ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

সান্ত্বনা পুরস্কার যেখানে সবকিছুতেই

সাধারণত আমার মন মেজাজ যেদিন ভালো থাকে না সেইদিনই ব্লগে লিখতে বসি। আজ অবশ্য তেমন না। মন মেজাজ ফুরফুরেই বলা চলে, কিন্তু আমার পিসির মনিটরের অবস্থা ভালো না। চি চি শব্দ করে সমানে। জানি না প্রবলেম কোথায়, তবে ইরিটেটিং সাউন্ড। সামনেই হয়তো বড় কোনো সমস্যা হলেও হতে পারে। তাই মন ভালোটা শেষমেশ থাকছেই না- এই শব্দ বিভ্রাটের কারনে। অন্যদিকে নোটবুকেরও মাদারবোর্ড ঠিক করতে হবে, সেই ফিনান্সিয়াল কন্ডিশনও এই মাসের শেষে নাই। এখন আপনি যদি সান্ত্বনা খুঁজে অনেকের মতন ভাবেন- শব্দ করলে করুক বিরক্তিকর, পিসির কাজ তো চলে, দেশের কত মানুষের পিসি নাই তা আপনি জানেন? আমি হয়তো সামনা সামনি মেনে নিবো। মনে মনে বলবো এরকম বিরক্তিকর সাউন্ডের পিসি চালানোর চেয়ে, পিসি না থাকা ভালো, আর কত মানুষের কত হাই কনফিগারেশনের পিসি, আমি কি তা নিয়ে কিছু বলছি! অযথা সান্ত্বনার মুখোশ কেন গায়ে মাখাতে হবে?

কিস্তিমাতের ককটেল কিস্তি কিংবা হুবহু কপি ব্যাং ব্যাং!

আজ সারাদিন বসে বসে বই পড়ছিলাম। বই তেমন কিছু না বদরুদ্দীন ওমরের প্রবন্ধ সংকলন আর একটা ইংরেজি ম্যাগাজিন, যেখানে ইন্ডিয়ান অচেনা সব গল্পকারদের ইংরেজি ভাষায় লিখিত গল্প। কাভার নাই। তাই নাম জানি না। সম্ভবত নীলক্ষেতের কোনো পুরানো ম্যাগাজিনের দোকান থেকে কিনেছিলাম। আমার ইংরেজী সাহিত্য পড়তে মোটেও ভালো লাগে না। ভালো লাগে শুধু এই উপমহাদেশের কারো ইংরেজীতে লেখা ভালো উপন্যাস পড়তে। ইংরেজী বই পড়লেই মনে হয় টেক্সট বুক পড়ছি । অচেনা শব্দ পেন্সিল দিয়ে দাগাচ্ছি, তারপর কম্পিঊটারে বসে তা নিয়ে সার্চ দিচ্ছি। এমবিএ এডমিশন টেষ্টের সময় অনেক নতুন শব্দ শিখেছিলাম, তাই ভরসা। নয়তো টিভিতে সিরিয়ালে সব জায়গাতেই সহজ ইংরেজী, যখনই বই পড়তে যাই তখনই দেখি মাথা ব্যাথা করা সব শব্দ আর আজব সেন্টেন্স প্যাটার্ন। এত কষ্ট করে বই পড়াও খুব কষ্টের। দিগন্ত দুটো ইবুক দিয়েছিল, লিওনার্ড কোহেনের আত্মজীবিনী মুলক। তাঁর গান কিংবা তাঁর জীবন নিয়ে। তা শেষ

ফিরে ফিরে আসি, তোমাদের এই নগরে!

ঢাকা শহরের সুখ এখন ইন্টারনেট স্পিডে। ওলোতে ব্যাপক ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। এক উইকের প্যাকেজ নিয়েছিলাম অর্ধেক একদিনেই শেষ। কাল বাসায় এসেই ব্যাপক উৎসাহে ডেক্সটপে বসে পড়লাম। কিসের জার্নির ক্লান্তি- কিসের কি? গত দুই সপ্তাহের ব্লগ- পত্রিকা- লিংক- ইউটিউব যা বাকী ছিল সব দেখলাম। দেখতে দেখতে বাজালাম দুটো। তাও আমার ঘুম আসে না। মামার সেট দিয়ে গেম খেললাম তিনটা অবধি। তারপর আমার এক স্কুল বান্ধবী আমেরিকা থেকে ফোন দিল। কি সব আনকমন শহরের নাম বলে, যেখানে বেড়াতে গিয়েছিল, নামই শুনি নাই। ফেসবুকে এড রিকোয়েষ্ট এক্সেপ্ট করতে বললো, আমি বললাম করবো না, বড়লোক বন্ধু বান্ধবের থেকে আমি দূরে থাকি। মন চাইলে ফোন দিবা, কথা বলবো। কথা হতে হতে চারটা। জানতে চাইলো আমার দেবর যাবে দেশে কিছু পাঠাবো তোমার জন্য?

সবকিছু অথবা কিছুই- না!

শিরোনামটা আমার মাথায় থেকে আসে নাই। 'লাতিন আমেরিকার গল্পসমগ্র' নামে একটা বই কামাল ভাই কিনে দিয়েছিলেন, এই বই মেলায়। সেখানে হোর্হে লুইস বোহের্সের গল্প। বইটা অসাধারন। দারুন সব গল্প, যার ভাষা সহজবোধ্য না, কিন্তু গল্পের এমন অদ্ভুত ছন্দময়তা, মানব মনের নানান অনুভুতির এত বিচিত্র বয়ান তা পড়তে পড়তে শুধু অবাক লাগে। অনেক কিছুই হয়তো বুঝে উঠতে পারি নি, তাও বইটা আমার খুব প্রিয়। বইটা কাগজ প্রকাশনের একটা দারুন উদ্যোগ। আজ ভোরে বাড়ীতে যাবো। তাই লিখতে বসা। জামালপুরে ল্যাপটপ নিতে পারবো না, মোবাইল নষ্ট প্রায়, মন মেজাজ ভালো না, অগ্রিম ট্রেনের টিকেট কাটতে পারি নাই, বাসের জন্য মহাখালী যেতে হবে ভোর বেলায়। ভালোই লাগছে না এবার বাড়ীতে যেতে। শুধু বাবা মা আছে বলেই যাওয়া, নয়তো আমার ঢাকা ছেড়ে এখন জামালপুর তো দূরে থাক, প্রিয় শহর চিটাগাং যেতেও ইচ্ছে করে না। তার সাথে সাথে ব্লগেও লেখা হবে না, যতদিন বাড়ীতে থাকা হবে। কি যে কষ্টে

"বম্বে টকিজ"

এখন আমার সময় কাটে বেশীর ভাগ 'পার্লজ্যাম' ব্যান্ডের গান শুনতে শুনতেই। টরেন্ট দিয়ে নামিয়েছিলাম, দিনে দিনে তার শুধু আসক্তি বাড়ছে। যদিও আমি অনেক পরে শুনছি পার্লজ্যাম, সবার শোনা শেষে অনেক আগেই। ভালো লাগছে। তার কিছু দিন আগে আরেক ব্যান্ডের গান খুব শুনলাম। কিছুই বুঝি না। কেরালার ব্যান্ড। তাইক্কাডুম ব্রিজ। আগে আমি মানতাম না কিন্তু এখন মানি সুরের কোন দেশ- কাল নাই। এক বিন্দু কথা না বুঝেও আপনি কোন গানের গভীর প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। আমার এক পরিচিত ছেলে ছিল, সে হা করে কোরিয়ান চ্যানেলে পড়ে থাকতো, সেখানে গান হতো। তাই তাঁর ভালো লাগতো। কার যে কী ভালো লাগে, বলা মুস্কিল। যেমন পুলকের ভালো লাগে তামিল-তেলেগু সিনেমা। সিনেমা দেখতে দেখতে এখন সে মোটামুটি এইটি পারসেন্ট বুঝে যায় সিনেমায় কি বলা হচ্ছে। আমার আরেক বন্ধু ছিল, কিছুটা দূরের সে আগ্রহ নিয়ে ইরানী সিনেমা দেখতে দেখতে ফারসী ভাষা শিখে ফেলেছে প্রায়। লোকজনের এত প্রতি

কুতুববাগ কিংবা মনের বাঘ!

কুতুববাগ দরবারের কথা মনে আসলেই আমার মনে আসে, ফার্মগেটের পাশ দিয়ে যে পার্ক সেখানে কোরবানী স্টাইলে ছাগল গরু উট সংমিশ্রনে এক বর্জ্য নিঃসৃত গন্ধে লোকজনের ভীড়ের এক শ্বাসকষ্টের কথা । বছর সাতেক আগে আমার আড্ডাস্থল ছিল ফার্মগেট। চিটাগাংয়ের নানান বন্ধু ঢাকার অনেক জায়গা থেকে এসে একত্রিত হতাম সেখানে। সে এক সময় ছিল। নিজেদের মন মেজাজ সবার থাকতো উদাস। সবাই মিলে পিন্ডি চটকাতাম ঢাকা কত খারাপ, চিটাগাং কত অসাধারন। তবে সবার এক ব্যাপারে প্রশ্রয় ছিল ঢাকার মেয়েরা চিন্তা চেতনা স্মার্ট সুন্দরের দিক দিয়ে বেশী জোশ। আমার এই ব্যাপারের আপত্তি, বাসে- কারে- রিকশায়- পথে মেয়েরা দেখতে আকর্ষনীয় হলেই, কি পুরো শহরের মেয়েরা ভালো হয়ে যায়, চিটাগাংয়েও ভালো সুন্দরী ললনা নেহায়েত কম তো না, আমরা দেখি নাই বলে তাঁদের সমন্ধে এই অবিচার। আমার কথার বিপক্ষে সবাই, আমার তখন মেনে নিয়ে বলতেই হতো, বিজ্ঞানের সুত্র মানলে ঢাকাই ব্যাটার, কারন ঢাকার

আমি আছি এর মাঝেই!

শুক্রবারে আমার মন মেজাজ আজকাল ভালো রাখার চেষ্টা করি। সকাল থেকে বের টের হই না। বাসাতে বসেই থাকি। পিসিতে না বসার চেষ্টা করি। সিদ্দিক সালিকের ইংরেজী বইটা প্রায় শেষ করে দিলাম। কোনো এক ইউপিএলের মেলায় কিনে ছিলাম। পড়াই হয় নি। টেবিল আর পিসির চিপায় পড়েছিল। আমার বেশীর ভাগ কিছুই এরকম। এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকে। বুয়া চায় গোছাতে। আমি বলি আপনার দরকার নাই, যে কাজ করেন তাই পারেন না আর অন্য কাজ তাও আবার গোছানো। আমার ঘর ভর্তি বই এইভাবে নানান প্রান্তে ছড়ানো, যে কেউ দেখে ভাববে কি দারুন পড়ুয়া ছেলে, আসলে আমি ওতো পড়ুয়া না। রুমে থাকলে বেশির ভাগ সময় কানে হেডফোন দিয়ে পিসি খুলেই বসে থাকি। কিন্তু খুব ভাব নেই যেন পড়তে পড়তে জান নিয়েই টানাটানি। তবে চাইলেই আমি পড়তে পারি এবং ভালোবেসেই পড়ি সবসময়। নামায পড়তেও গেলাম না। সারাদিন বাসায় বসেই থাকলাম। দুপুর হলো ভাত নিয়ে বসলাম। টিভিতে কি হয়?

বন্ধু 'প্রিয়'র জন্মদিনে!

মন মেজাজ অত্যন্ত খারাপ। এত খারাপ কেন হচ্ছে কারন বুঝতে পারছি না। এমন তো না যে জানতাম না রায়টা কিংবা এমন হবে তাও খুব বেশী আশার বাইরে ছিল না। এমন তো হবারই কথা ছিল। তাও বিশ্বাস হচ্ছে না সাইয়িদীর রায়। কাল এক আওয়ামীলীগ নেতাই আমাকে বললো 'মামু আপনাগো আশা পূরণ হইবে না, ফাঁসী হবে না। গোলাম আজমের মতোই রায় আসবে'। আমি বলছি দেখা যাক কি হয়। বলা তো যায় না। তবে জামাতের অগ্রীম কোনো হরতাল নেই, আন্দোলন নেই- বলেই মনে হয়েছে জামাতের সাথে সরকারের কোনো মিঊচ্যুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং চলছে। সেই সমঝোতাতেই এই রাষ্ট্রীয় স্পন্সরে স্পেশাল ডায়েটে মাওলানা সাবরে জেলে রাখার আয়োজন। জ্ঞানী শিবিরের নেতারা বলতো মাওলানা সাব নির্দোষ, তাই প্রমান হয়ে গেল। এই মন মেজাজের খারাপের দিনে এক আইনজীবি এসে আমাকে বলতেছে, ঠিকই আছে, সাইয়িদী সাহেবকে যে রায় দেয়া হলো তাও অন্যায় এরকম আলেম মানুষকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয় নাই। মনটা চাইছিলো, হালারে বাইন্ধা র

এই মৃত্যুমুখী শহর যেন শুন্য মাপার কারখানা!

গত পোষ্টেই লেখা প্রসঙ্গে বলছিলাম বন্ধু কামরুলের কথা। ভাগ্য কি অসাধারণ, একদিন পরেই অফিসের কাজে কামরুলের ঢাকায় আগমন। হোটেলে না থেকে- আমার বাসায় থাকা। গত দুদিন তাই অত্যন্ত আনন্দে কাটছে। যদিও তার সময় মেলে কম, তাও যতটুকু তাই মেলা, রাতের বেলা দুই বন্ধু ছাদে বসে বসে গল্প করতে করতে কাটাই। কামরুলের সাথে আলাপের সব চাইতে বড় সুবিধা- ভনিতা করতে হয় না কোনো। এমনিতেও ভনিতা ব্যাপারটা আমার সাথে খুব একটা যায় না। তবুও কামরুলের সাথে তা আরো না। প্রশ্ন করি, জানতে চাই, সব ঘটনা দিন যাপনের কথা জানার চেষ্টা করি। শুনে হো হো করে হাসাই আমার কাজ। কামরুলের সব চাইতে বড় জিনিস হলো সে কোনো কাজই হেলায়ফেলায় করে না। যাই করুক সিরিয়াস, আড্ডা মারার সময়তেও সিরিয়াস হাস্যরস করতে করতেই আড্ডা। দুইটা বোন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট শেষ করবে করবে, তাঁদের বিয়ে দিবে কিভাবে তা নিয়ে ইদানিং সে চিন্তিত। যা একদমই নতুন অভিজ্ঞতা আমার জন্য। কারন কা

ইটস অ্যা হার্ড রেইন গোন আ ফল!

বব ডিলানের অতি বিখ্যাত একটা গান। তবে গানটা আমার ভালো লাগে জোয়ান বায়েজের কন্ঠেই। অসাধারন এক কম্বিনেশন ছিল, বব ডিলানের কালজয়ী কবিতা যা গানের সুরে এক ঝাঝালো প্রতিবাদে লেখার প্রতিভা আর জোয়ান বায়েজের কন্ঠের জাদু সব মিলিয়ে এক অনবদ্য সময় ছিল তখন। একদিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিভীষিকা আরেকদিক শহুরে আমেরিকান তরুনদের প্রতিবাদী সব গান সাথে ফোক রিভাইবাল ও হিপ্পী হবার নেশা। এই গানটাও ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ বিশিষ্ট গান। শুধু পশ্চিমেও না,আমাদের এখানেও এক অসাধারণ সময় ছিল ষাটের দশক। বিক্ষোভ- বিপ্লব- প্রেমিক- শিল্পী সবার জন্যই ও সবকিছুর জন্যই শ্রেষ্ঠ এক সময়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ইস জন্ম যদি হতো দেশ বিভাগের সময়। পুরো ষাটের দশক জুড়ে থাকতাম তরুন। কিছুতে অংশ না নিলেও চোখ দিয়ে দেখতাম সেই সময়কে, অনুভব করতাম সেই দশককে। কি ভালোই হতো। এতদিনে হয়তো কবরে চলে যেতাম, দেখতাম না এই ফেসবুক টুইটারের তথাকথিত সামাজিক

ইদানিংকালের ভারতীয় সিনেমা নিয়ে অযথা পোষ্ট!

অনেক দিন সিনেমা নিয়ে কিছুই লেখা হয় না। হলে গিয়েও দেখাও হয় না। দেখেছিলাম শেষ, অনন্ত জলিলের মোষ্ট ওয়েলকাম টু। দেখে এত মেজাজ খারাপ হয়েছিল তা নিয়ে আর লেখতে ইচ্ছে করে নাই। চার বন্ধু মিলে সিনেমা দেখার উসিলায় চলে গেছে ১৫০০ টাকা। এই দুঃখে গত মাসে আমরা তেমন বাইরে খেতেও যাই নি। জীবনে প্রতিজ্ঞা করছি, জলিলের সিনেমা আর দেখবো না। সে হাসতে হাসতে মেরে ফেলাক তাও না। যে সিনেমায় চারটা গান জলিল আকাশে বাতাসে ফুলের বাগানে গ্রামে গঞ্জের বিয়ের সিডির মতো ব্যাকগ্রাঊন্ডে ভেসে বেড়ায় তা দেখার আমার ইচ্ছে নাই। অনেক হয়েছে ছাগলের সিনেমা টাকা দিয়ে দেখা আর না। মাহী বাপ্পীর সিনেমা 'হানিমুন' ইচ্ছে করেই দেখি নাই। নামটাই পছন্দ না, তেমন পছন্দ না পোষ্টার টাও। সানিয়াত ভাইয়ার 'অল্প অল্প প্রেমের গল্প' দেখবো সামনেই। টাইমিং মিলছে না। আমি একা একা সিনেমা দেখতে পারি না। সিনেমা নিয়ে বন্ধু বান্ধবরে দু চারটা ডায়লগ না দিলে আর সিনেমা দেখার মজ

we all live in a yellow submarine!

শরীরটা ভালো না নিয়ম করেই। ব্যাকপেইনে প্রচন্ড যন্ত্রনায় আছি আর তার সাথে আছে এসিডিটি। তবে তাতে আমার খুব একটা সমস্যা নাই। শরীর ভালো মন্দ যা খুশী থাকুক, আমার চলে যাচ্ছে দিন সব সময়ের মতো। খালি ডেইলি বেসিসে ব্লগ লেখা হচ্ছে না, এই যা। সময়ের স্বল্পতা না, এমনিতেই কেন জানি লেখা হচ্ছে না। প্রতিদিন রাতে নিয়ম করে বসি কিন্তু লেখা আর হয় না। এই ফেসবুক এই ইউটিউব এই নিউজ সাইট এইসব করে করেই দুটো তিনটা বাজাই। মাথাভর্তি খালি তথ্য গিজগিজ করে ঢুকাই, কিন্তু বেলা শেষে কিছুই মনে থাকে না। যে স্মরনশক্তি নিয়ে আমার অহমবোধের শেষ নেই তাই কেমন জানি মার খেয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। কাল জেমসের সাথে লাকী আখন্দের গান নিয়ে কথা হচ্ছিলো। কিছুতেই মনে আসছিল না 'আগে যদি জানিতাম' এই সামান্য তিনটে শব্দের কথা। বাসায় এসে মনে পড়লো, নিজেকে নিজেই গালি দিলাম, ধুরো এইটা একটা কথা হলো?

বন্ধুরে, তোদের মন পাইলাম না!

অনেকদিন পর গতকাল রাতে চা পানের সেই ফেলে আসা সময়কে ফিরিয়ে আনলাম। এক সিটিংয়েই হাফডজন কাপ ভর্তি চা, বাপের ঘরের কথা। কতদিন খাওয়া হয় না এরকম করে। চায়ের দোকানে দুই কিংবা তিনকাপের বেশী চা এখন ভুলেও খাই না। বসেই থাকি শুধু বেঞ্চে। আজ খেলাম তার কারন আছে, কারন গতকাল সন্ধ্যায় পুলকের জন্মদিন ছিল। কিন্তু দুঃখের কথা হলো আমার কাছেও টাকা নাই, পুলকের কাছেও টাকা নাই, আবীরের কাছেও টাকা নাই। তাই বারেক সাহেবের দোকানে বাকী চাহিয়া লজ্জা দিয়ে দেদারসে নিজেকে ও সবাই মিলে চা সিগারেট খাওয়ানো হলো। আমি যেহেতু সিগারেট খাই না সেহেতু চা খেয়েই সন্ধ্যার খিদেটার একটা দফারফা করলাম। চেচামেচি করে এক আড্ডা দিলাম। তারপর আবার আমার এক পরিচিত মামা, ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ নেতা মদ খেয়ে মাতাল, তার সাথে মশকরা করলাম। আমাকে মুগ্ধ করে সব সময় মাতালরাই। মাতালরা এত অদ্ভুত এক জাতি হয়ে যায় মদ্যপানের, পর তা এক দেখার মত সিন। একটু আগেই যে হাজী সাব হয়ে

এই শহরের স্বপ্নগুলো লুকিয়ে যায় সব আঁধারে!

লিখছি না, লিখছি না করে চলে গেল এক সপ্তাহ কিংবা তারও বেশী কিছু দিন। না লিখলেও নিয়ম করে ব্লগ দেখি। নতুন লেখা আসলে পড়ি, পুরোনো লেখাও পড়া হয় মাঝে মাঝে। নিজের লেখা পড়ি কম, কি পড়বো সব একই কথা বারবার নানান শিরোনামে লেখা। বৈচিত্র্যতা নেই একদম। তাই নতুন লেখা লিখতে বসেই এখন ঝুকি নিতে হয় নিজের কাছেই। যে একই কথা আর কতবার লেখবো! তাও সময় পেলেই সে সহজ ঝুকিতেই গা ভাসিয়ে লিখতে বসি। লিখি কি আর করা যাবে। লিখতে পারিনা তেমন ভালো কিছু। আমার মতো প্রতিভাহীন মানুষ না হয় একটু ভাড়ামী করে একই কথা একই রকমের দিনলিপি লিখেই গেল একটা শীতল ব্লগে। তাতে কার আর কি আসলো গেল?

অঞ্জন বলছে - 'টিভি দেখো না!"

অঞ্জন দত্তের অতি বিখ্যাত গান, কবীর সুমনের এক সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম তিনি বলছেন-- এই গানটা ছাড়া বাচ্চাদের জন্য কোনো সিমপ্লিস্টিক গান আর তিনি শুনেন নাই বাংলায়। বাচ্চারাও অঞ্জনের কথা শুনে নাই, আমিও শুনি নাই। শয়তানের বোকা বাক্সটা দেখেই চলছি। আর এবার টিভির পর্দাতেই ধরা দিলো অঞ্জন দত্ত। অনুষ্ঠানটা দেশ টিভির পর্দাতে দেখতে যে কি কষ্ট হলো তাই একটু ভাবি। বাড়ীর সবাই ঘুমাচ্ছে, শিয়ালের ডাক চারিপাশ থেকে, একদম গ্রামীন নিঝুম নিস্তব্ধতা। এর ভেতরে টিভি দেখা বিশাল ঝামেলার। কানে হেডফোন রাখতে রাখতে আমি অল্প সাউন্ড শুনি না আবার। তাই আমার সাউন্ডে হয়তো সবার ঘুমে সমস্যা হয়েছিল, তবে কেউ কিছু বলে নাই, খালি আব্বু এসে বকা দিয়ে ছিল- তাও টিভি অফ করি নাই। বিজ্ঞাপন বিরতির জ্বালায় যদিও খুবই অতিষ্ঠ ছিলাম তবুও পুরো অনুষ্ঠানটাই দেখলাম মুগ্ধ হয়ে। অঞ্জন দত্তের সব পুরোনো গানই তো প্রায় মুখস্থ তাই আমার কাছে নিজেই নিজের এক্সাম নিই।