ইউজার লগইন
ব্লগ
আমাদের না লেখা ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ খুব সচেতন ভাবেই অনুচ্চারিত রয়ে গেছে, যারা প্রত্যক্ষদর্শী, রাজনীতিতে নিমজ্জিত ছিলেন তারাও এই সময়কালের রাজনীতি বিষয়ে খুব বেশী আলোচনা করতে অনাগ্রহী, একটি স্বাধীন দেশের সূচনার সাড়ে তিন বছর যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে, আমাদের সচেতন বুদ্ধিজীবীগণ এই হারানো সময়ের রাজনৈতিক আবর্তে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খা্চ্ছেন, বিভিন্ন ধরণের তথ্য উপস্থাপন করছেন, রাজনৈতিক বিরাগ থেকে কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের লোভে তারা যেসব তথ্য উপস্থাপন করছেন সেখান থেকে বাস্তবতা অনুধাবন করা দুরহ।
আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি নেই, সুতরাং অপরাপর ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ সম্বল করে এই সময়ের অস্পষ্ট একটা ছবি নিজের ভেতরে তৈরি হয়েছে। রওনক জাহানের বাংলাদেশ পলিটিক্স প্রবলেমস এন্ড প্রমিজেস কিংবা তালুকদার মনিরুজ্জামানের রেভ্যুলেশোন এন্ড আফটারম্যাথের একাডেমিক বিশ্লেষণের সাথে সে সময়ের বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিচারণ কিংবা দিনলিপি এক ধরণের সহায়তা করেছে।
যেভাবে হেঁটে চলছি এই শহরে!
আবার লিখতে বসলাম। কি লিখবো কিছুই ভাবি নাই এখনো। তাও লিখতে বসা অযথাই। শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম। আজ তেমন গরম নেই, নেই শরীরে কোনো ক্লান্তি তাই বই পড়ছিলাম। কিন্তু আমার মতো গরীব মানুষের সুখ কারোই সহ্য হয় না। তাই কারেন্ট চলে গেল। শুয়ে শুয়ে মশার কামড় খাবার চেয়ে বসে বসে মশার কামড় খাওয়া ভালো। তাই আবার যথারীতি অন্ধকারে বসে লেখা শুরু করলাম। ব্লগে লেখতে হলে ইচ্ছাই যথেষ্ট। তাই ইচ্ছে হলেই লেখতে বসি। তবে লেখার আগে ভেবে লেখতে বসা উচিত, কিন্তু আমার চিন্তা ভাবনার কোনো বালাই নাই। মনে কিছু কথা আসে তাই না সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে দেই। আমার মামা বলে 'তোমার লেখা ওতো পড়ি না আর, খালি কমেন্ট দেখি লোকজনের।' আমি জিগেষ করলাম কেন? মামা বলে একই ধরনের কথাই ইনিয়ে বিনিয়ে বারবার বলো, তা আর পড়ার কি?' আমি মনে মনে ভাবি আহারে কত বড় অপমান। নান্নু মামা থাকলে বলতো 'সবার সামনে অপমান/ মৃত্যুর সমান'।
কবে যাব বন্ধুর বাড়ি
বন্ধুর বাড়িত ঢোলক বাজে
বন্ধুর বোনের বিয়া
আমার বিয়া কবে হবে
যাব টিকলি মাথায় দিয়া।
বন্ধু টিকলি মাথায় দিয়া।
রং বেরংগের গেট সাজাইছে
খাবার নাকছে ধুম
উচা স্বরে গান বাজাইচ্ছে
কাইরা নিছে ঘূম,
হায়রে কাইরা নিছে ঘূম।
বন্ধু আমার মন কাড়িছে
কি জনি কি কি দিয়া।
কবে যাব বন্ধুর বাড়ী
টিকলি মাথায় দিয়া।
বন্ধু হামার কলেজ যায় গো
সাইকেলত চড়িয়া
আমিও স্কুলে যাই গো
রিক্সা ভ্যান করিয়া
হায়রে রিক্সা ভ্যান করিয়া
সাই সাই করি সাইকেল খানা
যায় যে ভ্যানক ছাড়ি।
কেন জানি বন্ধু আবার
আইসে বার বার ঘুড়ি
হায়রে, আইসে বার বার ঘুড়ি
এইনা দেইখ্যা হজ্ঞলে মোক
খেপায় খোটা দিয়া
কবে যাব বন্ধুর বাড়ি
টিকলি মাথায় দিয়া।
বন্ধু টিকলি মাথায় দিয়া।
২৪/০৯/২০১৩
সিরাজগঞ্জ

যেভাবে যাচ্ছে দিন, যা দেখছি।
মন মেজাজের হাল সুবিধার না বিশেষ। সারাদিন বেহুদা দোড় ঝাপ করলাম তাতে আরো বেশী টায়ার্ড লাগছে। অন্য কেউ হলে শুয়ে থাকতো। কিন্তু আমি তো অনন্ত জলিলের ফ্যান তাই অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমার কাজ না হলেও তাঁর কাছাকাছি কিছু করা তো যায়ই। তাই প্রচন্ড ক্লান্ত শরীর নিয়ে পোষ্টটা লিখছি অন্ধকারে। আজ কারেন্ট কত শত বার গেছে তার হিসেব জানা নেই। জানি না কতদুর লিখতে পারি। বাবাখোরদের শুনছিলাম নাকি তাদের এমন দশা হয়ে যায় আসক্তিতে যে খাবারে টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়ে ঠাস করে। আমি বাবা না খেয়েই পিসিতে ঘুমিয়ে পড়তে পারি যেকোনো সময় এই ব্লগ লিখতে লিখতে। তবে শরীর থেকে কম চে কম দুই তিন লিটার খালি ঘামলাম সারাদিনে। তাই ঘুমানোর আশা দুরাশা!
৪ টাকা = একটি ছেলের জীবন
চন্দ্রমুখী চলে গেলো। তার যাওয়ার সাথে সাথে জননীর আত্মহননের চেষ্টা―খুব মনোপীড়ায় কেটেছে কিছুদিন। কোনো কিছুই আজকাল আমার, আমাদের টনক নাড়ায় না। কিন্তু এ ঘটনায় স্বাভাবিক থাকতে পারিনি।
নাজনীন আখতার শুধু সাধারণ একজন মা নন, একজন সাংবাদিকও। সাংবাদিককে সবসময় 'কঠিন' হতে হয়। এই কঠিন মানুষই যখন চরম 'আবেগী'র মতো আচরণ করে বসেন, বুঝতে হয় ব্যথার গভীরতা আসলে কতটা।
এই ক্ষতের ভেতর দিয়ে আমার ভাবি চলে গেলেন বাড়িতে। ভাবি চলে গেলে শুধু ঢাকা শহরই ফাঁকা হয়ে যায় না, মনটাও ফাঁকা হয়ে যায়। চারদিকে কেমন এক শূন্যতা বিরাজ করে।
মন খারাপের মধ্যে গত পরশু আরেকটা বড় খবর। প্রথম আলোর অনলাইলে পড়া। (কেন যে তারা পরদিন মূল সংস্করণে খবরটা দেয়নি)।
কুষ্টিয়ায় এক বাবা তার ছেলেকে বাজারে পাঠালেন। ছেলে সওদা নিয়ে এলো। বাবা হিসাব চাইলে ছেলে অবশিষ্ট ৪ টাকা ফেরত দিলো না। বললো, 'চানাচুর কিনে খেয়েছি।'
দরিদ্র বাবা সইতে পারলেন না এ 'অপচয়'। রাগে থাপ্পড় দিলেন ছেলের গালে। এক থাপ্পড়েই মৃত্যু হলো ছেলের। হাসপাতালে নিয়েও কোনো লাভ হলো না।
৪ টাকা = একটি ছেলের জীবন। কী কঠিন সমীকরণ।
শিয়ালেক সাজা দেও।
মধ্যি রাইতে বন্ধুর বাড়ির
মুরগা করছে চেও।
কোনঠে গেলেন বাহে সগাই
শিয়ালেক তাড়া দেও।
তোমরা শিয়ালেক সাজা দেও।
মুরগা সেতো চেও করেনি,
এযে মোর মনের ভূল
বন্ধুর চিন্তায় সদায় দেখ
চোখত শইর্ষা ফুল।
দেখ চোখত শইর্ষা ফুল।
জানলার খুলি, বেড়ার ফাঁকত
সদাই বন্ধুক দেখবার চাও।
কোনঠে গেলেন বাহে সগাই
শিয়ালেক তাড়া দেও।
তোমরা শিয়ালেক সাজা দেও।
বন্ধুর ভাল হামার ভাল
বন্ধুর সুখে সুখী-২
মা বাপেরে বুঝাতে নারি
সদাই শুনি ঝাড়ি
হামি সদাই শুনি ঝাড়ি
ঝাড়ি ঝুড়ির খেতা পুড়ি-২
বন্ধু তোমাক শুধু চাও
হামি তোমাক চাও।
কোনঠে গেলেন বাহে সগাই
শিয়ালেক তাড়া দেও।
তোমরা শিয়ালেক সাজা দেও।
২৪/০৯/২০১৩ খ্রীঃ
সিরাজগঞ্জ, ২২৫ মে, ওয়াট পাঃ প্লান্ট।
উড়ে যাওয়া হাওয়াগুলো
ঠান্ডা জাকিয়ে বসছে ইদানিং। রাত যত গভীর হয় কন কনে ঠান্ডা হাওয়া গাছের পাতাগুলো ঝরতে থাকে। দিগন্তজোড়া সবুজের উৎসব ফিকে হয়ে হলদেটে রং এ রূপ নিচ্ছে। চোখ ধাধিয়ে থাকা রূপ নির্জীবতায় বিলীন হয়ে যায়।
বিকেল গড়ালে পার্কগুলো জনমানবহীন হয়ে পড়ে। নিয়নের আলোতে নিজেকেই অদ্ভূত গীরগিটি মনে হয়। ক্যাম্পে পড়ে আছে কতদিন হলো এখন আর হিসেব নেই। উকিলের কোনো খোঁজ নেই, ইমিগ্রেশন ব্যাস্ত এখন সিরিয়ানদের নিয়ে। আমার অলস সময়গুলো কেটে যায় মানুষ দেখতে দেখতে। ল্যাপটপটা বিগড়ে গেছে কিছু দিন আগে। আইফোন দিয়ে গান শুনতে ভালো লাগলেও ল্যাপটপের কাজ করা যায় না। হাতে তেমন কিছু নেই যে একটা ল্যাপটপ কেনার বিলাসিতাটা করতে পারি।
শুধু একটা সোয়েটার আর মা এর কিনে দেয়া লেদার জ্যাকেটটা গায়ে দিয়ে গান শুনছিলাম। ঠান্ডা বাড়ছিলো আধার গ্রাস করছিলো পুরোটা আকাশ। হাটতে থাকলে গামলাস্তনের দিকে। ঠান্ডায় পিপাষা বাড়ে, পানশালাতে আড্ডায় ভরপুর হতে থাকে পিপাসার্ত মানুষের। প্রেসবিরন থেকে একটা ক্যান কিনে গলা ভিজাচ্ছিলাম এমন সময় একজন বাংলায় বলে বসলো পেছন থেকে,"ভাই, লাইটার আছে?"
যা শুনছি!
অন্ধকারে বসে পোস্টটা লিখছি। এই অসম্ভবকে সম্ভব অনন্ত জলিল করে নাই, করেছে ল্যাপটপ। সিটিসেলের এডের ভাষাতেই বলি এমন যে হবে তা কেউ ভাবে নি আগে। অবশ্য প্রচন্ড গরম পড়ছে দরদর করে ঘামছি, তার ভেতরেই লেট নাইট ব্লগ লেখা শুরু করলাম। জানি তেমন কেউ পড়বে না চেনা জানা মানুষ ছাড়া, তাও নিজেকেই নিজে অনুপ্রেরনা দিয়ে লিখতে বসি। কেউ কেউ তো এসে পড়ে যাবে তাদের জন্য লেখা আর নিজের জন্য তো বটেই! মামা বাসায় নাই। হবিগঞ্জে অফিসের কাজে। মামা না থাকলে আমি ঘুমাই অনেক দেরীতে। কারন জানি বকা দেয়ার কেউ নাই। অবশ্য মামা থাকলেও রাত জাগা হয় যথারীতি। তিনটা পর্যন্ত বসে থেকে ফেসবুকের শ্রাদ্ধ করি, কি আর করা যাবে! কিছুদিন সকালে হাটলাম এই গরমে তা আর ইচ্ছা করে না! আর আবার লোডশেডিং ফুল ফর্মে ফিরছে। পাচ ছয় ঘন্টা থাকেনা ইলেকট্রিসিটি। বিকেলের দিকে হুট করে বৃষ্টি নামে তাতে জ্যাম বাড়ে আর গরমটাও হয় ঝাঝালো। গরম আমার খারাপ লাগে না। কিন্তু এত ঘামতে ঘামতে খালি ক্লান্ত লাগে!
নাগরিক বতুতা
আপ্তবাক্য-নাগরিক জীবনে বিনোদনের অভাব, ঘোরার জায়গা নেই, নিরাপত্তা নেই, অর্থের অভাব; এ কথাগুলো আমি মানুষের মুখে ঘুরবার ব্যাপারে হরহামেশা অভিযোগ হিসেবে শুনতে পাই। ক্ষুদ্রজীবনে ঘুরবার জায়গার কখনো কোন অভাব বোধ করিনি। নিরাপত্তাকে থোড়াই কেয়ার করেছি, টাকা কস্মিনকালেও ছিল না। শুধু পায়ে হেঁটে ঢাকা শহরের কত জায়গায় যে গিয়েছি - কি এক দ্রষ্টব্য বস্তু ছিলাম মানুষের চোখে- হাড় জিরজিরে একটা মেয়ে জিন্স আর পাঞ্জাবী পরে, কোমর ছাপানো চুল নিয়ে ভয়াবহ রোদে হাঁটছে কিংবা রিকশায় হুড ফেলে বৃষ্টিতে ভিজছে-কখনো ভাবিনি এগুলো খুব আহামরি কোন কাজ, কেউ কিছু বললে বা ক্ষরচোখে তাকালে আমি দৃষ্টি ফেরত দিয়েছি।
নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি
বিদায়ের বাঁশিটা বেশ করুণভাবেই বেজেছিল বুকের গভীরে ওর। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল সেদিন। ছোট্ট বুকের মাঝে সযত্নে লালন করা ভালবাসার সুতোটা আলগা হয়ে আসছিলো ক্রমশ, শক্তভাবে ধরতে চেষ্টা করেও কোনভাবেই অটুট রাখার উপায় ছিল না। কেবল কান্নাটাকে গলার কাছে আটকে রেখেছিল কোনরকমে।
এই গ্রাম, গ্রামের সবুজ গালিচার মত নরম দূর্বাঘাসের স্পর্শ, আর শান্ত স্নিগ্ধ নদীটার বুকে ভোরের প্রথম সূর্য্যের টকটকে লাল রঙটা যখন ছড়িয়ে পড়ে, অদ্ভুত ভাললাগায় ছেয়ে যায় মনটা। এগুলো কোথায় পাবে ও? আর বাবা? বাবাকে ফেলে ও কোথায় যাবে? বাবাকে না দেখে যে ও থাকতে পারেনা। কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও দু একদিন দেখা না পেলেই কেমন মন খারাপ লাগে। সেই বাবাকে রেখে এতদূরে ও কি করে থাকবে? বাবার কোমল উষ্ণ আলিঙ্গনের ছোঁয়ার অভাবটা কেমন করে পূরণ হবে? গাঁয়ের দুরন্ত সাথীদের মুখগুলোও সব একে একে ভেসে ওঠে মনে। ওখানে কি এমন কাউকে পাবে ও? কত কথা মনে পড়ে যায়! ভর দুপুরে ছাড়াবাড়ির বাগান থেকে ফল চুরি করা কিংবা শেষ বিকেলে নদীর পাড়ের নরম ঘাসে ছুটোছুটি করা। ওই ইট কাঠের শহরে এগুলো কোথায় পাবে?
চ্যাপ্টা গোলাপ ফুল
তখনও আমরা জানতাম না কোথায় থামতে হবে। কোথায় দিগন্ত শেষ। জানা হয়ে ওঠেনি তখন দাম্পট্যের শক্ত মানে। জানতাম শুধু তোমাকে চিঠি লিখবো তার জন্যে খাম কিনে এনে রেখেছি। এইসব অজস্র অজানার মধ্যে ক্লাসে তুমি আমার দিকে ছুঁড়ে দিতে কাগজ দিয়ে বানানো প্লেন, তার মাঝে লেখা থাকতো ’ভালোবাসি’।
তুমি আমার কৈশোরের ডানাকাটা পাখি; আজ জানি না কোন গাছে বসে গেয়ে যাচ্ছো গান। জানি না তোমার বিকেলগুলো এখন আর প্রজাপতিময় হয় কি না। সন্ধ্যা বেলা তুমি দেউড়িতে বসে চাঁদের সাথে হিসেব করে নেও কি না তোমার আগামী দিনের স্বপ্নগুলো, শুধু এইটুকু বুঝতে পারি; আমরা ফিরিনি। গানওয়ালা ফিরে গেছে তার পথে। পথগুলোও পেয়ে গেছে নতুন পথিক। তবু দ্যাখো ডাকনামে কেউ ডেকে উঠলে আমি তোমার কথাই ভাবি। কলিংবেলে শব্দ শুনে তুমি কি কখনও চমকে উঠোনি আমি আসতে পারি ভেবে?
দুধেল প্রহেলিকা
এখনি ঝড় তোলা রাতে জন্ম হয়ে গেলো দুধেল পুষ্করিণীর
টাকি মাছে মাখন রঙ বসলো চেপে
কই মাসের শ্বাস-প্রশ্বাস দুধেল উচ্ছ্বাস
চিংড়িগুলো একেক করে দেখে গেলো
শরীর জুড়ে ছোপ লাগলো দুধ আলতার
উঠোন মুড়ে রাঙা বৌয়ের বটি ঝরায় রক্তিম-রস জ্বালা
এমন সময় গোয়াল ঘরে গাভী ডাকলো জাবর কাটলো
ইচ্ছেগুলো দানা বেঁধে তুললো শূন্যে ঝড়।।
নিরব কুজ্ঝটিকা
অদৃশ্য হয়ে গেলে ছাপ এসে পড়ে মনের উপর
লঘু চালে সড়ক-বন্দর পার হতে হয়
কখন যে আমার ফিরতি পথের ট্রেনে যেতে হবে
কুয়াশা মোড়া রাত উদ্দেশ্য অজানার জন্ম দেয়
তখনই পাঁচিল ঘেরা ভূ-খন্ডে গুটি পায়ে
নেমে আসে চিরায়িত সে মানবী তার ক্ষীণ-কটি
তবে আঁধার লালিমায় শোনা যায় না কন্ঠ কূজন
সে নাকি জলের ঝর্ণাকে টেনে নিয়ে এসেছিল
অলিগলি পার হয়ে রাজপথের মধ্য মুকুটে।
ওড়াওড়ি
মানসিক অস্থিরতার কিছুকাল থাকে। এক একজনের এর প্রকাশ এক একরকম হয়।কি সাংঘাতিক বন্য সে সময়, কোনকিছুই প্রাণে লাগে না। আমার সকল অনুযোগ অস্থিরতা ঢেলে দিয়েছি ছোটাছুটি করে। এইচএসসির পরীক্ষার বছর কি অদ্ভূতভাবে যে কেটেছে! আজ আমি এখানে তো কাল সেখানে, এবেলায় এ গ্রুপ তো সে বেলায় সে বন্ধু। ৯৬ তে একটা জায়গা সবার মাঝে খুব পপুলারিটি পেল ঢাকার কাছে ঘুরবার জায়গা হিসেবে সেটার নাম ওয়াটার ফ্রন্ট। এয়ারপোর্ট এর কাছে খুব না কি সুন্দর জায়গা ঘুরবার। এর কাছে শুনি তার কাছে শুনি।বিশেষ করে কাপলরা সেই জায়গার ভূয়সী প্রশংসা করে। আমার বন্ধু সনি ৯৬ এর সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে আমাকে নিয়ে ওয়াটার ফ্রন্টে গেল। একটু পানি, কিছু গাছপালা, আর বিমানের উঠানামা। এখানে কি আছে তেমন আমি বুঝলাম না। গেলাম বন্ধুর মন রক্ষার্থে। কিছুক্ষণ পর আমরা একটা নৌকায় উঠলাম। পানির ভেতর ঘুরেটুরে যখন পাড়ে এলাম নামতে তখন আমি এবং সনি দুজনই কাদায় পড়ে গেলাম। কাদামাখা সনি কাদামাখা আমাকে এখানে বলবে সে আমাকে একটু একটু লাইক করা শুরু করেছে, আমি মনে মনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ব এবং ইয়ে দোস্তি কত তাড়াতাড়ি শেষ করা যায় তার প্ল্যান করব।
মুক্তি চাই, মুক্তি
শত কষ্ট বুকে নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে,বেঁচে থাকতে হয়। জ্ঞান হবার পর থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অসীম শ্রম দিয়ে নিজেকে তৈরী করে প্রকৃতি সমাজ, সংসারের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। এটা মানুষ প্রথমিক অবস্থায় নিজের জন্যই করে। একসময় নিজের সংসার ছেলেমেয়ের জন্য করে। কারো কারো হয়ত সামর্থের সীমা এখানেই থেমে যায়। কেউ আবার একধাপ উপরে অর্থাৎ মানুষের সেবা করার জন্য আপনা প্রয়োজন শেষে নিজের সামর্থ মত করে থাকে। কেউ আবার নিজের জীবনটা পুরোপুরি মানুষের জন্যই বিলিয়ে দেয়। আমি এমন নিঃস্বার্থ মানুষ কত খুজেছি, আজও খুজছি। কিন্তু পেয়েছি কি?
আমি ফুল হয়ে মানুষের ভিতরের ফুলের সুবাস নেবার চেষ্টা করেছি। ফুলকে দূর থেকে দেখলে তার রূপ ও গন্ধে সকলেই মুগ্ধ ও বিমোহিত হয়, কিন্তু একটি ফূল বৃন্তচ্যুত হলে ক্ষনিক সময়ের ব্যবধানে সৌন্দর্য হারায়। আমি মানুষের কাছ থেকে আরও যত কাছে গিয়েছি ততই তাকে বৃন্তচ্যুত ফুলের মত শ্রীহীন হতে দেখেছি।
