ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

প্রতিদিনের বেঁচে থাকায় কেটে গেল এই জীবন!

আমাদের স্কুলে অথবা কলেজে কোনোদিন স্বরসতী পুজো হয় নি। তাই আমার জানা নাই তা কেমন হয়। তবে আজ রাস্তায় প্রচুর শাড়ী পরিধান করা উর্বশীদের দেখে মনটা কেমন জানি করলো। অনেক জায়গাতেই ঢাকায় আজ আয়োজন ছিল। ভালোই, দেশে অসাম্প্রদায়িকতার বাতাস আমাকে আলোড়িত করে। কিন্তু আজ পত্রিকাতেই দেখলাম সংসদ প্লাজায় পূজা যখন হয়েও হয় না, দিনাজপুরে আদিবাসীদের ঘর জ্বালিয়ে দেয় বাঙ্গালী মুসলমানের বংশ, বিচারপতি অন্য ধর্মালম্বী হওয়ার কারনে আওয়ামীলীগের ইসলামিক উইং ওলামা লীগ যখন মিছিল সমাবেশ করে। তখন মনে হয় অসাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মনিরপেক্ষতা বিশাল বিশাল একেকটা ঠুনকো মুখোশ। যা প্রয়োজনে পড়তে হয়, সব সময় খুলে রাখতে হয়। আমাদের সবার জীবনেই এইসব ভেক ধরতে হয়। ভান করতে হয় অসাম্প্রদায়িকতার, নিজেকে উদার ও সভ্য মানুষ হিসেবে প্রমান দিতে হয়। বস্তুত সবই সুযোগের অপেক্ষা, সামান্য সুযোগই আমাদের সব মুখোশকে পেট্রোল বোমার মতো পুড়িয়ে দেয়, বের করে আনে ল

ক্ষমাহীন প্রান্তর জুড়ে আমাদের বেঁচে থাকা!

এইসব জন্মদিন টন্মদিন আমার মোটেও ভালো লাগে না। খুব একটা ইঞ্জয়ও করিনা। তাও বছর ঘুরে আসে এসব দিন, আমার যেমন আসে ২০ শে জানুয়ারী, নিজেকে সেইসব দিনে কেমন জানি অযথা অযথা লাগে। আর বয়স নিয়ে ভাবলে হতাশ হয়ে যাই। বয়স একটা বোঝার নাম, হিসেবে আসবে আমার বয়স সাতাশ, আমার সবসময় মনে হয় আমার বয়স ১৭-১৮। অঞ্জন দত্ত কি আর এমনিতেই গানটা গাইছে, 'আমার বয়স বাড়ে, আমি বাড়ি না'। আমি আসলেই বুঝে উঠি না বয়সের লীলাখেলা। আমার এক কাছের বন্ধু বললো, এখনি এই দশা, সামনে কি করবো। আসলেই সামনে যে কি করবো তা ভাবতে বসলে মন খারাপ হয়। আসলেই তারুন্য কিংবা কিশোর কাল এক অসাধারণ জিনিস। তখন মনে হতো বড় হবো কবে? আর এখন মনে হয় বড় হয়ে হলোটা কি?

শর্টপিচ

টানা অবরোধের দিনগুলো কাটছে এই ক্রিকেট নামের কলংক 'শর্টপিচ' খেলে খেলে। মাঠ মোহাম্মদপুরে সংখ্যায় কম না, কিন্তু পাওয়া যায় না খালি, আর যা খালি পাওয়া যায় তা টাকা দিয়ে ভাড়া নিতে হয় নয়তো ক্ষমতাসীনদের লবিংয়ে পেতে হয়। তাই সোসাইটি ১১র প্লটে আমার নিজেরা নিজেদের মতো খেলি, ছোট সীমানায়, ছয় মারলে আউট, চার পাঁচ ম্যাচ খেলা যায়, হাত না ঘুরিয়ে বল করার শর্ট পিচ। খেলতে নেহায়েত মন্দ না। মাঝে মাঝে ম্যাচ খেলি ক্লাস নাইন টেনের ছেলেদের সাথে। আমাদের মতো এমেচার বড় ভাইদের সাথে তারা পেরে উঠে না। আমি- পুলক- আবির- শারান- অনিক- রাসেল, দারুন টিম। যত বার ক্রিকেট খেলে গায়ে একগাদা ধুলো নিয়ে বাসায় ফিরি, ততবার মনে হয় বয়স সেই ষোলো সতেরোতেই আটকে আছে, মাঝখান দিয়ে ১০ বছর কোন পথ দিয়ে নিমিষে হারিয়ে গেল টেরই পাই না। বিএনপির অবরোধে দেশ পুড়ছে, আমাদের কাজ একটাই সকাল বিকাল খেলা আর সন্ধায় বারেকের দোকান চাপা পিটানো।

দ্রুতগামী সময়, মায়ার খেলা!

অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু লিখবো লিখবো করেও আর হয়ে উঠে না। আর যখন লেখার জন্য বসি তখন মনে হয় জমে থাক কথা, সব লিখে লাভ কি। কিন্তু আজ আমি লিখবোই। একটা বিশাল পোষ্ট লেখার ইচ্ছে। কারন আমার কত বন্ধু আছে যারা এক লেখাই সাতদিন ধরে লিখে, ড্রাফট করে, শেষে আর লেখাটা ব্লগে তো থাক কোথাও আলোর মুখ দেখে না। আমি অবশ্য সেরকম না। আমি তাৎক্ষনিক স্বকীয়তায় বিশ্বাসী। যা যখন ভাবি, তাই নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে। সেই ভাবনা শেষ, লেখার তেমন ইচ্ছেও থাকে না। তবে এখন সেই অবস্থার সামান্য চেঞ্জ আনার চেষ্টায় আছি, কিছু লেখার বিষয় জমিয়ে রেখে, এক সাথে এক পোষ্টে তা লিখে দেয়া। দেখা যাক কত দূর কি হয়!

ক্যালেন্ডারে বাঁধা দিনরাত্রীর অযথা হিসাব নিকাশ!

প্রায় গোটা বিশেক দিন পর পিসির সামনে লিখতে বসলাম। পিসিটা নষ্ট ছিল আজ ঠিক করে আনলাম, ভালোই টাকা চলে গেল- তবে খুব আনন্দ পাচ্ছি, কেন তা জানি না। কারন হতে পারে, ব্লগ লিখতে ভালো লাগে। লেখা শেষ করে অনলাইনে প্রকাশ করার একটা আনন্দ আছে। সেই আনন্দ আগেও পেতাম এখনও পাই। বন্ধুরা পড়ে, কেউ কেউ অভিমত জানায়। এতোটুকুই তো। পত্রিকায় ঢাউস ঢাউস সম্পাদকীয় লিখেও তো মানুষ সেই লেখা পড়ে না। কোনো মহান সাহিত্য কর্ম তো আর ব্লগ লিখে সম্ভব না, আর গল্প কবিতা লেখার মতো প্রতিভাও আমার নাই। তবে গত দু চার মাস ধরে আমার সচলায়তনের ফরমেটে অনুগল্প লিখতে ইচ্ছে করে খুব। কয়েকটা লিখেছিও, কিন্তু বই পড়ার নিদারুন অভ্যাস থাকার দরুন, কোনটা কেমন লেখা তা নিয়ে ধারনা করতে পারি। নিতান্তই অখাদ্য কয়েকটি গল্প হয়েছে, তাও আমি অবশ্য আশাবাদী যে খাতা কলম নিয়ে লিখতে তো বসছি। একদিন না একদিন, একটা না একটা পাঠযোগ্য লেখা লিখেই ছাড়বো।

শীতকালীন অবকাশ

মিশন সাকসেস ফুল। গুরু দত্তের অভিনীত ও পরিচালিত সব সিনেমা দেখা শেষ। বাজি ধরে বলতে পারি-- এই শতাব্দীতে উনার মতো পরিচালক আর হিন্দি সিনেমায় আসবেন না। ১০ অক্টোবর ১৯৬৪ সালে দেদারছে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর আগেও নাকি তিনবার ট্রাই করেছিলেন সুইসাইডের। তাঁর বন্ধু আবরার আলভির সাথে প্রচুর আলাপ করতেন আত্মহত্যা নিয়ে। piyaasa ও kaagaz ke phool বানিয়েও তিনি নিজেকে নিয়ে দম্ভ করতেন না মোটেও। বলতেন-"Life mein, yaar, kya hai? Do hi toh cheezen hai – kamyaabi aur failure. There is nothing in between.

খুব প্রিয় মানুষদের জন্মদিনে!

যদিও আজ বাংলাদেশে খুব একটা সুখের সময় না। প্রথমত আজ বুদ্ধিজীবি হত্যা দিবস। পুরো ৭১ জুড়েই মুলত বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ঘটেছে নারকীয় কায়দায়। এই দিনে অনেককে ধরে নিয়ে গেছে শেষ মরণ কামড় হিসেবে। যে সব বুদ্ধিজীবিরা শহীদ হয়েছেন তারা বেঁচে থাকলে দেশটা অন্যরকম হলেও হতে পারতো, এই বিশ্বাস আমার সব সময়ের। প্রত্যেকটা শহীদ বুদ্ধিজীবিকে নিয়েই যখন পড়ি মনে হয়, এরকম মানুষের কত দরকার ছিল এখন। কিন্তু হায় তারা সব বছরের ১ দিনের স্মৃতির জন্যই আমাদের মনে বেঁচে থাকে। শুধু সেইসব বুদ্ধিজীবি না এখনো সাম্প্রতিক সময়ে যারা গুম হয় কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনী অথবা সন্ত্রাসীর হাতে খুন হয় তাঁদের সবার পরিবারের জন্য ভীষন মন খারাপ হয়। সারা জীবন তপস্যা করলেও তো সেই পরিবারের কাছে নিহত স্বজনরা ফিরে আসবে না আর, এটা কত বড় শোকের তা আমরা বুঝবো না। তাই তা নিয়ে লিখে আমার আর কি হবে। এমনিতেও লেখা নিয়ে বড় চিন্তায় আছি। নোটবুকের মাদারবোর্ড নষ্ট, আজ গ

হারিয়ে গেল দিনগুলো, কুয়াশায়!

শহরেও আজকাল কুয়াশা প্রচন্ড পড়ে। দুইদিন আগের রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে যখন এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম ফোনে দেখি কুয়াশা আর আলোর খেলায় অদ্ভুত লাগছে চেনা জানা রাস্তাটা। সব ফাকা ফাকা আর ঝাপসা। একটা বিশাল গাছ ছিল সামনের বিল্ডিংএর সামনে, কেটে ফেললো কিছুদিন আগে। চোখ কেমন জানি মানিয়ে নেয় সব কিছু, এখন যখন দেখি তখন মনে হয় এখানে কখনোই গাছ ছিল না। সবই মনের ভুল। এরকম আরো হয়, কোনো একটা কিছুর পরিবর্তন হয় তখন খুব মন খারাপ হয়। পুরো শহরকে গালাগালি করি, সিষ্টেমের বাপ মা তুলে পিন্ডি চটকাই, কিন্তু অন্য সবার মতোই কিছুদিন পরেই অভ্যস্ত হয়ে যাই, মনে হয় সব তো ঠিকই আছে। বেমালুম ভুলে যাই আমার আগের সংক্ষুব্ধতার কথা। চোখের সামনে হাউজিং সোসাইটির আট নাম্বার রোডে আটটা নতুন দোকান হলো। পুলকদের বাড়ী বাদে সবাই নিচ তালা ভেঙ্গে দুটা তিনটা করে দোকান করছে। প্রথম প্রথম দেখতে অসস্তি লাগতো, কি গিঞ্জি, একমাসের মধ্যে মনে হচ্ছে ঠিকই আছে, ব্যব

বয়ে গেছে সময় নিজের খেয়ালে।

ব্লগ লিখতে আজকাল আমার মোটেও ভালো লাগে না। তাই লেখার অফুরন্ত সময় পাওয়ার পরেও আমি এখন আর লিখতে বসি না। তাও এখন লিখছি কেন, নিজেই জানি না। আমার ভেতরে সবার মতো অসংখ্য ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরন অবিরাম খেলা করে। তারই ফসল হয়তো এই লেখাটা। অনেক লিখলাম তাই এখন আর লিখতে ইচ্ছে করে না ব্লগ। তাঁর ভেতরে এই ব্লগের, একে একে নিভছে সব দেউটি। আগের ব্যাক্তিগত অনুপ্রেরনাও পাই না যে চোখ বন্ধ করে, ভুলবাল সমানে লিখে যাবো। তাও এই পোষ্ট লিখছি, যদি লিখে শেষ করতে পারি তবে তা প্রথম পাতায় দিবো না। তবে সব যে নিরাশার কথা তা না, কিছু নতুন ব্লগারদের দেখছি, পোষ্ট লিখছে ভালো, কমেন্ট করছে। তাঁদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। ভালো লাগুক তাঁদের এই ব্লগটাকে, লিখুক হাত- প্রান খুলে।

থ্রি হান্ড্রেড এন্ড মোর!

কালকেই আবিষ্কার করলাম আমার পোষ্ট সংখ্যা ২৯৯, অবাক হচ্ছিলাম। কিভাবে সম্ভব হলো এই জিনিস?

What A Wonderful World!

আজ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই আমার লুইস আমস্ট্রংয়ের এই শিরোনামের গানটার কথা মনে পড়লো। জলদি ঘুম থেকে উঠেই গানটা শুনলাম টানা। মাদাগাস্কার মুভির কারনেই এই গানটা আমার শোনা। যতবার এইসব টুকটাক অসুখ বিসুখ থেকে শরীর ভালো হয়, ততবারই আমি এই গানটা গাই,যদিও স্মৃতিভ্রষ্টতার কারনে আর লিরিক মনে থাকে না। ইংরেজী গানের কথা মনে রাখা বড়ই কষ্টের, এই বয়সে এত কষ্ট করতে মনে চায় না। তানভীর নামের এক বন্ধু ছিল ক্লাস নাইনের, কই থেকে নানান পদের ইংরেজী গান মুখস্থ করে এসে আমাদের কাছে ঝেড়ে দিত, আমরা অবাক হতাম। কারন বাংলা গান শুনে মনে রাখা খুব কঠিন কিছু না, কিন্তু বইদেশী ভাষার গান টেপরেকর্ডারের মতো গেয়ে চলা যথেষ্ট কামেল ব্যাপার। বিবিসি বাংলায় মেহের আফরোজ শাওনের ইন্টারভিউ হচ্ছিলো শুনলাম অনলাইনেই। সেখানে স্যার শাওনকে টেপরেকর্ডার বলে ডাকতেন, কারন শাওন নাকি এক গান জাষ্ট একবার শুনেই সেরকম ভাবে গেয়ে ফেলতে পারতেন। আমি মনে মনে হাসছি

এ ট্যুর টু রিমেম্বার!

আমার বেশীর ভাগ পোষ্টই কিছুটা উদাস উদাস ভাব থেকে লেখতে বসা শুরু হয়। অথচ আজ পোষ্ট লিখছি খুব মন ভালো থেকে। এরকম মন ভালো থাকার দিন খুব বেশী আসে না আমার জীবনযাপনে, এক ভালো সময়ের ঘোরের ভেতরে আছি। যদিও শরীরটা ভালো না, টানা জার্নির ধকলে কিছুটা টায়ার্ড, তারপর আমি আবার বাসে ঘুমাতে পারি না। তাই কেমন জানি শান্তি লাগছে না শরীরে। জ্বর আর ঠান্ডায় খুব কাহিল কাহিল লাগছে। তবুও শেষ পর্যন্ত মন যেহেতু ভালো খুব তাই এসব টুকটাক অসুবিধায় কিছু যায় আসে না। এই শরীর খারাপ নিয়ে মশার কামড় খেতে খেতে লিখছি এই লেখা। একলা অবসরে আমার ভাবনার প্রিয় বিষয় এ যাবতকালে ব্লগে ব্লগে কি লিখলাম, ভাবতে ভাবতে নানান টুকরো স্মৃতি মনে আসে। সময় যখন আরো চলে যাবে জীবন থাকে, তখন মন হবে এইসব ব্লগে লিখে রাখা টুকরো স্মৃতিগুলোই বেঁচে থাকার আশ্রয়। কারন স্মৃতিশক্তি ক্রমশ প্রতারণাপ্রবণ, সব কিছুই গুলিয়ে দেয়। মনে হয় সব কিছুই ভাসাভাসা, অথচ এই পোষ্টগুলো

আটপৌরে দিনগুলো!

ঝুলছে একটা পোষ্ট, প্রথম পাতার দেয়ালে। নিজেকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজী না করতে পেরেই এই পোষ্টটা লিখছি। তবে আদৌ নিশ্চিত না যে পোষ্টটা প্রথম পাতায় দিচ্ছি কিনা। তাও লিখছি, লিখতে তো কোনো দোষ নাই। অদ্ভুত এক দিন কাটলো আজ। সাধারণের ভেতরই অসাধারণ। এমন না যে খুব সিগনিফিকেন্ট কিছু ঘটছে বা করছি, তবুও দিনটা খুব ইন্টারেষ্টিং ভাবে কাটলো। এরকম ইন্টারেষ্টিং দিন আগে সমানে কাটাতাম, এখন কালে ভদ্রে আসে। টিভিতে একটা এ্যাড দেখায়, রোশন সাহেব বলেন কোন সুগন্ধি ইউস করতে আর তা করলেই নাকি হবে বি ইন্টারেস্টিং। আমি অবশ্য কোনো সুগন্ধিতে নাই, গায়ে ঝপজপা ঘামের গন্ধই আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। নতুন বইয়ের পাতার ঘ্রান আর সুবাস ছড়ায় এমন ফুল ছাড়া, আর কিছুই ভালো লাগে না নাকে। তবে আমার যে বন্ধু ছিল, যার উপরে কিশোর বেলার প্রেম প্রেম ব্যাপার ছিল তাঁর গায়ের গন্ধ খুব আকর্ষণ করতো। রিকশায় কিংবা এক সাথে যখন বসে থাকতাম, কোচিংয়ে পাশে বসে আড্ড

এইভাবে রাত নামে, শহরে শীতের টান বাড়ছে!

সকাল থেকে ভাবছিলাম হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে। কয়েকদিন আগে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকা শহর, ৬৬ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে। আমার ভাবনার পয়েন্ট ছিল, মাত্র ৬৪ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন, আমি তো কত অকম্ম মানুষদের দেখি, যারা সত্তর আশি বছর বেঁচে থাকে মূর্খ ও হতাশ জীবন নিয়ে, হয়তো তাঁদেরও বেঁচে থাকতেও ভালো লাগে না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ কঠিনভাবে জীবনকেই ভালোবাসতেন। আপসোস করে বলতেন, কচ্ছপ নামের প্রানীর আয়ু ৩০০ বছর, আর মানুষ নামের শ্রেষ্ঠ জীবের আয়ু ৫০-৬০, ঈশ্বরের এই ব্যাপার স্যাপার মেনে নেয়া কষ্টের। ছেলের সাথে ছবি তুলতে চাইতেন, কারন ধারনা ছিল ছেলে হয়তো তাঁকে ভুলে যাবে। মৃত্যুর পর সবাইকে জীবিতরা ভুলে যায়। আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, কলোনীর শোয়েব নামের এক ছেলের বাবা মারা যায়। প্রায় সমবয়সী সে দুদিন পরেই ক্রিকেট খেলতে আসে। আমি আর আমার বন্ধু আক্তার অবাক হয়ে ভাবতাম, কিভাবে পারে খেলতে যার বাবা কোনোদিন ফ

কেউ চায় না দলছুট শূন্য হোক, এই বাস্তব সব্বাই আঁকড়ে থাক!

খোশমেজাজেই ছিলাম। মামা নেই বাসায়, নেটের স্পিড নেই, ওলোর প্যাকেজ নাই, পকেটে টাকা নাই, তাই টিভি ভরসা। কিন্তু সবকিছুকে স্পয়েল করে দিতে ফেসবুকের কোনো বিকল্প নাই। সেখান থেকেই জানলাম, খুলনা নেভী স্কুলের সন্ধ্যা ম্যাডাম মারা গেছেন। মনটা উদাস হলো। টাইম ট্রাভেলে চলে গেলাম সতেরো- আঠারো বছর আগের দুপুর গুলোয়। ক্লাস ফোরের পরিবেশ পরিচিতি সমাজের মতো নিরীহ বিষয়কে আমাদের জন্য দুর্বোধ্য করে তুলতেন তিনি। লাইন বাই লাইন পড়া ধরতেন, এবং পড়া না পারলে শাস্তি বেঞ্চের উপরে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকো। সে এক কঠিন সময়, ম্যাডাম খাতায় কত কি ঠিক লিখেও নাম্বার দিতেন ৬৫-৬৬, কাউকে বা করাতেন ফেইল। আমাদের প্রথম স্থানের অধিকারী বর্তমানে ফ্লোরিডার এক ভার্সিটির টিচার শাহারিয়ারের নোট পাবার জন্য সবার তখন কি আকুলতা!