ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

অযথা প্রলাপ!

ভালো লাগছে না কিছুই। এমন কি এই ব্লগটা লিখতেও না। তাও কেনো লিখছি জানি না! লিখে হালকা হবার চেষ্টা। তবে চাইলেই কি আর হালকা হওয়া যায়, এইটাতো আর রোজা না যে কিছু কিছু কাজ কাম করলেই রোজা হালকা হবে, ঘুমালে টিভি দেখলেই কাজ সারা রোজা হালকা । মন হালকা করা খুব কঠিন কাজ। একবার সেখানে ক্লান্তি একঘেয়েমী ভর করলে সহজে মুক্তি নাই। অবশ্য আজ অনেকেরই সুখী সুখী মন খারাপ ছিলো। সবাই দুঃখ বিলাস করেই কাটালো। আমি শিউর এদের অনেকেই হূমায়ুন আহমেদ বেচে থাকলে কষে শুধু গালি দিতো, এখন তারাই ভক্তিবাদে আচ্ছন্ন করে রাখছে পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে ফেসবুক। হুমায়ূন আহমেদ সবাই পড়ে। আমিও পড়ছি। অনেক লেখাই পড়ছি। কিনে পড়ছি, ধারে বই মেরে দিয়ে পড়ছি, টাইমের সাথে পাল্লা দিয়ে পড়ছি, সদ্য কিশোর পার হওয়া চোখ দিয়ে পড়ছি, সেই আমলে বেশীর ভাগই পড়ছি। কিন্তু তাই বলে সেই পড়াকে মহান কিছু মনে করি না কখনও। এবং আজকে এসে আমি তাকে মহান প্রমান করতে চাইও না। যখন পড়ছি তখন সময়ের প্রয়োজন ছিল, এখন পড়ি না কারন এখন সময়ের প্রয়োজন নাই। পড়ার মতো অনেক কিছু আছে তাই পড়ি না আর। ব্যাস এতোটুকুই।

বিস্রস্ত জর্নাল থেকে কিছু জার্নাল! (পর্ব ২)

আজ আমার মনটা খুব ভালো। ভালো থাকার অনেক কারন। প্রথম কারন পুরোনো কেসিংয়ে নতুন পিসির আগমন, মুজাহিদের ফাসীর রায়, আনন্দময় ক্লাস করতে পারা, দুইটা চায়ের দোকানে দুই সিরিজ দারুন আড্ডা, সব মিলিয়ে মন ভালো। তবে এতো দারুন ইফতারী খেয়েও পেটে কেমন জানি খিদা খিদা। এইটা আমি প্রায় সময় দেখছি প্রতি রোজায় বেশী খাই। সংযমের কোনো গন্ধ নাই কোথাও। সেহেরী আর ইফতারীতে এতো খাচ্ছি ক্লান্ত হই না মোটেও। সারাদিন চা খেতে পারি নাই এই দুঃখে এক সন্ধ্যাতেই চা খাই তিন চার কাপ। কপালে যা আছে আর কি! ঘুমেও সংযম নেই উঠি ১ টায়, ঘুমাই পাচটায়। রোজায় এতো ঘুমালে নাকি হালকা হয়ে যায় রোজা। কিন্তু কিবা করার আছে আমি তো অন্য কোনো সময় ঘুমাই না। তাই পুরো সকালটাই যা ঘুমাই। তবে এই অভ্যাস নিয়ে বাড়ীতে গেলে ঝাড়ি আছে নিশ্চিত। আম্মু যখন দেখবে সারা সকাল ঘুম, তখন বলে উঠবো এইভাবে রোজা রাখার মানে কি? তবে বাড়ি যাবো ঈদে, সবাই জিগেষ করে কবে যাবো? অনেকে বুদ্ধি দেয় আগেভাগে চলে যান। আমি বলে উঠি আগেভাগে কিভাবে যাবো? ক্লাস যে চলে!

আমার যে কি হবে!

কিছু লিখতে হবে। কিন্তু কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না আজ। আসলে প্রতিদিন একি জিনিস লিখতে চাইলেও লেখা আসে না। ভাবলাম সিনেমা নিয়ে লিখি তাও চিন্তা করলাম থাক, এইসব হিন্দী ছবি নিয়ে এতো লেখার কি-অন্য আরেকদিন লেখা যাবে। ভাবলাম মাহবুব মোর্শেদের সেলিম আল দীনকে নিয়ে লেখা বই গুরু চন্ডাল নিয়ে কিছু লিখি তাও ইচ্ছা করছে না। আবার ভাবলাম বিস্রস্ত জর্নাল থেকেই কিছু লাইন টুকে দেই তাতেও মন বসছে না। পেটে কেমন জানি খিদা খিদা। সেহেরীর জন্য অপেক্ষা। সেহেরী খেতেও ঢের দেরী। বাসায় হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল আছে পড়তে ইচ্ছা করছে না। পড়তে ইচ্ছা করতেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রবন্ধ সমগ্র ৬। পাচ পর্যন্ত আমার পড়া। কিন্তু তা পাবো কই?

এলো কি অসময়!

ভালো লাগছে না কিছুই। সাদামাটা বাঙ্গালী, ধর্মে মুসলমান, বেকুব কিসিমের মানুষ আমি। একটা দরিদ্রপ্রবন দেশে সাধারণ জীবন আমার। তাও মনের ভেতরে কিছু আশা ভরসা থাকে, স্বপ্ন থাকে তাই নিয়ে বসবাস। সেই স্বপ্নের যখন টুকরো টূকরো হতে দেখি তখন খুবই মন খারাপ হয় সবার মতো করেই। নিজের জীবন যাপন ক্যারিয়ার নিয়ে আমার তেমন বিশাল চাওয়া পাওয়া নাই। বেঁচে বর্তে গেলেই হলো। জীবনে অভাবের অন্ধকারে না পড়লেই হলো। কিন্তু দেশ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, অনেক আশাবাদ। সেই আশাবাদ থেকে আমি কখনোই পিছু হটি নাই। সবাই যখন দেশ নিয়ে ভাবনা করা ছেড়ে দেয় আমি তাও আমি ভেবে যাই। কিছুই তো করার হলো না জীবনে, না দেশের জন্য না নিজের জন্য তাই অত্যন্ত দেশ কে নিয়ে ভাবি। ভাবনা ছাড়া আমার মতো ইন্টোভার্ট বেক্কেলদের কিছুই আর করার নাই! এতো ভেবেও মনে সামান্য আশাবাদ ছিলো যে আজ ফাসীর রায় শুনবো। কিন্তু কিসের কি!

তানবীরা আপুর সারপ্রাইজ বার্থডের দিনে!

মনটা ভালো। ভালো থাকার অনেক কারন আছে একে একে বলি। প্রথম কারন বিসিএস সংশোধিত পাইকারী লিস্টেও নিজের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার জ্বলজ্বল করতে দেখে, এশেজের এতো দারুন জমজমাট শুরু দেখে, অনাহুতের মতো তানবীরাআপুর বাসায় গিয়ে জন্মদিনের কেক ভক্ষণ ও আড্ডাবাজি, জ্যোতি আপুর সাথে রিকশায় দারুন আড্ডা, শেষে চায়ের দোকানে এসে এহতেশাম পুলক আমার মজার আড্ডা, বাসায় ঢূকেই তাজ্জব বনে যাওয়া মামার একদিন আগে ঢাকায় ফেরা, সব মিলিয়ে বাম্পার একটা দিন কাটলো। কালকেও বাম্পার দিন যাবার সম্ভাবনা আছে, যদি গোলাম আজমকে ফাসি দেয়। আমার মনের ভেতরে কিছুটা সন্দেহ, তাও আশা করছি আল মাহবুবের কাচ্চি খেয়েই রাতের খাবার হিসাবে উদযাপন করবো। দেখা যাক কী হয়! আগের মতো সেই খুশী খুশী ভাব নাই। কারন কাদের মোল্লার ফাসীর আপিলের খবর নাই, সাঈদীর রায় কার্যকর হবার খবর নাই, এখনো ঢিলে তালে চলতেছে অনান্য কার্যক্রম তাতে সন্দেহ অবিশ্বাস হবেই। আর নির্বাচন পরের বছরেই, তাই পলিটিক্যাল কারসাজি মুলক আপোষের ব্যাপার স্যাপার তো থাকেই। দেখা যাক কী হয়, ফেসবুকের ভাষায় বলি ফিলিং হোপফুল!

বিস্রস্ত জর্নাল থেকে কিছু জার্নাল!

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ লিখিত সব বই পড়া না হলেও মোটামুটি ভালোই পড়া। উনার লেখা পড়লে কেমন জানি শান্তি লাগে। সেই শান্তির উৎস খুজতে গেলে প্রথমেই পাই তার বর্নাঢ্য টেলিভিশন উপস্থাপনার কারনে চেনাজানার ইতিহাস। আমার এক বন্ধু ছিলো নাম নাসরীন। সে থাকতো আমাদের বাসার উপরের তালা। মেয়েটা অসাধারণ পরিশ্রমী ছিলো। কাক ডাকা ভোরে উঠতো তখন থেকেই এই ক্লাস নাইন টেনের বই গিলে খেতো। আমার আম্মু তার চেয়ারের আওয়াজ শুনে চিন্তায় পড়ে যেতো যে মেয়েটা কতো ভোরে উঠে আর তুই ঘুমাস। আমাকেও উঠিয়ে দিতো। কলোনীতে উপর নিচে বাসা থাকার কারনে যাতায়াত ছিলো না চাইতেই। ফেসবুকের কল্যানে কিছুদিন আগে দেখলাম এক প্রাইভেট ভার্সিটিতে জয়েন করছে লেকচারার হিসেবে। বিয়েও করছে। বন্ধুদের সফল জীবন দেখলে কেমন কেমন জানি লাগে। যাই হোক ও আমার কাছ থেকে প্রচুর বই নিতো। আমার বাসা তখন হুমায়ুন, মানিক, শরতের বইয়ের ফ্যাক্টরী। ধার দিতাম অকাতরে। আমাদের এক টিচার ছিলো নাম ভুলে গেছি। চেহারা ছিলো পুরো নায়ক আলেকজেন্ডার বো এর মতো। সেই নামেই ডাকতাম স্যারকে। প্রাইভেটে নাসরীন সব সময় ফার্স্ট হতো, আর পেতো বই। একবার পেলো আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের আমার উপস্থাপক জীবন। স্যারের কাছ থেকে

বন্ধু বাৎসল্যের এই দিন রাত্রিতে!

মনটা কেমন জানি এলোমেলো। ভালো লাগছে না কিছুই। এরকম হবার কথা না কিন্তু হচ্ছে। এরকম হবার কথা না কারন খুব দারুন সময় গেছে আজ। তাও ভালো লাগছে না কিছুই। এশার নামায পড়তে ইচ্ছা করলো না তাই পড়া হয় নাই। আমি সবসময় এরকমই। ইচ্ছা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেই। হতে পারে এখন ইচ্ছে করেই মন খারাপ। খুজে টুজে মন খারাপের একটা কারনই পেলাম বন্ধু সোহেলে চলে যাওয়া। সাত আট দিন যে কিভাবে চলে গেলো টেরই পেলাম না। এমনই হয়। বন্ধুরা বারবার আসে থেকে যায়, যাবার সময় অনিবার্য মন খারাপ হয়। অথচ মন খারাপের কোনো কারন নাই। ঢাকাতে আসলে আমার এখানেই আস্তানা গাড়বে। আর নানান ব্যাংকের এক্সাম দিতে ঢাকাতে আসতেই হবে এখন। তাও প্রতিবারই যখন চলে যায় তখন তীব্র মন খারাপ হয়। তখন চিটাগাংয়ে না থাকতে পারার কস্ট মনে আকুপাকু করে। মনে হয় শ্যামলী নন এসি বাসে বন্ধুর সাথে রওনা দেই এক কাপড়েই। কিন্তু তা আর হয় না। হয় না তার কারন আর যেতে ইচ্ছা করে না বেহুদা। আর গেলে তো ফিরতে হবেই। অনন্ত ৩-৪ মাস না থাকলে চিটাগাংয়ের প্রতি বিরক্ত লাগবে না মনে হয়। কিন্তু এই ছয় সাত দিনের জন্যে যেয়ে অযথা মায়া বাড়ানো। এতো মায়া আর ভালো লাগে না। তাই আমার আর যাওয়া হয় না। এমন রোজার দিনে চি

দিন চলে যায় হাওয়ায় মিশে!

কাজ ছিলো না তেমন বসেই ছিলাম বাসায়। রোজার দিন আমি রাতে ইফতারীর পর কিছু খাই না একেবারে সেহেরী। পড়ছিলাম বসে বই নাম তার একাত্তরের বিশটি ভয়াবহ যুদ্ধ। মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি লিখিত। বইটা কিশোরদের জন্য লেখা। বিশটি যুদ্ধের সহজ বিবরন। তবে বইটার সব চেয়ে ভালো জিনিস হলো প্রতিটা যুদ্ধের ম্যাপ দেয়া, একটা সাধারণ ভুমিকা লেখা, কে কে যুদ্ধে কি অবদান রেখে ছিলো তার সরল বিবরন। গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় নি। দেখানো হয় নি যুদ্ধের করুন পরিস্থিতি। স্রেফ মিলিটারী স্টাইলের ব্রিফিংয়ের মতো লাগবে পড়তে। আরো লাগবে যোদ্ধাদের অতি দেশ ও ধর্ম প্রেমের বয়ান। এতোটুকুই। তবে বইটা সফল বলতে হবে। তিনটা মুদ্রন অলরেডী পাবলিশড। এই ধরনের বইয়ের এতোটুকুই প্রয়োজন যে বাঙ্গালীর অসম সাহসিকতা আর দেশ প্রেমের গল্প থাকে দারুন ভাবে। কিন্তু যুদ্ধ যে কতো বিশাল ব্যাপার তার গভীরে যাওয়ার পথ থাকে না। এরকম আমি আরো অনেক বই দেখছি যেখানে শুধু আহত নিহত আর অস্ত্রের হিসাব লিখে দেয়া। কিন্তু যুদ্ধ যে একটা মানবেতর বিষয় এখানে মানুষের জীবন কতোটা অনিশ্চিত তার হিসাব থাকে না তেমন।গনহত্যা ও নৃশংসতার ছবি অনেকটা দায়সারা ভাবেই দেখা হয়। আহমদ ছফার একটা দারুন স্মৃতি কথা

কখন তোমার আসবে টেলিফোন...

"বাংলা এখন" নামের কোনো চ্যানেল আছে তা আমার জানা ছিলো না। আজ আরো জানলাম তাদের একটা প্রোগ্রামও আছে নাম- কখন তোমার আসবে টেলিফোন। অনুস্টানটার টাইটেল অত্যন্ত খেত। কিন্তু কনটেন্ট ভালো। কি কনটেন্ট? কনটেন্ট হলো যেকোনো শিল্পী সরাসরি ফোনে দর্শকদের সাথে আলাপ করবে। দর্শক যা মন চায় প্রশ্ন করবে!

নাম নাই তাই দাম নাই এই দিনগুলোর!

শেষ দিন হয়তো আজ কাল যে সকালে আমি চা খাচ্ছি। আবার এক মাস পরে হয়তো ঈদের দিন প্রথম সকাল বেলা চা খাবো। মাঝখানের এক মাস কাটবে রোজায়। এইসময়ে আমি হা করে ঘুমাবো, কারেন্ট থাকবে না, দুপুরে এতো জ্যামের ভেতরে ক্লাসে যেতে হবে আর ইফতারীর আগে ফিরতে পারবো কিনা তা নিয়ে টেনশন। প্রথম সাত আট দিন জনগনের তীব্র ইসলামী ভাবাবেগ। রোজা বাড়ার সাথে সেই আবেগ ফিকে হয়ে শপিং মলের দিকে ধাবিত হওয়া এই করেই চলছে বছরের পর বছর। আমি অবশ্য অনান্য ওয়াক্তের নামায বাসায় বা মসজিদে পড়লেও তারাবী মোটেও পড়ি না। তারাবী পড়তে মোটেও ভালো লাগে না কোনো কালেই। বরং তারাবীর সময়টা আড্ডা মেরে কাটাতে খুব ভালো লাগে। বারবার মনে পরে বাল্যকালের তারাবীর সময়ের যতো দুষ্টামি করছি সেই সময়ের গল্প। এই সব গল্প অবশ্য আগের বছর অনেক করছি। খুজে দেখলাম আগের বছর রোজা উপলক্ষে আমার মেলা পোস্ট। সেই পোস্টে ঘুরে ফিরে এইসব আলাপ আসছে বারবার। এই সব ব্যার্থ দিনলিপি ছাড়া লেখার মতো কিছু খুজে পাই না। ভাবছিলাম বই নিয়ে লিখবো তাও গত কয়েকদিন ধরে পাবলিক লাইব্রেরীতে যাই না তাই লেখাও হয় না। রোজার ভেতরে পুরাই বেকার বেকার দিন কাটবে ক্লাস ছাড়া। তখন চাইলেও পাবলিক লাইব্রেরীতে যাওয়া হবে

কলকাতা সিনেমা নিয়ে কথাবার্তা কিস্তি দুই

এই সিরিজের প্রথম পোস্টটা লিখছিলাম পাচ মাস আগে। তারপর চলে গেলো কত সময়, কলকাতার সিনেমাও কিছু দেখলাম নতুন কিন্তু তা নিয়ে লেখা হলো না। কাল রাতে পোষ্টটা লেখার প্ল্যান মাথায় আসে। কালকেই লিখে ফেলতাম কিন্তু পিঠে ব্যাথায় পর্যুদস্ত আর এক বন্ধুর সাথে ফেসবুকে আলাপ করতে করতে সময় চলে গেলো। আমার এরকম প্রায় হয়। ব্লগে লিখতে বসে অন্য ট্যাবে ফেসবুক চালু থাকে। দেখা যায় ফেসবুকে আজাইরা লাইক আর গুতাগুতি করতে করতেই সময় শেষ। ফেসবুকের চেয়ে সময়ের অপচয় আর কিছুতেই হয় না। খুব মেজাজ খারাপ লাগে কিন্তু ঘুরে ফিরে মোবাইলে কিংবা ল্যাপটপে তাই খুলে বসে থাকি। আগের মতো স্ট্যাটাস দেই না, গানও তেমন শেয়ার করি না তাও ফেসবুকেই বসেই থাকি। তবে বন্ধু সোহেল বাসায় তাই ও আমার সামনে বসে ওর ফেসবুক চালানো দেখি, মজা লাগে। আমার রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ডরা তেমন একটা ফেসবুকে নাই। ফেসবুকে তাদের ইচ্ছা করেই রাখি নাই। কিন্তু আমাদের পুরা সার্কেল ফেসবুকে কি করে তা নিয়ে ধারনা পাওয়া যায় সোহেলের ফেসবুক দেখলে। যেমন আমাদের ব্যাচের ছেলেমেয়েরা খুব পেরেশান ছিলো এই দুইদিন মোবারকরে নিয়ে। মোবারক কে?

বন্ধু সামিয়ার বিয়ে!

শিরোনামটা মায়াবতীর বিয়ে লিখলে ভালো লাগতো। কিন্তু ইচ্ছা করেই লিখলাম না। কারন এই ব্লগের একজন মায়াবতী কিংবা তার সিসিমপুর বাহিনীর গল্পের চেয়ে বন্ধু সামিয়াই আমার কাছে বেশী আপন। সামিয়ার অবশ্য নামের শেষ নাই। সবার আদরের ছোটো বোন বলেই তার নাম কেউ ডাকছে স্বর্নালী কেউবা পিংকী। আর ছোট্ট শ্রেয় তার আব্বুর মতো পিংকী বলতে পারতো না তাই ডাকতো পিপু বলে। পিপু নামটা আমার খুব পছন্দের। শতকরা ষাট ভাগ এসেমেসে আমি ওকে পিপু নাম ডাকছি। তবে ভালো নাম সামিয়া সেইটারও আবেদন কম না। জানি এই পোস্ট ও কবে না কবে পড়বে ঠিক নাই!

বোরিং...

বোরিং। নিজের সমন্ধে এই একটা শব্দই সব চাইতে বেশী যুতসই মনে হয়। বোরিং মানে সব সময় বোরিং ফিল করি তা না। বোরিং মানে বুঝাচ্ছি এন্টারটেইনিং না। বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলে দাঁড়ায় খাপ খাওয়াতে না পারা, কোনো অনুস্টানে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকা, চারিদিকে এত মজা আনন্দ তার দিকে সন্দেহের চোখে তাকানো, অল্প পরিচিত মানুষদের সাথে মিশে গিয়ে হাসি ঠাট্টা না করতে পারা। মোটের উপরে কথা অভ্যস্ত না এমন একটা হাঁসফাঁস আচরন কোথাও গিয়ে করে বেড়ানো। আবার সেই অনুষ্ঠানেই যদি আমার বন্ধু বান্ধবদের এনে দেওয়া যায় তবে আমার চেয়ে লাফালাফি আর কেউ করবে না, আনন্দের অতিসায্যে খেই হারিয়ে ফেলবে। তার মানে কি দাঁড়ালো? তার মানে আমি নিজের জগৎ নিজের বন্ধুময় পরিবেশ ছাড়া যেখানেই যাই ডিসওরিয়েন্টেড বোরিং ফিল করি। এই বিষয়ে ভালো জিনিস বলছিলো আমার বন্ধু অবশ্যই মেয়ে যার সাথে তাম্রযুগে আমার ভাব ভালোবাসা ছিলো। সে বলছিলো "বন্ধুদের সাথে দেখি তোমাকে কথার তুবড়ি ছোটাও, আমার সামনে আসলেই দেখি কোন কথাই খুজে পাও না। আমি যাই বলি শুধু তারই এন্সার দেও।" শুনে আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। আসলেই তো আমি এমন কেন?

বলিউড হলিউড ভেরী ভেরী জলি গুড!

ইচ্ছা করেই দুই তিন দিন পোস্ট লিখি নাই। কারন টানা পোস্ট লেখার কিছু নাই। আমি তো ওতো মহান লেখক না যে লিখতেই হবে। লিখি সাদামাটা দিনলিপি তা মিস গেলেও কিছু করার নাই। আর যাদের লেখার কথা তারাই যদি না লিখে তবে কারোর কিছু আসলেই করার থাকে না। আর একটা লেখার পরে যখন দেখি মাত্র তিন চারটা কমেন্ট তখন খুব কস্ট লাগে। তবে এতো কস্ট জীবন নস্ট। তাই এখন আর কস্ট পাই না। ধরেই নেই অনেকেই পড়বে লেখাটা, হয়তো ভালোও লাগবে, কিন্তু কেউ কমেন্ট করবে না। তবে কমবেশী পড়ে যে অনেকে লেখা তা আমি মানি। নয়তো কবে কি লিখছি তার রেফারেন্স মাঝে মাঝেই এমন মানুষদের কাছ থেকে শুনি যাদের আমার লেখা পড়ার কথা না। অনেকেই বুকমার্কড করে ফেলছে চেনা জানা শুভাকাংখীরা তারা নিয়মিতই জানায় মন্দলাগা ভালো লাগা। আমি কতো কস্ট করে পোস্ট লিখি তা নতুন করে বলার কিছু নাই। আপনারা যখন এই পোস্টটা পড়ছেন তা লেখার জন্য আমাকে সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে ভাবতে হইছে কিন্তু তখনই তো আর লেখা যায় না। লেখার সময় ফিক্সড হয় ভাত খাওয়ার পরে। বুয়া আসে নাই লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে মামা রান্না করলো। আমি মনের সুখে ওয়ান্স আপন টাইম মুম্বাই এগেইনের কাওয়ালী সুফী মিক্সড একটা গান বারবার শুনতে শুনতে

আহমদ ছফা জন্মের ৭০ বছর পেরিয়ে!

আহমদ ছফা আমার এতো পছন্দের লেখক তাও উনাকে নিয়ে লেখার দুঃসাহস কখনো করি না। কারন যাদের মানুষ দেবতা তুল্য ভক্তি করে তাদের নিয়ে আসলে লেখা যায় না। আর আমি আসলে অন্য যেকোনো লেখক নিয়ে ঢালাও মন্তব্য করতে যেমন গায়ে বাধে না। কিন্তু পছন্দের লোক নিয়ে কেউ মন্তব্য করলে শুনি, নিজের আর কিছু বলা হয় না। কারন আমার পছন্দ সবার পছন্দ হতে হবে এরকম ফান্ডামেন্টালিস্ট চিন্তা আমার কখনোই ছিলো না। যখন সবাই মাসুদ রানা পড়ে সেই আমল থেকেই আমি হুমায়ুন আহমেদের লেখা বড়দের জন্য নানান উপন্যাস সমানে গিলছি। চিটাগাংয়ে শিবির আর ছাগুর বাম্পার ফলন। সেই বন্ধুরা তখন শাওন হুমায়ুন আহমেদ বিয়ে নিয়ে আদি রসাত্মক ফাজলামী করতো। আমি চুপচাপ শুনতাম। কি বলবো?