ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

পনেরোই আগষ্ট, মান্টোর শ্রেষ্ঠ গল্প!

শোক দিবসের এই সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা খেতে খেতে এই পোষ্ট লিখতে বসলাম। কি লিখবো তা আসলে এখনো মাথাতে আসে নি, আর পনেরোই আগষ্টের সকালে লেখা খুব সহজ না। সেই দুঃসহ স্মৃতি যা আজো বাঙ্গালীর এক ভয়াবহ ট্রাজেডীর নাম। আমি অবশ্য খুব শোকার্ত হই না। কারন এই নির্মম হত্যাকান্ডের এক যুগ পরেই আমি দুনিয়াতে আসছি। নিতান্তই আওয়ামী মনস্ক পরিবারে না জন্মালে এই ব্যাপারটা নিয়ে তেমন জানারই সুযোগ রাখে নি সেই সময়ের রাষ্ট্রক্ষমতার মানুষেরা। ছোটবেলায় জিয়ার ক্যাপ সানগ্লাস পড়া ছবি দেখছি ততবার বঙ্গবন্ধুর ছবিও দেখি নি। সেই শিশু মনে আমার জিয়াকেই বেশী গ্ল্যামারাস লাগতো। ৯৬ এর ইলেকশনের পর আমি বঙ্গবন্ধু চিনতে শুরু করি। তা টিভির কল্যানেই। টিভিতে যখনই সাতই মার্চের ভাষন দেখাতো সেই বজ্রকন্ঠের আহবানে শিহরিত হতাম। আমার ক্লাস ফাইভ সিক্সের রাফ খাতা যদি পাওয়া যায়, তবে দেখা যাবে সুযোগ পেলেই আমি এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম এমন লাইন গুলো লিখে রাখতাম। একবার এক টিচার এই জিনিস দেখে তিরস্কারের সুরে বলছিল তুই কি পলিটিশিয়ান হতে চাস?

মায়েরা যেমন হয়!

মায়েরা যেমন হয় এই নামে পোষ্ট কেন লেখছি তা জানি না। অনেকক্ষণ ব্লগের পাতা খুলছিলো না। অভিসম্পাত দিচ্ছিলাম ব্লগকে। কানে বাজছিলো শিলাজিতের গান। হঠাত্‍ করেই দেখি ব্লগ পেজের খোলা গেল। ঈদসংখ্যা আরো দুটো শেষ তা নিয়ে লিখতে ইচ্ছা করছে না। তাই এই পোষ্টটা লিখতে শুরু করলাম শুয়ে শুয়ে মোবাইল দিয়ে। জানি না আদৌ প্রকাশিত হবে কিনা! এই ছোট পরিসরে আম্মুকে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো লেখা ঠিক হবে কিনা জানি। তাও লিখছি কারন মা কে নিয়ে ছোট বড় পরিসরে যে যেভাবেই লিখুক কথার শেষ হবে না। এক বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাসের মতোই অনেক কথা বলে ফেলা যায় খুব সহজেই। আর মায়েদের ভালোবাসি না বাসি, আমাদের জাতির আদিখ্যেতার তো শেষ নাই মাতৃভক্তি নিয়ে। তাই সেই চিরচেনা স্নেহ ভালোবাসার কথাগুলাই লিখতে বসলাম!

ঈদ এসে ঈদ চলে যায়!

ঈদ শেষ হয়ে গেলো। মুক্তি পেলাম। এখন ঈদ আমার কাছে একটা দিন যেদিন ভোর বেলায় গোসল করে সকাল নামায পড়া, সারাদিন টিভি দেখে, আম্মুর হাতে ভাল খাওয়া আর হাসি সুখীময় মুখ নিয়ে বসে থাকা! অনেকেই বলবেন ভালোই তো যাচ্ছে, বাবা মার কাছে বাড়ীতে একাকি এত আতিথেয়তায় দিন কাটানোর সুযোগ সময় কয়জনের হয়? তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু ঠিক বেঠিকের এই দোলাচলে বন্ধু বান্ধব ছাড়া দিন পার করা আমার পক্ষে কষ্ট। কতটা কষ্ট তা বলা কঠিন! তবে এই গত তিনবছর ধরে ক্রমাগত ঈদে এই একাকি ঈদ পালন করতে যেয়ে বড্ড বোর হচ্ছি। নানুবাড়ীতে গেলেই অবশ্য সমস্যার সমাধান, সেখানে মামা আছে আরো অনেক মানুষ। কিন্তু যেতেই ইচ্ছা করে না। কি অদ্ভুত আমার নিস্পৃহতা। সারাদিন টিভি আর বই পড়েই ঈদের দিন গুলো পার করলাম। টিভিতে আসলে দেখার মত কিছুই হয় না। তাও অনবরত চ্যানেল পাল্টে গেছি, ভুষি মাল মার্কা সব প্রোগ্রাম গিলে খেয়েছি। গিলে আবার মনেও রেখেছি ঢাকায় ফিরে লিখবো বলে । আমার মত পিছ জগতে বিরল এইসব রদ্দি মাল দেখে তা নিয়েও কেউ এতো সময় নষ্ট করে আবার লিখবে!

ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যা ২০১৩ পাঠ প্রতিক্রিয়া

সবাই মোবাইল দিয়েই পোষ্ট লেখার কথা বলতেছে জোরেসোরে। আমি আবার মাটির মানুষ কারো কথাই খুব একটা ফেলতে পারি না। আর আমার লেখা পড়তে যারা চায় তাদের জন্য এই চোখে হাতে অসহনীয় ব্যাথা করে হলেও লেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। গুটি কয়েক মানুষও যদি আমার লেখা পড়ে ভালো লাগা মন্দ লাগা কাজ করে- তাহলে এরচেয়ে সুখের আর কী। রাতে তো জেগেই থাকি। সময়টাকে কাজে লাগানো যাক। তবে কাল মোবাইলে লিখতে গিয়ে নতুন এক সমস্যা আবিস্কার করলাম, তা হলো স্পেস টিস্পেস সহ মাত্র পাচ হাজার ক্যারেক্টার টাইপ করা যায়। খুব বেশি কিছু চাইলেও লেখা যায় না। পাচ হাজার যদি লিখিও দেখা যাবে আউট অফ মেমোরী। তাতে পুরো জিনিসটাই পন্ডশ্রম! যাক লেখা শুরু করি। ঝুকি তো থাকছেই আদৌ পোষ্টটা প্রকাশ করতে পারি কিনা!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলের জন্মদিন ও আমার দিনকাল!

ভেবেছিলাম মোবাইলে পোষ্ট লিখবো না তাও সাহস করে লিখতে বসলাম। মোবাইল হ্যাং করার কারনে পোষ্ট না প্রকাশ করতে পারার হান্ড্রেড পারসেন্ট সম্ভাবনা নিয়েই এই পোষ্ট লিখছি। আড়াই ইন্চির স্ক্রীনে লিখতে গেলে ব্যাপক ধৈর্য তার সাথে চোখের ও হাতের অনেক ব্যাথা সহ্য করতে হয়, অনেকদিন মোবাইলে লিখি না তাই পারবো কিনা জানি না তাও চেষ্টা করি। দেখা যাক কী হয়!

ফিরবো ঘরে, কোথায় এমন ঘর?

ঘরে ফেরা বাঙ্গালীর সব সময়ের নস্টালজিয়ার জায়গা। সিনেমায় এই নষ্টালজিয়া দেওয়া হয়, গান বাজনায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়, কর্পোরেটরা এখন এডেও ঈদের বাড়ী ফেরা নিয়ে মোটামুটি স্বপ্নের ভ্রমন বানিয়ে ছেড়েছে। মিস্টি জিংগেলে জানান দেয় স্বপ্ন যাবে বাড়ী এবার কিংবা কোরাস গানে ঘরে ফেরা বলে আবেগাক্রান্ত করে দেয় মধ্যবিত্তকে। আমরা আসলে সবাই বাড়ীতেই ফিরতে চাই। কিন্তু বাড়ীতে আত্মীয় স্বজন, অসীম স্নেহ ভালোবাসা আর স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নাই। এতো সব মোহ-মায়া ও পিছুটান কাটিয়ে মানুষ এই নষ্ট শহরে থাকে শুধু উপার্জন কিংবা উপার্জনের পড়াশুনার জন্যেই। এই আয় রোজগারের পথ আর ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি বিস্তৃত ভাবে সব জেলা শহর আর বিভাগে থাকতো তাহলে আমার মনে হয় না কেউ এই শহরে আসতো মরতে!

বীর বিক্রম কর্নেল হুদার জীবন যুদ্ধ ও সেই সময়ের সহজ পাঠ!

রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়ে বিজয়ের ষোলো সতেরো বছর পরে আমার জন্ম। আমার প্রজন্মের ছেলেরা তিন চার টাইপের হয়। কিছু আছে যারা এইসব নিয়ে ভাবে না, কিছু আছে যারা আওয়ামীলীগ বিরোধিতা করতে যেয়ে মুক্তিযুদ্ধকে নিছক ভারত-পাকিস্তানের ব্যাপার মনে করে, তাদের ভেতরে আবার কিছু আছে যারা আরো খারাপ ভাবে মুক্তিযুদ্ধকে রায় দেয় এক পাকিস্তান থাকলেই ভারত টাইট থাকতো এই ভেবে, আর কিছু আছে আমার মতো যারা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে শিহরিত হয়, নির্মম গনহত্যায় তীব্র ঘৃনা পোষন করে, মনে প্রানে গনহত্যার সহায়তাকারীদের বিচার চায়, একেকজন বীরের সাহসিকতাঁর গল্পে নিজে পুলকিত অনুভব করে, স্বাধীন দেশে বারবার সেই সময়ের মানুষের ত্যাগের গল্প মনে রাখে। আর সর্বশেষ টাইপ হলো যারা এইসব নিয়ে ভাবেই না। খালি ভালো মোবাইল, ভাল পর্ন, ভালো চাকরী যুতসই গার্লফ্রেন্ড এসব নিয়ে ভেবে বেড়ায়। এদের সংখ্যাই অনেক। এরা হেফাজতকে সমর্থন দেয় আবার হুজুগে পড়লে শাহবাগে যায়, দেশপ্রেম জাতীয়তাবাদ কে গালাগাল করে বেড়ায়। আবার ঠেকায় পড়লে দেশ কত মহান তাও প্রমানে ব্যাস্ত হয়ে যায়।

অলিখিত সব স্বপ্নগুলো ভেঙ্গেচুরে খানখান!

টানা দুই তিন সপ্তাহ লিখে একটা খানিকক্ষণ বিরতি দিলাম। বিরতি আরো লম্বা দেয়ার কথা ছিলো, ইচ্ছা ছিল বাড়ী থেকে ফিরে লিখবো আবার। কিন্তু তা আর হলো না। যে পিসি নষ্টের অযুহাত ছিলো তা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো সহজেই। পিসি ঠিক হয়ে গেলো একদিনেই। তাও গত দুইদিন না লিখে ভালোই করছি। পড়ার সময় পেলাম। এই সব লেখার চেয়ে পড়ার পিছনে সময় দিলে ভালো। কতো বই এখনো পড়া হলো না তা ভাবলে নিজেরই তীব্র মন খারাপ হয়। এখনও অজস্র বাংলা বইয়ের নামই জানা হলো না-পড়া তো দূরে থাক। এইসব ভাবলে মন উদাস হয়, তখন মনে হয় সারাদিন ফেসবুক ব্লগ না বসে থেকে, পড়েই দিন কাটাই। কারন বই পড়ার চেয়ে আনন্দময় কোনো কাজ হতে পারে না এই দুনিয়ায়। তবে আমার একটা বাজে অভ্যাস হইছে কিছুকাল ধরে। যে লাইন বাই লাইন মন দিয়ে পড়তে পারি না। বই শেষ করার নেশায় চটজলদি পড়ে যাই। এইভাবে বইয়ের সাথে অমনোযোগী সম্পর্ক মোটেও সুখের কথা না। আরো সিরিয়াস ভাব নিয়ে তাই এখন টেবিলে বই রেখে চেয়ারে বসে, পিসি অফ করে পড়তে বসি। কারন পাঠ্যবই/ শীট যদি ক্লাসের আগে লাইব্রেরীতে টেবিল চেয়ারে বসে গিলতে পারি তাহলে অন্য বইও সেইভাবেই আরো বেশি যত্নে পড়া ফরজ। তাই করে যাচ্ছি!

শ্রদ্ধার্ঘ্য!

আজ আটাশে জুলাই। নিঃসন্দেহে গুরুত্বপুর্ন দিন। কারন আজ চারু মজুমদারকে হত্যা করার দিন, ছফার অকস্মাৎ প্রয়ান দিবস, বিখ্যাত সাংবাদিক শাহাদাত চৌধুরীর জন্মদিন। আরো হয়তো কিছু থাকতে পারে, যা আমার জানা নাই। জীবিত লোকদের আমার কেন জানি ভালো লাগে কম। মরে যাবার পরেই তার সমগ্রতাটুকু আমার চোখে ধরা পড়ে বেশি। এই যেমন ধরেন শামসুর রাহমানের কবিতা আগে আমার খুব বেশী ভালো লাগে নাই। কিন্তু যেদিন উনি মারা গেলেন, আমার প্রচন্ড মন খারাপ হলো। উনার বাসা যেহেতু কাছেই, যাওয়া যায় কি না ভাবছিলাম। কিন্তু আর যাওয়া হয় নি। বন্ধুর কাছ থেকে সংগ্রহ করলাম শামসুর রাহমানের শ্রেষ্ঠ কবিতা নামে এক বই। তাই পড়ে গেলাম খুব মন দিয়ে। খুব বেশি কাব্য রস আস্বাদন- আমার মেধাতে নাই। তাও এক দুর্নিবার আকর্ষন অনুভব করলাম পাঠে। আমার এখনও মনে আছে পরের দিন সম্ভবত ছিলো শুক্রবার। চ্যানেল আইতে গোলাম মর্তুজার উপস্থাপনায় সকালের অনুষ্ঠানে আব্দুল মান্নান সৈয়দ ছিলো। লোকজন কতো বড় আবাল! অনেকেই লাইভ অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা শুরু করলেন কবি কি ইসলামে বিশ্বাস করতেন?

মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন!

ইচ্ছা ছিলো আজ পোষ্ট লিখবো না। তাও লিখছি। কারন অনেকেই আজ আশায় আছে আমি পোষ্ট লিখবো। খাওয়া দাওয়া আড্ডাবাজি কেমন হলো তার গল্প জানাবো। এসব লিখতে এখন আর আমার ভালো লাগে না। কারন রাত জেগে পোস্ট লিখে ১ টি মন্তব্য যখন প্রথম পাতায় ঝুলে তখন তীব্র মেজাজ খারাপ ছাড়া আর কি হয়! মনে হয় কার জন্য এসব অযথা পোষ্ট নিরন্তর লিখে চলা? আমি কখনো শত সহস্র কমেন্টের জন্য লিখি না। লিখি মুলত নিজের কথা গুলো বলতে। আশাবাদ থাকে গোটা পাচ দশ কমেন্ট পাবো! তিন চারটা কমেন্টেও যখন লেখা নিয়া উৎসাহ, ভালোলাগা মন্দ লাগা জানতে পাই তাও ভালো লাগে। কিন্তু একটা দিনলিপি লিখে ১টি মন্তব্য প্রাপ্তি তা দেখে আজ আমার আসলেই মেজাজটা বিগড়ে গেলো। এখন বলতে পারেন তুমি কোন লেখা লিখো যে পড়ে কমেন্ট করতে হবে বাপু? ভালো কথা তাহলে আপনারা লিখেন! এই ব্লগে দিনের পর দিন পোস্ট আসে না তাই নিতান্তই ছাগলামী করে প্রতিদিন অযথা লিখে যাই। তার কারনে এখন প্রথম পাতায় আমারই গোটা চারেক পোষ্ট ঝুলে। আর লেখার ২০ ঘন্টা পরে যখন দেখি ১ টি মন্তব্য নিয়ে পোষ্ট ঝুলে তখন নিজেকেই অভিসম্পাত দেই কেন প্রতিদিন লিখে যাচ্ছি?

চেনা বাস চেনা রুট, চেনা রুটি বিস্কুট, চেনা চেনা চায়ের গেলাস!

কবীর সুমনের গান আমার সাংঘাতিক প্রিয়। এইটা নতুন কথা না। অনেক বার বলা কথা। কিন্তু কবীর সুমন কেন প্রিয় তার উত্তর আমার জানা নাই। তার অতি সাধারন সুরে অসাধারণ কথার সব গান যখনি শুনি মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কোন গানই আর মুখস্থ হয় না। বড়জোর প্রথম দুই চার লাইনই মনে থাকে। তারপর আর মনে নাই। শুনলে মনে পড়ে। অথচ আগে গান মুখস্থ করার প্রতিভা কত দারুন ছিলো। অজস্র গান এক দুইবার শুনেই হুবহু বলে দিতে পারতাম। এখন তা পারি না। তার ধারে কাছেও পারি না । তাই গান এখন স্রেফ শুনার জিনিস। কিছুই আর মনে করতে পারি না তেমন। খালি হেড়ে গলায় সুরটা মনে পড়ে কষ্ট বাড়াতে। এরকম সবারই হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় আমারটা আগে ভাগেই শুরু হলো। যাই হোক ব্যাপারটা জটিল কিছু না। এখনো যে শুনতে পারতেছি, ইউটিউব টা খোলা, ওলোর স্পিড দারুন তাতেই শুকরিয়া। জগজিৎ সিং গান গেয়ে গেছেন সেই কবেই ' বেশি কিছু আশা করা ভুল!'

'আহমদ ছফার সময়' বই থেকে নেয়া কিছু অংশ! (প্রথম পর্ব)

নাসির আলী মামুন সেলিব্রেটি মানুষ। সম্ভবত কোন বিখ্যাত কবি উনার নাম দিয়েছিলেন ক্যামেরার কবি। আল মাহমুদ থেকে শুরু করে ডক্টর ইউনুস, এস এম সুলতান থেকে শুরু করে শামসুর রাহমান, ছফা থেকে আব্দুল কাইয়্যুম সবার সাথেই উনার ব্যাপক দহরম মহরম। বাংলাদেশের জীবিত মৃত যত বিখ্যাত শিল্প সাহিত্য অর্থনীতি রাজনীতির মানুষ আছে তাদের বেশীর ভাগেরই কথামালা, ঘনিষ্টতা ও ছবির আর্কাইভ একমাত্র উনি। আহমদ ছফাও তার বাইরে না। বলা যায় ছফা ও সুলতানের সাথে তার ভাই সুলভ সম্পর্ক। তাই নাসির আলী মামুনের ব্যাবসা সফল ইন্টারভিউয়ের বই 'আহমদ ছফার সময়' গ্রন্থতেও সেই অন্তরঙ্গ আলাপের গন্ধ ও অন্য ধরনের প্রশ্নমালার ছড়াছড়ি। যদিও আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার সমগ্র নামে একটা বই আছে। সেইটাও খুব ইন্টারেস্টিং। কিন্তু পাবলিক ভালো খাইছে নাসির আলী মামুনের বইটাই। তাই এই ২০১৩ র বই মেলায় বইটার ফোর্থ এডিশন বাজারে আসলো। যদিও বাজারে আহমদ ছফার সমগ্রর কাটতি ওতো ভালো না। তবে সন্দেশ ও খান বাদার্স মিলিয়ে বললে ব্যাবসাটা খারাপ না। সামনের মেলায় হয়তো খান ব্রাদার্স তার সেকেন্ড এডিশনে আরো কিছু যুক্ত করে আনবে বাজারে। নাসির আলী মামুনের বইটা শ্রাবন থেকে বের হওয়া। বইটার পে

একটা দিন চলে যায়, শুধু দিন কাটিয়ে দেয়ায়!

আজ শরীরটা কেন জানি ভালো নাই। বুঝতেছি না এর কারন কি? হয়তো ঘুমের ঘাটতিতেই। আজ প্রথম রোজার দিন - যেদিন আমি সকাল নটায় ঘুম থেকে উঠছি। উঠেই দেখি চোখ লাল টকটকে। মাথা ঝিম ঝিম করে এই হুট করে উঠার কারনে। তাও জোর করে হলেও উঠলাম। আর কত কাল ঘুমিয়ে কাটাবো? বের হলাম কাজ ছিলো ধানমন্ডীতে। ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে দেখি রাস্তা জুড়ে অগনিত ফাকা রিকশা। এতো ফাকা রিকশা কেনো ঢাকা শহরে? আধা ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে তার হিসাব মেলাতে থাকি কেনো এতো রিকশা! হিসাব পানির মতো সহজ। ঈদের কারনে। বাকি ৬৩ জেলা থেকে মানুষ প্রতিদিন ঢুকছে তো ঢুকছেই। তাই ফাকা ও রাস্তা চেনে না এরকম রিকশাওয়ালার সংখ্যা এখন খুব বেশি। এদের দাবী একটাই চিনায়া নিয়া যান, যা ভাড়া তাই দিবেন। আমি এরকম চুক্তি পছন্দ করি না। কারন দেখা যায় গন্তব্যে আসার পরে এরা আবদার জানায় বলে মামা কম হয়ে গেলো না? আমি বলি তুমি তো রাস্তাই চিনো না, তাহলে কম বেশীর কি বুঝলা?

ঘুমিয়ে থাকাই ভালো!

রোজা উপলক্ষে ব্যাপক ঘুমাচ্ছি। বন্ধু আদনান আমার এই ঘুমের ফর্ম দেখে ইর্ষা করে বলে 'আছ তো মিয়া সুখে। সকাল আটটায় অফিসে যেতে হয় না। মোহাম্মদপুর থেকে বাড্ডা গেলে বুঝতা ঠেলা কারে কয়।' আমিও জবাব দিতে ভুলি না। 'মাস শেষে যে পচিশ ত্রিশের মতো বেতন পান সেই টাকা তো আর আমি পাই না। আমি তো ঘুমাবোই- বেকার ভাতায় চালাই মাস'। তবে আমি মোটেও ঘুম ভালোবাসি না। প্রয়োজনের চেয়েও কম ঘুমিয়ে দিন কাটাতেই ভালো লাগে। কাজ না থাকলে ঘুমের চেয়ে জেগে থাকাই আমার কাছে ভালো। বসে থাকতেও ভালো লাগে চুপচাপ। কিন্তু রোজা এসে সব ভন্ডুল করে দিলো। সেহেরীর পর ঘুম আসে না, ঘুম আসে পাচটায় উঠি ১টা-২টায়। দশটা পর্যন্ত গভীর ঘুম, তারপর ক্রমাগত ঝিমাতে থাকি। অর্ধ জাগ্রত অবস্থায় অনেক ভাবনা মাথায় আসে সাথে হালকা স্বপ্ন টপ্ন। স্বপ্ন গুলোও দিনলিপির মতোই সাধারণ। ওতো ভয়াবহ স্বপ্ন বা খুব সুখের স্বপ্ন কেন জানি দেখাই হয় না অনেকদিন। তবে ঘুমিয়েই চলছি। রোজা বলে এরকম একেকটা দিন শুধু ঘুমিয়ে কাটাতে কি অসস্তি লাগে তা উঠার পরে বুঝি। কেমন জানি পিঠে ব্যাথা ব্যাথা করে। ঘুমানোটাও তো কম পরিশ্রমের কাজ না । ছোটোবেলায় ঘুম থেকে উঠলেই আমার খিদে পেতো প্রচন্ড। এখনো সেই অভ্যাস

এই সব রোজকার দিনে!

মামা আজ বাসায় নাই। মামা থাকলেই যে প্রতিদিন চুটিয়ে আড্ডা দেই এমন না, তাও থাকলে ভালো লাগে। মনে হয় আমি একা নই। কিন্তু মামা যখনই থাকে না তখন মনে হয় একা একা দিন রাত্রি যাপন। কেমন জানি লাগে। খারাপ না আবার ভালোও না। আজ সকালেই ঘুমের ভেতরেই শুনলাম মামা বলতেছে গেলাম শান্ত। আমি ঘুমের ঘোরেই বললাম আচ্ছা মামা। এই সকালে ঘুমাতে আমার মোটেও ভালো লাগে না। রোজা বলেই ঘুমাই। নয়তো যে করেই হোক রাতেই ঘুমাতাম। সকালের ঘুমগুলো কেমন কেমন জানি!