ইউজার লগইন

অপূর্ব সোহাগ'এর ব্লগ

সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো

এই শহরের ফুটপাতেই বেড়ে ওঠা তার। বয়সে হয়তো আমার বড়ো বা আমার ছোট, যেহেতু সঠিক জানি না তাই বয়সের হিসেবটায় যাচ্ছিনা। ছেলেটার নাম অভি। তাকে নিয়ে আমার অনেক কৌতুহল। তার মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় কৌতুহল হলো তার নাম। আমার মাঝে মধ্যে প্রশ্ন জাগতো তার নাম কে রেখেছিলো? প্রশ্ন জাগার কারণ হলো তার তো কোন মা-বাবা নাই, সে তো জানে না তার কোন পরিচয়, সে কেনো কেউ-ই জানে না, ছোটবেলা থেকেই ভেসে ভেসে বড় হয়েছে সে! তবে তার নামটা রাখলো কে?। আমার প্রশ্ন আমার কাছেই থাকলো, আমি কখনও তাকে জিজ্ঞেস করিনি। সে আঘাত পাবে এই ভেবে।
অভি খুব নম্ন-ভদ্র ছিলো। চুপচাপ থাকতো। কেউ কিছু বললে উত্তর দিতো নয়তো সে কোন কথাই বলতো না। তার জীবন যাপনের মধ্যে এক নদী বয়ে যেতো সে নদীতে পাল তুলতো সহস্র কষ্টের নৌকা। আমার যতোদূর মনে হয়, আমি সব সময় তাকে ঝিম মেরে কিছু একটাতে মগ্ন থাকতে দেখতাম। সেই ঝিম ধরা অভি হঠৎ করে হয়ে গেলো এই পাড়ার পাগলা অভি। কবির সুমনের ভাষায় তার সাথে সাপলুডু খেলছে বিধাতা। চুলে উঁকুনের নিরাপদ ঘরবাড়ি। দিন রাতের কোন হিসেব নেই তার, কোন নেতা ভোটের আগে তার কাছে ভোট চাইতে আসনে না।

কিছুদিন কিছুরাত

আমি যাবো না, কোথাও না
সম্মুখে অজস্র অচেনা পথ
তবু আমি যাবো না।
আমি অনেক গিয়েছি
তারপর ফের নিজের কাছে ফেরা।
নদী ডাকুক, ডাকুক একলা বিকেল বা হলুদ গাছটি
আমি যাবো না।
কেনো যাবো আমি?
আমি এখানে, এইখানে থেকে যাবো
এই পোয়াতি রাত্রির বুকে
লিখি শূন্যতা, লিখে যাবো শূন্যতা।
কিছুদিন কিছুরাত আমি কি চাইতে পারিনা
আমার মতো করে?
তবে কেনো ডাকো, কেনো তবে এমন সুর
আমাকে অসুস্থ করে রাখে?
বন্যার দূর্দিনে বা জ্যোছনার উদাসীনতায়
কেউ তো আশ্চর্য করে দেয় নি আমায়
খোলে বসে না তত্ত্বকথা।
আমি তো কোথাও দেখি না মুখরতা
দেখি শুধু ডুবে যায় চাঁদ।

কেনো যাবো তবে...

আমি সব দেবতারে ছেড়ে আমার মায়ের কাছে চলে আসি

সারাদিন সকল কাজ শেষে ‘আমি সব দেবতারে ছেড়ে’ আমার মায়ের কাছে চলে আসি। আমার আম্মু শুধু মা নয় আমার কাছে, আমার আম্মু একজন বন্ধু, আমার যাবতীয় কথা আমার আম্মুর সাথে ভাগাভাগি না করলে আমার অশান্তি লাগে। আমার রাগ দেখানোর জায়গা, আমার আনন্দ উপভোগ করার জায়গা আমার আম্মুর কাছে। আমি যে এতো বড় হয়েছি সেটা মনেই থাকে না যখন আমি আম্মুর কাছে থাকি, যখন আমি আম্মুকে ধরে শুয়ে থাকি, সেই ছোটবেলার মতোই বলি আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দাও। জীবনের সাথে প্রায় যুদ্ধ করে নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়ে আমার আম্মু আগলে রেখেছেন আমরা ভাই-বোনদের। কখনও বুঝতে দেননি বাবার শূন্যতা। এখনও এই যে এতো বড় হয়েছি তারপরও কি রকম যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছি সেই যন্ত্রণাটাকেও ভালোবাসায়, ¯েœহে গ্রহণ করছেন আর মাথায় হাত রেখে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এভাবে যে আর কেউ হাত রাখতে জানেনা আম্মু, এই পরশ যে আর কারো হাতে নেই আম্মু, তাই বুঝি এখনও খাবার টেবিলে একা খেতে পারিনা যদি ন

তুচ্ছ পাতাটিও বাঁশি হয়ে উঠে তোমার খেয়ালে

সেই তো পথ। উড়ে যাও হলুদ বিকেল! শৈশবের ঘুড়ি। সন্ধ্যা হলে ঘুমিয়ে যাবে গ্রাম, শহরে প্রথমা তুমি থাকো- তোমার বাড়ী জ্যোৎস্না নামে। আমার ঘরে জোনাকি ঢুকে রবীন্দ্র রূপে।
শীত-বসন্তের গান আজ আর হয় না গাওয়া। ঝাপসা হয়ে আসে চোখ; দৃশ্য পুড়ার শোকে। অনেকগুলো রাত চলে গেছে বাতাসের হাত ধরে। অনেক অসহ্য চাঁদ নিভে গেছে তার মতোই করে। কেউ কারো খেয়ালে শিস কাটিনি আমরা। জেগে উঠিনি কেউ চেনা ধ্যান ভাঙা সুরে... অথচ তুচ্ছ পাতাটিও বাঁশি হয়ে উঠে তোমার খেয়ালে।
একটি প্রজাপতি জানে মন কোণে অভিমানে কে কত হয়েছে নীল। আমরা কেউ জানি না। না নদী না আমি না তুমি। আমরা শুধু দূরত্ব নিয়ে এসেছি নিকটে। কত নিকটে ছিলেম দূরত্ব ছাড়া এই সত্য আজ জানে না আর কোন দূত। ফিরে না আসা পথে ভেসে যায় মেঘ, মাটির টান নেই, বুকে ধরেছে পাথর...

অস্ত যাওয়া সূর্যের বিরহ

পথ হারিয়ে, দিন ফুরিয়ে
ছদ্মবেশ ধারণ করেছে
একটি শালিক।
তুমি তার কতটুকু জানো-
কতটুকু জেনেছে গতকাল
কতটুকু জানবে আগামীকাল?
ছাড়ো, এইসব ছেড়ে দাও
নতুন করে বুকের কপাট খুলে দাও,
অস্ত যাওয়া সূর্যের বিরহে
বসে না থেকে
সদ্য ওঠা চাঁদের দিকে তাকাও
রাতটা ভালো করে কাটবে।

এবং আগামীকালকে জানিয়ে দিয়ো
প্রথম প্রেম বলে কিছু নেই সকল প্রেমই প্রথম

আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ

এক ভুলে ভরা গল্পের বৃত্তের ওপর বসে বসে অথবা শুয়ে শুয়ে আমি সকাল দেখি, বিকেল দেখি, দেখি বৃক্ষ, স্মৃতির বৃক্ষ। দেখি মেঘে লুকায় একটি নাম, সেই নাম, যে নাম বলিনি কোনদিন, যে নাম ভেসে ভেসে একদিন ডুবে গেছে আকাশের গভীরে। তারপর আমি হেঁটে হেঁটে বিরাণ পথ ধরে কতো ভুল ঘরে খুঁজেছি, খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়েছি; ক্লান্ত হয়েছে পথ ও পথিক, ছুঁয়েছি কান্নার রং, নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছি জ্যোৎস্নার নেশায় আর নিজের মনেই বলেছি পাগল তুমি জ্যোৎস্না খাও, স্মৃতির জ্যোৎস্না খাও, জ্যোৎস্না খেয়ে বাঁচো আর শরীর জুড়ে চাষ করো দুঃখ তবু নিঃস্ব হয়ো না। নিঃস্ব হইনি। এখনও রাতের মাদকতায় হয়ে উঠি প্রেমিক, হয়ে উঠি তোমার না দেখা স্বপ্ন।

হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সময় ফেরারি বাতাসে মিশে দূর দূরাশয়। হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাই না। নতুন পথে হেঁটে যাবার সাহস হারিয়েছি পুরান পথ খুঁজতে, তবু অবেলার অবসরে পুরানের খুঁজে পরাণ হাঁটে।

শান্তি অশান্তির বিভ্রান্তি কাটে না

সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত, যায় মিছে যায়, মার্বেলের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে যায়। তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে আমার ডুবে যাওয়া হয় না। পাশ কাটিয়ে উড়ে যায় শিমুলের মেঘ; সেই মেঘকে জানা হয় না। তবু জানতে চাই। জানতে চাইলেই কি জানা যায়? জানতে কি পেরেছি শশী ডাক্তারের সাথে কুসুমের নৌকার দূরত্ব কেনো বেড়েই গেছে? পেরেছিলো কি জানতে ছবি'দি, আর কোনদিন মণি ভাইজান ডাকবে না থাকে? শুধু জেনেছিলাম বা জেনেছি বলে গোপন করে রেখেছিলাম যে, অমল আসলেই বকুল'দি সাজে। চুল বেণী করে...। অমল-বকুল'দি একদিন পালিয়ে যায়, সমুদ্রে যায় বা সমুদ্র ছুটে আসে তাদের কাছে। ঢেউগুলো ডিগবাজি খায় । ভালোবাসায়!
এতো এতো জানার ইচ্ছে তবু শেষমেষ অজানাটাই সম্বল। জানবো বলে মেঘ, স্বপ্নঘুম, দীর্ঘপথ, তারপর অনেককিছু বা কিছুই না অথবা গভীর রাত্রে বৃথা প্রশ্নের হয়রানি।

একটি নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস

একটা পাখি, প্রিয় পাখি, ভালোলাগার রঙমখা পাখি যদি না বসে এসে এই দুপুরের শরীরে তবে দুপুরকে মৃত লাগে। বোবা লাগে। পাখিহীন এই দুপুর কে আমি অস্বীকার করি। পাখি কোথায়? কোন গগণে মেলেছে তার ডানা? ব্যাখা করা যায় না এমন বেদনায় আঁকড়ে ধরে। কাতরাতে থাকে তার মন। অনেকদিন, বহুদিন পর আজ আবার এমন হচ্ছে। প্রাণহীন এই দুপুরে, কালো মেঘের দিনে ফের তাকে নিয়ে যাচ্ছে কোথা থেকে কোথায়। নিজেরই অজান্তে! যে মুখ, নাম ভালোবেসে রেখে দিয়েছিলো জীবনে- এখন যেনো এগুলো ভুলেই যাচ্ছে। তবু পাখি কেনো এলো না, পাখির জন্যেই তো হেঁটে যাওয়া ভাঙা কাচের পথ ধরে!

পাঠ করো দিন, পাঠ করো রাত-দুই

সকালে আমার ঘুম ভাঙলেও বালিশটা ঘুমিয়েই থাকে! আমার বালিশের অমরত্ব আছে
বালিশ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ও বেঁচে থাকে আর আমি বেঁচে থেকেও মরে আছি ঠাকুর!

এক ভোরবেলায় বনফুলের মায়ায়, পুড়েছিলাম চৈত্রপারের হাওয়ায়। আর বলেছিলাম 'সমস্ত না পাওয়া নিয়েছি দু'হাত ভরে দেখো হাতে আর জায়গা নেই!' মুখে কোন কথা নেই, আমার সকল কথা পুড়িয়ে পুড়িয়ে ডুবে যায় সূর্য হাত ঘড়িতে!

আমি পাঠ করি দিন; পাঠ করি রাত
দেখি নীল নীল অক্ষরের সন্তরণ
দেখি দৃশ্য থেকে আড়াল হয়ে যাওয়া
দেখিনা কখনও, কিভাবে আড়াল থেকে দৃশ্য হয়ে উঠেছিলে !

ঝরাপাতার সময়ে মুদ্রিত

পৃথিবীর সকল নিয়মকে পাপোষ করে আয় শুধু ভালোবাসার কাছে করি আপোষ। অন্তত একবার আয় হারিয়ে যাই বিজন সান্দ্রে। পাতায় পাতায় মুদ্রিত হোক আরো এক গল্পের মহিমা। সবুজে সমাহিত হয়ে যাক পুরান কেচ্ছাগুলো...

অনন্য রাতে আমি অন্য কিছু চাই

বৃষ্টি নয় এই অনন্য রাতে আমি অন্য কিছু চাই
দু-চারটে কথার মধ্যে আমি অন্য কারো কণ্ঠ শুনতে চাই
গান নয় শুধু গলার আওয়াজ...

আমার ঘুম গেছে তোমাকে খুঁজতে
বালিশকে তাই নিঃসঙ্গের গল্প শোনাচ্ছে অনিদ্রা!

আমার অসহ্য লাগছে
আমার অস্থিরতা বাড়ছে
তোমাকে কি কোথাও মিলবে?

তুমি এসে এই অনন্য রাতকে বিষাদ করে দাও
আঁধারের শরীরে ছিটিয়ে দাও তিক্ত খড়কুটো

তারপরও এসো
কিন্তু আসলে না

বিশ্বকাপ যাবে কার বাড়ি?

৩২টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হলো ১১জুন থেকে এ পর্যন্ত খেলা হয়ে গেছে সবকটি দলের। কোনো কোনো দল ২বার ও খেলে নিয়েছে। এরপরও বোঝা যাচ্ছে না কাকে বলা যায় সেরা। নতুন দল এবার বেশ কয়েকটি। নতুন রা চমক দেখাচ্ছে বড় বড় দলকে হারিয়ে। প্রথম অঘটন ঘটালো স্পেন । ফিফা রেংকিয়ে ২ নং দল স্পেন হেরে গেলো সুইজারল্যাণ্ড এর কাছে, যা কেউ ভাবেনি, ভাবার কথাও না। স্পেন এর দলে ১১ জনই স্টার। তবে স্পেন খেলেছে ভালো , কিন্তু ফুটবল তো গ

হায় আর্জেন্টিনা হায়!

দুপুর চা খেতে গেছি মোড়ের দোকানটায়, সেই সময় আচমকাই মনে হলো "ক্লাবের পোলা মেসি/দলে খেলতে পারে না বেশি" এরপর একটু চেষ্টা করলাম কিছু লিখতে পারি কি না। আসলে আমি এসব লিখতে পারি না। বিশেষ করে ছড়া। কোনোকিছুই যে লিখতে পারি তা বলছি না। আরেকটি কথা কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে আঘাত করার জন্য নয় লেখাটি।
ছড়া টা নজরুল ভাইকে উৎসর্গ করলাম।

আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা
বলে আর চেঁচিও না,
বলো ব্রাজিল

বেঁচে আছি ভুল করে

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে সবচে' সত্য হলো মৃত্যু! সকল জীবে'র জীবন খেয়ে মৃত্যু বাঁচে, আশ্চর্য হলেও মানতে হয় মৃত্যুর মৃত্যু হয় না! মৃত্যুর ক্ষুধা মেটে না! আমরা জানি মরতে হবে আমাদের। সবকিছু অস্বীকার করতে পারি কিন্তু মৃত্যুকে কিভাবে অস্বীকার করি। তবু আমরা বেঁচে থাকার জন্যে কত কি করি, অন্যকে খুন করি নিজে বেঁচে থাকার জন্যে। রঙিন রঙিন স্বপ্ন গাঁথি, অন্যকেও স্বপ্ন দ্যাখাই নিজেও স্বপ্ন দেখি।

আকুলতা

সময়ের গোপনে
অদৃশ্য আগুনে,
পুড়ে যাচ্ছে তোমার দৃশ্যগুলি।

বাড়ি ফিরে যাচ্ছে নদী
সন্ধ্যা নেমে এলো বুক অবধি,
ঘোড়ার পিঠে বসে চলে গেলো গোধূলি।

আকাশের ঐ নীড়ে
তারাদের ভীড়ে,
ইচ্ছে হলো দু'জনে কথা বলি।

তোমায় দেখি না, তুমি কিসে ঢাকা?
মহাকাশে বিরহের অবয়ব আঁকা,
তুমি নাই-তুমি নাই, নির্জন অলি-গলি!

পড়ে আছে রাত্রির খালি পাতা
সন্ধ্যাভাষায় লিখে রাখি বিগত স্মৃতিকথা।
পুড়ছে দৃশ্য, আমিও জ্বলি!