ইউজার লগইন
ব্লগ
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রাজনীতি করবে কারা ?
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবী এদেশে অনেক পুরনো। অনেকে মনে করেন এখনি সময় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের। অনেক ইসলামী চিন্তাবিদও এক সময় ইসলামে রাজনীতি হারামের ফতোয়া দিতেন। তাদের কেউ কেউ পরবর্তিতে নিজেরাই ইসলামী রাজনৈতিক দলের কর্ণধার হয়েছেন।
এদেশে প্রচলিত গণতন্ত্র কি ইসলাম সমর্থন করে? ইসলামী চিন্তাবিদদের উত্তর- না। তাহলে তারা কেন এদেশে ভোটের রাজনীতি করে? তাদের উত্তর "মন্দের সয়লাব রুখতে প্রয়োজনে গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন করা জায়েজ আছে 'তীব্র প্রয়োজন হারামকে হালাল করে দেয়' মূলনীতির ভিত্তিতে। তারা যদি নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যায় তাহলে কি তারা গণতন্ত্র রাখবে এই দেশে? তাদের উত্তর হল-না। তারা চায় খেলাফত প্রতিষ্ঠা। তারা বলে,আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত পথ খিলাফত প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানুষের গড়া মতবাদ গণতন্ত্র দিয়ে কখনোই ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে না।
March 26, 1971 / Start of Bangladesh War of Independence
March 26, 1971 / Start of Bangladesh War of Independence
Magnum Photographers
40 Years since the start of the Bangladesh War of Independence.
Link

© Raymond Depardon/Magnum Photos
Near Jessore. December 1971.
The Pakistani army is routed.

© Raymond Depardon/Magnum Photos
BANGLADESH. November 1971.

© Abbas/Magnum Photos
পাঁচ পাঁচটি পার্সেন্ট কতটুকু হেলা করা যায়?
![]()
ওরা পাঁচ পারসেন্ট ওরা গিরগিটি, বর্ণচোরা
গিরগিটি যখন অজগরের সওয়ার
তখন চিন্তা করতই হয়।
ওরা আল্লাহ বেচে খায়, ধর্ম দিয়ে মানুষ চিনে
দাঙ্গার প্রয়োজনে ওরা মসজিদ ভাঙে;
ধার্মিককে কোরআন হাতে নিয়ে দেখাতে হয় না,
দুষ্কৃতিকারীর ছলের অভাব হয় না;
তোমরা ওদের হেলা করতে পার আমি পারি না।
একথা আমি ভুলি নাই--
তারাই ক্ষমতায় ছিল যারা স্বাধীনতার শত্রু।
দেশ জুড়ে সিরিজ বোমা হামলা আমি ভুলি নাই,
বাংলাভাইকে আমি ভুলি নাই,
২১শে আগস্ট, রমনার বটমূল
কোনটাই আমি ভুলি নাই।
ভুলি নাই হাটহাজারি,
ভুলি নাই আহাজারি রামুতে সাতক্ষীরায়।
ভুলি নাই শৈবাল সাহা পার্থের মায়ের কান্না,
ভুলি নাই ভোলা যায়ও না।
এসব অজগর ও তাদের সওয়ারির মিলিত ফল।
ওদের স্ট্রং ইকোনমি আমি দেখেছি,
ওদের সাংগঠনিক শক্তি আমি দেখেছি। আমি চট্টলাবাসী।
দেখেছি তারা বিশ্বাস নিয়ে খেলে
কি করে মানুষকে উন্মত্ত করে তোলে।
অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠেছি
ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে দেখা হলো অনেকদিন পর। বলছিলো, এই মেয়েটাই নাকি ওর জীবনের শেষ প্রেম।
আমি বললাম, বললাম না কিছু আসলে, হাসলাম। ব্যপারটা ক্রিস্টিয়ানোর চোখ এড়ালো না। ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার মজা একটাই। খানিকটা হলেও ছেলেবেলাটায় ফিরে যাওয়া যায়। সে সময়কার সুতার টেনশনটা এখনো মনের ভেতর টের পাই। আশা জাগে এখনো হয়তো বুড়িয়ে যাই নি।
বিশ্বজিতের লাশ মরেও রেহাই পাচ্ছে না।
বিশ্বজিতের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের উপরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাক এবং অন্যান্য কোনো পত্রিকাও হয়তো এই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারে।
দৈনিক মানবজমিনের প্রতিবেদনের শিরোণাম ছিলো " চাপাতির কোপ খুঁজে পায়নি ফরেনসিক বিভাগ"
দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনের শিরোণাম "ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মাত্র দুটি আঘাতের চিহ্ন!:
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের শিরোণাম " বিশ্বজিতের শরীরে কোপের চিহ্ন নেই!
ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন "
দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদনের শিরোণাম " বিএনপিকর্মী ভেবে ভুলবশত বিশ্বজিৎকে হত্যা"
ক্ষয় বিষয়ক কিছু উপলব্ধি
........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
বিশ্বজিতের মৃত্যুর দায় আমাদের সবার
আমরা ষোল কোটি মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ কত সংখ্যক মানুষ সক্রিয় রাজনীতি করি বা সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত?
ফেটে যাওয়া ঠোটেঁ হাসি...
অতি বাস্তবের ঘূর্ণাবর্তে নিজেই এখন উপন্যাস বা ছোটগল্পের উপজীব্য, দেশলাই জ্বালতে জ্বালতে ছাইটুকু উড়াতে গিয়ে মনে পড়ে শীতের সেইসব ঘন চুম্বন; আত্মজার ঘ্রাণে প্রেম কায়া ইতিহাসের অংশ, পরিযায়ী তুমি, আ্মার করোটিতে জন্মভূমি, পরিবার- কোন অয়েভ লেংথে কোকিছু আর মিলছে না কোনভাবেই। সাগর পেরানো আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল সব বিল মিটিয়েও তোমার প্রস্থানের অভাব পূরণ করতে পারে না।
আমি অবন্যিস্ত, অতি মাত্রায় দায়িত্বশীল, আমি নিশিপক্ষী, মোবাইলের স্ক্রীণ, আমি বন্ধুহীন, আমার ঠোঁটে লাগেনি ভেসলিন-আমি ফেটে যাওয়া ঠোটেঁ করি আগুন চুম্বন, প্রেম বোকা নারীর একমাত্র অলীক ভূষণ....
বাংলাদেশ
পথ ধরে যে নিজের মত চলছে পাশাপাশি,
হয়ত তারে দূরে ঠেলি হয়ত ভালবাসি,
হয়ত দেখাই হৃদ্যতা বা হাসির দেয়াল তুলি,
হয়ত কিছু অমিল পেতেই আর যা কিছু ভুলি;
হয়ত অমিল কথায় কিবা অমিল মতামতে,
হয়ত অমিল বেশভূষা আর পোশাক পরিচ্ছদে,
হয়ত অমিল বিশ্বাসে আর হয়ত অমিল কাজে,
হয়ত অনেক অনেক অমিল কেবল চোখে বাজে-
কেবল জানি অমিলগুলো কোথায় যেন এসে,
হাজার 'আমি' 'আমরা' হতেই সরলরেখায় মেশে;
আমরা হতেই সাকিব তামিম আমার হয়ে দাঁড়ায়,
আমরা হতেই প্রত্যাশারা একার সীমা ছাড়ায়,
আমরা হতেই তীব্র বিষাদ-ক্রোধ-হতাশার সুর,
আমরা হতেই প্রবল উছাস,আনন্দ-ভরপুর,
আমরা হতেই সবুজ শ্যামল অনন্য রূপ দেখা,
আমরা হতেই সংস্কৃতি আর ঐক্যে গড়া রেখা,
আমরা হতেই কালের ঘড়ি, রঙ্গীন দিনের আশা,
আমরা হতেই সুরের ছোঁয়া, শান্তি ভালবাসা,
আমরা হতেই বৈশাখী আর ফাল্গুনে বই মেলায়,
আমরা হতেই মিছিল-মিটিং উদ্দীপনার খেলায়,
আমরা হতেই রায়েরবাজার দীর্ঘনিঃশ্বাস আনে,
আমরা হতেই আমতলা আর 'আমার ভায়ের' গানে,
আমরা হতেই স্বজনহারার তীব্র শোক আর ক্রোধে,
আমরা হতেই ন্যায়হীনতায় প্রবল প্রতিরোধে,
আমরা হতেই একাত্তর আর উনসত্তর ডাকে,
একটি পরাধুনিক গাণিতিক কবিতা
১ বলে আমিই শ্রেষ্ঠ ২ বলে কি তাই
৩ আর ৪ এ হাতাহাতি মূল ভাগটা চাই।
৫ পাড়ে ম্যাঙ্গো আর ৬ বসে ভাবে
৭ এর বাড়িতে কবে দাওয়াতটা পাবে।
৮ ব্যস্ত মেরামত আর জিহবায় দিতে ধার
বাকী সব গোল্লায় যাক ৯ হলেই তার।
১০ খায় রসগোল্লা আর ১২ ঘুমায় ঘোরে
১১ মারে চপেটাঘাত ১৩র কপাল পোড়ে।
১৪ কিন্তু জন্ম কানা জীবন সংশয় তার
১৬ করে বিজয় উল্লাস রুখবার সাধ্য কার।
ভাবছেন ১৫ গায়েব বুঝি তার দেখা নাই ক্যান
সে বেচারা সংসার কষ্টে গুহায় করে ধ্যান।
রইলো যা বাকী সংখ্যা রোদ পোহাতেই ব্যস্ত
ভেবেই খুশী দ্বায়ীত্ব সব শূন্যের (০) র উপর ন্যস্ত।।
একটি প্রার্থনা
শুনতে কি পাও তুমি - দাসানুদাস ডাকছে তোমায় - শুনতে কি পাও - মলিন জায়নামাজে দেখো - স্থিত এই দেহ - ভালবাসা বিনয় - আকাংখা আর ভয় - কাঁদছে হৃদয় - শুনতে কি পাও - উদ্ধত শির - আজ সিজদায় নত - শরীর কেঁপে ওঠে - অনির্বচনীয় আবেগ যত - কিছুই কি তোমার হয়না গোচর ?
কঠোর দৃষ্টি কখন যে কোমল হলো - আমারও হয়নি ঠার - কন্ঠে বাস্প -অশ্রু অজস্র - কোথায় অহংকার? সর্বদ্রষ্টা প্রভু আমার - কিছুই কি দেখো না তুমি - এই যে দেখো কাঁপছে হাত - হাতের রেখায় তাই পুরনো মোনাজাত - সব কাজ ঠেলছি দুরে - ভুলছি দেখো আজ সব অজুহাত.
দেখা দাও প্রভু - আজ দেখা দাও আগের মত - জানালায় নড়ে ওঠা পর্দার ভাঁজে - যেভাবে অলৌকিক চাঁদের আলো সাজে - সেভাবেই নাহয় দেখা দাও - অবুঝ বান্দা তোমার - করজোড়ে তোমায় দিচ্ছে দাওয়াত - দীনহীন গৃহ তার - মিম্বর নেই - আতর গোলাপ সুগন্ধির বালাই নেই - আছে এক জীর্ণ জায়নামাজ - যুক্তি বোঝে না বান্দা তোমার - আঁধার ঘরে তাই আজ অভিমানী মোনাজাত তার.
ডাহুক ও রাতের মানচিত্র -৩
বিনিদ্র ডাহুক, নিশুতি রাতের সাথি; দুঃখ নীল পাখি
তোমাকে খুঁজিয়া ফিরে ভেজা ঘাসফুল,কালো মেঘ লাজরাঙা আঁখি।
ডাহুক প্রাণের পাখি - বীজতলা ভরে আছে নাকফুলে সোনার দানায়
নয় অভিমান-রুপোলি দিঘির জলে সরপুটি টাকিমাছ ঘুরিয়া বেড়ায়।
তোমার কোমল গ্রীবা প্রিয়ার অলক বেণী, মেঘের শরীর
তোমার হলুদ ঠ্যাং খুঁজে ভেজা মেঘ, কোহালিয়াচর মুহুরি নদীর তীর,
তোমার ক্রন্দন শুনে আঁধার শাওন রাত – পৃথিবী নিথর
কবির কোমল বুক পুড়ে ইটখোলা
মেঘের মলিন মুখ কবিতার চর।
ডাহুক, বাউল পাখি-
নগরের নাভিমূলে হাত রেখে চলি,
আকাশে অনার্য চাঁদ – অচল আধুলি।
একখান ইমেইলের আত্মকাহিনী
এক পরিবার প্রবাসে থাকে। আর সকল প্রবাসীদের মতো তাদেরও দেশে টুকটাক খরচ লেগে থাকে বিধায় কিছু টাকা মাঝে সাঝে তারা দেশে পাঠান। কিছুদিন পর পর আবার খোঁজ নেন কতো টাকা আছে কিংবা আর কি লাগবে টাইপ ইত্যাদি প্রভৃতি। আজকালের মর্ডান ইস্মার্ট যুগানুযায়ী তারা ইমেইলের মাধ্যমে সকলের সাথে যোগাযোগ করেন। একদিন প্রবাসী কর্তা কোন কারণে তার শালা শালীকে ইমেইল দিলেন, কতো টাকা আছে, কিছু খরচ করতে হবে, দরকার জিজ্ঞেস করে।
শালী বললো, টাকাতো নাই, খরচ হয়ে গেছে
দুলাভাই বললো, কি খরচ?
শালী বললো, আপার জন্যে শাড়ি কিনেছি
দুলাভাই বললো, টাকাগুলো সব জলে গেলো।
শালী দুলাভাইকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে বললে, জলে কেনো যাবে দুলাভাই? আপা প্রথমে শাড়ি পড়বে পড়ুক, তারপর আপনি শাড়ি কেটে একটা লম্বা পাঞ্জাবী বানাবেন। পাঞ্জাবী পড়া হয়ে গেলে ফতুয়া বানাবেন। ফতুয়া হয়ে গেলে টিশার্ট। টিশার্ট এর পর টুপি তারপর রুমাল। রুমাল ক্ষয়ে গেলে সেটা পুড়িয়ে ছাই করে দাঁত মাজবেন।
দুলাভাই বললো, এইতো আইছো লাইনে, দাঁত মেজে কুলি করতে হবে না? তখনতো কুলি করলে পয়সা আমার জলেই গেলো, নাকি?
১৪ ডিসেম্বর
বিসিএসের রিটেন আর পেছালো না। টিকবো না কারন পড়ি না। একে তো সেমিস্টার ফাইনাল তারপর দুই বেলা করে রিটেন এক্সামের শিডিউল দেখেই মাথা ব্যাথা। জাহান্নামে যাক সব। আমি থাকি আমার মতো।ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে ছিলো বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড নিয়ে একটা বাংলা পড়া। ক্লাস ফোরে নয়তো ফাইভে। তখন ম্যাডাম ছিলো খুলনা স্কুলের আলম আরা ম্যাডাম। তিনি বলছিলেন এরা বেচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশ হতো। উন্নত দেশ বলতে তখন আমার মনে ধারনা নেভীর কলোনীর পাশে যে বাস্তোহারা কলোনী সেখানে সবাই বিল্ডিংয়ে থাকবে। গোলপাতার ঘর কোথাও চোখে পড়বে না। শীতের কাপড় থাকবে সবার আগুন জ্বালতে হবে না কারোর। ছোটো মানুষ ছোটো চিন্তা। কিন্তু তা আর হয় নাই ঘাতকদের সুচারু প্ল্যানে তাদের সবাইকে ধরে নিয়ে মারা হইছে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বর্বরতায়। একেকটা উজ্জল মানুষের ঘটনা যখন পড়ি তখন অবাক হই কি অসাধারন একেকটা তারকা। তারা চাইলে পালাতে পারতো, নিরাপদে সটকে যেয়ে ভারতে কলমযোদ্ধা হতে পারতো। কিন্তু সেই চরম ক্রান্তিকালেও তারা দেশ ছাড়ে নাই। তার খেসারত দিলো শহীদ হয়ে। আর তাদের চিনিয়ে দেয়া সাথে ধরে নেয়ার দারুন কাজটা করে দিলো তাদেরই ছাত্রসম আলবদরের লোকেরা। বিচার হলো না এদের
নিজস্ব নিবাস
আমাকে বিকেল ডাকে-নদীর নরম ঢেউ,
আকাশে গোধূলি নামে আমাকে তবুও আর
খুঁজে নাকো কেউ;
দেখিনি প্রদীপ শিখা জুড়ে দুই চোখ... ...
আমাকে বিদীর্ণ করে আঁধার রাতের তারা
বিষধর নোখ,
নিদাগ নির্মাণে খুঁজি নিজস্ব নিবাস
সময় উপড়ে শুধু কবিতার ঘাস।
সচিত্র বাংলাদেশ
১৫ মে ১৯৯৩