ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

হলপ্রিন্ট (১)

রিসেন্ট টাইমে সানি লিওনের এক সিনেমার উদ্ভট এক গান আছে, নেচে গেয়ে নায়িকা বলে যায় সেখানে যার বঙ্গানুবাদ হলো 'এই দুনিয়া পিতলের', তাই এই পিতলের দুনিয়ায় ক্রিকেটে হার জিতে আর কি হবে! আমি অবশ্য আজ খেলার আগে থেকেই জানতাম কেন জানি বাংলাদেশের জয় হবে না, কারন হংকং এর কাছ থেকে হারের পর থেকে আমার মন কেন জানি উঠে গেছে, টিটুয়েন্টির নাম শুনলেই জিদ উঠে যায়। লোকজনের মুখে গল্প শুনি, কত টানটান ম্যাচ ছিল তার বর্ণনা শুনি, পত্রিকায় টূকটাক দেখি খবর এতটুকুই আমার পার্টিসিপেশন এবারের দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ব্যাপারে। আর মাঠে যাওয়া দুরের ব্যাপার, দেড়শো টাকার টিকেট ব্ল্যাকে পুলাপান বিক্রি করছে তিন চার হাজার টাকায়। আমি চিনি এমন অনেক ছেলেকে যারা মাঠে গিয়ে খেলা দেখে স্রেফ গার্লফ্রেন্ডের আবদার মেটাতে,ভাগ্যিস প্রেম পীরিতের বাজারে আমি নাই, থাকলে খেলা দেখাতাম কিভাবে? মানুষকে ঠেক দিয়ে টাকা আনতে হতো!

মন তার যতই নাচায়, যে পাখির বাঁচাই খাঁচায়, সেই বোঝে ভাঙা কত কঠিন।

শিরোনামের লাইনটা যথারীতি আমার মাথা থেকে উৎপত্তি না, উৎপত্তিস্থল শিলাজিতের গান, 'স্বাধীনতা' থেকে নেওয়া। গানটা আমার যেকোনো দিনই অসম্ভব প্রিয়, কি অসাধারণ লিরিক। প্রথম দু তিন লাইন এমনঃ 'তুমি হায় বুঝবে কি ভাই, ফুরফুরে দিন কেটে যায়, বোঝাচ্ছো স্বাধীনতার মানে/ যে অধীন দিনে রাতে, বুলেটে যে বুক পাতে, সে বুঝেছে স্বাধীনতার মানে!' আসলেই আমরা কতটুকু বুঝি এই স্বাধীনতার? আহমদ ছফার একটা কথা খুব মানি, যে গত দুই হাজার বছরের বঙ্গ অঞ্চল কিংবা বাঙ্গালীর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো একটা রাষ্ট্র স্বাধীনতা যুদ্ধ করে পাওয়া!

আই হ্যাভ ট্রাইড ইন মাই ওয়ে টু বি ফ্রি!

শিরোনামটা আমার না, মহাত্মা লিওনার্ড কোহেনের। এরকম অসাধারণ সংরাইটার, সিঙ্গার, আমার চোখে আর পড়ে নাই। তাঁর গান না শুনে, শুধু লিরিকস পড়লেই সুখ। মনে হবে সুনীলের কবিতা পড়ছেন। আমি অবশ্য উনার নাম শুনেছি বন্ধুবর জেমসের মুখেই। সে আবার এই কানাডা নিবাসী মহাত্মার নাম শুনেছে কবীর সুমনের কোন লেখায় পড়ে। রাত তিনটাতেও আমার ঘুম আসে না যখন, তখন আমার সংগী লিওনার্ড কোহেনের বারোটা গান। কি যে অসাধারণ লাগে মনে হয় আমার মনের শান্তির জন্যই লেখা। উনার সিস্টার অফ মার্সি গানের সুর ও কথার অনুপ্রেরনাতেই অঞ্জন দত্তের অসাধারণ গান 'শুনতে কি পাও'। তার 'বার্ড ওন দ্যা ওয়ার; এর কিছুটা প্রভাব পাবেন অঞ্জন দত্তের আরেক বিখ্যাত গান 'আমি বৃষ্টি দেখেছি' তেও। আর কবীর সুমনের গানেও দেখবেন কিছুটা কোহেনের নিরাসক্তিময় ছন্দময় শব্দের ব্যাপার গুলো আছে। তা থাকুক, আমি লিওনার্ড কোহেনের সব গান শুনি নি এখনো। যে গোটা দশেক শুনছি তাতেই আসক্তি হচ্ছে, শু

এখন চৈত্র মাস!

পত্রিকার দোকানে গিয়ে দেখি ঝলমল করছে ম্যাগাজিন মৌচাকে ঢিল, তাদের চৈতালি ভালোবাসা সংখ্যা নিয়ে, দোকানদার আলাউদ্দীন ছেলেটা কোনো অদ্ভুত কারনে আমাকে খুব ভালো পায়। আমার জন্য আনন্দলোক, ক্রীড়ালোক, কালি ও কলম রেখে দেয়, যখন তখন পত্রিকা বাকীতে দেয়, রাস্তা ঘাটে যেখানেই দেখা হোক দাঁড়িয়ে কথা বলে। আমিও ভালো পাই তাই দিনের নিউএইজ কিংবা ঢাকা ট্রিবিউন সেখান থেকেই কিনি। জিগেষ করলাম আজ, মৌচাকে ঢিলের বেচা বিক্রি কেমন?

আগুনের কথা বন্ধুকে বলি.........

আজ বিকেলে এক ছোট ভাইয়ের সাথে এ আর রেহমানের কনসার্ট নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো, আমার জাতীয়তাবাদী মন অনেক বয়ান শুনিয়ে দিলো চামে। ছোটভাই টেনশন ছাড়া বলিলো- সমীকরন অতি সহজ, আপনে কবীর সুমন বা অঞ্জন দত্ত আসিলে শার্ট প্যান্ট পাঞ্জাবী বেইচা যেমন দৌড় দিতেন, আমি মেটালিকা আসলে মোবাইল সেট বেচে দিয়ে হলেও দৌড় লাগাতাম, আর যাদের এ আর রেহমান দিওয়ানা সাথে হিন্দি মনস্ক মন তারাও দোড় লাগিয়েছে। তারা বাংলা গানের আর কি শুনবে, যে যারে ওউন করে আর কি! আমিও এই যুক্তি মেনে নিলাম খুশী মনে। আসলে আমরাই আমাদের মত করে স্বদেশী বিদেশী কত কি নিজের বলে ওউন করি। নিজেদের পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে এক দেয়াল বানিয়ে ফেলি। যা ভালো লাগে না, তা কত খারাপ তা প্রমানে নেমে যাই, আর যা ভালো লাগলো তাকে যত পারা যায় মহান বানাই। আমিও তার বাইরে কেউ নয়!

আমাদের জন্য,সব আমাদের জন্য!

মনটা ফুরফুরে কাল থেকে, এই ক্রিকেটের নামে যে সার্কাস ফরমেট এখন চালু সেই টিটুয়েন্টিতে তার বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইয়িংয়ের প্রথম ম্যাচে আফগানদের হারালো। বাংলাদেশের কেন কোয়ালিফাইং খেলতে হবে এই জিনিস ভাবলেই আমাদের মেজাজ খারাপ হয়। মানছি আমরা এই ফরম্যাটটায় দুর্বল তাই বলে হংকং নেপালের সাথে খেলতে হবে মুলপর্বের জন্য। ব্যাপারটা আমার কাছে জেনেই খুব ইন্সাল্টিং লাগছে। পরে ভাবলাম ঠিকই আছে, হংকং নেপালদেরওতো সাধ জাগে আমাদের মত দলের সাথে খেলার তাই তাঁদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। ম্যাচের আগেই বলছিলাম লোকজনদের, বাংলাদেশ জাস্ট উড়িয়ে দেবে। তাই হলো, নিজের কথা মিলে গেল, মনে আনন্দ। যদিও ওয়ানডেতে সেই এশিয়া কাপে্র ম্যাচেও সেইম বয়ান দিয়েছিলাম, উল্টা নিজেরাই উড়ে গেছি। সেইদিন যে কি মেজাজ খারাপ হলো, বলে বুঝাতে পারবো না। তাই গতকাল ষোলোই মার্চ, রোজ রবিবার আমার দিনটা এক আফগান জয়েই খুব খুশি!

সময় বয়ে যায় ধু ধু কংক্রিট অঞ্চলে!

এবারের বই মেলায় আমার একটা সিরিজ বই কেনা হয় নাই মাওলা পাবলিকেশন্সের কারনে। তা হলো মুনতাসীর মামুনের ঢাকা স্মৃতি সিরিজ, ১৬ খন্ডের। আমি যখনই তাঁদের স্টলে গিয়েছি তখনি জবাবঃ ভাইয়া এক খন্ড নাই, ৭ আর দুই নাই, আরেকদিন আইসেন, শেষ দিন যখন কিনতে উদ্ধত হলাম তখন দুই নাম্বারটা নাই। রাগে ক্ষোভে তাই আর ১৫০০ টাকা দিয়ে আর কেনাই হলো না সিরিজটা। আমাকে বাংলা বাজারে যেতে বললো সেলসম্যান। যাই হোক এখন মনে হচ্ছে ঢাকা নিয়ে পড়ে লাভ কি?

ভালো থাকবে না মানে কি!

ইচ্ছা করে না লিখতে তাও জোর করেই লিখতে বসা। ইচ্ছে না করার কারন খুজে পাচ্ছি না আপাতত। আসল কথা ভালো লাগে না। আমার মুখে ভালো লাগেনা শুনতে শুনতে সবাই টায়ার্ড, বলে উঠে পরিচিত মানুষেরা 'তোর 'ভালো লাগেটা কবে?' আসলেই আমার ভালো লাগে না। এত ভালো আছি, ভালো বই পড়ছি, ভালো হাসি আড্ডার আনন্দময় দিন যাপন তাও ভালো লাগে না। ভালো থাকলেও ভালো লাগে না, খারাপ থাকলেও ভালো লাগে না, তাহলে কি থাকা যায় আর!

বইমেলা শেষ!

প্রথম কথা বলি এই পোষ্ট লিখতে চেয়েছিলাম কাল, কিন্তু পাক ভারতের ম্যাচ নিয়ে বঙ্গদেশের মানুষের এত উত্তেজনা দেখে আমি ক্লান্ত। তাই কাল আর লিখতে পারি নাই। ফেসবুকে কিংবা খেলার মাঠে বা চায়ের দোকান ও বাজারে এত উত্তেজনা মানুষের তা দেখে সারাদিন মেজাজটা তিরিক্ষে ছিল। আজ থেকে ১৬-১৭ বছর আগে এমন আমিও ছিলাম, পাক ভারতের ক্রিকেট উত্তেজনায় বুঁদ হয়ে। কিন্তু গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশ যা খেলছে, তারপরে পাক ভারতের ফ্যান হবার দরকারটা কি তা আমি জানি না। আমি এখন আর আগের মত ক্রিকেটের শুদ্ধতা ও সুন্দরের পিয়াসী না। বাংলাদেশ যদি জিতে তাহলেই ভালো লাগে, হারলে মেজাজ গরম হয় এই মুলত আমার অবস্থা। সেখানে পাক ভারতের খেলা হবে, আমি তাঁদের জার্সি পতাকা নিয়ে মাঠে যাবো ওমন ছাগলের বাচ্চা না এখনও হতে পারি নাই। আর বাংলাদেশের মানুষের একটা কমন সমীকরন হলোঃ যারা আওয়ামীলীগ করে তাঁরা ক্রিকেটে ভারতের ভক্ত, আর যারা এন্টি আওয়ামীলীগ তাঁরা সব পাকিস

বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রিয় লেখক আহমাদ মোস্তফা কামালের 'প্রেম-অপ্রেমের গল্প'

আবারও লিখতে বসলাম, কারন না লিখলেও রাতটা চলে যায় আর লিখলেও চলে যায় রীতি মেনে। তাই লেখা শেষের অনুভুতিটাই ভালো, রাতে ভালো ঘুম আসে। সকালটাও আনন্দময় কাটে। যদিও শরীরের অবস্থা বিশেষ ভালো না। টুকটাক শরীর খারাপ, গলা ভেঙ্গে কাঠ, নিজের কন্ঠস্বর নিজেরই অচেনা লাগে। বলি টিএসসি, শুনে রিকশাওয়ালা কেএফসি। কী যে বিপদময় অবস্থা তাও আমার তাফালিং কমে না দৈনন্দিনের। সোমবারে এক বন্ধুর বাসায় গেলাম সন্ধ্যের দিকে। আড্ডা জমলো, দারুণ নাস্তা হলো, ফেরার সময় তিনটা বইও ধার আনলাম। ধার করে ও বই কিনতে কিনতে টেবিলে অপঠিত বইয়ের স্তুপ। এত বই আমার পড়ার অপেক্ষায় বসে আছে তা ভাবতেও অনেক শান্তির। তবে শান্তি নাই মানুষের, বিভিন্ন কাছের দুরের মানুষ সমন্ধে আমার কিছু উচ্চ উচ্চ ধারনা থাকে, নানান ঘটনার কারনে সেই উচ্চ ধারনার কাচ গুলো ভেঙ্গে পড়ে হুট করে, তখন নিজের উপর তীব্র মেজাজ খারাপ হয়। আমি না হয় সুবিধের লোক না, কিন্তু সবাই কেন আমার মতই হব

বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ একদিন অহনার অভিবাসন

এত অপেক্ষার বইমেলাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। জীবন থেকে তরতর করে খালি দিন গুলো চলে যাচ্ছে, ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। অনেকে বলে সময় তাদের কাটে না, আমি তো দেখি সময় থাকেই না কোনোক্রমে। যেভাবেই থাকি, যাই করি সময় দ্বিগুন গতিতে চলে যায়। সে কথা যাক, সময় নিয়ে হতাশা আগের অসংখ্য পোষ্টে করেছি। এখন বাদ দিয়ে অন্য কথা বলি। ধুলোর সমুদ্রের যে বই মেলা, যাচ্ছি নিয়ম করে। কিন্তু সমস্যা হলো- মেলায় কোনো কাজ থাকলে তা মিস করে ফেলি, অথচ এমনিতে মেলায় যাই প্রায় প্রতিদিনই। যেমন কালকের কথাই ধরুন না, বাংলাদেশের খেলা দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, মেলায় আর যাবো না। কিন্তু কি মনে হলো হুট করে বাসায় আসলাম, বুয়া রান্না করে নাই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে গেছে চাল নাই। আমি বের হয়ে গেলাম সাথে সাথেই। রহীমকে ফোন দিলাম, রহীম হলো গিয়ে সেই রিকশাচালক যার ফোন নাম্বার আমার মোবাইলে সেইভ করা আছে, দূরে কোথাও যাবার নাম নিলেই রহীমকে ফোন দেই। পুলক ও আস

বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়া- অয়নান্ত সূর্যের দিন

ঘুরে ফিরে ফেব্রুয়ারী এলেই বাংলা বই নিয়ে হন্তদন্ত শুরু হয়ে যায়, মানের প্রশ্ন আসে, সাপ্লাইয়ের সমস্যা ধরা পড়ে, প্রাপ্তি ও দোকানের সংখ্যা নিয়ে হা হুতাশ উঠে, দাম নিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ হয় অনেকের, লেখকের রয়েলিটির প্রসঙ্গ আসে, দেশে কত জন লোক বই পড়ে আর কত লোক মেলায় আসে ঘুরতে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত চারিদিকে শুনতে হয়। আমার কাছে বই হলো প্রতিদিনের জিনিস, প্রতিমাসে সংগ্রহের জিনিস, জীবন যাপনের প্রতিটা বাকে নিজেকে ঋদ্ধ করার জিনিস। আমার এই সীমিত অর্থের দিন যাপনে প্রতিমাসেই বই কিনে সংগ্রহ করি, ধার নেই ও পড়ি। অথচ এই দেশে মাত্র এক মাসেই বই নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা হয়, এক মাসের কয়েকদিন সামান্য কিছু মানুষ অল্প কিছু বই কিনে, ভুষিখোর লেখকেরা বস্তায় বস্তায় বই লেখে, তা কখন মেলায় আসে আর কখন চলে যায় তার হিসাব কেউ রাখে না, এক মাসেই টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা গুলোতে বই প্রেম ভাতের ফেনের মত উতলে উঠে, সব শেষ হয়ে শুধু থেকে যা

চলে যায় বসন্তের দিন!

শেষমেষ ব্লগের শিরোনাম হুমায়ূন আহমেদের এক বইয়ের নাম থেকে মেরে দিলাম- এই বাকী ছিল মনে হয়। বইটা মনে হয় আমার পড়া ছিল আগে। আজ কোন স্টলে গিয়ে জানি দেখলাম বইটা, সাত বছর ধরে হুমায়ুন সাহেবের বই কিনি না মেলায়। আমার এক ক্লাসমেট বন্ধু আছে আবুল খায়েরে স্টিলের ইঞ্জিনিয়ার, সে কঠিন হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত। এখন আমার এইসব নাক সিটকানো দেখলে বলে উঠে নাইন টেনে তো সমানে গিলতি, এখন সমস্যা কি?

Agnee- 2014

ধারনা ছিল না আজ সিনেমা দেখা নিয়ে পোষ্ট লিখবো, মানুষের জীবনের ঘটনা প্রবাহ যে এত অনিশ্চিত কখন যে কী হবে বোঝা দায়। টিভি নাই সময় পেলে আমি বাসাতেই প্রচুর সিনেমা দেখি অনলাইনে। কিন্তু হলে গিয়ে এই মাসে সিনেমা দেখা হবে তা আমার ভাবনায় আসে নি। সেই আলাপে পড়ে আসছি, আজ সারাদিন এই টিপটিপ বর্ষা আর মেঘময় দিনে আমার মন মেজাজ খুব একটা ভালো ছিল না। দেরীতে যথারীতি ঘুম থেকে উঠে বাসাতেই বসে ছিলাম না খেয়ে, মামা অফিসের কাজে হবিগঞ্জ অনেকদিন তাই সকালে নিয়ম মেনে বুয়ার দেখা নাই। বাসাতেই বসে ছিলাম, বন্ধুর বাসা থেকে অনেক গুলা বই এনেছি তার ভেতরে তিনটা বই দুইদিনের ভেতর শেষ করার মনোবাসনায় বই পড়া শুরু করলাম। বেছে বেছে অবশ্য চিকন ও মাঝারী তিনটা বই ই নিলাম, প্রথমেই শেষ করলাম এবিএম মুসার মুজিব ভাই, অসাধারণ একটা বই। খুবই চনমনে সব তথ্যে বইটায় ঠাসা। তারপর পড়লাম মৌলি আজাদের, হুমায়ূন আজাদ আমার বাবা। এই বইটা লাগলো মোটামুটি। ব্যাক্তি হুমায়ুন আজাদের কিছু স্নেহশীল মাখা ব্যাক্তিগত জীবনের আলাপ আলোচনা জানলাম। তবে লেখিকা এত প্রখ্যাত ব্যাক্তির সন্তান হয়েও লেখার হাত খুব একটা ভালো না। তারপর পাকিস্তান আমলের চীফ মিনিস্টার আতাউর রহমান খানের

তাই চোখের আড়ালে থেকে গেল কতোকিছুই!

পোষ্ট লিখছি যখন ফাগুন তখন শুরু হয়ে এক দিন চলে গেল। বাসন্তী আর হলুদে পুরো ঢাকা শহর একাকার হয়ে- সাদর সম্ভাষন জানালো ফাল্গুন মাসকে। ফাল্গুন আর বৈশাখ হলো অতি বুর্জোয়া মাস, তাদের আগমনে উল্লসিত শহর নগরে ব্যাপক আয়োজন মানুষের, উৎসব চলে এই মাসগুলোর আগমনে। এই দুটো মাস বড়ই কপালওয়ালা, আষাঢ় কিংবা অগ্রহায়নের সেরকম কোনো কপাল নাই, অথচ সেই মাস গুলোও কত অসাধারণ। ক্লাস নাইনে নাকি ইলিভেনে পড়তে হয়েছিল সুফিয়া কামালের 'তাহারেই পড়ে মনে'। ফাল্গুন এসে পড়লেও কবির মনে শীতের জন্য বিরহ। সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষের শোকে তিনি কাতর। আমার ঠিক উল্টো, শীতের চলে যাওয়াতেই আমি যারপরনাই আনন্দিত। কারন লম্বা লম্বা দিন, ঝাঝালো রোদ, ক্লান্তির ঘুম, লোডশেডিংয়ের রাত, বাইরে ঘুরে ঘুরে চামড়ার বারোটা বাজানো এইসব গরমের দিনের আসল সুখ। কাউকে যদি বলি গ্রীস্মকাল আমার প্রিয়, হয়তো হো হো করে হেসেই উড়িয়ে দিবে। কিন্তু আসলেই গরমের দিন আমার ভালো লাগে। গ্রীস্মকে আমার মনে হয় আমাদের আসল বাংলাদেশের চেহারা। কঠোর, ঝাঝালো, সব কিছু পুড়ছে এমন এক অবস্থা। বর্ষাকাল তার তুলনায় মধ্যবিত্তের মতো, সব কিছু লুকিয়ে রাখা ও গ্ল্যামারাস একটা ভাব আনাই তার কাজ।