে উনি তারে ওজু করে আসতে বলেন।

ব্লগের ২৫ নং মন্তব্য

আর আলোচনার কেন্দ্রে উনি থাকতে চান কিনা তা ওনার পোস্ট-ই প্রমাণ করে। উনি ঠিক সময়ে ইউনূসকে নিয়ে পোস্ট দেন, মেহেরজান ইস্যুতে গরম গরম পোস্ট নামিয়ে ফেলেন। আর বিতর্কিত বিষয় নিয়ে পোস্ট দেওয়াকে খারাপ চোখে দেখছেন কেন? উনি তো অন্য ব্লগের বিতর্কের বিষয়ও এই ব্লগে টেনে নিয়ে এসেছেন।

-----------------------------------------------------------------------

আমি যুক্তি দিয়ে দেখালাম কেন আমার মন্তব্য ব্যক্তি আক্রমণ না। তারপরও আপনি একই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমি যা বলেছি তা কি ভুল বলেছি? ভুল বললে যুক্তি খন্ডন করেন। আর আপত্তি থাকলে মডারেটারকে জানান।

আর পুনর্মন্তব্য করার আগে আমার বক্তব্য আরেকবার পড়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানাই।

১৪

ভাস্কর's picture


একজন ব্লগার তার মতামত লিখছেন একটা ব্লগ পোস্টে সেইটারে আপনি বলতেছেন আলোচনার কেন্দ্রে থাকার চেষ্টা সেইটারে কেনো ব্যক্তি আক্রমণ বলা হইবো না সেইটা আপনি আমারে এখনো বুঝাইতে পারেন নাই। আপনি নিশ্চয়ই রাসেলের লেখার উদ্দেশ্য জানেন না...জানলে পর আপনের এই মন্তব্য ব্যক্তি আক্রমণ হইতো না এই বিষয়ে আমি সুনিশ্চিত। আপনি যেহেতু ব্যক্তির বা লেখার অনুল্লেখ্য উদ্দেশ্যরে অহেতুক টাইনা আনছেন সুতরাং সেইটা আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা। এই উদ্দেশ্য ঘোষণার পর রাসেল যা'ই বলুক সেইটাতে আর যুক্তি খুঁইজা দেখতে যাওনের মানসিকতা আপনি দেখাইবেন না। এইটা একটা সমাপ্তিবাচক জাজমেন্ট। এইরকম জাজমেন্ট ব্যক্তিরে আক্রমণ করে...রাসেলের কোন আচরণ ব্যক্তি আক্রমণমূলক তার উল্লেখ এইখানে অহেতুক।

আর আমি বুইঝা শুইনাই আমার মন্তব্য করছি, আপনার সব কমেন্টই আমি পুরা পড়ছি। আপনার লেখা ঐ সদুপদেশসূচক শেষ কমেন্টটারেও আমার ব্যক্তি আক্রমণমূলকই লাগছে।

১৫

ভাস্কর's picture


তবে আমার ধারণা প্রোপাগান্ডা ছবি হিসেবেও এটা অনেক নিম্ন মানের পরিবেশনা।

আমার স্বল্প জীবনে দেখা মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বাজে ছবিটা "গেরিলা"

আপনি রাসেলের দুইটা মতামত তুইলা দিয়া তার জাজমেন্টাল অবস্থানরে বুঝাইতে চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে প্রথমটা ওপেন এন্ডেড একটা মন্তব্য, যাতে এই ছবির এজেন্ডারে ব্যর্থ বলার চেষ্টা আছে। আমি এই ছবির একজন দর্শক হিসাবে একই অনুভূতি পাই, অর্থাৎ আমার কাছেও মনে হইছে প্রোপাগাণ্ডা ছবি হিসাবে এই ছবি নিম্নমানের। ২৫ মার্চের পাক-হানাদারগো ক্র্যাক ডাউনের সময়টারে নিয়া যেই ইতিহাস বিকৃতি আছে তাতে এইটারে আওয়ামি প্রোপাগাণ্ডা লাগে আমার কাছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য দেখাইলে যেহেতু আওয়ামিগো ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাই মুক্তিযুদ্ধরে পাকিস্তানিগো নির্যাতনের প্রতিরোধ বানাও এই আওয়ামি উদ্দেশ্যের সফল প্রচারণা হয়, তারই ধারাবাহিকতায় বাচ্চু সাহেব এই প্রোপাগাণ্ডার দায়িত্ব নিছেন বইলাই আমার কাছে মনে হয়। কিন্তু এই প্রোপাগাণ্ডাও হারাইয়া যায় জয়া আহসানের চরিত্র বিন্যাসে।

আর দ্বিতীয় মন্তব্যটা রাসেল নিজের দায়িত্ব স্বীকার কইরাই উল্লেখ করছে। তার দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে সে একটা মানগণ্ড খাড়া করছে সেইটা আমাদের জানাইছে। আমার কাছে এই মন্তব্যরে না দেইখাই তর্কে লিপ্ত হওনের অভ্যাসের চাইতে বরং উপাদেয় লাগে।

১৬

উলটচন্ডাল's picture


আপাতত ছোট্ট করে ব্যাখ্যা করি:

আপনি যখন বলবেন " এই সিনেমাটা সবচেয়ে বাজে" - তখন আপনাকে এই সিনেমাটাকে অন্য সিনেমাগুলোর সাথে তুলনা করতে হবে।

ধরেন: ক, খ, গ

আমি বললাম এই তিনটার মধ্যে "গ" সবচেয়ে খারাপ।

কেন খারাপ? কারণ ক, খ - এর প্লাস পয়েন্ট গ এর চেয়ে বেশি।

পুরা পোস্টে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য ছবির সাথে কোন যৌক্তিক তুলনা নাই, শুধু পট করে সবচেয়ে বাজে বলাটা একটা ফালতু-ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছুই লাগে নি।

--------------------------------------------------------------------------------------------

মুক্তিযুদ্ধ নিয়া নীচুমানের প্রোপাগান্ডা ফিল্ম গেরিলা, এইটা আমার ধারণা, গেরিলা না দেখেই

কী ধরনের প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে আর কিভাবে এই ধারনা হল ভেঙ্গে বললে বুঝতে সুবিধা হয়।

১৭

হাসান রায়হান's picture


আমি ঠিক শিউর না প্রোপাগান্ডা শব্দটা শুধু নেগেটিভ কিনা। কিন্তু আমি এখানে নেতিবাচক অর্থে ব্যাবহার করি নাই। আমি বলতে চাইছি কাঁচা হাতে নীচুমানের নির্মানে মুক্তিযুদ্ধের আবেগি ফিল্ম। এইটা কিন্তু আমার পারসেপসন। বলি নাই যে ছবিটা এরমই।

১৮

রাসেল's picture


আপনি ছবিটা দেখবার পর আমরা লম্বা একটা আলোচনা করবো, কেনো ছবিটারে আমি এই উপাধি দিলাম কেনো এটারে আমার সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল মনে হইলো না

এইটা খুব ভালো একটা ছবি হইতো যদি ধরেন এইটার যেসব দৃশ্য অতি প্রয়োজনীয় সেই এক ঘন্টা বিশ মিনিট গ্রহন করে সেইটার ৬০ শতাংশ সংলাপ পরিবর্তন করে রিশ্যুট করলে আর যদি ভাই বেরাদার গ্রুপের অভিনেতা যে কি না এই ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্রে কাজ করছে তার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়া সিনেমাটা বানানো হইতো। সেইগুলা মিনিমান সাবস্টিটিউশ যেইটা করলে অন্তত দর্শক ছবিটার আশেপাশে দ্বিতীয় বার যাবে, এখন যেই মানে আছে তাতে কাউকে দ্বিতীয় বার ছবিটা দেখাতে হইলে কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে তা করতে হবে।

১৯

উলটচন্ডাল's picture


১০ নং মন্তব্য ভাস্কর ভাইকে আর ১১ নং মন্তব্য রায়হান ভাইকে করা। ধন্যবাদ।

২০

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


আপনার মন্তব্যগুলোর সাথে একমত।

২১

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


আপনার আগে কিছু লেখা পড়া আছে স্বাধীনতা বিরোধীদের উপরে, তাই এই পোস্ট পড়ে অবাক হলাম না। তবে সবচেয়ে মজা লেগেছে পুরো ছবিতে আপনি দুইটা চিত্র তুলে এনে একে "ছবির ভেতর যৌনভাবনার উপস্থিতি দৃষ্টিকটু ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে" বলে দিলেন যেখানে প্রথম চিত্রে যে ছেলেটাকে দেখানো হয়েছিল তাকে কামনাক্রান্ত ই দেখানো হয়েছে আর দ্বিতীয়টায় একটা অপরিচিত ছেলের সাথে সারারাত একটা গুদামে থাকতে কোন মেয়ে নিরাপদ বোধ করে তা জানিনা । যাই হোক, আপনার সাথে আলোচনা করে লাভ নাই। এই পোস্ট টা লেখার জন্য ই বোধহয় মুভিটা দেখতে গিয়েছিলেন।

প্রোপাগান্ডা টা কি সেটাও প্রকাশ করা উচিত আপনার।

=========================================
গেরিলার সংগীত অংশ ছাড়া সব কিছুই ভালো লেগেছে।

২২

ভাস্কর's picture


একলব্যের পুনর্জন্ম, রাসেল শাহাদতের যেই চারিত্রিক প্রকাশের কথা কইছে সেইটা নিয়া আমারো প্রশ্ন তৈরী হইছিলো। পরিচালকের ইচ্ছায় শাহাদত ছবিতে সেই সংলাপ উচ্চারণও করছে। আর অভিনেতার জেশ্চারে বিষয়টা যৌনাত্মক অনুভূতিও দেয়। আর দ্বিতীয় যেই ঘটনার উল্লেখ আছে সেইখানে বিষয়টারে আমার কামনার প্রকাশ লাগে নাই। তাই বইলা রাসেলের সাথে আলোচনা করা যাইবো না এই সিদ্ধান্তে যাওয়ার বিষয়টা ঠিক মনে হইলো না।

ছবির পেছনের লোকজনের কাছ থেইকা জানলাম শাহাদত চরিত্রটা বাস্তব। বিচিত্রার প্রয়াত সম্পাদক শাহাদত চৌধুরীরে পোর্ট্রে করতেই ঐ চরিত্রের অবতারণা। আর শাহাদত চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নাকি নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নিজেরও ছিলো...

২৩

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


আলোচনায় যাওয়া যাবে না বলিনি, বলেছি লাভ নেই।

২৪

রাসেল's picture


সবাই আমার লেখা পড়বার আগেই একটা অবস্থান গ্রহন করে ফেলে বিষয়টা বেশ আমোদের। জয়াকে নারী হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্য সফল হয়েছে হয়তো মানে তার শরীর পবিত্র এবং তার ইজ্জত খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ধারণাটুকু প্রতিষ্ঠিত করতে এসব দৃশ্যের প্রয়োজন ছিলো সেটা যদি আপনার মনে হয় তাহলে সেটা আপনার ব্যক্তিগত অবস্থানজনিত সমস্যা।

২৫

নজরুল ইসলাম's picture


সৈয়দ শামসুল হলের নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস থেকে যেই চিত্রনাট্য পয়দা হয়েছে সেটার গভীরতা নেই

ধরে নিলাম আপনি আসলে লেখক সৈয়দ শামসুল হক লিখতে চেয়েছেন। পুরো লেখাতে এরকম অসংখ্য ভুল, যা মূলত অযত্ন আর অবহেলার ছাপ বলে মনে হলো। আপনার লেখাটা কতোটা গভীর হলো তাহলে?

সেটা হয়তো আমার নিঃসাড় অনুভুতির সমস্যা

ছবিটির দীর্ঘ আড়াই ঘন্টার পটোভুমিতে ছবিটা কেনো শুরু হলো, কোথায় এর গন্তব্য, কেনোই বা এমন হবে কিংবা এমন হওয়াটাই অনিবার্য ছিলো কেনো এমন কোনো কিছুই প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি

এর দায় দুদিকে যেতে পারে, পরিচালক ব্যর্থ হয়েছেন, অথবা দর্শক হিসেবে আপনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কোনোটাই হতে পারে তাই না?

আজাদ আবুল কালাম আর ফেরদৌসের অভিনয় বিষয়ে যা বলছেন তার সঙ্গে একমত

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো তার স্মৃতিচারণের দুই নারী মুক্তিযোদ্ধর সাথে বিলকিসের মিল নেই

মিল থাকবে এমনটা আশা কেন করলেন? নিষিদ্ধ লোবানের বিলকিস চরিত্রের সঙ্গে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার মিশেল এই ছবি। তাই না?

গেরিলা ছবিতেও এবাদুরিফেক্ট ছিলো প্রবল ভাবেই, অনেক সম্ভবনার অপমৃত্যু ঘটাতে একা এবাদুরের নামোচ্চারণই যথেষ্ট মনে হয়

এবাদুরের স্ক্রিপ্ট কেটে ছেঁটে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু নিজে চিত্রনাট্য শুরু করেছিলেন বলেই রক্ষা, নইলে যে কী হতো!

ছবিটাতে একের পর এক ধারাবাহিক দৃশ্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে

এই বাক্যটা পড়ে মজা লাগলো... একের পর এক ধারাবাহিক দৃশ্য পরিবর্তন ঘটবে না তো কী হবে? একসঙ্গে সব ঘটনা ঘটবে!

অধিকাংশ সময়ই কোনো কারণ ছাড়াই অনেকগুলো আপাতবিচ্ছিন্ন দৃশ্য জুড়ে কোনো একটা কিছু বলবার চেষ্টা করা হয়, চলচিত্রের ভাষা না বুঝায় আমার পক্ষে যে ভাষা উপলব্ধি করা সম্ভব হয় নি

সেটাই Smile

ছবির ঘটনার ঘনঘটায় চরিত্রগুলো দানা বাধে নি তেমন ভাবে, অধিকাংশ সময়ই অপ্রয়োজনীয় অনেক দৃশ্য, অপ্রয়োজনীয় অনেক নৃশংসতা দেখানো হয়েছে

প্রয়োজন অপ্রয়োজন আসলে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার... বাস্তব যতোটা নৃশংস ছিলো, তার সিকিভাগও ছবিতে তুলে আনতে পারেননি পরিচালক। আমার মতে প্রয়োজনে হোক অপ্রয়োজনে হোক আরো একটু নৃশংসতা থাকলে ভালো হতো।
পাক বাহিনী কতোটা নৃশংস ছিলো এটা বুঝা দরকার আছে

কাস্টিং নিয়া একমত

শতাব্দী ওয়াদুদের অভিনয় পাকিস্তান মেজর চরিত্রটাকে তেমন নৃশংস কিংবা ভয়াবহ কোনো চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে নি

হ সত্য। এজন্যই বলছিলাম, আরেকটু নৃশংসতা দেখানোর দরকার ছিলো। তাইলেই ঠিক হইতো Smile

বিলকিস এবং তার বন্ধুরা যুদ্ধে জড়িয়ে পরে এবং ঢাকায় বিভিন্ন গেরিলা অপারেশন করতে থাকে, বিলকিসের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু, সুরকার আলতাফ মাহমুদ এবং জলেশ্বরীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ, এই চরিত্রগুলোর আগমন প্রস্থান এবং সাপ্তির ভেতরে আলতাফ মাহমুদের পরিসমাপ্তি মন্দের ভালো।

একটা সিনেমার সব চরিত্রর যদি আগমন প্রস্থান পরিসমাপ্তি লাইন ধরে দেখাতে হয় তাহলে সিনেমা না বানায়ে ডেইলি সোপ বানাতে হবে সম্ভবত। আমি এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিনেমা দেখি নাই, বিশেষ করে যুদ্ধের ছবি, যেখানে সব চরিত্র আলাদা আলাদা করে পরিসমাপিত হইছে। যুদ্ধের ছবির পরিসমাপ্তি ঘটনাতেই থাকে, চরিত্রে থাকে না। ভুল হলে শুধরায়ে দিয়েন।

যৌনভাবনার উপস্থিতিটাও আসলে দৃষ্টিভঙ্গিজাত। এটা নিয়ে তাই কথা বললাম না আপাতত

সঙ্গীতের বিষয়ে সহমত

ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ডে বন্দী নির্যাতনের স্থির চিত্র সম্ভবত নাসিরউদ্দীন ইউসুফের থিয়েটারের ব্যাকগ্রাউন্ডের অভিঘাত, বিভিন্ন ভঙ্গিতে উপস্থাপিত মানুষের ফ্রেমগুলো খুব বেশী স্পর্শ্ব করে নি

স্পর্শ্ব না করতেই পারে, স্পর্শ করলেই চলবে Smile

গালি পুরান ঢাকার একটা প্রাত্যহিক বিষয়। এটা আরোপিত মনে হয় নাই আমার কাছে।

কোন ক্লোজশটটায় ক্যামেরা কাঁপছে বলেন তো? মনে করতে পারতেছি না

তার নামে দেয়ালে লিখে রাখবার মতো হ্যাডম কি মুজাহিদীর ছিলো

আস্ত একটা আলবদর বাহিনী বানায়ে ফেললো, দেশের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবীরে মেরে ফেললো, তারপরও তার হ্যাডম নিয়া প্রশ্ন তুলতেছেন!

ছবিটার ব্যর্থতা হলো ছবিটার সাথে আমার কোনো সম্পর্কই তৈরি হয় নি

এই দায়টাও আপনার হতে পারে... যেমন আপনার নিঃসাড় অনুভূতির দায়

এভাবে গেট বন্ধ করে দর্শককে ছবিটা দেখতে বাধ্য করবার কৌশলটা দর্শককে আগ্রহী করতে পারবে এমনটা মনে হয় না

গেট বন্ধ করে ছবি দেখাতে বাধ্য করার কৌশলটা সম্ভবত গেরিলা কর্তৃপক্ষের না, বলাকা কর্তৃপক্ষের। এবং এই একই তরিকা তারা সব সিনেমাতেই খাটায়। সে গেরিলা হোক বা পীড়িতের আগুন জ্বলে দ্বিগুন হোক। সিনেমা দেখার অভ্যাস থাকলে এটা জানা থাকার কথা। তবে আপনি বের হতে চাইলে আপনাকে বেঁধে রাখবে সেটাও সত্যি না। গেটম্যানকে বললে বের হতে দেওয়ার কথা। গেরিলা দেখার সময় আমি একটা কাজে দুই মিনিটের জন্য বের হয়েছিলামও। আপনি কি চেষ্টা করেছিলেন?

আড়ী ঘন্টার দর্শকপীড়নের প্রয়োজন ছিলো না, ছবিত অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যগুলো , অতি অভিনয়গুলো যদি সম্পাদনার সময় বাদ দেওয়া হতো তাহলে হয়তো ছবিটার দৈর্ঘ্য দাঁড়াত কুল্লে আশি মিনিট, আশি মিনিট সহ্য করবার মতো জিনিষ পয়দা করতে এত ফ্লিম নষ্ট করবার কোনো প্রয়োজন ছিলো না

ছবিতে অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য দেখিনি, বরং আরো কিছু প্রয়োজনীয় দৃশ্য থাকলে ভালো হতো, ছবিটা লম্বা হয়ে যাচ্ছে বলেই হয়তো তা রাখতে পারেননি পরিচালক। ছবিটা আড়াই ঘন্টার না হয়ে তিন ঘন্টার হলে ভালো হতো বলে আমার ধারণা

তবে এই সিনেমাটা আমার কাছেও ভালো লাগে নাই... বাস্তব ইতিহাস অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকমতো দেখাইতে পারেন নাই পরিচালক। মাত্র দুইবার জবাই করা দেখাইছে, এইটা ইতিহাসের একটা খণ্ডিত চিত্র
পাকিদের বর্বরতার তো ছিটেফোটাও দেখানো যায় নাই... নারী ও শিশুর প্রতি যে চরম অমানবিকতা হইছে, তা স্পষ্ট হয় নাই... এরকম আরো কিছু দুর্বলতা আছে

২৬

উলটচন্ডাল's picture


আপনার মন্তব্য ভালো লেগেছে।

২৭

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


ধন্যবাদ, নজরুল ভাই।

২৮

জেবীন's picture


নজুভাই'র মন্তব্য ভালো লাগছে।

২৯

বিষাক্ত মানুষ's picture


নজরুল ভাইয়ের কমেন্টটা ভালো লাগছে।

৩০

জ্যোতি's picture


নজরুল ভাই কে অনেক ধন্যবাদ এমন একটা মন্তব্যের জন্য।

৩১

রাসেল আশরাফ's picture


থ্যাঙ্কস নজরুল ভাই।

৩২

রাসেল's picture


ক্যামেরা প্রথম থেকেই অল্প অল্প কেঁপেছে তবে সেটা সবচেয়ে ভয়াবহ ছিলো যখন বিলকিসের শ্বাশুরী মারা গেলো তার পরের হাসপাতালের বারান্দার দৃশ্যে, প্রায় দুই মিনিটের একটা সিকোয়েন্সে বিষয়টা বুঝতে না পারার কোনো কারণ নেই।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছবিটা কি পাকিস্তানীদের বর্বরতা এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকান্ড দেখানোর জন্যই নির্মিত হয়েছে

যদি এমনটাই হয় ছবি নির্মানের উদ্দেশ্য তবে সেটা প্রোপাগান্ডা ফিল্মের ক্যাটাগরিতে পড়বে, মানে নজরুলের ভাষ্য পড়ে আমার মনে হল নজরুল ঠিক এই জিনিষটার চিত্রায়ন চেয়েছিলো, বাকি সব চরিত্র শুধু নির্যাতিত হওয়ার দৃশ্যে অভিনয় করে সিনেম্যাটিক্যালি মৃত্যু বরণ করলেই ভালো।

পাকিস্তানীদের বর্বরতার দলিল হিসেবে সেটা কি খুব ভালো কিছু হতে পেরেছে, প্রশ্নের উত্তর নজরুল দিতে পারবে তবে নজরুলের আক্ষেপ পড়ে মনে হলো এটাও তার কাছে প্রয়োজনীয় প্রোপাগান্ডার উপযুক্ত বিবেচিত হয় নি।

বিলকিস না হয়ে যদি ছবিটা বেলায়েত নামের কাউকে নিয়ে হতো তাহলেও কি ছবির কোনো হেরফের হতো , একটাই সমস্যা হতো তখন পাকিস্তানী মেজর বেলায়েতকে ধর্ষণ করতে পারতো না। এর বাইরে বিলকিসের চরিত্রে এমন আলাদা কি আছে, আলাদা কি ধরণের দায়বদ্ধতা আছে একজন নারী হিসেবে, নিজের শরীরের প্রতি আলাদা স্পর্শকাতরতা ছাড়া। বেলায়েতকে মূল চরিত্রে রেখেও যদি সিনেমাটা নির্মিত হতো এর কোনো কিছুই বদল হতো না,

৩৩

নজরুল ইসলাম's picture


এবার বুঝলাম কাঁপাকাঁপির মানে। হ্যান্ড হেল্ড আর শ্যাকি ক্যামেরা শুটিং টেকনিক অনেক পুরান কাহিনী... বড় বড় পণ্ডিতেরা পক্ষে বিপক্ষে অনেক তর্ক করছেন, কিন্তু এটা ভালো না মন্দ সেই বিবেচনা এখনো পাই নাই। পরিস্থিতি বিশেষে আমি এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করি না। আপনার ভালো লাগে নাই সেইটা বুঝলাম। যাহোক, সেভিং প্রাইভেট রায়ান দেখছিলেন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছবিটা কি পাকিস্তানীদের বর্বরতা এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকান্ড দেখানোর জন্যই নির্মিত হয়েছে

না। আমার ধারণা সিনেমাটা নির্মিত হইছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দেখানোর জন্য। কিন্তু পাকিস্তানীদের বর্বরতা আর জামায়াতে ইসলামীর কর্মকান্ড না দেখায়া কিভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দেখানো সম্ভব সেই টেকনিক নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু শিখতে পারে নাই এখনো। ফিল্ম নিয়া এই লোকটার আরো কিছু পড়াশোনা প্রয়োজন

নজরুলের ভাষ্য পড়ে আমার মনে হল নজরুল ঠিক এই জিনিষটার চিত্রায়ন চেয়েছিলো, বাকি সব চরিত্র শুধু নির্যাতিত হওয়ার দৃশ্যে অভিনয় করে সিনেম্যাটিক্যালি মৃত্যু বরণ করলেই ভালো

খুব কৃতিত্বের সঙ্গে আমার চাওয়াটার ভুল অনুবাদ করলেন Smile

পাকিস্তানীদের বর্বরতার দলিল হিসেবে সেটা কি খুব ভালো কিছু হতে পেরেছে, প্রশ্নের উত্তর নজরুল দিতে পারবে তবে নজরুলের আক্ষেপ পড়ে মনে হলো এটাও তার কাছে প্রয়োজনীয় প্রোপাগান্ডার উপযুক্ত বিবেচিত হয় নি।

এ বিষয়ক কথা সম্ভবত প্রথম মন্তব্যেই বলেছি

বিলকিস না হয়ে যদি ছবিটা বেলায়েত নামের কাউকে নিয়ে হতো তাহলেও কি ছবির কোনো হেরফের হতো , একটাই সমস্যা হতো তখন পাকিস্তানী মেজর বেলায়েতকে ধর্ষণ করতে পারতো না। এর বাইরে বিলকিসের চরিত্রে এমন আলাদা কি আছে, আলাদা কি ধরণের দায়বদ্ধতা আছে একজন নারী হিসেবে, নিজের শরীরের প্রতি আলাদা স্পর্শকাতরতা ছাড়া। বেলায়েতকে মূল চরিত্রে রেখেও যদি সিনেমাটা নির্মিত হতো এর কোনো কিছুই বদল হতো না

বুঝলাম কিছুই নাই... এবার আপনি বলেন তো, একটা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমায় কী কী থাকা উচিত? কী কী থাকলে সেটা মুক্তিযুদ্ধের একটা আদর্শ সিনেমা হয়ে উঠতে পারবে?

৩৪

রাসেল's picture


এক সঙ্গে এতগুলো লেখা পড়ে যে ভাবনার প্রসেসর হ্যাং করবে এইটা বুঝতে পারি নাই।

একটা সরল সোজা উত্তর পাওয়া গেলো যে ছবিটা নির্মিত হইছে মুক্তিযুদ্ধ দেখানোর জন্য, এটাই "মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বয়ান" কি আমরা বলতে পারি

আর অন্য একটা প্রশ্ন করবো, বেশী প্রশ্ন করলে আবার প্রসেসর হ্যাং করবে মনে হয়।

নিষিদ্ধ লোবানের সাথে এই ছবির গল্পের ব্যবধান ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী আর কোলকাতা বাংলাদেশের রাজধানীর ব্যবধান, বিলকিসকে জলেশ্বরী পাঠানোর আগের ঘটনা নির্মানের চেষ্টাটাতে অনেক কিছুই করা হয়েছে, কিন্তু বিলকিস এই ছবিতে কিভাবে বিকশিত হয়েছে, এর চেয়ে সহজ ভাবে বলা যাচ্ছে না বলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আমি, নিষিদ্ধ লোবানের বিলকিস বানানোর প্রাণান্ত প্রচেষ্টা না থাকলে এই ছবিতে বিলকিস চরিত্রটি যেভাবে বিকশিত হয়েছে সেখানে যদি বেলায়েত বলে অন্য কারো বিকাশ দেখানো হতো সেটা কি একই রকম হতো না কি ভিন্ন কোনো ঘটনা ঘটতে পারতো,

প্রধান চরিত্র নারী না হয়ে যদি কোনো পুরুষ হতো তাহলে ছবিটার কি ক্ষতিবৃদ্ধি হতো।

৩৫

নজরুল ইসলাম's picture


এইটা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বয়ান হয়নাই ধরে নেন... এবার আপনার কাছে জানতে চাইতেছি কী কী থাকলে একটা আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা বানানো যায়?

"কোলকাতা বাংলাদেশের রাজধানী" ব্যাপারটা বুঝি নাই, বুঝায়া বলবেন? নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাসটা কি আপনার পড়া আছে?

এইটা খুব বুঝলাম বিলকিস না থাইকা বেলায়েত থাকলে আপনি বেশি আমোদ পাইতেন Wink

প্রধান চরিত্র নারী না হয়ে যদি কোনো পুরুষ হতো তাহলে ছবিটার কি ক্ষতিবৃদ্ধি হতো

প্রধান চরিত্র নারী না হয়া পুরুষ হইলে কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হইতো না বুঝলাম, কিন্তু নারীচরিত্র হওনে কী ক্ষতিবৃদ্ধিটা হইলো?

৩৬

রাসেল's picture


উপন্যাসটা পড়া আছে বলেই নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে শিরোণামে আপত্তি, উপন্যাসের কোন অংশটুকুর চিত্রায়ন এখানে আছে, মানে চরিত্রের নামের মিল ছাড়া কোন অংশ্টা এখানে উপস্থিত

মাস্টারের মেয়ে হিসেবে যে বিলকিস গ্রামে যাচ্ছে তার সাথে তার বাবার শালাকে আনবার গুরুত্ব কোথায়, ট্রেনের জানালায় শরীয়ত আর তরিকতের বয়ান ফলানোটা উপন্যাসের কোন অংশটুকুকে উপস্থাপিত করে

বিলকিসের গ্রামে যাওয়ার আগে জনৈক গুড়াক্রিমির হকারের উপস্থিতি ছবির কোন প্রয়োজন সাধন করেছে, ট্রেনে হকার থাকবেই, সেই গুড়া কৃমির হকারের সাথে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ব্যক্তিগত সখ্যতাও থাকতে পারে এ বিষয়ে কোনো মতামত দেওয়া যাবে না কিন্তু সেটা যে নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাসের অংশ না এটা আমি নিশ্চিত

সিরাজের কাজকারবার, তার হিন্দু থেকে মুসলমান হোয়ে যাওয়ার বিষয়টা উপন্যাসের প্রেক্ষিতে যতটুকু আবেদন এনেছিলো এখানে সিরাজের বিকাশে সেটা অনুপস্থিত
ধর্ষিতা হওয়ার আগে সেনাসদস্যের চিৎকারের আগে তার কোনো স্বীকৃতি এখানে নেই

তবে নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাসের মানবিক দিকটুকু, প্রতিরোধের দিকটুকু এখানে উঠে আসে নি, খোকন কমান্ডার চরিত্রটাকে আমদানী করা হয়েছে, তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হা হা হা হা হুংকার দিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধার আগমণ, সেটাও উপন্যাসের অংশ নয়, যদি উপন্যাসের পাতার পর পাতা এগিয়ে যাই তাহলে বলবো প্রধান চরিত্রের নাম ছাড়া অন্য কোন ঘটনাটা এখানে উপন্যাসের অংশ

৩৭

রাসেল's picture


প্রশ্নটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে কিন্তু ধরা যাক এর আগে অন্তর্জালে মেহেরজান ইস্যুতে তেমন কোনো কামড়াকামড়ি হয় নি, ধরা যাক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করবার কোনো ঘটনা ঘটে নি, ন্যারেটিভ গ্রান্ড ন্যারেটিভ জাতীয় কোনো বাক্যাবলী অভিধানে নেই, এটা শুধুই আলাদা একটা ছবি, সেখানে কিছু এলেমেলো দৃশ্য সাজানো কিংবা ছবিটা মেহেরজানের আগেই রিলিজ হলো ছবিঘরে, সে ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াটি কেমন হতো। ব্লাইন্ডেড কিংবা ব্লারড ভিশন থেকে না ছবির জায়গা থেকে ছবিটাকে দেখা, শুধু ছবি হিসেবে এটার নির্মাণ, ক্যামেরার কাজ, আবহসঙ্গীত সংলাপ এবং অভিনয়ে এটা কি রকম মার্কিং পাবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধার অভিজ্ঞতা এবং নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রনাট্য বিষয়টাতে "নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস" অবলম্বনে বাক্যটাকে ফোকাস করলে বলতে হবে যদি এটা নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে রচিত চিত্রনাট্য হয় তবে আমাদের মেনে নিতে হবে কোলকাতা বাংলাদেশের রাজধানী। ততটা বিচ্যুতি মেনে নিতে পারলে এটা মুক্তিযুদ্ধের ছবি, এটা নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে ছবি।

সবচেয়ে বড় গোজামিলের একটা হলো বিলকিসের জলেশ্বরী যাত্রায় আচরণ এবং ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার আচরণ
ঢাকায় তার অফিস যাওয়ার পথে, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বিলকিস অনেকগুলো লাশ পরে থাকতে দেখে রাস্তায়, সেখানে তার কোনো ভাবান্তর হয় না, সে দিব্যি গ্যাট গ্যাট করে হেঁটে যায়, সেই বিলকিস গ্রামে গেলো

গ্রামের রাস্তায় কবর থেকে লাশের ঠ্যাং দেখে বিকট চিৎকার দিলো, এমন অভিব্যাক্তি যে আগে নয় জীবনে এই প্রথম সে কোনো লাশের দৃশ্য দেখলো, পরবর্তীতে নৌকায় লাশ দেখে বিলকিসের বমি করবার দৃশ্যের সাথে ঢাকার গেরিলা বিলকিসের কোনো মিল নেই, দুই বিলকিস দুই ভিন্ন চরিত্র , বরং ছবির সে দৃশ্যে হঠাৎ বিলকিসের বমি দেখে ঢাকাই ছবির চিরপুরাতন দৃশ্যের কথাই মনে হলো, একটু আচার খাবো, যাচ্চলে না গেরিলা যুদ্ধ করতে করতে বিলকিস কি গর্ভবতী হতে যাচ্ছে, এটাই কি ছবির ক্লাইমেক্স।

তা হয় না, বিলকিস কেনো ঢাকা আর ঢাকার বাইরে আলাসা মনঃস্তাত্ত্বিক চরিত্র ধারণ করে সেটার গ্রহনযোগ্য কোনো বয়ান নেই।

ছবিটার সবচেয়ে ভালো অংশটুকু ঘটেছে ট্রেনে, সেখানে বিলকিসের নেকাব খুলে ফেলা দৃশ্যটা আরও একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতো,কিন্তু বিলকিসকে দরজায় ঝুলিয়ে হাওয়ার তার আচল উড়ানো এবং ফেরদৌসের ছ্যাবলামি দিয়ে ছবিটার বারোটা বাজানোর কাজটা দক্ষ ভাবেই করেছে পরিচালক

৩৮

নজরুল ইসলাম's picture


এই ছবি দেখতে গিয়ে বা মন্তব্য আলোচনা করতে গিয়ে কখনোই আমার মেহেরজানকে টেনে আনতে হয় নাই। কিন্তু পোস্টে মন্তব্যে আপনি অনেকবার সেটা আনছেন। আপনাকেই বরঞ্চ অনুরোধ করবো মেহেরজান ভূত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে এই সিনেমাটা আরেকবার দেখতে। ব্লাইন্ডেড কিংবা ব্লারড ভিশন থেকে না দেখার অনুরোধটা আবারো আপনাকেই করে গেলাম

শুধু ছবি হিসেবে এটার নির্মাণ, ক্যামেরার কাজ, আবহসঙ্গীত সংলাপ এবং অভিনয়ে এটা কি রকম মার্কিং পাবে।

শুধু সিনেমা হিসেবে সিনেমা বা শুধু নির্মাণ, ক্যামেরার কাজ, আবহসঙ্গীত, সংলাপ, অভিনয় বিবেচনায় সিনেমা বাছতে হলে পৃথিবীর সব সিনেমাকেই পৃথিবীসেরা হওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ন হতে হবে। টেকনিক্যালি সাউন্ড সিনেমা না হইলে আমি দেখবো না এই যদি ভেবে থাকি, তাহলে বাংলাদেশের সিনেমা দেখাই বাদ দিতে হবে। বসে বসে গ্যদার, কুরোশাওয়া দেখবো খালি।
কিন্তু সেটা আমি পারি না। আমি সিনেমা দেখার আগে প্রেক্ষাপটটা দেখি। বাংলাদেশের সামর্থ্য সীমিত, বাজেট ততোধিক সীমিত এইসব মাথায় রেখে আমি সিনেমা দেখতে বসি। তাই সেরা ক্যামেরার কাজটা বা সেরা মিউজিকটার চেয়ে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ছবিটায় বাংলাদেশের কথা ঠিকঠাক উঠে আসছে কী না?
এখানেই গেরিলা শুধু পাশমার্ক না, লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করে যায়।

নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাক্যটাকে ফোকাস করতে হবে কেন? যেখানে "একজন মুক্তিযোদ্ধার অভিজ্ঞতা" কথাটা স্পষ্টাক্ষরে লেখা আছে?

শহুরে জীবনে অভ্যস্থ একটা মেয়ে শহরে যতটুকু সাবলীল হবে, গ্রামে ততটা হবে না, এটাই তো সত্যি। আচরণও ভিন্ন হবে। শহুরে বাস্তবতায় লাশ আর গ্রামীন বাস্তবতায় লাশও তো ভিন্নই হবে। এক হবে কেন?

৩৯

রাসেল's picture


এটাই মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধিত্বকারী ছবি বিষয়টা কিছুটা বিভ্রান্তিতে ফেলে দিতে পারে,

ছবির গল্পে ঠিকমতো একাত্তরের ইতিহাস উঠে এসেছে এ প্রাসঙ্গিক আলোচনা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ, ইতিহাস দখলের প্রচেষ্টার লড়াই, বাংলাদেশের সকল প্রতিরোধে মুজিবের উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব দখলের চেষ্টার লড়াই বাংলাদেশের ইতিহাস হতে পারে, ট্রান্সমিটার তৈরির ইতিহাস সত্য, সেটা দিয়ে কোনো সম্প্রচার হয়েছিলো কি না কিংবা কোনো টেলিগ্রাম পৌচেছিলো কি না এসব গবেষকদের গবেষণার বিষয়, সেই খামতিটুকু আমরা আলোচনার গ্রাহ্যে আনবো না।

আমরা সরাসরি যুদ্ধে পৌছে যাই, ফেরদৌসের প্রথম সংলাপ ২৫শে মার্চ কিছু একটা হবেই, সেই লিড নিউজ লিখবে, সেদিন সারাদিনে কি কি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে মানে এক দফা হতে যাচ্ছে ছয় দফা এমন কোনো ভাবনার উপস্থিতি কি সেদিন ছিলো কিংবা এমন স্পষ্ট করে বলবার মতো কিছু

আমরা এটাও এড়িয়ে যাবো কারণ এটা প্রাসঙ্গিক ইতিহাস দখল প্রচেষ্টা নয়,

৪০

নজরুল ইসলাম's picture


হু... পোস্টে এগুলা আলোচনায় আনেন নাই
গেরিলার আগেই মেহেরজানের নাম নিছেন Smile

৪১

রাসেল's picture


ছবিটা প্রোপাগান্ডামূলক ছবি বলতে হইলে অপ্রিয় অনেক কথা বলতে হইতো, মুজাহিদের হ্যাডম নিয়া প্রশ্নটা ছিলো এই জন্যই, নুরুল আমিন, খাজা খয়েরউদ্দীন এরা কেউই তখনও নিরাপদ পরিবেশেও স্বাধীকারের বাইরে কোনো সমাধানের ধারণা ভাবতে পারে নাই, রাজনৈতিক সমাধানের জায়গাটা একটা দুর্বল ফেডারেশনের মাধ্যমেই সম্ভব পর এই উপলব্ধি তাদেরও ছিলো, মুজিবকে বাদ দিয়া কোনো সমঝোতা আলোচনাও সম্ভব না এইটা বড় বড় পান্ডারা বুঝলেও এক মুজাহিদ কিংবা জামায়াতে ইসলামী শেখ মুজিবের ফাসী চাই শ্লোগান লিখে ফেলবে দেয়ালে এত বড় হ্যাডম বাংলাদেশের পাবলিকের ছিলো এইটা মাইন্যা নেওয়াটা একটু কষ্টকর, অনেক পানি গিলতে হবে এইটার সাথে।

৪২

রাসেল's picture


বিলকিস যে একজন নারী, বেলায়েত না, সেটা বুঝা যায় শুধুমাত্র তার শরীর বিষয়ক ছুতমার্গে, সেখানেই সে নারী এবং তার শরীরের পবিত্রতা বিষয়ে সচেতন। এর বাইরে নারী হিসেবে যে দুটো ইমোশন্যাল মুহূর্ত ছিলো সেখানে ছবিটা একেবারে ফ্ল্যাট, ইমোশন তৈরির জায়গা ছিলো না, তৈরি হয় নাই তেমন ভাবে,

সর্দারের মৃত্যু দৃশ্যে সর্দার এবং তার আশ্রিতের ভাবনার বদলটাতে সর্দার হিসেবে এটিএম শামসুজ্জামান তেমন এক্সপ্রেসন দিতে না পারলেও আজাদ আবুল কালাম একাই কাজটা করেছে এবং সে কারণেই একটা সিনেম্যাটিক মোমেন্ট কিংবা একমাত্র সিনেম্যাটিক মোমেন্ট তৈরি হয়েছে।

পার্টিতে হামলার সময় সোশালিয়েট হিসেবে অভিনয় করা শম্পা রেজা এবং বিলকিসের চরিত্রের ভেতরে যে অনুভুতি সেটা ফুটিয়ে তুলতে যদি আরও কিছু সময় দেওয়া হতো তাহলে হয়তো শম্পা রেজার আত্মত্যাগের মাহত্ব বুঝা যেতো ঠিকঠাক মতো, নিজের মাতৃত্বের বদলে দেশের স্বাধীনতার জন্য যে মহিলা প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলো তার প্রতি এমন সচেতন অনীহা পরিচালকের কেনো

দ্বিতীয় একটা মুহূর্ত এসেছিলো ট্রেনে, যখন একজন মেয়েকে বেশ অনেকক্ষণ বেপর্দা হিসেবে হেনেস্তা করা হলো এবং সেটাতে মেয়েটার মনোকষ্ট এবং সেখানে বিলকিসের সহমর্মিতার জায়গাটা ফুটিয়ে তোলা যেতো, পরিচালক সে রাস্তায় হাটেন নি, তিনি পুরুষের চোখে বিষয়টাকে দেখিয়েছেন কিংবা তার কাছে এইসব বিষয় কিংবা অনুভুতি মূল্যহীন, আমার কাছে দ্বিতীয়টা সঠিক মনে হয়,

৪৩

বিষাক্ত মানুষ's picture


এইখানে আইসা আমার মনে হইতাছে আমরা একটা সিনেমা নিয়া সমালোচনা করতাছি।

আপনের পয়েন্টগুলোর সাথে অনেকাংশে একমত হইলাম রাসেল ভাই।

৪৪

biprotop's picture


rasel er shate akmot. chobi te onek jaigal pakistani vs hindu, or muktijuddha vs islam clash dekanor cheshta kora hoyeche, kintu juddho ta religion er shate related kichui chilona. rajakar ra kakonoi islam ke represent korena. r pakistani re je beche beche shudu hindu der kei murder korse etao thik na,,

৪৫

জেবীন's picture


সিনেমা বোদ্ধা নই, ভালো না খারাপ সেটা আমার নিজের দেখতে কেমন লাগছে তাই বড় আমার কাছে।

গেরিলা সিনেমা বেশ ভালো লাগছে আমার। সব ঘটনাই আমাদের জানাশোনার মাঝের ঘটনাই যেন, তাও ছবিতে দেখে এতটুকুও বিরক্তি লাগে নাই, শুধুমাত্র সিনেমার ধুমধাম করে শুরু হওয়া গান গুলো ছাড়া । আর বইটা আর সিনেমাটা তো হুবহু মিল নাই এটাতো জানাই ছিলো। দুইটা চরিত্রেই শতাব্দী ওয়াদুদের অভিনয় ভালো লাগছে, গড়পরতা ন্যাকামিওলা আর্মিদের মতো না, আবার অহেতুক নৃশংসতাও নাই, জয়ার বেস্ট অভিনয় লাগছে বিলকিস চরিত্রটারে, আর এটিএম শামসুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ ওনাদের অভিনয় দারুন...

৪৬

বিষাক্ত মানুষ's picture


রাসেল ভাই আমার কাছে লেখাটা পইড়া কেন জানি মনে হইতাছে -

"এই সিনেমাটা কেমনে অস্কার জিতলো!! এর একটা কঠোর সমালোচনা লেইখা ফালাই... কিন্তু লিখুম কেমনে !! সিনেমাটাই তো দেখি নাই !! যাই আগে সিনেমাটা দেইখা লই তারপর ফাইড়া ফালামু"

আমার মত নিন্মবুদ্ধির আম পাব্লিকের চোখেও অনেক ফাঁক ফোকর ধরা পড়ছে সিনেমাটার। কাহিনীর ধারাবাহিকতার অনেক তথ্য সিনেমাটা আমারে দিতে পারে নাই।
সঙ্গীতও কিছুটা হতাশ করছে আমারে।

বাস্তব যতোটা নৃশংস ছিলো, তার সিকিভাগও ছবিতে তুলে আনতে পারেননি পরিচালক। আমার মতে প্রয়োজনে হোক অপ্রয়োজনে হোক আরো একটু নৃশংসতা থাকলে ভালো হতো।

নজরুল ভাইয়ের এই কথার সাথে সহমত।

৭১ সালে পাকি হানাদার বাহিনি আর তাগো পা-চাটা কুত্তা জামাত এর নিষ্ঠুরতা হয়তো সারাদিন নেটে বিচরনের কারনে অথবা এই ইস্যুটাতে আমি কনসার্ন এই কারনে আমি কিছু কিছু জানি। আর যারা আম পাব্লিক আছে 'শিলা কিজাওয়ানী' দেইখা বেড়ায়, বরফ দেয়া স্প্রাইটের মগে চুমুক দিতে দিতে আফ্রীদির ছক্কা দেইখা উল্লাস করে, ঠোঁট সরু কইরা কয় - পাস্ট ইজ পাস্ট মাইট, টেক এ চিল পিল। তাগো একটা অংশ যদি এই মুভিটা দেইখা কিছুটা হইলেও চিন্তা করে ,,,, তাইলেই আমি কমু এই সিনেমাটা কিছুটা হইলেও কামের কাম করছে। হয়তো জ্ঞানীগুনিগো ভাষ্য মতে এইটা কোন বালের সিনেমাও হয় নাই বা পরিপূর্ন সিনেমা হইতে পারে নাই, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।

৪৭

নজরুল ইসলাম's picture


Applause

৪৮

হাসান রায়হান's picture


রাসেল ভাই আমার কাছে লেখাটা পইড়া কেন জানি মনে হইতাছে -

"এই সিনেমাটা কেমনে অস্কার জিতলো!! এর একটা কঠোর সমালোচনা লেইখা ফালাই... কিন্তু লিখুম কেমনে !! সিনেমাটাই তো দেখি নাই !! যাই আগে সিনেমাটা দেইখা লই তারপর ফাইড়া ফালামু"

এই ধরণের আক্রমনাত্মক ভাষা আলোচনার জন্য উপযোগী বলে মনে হয় না। বরং এইসব যুক্তি তর্কের চেয়ে জিনিসটারে খেঁয়োখেঁয়ির দিকে নিয়ে যায়।

৪৯

বিষাক্ত মানুষ's picture


রাসেল ভাই যদি আমার কথায় সামান্য হইলেও আহত হয় ... তাইলে আমি দুঃখিত।

৫০

রাসেল's picture


আমার চামড়া এতটা পাতলা না , সমালোচনার জায়গা থেকে বিষয়টা আমোদক

৫১

রাসেল's picture


ছবিটা স্থুল, যদি অনেক শোভন ভাষায় আমি প্রতিক্রিয়াটা লিখতে চাই তাহলে বলবো এই এলেমেলো দৃশ্যায়নকে কাহিনী চিত্র কিংবা ছবি কিংবা চলচিত্র আখ্যা দিতে যে পরিমাণ স্থুলতা প্রয়োজন আমি ততটা স্থুল না।

তোমার চাওয়া এই ছবি দেখে নতুন প্রজন্ম পাকিস্তানী বর্বরতাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শিখবে, কিছুটা হলেও ভাববে কিংবা ছবিটা ভাবাতে পারবে, এই আশাবাদটুকু কি ছবিটা পুরণ করতে পারবে মনে হয় , যদিও এই কামনার নেপথ্যে থাকা প্রোপাগান্ডার বাসনাটুকু আলোচনার খাতিরে ঝেড়ে ফেলতেও আগ্রহী আমি।

একটা ছবি দর্শককে স্পর্শ করবে তার গল্পের গুণে, সে গল্প কি এখানে আছে, দৃশ্যের সাথে সাথে এমন কোনো গল্প কি তৈরি হয় ছবির ভেতরে
সেখানে আবেগ নির্মাণের কোনো ঝোঁক কি পরিচালকের ছিলো,
মাছের চোখের মতো নিস্পলক চেয়ে থাকা দৃশ্যগুলো কি বিলকিসের আবেগ ধারণ করতে পেরেছে, পুনরায় ছবিটা দেখে ভাববার চেষ্টা করো, প্রথম ধাক্কায় বিষয়টা এমন আবেগাক্রান্ত করলে পুনরায় ভালো করে ভাবো, ভেবে বলো তুমি কি দ্বিতীয় বার কোনো কারণে ছবিটা দেখতে আগ্রহী

ছবির অসংখ্য দুর্বলতা আছে, সেসব দুর্বলতা নির্মানশৈলী আর সম্পাদনার দুর্বলতা, 'মুক্তিযুদ্ধের ছবি' হিসেবে এটা তেমন প্রতিনিধিত্বশীল কেনো হয়ে উঠবে সেটা আমিও জানতে আগ্রহী

৫২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


পুনরায় ছবিটা দেখে ভাববার চেষ্টা করো, প্রথম ধাক্কায় বিষয়টা এমন আবেগাক্রান্ত করলে পুনরায় ভালো করে ভাবো, ভেবে বলো তুমি কি দ্বিতীয় বার কোনো কারণে ছবিটা দেখতে আগ্রহী

একটি সহজ কোশ্চেন, আপনি কি ছবিটা দুইবার দেখেছেন ? নাকী একবার দেখেই ছবির কাহিনী, নির্মাণ, সংগীত, চিত্রগ্রহণ, নির্মাতাসহ প্রায় সকল কলাকুশলীর ভাল দিকটা (যদি কিছু থেকে থাকে) বাদ দিয়ে শুধুই খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে তুলাধূনা করেছেন... ?? এনিওয়ে, একজন দর্শক হিসাবে গেরিলার সমালোচনা বিষয়ক আপনার এই অতি সমালোচনামূলক পোস্টটি আমার ভাল লাগে নাই...

পাশাপাশি শুধু সাপোর্ট করার জন্যই সাপোর্ট করার (এটাও আমার মত) ইচ্ছা নিয়ে ভাস্করদার আপনার এই পোস্টের পক্ষে অবস্থান নেয়ার বিষয়টিও আমার কাছে আরোপিত মনে হয়েছে। এর কারন হচ্ছে গেরিলা ছবিটা নিয়ে ভাস্করদারও একটা পোস্ট এবিতে ছিল। তার নিজের লেখা সেই পোস্টের বক্তব্য আর আপনার পোস্টের পক্ষে সাফাই গাওয়া - দুইটা আমার কাছে স্ব-বিরোধী মনে হয়েছে...

৫৩

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ভাস্করদার গেরিলা বিষয়ক পোস্টের লিংক http://www.amrabondhu.com/vashkar/2962

৫৪

ভাস্কর's picture


আপনি যে আমার রিভিউটা ভালোমতোন পড়েন নাই সেইটা বুঝতে পারলাম। আমার ঐ রিভিউতে ছবিটার প্রোডাকশন ডিজাইনিঙ আর সম্পাদনা নিয়া ভালো লাগা ছিলো...আর রাজনৈতি এক্সপ্রেশনে ভুলে ভরাই লাগছে। এ্যাব্রাপ্ট স্টোরি টেলিং আর চরিত্রের রূপায়ণ নিয়া খারাপ খারাপ কথাই সেইখানে আছে। আমি যে ঘৃণাবাদের কথা কইতেছি সেই বিষয়েও কথা আছে ঐখানে। তবে ভাষা ব্যবহারে ঐ লেখাটা বেশ পলিটিক্যালি কারেক্ট টাইপ হইছে।

আপনি এই পোস্টে আমার মন্তব্য, আমার শেষ পোস্ট আর রিভিউটা আরেকবার মিলাইয়া পড়লেই বুঝবেন আমি স্ববিরোধী কিছু কই নাই...

৫৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আপনি যে আমার রিভিউটা ভালোমতোন পড়েন নাই সেইটা বুঝতে পারলাম। আমার ঐ রিভিউতে ছবিটার প্রোডাকশন ডিজাইনিঙ আর সম্পাদনা নিয়া ভালো লাগা ছিলো..

আপনের কথা মতন আমি যদি আপনের লেখা রিভিউটা না পৈড়াও থাকি তাও কওন যায়- আপনের রিভিউতে অন্তত গেরিলা ছবির ২/১ টা ভাল দিক আপনে তুইলা ধরছেন। মাগার রাসেল কী করলো ? গেরিলার সকল খারাপ দিক তুইলা ধরলো। আর আপনে সেটারে পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিলেন--- আমি আমার মন্তব্যে শুধু এই কথাটাই বুঝাইতে চাইছি... অন্য কিছুনা... খারাপ লাগলে মাফ কৈরেন

৫৬

ভাস্কর's picture


এই পোস্টের অনেক বিষয় আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় আবার অনেক বিষয়রে ব্যক্তিগত স্টেইটমেন্ট মনে হয়

এই বাক্য আমি এই পোস্টে করা দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় কমেন্টে লিখছি। আপনের অভিযোগ অতএব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। Tongue

৫৭

হাসান রায়হান's picture


চালায় যান দাদাভাই, মাফ চাওনের কিছু নাই । Cool

৫৮

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মাফ না চাইয়া উপায় আছে !
যেই হারে আপনেরা গেরিলা সিনামার পোস্টমর্টেম করতেছেন ...!
মারহাবা...

৫৯

হাসান রায়হান's picture


ফতোয়াডা কী, গেরিলার পোস্টমর্টেম করণ যাইবোনা?

৬০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


তাতো বটেই, তাতো বটেই। নিশ্চয়ই গেরিলা/গরিলা সবতের পোস্টমর্টেম করন যাইবো... শুধু মেহেরজান ছাড়া Wink

৬১

ভাস্কর's picture


আপনে মেহেরজান নিয়া পোস্টমর্টেম করেন...আমরা পড়ি। আপনেরে কে মানা করছে কন তার একদিন কি আমার... চোখ টিপি

৬২

হাসান রায়হান's picture


মানে হইল, যে মেহেরজানরে গাইল্লাইবোনা সে রেজাকার?

৬৩

মাহবুব সুমন's picture


অপকোর্ছ সে রেজাকার,
তার চোদ্দ গুস্টি রেজাকার

৬৪

রাসেল's picture


আমার মনে হয় যে প্রশ্নটা আমি বিমাকে করেছিলাম সেখানে বলা হয়েছিলো ছবিটার ভেতরে এমন কোনো গুণ কি আছে যে কারণে দ্বিতীয় বার ছবিটা দেখবার আগ্রহ বজায় থাকবে, আমি অনেক ছবিই বেশ কয়েকবার দেখেছি, কিন্তু এ ছবি আমাকে দ্বিতীয় বার দেখতে অনুরোধ করলেও আমি পাশ কাটিয়ে যাবো, বিমা'র যদি দ্বিতীয় বার দেখবার মতো আগ্রহ থাকে তাহলে ও ভালো বলতে পারবে ছবিটার কোন জিনিষটা আগ্রহউদ্দীপক

সমালোচনা সব সময়ই সমালোচনা, সেটার অতি কিংবা অল্প নেই, কোনো কোনো সমালোচনা ভালো লাগে কারণ সেটার সাথে পাঠকের নৈর্ব্যক্তিক যোগাযোগের সুযোগ থাকে, এখানে সম্ভবত নৈর্ব্যাক্তিক নিরাবেগ সংযোগটা তৈরি হচ্ছে না, প্রত্যেকের একটা ইমোশন্যাল এটাচমেন্টের জায়গা তৈরি হয়েছে, ছবিটা ছবি হয়ে উঠতে পারে নি এটা যদির একটা কাহিনী চিত্রের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয় সেটা আবেগ দিয়ে আড়াল করা কি সম্ভব

এটা ডকুমেন্টারী হতে পারে নি, বিশ্বস্ত বয়ান তৈরীর ক্ষেত্রে সততা যতটা প্রয়োজন ততটা সততাও হয়তো ছিলো না, কিংবা কোনো কোনো অনুভুতি, বিশেষত শাহাদাতের কামনার বিষয়টার পরিণাম জানা যায় না, দেহগত কামনাকে শাহাদাত দমন করে স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্ভেজাল আন্তরিক ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলো এই বিষয়টাও ফুটে উঠে না ছবিতে, সংলাপে এদের অভিব্যক্তিতে এদের ভেতরের শাররীক টানাপোড়েনগুলো স্পষ্ট চিহ্নিত থাকে,

শুধু খারাপগুলো উঠে আসছে কেনো ভালো ভালো অনেক কথাই বলা হয়ে গেছে, সেসব ভালো কথা খুব বেশী নির্মোহ সমালোচনা নয় বরং পারস্পরিক পিঠ চুলকানির অনুভব তৈরি করে, এ ছবির কোনো ব্যক্তিই আমার ব্যক্তিগত পরিচিতের তালিকায় নেই তাদের প্রতি আমার কোনো স্নেহবোধ নেই, এ জনিত অন্ধত্ব নেই কিংবা এটা যুদ্ধের বর্বরতা তুলে ধরেছে ভয়ংকর ভাবে একারণে এ ছবির দুর্বলতা লুকিয়ে মারহাবা মারহাবা বলবার বাধ্যবাধকতাও নেই আমার।

৬৫

হাসান রায়হান's picture


মারহাবা কওন লাগবো।

৬৬

বিষাক্ত মানুষ's picture


সিনেমাটা না দেইখাও এই পোস্টের জায়গায় জায়গায় আপনের ফোরন কাটার ব্যাপারটা বেশ আমোদ দিতাছে রায়হান ভাই। Wink

৬৭

মাহবুব সুমন's picture


Cool

৬৮

হাসান রায়হান's picture


মেসবাহ ভাইও কিন্তু দেখে নাই

৬৯

রাসেল আশরাফ's picture


পোস্টটা পড়ে কেন জানি মনে হলো রংধনুর বেগুনী রংটা আরেকটু গাঢ় হলে ভালো হতো।

============================

৭০

রশীদা আফরোজ's picture


মেজর চরিত্রে শতাব্দীকে পারফেক্ট মনে হয়নি।
জবাইয়ের দৃশ্যগুলি আমাকে টানা দুইদিন অস্থিরতার মধ্যে রেখেছে, আমার মতো দূর্বল-ভীতুরা মুভিটা দেখার সময় এইসব দৃশ্যে চোখ বন্ধ করে রাখা উত্তম হবে।
আজাদ আবুল কালামের অভিনয় অনেকদিন মনে থাকবে।

৭১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


নজরুলের বিশাল আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই

এপু ধন্যবাদ

বিমারে সেলাম তার এই বাক্যের জন্য

"এই সিনেমাটা কেমনে অস্কার জিতলো!! এর একটা কঠোর সমালোচনা লেইখা ফালাই... কিন্তু লিখুম কেমনে !! সিনেমাটাই তো দেখি নাই !! যাই আগে সিনেমাটা দেইখা লই তারপর ফাইড়া ফালামু"

পোস্টটা পড়ে কেন জানি মনে হলো রংধনুর বেগুনী রংটা আরেকটু গাঢ় হলে ভালো হতো।

থ্যাংকু রাসেল আশরাফ

৭২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


উলটচন্ডাল- একমত

নজরুলের বিশাল আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই

এপু ধন্যবাদ

বিমারে সেলাম তার এই বাক্যের জন্য

"এই সিনেমাটা কেমনে অস্কার জিতলো!! এর একটা কঠোর সমালোচনা লেইখা ফালাই... কিন্তু লিখুম কেমনে !! সিনেমাটাই তো দেখি নাই !! যাই আগে সিনেমাটা দেইখা লই তারপর ফাইড়া ফালামু"

পোস্টটা পড়ে কেন জানি মনে হলো রংধনুর বেগুনী রংটা আরেকটু গাঢ় হলে ভালো হতো।

থ্যাংকু রাসেল আশরাফ

৭৩

শওকত মাসুম's picture


১. লাইফ ইজ বিউটিফুল নামে অসংখ্য পুরস্কার পাওয়া একটি মুভি আছে। চরমৎকার একটা ছবি। এক বাবা ছোট ছেলেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে আড়াল করে রাখে। ছবিটা সমালোচকদের একটা অংশ পছন্দ করেনি। কারণ তাদের বক্তব্য ছিল, যুদ্ধ এমনই নৃশংস বিষয় যা শিশুদেরও রেহাই দেয় না। আবার সেভিং প্রাইভেট রায়ান ছবিটার শুরুতেই কেবল যুদ্ধ। ঘটনার মধ্যে না ঢুকে পরিচালক কেন টানা যুদ্ধ দেখালেন। স্পিলবার্গ বলেছিলেন, তিনি দর্শকদের দেখাতে চেয়েছেন যুদ্ধ কোনো রোমান্টিক বিষয় নয়, ভয়াবহ এবং নৃশংস।
৭১ এর যুদ্ধ কোনো ক্ষেত্রেই কম নৃশংস ছিল না। হাসি হাসি মুখ নিয়ে দেখার জন্য নরম গরম নামে অঞ্জুর সিনেমা আছে, যুদ্ধের মুভিতে নৃশংসতা থাকবেই। সুতরাং জবাই দেওয়া দেখানোটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। কারণ তখন এটা করা হয়েছে। এখানে ফোক ফ্যান্টাসি কোনটুকু ঠিক ধরতে পারি নাই।

২. আহমদ ছফার বইয়ে আছে শামীম সিকদার একবার শাহাদাত চৌধুরীকে চর মেরে এসছিলেন। কেন? নিশ্চই নতুন করে বলতে হবে না।

৩. এটা ঠিক যে, ফেরদৌস এভাবে বার বার না আসলেই ভাল হতো। শিমুল ইউসুফকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার ছিল। কারো কারো অভিনয় কাঁচা। আয়তনে আরো একটু ছোট হলেও ভাল হতো।

৪. আমার লেখাপড়ার ব্যাপ্তি একদমই নেই। আমি কোথাও পাইনি যে, ৭১এর ঐ নয় মাসে গোলাম আজম, নিজামী বা মুজাহিদির নামে এভাবে ব্যানার টানানো হতো কীনা। এটা অবশ্যই খটকা লাগে।

৫. আমার সামান্য লেখাপড়ার জ্ঞান থেকে বুঝি যে, ঢাকার গেরিলা অপারেশন দুই পর্যায়ে হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তি হয়েছিল রুমি ও আলতাফ মাহমুদ ধরা পরার মাধ্যমে। এসময় কিছু বিরতি দিয়ে আবার শুরু করা হয়েছিল। সেসময়টা রয়েছে সিনেমায়। আর নাসির উদ্দিন ইউসুফ নিজেও এই দলে ছিলেন। এখানে ফ্যান্টাসিটা কোথায়?

৬. রাসেলের সমালোচনার মধ্যে গেরিলা নিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের টোন আছে। সিনেমার সমালোচনা করার অনেক জায়গা হয়তো আছে। কিন্তু এতোটা তাচ্ছিল্য প্রাপ্য কীনা সেই প্রশ্ন আমার রইল।

৭৪

রাসেল's picture


প্রথম অংশুটুকুর জয়াবে বলবো ৭১ এর নৃশংসতা কিংবা আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়, আমার সীমিত পড়াশোনায় যতটুকু পেয়েছি সেটা ছিলো এ্কক বিষয়, কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো, সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, সেই জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে এতগুলো মানুষকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে সাজিয়ে রাখা হতো কি না এটা নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন ছিলো। মানে টর্চার উইথ ডিসপ্লে বিষয়টা আমার কাছে আরোপিত লাগছে, সে কারণে মনে হয়েছে বিষয়টা থিয়েটারে থাকবার কুফল, ওখানে ভাবেই জিনিষপত্র সাজানো হয় যেনো দর্শক বিষয়টাকে বুঝতে পারে, ছবির ক্ষেত্রে থিয়েটারের ব্যবহার সফল না কি ব্যর্থ হবে সেটা অবশ্য নির্মাতার দক্ষতার বিষয়।

শেষাংশের প্রত্যুত্তরে বলতে চাই ছবিটা এত প্রশংসিত হওয়ার মতো কিছু বলে কি মনে হয়েছে, আমি নিজের দর্শন অভিজ্ঞতা এবং অন্য মানুষের উপলব্ধির ফারাকটা বুঝতেছি না, অন্য মানুষ যখন এ্টা নিয়ে আহা উহু মরি মরি করতেছে আমি যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছি ছবিটার দুর্বলতা দেখে, সেটা একক ভাবে আমার অক্ষমতা না কি আরও কেউ এমন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়েছে,

৭৫

নজরুল ইসলাম's picture


শেষাংশের প্রত্যুত্তরে বলতে চাই ছবিটা এত প্রশংসিত হওয়ার মতো কিছু বলে কি মনে হয়েছে, আমি নিজের দর্শন অভিজ্ঞতা এবং অন্য মানুষের উপলব্ধির ফারাকটা বুঝতেছি না, অন্য মানুষ যখন এ্টা নিয়ে আহা উহু মরি মরি করতেছে আমি যথেষ্ট বিরক্ত হয়েছি ছবিটার দুর্বলতা দেখে, সেটা একক ভাবে আমার অক্ষমতা না কি আরও কেউ এমন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়েছে

Smile
এই অংশটাতে টাইপোর যন্ত্রণা কম... তাই এই অংশটা বেশি ভালো লাগলো

৭৬

শওকত মাসুম's picture


রাসেল, মন্টু খানের হায়েনার খাঁচায় অদম্য জীবন বইটা পড়ছেন? নির্যাতন কীভাবে করা হতো ধারণা পাবেন।

৭৭

রাসেল's picture


হায়েনার খাচায় অদম্য জীবনেও মন্টু খান জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে একাকীই ছিলেন এমনটাই মনে পড়ছে, আশে পাশে রক্ত ছিলো ইলেক্ট্রিক তার ছিলো, কিন্তু তার সাথে আরও একজনকে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন ঘটনা কি ছিলো সেখানে।

৭৮

ভাস্কর's picture


১.
সেইভিং প্রাইভেট রায়ানের সাথে তুলনাটা মনে হয় না খুব যৌক্তিক হইলো। কারণ ঐটা একটা যুদ্ধবিরোধী মানবতাবাদী প্রচেষ্টা আর গেরিলারে পরিচালক-প্রযোজকরা মুক্তিযুদ্ধের ছবি বইলা দাবী করতেছেন।

২.
তারমানে কি মেহেরজানীয় মুক্তিযোদ্ধাগো অস্তিত্ব আসলেই ছিলো?

৩.
ফেরদৌসের চরিত্রটা আসতেই পারতো মাসুম ভাই কারণ একজন সাংবাদিক গুম হইয়া গেলো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কিছু একটা লেখার অপরাধে...তার মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড দেখাইতে একটা রোমান্টিক নৌকা ভ্রমণে সীমিত না করলে বরং ভালো হইতো। তার অভিনয় দুর্বলতা আছে, সেইটাতো কাস্টিং জনিত দুর্বলতা। হাসান চরিত্রটারে বরং আমার দেখতে ইচ্ছা করতেছিলো, তাতে পাকিস্তানি শোষণের জায়গাটা পরিষ্কার হইতো। এইটা অবশ্য আওয়ামি এজেন্ডায় দেখানো নিষেধ আছে।

৪.
আমার মা-বাপ ৭১'এ ঢাকায় ছিলো। মা স্কুলে পড়াইতে যাইতেন আগস্ট পর্যন্ত, তারে জিজ্ঞেস করলে পর সে জামায়াত শিবিরে ব্যানার বা দেয়াল লিখনের কোনো স্মৃতির কথা মনে করতে পারে নাই।

৫.
ছবিতে আলতাফ মাহমুদের বিষয়টা ঘটনা হিসাবে আসছে তাই ঐটা নিয়া বলার কিছু নাই, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মুক্তিযুদ্ধ অভিজ্ঞতায়ও পাকিস্তানি উপনিবেশিকতা নিয়া কোনো কথা আমরা শুনি না। ছয় দফা না এক দফা এইটা নিয়া কেবল একটা স্টেইটমেন্ট আছে যেইখানে শাহাদত আর সাংবাদিক হাসান বলে তারা এক দফার সমর্থক সেইটাও ছবির শেষভাগে...

আপনেরে একটা প্রশ্ন করি তাইলে, আপনি কি মনে করেন ২৫ মার্চ পাকিস্তানিরা শেখ মুজিবরে গ্রেফতার আর জেনোসাইড না করলে কি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইতো ৭১'এর ধারেকাছের সময়ে?

৬.
রাসেলের টোন নিয়া অবশ্য আমার কোনো অবজার্ভেশন নাই। লেখাটায় আমি অতোটা তাচ্ছিল্যের টোন পাই নাই...হয়তো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মতের মিল ছিলো বইলা।

৭৯

শওকত মাসুম's picture


১. আমি সেইভিং প্রাইভেট রায়ানের কথা বলেছি মুভির ধরণ নিয়ে আলোচনায় না, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা প্রসঙ্গে।

২. সমাজে সব ধরণের মানুষই থাকে না। তারমানে এই না যে, সেসময় সব মুক্তিযোদ্ধারা নারীর দিকে তাকিয়ে থাকতো আর পাকিস্তানী সেনারা সুন্দরী নারীদের ধর্ষন না করে রক্ষা করতো।

৩. প্রেমদৃশ্য গুলো না দেখালেই হতো।

৪. পাল্টা প্রশ্ন করি, বাঙালীরা যদি আন্দোলনটা ঐ পর্যায়ে নিয়ে না যেতো তাহলে কী ২৫শে মার্চ আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নিতো পাকিস্তানীরা?

৮০

ভাস্কর's picture


১.
গেরিলায় দেখানো নির্যাতন আর সেইভিং প্রাইভেট রায়ানের নির্যাতন এক না...যদিও দুইটারই উদ্দেশ্য আছে একেবারেই ভিন্ন দুইটা উদ্দেশ্য। একটায় নির্যাতনের বিরোধীতা আরেকটা নির্যাতনরে পুঁজি কইরা বিশেষ শ্রেণী থেইকা বাহবা নেওয়া...

২.
আমিও আপনের সাথে একমত। বিজয়ী পক্ষ তবু বাড়তি ফায়দাটা নিতেই পারে সেইটা মাইনা নিয়াই কই যে যুদ্ধের মানুষরে কেবল ফেরেশতা আর ইবলিশ এই দুই ক্যাটেগরিতে মাপামাপির জাজমেন্ট কৌশলটা ঠিক না।

৩.
আমি আবারো কই প্রেম দৃশ্য না দেখাইয়া সাংবাদিকের গুম হওয়ার পেছনের অভিজ্ঞতাগুলি অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ছিলো, যেইটা পরিচালক কৌশলে এড়াইছেন বইলাই মনে হইছে আমার কাছে।

৪.
আমি তো এইটাই জিজ্ঞেস করছি আপনেরে...আমি মনে করি পাকিস্তানের সাথে মুক্তিযুদ্ধ একটা অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ছিলো...অথচ গেরিলা দেইখা আমার একবারের জন্যও সেইটা মনে হয় নাই। এইটাই আওয়ামি কৌশল, পাকিগো সমালোচনা করলে যেহেতু তাদের দুর্বলতাও সামনে চইলা আসে তাই মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী পাকিস্তানি শোষণের চিত্র নিয়া যতো কম আলোচনা করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের ভারকেন্দ্ররে যতোটা অফ সেন্টার করা যায় তার চেষ্টা...

৮১

শওকত মাসুম's picture


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরোধী মানবতাবাদী সিনেমা কি হবে? মেহেরজানের পাকি প্রেম?

৮২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


একটা জিনিস আমি বুঝতেছিনা, মেহেরজান সিনেমা নিয়াতো এরকম কঠিন ভাষায় কাউরে পোস্ট দিতে দেখি নাই। যেই ছবিতে পাকির সাথে শুধু প্রেম দেখায় নাই... যাতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং পাকিদের পক্ষ অবলম্বন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। সেই ছবির পরিচালক আবার বর্তমান সরকারের এক মন্ত্রীর মেয়ে। যার পরিবারের ভূমিকাই ছিল ৭১ সালে বিতর্কিত।
যেই ছবির পেছনে ছিল- ইমপ্রেস, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরসহ বিশিষ্ট জনেরা। মেহেরজান দেখার পর ব্যক্তিগতভাবে এইসব প্রতিষ্ঠান এবং লোকদের সম্পর্কে নতুন করে ভাবনা হলো।
এখন আর তাই অবাক হই না। কে যে কোন কারনে সুক্ষ্ম বা স্থুলভাবে মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতাকে ব্যবহার করছে...

৮৩

ভাস্কর's picture


আপনের অভিমান বেশ এম্প্যাথি তৈরী করলো আমার। গেরিলা নিয়া কিছু লিখলে যে মেহেরজান নিয়াও লিখতে হইবো এই বিষয়টা জানতাম না।

তবে আপনের সোজাসাপ্টা বচনটাও বিপদজনক লাগলো। এইরম মন্তব্য শুইনা মনে হয় না আপনে ছবিটা দেখছেন...

৮৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


কোন্টার কথা কৈলেন ? কোন্টা দেখি নাই ? মেহেরজান না গেরিলা ?
আসলে কখন যে কার কী মনে হয়...

৮৫

ভাস্কর's picture


মেহেরজান...কারণ এইখানে পাকিস্তানি পলাতক সৈনিকের সাথে বাঙালি কন্যার প্রেম দেখানো হইছে ঠিকই...কিন্তু "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং পাকিদের পক্ষ অবলম্বন করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে" এই রকম মনে হইতে হইলে ব্লগীয় পোস্ট পড়লেই চলে ছবি দেখনের কোনো দায় থাকে না।

৮৬

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আপনের অবগতির জন্য জানাই, বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপক লেখালেখির কারনে মেহেরজান দেখনের পরে (এর ১ দিন পরে ছবিটা আচমকা প্রদর্শণী বন্ধ করে দেয়, বসুন্ধরায়) স্ব-উদ্যোগে আমি মাদারীপুর এলাকায় পরিচিত ২/৩ জনরে ফোন করে ছবির পরিচালক, তার পরিবার সম্পর্কে জানি। তখনি জেনে অবাক হই- সেই পরিবারের ৭১ সালের ভূমিকার কথা...
এনিওয়ে এই নিয়ে আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না....

৮৭

ভাস্কর's picture


এক.
গেরিলা নিয়া কথা কইতে গেলেই মেহেরজান টানতেছেন কেনো সেইটা বুঝতেছি না। তারমানে তো রাসেলের বক্তব্য বেশ যথোপযুক্ত আর সময়োপযোগী হইছে যে মেহেরজান আগে মুক্তি না পাইলে গেরিলা নিয়া কোনো কথাই হইতো না। এইটা যদি মানদণ্ড হয় একটা ছবির গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা নির্ধারনে তাইলেতো বিপদ!

দুই.
সেইভিং প্রাইভেট রায়ানের মতোন যুদ্ধবিরোধী ছবির প্রয়োজন আছে কি না নাই সেই বিষয়েও আমি কোন বক্তব্য দেই নাই। কিন্তু গেরিলার প্রয়োজনীয়তা নিয়া প্রশ্ন তুললেই মেহেরজানের পক্ষের লোক ট্যাগিং দেওয়ার সংস্কৃতিটা বেশ ভয়াবহ লাগতেছে।

তিন.
তবে মেহেরজান ছবিটা আমি দেখছি, একজন আনাড়ি পরিচালকের অনেক কিছু বলতে চাওয়ার গল্প মনে হইছে। সেই ছবির প্রচারণায় আমি মুক্তিযুদ্ধের ছবি দাবী করতে দেখি নাই। কিন্তু গেরিলা একটা ঘোষণা দিয়া তার প্রচারণা চালাইছে এই কারনে গেরিলা সিনেমার সমালোচনার দায় নিতে হইবো এর নির্মাতাদের।

৮৮

শওকত মাসুম's picture


মেহেরজান আমি টানতাছি না, টানা হইতেছে যে তা তো পোস্টগুলো পড়েই দেখছি।

৮৯

ভাস্কর's picture


কোন পোস্টে দেখছেন জানি না...কিন্তু আমারে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে আমি একটু আক্রান্ত বোধ করি। আমার কোনো লেখায় আমি মেহেরজান আর গেরিলা প্রসঙ্গ একসাথে টানি নাই...বা মেহেরজান নিয়াও কোনো মন্তব্য কোনো পোস্টে করছি বইলা মনে পড়ে না।

তবে এইটা সত্য মেহেরজান বিষয়ে আমার নিজস্ব অবস্থান আছে...যেইটা এই পোস্টের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক না বইলাই মনে করি।

৯০

মাহবুব সুমন's picture


নিজস্ব পছন্দ - অপছন্দের প্রকাশ ঘটানোও আজকাল বড্ড বিপদজনক।

৯১

তানবীরা's picture


সিনেমা নিয়ে যুদ্ধ Laughing out loud

৯২

অতিথি's picture


এই পোস্ট টা লেখার জন্য ই বোধহয় মুভিটা দেখতে গিয়েছিলেন।

যাহোক, সেভিং প্রাইভেট রায়ান দেখছিলেন?

কিন্তু সেটা আমি পারি না। আমি সিনেমা দেখার আগে প্রেক্ষাপটটা দেখি। বাংলাদেশের সামর্থ্য সীমিত, বাজেট ততোধিক সীমিত এইসব মাথায় রেখে আমি সিনেমা দেখতে বসি। তাই সেরা ক্যামেরার কাজটা বা সেরা মিউজিকটার চেয়ে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ছবিটায় বাংলাদেশের কথা ঠিকঠাক উঠে আসছে কী না?
এখানেই গেরিলা শুধু পাশমার্ক না, লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করে যায়।

মন্তব্যগুলো ভালো লেগেছে। এরকম বাজে পোস্টে এতো কমেন্ট পরা ঠিক না।

৯৩

রাসেল's picture


ভাল বলেছেন, আমারো একই অভিমত

৯৪

নাজ's picture


কাল দেখলাম।
কিছু কিছু জায়গায় একমত আবার কিছু কিছু জায়গায় একমত না।

যাকগে, আমার কাছে সিনেমাটা খারাপ লাগেনি। বিশেষ করে শেষ দৃশ্য'টা আমার বেশ ভালো লেগেছে। যদিও এমনটি হয়েছে বলে ইতিহাসে কোথাও কিছু বলা আছে বলে মনেহয় না। মানে, এসব ক্ষেত্রে হয়তো শেষ পর্যন্ত মেয়েটা র‍্যাপড'ই হয়েছে। তবুও একটা সিনেমা'র সমাপ্তি হিসেবে আমার কাছে দৃশ্যটা অসাধারন লেগেছে।

৯৫

শিহাব জহির's picture


এইটা নাকি ফিলম রিভিউ!!! ভাই, এর চাইতে নিজের লেখা ১টা গল্প দিতেন। কেন ভাই ফিল্ম নিয়া কচলাইতে যান?? আরো ১০০ বছর চেষ্টা করলেও আপনি ফিল্ম সমালোচনা করতে পারবেন না। তার চেয়ে গল্প লেখেন। কাজে দিবে।

৯৬

অতি সাধারণ মানব's picture


Sad গেরিলা আমি ও দেখছি। আপনি যে ভাবে বলছেন ততটা খারাপ হয় না। যদিও এইখানে ধর্মপ্রাণ কিছু মানুষ এর ধরমানুভুতিতে আঘাত লাগতে পাড়ে। বাট এটাই সত্যি। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.