ইউজার লগইন

তানবীরা'এর ব্লগ

বইমেলা কড়চা – (চার) মালাইয়ের স্বাদ পনিরে

ঢাকায় বইমেলা চলার সময় খুব নষ্টালজিক অনুভব করছিলাম। সেই নষ্টালজিয়া কাটানোর জন্যে ফান করে স্যাটায়ার লেখায় হাত দিয়েছিলাম। আমার সমস্ত শখের কাজের মতো যথারীতি এটিও অসম্পূর্ণ আর আধ খ্যাচড়া রয়ে গেলো। এ বছরের মতো এ পর্বটিই আমার এই সিরিজের শেষ লেখা। নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরীন আমার এ পর্বের লেখিকা। তার প্রকাশিতব্য বই কেমন হতে পারে তা নিয়ে আমার আজকের কল্পনা। তসলিমা নাসরীনের উপন্যাস প্রায় প্রত্যেক বইমেলাতেই বের হয় এবং যথারীতি পালাক্রমে বাংলাদেশ ও কোলকাতায় নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। বই নিষিদ্ধ ঘোষনার এ রীতি এশিয়া ছাড়া আর কোথাও আছে কি না, আমার জানা নেই। আমার ব্যক্তিগত ধারনা তিনিও নির্বাসনে বসে একটি পাশবিক আনন্দ উপভোগ করেন, বই নিষিদ্ধের এই হুল্লোড় থেকে। বেছে বেছে কখনো কখনো অকারণে এমন জিনিসই লিখে পাঠান, যাতে বইটা যেকোন মূল্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। অক্ষম মানুষের হতাশ প্রতিশোধ নেয়া। আমি তসলিমার

জীবন থেকে নেয়া (টুকরো টাকরা সুখের গল্প )

ঢাকা গেলে যা দেখি তাই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে নিউমার্কেট আর গাওছিয়া যাই শুধু খাওয়ার জন্যে। কিছুই কিনি না, এ দোকান ও দোকান ঘুরি তারপর খাই, আবার খাই। হালিম, মোরগ পোলাও, শিক কাবাব, জিলাপি যা পাই তাই। একদিন কি কি অনেককিছু খেয়ে শপিং শেষ করে বেড়োতে যাবো আজিমপুরের সাইডের গেট দিয়ে, দেখি ওমা ঐখানের গেটের পাশের ছোট দোকানটায় কোণ আইসক্রীম বিক্রি হচ্ছে, সেটা খাওয়া হয়নি। বল্লাম পাশের লোককে। তিনি মহা বিরক্ত হলেন। প্রবাসীরা আমরা দেশে এলে অতিরিক্ত সচেতন থাকি। কোথায় কে আমাদের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে উড়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায়। আর এ ভদ্রলোকের সাথে এ ঘটনা বেশ কয়েকবার হওয়াতে তিনি মহাসতর্ক। তিনি তিক্ত গলায় বললেন, রাত বাজে নয়টা, এখন সব টাকা আমি গুছিয়ে ফেলেছি, কে কোথায় কি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কোনদিক থেকে দেখবে, গুঁতা দিবে, আইসক্রীম খেতে হবে না, চলো বাসায়। আমি বল্লাম অসম্ভব আইসক্রীম না খেলে আমি

বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

কিছুদিন আগে বিপুল উন্মাদনার মধ্যে দিয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেট খেলা হয়ে গেলো দেশে। আমি কোন কারণে তখন একজন ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম। সে ভীষন উত্তেজিত। ক্রিকেটে ইনফো ডট কমে খেলার স্কোর দেখেই তার এতো উত্তেজনা। মুহুর মুহুর ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করছে। আমার নিরুত্তাপ গলার জাগতিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা তাকে এতোটাই হতবাক করলো যে সে বলেই ফেললো, আপু খেলা দেখছেন না? আমি বললাম না, সময় নেই। তারপর সে বিস্ময় গোপন না করেই বললো, আপনি বোধহয় খেলা মানে ক্রিকেট ততো ভালবাসেন না। আমি তার কথার উত্তর না দিয়ে শুধুই হেসেছি। কিন্তু কথাটা দিনভর কেন যেনো মাথায় গেঁথে রইলো। “ভালোবাসা” --- কতো দ্রুত সময়ের সাথে বদলে যায়। জীবনের প্রায়োরিটি পরিবর্তন হয় আর তার সাথে এই ভালোবাসা। আমি ফিরে যাই আমার হারানো অতীতে।

হোয়াট ইজ বৈদেশ?

অনেকেই বিদেশ নিয়ে অনেক কিছু কল্পনা করেন। এটা ভাবেন ওটা ভাবেন। আপনারা জানতে চান বৈদেশ কেমন?

সেই পাহাড় আর নদীর গল্পটি (দুই)

অরণ্যকে ঠকানোর কষ্টটা আজকাল রিয়ার মনে খুব বাজে। বিবেকের এই চাপ সে আর সহ্য করতে পারছে না। অনেক ভেবে সে ঠিক করল যাই হয় হোক, এভাবে আর না। সে সব অরন্যকে খুলে বলবে, তারপর অরন্য যে শাস্তিই দিক, তাই মেনে নিবে। রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর অরন্য স্বভাবমতো তার স্টাডিতে গিয়ে বসলো সেদিনও। রিয়া স্বপ্নকে শুইয়ে দিয়ে এসে অরন্যের চেয়ারের পাশে হাটু মুড়ে বসল। পুরো বাড়িটা নিস্তব্ধ। রিয়া এ ঘরে আসার সময় হলের বাতিটাও নিভিয়ে দিয়ে এসেছে, আলো পাগল রিয়া এখন যতোটা সম্ভব অন্ধকার চায়। মুখ লুকিয়ে আজ অরন্যের কাছে তাকে আসতে হবে। আলোতে, অরন্যের চোখে চোখ রেখে একথা কিছুতেই রিয়া তাকে বলতে পারবে না। এভাবে পায়ের কাছে নতজানু হয়ে রিয়ার বসে পরা অরন্যকে হতভম্ব করে তোলে। কি হয়েছে রিয়া, বলে রিয়ার মুখে হাত রাখতেই দেখতে পায় অঝোরে রিয়ার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে যাচ্ছে। দ্রুত রিয়াকে তুলে পাশের সোফায় ব

সেই পাহাড় আর নদীর গল্পটি

টিক টিক টিক টিক শব্দ ছাড়া ঘরে আর কোন শব্দ নেই এই মুর্হূতে। সারা বাড়িটাকে একটা মৃত্যু শীতল নীরবতা ছুঁয়ে আছে। এ বাড়িতে এখনো কিছু বেঁচে আছে, প্রাণপনে সেটা জানান দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে হাবা কালা এই ঘড়িটি। কোথায় কি হচ্ছে, বাড়িতে কার মনের কি অবস্থা, কিছুই বুঝতে পারে না, বোকার মতো কাটা ঘুরিয়েই যায় সারাবেলা। ভর দুপুর হলেও এঘরটাতে এখন সন্ধ্যা নেমে আছে যেনো,আলোছায়ার খেলায়। এই বসার ঘরটার সামনের জানালায় বসলে বাইরের রাস্তাটা সরাসরি দেখা যায়। আর জানালাটার ঠিক পাশেই গোলাপী বোগেনভিলার ঝাড়। ঝাড়টা বড় হয়ে গেলেই ঝুঁকে এসে জানালাটার অনেকটা ঢেকে দেয়। তখন বসার ঘরটা অনেকটা অন্ধকার দেখায়। এতে একটা সুবিধে হয় রাস্তা থেকে ঘরটাকে আর সরাসরি দেখা যায় না যদিও ঘর থেকে রাস্তাটাকে ভালোই দেখা যায়। জানালার উপর আছে গাঢ়ো মেরুন রঙের ভেলভেটের পর্দা। সকালটা যখন পেকে উঠেছিলো, তখন চোখে অনেক আলো লাগছিলো বলে পর

বইমেলা কড়চা – (তিন) মাঠার স্বাদ মালাইয়ে

বইমেলা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মাসুম ভাইয়ের ভাষায় “বইমেলা আর নেই”। বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে এই উল্লেখযোগ্য ইভেন্টটি শেষ হয়েছে। দাদাভাই মাঝপথে অভিমান করে কড়চা বন্ধ করে দিলেন, কেউ কেউ “মুরগা” হবার কথা দিয়ে কথা রাখলেন না। কিন্তু এখনের পর্ব হলো শেষ হয়েও হইলো না শেষ পর্ব। জনপ্রিয় কথাসাহ্যিতিকদের লেখার ধরন নিয়ে ছিল আমার এই নাদান কড়চা। হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলনের পর এবার আর একজন এযুগের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হকের উপন্যাসের প্যটার্ন নিয়ে আজকের কড়চা। প্রথমে অনেক লেখকের লেখার মধ্যেই ভার্সেলাইটি থাকলেও, যে মাত্র তারা জনপ্রিয় হয়ে যান, যে লেখাটির কারণে জনপ্রিয় হয়ে যান, পরে সেই স্টাইলটিকেই আকড়ে ধরে বেশির ভাগ লেখা লিখেন। আনিসুল হকের এ উপন্যাসটির নাম ধরা যাক সাড়ে তিপান্ন।

সাগর আর রুনি

সাগর আর রুনিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এ ঘটনা না ঘটলে কোনদিন তাদের নাম সেভাবে জানতাম কি না তাও জানি না। যদিও ফেসবুকে অন্যান্যদের স্ট্যাটাস আর কথোপকথন থেকে বেশ বুঝতে পারি, অনেকেই তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। আবছা আবছা ভাবে মনে পড়ে, হয়তো কোন টিভি কভারেজে কখনো মেহরুন রুনি শব্দটা শুনেছিলাম। তারা বিখ্যাত কিংবা সংবেদনশীল পেশার লোক হন বা না হন, সর্বোপরি তারা বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। দেশকে ভালবাসতেন, বিদেশের মোহ মায়া কাটিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন।

আমার বচন আমার বাণী

মুখবন্ধঃ বিটলামী করি সেটা জানি। কোন একদিন হয়তো বিটলামির জন্যে বিখ্যাত হয়ে যেতে পারি। বিখ্যাত হলে হয়তো বানী টানী দিতে হতে পারে। তখন হয়তো ব্যস্ত থাকবো, সময় পাবো না। তাই বানীগুলো আগেই লিখে রেখেছি। তারমধ্যে থেকে নির্বাচিত কিছু প্রকাশ করছি আজ। এ বানীগুলো নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত থেকে শিক্ষা লাভ করার উপলব্ধি দ্বারা প্রাপ্ত।

তথাকথিত পৈত্রিক ধর্মের সমালোচনা করা হলো "প্রগতিশীলতা" আর বন্ধুর ধর্মের সমালোচনা করা হলো "সাম্প্রদায়িকতা"।

সুযোগের সদ্বব্যবহার করিয়া ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকারের ন্যায় আনন্দ আর কিছুতেই নাই।

চোখের পর্দা থাকলে রাজনীতি করা যায় না।

অন্যায় করে অপরাধ করে ক্ষমা চাইলেই যদি সৃষ্টিকর্তা তাদের ক্ষমা করেন, তাহলে সে সৃষ্টিকর্তার মহানত্ব নিয়ে আমি সন্দেহ প্রকাশ করলাম

বইমেলা কড়চা – (দুই) ঘোলের স্বাদ মাঠায়

দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর পর বন্ধুরা এতো বেশি উৎসাহ দিয়েছেন যে আর থামতে ইচ্ছে করছে না। এখন ভাবছি ঘোলের স্বাদ মাঠায় উত্তরণ করার চেষ্টা করলে কেমন হয়। ভুল ত্রুটি বা পাঠকের বিরক্তির জন্যে দায়ী অতি উৎসাহপ্রদানকারী বন্ধুরা। আর স্বাদ ভালো হলে বুঝতেই পারছেন সব কৃতিত্ব আমার। আজকে ভাবছি বাংলাদেশের আর একজন লেজেন্ডারী উপন্যাসিক “ইমদাদুল হক মিলনের” ছকটা নিয়ে লিখলে কেমন হয়। একসময় তার উপন্যাসগুলোওতো বেহুঁশের মতো গিলেছি। তবে বহুদিন তার উপন্যাস সেভাবে সিরিয়ালি গিলি নাই। অত্যাধুনিক স্টাইলটা হয়তো জানি না। কিছুদিন আগে একটা অবশ্য অনলাইনে পড়েছি, মনে হলো মূল ছকটা এখনো আগের মতোই রেখেছেন। মনেকরি তার এ উপন্যাসের নাম “সে রাধা আমি হাঁদা”

বইমেলা কড়চা – (এক) দুধের স্বাদ ঘোলে

বইমেলায় যেতে পারি না। কতো প্রিয়জনের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, আনন্দিত, গর্বিত মুখখানা ছবিতে দেখি, সামনে থেকে দেখতে পারি না। আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি না, বার্গার, হালিম খেতে পারি না। রোজ পত্রিকা পড়ে, ব্লগ পড়ে, ফেসবুকের স্ট্যাটাস আর নোট পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই। পত্রিকার মারফত জানলাম বিশিষ্ট সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি বই লিখছেন। হঠাৎ তিনি মিসির আলি আর হিমুকে বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর কেন পড়ে গেলেন ভাবতে যেয়ে মনে হল, নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার ফুল পেয়ে তিনি হয়তো বিগলিত হয়েছেন। এর প্রতিদান স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর হত্যার ওপর একটি উপন্যাস লিখবেন। হয়তো তারপর শেখ হাসিনা কিংবা তার পরিবারকে উৎসর্গ করলেও করতে পারেন।

তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা

তোমার দীর্ঘ অনুপস্থিতি আমাকে
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা শিখিয়েছে
তোমার নির্দয় চলে যাওয়া আমাকে
চোখে জল নিয়ে মুখে হাসি দিয়েছে
হাত বাড়িয়ে তোমাকে ছুঁতে না পারার
বেদনা শীতল নিজেকে গোটানো দেখিয়েছে।

জানিয়েছে এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
অসহ্য যন্ত্রনায় তোমার বুকে কাঁদতে না পেরে
শিখেছি কান্না কি করে গিলে ফেলতে হয়
জীবনের প্রতিটি আঘাত আমাকে আরো দৃঢ় করেছে
আজ আমি জানি জীবন কাটবে জীবনের নিয়মে
ভালবাসা হারিয়ে যাবে ভালবাসার নিয়মে
তারপরো অপ্রত্যাশিত কোন আশা মনে নিয়ে
রোজ সকালে আমি চোখ মেলি।
প্রতিদিন আমি পথ চলি।

তানবীরা
৩১/০১/২০১

উৎসর্গঃ জ্যোতি আর জেবীন দুই সাহসী জীবন সৈনিককে

আমার যত সিনেমা - ১

জ্ঞানীগুনী লোকেরা প্রায়ই সিনেমা নিয়ে লিখেন। তাদের লেখা পড়ে আমারো সাধ জাগে সিনেমা নিয়ে লিখতে। মনে মনে লিখি কিন্তু ভয়ে পোষ্ট দেই না। সিনেমা দেখে আমি টেকনিক্যাল সাইড তেমন কিছু বুঝি না। শুধু বুঝি আমার ভালো লেগেছে কি লাগেনি। কিংবা আমি কি কিছু বুঝলাম নাকি বুঝিনি। অনেকদিন কিছু লিখি না। কিছু সিনেমা দেখলাম। মাথায় সিনেমাগুলো ঘুরছে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে মনে হয় আচ্ছা নীরা বাবার বাড়ি চলে গেলেই হয়তো পারতো কিংবা মহিলা কি করে সারাক্ষণ এমন চিৎকার করে যান। এটা ওভাবে হলে কি হতো? কেন সেভাবে হলো না? মনে হয় এ চরিত্রগুলো আমার বড্ডো চেনা। আমি আমার অতি সরলীকরণ ভঙ্গীতেই সিনেমা নিয়ে কিছু লিখছি। প্রথমে,

আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন "ম্যুরাল"

aB prokashoni

নানান বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আমরা বন্ধু ব্লগের ২০১১-এ আসা বিভিন্ন পোস্ট থেকে বাছাই করা কিছু লেখা নিয়ে আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন "ম্যুরাল"। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানান ঘটনা নিয়ে যেমন একটা পুরো জীবনের চিত্র দেখা যায়, তেমনি ব্লগের বিভিন্ন স্বাদ ও গন্ধের লেখা নিয়ে ব্লগের একটা সামগ্রিক চিত্র সবার কাছে তুলে ধরবার প্রয়াস হলো "ম্যুরাল"।

"ম্যুরাল" এ সংযোজিত হয়েছে নানা সময়ে ব্লগারদের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতিতে পরিপূর্ণ মুক্তগদ্য, শক্তিশালী কিছু তরুণ গল্পকারের গল্প। এছাড়াও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দুটি লেখা থাকছে, যেগুলোর কারণে এই সংকলনটা ঋদ্ধ হয়েছে।

ছেড়ে দেয়া মানে হেরে যাওয়া নয়

ছেড়ে দেয়া মানে হেরে যাওয়া নয়
ফিরে আসা মানে পরাজয় নয়
চোখে যা দেখি
সবসময়, সত্যি কি তা হয়?

স্বপ্ন দেখা মানে ভালো ঘুম নয়
মনের যন্ত্রনা মনে ঠিকি বয়
পথ চলায় কাউকে
ভালো লাগলেই, কি প্রেম হয়?

একা থাকা মানে কিন্তু একাকীত্ব নয়
হৃদয়ের মাঝখানটি হয়তো পলিময়
নিজের সাথে থাকে
অস্তিত্ব, লোকে কেন একলা কয়?

আকাশজোড়া মেঘ মানে মন খারাপ নয়
নবধারা জলে কিসের আবার ভয়
বৃষ্টি ভেজা মন
পুড়িয়ে, উড়ে কি যায় অনুতাপের ক্ষয়?

ভুলে থাকা মানে ভুলে যাওয়া নয়
কিছু কিছু ক্ষত জীবনভর রয়
প্রতিদিনের অভ্যাসে
পরাজিত, সব গ্লানি কি হৃদয়ে সয়?

তানবীরা
১৩/১/২০১২