ইউজার লগইন

জ্বরে বিভোর

এবারের মৌসুমটাই কেমন কাঠফাটা রোদ্দুর আর ভ্যাপসা গরমের মৌসুম ছিল। গরমের সাথে তাল মিলিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। ফ্যানের অভাব যতোটা না ভোগায়, তার চাইতে কম্পু-ছাড়া বেকার সময়টা বেশি ভোগায়। যাই হোক, তারপর অনেকদিন বৃষ্টি আসি আসি করলো, কিন্তু আসলো না। মাঝে গিয়েছিলাম কক্সসবাজার। প্রথম দিনের বিকালেই সাগরপাড়ে প্রচণ্ড বাতাস। চাঁদ ঢেকে দেয়া মেঘ,- এই বুঝি বৃষ্টি হবে। রাত বারোটার দিকে যখন এঞ্জেলড্রপ থেকে হোটেলে ফিরবো, তখন এক কি আধ ফোঁটা টুপটাপ পড়লো...তারপরে শুরু হলো বালুঝড়। ভাবছিলাম, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হোটেলে ফিরবো, বালুতে মাখামাখি হয়ে ফিরে এলাম। বৃষ্টি আর হলো না।

ঢাকায় ফেরার পর বৃষ্টি হলো। প্রথম দিনের বৃষ্টিতে অনেক শৌখিন শখ মেটাতে বৃষ্টিবিলাস করলো। আমি জানালা ছুঁয়ে আসা ভেজা মাটির গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে কম্পু নিয়ে পড়ে রইলাম। নতুন বাসায় ওঠার পর প্রথম বৃষ্টি, জানালা খোলা রাখার পরিণাম হিসাবে বিছানা ভরে গেল ছোপ ছোপ কাদায়! হাসবো না কাঁদবো বুঝলাম না!

তারপরে আরেকদিনের কথা। আশফাকের জন্মদিন। বেজায় গরম পড়েছে। তার মধ্যে ঘামতে ঘামতে কেক নিয়ে আশফাকের বাসায় গেলাম সারপ্রাইজ দিতে। গিয়ে দেখি কলাপসিবল গেটে বিশাল তালা ঝুলিয়ে উনি ঘুরতে গেছেন! ফোন-টোন দিয়ে বুয়েট ক্যাফেতে আনলাম। তারপর কেক কেটে সাবাড় করে বের হতে হতে দেখি কোথায় গরম!? কি সুন্দর ঝিরঝির বৃষ্টি। বেশ রোমান্টিক মার্কা বৃষ্টি, সবাই মিলে ধানমণ্ডিতে খেতে যাব এর মধ্যেই। তারপর শুরু হলো ঝড়, পলাশীতে মাথার উপরের চালে ভেঙ্গে পড়লো ডাল-পালা...আধেকটা পথ বাস, তারপর আবার ভিজতে ভিজতে সোডিয়াম-হলুদ ঢাকার রাজপথে হেঁটে কাকভেজা হওয়া! এই তো! অনেকদিন মনে রাখার মতো একটা রাত, বুয়েটের আঁতেলীয় জীবনে এমন সময় খুব বেশি আসেনি।

তারও কিছুদিন পরের কথা। আগের দিন এসএসসির ফলাফল দিয়েছে। খবর পেলাম, আমার ছাত্র এ+ পেয়েছে। শুনেই চিন্তা করতে বসলাম, পায় নাইটা কে!?! বিস্তারিত রেজাল্ট ইন্টারনেট থেকে বের করলাম। ছাত্রের বাসায় যাব রেজাল্ট এর প্রিণ্টেড কপি নিয়ে। খামারবাড়ির মোড়ে এসে দেখি কোনো বাস-টাস নাই। রিকশাওয়ালারা ব্যাপক ভাবে আছে, আমাকে গণায় ধরতাছে না। এরকম সময়ে মাঝে মাঝে দু-একটা মাইক্রো আসে, দশ টাকা করে নেয় শেওড়াপাড়ার জন্য। সেরকম সুযোগের অপেক্ষায় আছি। বৃষ্টি হবে হবে মার্কা মেঘ আকাশে, ধূলাও থেমে থেমে উড়ছে। এরকম সময় একটা পানির কন্টেইনারের খোলা ভ্যান এল। পেছনে কিছু জায়গা বাকি আছে, তাতে চড়ে বসলাম। গাড়ি ছাড়তেই শুরু হলো বৃষ্টি। প্রমাদ গুনলাম...হায় রে! বাস-স্ট্যান্ডেই তো ভাল ছিলাম। যাই হোক, গাড়ি যতোক্ষণ চলে পানির কণ্টেইনারের আড়ালে মাথা লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। তাই দেখে মনে হয় ট্রাফিক সার্জেন্টরা যতো জায়গায় পারলো সিগন্যালে আটকায় দিল। নিঠুর বৃষ্টি কিছুতেই শুকনা থাকতে দিল না, শেওড়াপাড়া নামতে নামতে ভেজার কিছু বাকি নাই।
রেজাল্টের ভেজা কাগজটা ছাত্রের মায়ের হাতে তুলে দিলাম, মিষ্টি খেলাম, কাঁপতে কাঁপতে বাসায় ফিরলাম।

দুদিন আগের কথা। ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছিলাম। শেষ রাতে ঠান্ডা পড়লো, আমারও নাকে ওয়াসার লাইন খুলে গেল।  রুমাল দিয়ে নাক মুছতে মুছতে ছাল-চামড়া তুলে ফেলছি। ক্লাসের এক বদ জিজ্ঞেস করলো, কোনো মেয়ে ঘুসি-টুসি দিছে না তো?! কি জবাব দেব?! ক্লাসে বসে হ্যাঁচ্চো হ্যাঁচ্চো করি, নাক মুছতে মুছতে মধ্যে-মধ্যে মনে হয় রুমাল না এনে তোয়ালে কিংবা বিছানার চাদরটা নিয়ে আসলে সুবিধা হতো। অনেক ভেবেচিন্তে প্রায় আড়াইশো গ্রামের মতো আইসক্রীম এক বৈঠকে সাবাড় করলাম, আশা--- সর্দি জমে যাবে। পরদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি গলা দিয়ে কথা বের হয় না। সাথে কানও একটা বন্ধ বন্ধ মনে হচ্ছে।

কাল সন্ধ্যার কথা। বাসায় ফিরে আর মাথা তুলতে পারতাছিলাম না। সর্দির হাত ধরে জ্বরও আসছে, সাথে মাথা-ব্যথা। কোনোমতে প্যারাসিট্যামলের উপর রাত পার করলাম। এরপর সকালে উঠে দেখি আবার বৃষ্টি। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি, রাতেই বেশ এক পশলা হয়ে গেছে। আর হবে মনে হচ্ছিলো না। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পাত্তা না দিয়ে বের হলাম আটটার ক্লাশ ধরতে। বাস নীলক্ষেতের মোড়ে কুকুর-বিড়াল বৃষ্টির মাঝে নামায় দিয়ে গেল। দোকানের ছাউনিতে দাঁড়িয়ে "এই খালি" "এই রিকশা" ডেকে যাচ্ছি। উনারা কেউই দাম দিচ্ছে না। অনেকক্ষণ পরে পাওয়া এক রিকশা নিয়ে পলাশী পর্যন্ত আসলাম। পলাশী থেকে দৌড়ে রাস্তা পেরুতে পেরুতে আর ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে আবার কাক-ভেজা! অদ্ভূত কারণে ক্লাসের কেউ আর ভিজে নাই, আরেক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো, "তুই কি সাঁতার কাইটা আসলি?" আমি খালি শুকনা মুখে বললাম, "রঙ্গ করো, না? "

এখন জ্বর-সর্দি-নাক-কান-গলা ব্যথা সব নিয়েই আছি...আর কিইবা হতে পারে এক জীবনে?! অবশ্য বাস-চাপা পড়াটা এখনো বাকি আছে!

বিঝনেস এঝ ইউঝ্যুয়াল

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


আজ নষ্টালজিয়ায় পেয়েছিলো।সকাল থেকেই পুরোনো দিনের কথা, বন্ধুদের কথা, আরো কত কি মনে পড়ছিলো বারবার। বৃষ্টিতে বন্ধৃদের সাথে রিক্সায় ঘুরা, তারপর জ্বর-ঠান্ডা। কিন্তু কি মধুর দিনগুলি।ফিরে পাব না আর কখনো।

আপনার পোষ্ট পড়ে আবার মন উদাস হলো। নিজের যত্ন নিন, সুস্থ হন তাড়াতাড়ি। এমন সুন্দর পোষ্ট লিখেন ঘনঘন।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


চশ্মা কিনেন, সুন্দর পোস্ট কই লেখলাম! Stare

মীর's picture


হুমম। বাফড়া একটা ডায়লগই মারছিলো, বিঝনেস এঝ ইউঝ্যুয়াল

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


Sad Puzzled

আকাশনীল's picture


জ্বর-সর্দি এইসব আর কি! বিঝনেস এঝ ইউঝ্যুয়াল Cool

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


হ। এরই মধ্যে ক্লাশ করি, ল্যাব করি, সবই চলতাছে আর কি!

মুক্ত বয়ান's picture


মন্তব্য আর কর্তে পার্লাম না!! হাস্তে হাস্তে গড়ায়ে পরে গেলাম!!! Tongue Tongue Tongue

অ:ট: তোমারে দরকার। কালকে ক্লাসে আইসো। দুপুরে মিটিং। অবশ্যই থাকবা।

তানবীরা's picture


রেজাল্টের ভেজা কাগজটা ছাত্রের মায়ের হাতে তুলে দিলাম, মিষ্টি খেলাম, কাঁপতে কাঁপতে বাসায় ফিরলাম

Big smile Big smile Big smile

আপনার জ্বর হলেও, পোষ্ট পড়তে বিমলানন্দ লাভ করলাম

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


হুমায়ূন আহমেদ একবার কোন এক আত্মজীবনীতে বলছিল, যারা কৌতুক করে তাদের জীবন নাকি আসলে খুব দুঃখের। বেচারার হয়তো ঘরে চাল-ডাল নাই, বন্ধুদের কাছে এসে বললো-ভীষণ অভাবে আছি, দুদিন ধরে বউ-বাচ্চা সহ না খাওয়া। বন্ধুরা তাতেই হেসে গড়ায় পড়ে!

আমারো সেই অবস্থা আর কি!

১০

চাঙ্কু's picture


আপনার জীবন দেখি রেইনের মত বৃষ্টিময় হইয়া গেল Tongue
জানালার ধারে বসে গান শুনতে শুনতে বৃষ্টি দেখতেই ভালো লাগে, তবে বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে না । আফসুস

১১

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


মাঝে মাঝে ভালু লাগে, তবে বেকায়দা ভিজতে ভালু লাগে না Sad(

১২

লীনা দিলরুবা's picture


ভাঙার পোস্টে দেখি মন খারাপ আর শরীর খারাপ Tongue
এইটা কি কারণে হয়, বুদ্ধিমানেরা বোঝে Wink

১৩

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


আমি বুদ্ধিমান না, আমি বুঝি নাই Stare

১৪

মামুন হক's picture


ভাঙ্গা পেন্সিলের জ্বর, খোদায় রক্ষা কর Smile
ভালো হয়ে উঠুন জলদি সেই কামনা করছি।

১৫

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


থেঙ্কু Smile

১৬

সাঈদ's picture


জলদি সুস্থ্য হোন সেই দোয়া করি , এম্নিতেই ভাঙ্গা পেন্সিল তারপরে আবার জ্বর , পেন্সিল তো এর পর আর থাকবেই না Tongue

১৭

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


জ্বরে কি আর পেন্সিল ক্ষয়ে যায়! পেন্সিল ক্ষয় হয় লেখতে লেখতে... Puzzled

১৮

নজরুল ইসলাম's picture


এখন জ্বর-সর্দি-নাক-কান-গলা ব্যথা সব নিয়েই আছি...আর কিইবা হতে পারে এক জীবনে?! অবশ্য বাস-চাপা পড়াটা এখনো বাকি আছে!

বিঝনেস এঝ ইউঝ্যুয়াল

আপনের জ্বর এখনো ভালো হয় নাই?

১৯

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


জ্বর কমছে, সঙ্গী বাকিরা অবশ্য এতো তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে চাইতাছে না

২০

মীর's picture


জ্বর সারছে? আওয়াজ পাই না ক্যান?

২১

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


জ্বর সারছে প্রায় Smile

২২

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনে দেখি শুধু জ্বর সর্দি কাশি দিয়াই পার হইলেন । আমার দশা তো আরও একডিগ্রী উপরে। বাসা শুদ্ধা সবাই একসপ্তাহ পর পর হাম এ ভুগলাম। ভাল থাকেন ভাই।

২৩

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


আমার প্রতিবছর এই জ্বর-সর্দি-কাশি বরাদ্দ থাকে কমসেকম একবার। বড় ধরণের কিছু কম হয় Smile হাম একবার হইছিল, সুস্থ হওয়ার পরেও সবল হইতে সময় লাগছে। আপনাদেরও মনে হয় একই অবস্থা! ভাল থাইকেন।

২৪

শাওন৩৫০৪'s picture


এডা পড়তে পড়তে আমিও বৃষ্টিতে ভিজ্যা অস্থির অবসথা হৈলাম....লেখাটা চরম হৈছে--- Applause

২৫

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


Big smile Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.