ইউজার লগইন
ব্লগ
ধূসর স্বপ্ন
বদলে যায় সবকিছুই
ঋতুবদলের খেলায়
প্রকৃতি বদলে যায়,
সবুজ ধুসর হয়
সময়ও বদলে যায়।
চাওয়া পাওয়ার দোলাচালে
সবচেয়ে বেশি বদলে যায়
মানুষ।
আলো আঁধারে অচেনা লাগে
চেনা মুখগুলো।
স্বার্থের কাছে ভালবাসা উবে যায়,
মানবতা বন্দী হয় লোহার শেকলে।
মন বদলে যায়,
ঝলমলে রোদ শেষে ঝড় ওঠে
বন্দী হয় বিবেক, স্খলিত স্বপ্ন।
প্রতিদিনের চালচিত্রে
যোগ হয় সংখ্যা, আর্তনাদের ধ্বনি!
অতীত খুঁড়ে পেছনে তাকাই
ওখানেও শূণ্য বুকের ক্ষত,
সময়ে শুকিয়ে যায়নি একটুও
বুকের ভিতর রক্ত আখরে লেখা
জমাট কান্নার ইতিহাস।
কেবল ব্যতিক্রম
রাস্তার তেমাথার ধারে
দাঁড়ানো ঐ পাগলটা।
জট পাকানো মাথা,
ধুলো মলিন কাপড়ে জড়ানো।
বোকার মত কেবলই হাসে
যেন কিছুতেই কিছু যায় আসেনা।
বদলে যাওয়া এই অস্থির সময়ের ভিড়ে
একমাত্র সুখী মানুষ!
ভিআইপি 'নেতা' বনাম যানজট
ঢাকার যাত্রীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন―যানজট আসলে কী, কোন কোন উপায়ে এটা পয়দা হয়। ব্যাপারটা অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে অনেকেরই। 
মাঝে-মধ্যে আমরা শরীরচর্চা+টাকা সেভ করার জন্য শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত হেঁটে যাই। বাসার উদ্দেশে কারওয়ান বাজার থেকে বাসে উঠি। গত রবিবারও যথারীতি যাচ্ছিলাম। শাহবাগের পরের ওভার ব্রিজটার মুখে পুলিশ মামা দাঁড়িয়ে, কাউকে উঠতে দিচ্ছেন না। অবাকই লাগলো, জায়গাটা হিজড়া এবং পতিতাদের দখলে থাকে এই সময়টায়, রাত ৮-৯টার পর থেকে। সেখানে আবার 'উপদ্রব' কেন...। বোঝার জন্য আশপাশে তাকালাম, অনেক পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার পাশে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাস্তা পুরো ফাঁকা। কোনো পথচারীকেই রাস্তার এই পাশ থেকে ওই পাশ, ওই পাশ থেকে এই পাশে আসতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ মামাকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, কোনো এক ভিআইপি আসবেন, তাই এই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। 
যেদিকেই হাঁটি পুলিশ আর পুলিশ; কেউ কেউ কটমট করে তাকাতেও ভুলছেন না! একেই বলে বোধহয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা!
গল্প: যখন আরো কয়েকশ' বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে অকারণে
১.
কবি টং-এর ওপর বসেছিলাম অবন্তি আর আমি। সমুদ্রসৈকতের তিন থেকে চারশ' মিটারের ভেতরেই, তিনশ' ফুট উঁচুতে টং-খানি অবস্থিত। এই টং আসলে চায়ের দোকান নয়, বাঁশ দিয়ে বানানো মাচা- যার উপরে উঠতে পারলে অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখা যায়। তবে পড়ে গেলে কিংবা ঝড়ো বাতাসে উড়ে গেলে কি হবে সে সম্পর্কে চিন্তা না করাই ভাল। সেদিন সকাল থেকে সাগরে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। আর মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সাগরে যেতে নিষেধ করে উপকূলে থাকতে বলা হয়েছিল।
মৃদুমন্দ বাতাসে টংটা বিপজ্জনকভাবেই দুলছিলো, তবে সেদিকে আমাদের খুব বেশি ভ্রুক্ষেপ ছিল না। পরিবেশটা উপভোগ করতে ভাল লাগছিল অনেক বেশি। কবি টং-এর একপাশে নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড় আর অন্যপাশে বঙ্গোপসাগর। নিচে মেরিন ড্রাইভ। মেরিন ড্রাইভ আর আমাদের অবস্থানের ভেতর আর রয়েছে কেবল সারি সারি নারিকেল গাছের মাথা।
সাত রঙ যখন একত্রে মিশিলো অকারণে অকালে তার পরিলো ডাক...
উনিশ'শ একান্ন-বায়ান্ন সালের দিকে প্রায়ই এক দূর্ধর্ষ চেহারার তরুণ ও এক ছিপছিপে গড়নের কিশোরীকে দ্যাখা যেতো বড়ো সড়কের অদূরে কুঠিবাড়ি'র সিঁথানে শতাব্দী প্রাচীন কোন এক বট অথবা পাকুড় গাছের নিচে। তরুণের হাতে হয়তো দেবীনগর বা নুরুল্লাহপুর মেলা থেকে কেনা লাল রঙের কাঁচের চুড়ি থাকতো অথবা থাকতো না, তবে কিশোরীর হাতে সবসময়ই রঙিন সূতোয় বোনা আগেরবারের'চে ভিন্ন চেহারার হাত-পাখা থাকতো। বট অথবা পাকুড়, যেই গাছের নিচে বসে কিশোরীটি খুঁনসুটিতে মেতে উঠতো অথবা তরুণটি হেঁড়ে গলায় গান গাইতো সেই গাছের অদূরের বড়ো সড়ক ধরে হেটে আসা প্রৌঢ়টি হয়তো তাদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতো অথবা গাছের পাশ দিয়ে এগিয়ে চলা গরুর গলায় গিঁট দেয়া দড়ির অপর প্রান্তের বালকটি হয়তো মুখ টিপে হাসতো। কিশোরীটি আর তরুণটি প্রেমিক-প্রেমিকা নাকি ফুপাতো-মামাতো ভাই-বোন, এই নিয়ে হয়তো সন্ধ্যাবেলায় আলোচনাও হতো কুঠিবাড়ি'র আশেপাশের কোন এক কুপি জ্বলা বাড়িতে মহিলাদের আসরে। কেউ জানেনা কে কী ভেবেছিলো।
জীবন ও জন্ম
শ্রাবণ, একটা আধপাগল ছেলে। কখন কি করে তার কোনো ঠিক নাই। ইচ্ছে হলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গভীর রাতে চলেযায় রেস্টুরেন্টে খেতে। ইচ্ছে হলে ঝুম বৃষ্টিতে সুটেড বুটেড অবস্থায় ভিজতে নেমে যায়। ইচ্ছে হলে হাটে, শুধুই হাটে।
তার বন্ধুদের মতো, তারও একজন প্রেমিকা ছিলো, শ্রেয়া। তাদের প্রেম ছিলো সবার কাছে উদাহারন। সবাই হিংসা করতো তাদের ভালোবাসার সুখ দেখে।
একদিন শ্রাবণের কাঁধে মাথা রেখে শ্রেয়া বলেছিলো। বিশ্বাস করো শ্রাবণ, এই পৃথিবীতে আমার জন্ম শুধুই তোমার জন্য। হয়তো তোমার হবো বলেই আমার এ ধরনীতে আসা।
আজ শ্রেয়া, শ্রাবণের থেকে অনেক দূরে। শ্রাবণ যখন ঢাকায় প্রতিনিয়ত বাস্তবতার সাথে ঠোকর খাচ্ছে, তখন শ্রেয়া নাটোরে তার সুখের সংসারে আলো ছড়াচ্ছে। আজ সে আর শ্রাবণের প্রেমিকা নয়, অন্যকারো ঘরণী। সোজাকথায় পরস্ত্রী।
ইদানিং শ্রেয়া গল্পে গল্পে তার বান্ধবীদের বলে, জানিস আমার কেনো যেনো মনেহয় তোদের ভাইয়ার জন্যই আমার এই জন্ম!!!! ও আমাকে এত্তো ভালোবাসে। ওর ভালোবাসায় আজ আমি সম্পূর্ণ। আমার জীবনটা আজ সার্থক।
এসব শুনে শ্রাবণের খুব সাধ জাগে, ইশ যদি একটি বার জিজ্ঞাসা করতে পারতাম।
স্মৃতিকাতরতা - ০২
যেদিকেই তাকাইবেন , দেখিবেন গান বাজিতেছে , মুভি চলিতেছে। হউক সে মোবাইলে, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ । ইন্টারনেট হইতে ডাউনলোড করিয়া সকলে চালাইতেছে । আর ডাউনলোড না করিলে সিডি ক্রয় করিয়া গান শুনিবে না হইলে মুভি দেখিবে। এই যুগের ছেলেপুলে সিডি, ডিভিডি এসবের নাম জানিলেও ক্যাসেট/ফিতা ইত্যাদির নাম হয়তো নাও শুনিতে পারে, কিন্তু আমাদের বয়সী কেহ ক্যাসেট বা ফিতা শুনিবে না - তাহা অবিশ্বাস্য । সে অডিও ক্যাসেট হউক কিংবা ভিডিও ক্যাসেট।
আজিকে এই ক্যাসেটের কথা কহিতেই আসিয়াছি। তখন ছিল রেডিওর যুগ। সকলেই শুনিতেন রেডিও। তাহা লইয়া কিছু কথা আগেও কহিয়াছি। বিজ্ঞাপণ তরঙ্গ লইয়া একবার লিখিয়াছিলাম । সে সময় রেডিওর পাশাপাশি চলিতো ক্যাসেট বা টুইন ওয়ান। একখানা বাটন চাপিলে ক্যাসেট ঢুকাইবার চেম্বার খটাস করিয়া খুলিত, তারপর তাহার ভিতরে ক্যাসেট ভরয়া চাপ দিয়া লাগাইয়া প্লে বাটন চাপিতে হইতো।
অরক্ষিত বলয়
সেনাবাহিনীর কাজ যুদ্ধ করা। তারা যখন মারা যাবে তখন গুলিটা যাতে বুকে লাগে তার জন্যই তাদের যতো ব্যাকুলতা। মৃত্যুকে আমরা ভয় পাই, বেচে থাকতে চাই অনন্ত কাল।
অনন্তকাল বেচে কি করবো? সাগর পাড়ে মার্টিনি হাতে নিয়ে রঙ্গিন ছাতার নীচে শুয়ে শুয়ে সাগরের গর্জন শুনবো অথবা বিপুল অর্থ বৈভবে ডুবে মৌজ মাস্তি। সম্ভব নয়, মৃত্যু এমন এক সত্য যেটা আমরা সর্বদা ভুলে যাই। কালকে হয়তো নীল আকাশে সূর্য্য উঠতে নাও পারে, তবু মৃত্যু অবধারিত। মহাজাগতিক নিয়মের উর্ধ্বেই।
স্টকহোম সোদ্রার পার্কে বসে ছিলাম। এক সিরিয়ান যুবক দাড়িয়ে খুব পরিস্কার ইংলিশে বলে যাচ্ছে। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। আমার চোখের কোনে অশ্রু ঝরছে। আকাশে রোদ নেই, তবে অশ্রু ঢাকবার জন্য অনেকেই সান গ্লাস পড়েছে।
আমার সন্তান আমার পৃথিবী
আমার যত সুখ সব কিছুই আমার দুই ছেলেকে ঘিরে। ওদের সামনে খুব বেশি আহ্লাদি করি না। বকা ঝকাও করি। কিন্তু চোখের আড়াল হলেই শুরু হয় ওদের মিস করা। ওরা খুব ভাল করে জানে আমাকে । আর তাই সেটার সুযোগও নেয় ।
আমি আমার অতীত খোজার চেষ্টা করি ছেলেদের মাঝে। কিন্তু ওদের সাথে আমার অতীতের কোন মিল নাই। আমার মত বদ কিসিমের হয় নাই আমার ছেলেগুলি। এত বেশি ভদ্র আর ভাল যে দেখলে মাঝে মাঝে নিজেরই মেজাজ খারাপ লাগে।
আমার আর ওদের বেড়ে উঠার পার্থক্য হল আমি ছিলাম অনেক মানুষের মধ্যে কিছুটা বেওয়ারিস ভাবে থাকা । ওরা বড় হয়েছে অনেক আদর,যত্নে,নিয়মের ভিতর। কোন মাথাব্যথা বিহীন , সামাজিক নিরাপত্তায়।তাই বলে ওদের “ফার্মের মুরগি” বলা যাবেনা।ভিন দেশের মাটিতে জন্ম নিলেও আমাদের দেশি কালচার, বাংলা ভাষা, আদব কায়দা, নামায রোযা, কোরান তেলাওয়াত সব কিছুই খুব ভাল ভাবে রপ্ত করেছে। দৈনন্দিন চর্চাও করে।
সুনামগঞ্জ হাওড়ে স্মৃতিময় দুই দিন
২৭ তারিখ রাত সাড়ে ১০ টার বিআরটিসিতে চেপে বসলাম আমরা ৩ জন। এক দিন আগে চলে গেছে আমাদের আরো ২ জন। তৃতীয় বারের মত আমরা যাচ্ছি সুনামগঞ্জ শিশু পল্লীতে। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে এতিম খানা। এর আগে দুবার গিয়ে সেখানকার ১০০ এতিম শিশুদের সাথে কিছু সময় কাটিয়েছিলাম। ওদের জন্য টুকটাক এটা-সেটা নিয়ে গিয়েছিলাম। শেশবারের মত ওদের দাবী ছিল- কিছু খেলনা। সেটা আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছোট মেয়েগুলো বায়না ধরেছে- আমরা কজন না গেলে ওরা সে খেলনায় চড়বে না। অগত্যা আমাদেরও যেতে হলো। আমরা মানে আমি, গিয়াস আহমেদ, রাশেদুল হুদা, অঞ্জন আর শিবানীদি। শিলং থেকে ট্যুর সংক্ষেপ করে আমাদের সাথে যোগ দিলো- সুবীর মহাজন আর চট্টগ্রাম থেকে সুবীরের বন্ধু ফারুক।
শৈশব
মানুষ বদলায় না, ঘোর নিঃসঙ্গ ব্যস্ত শহরের মানুষের ভেতরেও নিস্তব্ধ অবসর থাকে, তারাও উত্তেজনার খোরাক চায়, এই যে বয়স্ক মানুষটা হুট করে চিৎকার করে উঠলো, ফ্ল্যাটবাড়ীর গ্যারেজের দরজায়, অমনি আশেপাশের চায়ের দোকান-মুদির দোকান থেকে ছেলে বুড়ো সবাই হই হই হাজির হয়ে গেলো মজা দেখতে। এর ভেতরেও নিখাদ গ্রাম্যতা যে যে গ্রাম্যতায় পোষা গরু ছাগলের মতো গ্রামের পোষা পাগলকে দেখে ভয় ভয় উত্তেজনায় চলে আসে। এইসব মানুষদের ভেতরের ক্ষোভ কাউকে ক্ষুব্ধ করে না বরং এক ধরণের কৌতুকের জন্ম দেয়।
গ্রামের নিস্তরঙ্গ আলুনি জীবনে উত্তেজনা বয়ে নিয়ে আসতো এইসব বায়ুচড়া মানুষেরা, হঠাৎ চৈত মাসের দুপুরে লোকটা মাঠ থেকে ফিরে কিরম হয়ে গেল, বললো বৌ ভালো লাগে না- আমি তো বুঝি নি বু, আমার কি যে সর্বনাশ হয়ে গেলো, মানুষটা হাসুয়া নিয়ে দৌড় দেয়, লোকজন আতংকে চিৎকার করে, আবার একটু দূরে দাঁড়িয়ে টিপটিপ হাসে। পরস্পরের গা টিপে, কাঁধ ঝাকিয়ে মৃদু উল্লাসে ফেটে পরা মানুষেরা আসলে সার্কাস দেখে। সার্কাসের জন্তুদের বলের উপরে বসে পরা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো এই বায়ুচড়া মানুষটার হাসুয়া চালানোও এক ধরণের মাংনার উত্তেজনা তাদের জীবনে।
সারভাইভিং হলোকাস্ট বাডি
শিরোনামের কথাটা লিখেছিলাম এক পুরোনো বন্ধুকে, যে সম্প্রতি মেসেঞ্জারে জানতে চেয়েছিল, হেই ইউ, হোয়াট আর য়ু ডুয়িং নাউ?
অথচ এই আমি একসময় নিজের শার্টের ভেতর হাত লুকিয়ে রেখে মানুষকে বোঝাতে চাইতাম যে, আমার একটি হাত কাটা পড়েছে। সেটা খুব বেশিদিন আগের কথা না।
সে সময় একটা চাররঙা টিপ-কলম ছিল আমার। প্রায়ই যেটার চারটা বাটন একসঙ্গে টিপতাম। কোন শীষই বের হতো না। ওই সব দিনে বাড়ির মানুষদের ভয় দেখানোর জন্য দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকতাম। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কেউ আসতো না, একসময় নিজেই আড়াল থেকে বেরিয়ে পড়তাম। ভগ্ন মনে।
ঈদের সময় বা বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়াটা জীবনের একটা অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ ছিল। রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময় মনে করতাম, চাঁদটাও আমাদের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছে।
আর প্রায়ই ঘরের সুইচবোর্ডে অবস্থিত ফ্যান, লাইট ইত্যাদির সুইচকে মাঝামাঝি জায়গায় ব্যালেন্স করার চেষ্টা চালাতাম। এই কাজ করতে গিয়ে প্রচুর বাল্বের ফিলামেন্ট কেটেছে আমার হাতে। এছাড়া ফ্রীজের লাইট কখন বন্ধ হয় তা দেখার জন্য খুব আস্তে আস্তে সেটার দরজা বন্ধ করতাম।
চুপকথা রুপকথা.. [লিরিক অফ এন আনসাং রক ব্যালাড!]
[কিছু ভালোবাসা দামে কেনা ছিল স্বপ্ন আমার,
অথবা স্বপ্নের দামে ভালোবাসা।
শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতি আর
রাজহাসের শৈশবই কেবল জানে,
কতটা সত্যি ছিল রুপকথা।
সোনার জলে মোড়ানো রুপোলি আয়নায়;
হারানো মনের ছায়ায় চোখ পড়তেই,
মনে পড়ে যায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় চুপকথা -
মানুষ মাত্রই ভুল।।]
কিছু রাত্তিরে জমা থাক
কিছু অ-জানা দিনের ঘ্রান,
চেনা ঝকমকি মন ঠুকলেই
হারে অ-চেনা আগুনে প্রাণ।
এই মিথ্যে কথার বসতিতে
যত সত্যি কথারা কোলাহল,
রোদ ঝকমকে দিনে ভুলে পথ
শত মেঘলা মনের চলাচল।
সাঁঝ পেরুলেই পাতাবাঁশি সুর
নিয়ে যায় মন অজানায়,
গোধুলীর প্রিয় কণে দেখা আলো
একা চোখে রোদ রেখে যায়।
সুদুরের প্রিয় মেঘের চিঠিতে
নীল খামে অনাসৃষ্টি,
অবাক চোখেতে বলে গেছে
ফের আসবেই আজ বৃষ্টি।
আজ আগুন জ্বলুক ভেজা কার্ণিশে
রাত্তিরে চাই সূর্যের দিন,
সময়ে আসেনা অসময় ডাক
মর্মে মিলাক হৃদয়ের ঋণ।।
দেহরক্ষী!
'বহুল আলোচিত' সিনেমা দেহরক্ষী দেখলাম গতকাল। ফার্মগেটের আনন্দ হলে। আনিসুর রহমান মিলন, মারুফ এবং দেহসর্বস্ব নায়িকা ববি―কমবেশি সবার প্রতিই বিরক্তি জেগেছে। ডিমের নাম যেমন আন্ডা, তেমনি সব বাংলা সিনেমাই মূলত এক। আমাদের দেশে সিনেমা হয় না, হয় 'বাংলা সিনেমা'!
বিগ বাজেটের ছবিতেও বাড়তি কিছু পাওয়া যায় না।
নায়িকার ক্ষুরধার ফিগারই যদি ছবি হিট করতে ভূমিকা রাখতো, তাহলে সবাই তা-ই করতো। নায়িকারাও অভিনয় না শিখে ফিগার ঠিক করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতেন। কিন্তু ছোটখাটো এসব জিনিস ঢাকাই ছবির পরিচালকরা বোঝেন না।
'দেহরক্ষী' দেখার পর মনে হলো, একটা রামছাগল যতটুকু বুদ্ধি ধারণ করে, আমাদের দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা ততটুকু বুদ্ধিও রাখেন না।
এরা পারেন শুধু মুখস্থ সংলাপ বলতে আর পরিচালক-প্রযোজকের ন্যাওটা হয়ে থাকতে।
নিজের বুদ্ধি থেকে এরা গল্পের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না, ফাও সংলাপ ডেলিভারি দেয়ার আগেও কোনো আপত্তি তোলেন না। 'জি হুজুর' বলতে যারা অভস্ত, তাদের আপত্তি থাকার কথাও না।
এমন 'অনুগত' লোক লইয়া আমরা―সিনেমার দর্শকরা কী করিবো!?
আই উইশ আই ওয়াজ ইনভিজিবল!
১.
একজন বন্ধু লিখেছেন, আই উইশ আই ওয়াজ ইনভিজিবল!
পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সবার মনের আশা একই রকম থাকে কেন? আমার তো সেই কবে থেকে ইচ্ছে করে অদৃশ্য হয়ে যেতে। ইচ্ছেগুলো পূরণ হয় না। শুধু বিভিন্ন রকম ফর্ম পূরণ হয়, বছরজুড়ে।
দেউলিয়াত্ব ক্রমে খুবলে খাচ্ছে শরীর। মনটাকে তো খেয়েছে সে প্রক্রিয়াটির শুরুর দিনে। আর মগজ খেয়েছে অনেক আগে। বালুমানবকেই মনে পড়ে আজকাল শুধু।
২.
চলছে জীবন নিজের গতিতে। আশপাশে কত কিছু ঘটে যায়। একটা আড়াই বছরের বাচ্চা তিনতলা থেকে পড়ে যাবার সময় তাকে ধরে ফেলে কয়েকজন কারখানা শ্রমিক। ইন্দোনেশিয়ায় বন পুড়ানোর কারণে সিঙ্গাপুরের বাতাসে কার্বনের মাত্রা বেড়ে যায়। জীবন বাজি রেখে যে শ্রমিক বড় বড় ইমারত নির্মাণ করে, সে কোনোদিনও পায় না ওই ইমারতে বসবাসের আস্বাদ। অথচ তারপরও প্রতিটি মানুষের কাছে তার জীবনই মুখ্য। নিজের জীবনটাকে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে ভালোবাসে এমন মানুষের সংখ্যা কত পৃথিবীতে। হাতে গুণে কি শেষ করা যাবে?
৩.
টেলিফোনের আলাপন
- ক্রিং ক্রিং টেলিফোন! হ্যালো হ্যালো হ্যালো!!
- কে তুমি? কাকে চাও বলো বলো বলো?
- আমি ম্যাও, হুলো ক্যাট! ইদুঁর’কে চাই, জরুরী আলাপ আছে, তুমি কে হে ভাই?
- আমিই ইদুঁর, তবে কথা হলো এই, আমি গেছি মার্কেটে, বাড়িতে নেই!!
……
ছোট্টবেলায় শোনা এই ছড়াটা নেহাৎ মিথ্যে নয়, সব রকমের দরকারি যোগাযোগের পাশাপাশি, যুগে যুগে এমনি গা বাচিঁয়ে চলার এক মোক্ষম উপায় হলো টেলিফোন। টেলিফোনের উত্তরোত্তর উন্নয়নের কল্যানের ফল যে মোবাইল ফোন তা তো এহেন ইদুঁর-বেড়াল লুকোচুরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! অফিসের বস, ঘরের বৌ, কিবা এড়িয়ে যেতে চাওয়া বন্ধু – এমনি আরো নানান বেগতিক পরিস্থিতির সবার কাছে থেকে বাচঁতে অবলীলায় এটা ওটা বলে পার পেয়ে যাচ্ছি! আবার করেও চলছি নানান মিথ্যের বেসাতি।