ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

শ্রেষ্ঠ সময়ের ক্রান্তিকাল

খুবই মন খারাপ। এরকম মন খারাপ খুব একটা হয় না সচারচর। এতো গুলো মানুষ মারা গেলো, মরছে ভাবতে অসহ্য লাগতেছে। ভোর বেলাতেই উঠে বসে আছি আর ভাবছি কি হবে দেশটার? ৩৭-৪০ জন মানুষ গতকাল মারা গেছে। এর ভেতরে পুলিশ আছে শিবিরের কর্মী আছে হয়তো আমজনতাও আছে। মৃত্যু আমার কাছে খুব কঠিন জিনিস মনে হয়। অথচ এই দেশে মানুষ কতই না সহজ ভাবে মারা যায়! কেউ জীবন দেয়, কেউ জীবন নেয়। সার্কেল চলছে। অথচ পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যূ খবর শুনলে আমরা কত বিচলিত হই, ভাবি এর চেয়ে অস্বাভাবিক কিছু আর হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে সকাল বিকাল নাস্তা করার মতই সহজ ব্যাপার যে আজ কয়জন মরছে আর কিভবে মরলো? এই যে আমরা বেচে আছি এতো আনন্দ ফুর্তিতে দিন যাপন করতেছি তার জন্য কত মানুষ মরে প্রতিদিন মুল্য দিতেছে তা কি আমরা ভাবি? এরকম সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে মনে হয় যেকোনো দিন আমি আপনে যতই সতর্ক থাকি আঘাত আসতে পারে। কারন বুলেট বোমা এইসব মানুষ দেখে হয় না!

পাহাড় আর নদীর গল্পঃ চেনা অচেনা যাপিত জীবনের আখ্যান

আজ পোষ্টটা দেয়া নিয়ে একটু সন্দিহান ছিলাম। তবে লেখাটা জরুরী ছিলো কারন বই মেলা প্রায় শেষ দিকে। কিন্তু এদিকে এবিতে প্রথম পেজে আমার পোস্ট চারটা। তাই একটু চিন্তা করে ডিসিশন দিলাম দিয়া ফালাই। জীবনে কি আর আছে খেতা আর বালিশ! একজন একটা লিঙ্ক দিলো তাই অন্য একটা ব্লগ সাইটে ঢুকলাম। সেখানে যে এবির চেয়ে খুব মান সম্মত পোস্ট আছে তা না কিন্তু আছে শুধু একটিভ ব্লগার আর যুতসই ইউসার ফ্রেন্ডলী সাইট। আমাদের এবিতে যে ধরনের পোষ্ট লেখা হয় তা কোনো অংশেই খারাপ না। কিন্তু আমাদের সার্কেলটা আমরা এতোই অলস যে আমাদের অতিথি থেকেই ব্লগ পড়তে ভালো লাগে আর ফেসবুকে তা না জানাতেই আনন্দ পাই। আমি আগে ফেসবুকে জানাতাম না যে কি লিখলাম,এখন জানাই কারন শেয়ারের কারনে অনেকেই লেখা পড়ে যাদের কখনোই পড়ার সম্ভাবনা ছিলো না। আর এবির নিয়মকানুন একটু কড়া তবে তাতে লাভ আমাদেরই। কিন্তু নিজেরাই যদি লগ ইন না করি তবে পোস্ট পড়বে কে? আর লিখবেই বা কে? তাই কাল যখন অনেক লগ ইন দেখলাম, তখন শান্তি পাইলাম না এবিতেও লোক হয়। আর আমার পোস্ট বাদে অন্য পোষ্ট গুলান যা দারুন ছিলো তাতো বলার কিছু নাই। যা শালা! আমি এই সব কইতেছি কেন?

কামাল ভাই, শ্রদ্ধাভাজনেষু!

গত পরশুদিন রাতে বাসায় ফিরে আমার মনটা কোনো একটা অদ্ভুত কারনে খুবই খারাপ ছিলো। হুট করেই আম্মুর কথা খুব মনে হলো। তবে দেশ গ্রামে থাকে ১১ টাতে ফোন দিয়ে বিরক্ত করার মানে নাই সেইরাতে। কি আর করা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম ওয়ারফেইজের একটা গানের একটা লাইন আছে এমন 'এ সবই তো সুন্দর, এ জীবনের আনন্দ/ তার থেকেও সুন্দর আমার মা।' আর তখনি দেখলাম টেবিল পড়ে আছে কামাল ভাইয়ের দেয়া উপহার লিটলম্যাগ 'ধাবমান ৯' যার ট্যাগ লাইনে বলা আছে সাহিত্য আন্দোলনের কাগজ। এবারের বিষয় যার যার মা। মেলার ভীড়ে তা ভালো করে দেখা হয় নাই। খালি একটা জিনিসই দেখছিলাম সলিমুল্লাহ খানের লেখা আছে। ছফা ভক্ত হবার কারনে বাই ডিফল্ট আমার সলিমুল্লাহ খান পছন্দ। যদিও তার বিভিন্ন শব্দের আরবী ফারসী সাধু বাংলা করন আমার পছন্দ না। তাও তার লেখা চিন্তা ভাবনা, রেফারেন্স আমাকে মুগ্ধ করে। আমি এখনো বই মেলার থেকে কেনা বই গুলা পড়া শুরু করি নাই সেভাবে। শুধু মাসুম ভাইয়ের বই, তাতা আপুর বই, আর মোস্তাক শরীফের একটা বই পড়ে শেষ করছি। আর পড়ছিলাম মাহবুব মোর্শেদের গুরু ও চন্ডাল আর নাসির আলী মামুনের আহমদ ছফার সময়। আমি সাধারনত যেগুলা বই পড়ছি তার বাইরে কোনো বই নিয়ে বসি না। ক

আলামীন আশীষদের মতোন ছেলেরা যে কারনে বিদেশে যায়।

আজ সকাল থেকে উঠেই আমার মন মেজাজ ভালো না। একে তো পচিশে ফেব্রুয়ারী বিডিয়ার বিদ্রোহের নির্মমতার কথা তার সাথে সাথে বই মেলার স্টল আগুনে পোড়া আবার রাতে বাজে স্বপ্ন দেখে হতাশ, মন আজ সকাল থেকে উঠেই ভালো না।কি আর করার মানুষের জীবন এমনই। অনেক কিছুর মিলিয়ে একটা মন খারাপের অবস্থা তৈরী হয়। তার ভেতরেও সকালে একটা পোস্ট লিখলাম। উইন্ডো ট্যাব খুলে অনেক কিছুই পড়ছিলাম তার ফাকেই লিখে ফেললাম। মনে করলাম বেশী সময় তো লাগে নাই আর লগ আউটও হয় নাই এখানে থেকেই প্রকাশ করুন দিয়ে দেই সেভ না করেই। দিলাম আর দেখালো এক্সেস ডিনাইড, পোস্ট উধাও। মেজাজটা যত খারাপ হবার কথা ছিলো ওতো খারাপ হলো না। খালি দুই ঘন্টা সময় নস্টের জন্য নিজেকে অভিশাপ দিলাম। এই দুই ঘন্টা সময় দিয়ে বই পড়লে মাহবুব মোর্শেদের বই গুরু ও চন্ডালটা শেষ করে ফেলতে পারতাম। কি আর করার সময় খারাপ। আমারই শুধু এমন হয়। মন ভালো করতে গেলাম চায়ের দোকানে দেখি খা খা রোদ। শ্রমিক মিস্ত্রি লোকজন রুটি কলা খায়তেছে। বসার জায়গা নাই। আমাকে দেখার সাথে সাথেই সবাই উঠে পড়তে পরি মরি অবস্থা। আমি বলি এতো ব্যাস্ত কেন আপনারা?

কলকাতার কিছু সিনেমা নিয়ে কথাবারতা

টিভি দেখি না গত চার পাচ মাস ধরে। এতে উপকার অপকার দুটোই আছে। এতো বড় আন্দোলন গেলো কত খেলা টেলা গেলো কিছুই দেখতে পারলাম না টিভিতে। আর উপকারের দিক হলো টেলিভিশন না থাকলে অনেক কাজে মন বসে। অনেক সময় নষ্ট বন্ধ হয়। এই যে গত সাতদিন কত গুলান বই পড়লাম তার কোনো কিছুই সম্ভব হতো না টিভি থাকলে। এই যে দুপুর বেলা পড়তে বসি সকাল বেলা ব্লগ লিখি টিভি থাকলে খালি রিমোট চেঞ্জ করতে করতেই টাইম শেষ হয়ে যেতো। তবে আমি টিভি দেখতে পারি না এই আপসোসটা আম্মুকে খুব জ্বালা দেয়। বলবে 'বাড়ীতে আয় কারেন্ট টারেন্ট থাকে ভালো মন্দ খায়া টিভি দেইখা যা' মায়ের এই আদরের আসলেই কোনো তুলনা নাই।

তবে টিভি না দেখতে পারার কারনে এতো চ্যানেলে কি সব সার্কাস চলে তা নিয়ে ব্লগে লিখে ফাটাতে পারতেছি না। বাসা তো সেই আগেরটাতেই আছি এই বাসায় থাকলে আবারো ১০০০ টাকা লাইন চার্জ নিয়ে ডিস নেয়ার কোনো মানে হয় না। কিন্তু সমস্যা হলো আমি সিনেমা দেখারও অতো লোক না। রিমোটের ফাকে মাঝে সাজে টিভিতে সিনেমা দেখাতেই আমার আনন্দ। পিসিতে সিনেমা দেখার অভ্যাস একেবারেই নাই। আর এই জন্যেই এতো টাকা পয়সা প্রাপ্তি সত্তেও আমার পিসিতে ডিভিডি রম নাই আছে একখান সিডিরম।

কালো অর্থনীতির তথ্যপুর্ন, রসাত্মক, সহজ পাঠ!

প্রথমেই বলে নেই আমার রিভিউ আমার মতোই সাধারন। একটা বই পড়ে আমার মতো সাধারন মানুষের কি অনুভুতি হলো তাই জানানোই আমার রিভিউয়ের দায়। এর বাইরে আর কিছু নাই। আমি কোনো একাডেমিক রিভিউ লিখতে বসি নাই। তা লেখার মেলা লোক আছে। আর লীনা আপু রিভিউ লেখার পড়ে এ বই নিয়ে আরও নতুন কিছু বলা সম্ভব কিনা তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভাবছি।

শিরোনামে আমি বলতেছি কালো অর্থনীতি। কালো শব্দটা আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ না কারন চায়ের দোকানে বসতে বসতে আর বাইরে থাকতে থাকতে চেহারার ভেতরে যে শ্যামবর্নের ব্যাপার স্যাপার ছিলো তা তুমুল মাইর খেয়েছে। তাই কালোদের নিয়ে কিছু বললে এখন নিজেরই লাগে। আর পুলক যে ভাবে লোকজনকে নাক সিটকিয়ে বলে ঐ কাইল্লাটা কই গেলো? (আমারে না) তখন নিজের অন্তরাত্মা কেপে উঠে। একদিন হয়তো আমারো শুনতে হবে এমন ডাক। কিন্তু কালো অর্থনীতি বলা দোষের কিছু না। যেমন দোষের না কালোবাজার বা কালো টাকা বলা। বলাই যেতে পারে। আর আনু মুহাম্মদ সাহেবের মতো অজস্র লোকেরাও তাদের বইতে কালো শব্দটাই বারবার ব্যাবহার করেন।

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ নয়!

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজ আমার মন খারাপ। মাঝে মধ্যে সকাল গুলো কেমন জানি হয়ে যায়। কিছুই ভালো লাগে না। ক্লান্তিতে দেড়টায় ঘুমালাম সাড়ে সাতটায় উঠলাম। খারাপ সময় ঘুমাই নি কিন্তু কেমন জানি লাগছে। যদি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই যে সকালে ঘুম থেকে উঠেই মন শরীর ভালো লাগছে না। তাহলে অবধারিত ভাবে লোকজন বলবে মেয়েলী স্ট্যাটাস দেয়। তাও ভালো লাগছে না। নাস্তা করি নাই কিছুই তাও লিখছি বসে। গতকাল ছিলো একুশে ফেব্রুয়ারী। ছোটবেলা থেকেই আমার মাথায় প্রশ্ন আসতো কেনো একুশে ফেব্রুয়ারী বলা হয়? কেনো ৮ই ফাল্গুন বা নয়ই ফাল্গুন বলা হয় না?

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ আট!

আবার লিখতে বসলাম সকাল সকাল। রাত তিনটার দিকে ঘুমিয়ে আট টায় উঠলে শরীরটা একটু ম্যাজম্যাজ করে। তার ভেতরে সকাল নাস্তা করা হয় না। তাই কেমন কেমন জানি লাগে। বাবা মায়ের সাথে যখন ছিলাম তখন কোনোকালেই নাস্তা জিনিসটা আমার এতো আরাধ্য ছিলো না। ঘুম থেকে উঠতাম দেখি আম্মু নাস্তা বানিয়ে রেডি তাই অল্প খেতাম। কিন্তু এখন ঘুম থেকে উঠি দেরীতে, নাস্তা প্রাপ্তির কোনো সম্ভাবনা নাই তাই চা বিস্কুটই ভরসা। ইহাই উত্তম নাস্তা। তবে আজ বিস্কুটও নাই খালি চা। আর ওদিকে বাকীর চায়ের দোকান তো উঠে গেছে। তাই সকাল সকাল বের হতেও ইচ্ছা করে না।

ফড়িংয়ের ডানাতেও এই জীবন দেয় ডাক!

শিরোনামটা কবীর সুমনের গান থেকে ধার করা। আমার মাথায় এতো কাব্য কিংবা উপমা আসে না কখনো তাই এ ধার ও ধার করেই চলি! আর এখন যে অস্থিরতার ভেতরে আছি তাতে কাব্য আসার কোনো সম্ভাবনাই তাই। তাও এই পোষ্টটা লিখছি স্রেফ মন মেজাজ হালকা করার জন্য সাথে হালকা থাকার জন্যে। কাল মামা সেই মাঝ রাতে বাসায় ফিরলো। আমি কামাল ভাইয়ের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভাগ্যিস দরজা খোলার গেঞ্জামে পড়তে হয় নাই। নয়তো সাড়ে তিনটায় উঠে নীচের তালা যেয়ে চাবি নিয়ে দেনদরবার করতে হতো। আমাদের বাসাটা এদিক দিয়ে অসাধারন। রাত যতই বাজুক গেট নিয়ে টেনশন নাই। তারপর বাসাটা ছাদের উপরে। মানুষ যে ধরনের বাসায় থাকার স্বপ্ন থাকে আমার বাসাটা ঠিক তেমনি। সব দিক থেকেই দারুন। খালি ডিশের লাইন নিয়ে একটা গেঞ্জাম তাই চার মাস ধরে টিভি দেখতে পারি না আর বাসা থেকে টাকা নিয়ে চলতে হয় ইহাই বড় সংকট। তা না ছাড়া স্বর্গে আছি। বাবা মা কে খুব মিস করি কিন্তু কি আর করা সেই মিস সবাই করে। বাবা মায়ের সাথে থেকেও তা করে এই যা।

মন খারাপের ভিতর বাহির!

ইতিমধ্যেই রাজীবের নির্মম জবাই পরবর্তি শোক আমরা কাটিয়ে উঠছি। বরং সে নাস্তিক নাকি আস্তিক? তার জানাযা পড়া উচিত নাকি অনুচিত? শেষ মেষ কেনো একজন নাস্তিক কেনো পলিটিক্যাল জানাযাতেই আশ্রয় নিতে হলো এর মানে কি? সে যে সমস্ত পোস্ট লিখছে সেগুলো তার লেখা নাকি? আর লেখা পড়েই কেউ তাকে মেরেছে নাকি? জামাত শিবিরের উপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউ করলো নাকি কাজটা? হাবিজাবি নানান প্রশ্নে ফেসবুক ব্লগে খাবি খাচ্ছে জনতা। আমি খালি একখান কথাই বলবো ফেসবুক ছাড়া যারা দিন কাটায় তারাই আছে সুখে। নয়তো বাংলাদেশে ফেসবুক এমন এক পরিস্থিতিতে যাচ্ছে যে অসুস্থ লোকেরাই শুধু যাবে। একাউন্ট ডিএক্টিভেট করলে ভালো হতো কিন্তু তা আর করছি কই? ঘুরে ফিরে এই ফেসবুক। আর সেইখানে বসে বসে আজাইরা মানুষের বস্তাপচা প্রশ্ন আর দোহাই দেখতে আর ভালো লাগে না!

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ সাত!

পোষ্ট তো কেউ পড়ে না তাই কমেন্টও হয় কম। এরকম পরিস্থিতিতে পোস্ট কম দেয়াই ভালো। তাও অতো ভেবে লাভ কি? আরেকটা পোস্ট শুরু করি। জানালা খুলে বের হয়ে ছিলাম বাসা থেকে তাই এসে দেখি বাসা ভর্তি মশা। এখন পাব্লিক ডিমান্ডে আমার মশার কামড় খেতে খেতে লিখতে হবে, কি একটা বিপদ! কত কষ্ট করে একেকটা পোস্ট লিখি তা তো পাব্লিক বুঝে না তাই কমেন্টও করে না এই মরা ব্লগে। এই ছিলো আমার কপালে!

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ ছয়!

আমি ইদানিং খুব ভালো প্রাক্টিক্যাল মিথ্যে কথা বলতে পারি। আগেও পারতাম। কিন্তু এখন তা পারফেক্টশনিস্টের পর্যায়ে চলে গেছি। আব্বু আম্মুর সাথে প্রতিদিন দেখা যায় ডজন খানেক আংশিক মিথ্যা বা পুরোটাই মিথ্যাতে বলে চলে যায়। এই তো গত পরশু দিন আব্বু ফোন দিলো'শাহবাগে যাস? আমি বললাম না ভার্সিটিতে ব্যাস্ত তাই যাই না আর কি। আব্বু বলে ওইদিকে অনেক গেঞ্জাম, সারাদিন তো পাঞ্জাবী পড়োস, তোকে শিবির মনে করে যদি ধোলাই দেয়, সাবধানে থাকিস' আমি বলি ' না আব্বু আমি গেঞ্জামে যাই না তবে ইন্টারনেট থেকে সংহতি জানাই। আব্বু বলে তাই ভালো। ভাইয়া বলে আন্দোলোনে যাস? আমি বলি আমাদের আন্দোলন আমরা যাবো না কেন? প্রতিদিন যাই। ভাইয়া বলে সাবাশ। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আর কাকে বলে? আমি নিজেও এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে আটকানো। এমন অনেক কথা বলি যা মাঝে মধ্যে নিজেই খুব একটা বিশ্বাস করি না। তাও বলি বাবা মা বন্ধুদের খুশী করতে। যাপিত জীবনে সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে হলে মিথ্যে বলার বিকল্প নাই। তবে আমি তা সর্বোচ্চ মাত্রায় বাবা মায়ের সাথেই প্রয়োগ করি। আর বন্ধু বান্ধবদের সাথে যতো কমে পারা যায়।

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ পাঁচ!

আজ সকালেই মামা চলে গেলো বাড়ীতে। যাবে জামালপুর সকালের ট্রেন অগ্নীবিনাতে। আমারো যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু এই ক্লাস টাস শাহবাগ অবরোধ ফেলে বাড়িতে যেতে ইচ্ছা করলো না। যদিও বাড়িতে যাওয়াটা খুব ইম্পোর্টেন্ট। তবে মামা এতো সাত সকালে গিয়েও পড়ছে ফ্যাসাদে। ট্রেন ছাড়ার কথা নয়টা ২০য়ে। কিন্তু এখনো ট্রেনের কোনো নাম গন্ধ নাই। সেই নভেম্বরে বাড়ি থেকে এসে আর গেলাম না। অথচ উত্তরবংগ, খুলনা এতো দুরে দূরে বাড়ী থেকেও লোকজন প্রতি মাসেই চলে যায় একটু সময় পেলেই। আর আমার বাড়ীতে যাওয়াই হয় না। আসলে বাড়ী আমার খুব যেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কাহিনী হলো বাড়ীতে এতো আদর যত্নের পরেও বারবার যখন মনে হয় আব্বু আম্মু আমার জন্য এতো কষ্ট করলো তাদের জন্য কি দিলাম? আমি কি করলাম জীবনে?

গ্যালাক্সি এস!

ছেলেটা বড় হয়েছে খুব আদরে। চার বোনের পর এক ভাই। বোনেরা মোটামুটী অনেক বড় বড়। তাই বোনদের ভালোবাসায় আর দুলাভাইদের আশকারাতেই তার কিশোর বেলা কাটছে। হুট করে ছেলেটার বাবার চাকরী থেকে অবসর। তল্পি তল্পা গুটিয়ে বাড়ীতে থাকা। ছেলেটা তার বোনদের বাসায় থাকার জীবন শুরু। চারবোনের ভিতরে তিনবোনই বিরক্ত তা নিয়ে। যদিও ভাগ্নে ভাগ্নিরা মামা বলতে অস্থির। থাকার জায়গার বড় অভাব। যাত্রাবাড়ীতে থেকে প্রতিদিন কমার্স কলেজের ক্লাস চলে ইন্টারমিডিয়েটের। কাক ডাকা ভোরে যায় আর রাত করে বাসায় ফিরে। দুপুরে সিংগারা খেয়েই কাটাতে হয়। আরেকবোনের বাসা নিকুঞ্জ। সেখানেও কিছুদিন আস্তানা গড়ে। কিন্তু কোথাও স্থায়ী না। সেই সময় নিকুঞ্জতে দুটা ভালো টিউশনী পেয়ে যায়। টাকা পয়সার কিছু মুখ দেখে জীবনে আনন্দ খুজে পায়। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেয় যাত্রাবাড়িতে থেকেই। পরীক্ষার শেষ হয়। বন্ধুরা তখন তারা নানান ট্যুর প্ল্যানিং নিয়ে ব্যাস্ত। সে চলে যায় বাড়িতে। বাড়ীতে থাকার কারনে পড়াশুনা কিছুই হয় না আর। বন্ধু বান্ধবের আড্ডা ছাড়া টিভিতে আর লুকিয়ে সিগারেট খাওয়াতেই তার আনন্দ। রেজাল্ট বের হয়। ফলাফল বেশী ভালো না। ঢাকায় এই ভাবে অস্থায়ী থাকাথাকির উপরে জেদ করে সে আর

নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ চার!

অনেক দিন পর আমি সকালে লিখতে বসলাম। রাতে রাতে লিখতে লিখতে এমন অবস্থা হইছে যে রাত ছাড়া লেখারই ইচ্ছা থাকেনা। কিন্তু সারাদিন এই চেচামেচির পরিবেশে থেকে, মাথা ব্যাথা আর মশার কামড় খেতে খেতে বিরক্ত লাগে। আর না লিখলে মনে হয় হুদেই লেখলাম না। এই জটিল পরিস্থিতিতে আজ সকাল সাড়ে সাতটাতেই ঘুম থেকে উঠলাম। চা বানাতে বানাতে ভাবলাম পোস্ট লিখে ফেলি। ক্লাস টেনে থাকতে আমার বাসার উপর তালায় থাকতো ক্লাস মেট মেধাবী ছাত্রী। আম্মু ফজরে উঠেই তার চেয়ার টানাটানির শব্দ শুনতো। আর আমাকে বলতো শান্ত উইঠা পড়, মেয়ে মানুষ হয়ে কত সকালে ঘুম থেকে উঠে! আমিও উঠে যেতাম। এইসব সকালে আম্মুর কথা খুব মনে পড়ে। এখন আর ভোরে ডাক দেয়ার কেউ নাই মায়ের মতো। যখন যতক্ষন খুশী ঘুমানো যায় বলার কেউ কিছু নাই। কিন্তু নিজেরই ঘুমাতে ভালো লাগে না।