চশমিশ আমি আর আমার আম্মু
আজকাল মাঝে মাঝেই দেখি
মানুষজন চোখে লেন্স লাগিয়ে ঘুরে,
আর নয়তো একটুতেই চশমা ফেলে চোখে ল্যাসিক করিয়ে ফেলে।
আর আমি অবাক হয়ে ভাবি -
আয় হায়!
কেউ চশমা এত অপছন্দ করে কেম্পে?!
আমার পিচ্চিবেলার সবচাইতে বিশাল স্বপ্ন ছিল,
বড় হয়ে চশমা পড়ব!
কিন্তু ভাগ্য খারাপ,
চোখ আর খারাপ হয়না!
ইন্টার পরীক্ষার সময় মাথাব্যথার জন্য ডাক্তার দেখাতে গেলাম।ব্যাটা বলে চোখ নাকি খুব ভাল, তবে রিফ্লেক্সের কি সমস্যা নাকি আছে তাই মাথাব্যাথা হয়! পয়েন্ট টু ফাইভ এর চশমা দিয়ে বলল ৬ মাস টানা পড়লেই নাকি ভাল হয়ে যাবে। আমাকে আর পায় কে, চশমা নিয়ে নিলাম। জমিয়ে জমিয়ে পড়ি, টানা পড়ে আর পড়তে না পারলে তো সমস্যা!
এভাবেই বছর পাচ কাটিয়ে দিলাম। কয়েক ফ্রেম আর গ্লাস বদলে এখন একটা ফটোসানের মোটা ফ্রেমের নেভি ব্লু গ্লাস চলছে। রোদে গেলেই আপনাতেই রোদ চশমা হয়ে যায়। কি চমত্কারই না লাগে তখন!আম্মুরও ঠিক এমন একটা চশমা ছিল আমার পিচ্চিবেলায়।
ছোট ছেলেরা আসলে কখনই বড় হয় না তবুও চশমা আছে বলেই বড় বড় ভাবটা অন্তত নেওয়া যায়!
আসলেই,
চশমিশ থাকার মজাই আলাদা!
আম্মুর সাথে আমার অনেক কিছুই যায় না। মতের মিলের চাইতে অমিলই বেশি। এমনটাই দেখে এসেছি সবসময়।
কিন্তু আজকাল মাঝেমাঝেই অবাক হয়ে যাই নিজেকে দেখেই।
কোথাও গালটুস কোন মেয়ে দেখলেই মনে হয় আম্মুর মত লাগে যেন। কি সুন্দর, কি গোলগাল। যাই, একটু গাল টিপে গুগলি ওগলি ওশ করে দেই!
সারাদিন বাসায় কোন কাজ করার নাই; আম্মুর পিছন পিছন ঘুড়ি, আচল ধরে রাখি। বকা দিলে বিছানার স্ট্যান্ডের সাথে গিট্টু দিয়ে দেই!
পিচ্চিরা নাকি মায়ের গন্ধে তাকে চিনতে পারে।
দুই যুগ পার করে দিলাম দুনিয়ায়,
এখনও যখন আম্মুর মন মেজাজ ভাল থাকে
আম্মুর দুপুরের ভাতঘুম নষ্ট করতে ঝাপিয়ে পড়ি।
এটা সেটা দুষ্টুমিতে দিব্যি মন ভাল হয়ে যায়। খাবারের পর সুন্নত মিষ্টি খাওয়ার হিসেবে আম্মুর জন্য ৪ হালি লিচি লজেন্স এনে দিয়ে নিজেই তার ৪/৫টা খেয়ে বসে থাকি!
আর অবাক হয়ে দেখি
এখনও দিব্যি আমার প্রতিদিনের পথচলার বিশাল সময় জুড়ে আম্মুর গন্ধ ছড়িয়ে আছে!
আমার চশমা
আমার ছেলেবেলা
আমার আম্মু
সব মিলেমিশে বড় হতে থাকে,
আমার বিষণ্ণতার দিনরাত্রিতেও একটুকরো হাসি জমা হয়ে যায় চোখের তারায়।
মন ভাল হয়ে যায়..!





প্রথম কমেন্ট!
কি যে সুন্দর একটা লেখা মাশাল্লাহ
ভাই আপনি লেখালেখিটা কন্টিনিউ করেন। আপনার লেখার হাত খুব ভালো আর শক্তিশালী।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার চমৎকার কমেন্টের জন্য।
অনেকদিন পর আসলেন। ভাল আছেন তো?
ছোটবেলায় আমারো ড্রিম ছিলো চশমার
বড় হয়ে তা উপদ্রুব এখনো দিতে হয় নাই বলে শুকরিয়া!
মন দিয়ে পড়ো
পড়তে পড়তে শহীদ হয়া যাও!
এরপরে ন্যাশনাল ভার্সিটি চত্বরে শহীদ বাউন্ডুলে কর্নার খুলতে হইব!
কি যে সুন্দর একটা লেখা মাশাল্লাহ
ধইন্যার বদলে থ্যান্কস! হিঃ হিঃ
হ, ধইন্যাপাতাটারে আজকে রাতে সালাদের সঙ্গে কুচি কুচি করে কেটে খেয়ে ফেলবো
আমারও চশমা হইলোনা এখনো। তাই সানগ্লাসেই বেদনা ঢাকি
জিরো পাওয়ার নিয়া নিলেই হয়!
চশমার শখ আমারও। ছোটবেলায় একবার ডাক্তার দেখি পয়েন্ট ফাইভ পেয়েছিলাম পরে আবার যখন দেখালাম কমে পয়েন্ট টু ফাইভ হলো। এর পর তিনবার চোখ দেখালাম ডাক্তার কয় একদম ফিট, চশমার কোন দরকার নাই।

লেখাটাতে অনেক মায়া আছে। চালিয়ে যাও ব্রো।
এই চোখের ডাক্তার গুলি পুরাই পাষাণ!
আমাদের বাউনডুলে তাহলে এখনও ছোট ই রয়ে গেছে।
আমার চশমা
আমার ছেলেবেলা
আমার আম্মু
সব মিলেমিশে বড় হতে থাকে,
আমার বিষণ্ণতার দিনরাত্রিতেও একটুকরো হাসি জমা হয়ে যায় চোখের তারায়।
মন ভাল হয়ে যায়..!
ভালো লাগল।
বাসার ছোট ছেলেরা সারা জীবন অন্তত বাসার ভিতর ছোটই থাকে!
পড়া ও মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
কি যে সুন্দর একটা লেখা
সবারই কি পিচ্চিবেলায় চশমা পড়ার শখ থাকে নাকি!!
(
আমারো ছিল তোমার মত চশমা পড়ার শখ। একবার মাথা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা বলে আম্মুর মাথা ব্যাথা করায়া দিলাম। সত্যি মাথা ব্যথা ছিল কি না মনে নাই। যাই হোক ডাক্তার বলল চোখ ঠিকই আছে। তারপরও যদি মাথা ব্যাথা থাকে তো ছয়মাস এইটা পড়ে দেখো। আমি তো মহা খুশি যাক অবশেষে চশমা পাইলাম। কিন্তু আম্মু এমন পঁচা ফ্রেমের এক চশমা কিনা দিল যে পড়ার ইচ্ছাই গেল গিয়া। আমি তো আর চশমা পড়ি না। এদিকে আম্মু সারাদিন পিছনে লাইগা থাকে চশমা পড়, চশমা পড়। শেষে বিরক্ত চেপে বললাম, মাথা ব্যাথা ঠিক হয়ে গেসে
এই লেখাটা পোস্ট করার পেছনে সবচাইতে বড় কারন ছিল আমার বন্ধুদের এমন কিছু মন্তব্য পাওয়া!
আপু ভাল আছো? পরীক্ষা কেমন হইছে?
ভালোই আছি মনে হয়। পরীক্ষা নিয়ে আমি টেনসন করি না। শেষ হওয়া মাত্র ভুলে যাই কি দিসি, কেন দিসি, কেমন হইসে
ভালা বুদ্ধি!
লেখাটার মধ্যে কত যে মায়া! মায়ের জন্য ছোট্ট ছেলের আদর এমনই থাকুক আজীবন।
অনেক বছর চশমা পড়েছি। কি যে বিরক্তিকর! নাকের উপর একটা জিনিষ। কয়দিন আগে প্রচন্ড মাথাব্যাথার জন্য ডাক্তারের কাছে গেলাম। ভয় লাগছিলো যে চশমা না ধরায়া দেয়! তারপর ড. বললেন , চোখের পাওয়ার সুপার পাওয়ার। সাইনাসের সমস্যা মনে হয়।
এত অনিয়মিত কেন ব্লগে?
চশমা বলে বিরক্তিকর! কি কয়!
তোমার জামাই দেইখো নির্ঘাত চোখের ডাক্তার হবে,
বিয়ের পরেই চোখে চশমা ধরাই দিবে!
কমেন্ট করার জায়গা পাইনা তাই কম আসি।
কিছু লেখা জমলে তখন লগ ইন করে ঘুরে যাই!
কি বলে এই ছেলে! কমেন্ট করার জায়গা পাও না! নিজেই পোস্ট দিবা, ব্লগ জমাবা।
আর জামাই চোখের ডাক্তার হইলেই আমি চশমা পড়ুম কেন?
সোয়া এক বছরে ৯২টা পোষ্ট আর ২০০০ প্লাস কমেন্ট দিলাম,
তবুও ব্লগ জমে না। আজকাল টায়ার্ড লাগে!
তোমার জামাই চোখের ডাক্তার
আর তোমার যদি চশমা না থাকে তাইলে কিছু হইল!
দূর্দান্ত বলছেন ভাইজান। এটা আমার পড়া সেরা কমেন্ট রিপ্লাইগুলোর মধ্যে একটা। আমি কখনো কারো কমেন্টের এত সুন্দর রিপ্লাই দিতে পারি নাই।
ওয়াও!
থ্যাঙ্কস এ লট মীর ভাই।
য়ু ডু নট হ্যাভ টু সে ইট্ ব্রাদার। এই প্রশংসাটার ভীষণ রকম যোগ্য দাবিদার আপনি ছিলেনই।
আবার 'আপনি' করে!

দুর মিয়া..!
পিচ্চিকালে চশমা পরতাম আয়না দেখতাম ভাবতাম বাহ্ কি সুন্দর লাগছে আমাকে। সবাই বকা দিত পাওয়ারফুল চশমা পড়ার জন্য ---খোল খোল চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। সেই আমি ৮৪ সাল থেকে চশমা বহন করে চলছি। একটু যে সানগ্লাস পরে ফুটানি করব সেই কপাল নাই। চশমা ছাড়া কানা বাবা।
মহিলা শুভ্র!
"আমার চশমা
আমার ছেলেবেলা
আমার আম্মু
সব মিলেমিশে বড় হতে থাকে,
আমার বিষণ্ণতার দিনরাত্রিতেও একটুকরো হাসি জমা হয়ে যায় চোখের তারায়।
মন ভাল হয়ে যায়..!"
কী চমৎকার একটি লেখা!অনেক অনেক ভালো লাগলো।
শুভকামনা।
পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন, অনেক ভাল। সবসময়।
কমেন্টগুলান পড়লাম। তুমি এই ব্লগের এক মাত্র ভবিষ্যত!
কি যে কন ভাই!!
তা হঠাত্ এত্ত বড় কমপ্লিমেন্ট?!
দেশে গেলে মায়ের থেকে যাওয়া কাপড়গুলো শুকে শুকে মায়ের খুশবু নিই । আহা কতদিন দেখিনা আর মাকে ! বি বা মমতা জড়ানো পোষটের জন্য ধন্যবাদ !
পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন।
মন্তব্য করুন