ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

বড়দিন-ছোটদিন-মাঝারি দিন!

কলকাতার জয়তীর গান ছিল একখান, যার শিরোনাম হলো- 'দিন শুধু দিন গেল'। আমারো নিজের জীবনে তাই মনে হয় যে দিনগুলো সব চলেই গেল অবহেলা আর অনাদরে। মাঝে মাঝে সালের হিসেব গুলিয়ে ফেলি, মনে হয় এখনো ২০১০-১১ই চলছে। বেকাররাই এইভাবে সময় নিয়ে হেলাফেলা করে, ১৮ মাসে বছর বাগধারাটা তো আর হুট করে আসে নি! আমাদের জন্যেই এসেছে। দিন গুলো যে নিমিষে হারিয়ে যাচ্ছে তা টেরই পাচ্ছি না। শুধু দেখছি হারাচ্ছে আর চলে যাচ্ছে এরই ফাকে মানুষ কত কি করছে। বাংলাদেশটার অবস্থাও তাই দুনিয়া উলটে পালটে গেল, কত কি ঘটে গেল, কত দেশে কত প্রগতি উন্নতির চমক, আমরা পড়ে রইলাম সেই পুরোনো প্রশ্নেই, ক্ষমতা পালাবদলের শান্তিপুর্ন উপায় খুজতে খুজতেই আমাদের দিনগুলো সব চলে গেল, একদিনের যে গনতন্ত্র ভোটাধিকার তা নিশ্চিত করতেই আমাদের জান দফারফা, ৩৬৫ দিনের এক গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেতে এখনো কত দেরী তাই ভাবি বসে!

দৈনন্দিন সুখ দুঃখ!

দেশের অবস্থা খুব একটা যুতের কিছুতে না, পঞ্চম কিস্তির অবরোধ চলছে কিন্তু মনে হচ্ছে কেয়ামত পর্যন্ত এইভাবেই অবরোধ চলবে। এক বন্ধুর মুখে শুনলাম আস্তে আস্তে নাকি মানুষ অবরোধ মানিয়ে নিচ্ছে, মনে মনে ভাবছিলাম মানানোর আর জিনিস নাই দেশে শেষমেষ অবরোধ দাঙ্গা হাঙ্গামা এইসবও মানিয়ে চলতে হবে। মানাতে মানাতে আর সবুর করতে করতে জানা নাই আর কত? এদিকে তো আমাদের পিঠের চামড়ার আর কিছুই বাকী নাই, তবুও আমরা ঝিনুকের মত নীরবে সয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে মনে হয় না আমাদের তেমন কিছু করার আছে! আমার দোড় সমন্ধে আমি অবশ্য সচেতন- ল্যাপটপে বসে ফেসবুকে জ্বালাময়ী স্টেটাস লেখা আর চায়ের দোকানে বসে চাপা পিটানো। তার ভেতরে আব্বু খালি ফোন দিবে আর জিগেষ করে বলবে বাসায় যা-বাসায় থাক- এত বাইরে কি? ঢাকায় গন্ডগোল, জামালপুরে এসে পড়!

মোরশেদ শফিউল হাসানের লেখনীতে বেগম রোকেয়ার সময় ও সাহিত্যকে দেখা!

বড় অসময়ে এই পোষ্ট লিখতে বসলাম। কয়েল আছে বাসায় কিন্তু ম্যাচ নাই তাই বসে বসে রাত জেগে মশার কামড় খাচ্ছি, মন মেজাজের অবস্থাও ভালোনা তার ভিতরেই এই লেখাটা শুরু করার শখ হলো। যদিও মন মেজাজ খারাপ থাকার কথা না, যেমন ভালো দিন আমি আশা করি তেমন ভালো দিনই আজ আমি কাটালাম- খানা খাদ্যময় ও আড্ডাময় দিন চলে গেল ভালোই, কিন্তু গুলশান দুইয়ে গনজাগরন মঞ্চের উপর পুলিশের হামলার শিকার হলো তা নিয়ে মন বিক্ষিপ্ত। অবশ্য পুলিশ তো প্রতিদিনই কত মানুষকে মারে তা নিয়ে আমার চিন্তা হয় না, আমি নিজে গা বাচিয়ে চলা শিখে গেছি। কিন্তু নিজেদের সহযাত্রীরা এরকম বেদম মার খাবে তা দেখতে অসহ্য লাগছে। কিন্তু কি আর করা, আমাদের মন খারাপে কারো কিছু যায় আসে না। অলরেডি দলকানারা ত্যানার ছবক নিয়ে বসে গেছে আর ছাগুরা হাতে তালি দিচ্ছে, ভালোই তো- ভালো না!

মন মাতানো দেশের গান যখন শুনি!

কথা হচ্ছিলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ নিয়ে, কাল আর্সেনাল হারছে ম্যানসিটির কাছে তা নিয়ে এক আর্সেনাল সাপোর্টার ছোট ভাইকে পচাচ্ছিলাম। আমি অবশ্য ক্লাব ফুটবল খেলা তেমন দেখি না কারন ইচ্ছা কম আর উপায় নাই বাসায় টিভি না থাকার কারনে। তাও আপডেট রাখি কারন চারিদিকে আলাপ হইচই শুনি । লোকজন যেভাবে একেকটা ফুটবল ক্লাবকে ওউন করে তাতে অবাক লাগে। আমি অবশ্য দুনিয়াতে এমন করে কোনো কিছুই ওউন করতে পারি না। নানান জাতের প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে ইয়াং পোলাপান যেভাবে ইউনির প্রচার করে, ইশক মোহাব্বতের প্রমান দেয় তাতে অদ্ভুত লাগে। আমি কখনোই নিজের ফেলে আসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে গৌরবগাথা রচনা করতে যাই না, কেউ যদি জিগেষ করে তখনই জানাই। কারন সবাই যেমন করে যা করে, আমিও তেমনই। নিজের সব কিছুকেই সামান্য বলে মনে হয়। খালি এই দেশটা বাদে, যতই দীনহীন হোক আর যতই অসময় অনাচার চলুক এই দেশ বাদে আর কোনো কিছুকেই আমি নিজের বলে মনে করি না। তেমন বলার মতো কিছুই আমি করি নাই দেশের জন্য তবুও প্রতিটা নিশ্বাসে ইশ্বর, বাবা মা য়ের পরেই আমার ভাবনায় আসে এই দেশের কথা। যত সামান্যই হোক আমার উপস্থিতি তাও বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও থাকার চিন্তাই আমার মাথায় আসে ন

টু হানড্রেড!

শাহবাগের উত্তাল দিনগুলোতেও ব্লগে সিরিজ ধরে পোষ্ট লিখে ছিলাম, গাল ভরা নাম ছিল 'নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময়'। সেই সিরিজের সম্ভবত দুই হালির উপর পর্ব ছিল। অনেকে প্রশ্ন করতো শ্রেষ্ঠ সময় কিভাবে ফলবিহীন হবে?

অবরুদ্ধ নগরের ছাপোষা দিনলিপি!

অবস্থা বিশেষ সুবিধার না, কিছুই ভালো লাগে না এই থমথমে অবরোধের দেশে। সব কিছুই বোরিং লাগে, আর আনন্দময় সময় যাদের সাথে আগে উদযাপন করা হতো তারাও নাই। আগে কথায় কথায় বাইরে খেতাম ঘুরতাম তাও এখন বন্ধ। বাইরে খেতে গেলেই মেজাজ খারাপ লাগে। মুখে রুচি নাই। আর কোথাও যেতেও ভালো লাগে না। ক্রমশো একা হয়ে পড়ছি কেমন জানি। তা টের পাই বেশী দিনের বেলায়। নিজের ভালো একটা অভ্যাস ছিল ভোরে উঠার তা তো হারালাম, নয়টা দশটায় উঠি ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখে। সপ্তাহে সাতদিনের ভেতরে তিনদিনই আমার এরকম খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে। ভাগ্যিস স্বপ্ন সত্যি হয় না হলে কি যে এক দুর্বিষহ জীবন হতো তা ভাবি। কতো দোয়া কালাম পড়ে ঘুমাই, কাজ হয় না কিছুতেই। আম্মুকে যদিও বলা হয় না, বললেই বলবে নামায ঠিক মতো পড়। কিন্তু নামায পড়িলেই সব সমস্যার সমাধান নাই। স্বপ্ন সম্পর্কিত আমার জটিলতা অবশ্য নতুন না, আগেও হয়েছে। কিন্তু মেজাজ খারাপ কমাতে পারে নাই এই অভ্যস্ততায়!

এই অসময়ে জলপাইপুরে ধ্রুপদী সংগীতের রাতগুলো!

শিরোনামটা একটু বেশী বেশী হয়ে গেল, তাও দিয়ে ফেললাম। কিচ্ছু করার নাই এই আগুনে পোড়ার অসময়ে, এতকাল শুনেছি দাহকাল- যা একটি শব্দ হিসেবে ধরে নিয়েছি, কিন্তু এখন দেখি আসলেই দহনের সময়। কেউ পুড়ছে কিংবা কেউ পোড়াচ্ছে, আমরা শুধু সব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। তবুও এর প্রতিকারে আমাদের ফেসবুকে স্ট্যাটাস লেখা ছাড়া আর কোনো কিছু করার উপায় জানা নেই। আমি ৯৫-৯৬ এর আমলে ছিলাম নিতান্তই ছোট মানুষ, হরতালে বাসার পাশেই স্কুল থাকতো বন্ধ, সারাদিন খেলা আনন্দ আর আনন্দ। বিটিভিতে নাটক হতো আর খবরে দেখতাম খালেদা জিয়া নানান কিছুর ফলকের সামনে দলবেধে দোয়া করছে। তখনই আমার মনে প্রশ্ন আসছে- ক্যামেরার সামনে দোয়া করে কেন?

সবার পড়া বনফুলের গল্প!

'শ্রেষ্ঠ' এই শব্দটার ব্যাবহার আমার ভালো লাগে না। ভালো কিংবা সেরা বলা যায় কিন্তু কোনো জিনিসকে এত সহজে শ্রেষ্ঠ বলতে ইচ্ছা করে না। কারন শ্রেষ্ঠ বলার সাথে সাথেই বাকী সব গুলোকে তুচ্ছ ঘোষনা করতে হয়। আর সাহিত্য, নাচ, গান, সিনেমা যাই হোক আর্টফর্মের কোনোকিছুই শ্রেষ্ট বলে রায় দেয়া যায় না। কারন সব কিছু সময় নির্ধারন করে, আজ যা শ্রেষ্ঠ কাল সেটা অতি সাধারণ ব্যাপার বলে হয়ে যেতে পারে। তবুও আমরা শ্রেষ্ঠ বলি, রায় দেই অমুক জিনিসটা সবার সেরা। ঠিক তেমন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রেরও চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা সিরিজের অসংখ্য বই আছে যা পাঠকদের সুবিধার জন্য ঘোষনা দেয়া যে অমুক লেখকের শ্রেষ্ঠ গল্প বা কবিতা সুলভ সংস্করণে। পাঠকদের জন্য সুবিধা যে তারা বিখ্যাত সব লেখকদের কিছু ভালো লেখা এক বইতেই পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু ছিল নাম মাইনুল। ওর কাছে আমি খুব থ্যাঙ্কফুল কারন ওর বড় বোনের এইসব বইয়ের ছিল আড়ত, আমি নিয়ে নিয়ে পড়তাম আর তাতে ক্লাস টেন এলিভেনেই আমার প্রচুর বাংলা ক্লাসিক জিনিস পড়া শেষ না হলেও কিছুটা পড়ে ফেলা হয়েছিল।

চলে যায় ভালো সময়গুলো!

গত তিন দিন জীবনে এক ব্যাতিক্রমী এক্সপিরিয়েন্সের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। না চাইতেই এত বড় সাফল্য আমার জীবনে আর আসে নি। সাফল্য পেতে উন্মুখ হয়েও ছিলাম না। তাও এসে গেল, হঠাৎ করেই। হুট করে আসা এই সাফল্যে কিছুটা লজ্জিত ও কুন্ঠিত অবস্থাতেই কাটছে দিন। তেমন হাতি ঘোড়া কিছু উদ্ধার করি নাই, সামান্য বিসিএসে রিটেন আর ভাইবা শেষে সাময়িক ভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রশাসনের তালিকায় স্থান পেয়েছি। যদিও নিয়োগ এখনও দিল্লি বহুদুর তাতেও আমি এই সাফল্যে নিজেই আনন্দে আটখানা। আর যাদের নিয়ে আমার জগত তারা আনন্দে ৮*৮*২= ১৩২ খানা!

আমি গুছিয়ে ঠিক কথা বলতে পারি না, শুধু সময় নিজের গল্প বলে যায়!

শিরোনামটা বেশী আদিখ্যেতার হয়ে গেল। কি আর করা, একটা গানের লাইন পছন্দ হলো তাই দিয়ে ফেললাম নামটা। পোস্ট লিখতে গিয়ে একটু ভাবছি। কারন ঠিক করে রেখেছিলাম পরের কিছু পোষ্ট গুলো শুধু বই নিয়ে লিখবো। প্রচুর বই পড়া হচ্ছে ইদানিং, জমছে চোখের সামনে কিন্তু তা নিয়ে লিখতে পারলাম আর কই?

বিস্রস্ত জর্নাল থেকে কিছু জার্নাল- শেষ পর্ব

কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে, সপ্তাহ খানেক ধরে লিখি না কিছুই। মামার বিয়ে কিংবা দিনলিপি বা হরতাল নিয়ে পোষ্ট লেখা যেত কিন্তু মাথা খাটাতে ইচ্ছা করছে না। পুরানো এক পোষ্ট খুজতে গিয়ে হঠাৎ এই সিরিজটার কথা মনে পড়ে গেল। ভাবলাম আরো কিছু লেখা যায় বিস্রস্ত জর্নাল বই থেকে। কিন্তু সমস্যা হলো বই পাচ্ছিলাম না। বইয়ের হজবরল অবস্থা দেখে মামা সব বই কার্টুন বন্দি করেছে আমার এবসেন্সেই। তাই জমিয়ে রাখা বই ছাড়া সব গুলাই বাক্সবন্ধি। তবে কিভাবে জানি এই বইটা খুজে পেলাম বিনা পেরেশানীতেই, তাই লিখতে বসলাম আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিস্রস্ত জর্নাল থেকে টুকে নেয়া কিছু লাইন!

২২৭। আমার কোনো এক বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে একজন বক্তা সহৃদয় আক্ষেপের সঙ্গে বলেছিলেন, টেলিভিশনে গিয়ে আমি আমার জীবনের মুল্যবান সময়ের অপব্যায় করেছি।
আমি তাঁর সঙ্গে একমত নই।
আন্তরিক ভাবে মানুষ যা করে তা কোনোকিছুই নষ্ট হয় নয়।
কেন অপচয় বলব? শরীর নির্ভর শিল্প পৃথিবী থেকে মরে যায় এই জন্যে? শিল্পমুল্য ছোট তাই?
কিন্তু আমি কি করতে পারি। আমার ভেতরে আছে যে ব্যাপারটা। সাহিত্যের বা সামাজিক বেদনার মতো এইরকম অত্যাচারীভাবেই যে আছে!

অক্টোবরের সিনেমা দেখা দেখি!

সিনেমা দেখতে আমার খারাপ লাগে না এখন আর। আগে অবশ্য কখনোই এত ভালো লাগতো না, কারন টিভিতে কত অপশন রিমোটের ঘুরে ঘুরে কত কিছুতে চোখ বুলানোর সুবিধা। সেই তুলনায় সিনেমা দেখতে হলে পিসি খুলে বসে থাকো। টানা দেখে যাও। তাই দীর্ঘ দিন আমার সিনেমা দেখার জায়গা টেলিভিশনে। টেলিভিশনে সিনেমা দেখার কথা শুনলেই পাবলিক হাসে, বলে উঠে টিভি কি সিনেমা দেখার একটা জায়গা হলো?

আশাবাদের চাষাবাদ!

সুশীল ভাষায় এই সময়টাকে বলে ক্রান্তিকাল। তবে শুধু ক্রান্তিকাল বললে এই সময়টার ঠিকঠাক নাম দেয়া হয় না। আমার মাথাতে খালি আসে দুটো শব্দই 'চরম দুঃসময় ' সেটা সব দিক থেকেই। রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজ, রাষ্ট্র সব খানেই ঘোরতর অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, অস্বস্তিতে দিন কাটছে সবার। যেখানেই যাই, যে কথাই বলি ঘুরে ফিরে আসে পলিটিক্যাল ক্রান্তিকালের এই কথাগুলাই। এখন তো নান্নুর চায়ের দোকান নাই তাই অনেক জায়গাতেই মাঝে সাজে বসা হয়। নানান লোকের কথা শুনি, সবাই খুব টেনশনে। আমাদের এক বন্ধু আছে নাম মুহিত। বাপের বিশাল বড় বাড়ী, জাবি থেকে মাস্টার্স করছে এখনো শেষ হয় নাই। ওর বাপ হুট করেই খুব হন্তদন্ত হয়ে ইউরোপের কোনো দেশে আরেকটা মাস্টার্সের জন্য পাঠাতে চায়, অথচ এত বছরের জীবনে তার বিদেশে যাবার কোন প্ল্যানই ছিল না। সেও দোড়ঝাপ শুরু করছে। এখন বলতে পারেন- এইসব ব্যাপার স্যাপার তো আগে থেকেই ছিল, কিন্তু আগের সাথে এখন ডিফারেন্সটা হলো আগে সামর্থ্যবান মানুষদের ভিতরে অনেকের ইচ্ছা থাকতো বিদেশে যেন একটা ঠিকানা থাকে। এখন সবাই তা বাধ্যতামুলক ভাবে করছে। এমন একটা ভাব যেন দেশে আশু সিভিলওয়্যার হচ্ছে। আরেক লোকের কথা বলি তার নাম ধাম পেশা কি জ

দেখিবার মতন যদিও কিছুই নাই, তাও দেখিতে হয় ঈদে টেলিভিশন!

আমার বয়সী লোকেরা আর টিভি দেখে না, আমি কেন দেখি? কারন ভালো লাগে তাই। যে কারনে লোকজন বাংলা সিনেমা দেখে হলে বসে, সেই কারনে আমি টিভি দেখি। ছোটবেলা থেকেই টিভির পোকা ছিলাম সেই পোকাটা বুড়ো হয়ে গেলেও এখনো মাথায় বিদ্যমান। তাই দেখতে হয় টিভি কারন ভালো পাই। যদিও গত ১ বছর ধরে বাসায় টিভিকার্ড আছে ডিসের লাইন নাই তাই দেখতে পারি না কিছুই। তবুও বাড়ীতে গেলে টিভি দেখতেই হয় চাই বা না চাই! কারন বাড়ীতে আমার তেমন কোন কাজ নাই যে অন্য কিছু করবো। তাও দেখা যায় ডিস থাকে না, কারেন্ট থাকে না কত ধরনের প্রতিকূল অবস্থা। আর এবার নানু বাড়ী ছিলাম আড়াই দিন তাতেও ঠিকঠাক টিভি দেখি নাই। যদিও নানু বাড়ীতে টিভি দেখার খুবই সুব্যাবস্থা। আমি ঘরে ঢূকলেই সবাই চলে যায়। রিমোটের নিয়ন্ত্রন আমার হাতেই থাকে। তাও ভালো লাগে না। নিজের ঘর, নিজের প্রাইভেসী, নিজের আরাম মতো মায়ের হাতের অসাধারণ রান্না খেতে খেতে টিভি দেখার মজাই আলাদা!

ঘুরে ফিরে আসার গল্প!

অনেক দিনের পর লিখছি। এত লম্বা বিরতিতে আমার লিখতে মোটেও ভালো লাগে না। তাও উপায় ছিল না। কারন প্রথমত, প্রিয় মোবাইল সেটটা নষ্ট আগে যে মোবাইলে লিখতাম তা বন্ধ এবার। দ্বিতীয়ত ল্যাপটপ নিয়ে গিয়েছিলাম তাতে লেখা যেত, কিন্তু বিধি বাম মামা এক্টার্নাল ইউএসবি কিবোর্ড নিয়ে যায় নি আর আমি ল্যাপটপের কীবোর্ডে লিখতেই পারি না। চেষ্টা করলাম বাড়ীতে কত- হয় না, বারবার এফএন টিপে লেখা আমার কম্ম নয়। তাই ল্যাপটপ দিয়ে খালি চার পাঁচটা সিনেমাই দেখলাম। ভেবেছিলাম এন্ড্রয়েড সেট দিয়ে লিখবো- কিছু দূর লিখে মনে হলো এর চেয়ে মাটি কাটার কাজে কম পরিশ্রম, তাই আর লেখা হলো না। ব্লগে নতুন দুয়েকজন ব্লগার দেখলাম। দেখে ভালো লাগলো। কিন্তু এবির যা সমস্যা তাই থেকে যায়- পোষ্ট পড়ার লোক নাই। যখনই দেখছি বারবার- লোকজন নাই তখনই মন চায় একটা পোষ্ট লিখে ফেলি যা ইচ্ছে তাই। কিন্তু নিরুপায় তাই শুয়ে বসে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। তাই ঢাকায় বিকেলে নেমেই রাতের বেলা এই পোষ্ট লিখছি, নিজের ঘুরাঘুরির ফিরিস্তি জানাতে!