ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

আহমদ ছফার কালজয়ী স্মৃতিকথা- ঢাকায় যা দেখেছি যা শুনেছি।

এই প্রবন্ধটা আমার সর্বপ্রথম পড়া হয় মুক্তধারার এক বইতে। বইটার নাম ভুলে গেছি। গুগলে সার্চ দিলে যে নাম আসে, সেই নামে না, আরেকটা নাম ছিল। তারপর এই লেখাটি শেষ যে বইয়ে ছাপা হয়েছিল- সেই বইয়ের নাম ‌'আহমদ ছফা সঞ্জীবনী' লেখক সলিমুল্লাহ খান। সম্পাদক আবুল খায়ের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান। আগামী প্রকাশনী। প্রকাশ কাল: ফাল্গুন ১৪১৬, ফেব্রুয়ারি ২০১০। বইটা আমার শেলফে এখনো ঝলঝল করে। আমার দেখা ১৯৭১ সালের মার্চের শেষ সপ্তাহের নারকীয় গনহত্যা নিয়ে লেখা দেশীয় কোন লেখকের সেরা প্রবন্ধ। ঢাকায় কিভাবে গনহত্যা চলেছে- মানুষ মারা হয়েছে- শুরুর দিকে তার মর্মস্পর্শী বিবরন পাওয়া যাবে এতে। আমি এই প্রবন্ধটা অনেকদিন আগেই নিজে টাইপ করে লিখে রেখেছিলাম। পিসি নষ্ট হয়ে তা হারিয়ে যায় পরে একজনের নোট থেকেও সেইভ করে রেখেছিলাম বছর দুয়েক আগে। আজ হুট করেই আহমদ ছফার এই মেলায় প্রকাশিত, 'হারানো লেখা' বইটা রিভাইস দিতে বসলাম। ভাবলাম এই প্রবন্ধ থেকে

গার্হস্থ্য জীবনযাপন!

চারিদিকে এখন ক্রিকেট। এত ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা সবাই করছে, কদিন পরে আমাদের গায়েই ট্যাগ লাগবে-- বাঙ্গালী ইট ক্রিকেট, ড্রিম ক্রিকেট, লাভ ক্রিকেট। যেখানে যাই, যার মুখের দিকেই তাকাই, ব্যস্ত আড্ডায় উকি মারি, ক্রিকেট ছাড়া আলোচনা নাই কোনো। ক্রিকেটের আলোচনা সবাই করে সে রিকশা চালক আইনুল হোক আর ড্রাইভার জসিম হোক, নর্দানের ছাত্র বাবু হোক আর কোটিপতি শান্ত ভাই হোক কিংবা বন্ধু আদনানের বঊ রুমু ভাবীই হোক না কেন, মুক্তি নাই। আমাকেও করতে হয়। আমি খারাপ করি না। ক্রিকেট নিয়ে আমার জানাশোনাও কম না। কিন্তু প্যাচাল পারতে ইচ্ছে করে না সবসময়। এক কালে ক্রিকেট অনেক আবেগের জায়গা ছিল, যার খেলাই হোক টিভিতে মিস হতো না, এখনো তা আছে, তবে মাত্রা কমেছে। দিনশেষে ক্রিকেট একটা খেলাই। ক্রিকেটে ওয়ার্ল্ডকাপ পেলেও বাংলাদেশ, বাংলাদেশই থাকবে, ইংল্যান্ড হবে না। তবুও বাংলাদেশের বেলায় আমার আর এইসব এত মনে থাকে না। বাংলাদেশের পরাজয় দিনশেষে আম

নামের আগে বা শেষে যারা 'কমিশনার' লাগাতে আগ্রহী!

এই সরকার একদিক থেকে খুব বুদ্ধিমান, মাঝে মাঝে ইস্যু তুলে লোকজন তা নিয়ে দোড়ঝাপ করে তারপর আসে আরেকটা নতুন ইস্যু। ভুলে যায় পুরোনো দিনগুলোর কথা। এইভাবেই চক্রাকারে চলতে থাকে। এই হরতাল অবরোধ নাশকতার ভেতরে শহরে যেমন বাঁধে জ্যাম, ঠিক তেমনই নতুন করে বাঁধে নতুন নতুন ইস্যু। অন্য এলাকার খবর কেমন তা আমার জানা নাই, যেহেতু মোহাম্মদপুরে থাকি তাই না চাইতেই নানা ইস্যুতে নিজেই জড়িয়ে পড়ি। এখন যেমন মোহাম্মদপুরে চলছে কমিশনার ইলেকশন নিয়ে হাইভোল্টেজ আলোচনা ও প্রার্থী লইয়া তর্ক বিতর্ক। বিরোধী দলেরা কি করবে জানা নেই, কিন্তু এক আওয়ামীলীগ থেকেই সম্ভাব্য তিন চারজন মাঠে নেমেছে। ক্যান্ডিডেট ভিন্ন কিন্তু আওয়ামীলীগের লোকজন তো ঘুরে ফিরে সেই একই। আর স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা আমাকে চায়ের দোকানের সুত্রে হোক আর এলাকায় থাকতে থাকতে ও আড্ডা দিতে দিতে হোক- খুব জ্ঞানী লোক মনে করে। মনে করে আমার মাথায় অনেক বুদ্ধি। তাই যত কমই যাই চায়ে

মন কেমনের ধূসর গ্রিলে

একরকম কেটে যাচ্ছে সময়। এই কথাটা যখন একজনকে বললাম, সে বললো কিভাবে কাটে রক্তসহ নাকি রক্তপাতহীন?

হতবিহবল কিংবা থমকে থাকা সময়!

এবারের মত বাজে ফেব্রুয়ারি মাস আমার এই জীবনে আর আসে নি! ফেসবুকে লিখেছিলাম একটু আগে। গোটা দশ লাইকও পেলাম। তাহলে আমারই শুধু খারাপ সময় যাচ্ছে না, অনেকেরই মন্দ সময় কাটছে। আমার অবশ্য এখন ব্লগ টগ লিখতে সিরিয়াস বিরক্ত লাগে। তিনদিন ধরে চেষ্টা করেছি, এক লাইনও লিখতে পারি নি। এসব লিখে টিখে কি হয়? অভিজিৎ রায়ের মতো দেশ সেরা বিজ্ঞান লেখককে হাজার হাজার মানুষের সামনে দুই তিন মিনিট কুপিয়ে খুন করা হয়, তাঁর স্ত্রীকে নির্মম ভাবে জখম করা হয়। আঙ্গুল হীন রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সাহায্য চান, কেউ আসে না এগিয়ে। কেউ কেউ ছবি তোলে। এরকম শুয়োরের বাচ্চাদের দেশে আমরা আছি শুয়োর হয়ে, কোনোরকমে প্রান বাঁচিয়ে। এটাকে কি বেঁচে থাকা বলে?

দিন প্রতিদিন বইমেলায়--(৬)

কাল মেলায় ছিলাম। উদ্দেশ্যবিহীন, কেনাকাটাহীন। হিল্লোল দা এর সাথে দেখা, কথা হলো- উনার সাথে থাকা লোকদের বলছে-- আমরা বন্ধুর বড় ব্লগার শান্ত মিয়া, বইমেলা নিয়ে লিখছে নিয়ম করে। আমি অবাক হলাম এইভেবে যে- এই ব্লগ কেউ কেউ এখনো পড়ে। এবারের মেলাটা ভালো যাচ্ছে না। কারন অর্থনৈতিক, সেই কারনে পছন্দের বই কেনা হচ্ছে না। বইয়ের দামও বেশী। নতুন নতুন অনেক বইয়ের নাম শুনি, গত বছর হলেও কিনতাম চোখ বন্ধ করে। এবার আর সেই বিলাসীতার সুযোগ নাই। আশা করছি মনে মনে যে লিষ্টটা আছে, তা এই বইমেলায় কিনে ফেলবো। না পারলে আর কি? জান তো দেয়া যাবে না। আমি সারা বছর জুড়েই টুকটাক বই কিনি, বন্ধুদের থেকে ধার নিই, এবার কেনা হলো না তাতে কি আর করা যাবে?

'একদিন সব কিছু গল্প হয়ে যায়'

মনটা বিশেষ ভালো না। প্রথমত ইন্টারনেট নেই তাতে কিঞ্চিত বিরক্ত - তারপর টাকা হারিয়ে ফেলে কিছুটা বিরক্ত নিজের উপরে আজ। মাঝে মধ্যেই সুবিধার জন্য পাঞ্জাবীর পকেটে টাকা রাখি, আর হারাই। নতুন কিছু না। তবে মাত্রাটা বেড়েছে হারানোর আর যেদিন হারায় সেদিন আমার মেজাজটাও ভালো থাকে না, বোকামীর দন্ডর চুড়ান্ত অবস্থা। তাও সব কথার শেষ কথা, এই দুর্দিনে ভালো আছি, শত হতাশার ভেতরেও খুব ভালোই কাটছে দিন। তার ভেতরে মোবাইলের সামান্য ডাটা নিয়ে এই লেখাটা শুরুই করলাম অনিশ্চয়তায়। সাথে আছে আমার ল্যাপটপ ভীতি। ডেস্কটপে কাটাস কাটাস করে যুদ্ধ করতে করতে লেখার অভ্যাস, ল্যাপটপে আঙ্গুল ছুয়ে তাই আলতো করে লেখার অভ্যেস এখনও হয়ে উঠে নি। আমার সব কিছুই অস্থির, স্থুলতা, কোনরকমে ভরপুর। গুছিয়ে যে কিছু অসাধারণ ভাবে করবো, তা কখনোই আর হলো না।

দিন প্রতিদিন বইমেলায়-- (৫)

এই পর্বটা লিখবো মেলায় না গিয়েই। দেখি কতদূর লেখা যায়। সব সময় সব কিছু দিব্যদৃষ্টি দিয়ে দেখেই লিখতে হবে, এমন কোনো কথা নাই। মহান লেখকদের অবশ্য জীবনকে দেখার দৃষ্টিটুকুই থাকে, যা নিয়ে লিখছে তা নিয়ে প্রত্যক্ষ কোনো অভিজ্ঞতা অনেক সময়ই থাকে না। তাও লেখা যখন শেষ হয় তখন তা পড়ে মনে হবে লেখক কত সহস্র দিন সেই লোকদের সাথে ছিলেন। আমার অবশ্য কোনো ক্ষমতাই নাই, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লিখতে বসলে নিজের কথাই শুধু বলি আর জীবনকে দেখার দৃষ্টিও তেমন প্রখর কিছু না। তাই তো আমার লেখাই হয় না। সমবয়সী ব্লগারদের বই প্রকাশনা কিংবা ব্লগে যা লেখা দেখি তাঁর ধারেকাছেও আমি নাই। আপসোস হয় না। প্রতিভার ঘাটতি ও পরিশ্রমের শক্তি দুটো জায়গাতেই আমার যথেষ্ট খামতি। তবে আমার এক বন্ধু আমাকে সব সময় বলে-- 'লেখক হবার কি দরকার?

দিন প্রতিদিন বইমেলায়-- (৪)

থমথমে এই শহরে বের হওয়াটাই এখন দুশ্চিন্তার। আমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করি না, আমাকে নিয়ে যারা চিন্তা করে- তাঁদের চিন্তায় চিন্তিত হয়ে নিজেকে চিন্তার গভীরে আবদ্ধ রাখি। কাল সেই চিন্তায় মেলাই যাইনি, ভাবলাম ফাইনাল খেলাটা দেখি বঙ্গবন্ধু কাপের, বাসায় বসে আরাম আয়েশে। কিন্তু সত্যিকারে কুফা মাষ্টার যে আমি তা আরেকবার প্রমান মিললো। খেলা দেখতে বসলাম, ফার্ষ্ট হাফেই গোল খেলো দুটো। মেজাজটা এত খারাপ। তাঁর ভেতরে আশেপাশে কোনো বিহারী ছেলে বাংলাদেশ গোল খেলেই চিল্লান দিয়ে বলে, গোওওওল!

দিন প্রতিদিন বইমেলায়-- (৩)

আজই প্রথম বইমেলা থেকে মোটামুটি মানের কেনাকাটা করলাম। কেনাকাটা ও রিকশা ভাড়াতেই টাকা শেষ। কি এক জামানা আসলো, বইয়ের যে দাম তা দিয়ে বারেক সাহেবের দোকানে ১ মাস প্রতিদিন দু চার কাপ চা খেলেও সমান হবে না। তাও বই তো বই, টাকা পয়সা অজুহাতে বইকেনা কি আর থেমে থাকে? দুখানা বাংলা একাডেমীর অভিধান, ছফার: হারানো লেখা, ও সুস্মিতা ইসলামের আত্মজীবনী মুলক একটা বই কিনে ফেললাম। কিনবো আরো কিছু বই, যেমন কর্নেল নুরুজ্জামানের একটা নির্বাচিত রচনাবলী বের করলো সংহতি সেটা, সাহিত্য প্রকাশের দু চারটা বই, জাদুঘরে একটা বই দেখলাম ঢাকা নিয়ে, পাঞ্জেরীর একটা পকেট বাংলা ব্যাকরন ডিকশেনারী সহ কিছু চমৎকার চেহারার বই দেখলাম, কিনে উপহার দিতে ইচ্ছে হচ্ছে কাউকে। মেলার শুরুতেই নান্দনিকে জিগ্যেস করেছিলাম, কামাল ভাইয়ের কোনো বই আসবে কিনা?

দিন প্রতিদিন বইমেলায়-- (২)

আমাদের জীবনে কত কি ঘটে, দেশে দুর্যোগ দুর্বিপাক কত কি ঘটে যায় প্রতিনিয়ত তাও মানুষ উৎসব করে আনন্দ ফুর্তি করে। কিন্তু এখন দেশে যা অবস্থা সামান্য হাসতে গেলেও, অন্তরে গিয়ে এক বেদনাই জমে উঠে। আমরা হো হো হাহা করছি, আর সমগ্র দেশজুড়ে কত কান্না হল্লাহাটি দুঃখের গল্প। নিউজপেপার তো পড়ি না, সকাল বেলা যখন এক বন্ধুর মুখে শুনলাম সাতজন নিহত হবার খবর। তখন কিছুদিন আগে আমার নিজের বাসযাত্রার কথা মনে পড়লো। কি আর বলবো, সেই কুমিল্লা থেকেই উঠেছি, সন্ধ্যার সময়। প্রায় অন্ধকার সব কিছু ভুলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছে। জীবনকে আমার কাছে খুব প্রেশাস কিছু মনে হয় না, কাটাতে হয় কাটাচ্ছি। যদি এভাবেই মরি, মরলাম। কিন্তু বাকী সবাই তো জীবনকে অনেক দামী মনে করে। তাঁদেরকে টপটপ করে আগুনে পুড়িয়ে মারলো, কতজনকে আশিভাগ পুড়িয়ে নির্মম বেঁচে থাকা উপহার দিলো, এ কেমন রাজনীতি তা আমার জানা নাই। মাঝেমধ্যে চুলায় কলসীতে পানি সিদ্ধ দেই। পিসিতে বসলে

দিন প্রতিদিন বইমেলায়-- (১)

দেখতে দেখতে বছর শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেল জানুয়ারী। আবার ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দিনও শেষ। এই অবরোধ আর দাঙ্গা হাঙ্গামার থমথমে দেশে সময়ই শুধু কেটে যায় এত দ্রুত। আর কিছুই কাটেনা। সময়কে যদি অবরোধ দিয়ে আটকে রাখা যেত তাহলে দারুন হতো। কিন্তু দেশের ক্রান্তিকাল হোক আর স্বর্নালী দিন হোক সময় যায় এক ভাবেই। দ্রুতগামী ট্রেনের মতোই ছুটে চলছে, আর জানিয়ে দেয় আমরা ট্রেন মিস করেছি কতবার, দুনিয়াটা কত বদলে যাচ্ছে। ট্রেন নিয়ে কথা বললেই এখন শুধু আওয়ামীলীগ বিএনপির বাগবিতণ্ডার কথা মনে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন একবার, 'বিএনপি ইলেকশন ট্রেন মিস করেছে, আবার ট্রেন আসলেই পাবে উঠার সুযোগ, তাঁর আগে ট্রেনে আসার মতো পরিস্থিতি নাই'। বিএনপির কোন বড় নেতা জানি বললেন, 'টিকেট ছাড়া যেই লোকাল ট্রেনে ভ্রমন হয়, সেই ট্রেনে বিএনপি উঠে না। আর আমরা আপসোস করবো, একটা ট্রেনে উঠা নিয়ে যে দেশে পলিটিক্যাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং নাই, সেই দেশ শুধু ট্রেন

দিন হতে দিন, আসিবে কঠিন!

পেপার পড়া ছেড়ে দিয়েছি। ফেসবুকে মাঝে মধ্যে লিংক আসে শুধু দেখি, টিভিতে স্ক্রল দেখি, অনলাইনে নানান পত্রিকায় মুলত দেখি বিনোদনের খবর। ফাওয়াদ আফজাল খান- কারিনার সাথে 'উড়তা পাঞ্জাব' সিনেমায় নাই, অক্ষয়ের 'বেবি' কেমন করছে ব্যাবসা, কারিনা শহীদ নতুন এক সিনেমা আবার করছে এক সাথে, শাহরুখ খান হ্যাপি নিউ ইয়ার নিয়ে বিব্রত, ফিল্মফেয়ারের নমিনেশন পেল কি কি সিনেমা, অস্কার কাদের পাওয়ার চান্স বেশী, বয়হুড কিংবা গ্রান্ড বুদাপেষ্ট হোটেল দেখা হলো না, রনবীর কাপুর এতবেশী কেন গেইম খেলে, বাংলার শাকিব খান কি ইন্টারভিউ দিলো এসব পড়েই কাটাই। আর বই পড়ি, নানান বই নিয়ে বসি। শখ করে একজনের কাছ থেকে এনে অমিয়ভূষণ মজুমদার ধরেছি, বিখ্যাত লেখক। কিন্তু বোর হয়ে যাই। পড়ার আরেকটা সমস্যা হলো কনসেনট্রেশন হারাই। মোবাইলের দিকে তাকাই, সময় দেখি, চা বানাই, টিভিটা একটু চালাই, হাবিজাবি কাজ করি। ইচ্ছে করে না টানা পড়ে যেতে। আগে টানা পড়তে পারতাম, এখ

প্রতিদিনের বেঁচে থাকায় কেটে গেল এই জীবন!

আমাদের স্কুলে অথবা কলেজে কোনোদিন স্বরসতী পুজো হয় নি। তাই আমার জানা নাই তা কেমন হয়। তবে আজ রাস্তায় প্রচুর শাড়ী পরিধান করা উর্বশীদের দেখে মনটা কেমন জানি করলো। অনেক জায়গাতেই ঢাকায় আজ আয়োজন ছিল। ভালোই, দেশে অসাম্প্রদায়িকতার বাতাস আমাকে আলোড়িত করে। কিন্তু আজ পত্রিকাতেই দেখলাম সংসদ প্লাজায় পূজা যখন হয়েও হয় না, দিনাজপুরে আদিবাসীদের ঘর জ্বালিয়ে দেয় বাঙ্গালী মুসলমানের বংশ, বিচারপতি অন্য ধর্মালম্বী হওয়ার কারনে আওয়ামীলীগের ইসলামিক উইং ওলামা লীগ যখন মিছিল সমাবেশ করে। তখন মনে হয় অসাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মনিরপেক্ষতা বিশাল বিশাল একেকটা ঠুনকো মুখোশ। যা প্রয়োজনে পড়তে হয়, সব সময় খুলে রাখতে হয়। আমাদের সবার জীবনেই এইসব ভেক ধরতে হয়। ভান করতে হয় অসাম্প্রদায়িকতার, নিজেকে উদার ও সভ্য মানুষ হিসেবে প্রমান দিতে হয়। বস্তুত সবই সুযোগের অপেক্ষা, সামান্য সুযোগই আমাদের সব মুখোশকে পেট্রোল বোমার মতো পুড়িয়ে দেয়, বের করে আনে ল

ক্ষমাহীন প্রান্তর জুড়ে আমাদের বেঁচে থাকা!

এইসব জন্মদিন টন্মদিন আমার মোটেও ভালো লাগে না। খুব একটা ইঞ্জয়ও করিনা। তাও বছর ঘুরে আসে এসব দিন, আমার যেমন আসে ২০ শে জানুয়ারী, নিজেকে সেইসব দিনে কেমন জানি অযথা অযথা লাগে। আর বয়স নিয়ে ভাবলে হতাশ হয়ে যাই। বয়স একটা বোঝার নাম, হিসেবে আসবে আমার বয়স সাতাশ, আমার সবসময় মনে হয় আমার বয়স ১৭-১৮। অঞ্জন দত্ত কি আর এমনিতেই গানটা গাইছে, 'আমার বয়স বাড়ে, আমি বাড়ি না'। আমি আসলেই বুঝে উঠি না বয়সের লীলাখেলা। আমার এক কাছের বন্ধু বললো, এখনি এই দশা, সামনে কি করবো। আসলেই সামনে যে কি করবো তা ভাবতে বসলে মন খারাপ হয়। আসলেই তারুন্য কিংবা কিশোর কাল এক অসাধারণ জিনিস। তখন মনে হতো বড় হবো কবে? আর এখন মনে হয় বড় হয়ে হলোটা কি?