ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

বন্ধু 'প্রিয়'র জন্মদিন 'রিটার্নস'

পাক্কা ৩৬ দিন পর পোষ্ট লিখছি। এই ৩৬ দিনেই আমার লেখার মতো ৩৬টা পোষ্ট ছিল, আমি যেমন লিখি তেমন ভাবে অনেক কথা বলা যেত সেই সব পোষ্টে। কিন্তু লিখি না, লিখতে ভালো লাগে না। আর ব্লগে লেখাও ভালো লাগে না আর। অনেক তো লিখলাম আর কত?

উইথ গড অন আওয়ার সাইড!

বব ডিলানের অতি বিখ্যাত একটা গান। অনেকেই শুনে থাকবেন আশাকরি। গানটায় বলা হচ্ছে বিভিন্ন সময় গডের নাম ভাঙ্গিয়ে পৃথিবীতে মানুষ ধ্বংস করছে, লুটপাট করছে- প্রান ও প্রকৃতি। নানান সময়ে উসিলা একটাই, ঈশ্বরের নাম করে। ঈশ্বর আমাদের পক্ষে থাকবে এই কারনে কতজনকে আমাদের ঘৃণা করতে হয়। কত যুদ্ধ করতে হয়। বব ডিলান গানটার শেষে বলছে হয়তো দোযখে যাবো আমি, যাবার আগে আমি বলতে চাই গড যেন এবার মুখ ফিরে তাকায়। আর কোন যুদ্ধ যেন না হয়, আর যেন কোনো মানুষ না মারা হয় গডের নাম ভাঙ্গিয়ে। এবার গড আমাদের পক্ষেই যেন থাকে। গানটা আশাবাদের গান। আমারও আশাবাদ থাকে। কিন্তু আশাবাদী হবার মতো কিছুই নাই। সংযমের মাসে সংযম করে ৭০ গুন সওয়াব পাবার বিরতির- পরে আরেকজন ব্লগার খুন। আমি নিলয়কে চিনি না। কোনোদিন দেখছি বলেও মনে পড়ে না। বেচেঁ থাকতেই আমি নিলয়ের লেখা কোনোদিন পড়ি নাই, তাই ঘাতকদের ডজনখানেক কোপে নৃশংস খুনের পরে উনার লেখা পড়ার কোনো ইচ্ছে

নানু বাড়ীর গল্প

ঘুম আসছে না। দুপুরে বৃষ্টি ছিল। ভালো ঘুমিয়েছি। বাড়ীতে বৃষ্টি হলে কোনো টেনশন লাগে না। ভাবা লাগে না যে রাস্তা ঘাট ভেসে গেল নাকি। মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে ভাবনাও আসে না মাথায়। মনে হয় নামছে নামুক না। টিনের চালে ঝপঝপ শব্দ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি।দুটো শব্দ আমার খুব প্রিয়, এক আম্মু যখন সেলাই করে সেই মেশিনের শব্দ আর বৃষ্টির শব্দ ঢাকায় আগে যখন এক রুমের বাসায় থাকতাম, মাথার উপরে দীর্ঘ চার বছর ছিল টিনের চাল আর ফল সিলিং। গরমে কষ্ট হতো, কিন্তু বৃষ্টিতে যখন শব্দ শুনতাম কি যে ভালো লাগতো। আর বাড়ীতে ছাদ দেয়ার অবস্থা আমাদের ছিল কিন্তু আমার কারনেই দেয়া হয় নি এক যুগ আগে নতুন করে বাড়ী বানানোর সময়। কারন টিন আমার ভালো লাগে, মাথার উপরে টিন না থাকলে কি আর গ্রামের বাড়ীর ফিলিংটা আসে। আরতি মুখোপাধ্যায়, আমার এককালে কত ভালো লাগার শিল্পী। দেশটিভিতে লাইভ গাইছেন, সেই ভালো আর লাগে না। কারণ উনার বয়স হয়ে গিয়েছে, গলার সেই শার্পনেস

নীরব রাতের ভাবনা

জামালপুরে একটা জিনিসই আমার ভালো লাগে খুব। তা হলো এমন নিশুতি রাত। পিনপতন নিঃস্তব্ধ একা একা একেকটা মুহূর্ত। খুব আনন্দ লাগে এমন রাত গুলোতে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতে। হালকা বাতাস আসে, জানলার পর্দা সরে যায়, ঘুটঘুটে অন্ধকার, শেয়ালের ডাক, খারাপ লাগে না, মনে হয় এই বেশ ভালো আছি। যদিও রোজার দিনে একটু অসুবিধা, রাত দুটা থেকেই হুজুররা মসজিদে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়। এখানে অনেকে রাতে রান্না করে খায়, সেই সুবিধার্থে।আমার বিরক্ত লাগে, কিন্তু কিছু করার নাই। হুজুররা বারবার অনুরোধ করে ঘুম থেকে জাগুন, সেহরী খান। এমন একটা ভাব যেন মসজিদ সবাইকে খাওয়াচ্ছে। সময়ের শেষের দিকে শুরু হয় নতুন জিনিস, আহবান জানায়, জলদি খান, এখনি খান, আর মাত্র ১০ মিনিটে না খেলে রোজা রাখতে পারবেন না। হুজুরেরা জানে না যে সেহরী না খেলেও রোজা হয়। সেহরীতে দু বেলার খাবার এক সাথে খাওয়া কোনো ইসলামিক কালচারের অংশ নয়। তবে দেখতে দেখতে রোজাই শেষ।

হ্যাপি বার্থ ডে, মাই ডিয়ার তাতাপু!

অনেকদিন ব্লগ লেখি না। অনেকদিন মানে দু মাস। দুমাসে আমি পোষ্ট সংখ্যা ৩৩০ থেকে হয়তো ৩৫০-৩৬০ লিখে ফেলতে পারতাম। কিন্তু লিখতে ভালো লাগে না আর, লেখার সময় থাকলেও অন্য কাজ করে ভুলে যাই লেখার কথা। আজও যে খুব লিখতে ইচ্ছে করছে বলে লিখছি এমন নয়। লিখছি, পোষ্ট দিবো কারন আজ তানবীরা আপুর জন্মদিন। এই খবর খুব বেশী মানুষ জানার কথা না, আমিও জানতাম না- যদি দু বছর আগে বাসায় হুট করে গিয়ে দেখি কেক কাটা চলছে, তার চাক্ষুষ সাক্ষী না হতাম। এরপর এই দিনটার কথা মনেই রাখা যায়। আমার স্মৃতি শক্তি ভালোই, কোনো কিছু মনে রাখতে চাইলেই তা পারি। আগে আরো পারতাম এখন তা বয়সের কারনে কমেছে। আমি বই মার্ক করে পড়তাম না কখনো, কারন যা মনে রাখতে চাই তা সব না পারলেও বেশীর ভাগই মনে রাখতে পারি। তাই তানবীরা আপার জন্মদিন ২ বছর আগের সেই উপস্থিতির উসিলায় স্মৃতি থেকে মুছে যাই নি। তাই লেখার উপরে চরম অনীহা থাকার পরেও লিখছি কারন জন্মদিনটা তানবীরা আপুর

দাহকাল বলে যায় কালের খবর, বিষমাখা তীর থাকে বিষের ভেতর!

কাল প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলাম, মৃত্যু না হলেও দু চারটা হাড্ডি পাউডার হওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু আল্লাহর বিশেষ রহমতে, বিস্তৃত বন্ধু বান্ধবদের ভালোবাসায় ও মায়ের দোয়ায় কিছুই হয় নাই। শুধু মাথায় আর হাতে ব্যথা পেয়েছি যা প্যারাসিটামলেই নিরাময়ের পথে। এখন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা তেমন কিছু না, তবে যখন হলো সেইসময় কিছুটা হতভম্ব হয়ে বসে ছিলাম। কাল দুপুরে বাসায় ফিরছি এমন সময় নামলো বৃষ্টি রিমঝিম করে। বৃষ্টিতে ভিজতে তো হবেই। যত কম ভিজে বাসায় চলে যাওয়া যায়। এমন সময় পিসিকালচার হাউজিংয়ের চার নাম্বার রোডের ওখানে আছে, সরাইখানা সুইটস, তাঁদের দোকানের ট্রে রাখা ফুটপাথে, তার সাথে বারি খেয়ে পিছলে আমি রাস্তায় পড়ে যাই চিটপটাং হয়ে। আশেপাশে মানুষের ধারনা ছিল আমার মাথা ফেটেছে ও এবং হাত ভাঙছে। আমি মাথায় হাত দিয়ে দেখলাম রক্ত নেই, গা ঝাঁরা দিয়ে উঠে গেলাম, দেখি পুরো শরীর টনটন করছে ব্যথায়। সিনক্রিয়েট হবে অযথা তাই আল

নিতান্তই ব্যাক্তিগত!

রাতে আজকাল ঘুম আসে না। আগে তিনটার দিকেও ঘুম আসতো, এখন তাও আসে না। শরীরের ক্লান্তির সব ঘুম আসে দুপুর কিংবা বিকেলে। বিকেলে ঘুমিয়ে সন্ধ্যা সাতটা বাজিয়ে দেই অনায়াসে। আমার বন্ধু কামরুল ইসলাম সুখী মানুষ। সে বারোটায় ঘুমায়, বিছানায় গা এলানোর সাথে সাথেই নাকি তাঁর ঘুম চলে আসে। আমার এ জীবনে তা কখনোই হলো না, অসুস্থ না থাকলে যত ক্লান্তই হই বিছানার সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে ঘুমাতে হয়। এই সমস্যা অনেকেরই। আমার তাঁদের চেয়েও বেশী। তাই বিছানার সাথে যুদ্ধের সময়টুকু আমি বই পড়ে কাটাই, পড়তে ইচ্ছে না করলে মোবাইল নিয়ে গুতাই। ফেসবুক কিংবা ব্লগ দেখি। কথাই তো আছে, যারা মোবাইলে ফেসবুক চালায় তারা শুয়ে পরার আরো ২ ঘন্টা পড়ে ঘুমায়। মাঝে মধ্যেই আমার মাথায় ভাবনা আসে, বেঁচে থেকে লাভ কি?

ইংরেজী সাবটাইটেল।।

আজ যথেষ্ট গরম কম। বৃষ্টি হবে হবে করছে, বাইরে ব্যাপক বাতাস। আমি বাসাতেই বসে আছি। বাসাতেই আজকাল আমাকে থাকতে হয়। ভালো লাগে না কিছুই। বাইরেও ভালো লাগে না। বসে থাকি তো থাকি। আগে বাসায় অসময়ের বিছানায় শুয়ে থাকতে মেজাজ খারাপ লাগতো। এখন লাগে না। বিছানায় আছি তো আছি, না ঘুমিয়েই শুয়ে আছি। বসলেই প্যারা শুরু, ফেসবুকের নিউজফিড দেখার প্যারা, দিনের পর দিন নতুন ইস্যু নিয়ে মেজাজ খারাপ- খবর টবর জানার প্যারা, বিনোদনের জন্য ইউটিউবে গান দেখার প্যারা, সিনেমা দেখার প্যারা। নতুন পোলার আইস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের মতো বলি, পিসির সামনে বসলেই প্যারা অন!

সুনাগরিকের ভোট কার্যক্রম

ছোটবেলায় পরিবেশ পরিচিতি সমাজে পড়েছিলাম রাষ্ট্রের নাগরিকের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য। যারা তা পালন করে তাঁদের সুনাগরিক বলে। সুনাগরিকের অনেক কাজের কয়েকটা হলো রাষ্ট্রের আইন কানুন মেনে চলা ও ভোটে অংশগ্রহণ। ভোট নিয়ে আমার ছোটবেলা থেকেই যথেষ্ট ফ্যান্টাসি। বড়রা ভোট দেয়, আমিও একদিন বড় হবো, খুলনা নেভী স্কুলে আলম আরা ম্যাডামের আঙ্গুলে দেখতাম দাগ, আমি প্রশ্ন করেছিলাম ম্যাডাম কাকে ভোট দিলেন?

আমি যাকে ভালোবাসি-- কবীর সুমন

এই গানটা আমার অসম্ভব প্রিয়। বিশেষ করে যে রাত গুলোতে এমন ঝড় ঝড় ভাব হয়, কারেন্ট আসে যায়, ঘুম আসছে না। তখন আমি টানা শুনেই চলি এই গান। বিশেষ করে জামালপুরে, সেখানে আগে আগে শুয়ে পড়তে হয়, বই পড়তে পড়তে টায়ার্ড লাগে তখন এই গান শুনি, শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি। অবশ্য সব সুমন ভক্ত আমার মতো না। যেমন আমার বন্ধু জেমসের ঘুমানোর গান হলো কবীর সুমনের আরেকটা গান 'কাঙ্গালপনা; কিংবা 'ঘুমাও বাউন্ডুলে ঘুমাও এবার'। অঞ্জন দত্তের আবার আরেকটা। উনি সুমনের 'তিনি বৃদ্ধ হলেন' শোনা ছাড়া ঘুমোতে পারেন না বলে এক ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম। তুলনাহীন এক প্রতিভা সুমন চাট্টুজ্যের। চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত বলেছিলো, সকাল সকাল ব্রাশ করতে করতে সুমন দাদা যা লিখেন, তা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেন। সেই ফেলে দেয়া ঝুড়িতে যা আছে ওরকম লেখা অনেক মানুষ সারাজীবনে লিখতে পারে না। উনার অনেক গানই তো দারুন, এই গান তবুও নিশুতি রাতে শুনতে আমার ভালো লাগে।

ভোট চাই ভোটারের, দোয়া চাই সকলের!

গত পাঁচ বছর ধরে একটা কাজ আমার খুব নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে করে যেতে হয়, তা হলো কাপড় ধোয়া। যদিও কাজটা অনেকের জন্য খুব সহজ, কিন্তু এই সাতাশ বছর বয়সের ভুড়িওয়ালা মধ্যবিত্ত শরীরে তা করতে করতে ক্লান্ত লাগে। মামী বলে আমি করে দিচ্ছি মামা, আপনি কাপড় গুলো দেন, তাও দেওয়া হয় না। নিজের কাপড় আম্মু ছাড়া কেউ ধুয়ে দিবে ব্যাপারটা খুব বেদনার। আবার বুয়ার ভরসায় থাকলে সেদিন বুয়াই আসে না। এই সামান্য ঘটনাতেই বুঝি আম্মু কত দারুণ, সংসারের শত কাজ করেও আমার কাপড় ধুয়ে দিতো অবলীলায়। কাপড় করতো ঝকঝক, মাঝে মধ্যে শুধু কাজ বেশী থাকলে বলতো, জমিয়ে রাখ কাল পরশু ধুয়ে দিবো। মামা তো আদর করেই, মামীও যথেষ্ট মামার মতোই। খুবই যত্ন আত্মিতে থাকি, দিনকাটে স্মুথলি। আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভুড়ি কারন খাই দাই- ঘুমাই -বই পড়ি- সিনেমা দেখি- বাসাতেই থাকি। দিনের পর দিন বাইরে যাওয়া এখন কম। পুলক ঢাকার বাইরে, আবীর চিটাগাং, জেমস অফিসের কাজে ব্যস্ত, ছোট ভাইদ

কিছুটা শোক বাকীটা অভিনয়

আতিক মারা গেলো। না কেউ উনাকে মারে নি কিংবা কেউ হত্যার হুমকিও দেয় নি। তিনি মারা গেলেন শারীরিক অসুস্থতায়। বয়সে আমার চেয়ে দু তিন বছরের বড় হবে। সাধারন মানুষ, পড়াশুনা করে নাই, দুইটা বিয়ে করেছেন, কাজ করেন মুলত রড মিস্ত্রি হিসেবে। উনাকে আমার চেনার কথাও না। চিনি মুলত উনি আর আমি এক দোকানে চা খাই বলে, উনি মাঝি সাহেবের আদরের ছোট সন্তান বলে, আর উনি খালি গায়ে সব সময় ঘুরতেন বলে কিংবা সারা শরীরে উনার অনেক কাটা ছেড়ার দাগ আছে বলে। এই তো সেদিন ভারত- বাংলাদেশের ম্যাচের দিনও উনার সাথে বসে ছিলাম খেলা দেখতে। আমি জিগ্যেস করেছিলাম, আপনি রোদে কেন?

সীমাহীন নির্লিপ্ততা!

কোরিয়ান থ্রিলার ঘরনার মুভিগুলা খুব ভালো হয়। টানটান উত্তেজনা। তবে শিউর থাকবেন বড় চরিত্রের কেউ না কেউ মরছে, কারন জীবিত রেখে থ্রিলার শেষ করার মতো আইডিয়া তাঁদের এখনো মাথায় আসে না। ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে জবাই করার তিনদিন পর আমার খালি মনে- পথের পাশে অনেক আগে যে পোষ্টার দেখতাম, ডিপজল বিশাল রাম দা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, রক্তাক্ত পাঞ্জাবী লুঙ্গি। এমন একটা ভাব- সবাইকে কোপানোর জন্যই তাঁর এই সিনেমায় অংশগ্রহন। আমার এখন শুধু মনে হয়, এরকম কোনো ডিপজল, কোরিয়ান থ্রিলারের মতো নিখুঁত ভাবে, তামিল সিনেমার রগরগে খুনের দৃশ্যের মতোই আমাদের সবার সামনে উপস্থিত। কেউ দেখছি, কেউ দেখছি না, আর বেশীর ভাগ ভাবছি আমার কিছু হবে না। এখন এই যুগে আমার কিছু হবে না এইটা ভাবা কত বড় অন্যায় তা আরেকবার প্রমান দিলেন ওয়াশিকুর রহমান বাবু। তিনি আমার আপনার মতো সাধারণ, সাধারন লেখা লিখতেন, কিছু তর্ক করতেন ধর্ম নিয়ে, আশেপাশের কেউ জানতেনই না তিনি ব

আহমদ ছফার কালজয়ী স্মৃতিকথা- ঢাকায় যা দেখেছি যা শুনেছি।

এই প্রবন্ধটা আমার সর্বপ্রথম পড়া হয় মুক্তধারার এক বইতে। বইটার নাম ভুলে গেছি। গুগলে সার্চ দিলে যে নাম আসে, সেই নামে না, আরেকটা নাম ছিল। তারপর এই লেখাটি শেষ যে বইয়ে ছাপা হয়েছিল- সেই বইয়ের নাম ‌'আহমদ ছফা সঞ্জীবনী' লেখক সলিমুল্লাহ খান। সম্পাদক আবুল খায়ের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান। আগামী প্রকাশনী। প্রকাশ কাল: ফাল্গুন ১৪১৬, ফেব্রুয়ারি ২০১০। বইটা আমার শেলফে এখনো ঝলঝল করে। আমার দেখা ১৯৭১ সালের মার্চের শেষ সপ্তাহের নারকীয় গনহত্যা নিয়ে লেখা দেশীয় কোন লেখকের সেরা প্রবন্ধ। ঢাকায় কিভাবে গনহত্যা চলেছে- মানুষ মারা হয়েছে- শুরুর দিকে তার মর্মস্পর্শী বিবরন পাওয়া যাবে এতে। আমি এই প্রবন্ধটা অনেকদিন আগেই নিজে টাইপ করে লিখে রেখেছিলাম। পিসি নষ্ট হয়ে তা হারিয়ে যায় পরে একজনের নোট থেকেও সেইভ করে রেখেছিলাম বছর দুয়েক আগে। আজ হুট করেই আহমদ ছফার এই মেলায় প্রকাশিত, 'হারানো লেখা' বইটা রিভাইস দিতে বসলাম। ভাবলাম এই প্রবন্ধ থেকে

গার্হস্থ্য জীবনযাপন!

চারিদিকে এখন ক্রিকেট। এত ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা সবাই করছে, কদিন পরে আমাদের গায়েই ট্যাগ লাগবে-- বাঙ্গালী ইট ক্রিকেট, ড্রিম ক্রিকেট, লাভ ক্রিকেট। যেখানে যাই, যার মুখের দিকেই তাকাই, ব্যস্ত আড্ডায় উকি মারি, ক্রিকেট ছাড়া আলোচনা নাই কোনো। ক্রিকেটের আলোচনা সবাই করে সে রিকশা চালক আইনুল হোক আর ড্রাইভার জসিম হোক, নর্দানের ছাত্র বাবু হোক আর কোটিপতি শান্ত ভাই হোক কিংবা বন্ধু আদনানের বঊ রুমু ভাবীই হোক না কেন, মুক্তি নাই। আমাকেও করতে হয়। আমি খারাপ করি না। ক্রিকেট নিয়ে আমার জানাশোনাও কম না। কিন্তু প্যাচাল পারতে ইচ্ছে করে না সবসময়। এক কালে ক্রিকেট অনেক আবেগের জায়গা ছিল, যার খেলাই হোক টিভিতে মিস হতো না, এখনো তা আছে, তবে মাত্রা কমেছে। দিনশেষে ক্রিকেট একটা খেলাই। ক্রিকেটে ওয়ার্ল্ডকাপ পেলেও বাংলাদেশ, বাংলাদেশই থাকবে, ইংল্যান্ড হবে না। তবুও বাংলাদেশের বেলায় আমার আর এইসব এত মনে থাকে না। বাংলাদেশের পরাজয় দিনশেষে আম