বেহুদা
বাংলা ব্লগের সাথে পরিচয় ২০০৫ এর ডিসেম্বরে, যখন কেবলমাত্র সামহোয়্যার ইন ব্লগ শুরু হলো- সে হিসেবে বাংলা ব্লগের একেবারে প্রথম দিক থেকেই এরসাথে পরিচয়, বসবাস,গত ৬ বছরে বিচিত্র বিষয়ে লেখা হয়েছে, প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে, কখনও নিজের আগ্রহে কখনও নিতান্ত বাধ্য হয়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে, এভাবে ব্লগগুলোতে ধীরে ধীরে লেখার পর লেখা জমেছে। বাংলায় লেখার এমন সহজ সুযোগ পেয়ে সে সুযোগের যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেছি, এভাবেই মনে হয় গত ৬ বছর পনেরোশোরও বেশী লেখা লিখে ফেলেছি। অনুভুতি কেমন হওয়া উচিত সেটা নিয়ে চিন্তিত। বিষয়টা আনন্দিত হওয়ার না কি বিব্রত হওয়ার সেটাও বলা কঠিন
বিকেল বেলা যখন দেখলাম আমার ব্লগে লিখি না লিখি না করেও ৭১৪টা ব্লগ লেখা হয়েছে, সামহোয়্যার ইনে অনেক অনেক ধরে অনিয়মিত তারপরও দেখা গেলো সেখানে ৭০০ লেখা জমে আছে, এখানেও গত দুই বছরে দেখলাম ১৩৭টা লেখা জমে গেছে, আমার ব্লগের আগে লিখেছিলাম সচলায়তনে-সেখানে কয়টা লেখা জমা আছে জানি না, সচলায়তন থেকে বের হয়ে আসবার পর থেকে আমার লেখা আমি নিজেই দেখতে পাই না, শুধুমাত্র মনোনীত সচলেরাই সেসব লেখা দেখতে পারে- এখন পারে কি না তাও জানি না।
বাংলা লেখার প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কেটে যাওয়ার পর মনে হয়েছিলো সিরিয়াস কিছু লেখা উচিত, বড় পরিসরে একটা উপন্যাস লেখা শুরু করে ১৩ পর্ব লিখে আর লেখা হলো না, মনে হলো প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে কিছু অণু গল্প লিখবো, প্রতিগল্প শিরোণামে লেখা অণুগল্পগুলো লেখার উৎসাহও বেশী দিন থাকলো না, এখন মনে হচ্ছে একটা কিছু লিখে প্রকাশিত হওয়া উচিত-
২০০৯ এর শেষের দিকে ভাবলাম বাংলা ভাষার রাজনীতি নিয়ে খুব গম্ভীর কিছু লিখে ফেলতে হবে, ভাষারও রাজনীতি থাকে, রাজনীতিতে যেভাবে ভাষা ব্যবহার হয় সেই ভাষাও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলে বদলে ফেলে নিজেকে, দৈনন্দিনের পত্রিকায় ভাষার সেইসব পালাবদল চিহ্নিত হয়। রাজনীতিতে ভাষার ব্যবহার আর ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে লেখাটা সম্পূর্ণ হলো না। এই উৎসাহে অবশ্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মধ্যযুগের বাংলা ভাষা, ভাষার আঞ্চলিকতার খুব সামান্য আর প্রচুর পরিমানে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পড়া হলো। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শেষে একটা কাঠামো অবশ্য মনে মনে তৈরি হচ্ছিলো, যে ভাষার জন্য এত রক্তপাত সে ভাষার বর্তমান অবস্থা খুবই দরিদ্র। বাংলা ভাষা সব ভাব প্রকাশের অনুপযুক্ত , ভাষার কারিকুরি আর ভাষার কারিগরি দেখানোর মতো দক্ষ সাহিত্যিক বাংলা ভাষায় খুব কম, নতুন শব্দ তৈরি, শব্দের তীর্যক ব্যবহার সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে এক শাপলু( সচলায়তনে সবুজ বাঘ নামে লিখে) আর হিমু এই দুইজনের ভেতরই কিছু ঝলক দেখলাম। কিন্তু ভাষা নিয়ে খুব তৎপরতা দেখি নি, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবি ১৯৭১ এর জুনে উত্থাপিত হলেও স্বাধীনতার ৪ দশক পরেও আমরা সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে পারি নি। ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এটাই আর এটা নিয়ে পন্ডিত সমাজে তেমন উদ্বেগ নেই, বাংলা ভাষাভাষী সর্ববৃহৎ একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে চাষাভুষোর দল বাংলা ভাষা বলবে এমনটাই সম্ভবত স্বীকৃত এখানে। ভাষার রাজনীতি এবং ভাষার শ্রেণীচরিত্রের সাথে ভাষার দর্শণ বিষয়ে কয়েকটা মোটামুটি লেখা পড়া হলেই বইটা লিখে ফেলতে পারবো এমন একটা আশার জায়গা থেকে গত বছর এই প্রকল্পটা অবাস্তবায়িত থাকলো, এ বছরও কাজটা শুরু হয় নি, বিষয়টা ব্লগে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো এমনটা আশা ছিলো, কিন্তু তেমন কিছুই করা সম্ভব হয় নি।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মনে হলো গ্যালিলিওর জীবন নিয়ে কিছু লিখতে হবে, তার গ্যালিলিও হয়ে ওঠা, চার্চের সাথে তার সংঘাত- তার ভবিষ্যত প্রভাব এবং তার সন্তানদের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে বেশ চমৎকার একটা বই লিখে ফেলা সম্ভব। কিছুটা উৎসাহ উদ্দীপনায় গ্যালিলিও নিয়ে পড়া হলো- একই সাথে পড়া শুরু হলো বিজ্ঞানের ইতিহাস।
গত দুই মাসে মনে হচ্ছে গ্যালিলিওর জীবন নিয়ে কাজ বাদ দিয়ে বরং বাংলা ভাষায় পপুলার সায়েন্সের বই লেখা উচিত। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়ের পরিমাণ কম, পাঠ্য বইয়ের বাইরে সাধারণ পাঠকদের জন্য আলাদা করে বিজ্ঞান নিয়ে লেখা সীমিত। আলী ইমামের বইগুলো বাদ, সেসব বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের কলংক। বেশ উচ্চাভিলাষী একটা পরিকল্পনা মাথায় আছে এই মুহূর্তে- গত ৫০০ বছরে মানুষের ধারণার বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে প্রতিনিয়তই কিন্তু যন্ত্র যেভাবে যুক্তি মেনে চলে বাংলাদেশের মানুষদের অধিকাংশের ভেতরে সরল যুক্তিবোধের অস্তিত্ব নেই।
এই পরিবর্তিত সময়ে কিভাবে বিশ্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে গেলো, কিভাবে ইশ্বর নামক ধারণাটা বিবর্তিত হলো? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মাত্র এক শতাব্দি আগেও মানুষ বিজ্ঞান বিষয়ে যে চিন্তাগুলো করতো এ সময়ের গবেষকেরা সেভাবে ভাবছে না
ধরা যাক ১৮৭২ সাল, এখন থেকে মাত্র ১৪০ বছর আগে, বিজ্ঞানীদের পরমাণু সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিলো না, ডালটনের পরমাণু তত্ত্ব নিয়ে বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ভোট নেওয়া হয়েছিলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে পরমাণুর ধারণা স্বীকৃত হয়। সে সময়ও পর্যায়সারণী সম্পূর্ণ ছিলো না, বিভিন্ন রকমের অসংগতি ছিলো, সেসব অসংগতির কারণও তারা জানতো না, ১৯৪২ পর্যন্ত পর্যায়সারণী বিষয়ে কাজ হয়েছে,
অবিভাজ্য পরমাণু যে বিভাজিত হতে পারে এবং পরমাণু যে আরও মৌলিক কণিকা দিয়ে গঠিত হতে পারে ধারনাটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৩২ এ এসে, তবে ষাটের দশকে এসে সর্বপ্রথম বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করেছে কেনো মৌলিক কণিকাগুলোর ভর ঠিক এমনটাই হওয়া উচিত।
এই চমৎকার ভ্রমণের পথটুকুতে বিভিন্ন রকম দার্শণিক সংকট তৈরি হয়েছে, অনেক ধরণের প্রতিরোধ আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিজ্ঞান নিজের পথে চলেছে। ইলেক্ট্রনের উৎপত্তি থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের সাম্ভাব্য ভবিষ্যত সবটুকু বিষয়ে অন্তত এক ধরণের সিদ্ধান্ত জানানোর ক্ষমতা হয়েছে বিজ্ঞানের। এই পথপরিক্রমাটুকু ছোটো পরিসরে প্রকাশের একটা সীমিত আগ্রহ তৈরি হয়েছে- জানি না কাজটা শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হবে কি না- এখনও পর্যন্ত আগ্রহটা টিকে আছে





বাহ সুন্দর লিখেছেন।
লিখে ফেলুন আপনার ভাবনার কথা।
সাথে আছি।
জরুরী কাজ...আগ্রহটা টিকে থাকুক...চলুক...
~
উপন্যাস কোথাও পোস্ট করেছ? না করলে এখানে দেও যতটুক লেখা হয়েছে ততটুকুই পড়ি।
একটু ধৈর্য্য ধইরা একটা লেখা যদি শেষ করতেন...
ভাবনাগুলো শেয়ার করে ভালই করেছেন। লিখে ফেলেন একটা উপন্যাস, সাথে আছি।
শুভকামনা থাকলো। যা লিখতে চান তা লিখে ফালান যা বলতে চান তা বলে দিন সবাইকে!
উপন্যাস চাই
ধৈর্য্য ধরে একটা উপন্যাস লিখে ফেলেন। আর যা ভাবেন, যখন ভাবেন তখন একটু একটু করে লিখে রাখেন।
এইবার একটা উপন্যাস
অপেখখায় আইজুদদিন
উপন্যাস বিশাল ব্যাপার, লেগে থাকুন আমরা অপেক্ষায়।
অনুগল্প গুলি অন্তত লিখে ফেলেন। প্লিজ।
মন্তব্য করুন