আমার সিসিমপুর (১)
ভাত খাওয়ার পর আরাম করে বসে আম খাচ্ছিলাম। এমন সময় ফোন বেজে উঠল। ফোন ধরেই আম্মু আমাকে ডাকলো। বুঝতে পারলাম এটা বাজির ফোন, নাহলে আমার ডাক আসার কথা না। যাই হোক ফোন ধরতেই বাজি বলল একটু ওয়েব ক্যামে আসবে? মেঘলা তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চায়।
ওয়েব ক্যামে বসলাম। মেঘ নাচতে নাচতে দেখালো তার সুইমিং ক্লাস থেকে তাকে সার্টিফিকেট দিয়েছে, সে ভালো সাঁতার কাটতে পারে। মেঘ চিৎকার করছে, তোম্মাআআআআআ!!! তোমরা কবে আসবে আমাদের বাসায় বেড়াতে?? তোমরা যখন আসবে তখন আমি তোমাদের সাঁতার কেটে দেখাবো। তাই তোমাদের সবাইকে এখানে আসতে হলো!!!
আমি বললাম আমরা আসবো পরে। তুমি কবে আসবে বলো?
মেঘের সরল উত্তর, আমিও তোমার কাছে আসতে চাই। শুধু জানো, একটু এক মিনিট আম্মি কে জিজ্ঞাসা করে আসি! একটু পর আম্মিকে জিজ্ঞাসা করে এসে মেঘলা জানালো যে, বাংলাদেশে আসতে অনেক টাকা লাগবে তাই উনি এখন আসতে পারবেন না।
আমি বললাম, টাকা আমি দিব। তুমি কবে আসবে বলো? তারপর জানালেন উনি বিজি, স্কুল আছে, কি করে আসবেন!!
কি যে অদ্ভুত একটা রিদম তার কথার সেটা আমি লিখে বোঝাতে পারবো না। ওর মুখ থেকে বের হয়ে কথা গুলো মনে হয় ছন্দ পেয়ে যায়। নেচে নেচে আমার কানে আসে।
তারপর মেঘলা গান শুনালো, ধিতাং ধিতাং বোলে.....................
মেঘলার কথা এখানেই শেষ। ম্যাডাম আবার তার নিটেন্ডো আর টিভি নিয়ে বিজি হয়ে গেলেন। আর গানটা আমার কানে বেজেই চলল।
মেঘলাকে আসতে বলায় সে আমাকে লিস্ট শুনালো। স্কুল আছে, ফ্রেন্ড আছে আরও কত কিছুর ব্যস্ততা!! কিন্তু ওনার কি মনে আছে উনি আগে বাংলাদেশে আসলে স্কুল আর বন্ধুদের চিন্তা ভুলে, পুতুল নিয়ে খেলতে খেলতে বারান্দার দোলনায় ঘুমিয়ে থাকতেন??
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গাছ থেকে কামরাঙ্গা পাড়িয়ে বারান্দায় বুড়িদের মতো বসে বসে খেত মেঘলা। কত দিন এমন হয়েছে আমরা বোনেরা আড্ডা দিয়ে, নেট ঘেটে মাঝরাতে হয়ত ঘুমাতে গেছি মাত্র, মেঘলার ঘুম ভেঙ্গে গেল। ওর সাথে খেলার জন্য আমরাও উঠে গেছি।
কত নামে যে ডাকা হয় বাসায় মেঘলাকে। টুকটুকি, ময়না পাখি, জেরি মাউজ, মেঘ সোনা চাঁদের কণা, আম্মুসোনা। সবাই যার যার মতো ভালোবাসায় একটা নতুন কিছু বের করে। ভাইয়া তো এখনো ডাকে মম। মেঘলাও ভাইয়াকে ডাকে মম।
চুমকি চলেছে একা পথে, শাহরুখ খানের ইশক কামিনা এই গান গুলো না বাজালে মেঘলা খেতে চাইত না। সেইবার মেঘের মা খুব শখ করে চুমকি গান সহ পুরানো কিছু বাংলা গানের একটা সিডি কিনেছিল নিয়ে যাবে বলে। কিন্তু প্রতি বেলায় মেঘলাকে খাওয়ানোর জন্য আমরা এত এত বার সেই সিডি বাজালাম যে যাওয়ার সময় মেঘলার মা বলল, এই গান দিয়ে তোরা আমার মগজ ভাজা ভাজা করে ফেলছিস। এইটা নিবো না। আমাদের কান-মাথা তখনো ভাজা হওয়া বাকি ছিল। তাই আমরা শুনতাম সেই গান। গান লাগিয়ে, নিজেরা গান গেয়ে, নেচে মেঘলাকে খাওয়াতাম।
সেদিন ফোন করে মেঘলা বলছিল, তোম্মা জানো আজকে কি হলো?
আমি বললাম, না আম্মু জানি না বলোতো কি হলো।
মেঘ- আজকে আমি যখন স্কুলে ছিলাম। তখন আমার দাঁত নড়ে নড়ে পড়ে গেল!!! আর আমি একটুও কান্না করলাম না!!
আমার মনে পড়ে গেল, আগে মেঘলার শরীরে কোথাও চুলকালে আলহ্বাদ করে আসত আমার কাছে - তোম্মাআআআআ আমার এখানে চুক্কায়। মানে তখন ওনার দেখনো জায়গায় চুলকে দিতে হবে। মেঘলা যেদিন প্রথম ব্যাথা পেয়েছিল! সেদিন আমার সে কি কান্না। আমার কান্না দেখে মেঘা নিজের কান্না থামিয়ে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিল। আর এখন!! বাজি ফোন করে যখন বলে আজকে এই এই দুষ্টামি করছে। দিছি পিট্টি। কেমন যে লাগে তখন!!
চলে যাওয়ার সময় প্রতিবার আমাকে অনেক সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়ে যায়। আমি যেন মন খারাপ না করি, কান্না না করি, সে আবার খুব তাড়াতাড়ি আসবে আমার কাছে বেড়াতে। ও চলে যাওয়ার পর আমি যেন একা না ঘুমাই। একা থাকলে আমি ভয় পেতে পারি। তাই আমি যেন তার দাদান-দিদুর সাথে ঘুমু করি।
বড় হয়ে যাচ্ছে আমার ময়না পাখি। একা একা দাঁত ফেলে, সাঁতার কাটে, সালাদ কাটে আরও কতো কি।
মেঘ মায়ের জন্য বলি, তুমি -
ভদ্র হও ভালো হও
চাঁদ সূর্যের আলো হও।
(আমার দিন-রাতের বেশীর ভাগ সময় কাটে আমার ময়না পাখিদের সাথে। সিসিমপুরের মতো আমার এই ময়না পাখির ঝাঁকেও আছে টুকটুকি, ইকরি মিকরি, শিকু। ওদের নিয়ে যখন কিছু লিখতে ইচ্ছে করবে তখন আবার চলবে আমার সিসিমপুরের গাড়ী)





মেঘ ভুলে যাবে, কি আদরে যত্নে ভালোবাসায় সে সিক্ত হয়েছে। শুধু মনে রাখবো আমরা মায়েরা। যেমন আমরা ভুলে গেছি আমাদের বাবা মায়ের যত্নের কথা। স্নেহ নিম্নগামী। মেঘ মনে রাখবে তার সন্তানকে ভালোবাসার কথা। এই হলো প্রকৃতির খেলা।
অঃ টঃ চুক্কায় সমস্যা এখনো সেই রকম আছে। ব্যাথা পেয়েছো রক্ত হয়েছে এখনো সেই জায়গায় আছে। চুমু খাওয়া ও
চুক্কালে চুক্কাই দিবা। আমার মেয়েকে তুমি মারবা না।
মেঘের জন্য একবস্তা আদর।
আলাদা রুটে গাড়ী নামানোর জন্য কিছু বললাম না।

আদরের বস্তা পৌঁছে দেয়া হবে।


কিছু বলবেন কেমনে রুট তো আলাদা
যাই হোক, মিলে যাওয়ায় সরি
সিসিমপুর যখন ইচ্ছা চলুক... এইসব খুনোসুটি ভাল্লাগে
ঋহানের প্রিয় ৩টা গান ... ১. শিলা, ২. ঢিংকা চিকা, ৩. ক্যারেক্টার ঢিলা
এদের খুনসুটি আমারও খুব ভালো লাগে।

ঋহানের ছবি দেখিনা অনেক দিন।
মেঘের জন্য অনেক অনেক আদর। আমার বড় মেয়েটা বিদুৎ চমকালে বলতো আমুউ দেখ দেখ আকাশ না ছবি তুলল। ছোট ছেলেটা কাল বলছে আম্মু আল্লা যখন গোসল করে তখন তো বৃষ্টি হয় তাই না?? এখন গরমতো তাই আল্লা সারাদিন গোসল করে।
তবে শীতকালে আল্লা একদন গোসল করেনা কেন ??
আদর পৌছে যাবে।
আপনার ছেলে তো অনেক মজার চিন্তা করেছে আপু। কি নাম ওর?
বেবীগুলো ছোটখালার কাছে অনেক ক্ষেত্রেই এমন
আধো বোলের কথাগুলো শুনতে ভারি সুন্দর লাগলো।
একদন ঠিক বলেছেন আপু
আমিতো লেখার পেথম লাইনে অনেকখন আটকে রইলাম, তারপর যত আগাই ততদেখি ড়স (মেঘের মত বললাম) বাড়ে। মেঘের বিষটি, মেঘের মাথায় রোদ--লিখ, লিখ।
বাজি, বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা খুউব খারাপ। মনে রাইখো।
আমার ছেলে আজকাল যা বলে তা লিখলে মডু আমারে ধরবে।
লিখেন। আমরাও একটু আপডেটেড হই।
এখনকার বাচ্চাগুলো এতো গুছিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে। ভাবতেই অবাক লাগে।
মেঘের জন্য মেঘমালা আদর!
আদর পৌঁছে দিব আপু।
আহারে কি মায়া! আহা। সিসিমপুর রোডের গাড়ী তো দেখি জম্পেশ চলা শুরু করলো, এত বিরতী কেন হঠাৎ? চালু করো মিয়া।
কি ড্রাইভার জ্যাম ছুটছে কখন আর গাড়ী এখনো স্টার্ট দাও না, ঘটনা কী??

হরতাল চলতিছে না?? গাড়ী বাইর করে কি এখন মাইর খাবো নাকি??
কত হরতাল এলোগেলো গাড়ি তবু চলেনা!
আমার গাড়ি না হয় চলে না, আপনার কি হইসে আফা। আপ্নের ভাবসাবে মনে হয় আপ্নে আরেক জনের কমেন্ট শিল্পীর খেতাব নিয়ে টানাটানি শুরু করবেন।
চলতে থাকুক সিসিমপুরের গাড়ি। শুভকামনা মায়াবতীর জন্য।
সিসিম্পুরের স্টেশনে আসার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধইন্যা
মেঘের জন্য একবস্তা আদর।
এইসব পিচ্চিদের ভালবাসায় ভেসে যাওয়ার মত সৌভাগ্য দুনিয়াতে আর কিছু নাই।
স্বত্বর সিকুয়েলের জোর দাবি জানাই গেলাম।
মন্তব্য করুন