ইউজার লগইন

লীগপন্থী ডানেরা কিংবা পিকিংপন্থী বামেরা

বাংলাদেশে মোটা দাগে জাতীয়তাবাদী পরিকাঠামোতে স্বাধীনতার ইতিহাস চর্চা হয়, দেশের বিদগ্ধ বুদ্ধিজীবী এবং ইতিহাসবিদদের প্রিয় এই জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চা প্রকল্প অনেকটাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তাবিত ইতিহাস অনুসরণ করে।

আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে । জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষিত ইতিহাসে আওয়ামী লীগের ভুমিকা, স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায় তার দলীয় নেতাদের দক্ষতা এবং সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়মিত নিপীড়নের বাস্তবতায় জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চায় আওয়ামী লীগের অবদান ও অবস্থান আওয়ামী লীগের বর্তমানের নেতা কর্মীদের কাছেও স্বস্তিকর। তাদের সংগঠনের ঐতিহ্য এবং অর্জনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন, নেতৃত্ব প্রদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পালক। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের এমন ঐতিহ্য নেই।

বুদ্ধিজীবী এবং বুদ্ধিজীবী অনুগত প্রশ্নবিমূখ সেক্যুলার মধ্যবিত্তও এই জাতিয়তাবাদী ভাবনাকাঠামো নিয়ন্ত্রিত ইতিহাস কাঠামোর ভেতরে স্বস্তিবোধ করে। এক ধরণের কাঠামোভিত্তিক আস্তিকতা তাদের ভেতরে বিদ্যমান, এই কাঠামোকে প্রশ্ন করলেই তাদের মনোজগতে একধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়। তারা এসব প্রশ্নকে অস্বীকার করে , অগ্রাহ্য করে কিংবা দমন করতে চায়। কাঠামোভিত্তিক আস্তিকতার বাইরে এসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্য ধরণের আলোচনাও সম্ভব। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কেউই আসলে এই কাঠামোর বাইরে এসে মুক্তিসংগ্রাম বিষয়টিকে পর্যালোচনা করেন নি, যদিও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিকথায় অসংখ্য উপাদান আছে যা নিশ্চিত করে এমন কি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতা, নেতাদের পক্ষাবলম্বনে দ্বিধাগ্রস্ততা নিয়ে সাধারণ মানুষ, সেনাকর্মকর্তাদের ভেতরে অসংখ্য প্রশ্ন আছে, এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গন্তব্যকে ১৯৭১ এর মার্চের দ্বিধার সাথে মিলিয়ে পাঠ করতে আগ্রহী এই স্মৃতিকথার রচয়িতাগণ।

জাতীয়তাবাদী প্রেক্ষাপটে স্বাধীকার আন্দোলনরত আওয়ামী লীগ, মস্কোপন্থী ন্যাপের বাইরে পিকিংপন্থী ন্যাপ এবং আন্ডারগ্রাউন্ড স্বাধীনতাকামী অতিবিপ্লবী কম্যুনিস্ট দলগুলোর ভেতরে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে পার্থক্য আছে। সেই রাজনৈতিক বিশ্লেষণের পার্থক্যটুকু স্বাধীনতা যুদ্ধ সময়কালেও গুরুতর দ্বন্দ্ব , সংঘাত ও সহিংসতার কারণ হয়েছে। গণবিপ্লব এবং বিপ্লবপরবর্তী রাষ্ট্রকাঠামো কেমন হওয়া উচিত এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নিয়ে অতিবিপ্লবী রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও মতপার্থক্য এবং আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিলো। এই দ্বন্দ্ব নিয়েই এই রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজেদের ভুমিকা রেখেছেন। অধিকাংশই নিজেদের মতো মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এবং সামান্য কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ভ্রান্তি থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।

পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্যসমুহে মাওবাদী সহিংসতা চলছে এমন একটা প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শে তফাত থাকায় সাম্যবাদী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পে সুযোগ দিতে ততটা আগ্রহী ছিলো না ইয়ুথ ক্যাম্পের নির্বাচকেরা। সাম্যবাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশ পৃথক ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের আলাদা করে অস্ত্র সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং এই সহযোগিতা দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিপি আই নেতা এবং সিপিএম নেতাদের ভেতরে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে এবং এই নানাবিধ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ভেতরে তাজউদ্দিন এবং মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড চীনাপন্থী রাজনৈতিক দলের উপাংশগুলো অধিকাংশই বুর্জোয়া আধিপত্যবাদী ভারতের সরাসরি অস্ত্র সহযোগিতায় নিজেদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে অনাগ্রহী ছিলেন, তারা স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছেন, নিজেদের কর্মীদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছেন, একই সাথে তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে "শ্রেণীশত্রু" আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী যোদ্ধাদের সাথেও যুদ্ধ করেছেন। সুতরাং যেসব স্থানে পিকিংপন্থী আন্ডারগ্রাউন্ড কম্যুনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে যুদ্ধ হয়েছে সেখানে যুদ্ধটা ত্রিমুখী ছিলো। সর্বহারার রাজত্ব কায়েমের জন্য একটা মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ অনুসারে একটি রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ এবং আধিপত্যবাদী আগ্রাসী পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাত থেকে সে অঞ্চলের নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়া ও রাষ্ট্রের সার্বভৌম কাঠামোকে প্রতিরক্ষা করা। একই সাথে " রাজনৈতিক ভাবে বিভ্রান্ত, পূঁজিবাদী মানসিকতার বুর্জোয়া সৈনিক"দের হাত থেকে মুক্তাঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য মুক্তাঞ্চলকে মুক্তিযোদ্ধাদের দখলমুক্ত রাখার লড়াই।

জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চায় এ ধরণের মুক্তাঞ্চল তৈরি করে সেটাকে প্রতিরক্ষা করার জন্যে এই আন্ডারগ্রাউন্ড সর্বহারা দলগুলোর সংগ্রাম বিদ্রোহ কিংবা সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। রাষ্ট্রকাঠামোগত ভাবনাজনিত রাজনৈতিক তফাত থেকে একই মুক্তিসংগ্রামকে ভিন্ন তাত্ত্বিক কাঠামো থেকে বিশ্লেষণ করা সম্ভব এই উদারতাটুকু জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চায় নেই।

স্বাধীনতা সংগ্রাম কেনো করছি? কেনো এই মুক্তিসংগ্রামে নিজেকে জড়িত করা উচিত ? এই বিশ্লেষণে সাম্যবাদী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন উপদলের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন উপসংহারে পৌঁছেছেন, তবে তারা অন্তত এটুকু উপলব্ধি করেছিলেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আগ্রাসনে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায়, সমাজভাবনায় একটা গুরুতর পরিবর্তন সুচিত হয়েছে, এটাকে ঠিকমতো প্রতিপালন করতে পারলে এখানে সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভবপর।

জাতীয়তাবাদী কাঠামোতে যে ভৌগলিক সার্বভৌমত্বের ধারণা ছিলো সেখানে মানুষে মানুষের বৈষম্য বিমোচন করা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সবার সামষ্টিক আয় বৃদ্ধির ধারণাগুলো ছিলো, তবে জাতীয়তাবাদী কাঠামোর অর্থনৈতিক পরিকল্পনাতে পূঁজিবাদী অর্থনৈতিক দর্শণ ছিলো , রাষ্ট্র কাঠামো ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিশ্লেষণের এই গুরুতর পার্থক্যটুকু দুই দল রাজনৈতিক কর্মীর কাছে মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নার্থে উপস্থাপন করেছে ।

স্বাধীনতা সংগ্রাম দীর্ঘায়িত হলে আওয়ামী লীগের নেতাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের কোন্দলে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব সাম্যবাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী নেতা ও দলের কাছে চলে যেতে পারে এই আশংকা ভারত সরকারের ছিলো। সুতরাং তারা সকল দলের অংশ গ্রহনে একটি সর্বদলীয় কমান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে সাম্যবাদী হিসেবে পরিচিত তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধেও একই ধরণের অনাস্থা ছিলো ডানপন্থী ধর্মবাদী আওয়ামী লীগ নেতাদের, সুতরাং ভারত সরকার একই সাথে মুজিব বাহিনীকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সর্বহারা রাজনৈতিক দলের মুক্তাঞ্চলে তারা নিজেদের কতৃত্ব বজায় রাখতে চেয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীন সরকারের সাথে সরাসরি বিরোধিতায় জড়িয়ে গিয়েছে তারা। এবং তাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও দলীয় অন্তর্কলহে তারা পরাজিত হয়েছে। যেহেতু তারা পরাজিত সুতরাং তারাই সন্ত্রাসবাদী, তারাই যত নষ্টের গোড়া। এই অবস্থান থেকে চীনাপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর মুক্তিযু্দ্ধকালীন অবস্থানকে ব্যাখ্যা করা হয় জাতীয়তাবাদী ইতিহাস কাঠামোতে।

বাংলাদেশের বিল্পবী বামপন্থী দলগুলোর নেতাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ব্যক্তিত্বের সংঘাতজনিত কারণে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া এবং একে অন্যকে শ্রেণীশত্রু ঘোষণা দিয়ে খতমের রাজনীতিতে নিজেদের নি:শেষ করে দেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। আমার ধারণা এ ধারা অনুসরণ করে, কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে কিংবা দলীয় কমান্ডে নিজেকে স্থিতু রাখার অক্ষমতা থেকে চীনাপন্থী মুক্তাঞ্চলে বাঙালী "পলপট" এর জন্ম হতো, তারা রাজনৈতিক শোধণের নামে স্থানীয় অধিবাসীদের হত্যা করতো, আদর্শিক একটা রাষ্ট্র নির্মাণের জন্যে তারা আরও সহিংস হয়ে উঠতে এবং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আরও বেশী হত্যা করতো। পরবর্তী ইতিহাস বলে আসলে এই মুক্তাঞ্চলের এটাই সাম্ভাব্য ভবিষ্যত ছিলো।

জাতীয়তাবাদী কাঠামোতে সাম্যবাদী রাষ্ট্রনির্মাণের স্বপ্ন দেখা রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম অনেকটা সঙ্গমক্লান্ত বিধ্বস্ত ষাঁড়কে লাল পতাকা দেখিয়ে উত্তেজিত করার ব্যর্থ আয়োজন। জাতীয়তাবাদী কাঠামোতে বিশ্বাসী সাম্যবাদী দলগুলো সব সময়ই জনগণের মনোভাব উপলব্ধি করে করনীয় নির্ধারণের জন্য যে পরিমাণ সময় কাউন্সিলে ব্যায় করে একটা পরিকল্পনা তৈরি করে সে সময়ের ভেতরে জনগণ বিপ্লবের হুজুগ থেকে নিজেকে মুক্ত করে অন্য কোনো হুজুগে মত্ত। সুতরাং তারা রাজনীতিতে অনেক সম্ভবনা তৈরি করেও তেমন গুরুতর প্রভাব রাখতে পারে নি।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নেতৃত্বের কোন্দল লিপ্ত এক দল জাতীয়তাবাদী নেতার সবপক্ষকেই তুষ্ট করতে গিয়ে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় আদর্শে বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত সংযোজনের ইতিহাস। জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী সাম্যবাদী দলের নেতৃত্ব গ্রহনের কুন্ঠা আর অতি বিপ্লবী আন্ডার গ্রাউন্ড চীনাপন্থী দলগুলোর মিসএডভেঞ্চারের কোলাজ। এর ভেতরেই ন্যাপ স্থানীয় জনগণের ভেতরে রাজনৈতিক সচেতনতা নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করেছে, তথ্য সংগ্রহ করেছে, এমন কি স্থানীয় পর্যায়ে উপদ্রুত উদ্বাস্তুদের সহযোগিতা করার সীমিত উদ্যোগও গ্রহন করেছে।

আমাদের ইতিহাস চর্চায় এই রাজনৈতিক দলগুলোর আন্ত:সম্পর্ক, অন্ত:সম্পর্ক , পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, আমরা রাষ্ট্র হিসেবে আজ যেখানে পৌঁছেছি তার পথ পরিক্রমা ও ভুলগুলো উপলব্ধি করতে হলেও আমাদের ইতিহাস বিশ্লেষণে পক্ষপাতিত্ব ও "স্বস্তিবোধজনিত উপেক্ষা" পরিত্যাগ করতে হবে।

পোস্টটি ১৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আসিফ (লগইন করতে পারি না)'s picture


যখন মন্তব্যটা লিখছি এই লেখাটা ২৯ বার পড়া হয়েছে, কোন মন্তব্য আসে নাই। জানিনা সেটা লেখককে আশাহত করে কিনা। ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন ব্লগ পড়তে আসি এধরনের লেখার পাবার আশায়ই আসি। কিন্তু হয়তো চটুল কোন লেখা পড়ে চলে যাই, যার বেশিরভাগই ভুলে যাই কিছুদিন পরে।

যাই হোক এখানে অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায় বা প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা যায়, কিন্তু আফসোস যথাযথ আলোচনা করার জন্য যে পরিমান জ্ঞান ও অর্ন্তদৃষ্টি থাকা প্রয়োজন তা আমার নাই, হয়তো মাসুম ভাই, লীনা আপা বা কামাল ভাই কিছু ইনপুট দিতে পারবেন।আমি দুইটা বিষয় নিয়ে একটু জানতে চাই।

১) ’’স্বাধীনতা সংগ্রাম দীর্ঘায়িত হলে আওয়ামী লীগের নেতাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের কোন্দলে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব সাম্যবাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী নেতা ও দলের কাছে চলে যেতে পারে এই আশংকা ভারত সরকারের ছিলো। সুতরাং তারা সকল দলের অংশ গ্রহনে একটি সর্বদলীয় কমান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।’’ - যতটুকু জানি ভাসানীকে গৃহবন্দীর মত করে রাখা হয়েছিল, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আওয়ামী লীগ নেতাদেরই প্রাধান্য ছিল, সোভিয়েতপন্থীরা কি ততটা প্রমিন্যান্ট ছিলেন মুজিবনগর সরকারে?

২) স্বাধীনতার পূববর্তী দশকে শেখ মুজিব যেভাবে জাতীয়তাবাদীদের একক নেতা হয়েছিলেন, সাম্যবাদী/কমিউনিস্টদের পক্ষে সেভাবে কোন আইকনিক নেতা পাওয়া সম্ভব হল না কেন? ভাসানীর গ্রহণযোগ্যতা ছিল সাধারণের কাছে, সমমনা অন্য সংগঠনগুলো কী তাদের সম্ভাব্য কমিউনিস্ট জোটের নেতা হিসাবে তাকে মেনে নিতেন? স্বাধিকার আন্দোলনে ভাসানীর ভূমিকা সংশয়জনক, এক পর্যায়ে গিয়ে মনে হল তিনি মাঠ ছেড়ে দিলেন মুজিবকে। মাওবাদের উর্ধ্বে উঠে সবার নেতা হবার মত যোগ্যতা কী ছিল তার?

এই বদ্বীপ কখনই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বাইরে যেতে পারবে না, তা বার বার প্রমাণিত। কিন্তু একজন শক্তিশালী ভাসানী আর মুজিব এ দুয়ের সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব কি বাঙালীর স্বাধীনতা সম্ভাবনাকে প্রলম্বিত করত?

আরাফাত শান্ত's picture


গুরুত্বপুর্ন লেখা!

সামছা আকিদা জাহান's picture


ইতিহাস বিশ্লেষন রাজনীতিবিদেরা করবে? তা আমাদের দেশের? পুরনো রাজনিতীবিদেরা তাও ইতিহাস জানতেন তার চর্চা করতেন? এখনকার রাজনিতীবিদেরা নিজেদের ক্ষমতার দ্বন্দেই ব্যাস্ত। সময় কোথায় সময় নষ্ট করবার। হালুয়া রুটর জন্য যা দরকার তা হলেই হল।

ওরা সব উদ্বাস্তু হয়ে গেছে। সব উতখাত হয়েছে আদর্শ থেকে।

বিজন সরকার's picture


অনেক কিছু জানলাম।

তানবীরা's picture


এ সমসত কথা এখন ইতিহাস, অবসরে পড়বার জন্যে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.