বিড়ম্বনা
বাবা হওয়ার সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা প্রতিমুহূর্তেই একটা না একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সার্বক্ষণিক সংশয়ে থাকতে হয় সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে, পরবর্তী মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো কি না সেটাও যাচাই করতে হয় এবং এই সম্পূর্ণ বিষয়টা অনেক সময়ই বোঝার মতো মনে হয়, আমাদের শৈশবে এত বেশী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিলো না, আমাদের চাহিদা ছিলো কম, আমাদের বিধিনিষেধও ছিলো কম। সিদ্ধান্তগুলো ছিলো খুব সাদামাটা, দুপুরে ঘুমাবে না খেলবে? খেললে কোথায় গিয়ে খেলবে, কার সাথে মেশা যাবে কার সাথে মেশা যাবে না সিদ্ধান্তগুলোও হয়তো ছিলো তবে সেসব সিদ্ধান্ত দৈনন্দিন নিতে হতো না।
শহরে খেলার মাঠ কমেছে, লোকজনের সস্তা পয়সা, জাপানের গাড়ী বিক্রীর ঝোঁক আর আমাদের ঋণের পয়সায় তৈরি করা পীচঢালা সড়কে যান্ত্রিক শকটের নিত্যউপস্থিতি এখন রীতিমতো শঙ্কিত রাখে, ফ্ল্যাটবাড়ীর দরজায় তালা, গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দারোয়ান তারপরও চিন্তা নীচের গ্যারেজে গাড়ী চাপা পড়তে পারে, সেই তত্ত্বাবধানটুকুও করতে হবে,
দুপুরে টেলিভিশনে কার্টুন নেটওয়ার্কের বাইরে অন্য কি দেখা বাঞ্ছনীয় সে সিদ্ধান্তও নিতে হয়। আমি মাঝে একদিন বিকেলে হিন্দি গান দেখলাম, প্রায় ১ ঘন্টা, পিচ্চি একটানা বিশাল একটা সময় ইনডিসেন্ট এক্সপোজার দেখলো, ভালগার সেক্সুয়ালিটি বুঝবার বয়েস হয়তো ওর হয় নি, কিন্তু এমন শরীরিভঙ্গি যে নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়, অবয়সোচিত এবং এইসবে তার অভ্যস্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই এই বিষয়টা নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে হয়।
বাচ্চাদের গানের অনুষ্ঠান, নাচের অনুষ্ঠান, বাচ্চা শরীর দুমড়ে মুচড়ে গাইছে ভিগি ভিগি রাত ভিগি ভিগি বাত আখোঁ মে ক্যায়সি নামি হে আ হা হা হা আ হা আ হা হা হা , গাইছে তুঝে সুবহা তক ম্যায় করু পেয়ার ওহ ওহ ওহোহো, স্তন না ফোটা বাচ্চারা কাঁচুলি আর বিকিনি পড়ে কোমর দুলাচ্ছে, সেসব দেখছে মুগ্ধ হয়ে ছেলে বুড়ো সক্কলেই, বিষয়টা ট্যালেন্ট হান্টের হয়তো, হয়তো বাণিজ্যিকতার প্রয়োজনও আছে কিন্তু প্রশ্ন হলো শৈশব্যের সারল্য ভুলে গিয়ে নিতান্ত শরীরবাদী জীবনযাপনের উল্লাস কি হতে পারে সেটার মূল্য? আমরা কিসের বিনিময়ে কি গ্রহন করবো সেটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।
আমার কাজিন এসেছিলো তার মেয়েকে নিয়ে, একরত্তি মেয়ে, ঋকের চেয়ে এক বছরের বড়, তাদের পারিবারিক সংস্কৃতি আমার নির্মিত সংস্কৃতির চেয়ে ভিন্ন, বেশ শক্ত হাতে এইসব ইনডিসেন্ট এক্সপোজার থেকে পিচ্চিকে আলাদা রাখবার চেষ্টাটুকু সব সময় ছিলো বলে ওর কাছে মিকি মাউস ডোনাল্ড ডাক হিন্দি ছবির নায়ক নায়িকার চেয়ে বেশী পরিচিত, টম এন্ড জেরীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দিয়ে ও নায়ক নায়িকার বিছানায় সঘন নিশ্বাসকে প্রতিহত করছে, যদিও সবটুকু হয়তো পারে না, অন্য সব বাসার মতো আমার বাসায়ও সন্ধ্যা এবং বিকেল বেলা ধারাবাহিক ভাবে হিন্দি ধারাবাহিক দেখবার অভ্যস্ততা, একদল কুটিল মহিলা বিভিন্ন রকম সাংসারিক নোংরামি করছে আর দেশজুড়ে সবাই সেইসব নোংরামি উপভোগ করছে, সেইসব সময়ে আমি নিজের কাজ করবো না এইসব নোংরামি থেকে পিচ্চিকে রক্ষা করবো এই সিদ্ধান্তও নিতে হয়।
সারাক্ষণ কার্টুন দেখে চোখের বারোটা বাজাচ্ছে, ওর কনসেন্ট্রেশন কমে যাচ্ছে এইসব অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বলা যাচ্ছে না তোমাদের এইসব নোংরামি চর্চায় ওর শৈশবের বারোটা বাজছে, ওকে মেরে পিটয়ে পড়তে বসানোর সংস্কৃতিটা তোমরা তৈরি করতে পারবে না, সন্ধ্যা সাতটা বাজলে তোমাদের হাত থাকে টিভির রিমোটে আর চোখ থাকে টিভির পর্দায়, তোমরা মগ্ন হয়ে সিরিয়াল দেখবার সময় বাচ্চার মুখে না নাকে গ্রাস ঢুকাচ্ছো সে সম্বিত থাকে না তোমাদের, সেসবের চেয়ে ভালো ওর কার্টুনের নেশা, অন্তত সাংসারিক নোংরামি থেকে ও দুরে আছে।
ভালোবাসা প্রকাশের প্রত্যেকের নিজস্ব ধরণ আছে, আমার ভালোবাসা প্রকাশের কোনো ভঙ্গি নেই , আমি তেমন ভালোবাসার এক্সপোজার দিতে পারি না, একত্রবাস এবং পারস্পরিক আস্থা নির্মাণে নিজের চাওয়ার ডানা কেটে ফেলবার বাইরে আসলে অন্য কোনো বাণী আর উপহারে ভালোবাসার এক্সপোজার দিতে হচ্ছে না আমাকে, সুতরাং আমি কেনো ভালোবাসা প্রকাশের নাটকীয় কোনো ভঙ্গী ধারণ করি না এ নিয়ে কারো কারো আক্ষেপ থাকতে পারে, সিনেম্যাটিক ভালোবাসার প্রকাশ না দেখে হয়তো কারো কারো আক্ষেপও থাকতে পারে কিন্তু প্রকাশবাদিতার মাত্রা কতটুকু হবে?
আমার কাজিন ভালোবাসা প্রকাশ করতে চায়, বেশ উচ্চকিত ভাবেই ভালোবাসার প্রকাশ দেখতে চায়, তার অধিকারবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সেটার উপস্থাপনও উচ্চকিত, পারিবারিক সংস্কৃতির চর্চা করতে গিয়ে সেই সাত বছরের বাচ্চাও শিখেছে তেমন উচ্চকিত ভালোবাসার প্রকাশ।
পিচ্চি এবং সেই মেয়ে সংসার সংসার খেলছে, হিন্দি সিরিয়াল দেখে সেইসব সাংসারিক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ মেয়েটার কাছে পাত্তা পাচ্ছে না ঋক, ও পরবর্তী ডায়ালোগ কি দেওয়া উচিত সেটাও বুঝতে পারছে না, খেলায় আমোদ নেই, কিংবা সেটা উপভোগ্য হয়ে উঠছে না, পরবর্তিতে দেখলাম ওরা ভ্যালেন্টাইন ভ্যালেন্টাইন খেলছে, মিকি মাউস ক্লাব হাউসের অভিজ্ঞতায় ঋক ভ্যালেন্টাইন নাম্বার গেমস লিখে কার্ড বানিয়ে মিনিকে উপহার দিচ্ছে আর সেই পিচ্চি ভালোবসার কার্ড পেয়ে আনন্দে সে কার্ডে চুমু দিতে দিতে বিছানায় গড়াগড়ি দিচ্ছে, ওহ আই এম সো হ্যাপি, আই লাভ ইয়্যু উমম উমম উমম, এইসব দেখে নিজেই বিব্রত হচ্ছি, বলতে পারছি না বাবু এসবের জন্য সময় পড়ে আছে অনেক, প্রথম ভালোবাসার কার্ড পেয়ে এমনটা করা খারাপ না কিন্তু এই সময়ে এই অনুভুতি তোমার জন্য প্রয়োজনীয় না।
ওরা চলে গেলো, আমিও হাঁফ ছেড়ে বাচলাম, কিন্তু আঁতকে উঠলাম তার পরের দিন, ঋক সকাল বেলা উঠে বললো বাবা যাকে ভালোবাসে ওকেই তো হ্যাজব্যান্ড বলে তাই না? আমি কিছুক্ষণ ভেবে বললাম হুমম সেইটাই।
ও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা সমাধানে পৌঁছেছে, সে সমাধান সঠিক কি ভুল সেটা এখনই নির্ধারণ করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, ও সময়ে শিখবে, যখন প্রয়োজন হবে তখন ও ভালোবাসার প্রকাশও হয়তো শিখবে, সম্পর্ক রক্ষা ও সম্পর্ক নির্মাণের সবটুকুই হয়তো ও পরিবেশ থেকে শিখে নেবে একদিন, হয়তো তার কৈশোরে আমি ওকে সেইসব শিক্ষা দিয়ে দিবো, কিন্তু এইসময়ে সেইসব শিক্ষার প্রয়োজন নাই।





পোস্টটিতে আপনি একটি ভিউ তলে ধরতে চেয়েছেন কিন্তু প্রথম উপাস্থাপনাতেই কিছু ভুল রয়েছে। যেমন----------বাবা হওয়ার সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা প্রতিমুহূর্তেই একটা না একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সার্বক্ষণিক সংশয়ে থাকতে হয় সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে, পরবর্তী মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো কি না সেটাও যাচাই করতে হয় এবং এই সম্পূর্ণ বিষয়টা অনেক সময়ই বোঝার মতো মনে হয়, আমাদের শৈশবে এত বেশী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিলো না, আমাদের চাহিদা ছিলো কম, আমাদের বিধিনিষেধও ছিলো কম। সিদ্ধান্তগুলো ছিলো খুব সাদামাটা, দুপুরে ঘুমাবে না খেলবে? খেললে কোথায় গিয়ে খেলবে, কার সাথে মেশা যাবে কার সাথে মেশা যাবে না সিদ্ধান্তগুলোও হয়তো ছিলো তবে সেসব সিদ্ধান্ত দৈনন্দিন নিতে হতো না।
এখন আমাদের এই সময়ে দুপুরে সাধারনত বাবারা বাড়িতে থাকে না। চাকুরীজিবী মা রাও থাকে না। সিদ্ধান্ত বাবা মা মিলিত ভাবে নেয় বাচ্ছার বয়স যখন ১২/১৩ তখন পর্যন্ত। তবে বেশীর ভাগ সিদ্ধান্ত মায়েরই থাকে। তার পর ও পোষাক আশাক এর ক্ষেত্রে বাচ্চাদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হয়। তাদের পছদের বাইরে তারা হাজার ভাল পোষাক হলেও কখনই পরবেনা। এর পর কৈশরের বাচ্চাকে গাইড লাইন দিতে হয় বন্ধুর মত। সিদ্ধান্ত চাপালে আর সেই সন্তান একসময় আপনার থাকবে না। কেন যুগ থেকে বাচ্চাওকে দূরে রাখবেন? বাচ্চা স্বাভাবিক ভাবেই সংসার থেকে সেখে প্রেম ভালবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার নিজের রুচী বদলালে বাচ্চার রুচী বদলাবে। নিজেই টিভির অপসংস্কৃতি দেখা বন্ধ করুন বাচ্চাকে বুঝিয়ে দিন এটা নয় ওটা বেশি মজার। তবে বাচ্চা একদিন ভাল মন্দ থিকই আলাদা করতে পারবে।
ভালবাসলে হাজবেন্ড বলে বলাতে অশ্চর্য হবার কিছু নেই তাকে বোঝান ভালবাসা কে প্রেম বলে। যেমন আমি তোমাকে ভালবাসি তুমি আমাকে তুমি তোমার মাকে।
ভালবাসা প্রকাশ করার দরকার হয় না। ঘৃণা বা ভাববাসা বা নির্লিপ্ততা দুটোই অটোমেটিক্যালি বাচ্চারা বুঝে। বাবা যাকে ভালোবাসে ওকেই তো হ্যাজব্যান্ড বলে তাই না?--তবে কী সে জেনেছে হাজব্যান্ড এবং ওয়াইফ এর মাঝে গভীর নিঃশ্বাসের ব্যাপার আছে? যদি জেনে থাকে তবে তা আপনাদের অসাবধানতার করনে জেনেছে। এখনই সাবধান হওয়া দরকার। বাচ্চাদের সামনে বাবা-মার প্রেমময় সম্পর্ক সব সময় উপস্থিত থাকতে হবে কিন্তু তাই বলে যৌনতা নয়। বাচ্চারা খেয়াল করে দেখবেন বাবা-মা পাশাপাশি বসে থাকলে বা শুয়ে থাকলে জোর করে মাঝখানে ঢুকে পরে সে মনে করে এটাই প্রেম বা ভলবাসা এখানে তাকে থাকতে হবেই কারন সে যে দুইজনেরই অংশ। --ধন্যবাদ।
আমি আপনার বক্তব্য যে খুব বুঝেছি তা না, সমস্যা হলো আমি এখনও মিঃ মিসেস সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে পারি নি, ওর হ্যাসব্যান্ড ওর ওয়াইফ এইসব শব্দ অন্তত আমরা বাসার ছোটোদের সামনে উচ্চারণ করি না, হ্যাসব্যান্ড ওয়াইফ কিংবা তাদের সম্পর্কের বিষয়টা যেহেতু আলোচিত হয় না সে কারণেই আমি আশ্চর্য হই, সেটা হ্যাসব্যান্ড ওয়াইফের শাররীক সম্পর্কের কল্পনায় নয় বরং সেসব ব্যতিরকেও বিষয়টা অদ্ভুত।
আর সিদ্ধান্তগুলো প্রতিদিনই নেওয়া হয়, একটা গৃহীত সিদ্ধান্ত ধারাবাহিক ভাবে পালিত হচ্ছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখতে হয়, সেটাকে আপনি কি বলেন সেটা আপনার বিবেচ্য কিন্তু আপনি সন্তানের ভালো চিন্তা করে যা কিছু নিয়ম চাপিয়ে দেন, যা কিছু তার অনিচ্ছায় কিংবা অভ্যাসে তাকে করতে বাধ্য করেন সেসব সভ্যাস আপনার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতার ঘটতে থাকে, সে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া উচিত ছিলো না কি ভুল ছিলো সেটা খতিয়ে দেখছেন না আপনি, আপনার কাছে সিদ্ধান্ত একেবারে পরিস্কার হুকুমদারির বিষয়, খাওয়ার শেষে হাত মুখ ধুবে সেটাও একটা সিদ্ধান্ত, সে সিদ্ধান্তটা আপনার সন্তান নেয় না, সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ করবার সিদ্ধান্তটাও আপনার চাপিয়ে দেওয়া, পরবর্তীতে প্রতিটা দিন সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে কি না এটাও আপনি তদারকি করেন, সেসবের মতো আরও অনেক মিনিমাল বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্ত আপনার সন্তানের উপরে চাপিয়ে দিয়েছেন আপনি, কোন স্কুলে পড়বে, কোন হাত দিয়ে খাবে, কি খাবে, কোথায় কি কথা বলবে বিষয়গুলো আপনি নির্ধারণ না করে দিলে অন্য কেউ করে দেয়?
সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার হলো বেশীর ভাগ কার্টুন চ্যানেলে এখন হিন্দিতে কার্টুন দেখায়।
আমি এসব সমস্যার মধ্যে দিয়ে প্রতিনিয়ত যাই। ভাষা - ধর্ম - বর্ণ সব এক্সপ্লেইন করতে হয়। নিজেই বুঝতে পারি না কতোটুকু এখন করবো আর কতোটুকু পরে।
আপনে বুড়া হয়ে যাইতেছেন খুব দ্রুতই
হিন্দি কার্টুন আরেক যন্ত্রনা হইছে। আমার ছেলে ডরিমান না কি এক কার্টুন দেখে হিন্দি শিখে ফেলছে। সেদিন তার মাকে বলে, ' মা বড় হয়ে কী আমি একটা বউ পাবো, আর আপু একটা জামাই পাবে?'
ডরিমান এক বিশাল যন্ত্রণার নাম। সারাদিন দেখায় এইটা। আমার ভাইয়ের মেয়েও এটা দেখে হিন্দি শিখেছে। সেদিন শুনি সে সাইকেল চালাচ্ছে আর আম্মুকে বলছে দিদু, উস তারাফ যাও।
মন্তব্য করুন