ইউজার লগইন
ব্লগ
হাওয়া লেগে ভেঙে গেল ভোর..
এক্সাম চলছে, আদ্দেকও শেষ হয়নি এখনও।
আপাতত হাবিজাবি আর কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল না খুব একটা,
তবুও আসতেই হল।
এমনিতেই এক্সাম টেক্সামের টাইমে মন মেজাজ খারাপ থাকে,
[গাধা টাইপ ইস্টুডেন্ট, এক্সাম খারাপ হবে আগেই জানি তাই মনে হয়!]
সবার সাথে শুধুশুধুই অভিমান হয় – গলার রগ ফুলিয়ে ঝগড়া করতে ইচ্ছা হয়!
তার উপর এই ছাতার পরীক্ষার যন্ত্রনায় আমাদের পিকনিকটায় পর্যন্ত যাওয়া হল না, এইডা কিছু হইল!
কালকে রাতেই শান্ত ভাই এর পিকনিক পোস্ট দেখছি, এখন আবার জেবীনা’পু।
ব্লগ পইড়া আর সব ফটুক দেইখা হিংসিত হওয়াটাই স্বাভাবিক,
আমার হইছে আজিব সমস্যা – পড়ি/দেখি আর মন আরও খারাপ হয়!
শান্ত ভাই ভাল আছে, একবার আমার কথা মনে করছে! আর সবাই পাষাণ!
কত্ত বড় সাহস সবার, আমারে ফালাইয়া সবাই একলা একলা চা খায় আবার তা লইয়া ব্লগ লেইখা দুনিয়া ভইরা ফালাইছে! কি নিষ্ঠুর, কি নিষ্ঠুর!
যাই হোক, কি আর করার!
প্রিয় কিছু মানুষ ভাল কিছু সময় কাটাইতে পারছে একসাথে - দেখতে খারাপ লাগতাছে না! আল্লাহ চাহে তো, নেক্সট টাইম আমারও দিন আসব নে!
পদ্মারপারে পিকনিক২০১৩
পিকনিকের জন্যে সব্বারই মন আকুপাকু করছিলো। কতদিন একে ওকে দেখি না, নতুন নতুন লোকজন চিনি না, জোট বেধেঁ গল্প করা, বিশেষ কাউরে পচাঁনি দেয়া, কিবা কুটচালি করি্ না, আহ! কত্তোদিন। বছরব্যাপি প্রচুর ঘ্যানঘ্যান চলার পরও, ন’মন ঘি রেডি থাকার পরও রাধার নাচ কেউ দেখতে পায় না আই মিন পিকিনিকের ব্যবস্থা হয় না! আসলে এমন তো হতেই পারে না যে, যেখানে আমি নাই আর আমায় ছাড়া মজা করবে বাকি সব্বাই! এই জন্যেই কেউ পিকনিক করে নাই গেলো দু’বছর! হে জনগন, তোমাদের এইসব ভাঙ্গা জংপড়া হৃদয়ের ভালুবাসার পাকে পড়ে হাবুডুবু খাওয়ার ব্যাপারটা বড়ই গবেষনার বিষয়, আপাতত সেই কাজে আপাতত না যাই।
স্বপ্নের শহরঃ নিঃশব্দ প্রহরের কান্না !
শীত বেশ জেঁকে বসেছে এবার, দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই হাড় কাঁপানো শীতে খোলা আকাশের নিচে বাঁচার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে চলে কিছু মানুষ। রঙিন কাঁচের আড়ালে ঝলমলে বর্নীল জীবন নয়, বরং শক্ত মাটির উপর কনক্রিটের বিছানাই ওদের সম্বল। পশমি কম্বলের আরামদায়ক উষ্ণতার প্রত্যাশা ওরা করে না, হাড় কাঁপানো তীব্র শীত আর হিম শীতল বাতাসের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে পাতলা পুরাতন কাপড় কিংবা চটের আচ্ছাদনে উষ্ণতা খুঁজে ফিরে এই সব অস্পৃশ্য মানুষ নামের জীব! সীমাহীন শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে এদের দিকে দু’হাত বাড়াতে এগিয়ে আসে না কেউ, দেখায় না সামান্য সহানুভূতি! সারা শহর জুড়ে বিভিন্ন খোলা জায়গায়, পার্কে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে গেলে দেখা যায় বাস্তব চিত্র। রাতের ঢাকার এই চিত্র বেশীর ভাগ মানুষের কাছেই থেকে যায় অজানা!
শীত রাতের কিছু দৃশ্যঃ

জয় মহাপ্রভু ধুম্রশলাকার জয়
মহাপ্রভুর প্রিয় অবলম্বনদ্বয় তথা তর্জনি এবং মধ্যমার সহাবস্থান নিশ্চিত হওয়ায় , জ্বলন্ত মহাযোগী ধুম্রশলাকা মহাপ্রভুর নির্দেশিত পথানুরাগী একান্ত ভক্ত , অনুসারী , হন্টক কিংবা পলাতক বশ্যতা স্বীকারপূর্বক প্রভু কর্তৃক দীক্ষিত উপায়ে প্রভু ধুম্রশলাকার নশ্বর দেহের ক্রমাগত জ্বলন বলপূর্বক ত্বরান্বিত করিয়া তাঁহার অন্তেঃষ্টিক্রিয়া সম্পাদন করিয়া চলিয়াছে নিরন্তর । তথাপি মহাপ্রভু ধুম্রশলাকার অস্তিত্ব যেমন চির অক্ষয় , তেমনি তাঁর প্রতি অনুসারীদের পরম ভক্তিও চির অম্লান । সাকার এই মহাপ্রভুর দৃশ্যত জ্বলনে প্রাপ্ত ধুম্রজালের অদৃশ্য অন্তর্নিহিত বস্তুগত এবং ভাবগত অপার কৃপায় গুনগ্রাহীগণ অমৃতসুধা পাইলেও পাইতে পারেন , যদি তাহা তিনি হৃদয়গত বিশ্বাসে গ্রহণ করিয়া থাকেন ।
কৃতজ্ঞতায় - মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ এক শিষ্য ।
জয় , মহাপ্রভু ধুম্রশলাকার জয় ।
পিকনিক আপডেট
চারিদিক থেকে দাবী শান্ত পিকনিক নিয়া পোষ্ট দেও। তানাবীরা আপু মেসেজ পাঠাইছে, হেলাল ভাই আস্থা রাখছে, গৌতম দা সবার নাম রাখতে বলছে আরো চারিপাশের মানুষজন বলতেছে শান্ত পিকনিক নিয়া একটা ফাটায়া পোষ্ট দেও। আসলে ফাটানোর মালিক আল্লাহ আমি তো শুধু উসিলা মাত্র। যেহেতু সবার মুখে শুনি আমি নাকি দিনলিপি ভালো লিখি আমার নিজের অবশ্য দিনলিপি ছাড়া কিছু লিখতে পারিনা বলেই লিখি তাই দিনলিপির মতো করেই পোষ্ট শুরু করি!
~!!~নিরবে থাকা স্বপ্নসুখ আর নিশি জাগা একাকীত্ব~!!~
[ কিছু অনুভুতি শেয়ার করার জন্যই এই লেখা ]
নিরবতাই আমার ভাললাগা-
শীতের কুয়াশার চাদরে শিতল হয় অতৃপ্ত আত্মা।
ধীরে ধীরে শান্ত হয় নগরী-আমি জেগে থাকি শুধুই
নিরবতা উপভোগ করব বলে ।
একা থাকা কিম্বা নিরবতা –এর মাঝে সুখ বিস্তর ।
জানি তুমি কষ্ট পাবে হে প্রিয়তমা অথবা জননী, তবু বলে রাখি =
আমার নিজের সত্তার সাথে কিম্বা আকান্ত আমাতে একটু নিমগ্ন হতে গেলে –
তোমাদের কি খুব কষ্ট হবে ?
আমি নিজের মত আপন মনে সুখে থাকি তবুও কেন=
প্রশ্নবানে জর্জরিত কর আমাকে ? কষ্ট পাই ভীষণ- অপরাধী লাগে নিজেকে ।
তোমরা তো জান তোমরাই আমার সব । আমি তো অমানুষ নই।
আমার , আমিতে আত্মনিমগ্নতা –এ এক স্বর্গীয় সুখ।
তবু কেন তোমাদের এত শঙ্কা?
না । আমি কোন কষ্ট পাচ্ছিনা।
নেই কোন অভিযোগ।
আমি আমার ব্যস্ততম দিনের শেষান্তে ।
আমি ভালবাসি আমার আত্মীয় –পরিজন- প্রকৃতি- আর প্রিয়তমা ।
আমাকেও তো আমি ভালবাসি?
নিজের জন্য কি এতটুকু স্বাধীনতা থাকতে নেই ??
স্বপ্নলোকের স্বর্ণ সিরিতে আমার পদচারনা থমকে যায় –
ফোন এর ওপাশের কথা শুনে-
তারপর একরাশ কালো কালো ধোঁয়া
ঠিক কি কারণে জানি না, মানুষের জীবনে কখনোই স্থিরতা আসে না। কখনো ভালো সময় যায়। কখনো খারাপ সময়। সাধারণত খারাপ সময়গুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়। ভালো সময়গুলো ক্ষণস্থায়ী। হয়তো আপেক্ষিকতা কাজ করে এর পেছনে। যে সময়গুলো আমাদের ভালো লাগে, সেগুলোকে আমরা দ্রুত চলে যেতে দিতে চাই না। সেজন্যই হয়তো সেগুলো দ্রুত চলে যায়। খারাপ সময় দীর্ঘস্থায়ী হোক, তা চাইনা বলেই হয়তো সেগুলো অনেকদিন পর্যন্ত সঙ্গে সঙ্গে থাকে। এভাবেই পার হয় দিন। পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি/ দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।
অনলাইন-অফলাইন
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই মেজাজ খারাপ। বেলা দশটা অবধি যেদিন ঘুমাই সেদিন আমার অত্যন্ত বাজে কাটে কিছুই মন দিয়ে করা হয় না। সকালে উঠে বিবিসি বাংলা শুনবো ব্লগে ফেসবুকে ঘোরাফেরা করবো তারপর দু তিনটা পত্রিকা পড়বো নিজে রং চা বানাবো ড্রাইকেক বিস্কিট খাবো তারপর আস্তে ধীরে বাইরে বের হবো তাহলে না হয় একটা পারফেক্ট সকাল উদযাপন হয়। এরকম না হলেই সব কিছু বিগড়ায়। উঠেই মুখ ধুয়ে বাইরে চলে যাই দিনটা কাটে জঘন্য। আজকেও তেমন ভাবেই বের হ্লাম। নিউএজ কিনে হাটতে হাটতে গেলাম হোটেলে। কোনো এক অদ্ভুত কারনে সেই হোটেলের এক খাবার পরিবেশকের চেহারা আমার বন্ধু হাসিনের মতো। তাকে অপ্রস্তুত হয়ে দেখলেই আমার কাছে হাসিন বলে মনে হয়। আর আমাকে দেখলেই তার শুধু নেহারী খাওয়াতে মন চায় কিন্তু আমি খাই মাসে ১ বার তা। এইটা খুব জটিল একটা সমস্যা। সমস্যাটা নিয়ে ভাবতে হবে। যাই হোক নাস্তা করলাম সামান্যই। মুগডাল আর রুটি আর বিস্কুটের গুড়া দেয়া বাজে চা। এরপর চায়ের দোকানে গিয়ে দেখি চায়ের দোকান বন্ধ। মেজাজটা হলো আরও খারাপ। নান্নু সাহেবের পিন্ডী চটকালাম মনে মনে। আরেক দোকানে চা খেলাম শান্তি পেলাম না কারন তারা বানাতে পারে না দুধ চিনি কম দেয়া কড়া লিকারের চ
পেছন পথের ধুলো

এটি একটি কাল্পনিক গল্প, জীবিত বা মৃত কারো সংগে গল্পের কোন চরিত্রের মিল নেই। মিলে গেলে কাকতাল মাত্র।
মাধবপুর স্কুল মাঠ আজ রঙীন সাজে সেজেছে। মাঠের এক পাশে বড় স্টেজ করা হয়েছে। সারা গ্রাম আজ আনন্দের বন্যায় ভাসছে। চারিদিকে একটা উৎসব উৎসব ভাব। ইমতিয়াজ সাহেব আসবেন, তাই এই বিশাল আয়োজন! গ্রামের সব গন্য মান্য ব্যক্তিবর্গ- চেয়ারম্যান, মেম্বার থেকে শুরু করে তরুন-যুবারা আজ মহা ব্যাস্ত।
ইমতিয়াজ সাহেব এই গ্রামের গর্ব। খুব জ্ঞানী মানুষ। তার অনেকগুলো পরিচয়- তিনি এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা, নাট্যকার এবং লেখক। তার আরও একটা বড় পরিচয় আছে- তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থী। তাঁর নিজের গ্রাম থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন; তাই আজ এই জনসভার আয়োজন।
বয়ে চলা জীবন কাব্যের পান্ডুলিপি - ৮
ব্লগে আসা হয় না নিয়মিত। কমতে কমতে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে পোষ্ট দেয়া।
কেন আসা হয় না তাঁর কোন সদুত্তরও নেই। সারাটাদিন ফেসবুকেই থাকা হয় বেশি। ফেসবুকেও করার কিছু থাকেনা , বসে বসে পোষ্ট দেখি, লিঙ্ক শেয়ার দেখি , ছবি দেখি , নোট দেখি আর লাইক দেই। মন চাইলে কমেন্ট।
একরকম জড়তা , অবসাদগ্রস্ততা গ্রাস করছে ধীরে ধীরে। অফিসে আসা যাওয়ার পথে নানা রকম চিন্তা , কতো ভাবনা এসে জড়ো হয় ।ভাবি , ব্লগে একটা পোষ্ট দেই। অফিসে ঢুকলে বা বাসায় ঢুকা মাত্রই কেন জানি উবে যায় কর্পুরের মতন ইচ্ছাটা। লেখা হয়ে উঠেনা। কিংবা হয়তো লেখালেখির যতটুকু শক্তি ছিলো , শেষ হয়ে গিয়েছে। আগেও যে খুব লিখে উল্টায় ফেলতাম, খুব যে ভালো গল্প উপন্যাস লিখতাম - তা নয়। আমি রাইটার নই , তাই বলতেও পারছিনা রাইটার্স ব্লক ।
তবে এখন ঘুরাঘুরি বেড়ে গেছে অনেক। সময় বানিয়ে নিয়েই দৌড় দেই ঢাকার আশে পাশে কিংবা আরেকটু দূরে । সাথে থাকে ক্যামেরা। না , আমি ফটোগ্রাফারও নই। ক্লিক করা আমার শখ। ক্লিক করতেই থাকি ।
চোরাবালি আসিতেছে
ধানমন্ডী গুলশান শাহবাগের অনেক জায়গাতেই এই চিকা মারা ছিলো অনেক দিন। খবরটা নতুন কিছু না ফারুকী গ্রুপের লোক রেদোয়ান রনি একটা ছবি বানাচ্ছে নাম তার চোরাবালি। ইন্দ্রনীলকে যেদিন আনছে ঢাকায় সেদিন থেকেই শুটিং শুরু সেদিন থেকেই প্রচারনা শুরু পুরোদমে। ইন্দ্রনীলের ঢাকায় কি ভালো লাগে, জয়া আহসান এই ছবি নিয়ে কি বলতেছে, হুমায়ুন ফরিদী মরার আগে কি বলেছে কবে সব পত্রিকার বিনোদন সাংবাদিকেরা ব্যাপক কাভারেজ দিছে বলা যায় অল্প পয়সার মার্কেটিং এজেন্টের জব নিয়ে। এমনকি টিভি চ্যানেল গুলাতেও একটা হাইপ তুলছে, আইটেম সং এর শুটিং খবর দিয়ে মনোযোগ কারছে তাই ব্যাপক প্রচারনার ছবি বলা যায়। রেদোয়ান রনিও চেষ্টার ত্রুটি করে না কলকাতার ইন্দ্রনীলকে এনে চমক দিছে, ইন্দ্রদীপ দাস গুপ্ত বিখ্যাত কলকাতার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ডিরেক্টর তাকে দিয়ে কাজ করাইছে, মাদ্রাজ-বোম্বে থেকে পোস্ট প্রোডাকশন করাইছে নাটক সিনেমার শখানেক অভিনেতাদের কাজ করাইছে। বলা যায় সব দিক থেকেই অনেক আয়োজনের বিগ বাজেটের ছবি। কিন্তু এতো আয়োজনের ছবিতেও নায়ক নায়িকার অভিনয়ের কোনো জায়গা রাখে নাই ডিরেক্টর। সিনেমাটা যদি বলা হয় কার ছবি তবে আমি বলবো শহীদুজ্জামান সেলিমের অসাধারন অ
আগামীকাল, ১৬ জানুয়ারির হরতাল আমি সমর্থন করি
হরতাল মানে বিড়ম্বনা। হরতাল মানে নাশকতা। হরতাল মানে উন্নয়ণের পথে অন্তরায়। এমন করেই বাংলাদেশের শহুরে মধ্যবিত্তরা জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের প্রকাশভঙ্গীকে বিচার করেন। অথচ সভ্যতার ইতিহাসে গৌতম বুদ্ধের পর সবচাইতে জনপ্রিয় শান্তিকামী মানুষ হিসাবে পরিচিত মহাত্মা গান্ধীর পরিকল্পণাতে "হরতাল" নামের আন্দোলন শুরু হয় বৃটিশ বিরোধে মানুষকে একাট্টা করতে। প্রতিবাদের প্রকাশভঙ্গী হিসাবে আমাদের বাংলাদেশেও হরতালের গ্রহণযোগ্যতা ছিলো গতোশতকের আশির দশক পযর্ন্ত। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় হরতালে যখন আমরা রাজপথে ভাংচূড় করছিলাম তখন সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ-সরকারী কমর্চারী কিম্বা প্রিভিলেজ্ড মধ্যবিত্তরাও বাড়ি থেকে শাবল-কোদাল-দা নিয়ে এসে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেনাহুমকীর মুখে দিনআনিদিনখাই গোত্রের রিকশাওয়ালা ভাইয়েরাও বস্তিতে বস্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
জীবন থেকে নেয়া (ঘুষাঘুষি)
১.
ছোটবেলায় পড়াশোনার করার সময় খুব আদর্শ মানুষ হওয়ার একটা স্বপ্ন দেখতাম, দেশের দশের জন্যে কিছু করব, অন্যায় করব না টাইপ ইত্যাদি। কালের আর্বতনে সব এখন গর্তে চলে গেছে। ভাইবোনদের মধ্যে এনিয়ে কখনো সরব প্রতিজ্ঞা হয়নি কিন্তু মনে মনে আমরা সবাই জানতাম, আমরা সবাই খুবই আদর্শ কিছু হবো। আমি বিয়ে করে দেশ ত্যাগ করে এলেও, দেশে যারা আছেন তাদের কাছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশা রেখে দিয়েছিলাম নিজের অজ্ঞাতেই হয়তো। একবার ঈদ করতে দেশে গিয়েছি। একদিন দেখি আম্মি ভাইয়াকে বলছে, ঈদে কিছু কিনে নাই কেনো? কালকে ঈদ? ভাইয়া বললো হাতে টাকা পয়সা নাই কি দিয়ে কিনবে? এই কথা শুনে মাতৃদেবীর কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। তিনি তাড়াতাড়ি তিনার ব্যক্তিগত রিজার্ভ ভেঙ্গে পুত্রকে ঈদের কাপড়ের যোগাড় দিতে ছুটলেন। চার কন্যা ইস্টু এক পুত্র বিধায়, পুত্রের পাল্লা অলওয়েজ এই ভদ্রমহিলার কাছে ভারী। ঠিক হলো, আমিও যাবো কাপড় পছন্দ করে দিতে আর বাইরের ভাল মন্দ খেতে। রেডী হয়ে এসে দেখি বারান্দায় চোখ মুখ কুঁচকে মাতৃদেবী আর তার পুত্রজান দাঁড়িয়ে আছেন। নীচে এক ভদ্রলোক বেশ আনন্দিত ভঙ্গীতে চলে যাচ্ছেন। ভাইয়া কষে একখানা গালিও দিলো। ব্যাপার কি?
~*~দর্শক কিম্বা ধর্ষক --আমরা পাপী~*~
শেষ রাতের ঘুমটা আরো গাড় হচ্ছিল ক্রমশ ।
সাদাকালো স্বপ্নেরা সবেমাত্র পরাবাস্তবতার স্টেশান এ পা দিল---
গাঢ় আন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি, যেখানে শুধুই শুন্যতা...
আর মাথার নিউরনে অনবরত ফ্লাশবাক।
সমস্ত শরীর প্রচণ্ড ভয়ে ছোট হতে হতে একদলা মাংশে পরিনত যেন।
হঠাৎ সব ভয় উবে গেল আর সেই নিউরন শুদ্দ সমস্ত আমি প্রবল বেগে ধাবিত হতে থাকলাম এক অসীম শুন্য টানেল ধরে ।
কেউ যেন আমার সত্তাকে পুড়িয়ে মারছে আর আমি ক্রমশই একটা জ্বলন্ত লাভায় পরিনত হচ্ছি । খুব কষ্ট।
ফ্ল্যাশবেকে ভেসে উঠছে কিছু মুখ যারা অকালে ঝরে গেছে ।।
কিম্বা নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি এই নিস্ঠুর পৃথিবী তে।
এই নরকে তাদের ঠাঁই হয়নি ।
যারা চলে গিয়ে বেছে গেছেন এই গ্লানিময় পৃথিবী থেকে।
ওই ত ইয়াসমীন, পারুল , যামিনী , ডাঃ সাজিয়া...
কি সুন্দর ধবধবে সাদা শাড়ী পরে মেঘের মাঝে লুকচুরি খেলছে।
আর আমার আত্মা জ্বলে মরছে ।
আমি ত ধর্ষক নই তবুও কেন আমার এই শাস্তি?
আমার দিকে হেসে বিধাতার বক্রোক্তি -
তুমি হইলা আমার কুলাঙ্গার বান্দা তুমি নপুংশক দর্শক।
নিরব থাইকা সাপোর্ট দিলা, যে ধর্ষক তারে?
নিজের অপারগতা ঢাকতে ভুল ধরতে গেলা মাইয়াগো ?
আবারো নিজের কথা
১।
আমার বয়েস যেদিন ঊনিশ শেষ করে বিশে পড়লো, সেইদিনটা আমার মনে আছে। আমি ট্রেনে ছিলাম। ট্রেনে চেপে বাড়ি থেকে ঢাকা আসছিলাম। পুরা রাস্তা এসেছি পাগলের মতন লাফালাফি করতে করতে। ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা আমার একটা বিপদজনক শখ। সেই ট্রেনের কামড়ার দরজায় দাঁড়িয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করছিলাম। দুধের বাচ্চা থেকে শুরু করে থুত্থুড়ে বুড়ো সবাইকে "টা টা" দিতে দিতে এসেছি।
এরমাঝে একজন আমাকে না পারতে জিজ্ঞেসই করে ফেললো, "ভাই, সমস্যা কী আপনের?"
আমি বুক ফুলিয়ে উত্তর দিলাম, "আমি আমার টিন-এজ লাইফের শেষ দিন উপভোগ করছি!"
আজ আমার আরেকটি জীবন শেষ হলো বলে। কাল থেকে চাকুরী জীবন শুরু। প্রজাতন্ত্রের গর্বিত চাকর হতে আমি কাল যাচ্ছি। পেছনে ফেলে যাচ্ছি আমার সুখ-দুঃখে মেশানো বর্ণিল ছাত্রজীবনটাকে।
২।