ইউজার লগইন
ব্লগ
ম্যান বিহাইন্ড দা গ্লাস বার
এই মিলে তিনবার গোনা হলো - না - কোনো ভুল নেই- দশ হাজার টাকা কম পড়ছে - এই শীতের সন্ধ্যায়ও মাসুমের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম - মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে - তার ভাগ্যটা এত খারাপ কেন - এত সতর্ক থাকে- তবু ... আজকে কাস্টমারের চাপটা বেশি ছিল - অনেকগুলো বড় পেমেন্ট হয়েছে - কোথাও একটা ভুল হয়ে গেছে - কিন্তু শোধরাবার সুযোগ কি আছে?
দু'বছর হলো এই চাকরিতে ঢুকেছে মাসুম - ব্যাঙ্কের চাকরি - ক্যাশ অফিসার - কাজের চাপটা বেশি - সেটা সমস্যা না - কিন্তু সার্বক্ষণিক ঝুঁকিটা বড় পীড়াদায়ক- সামান্য অসতর্কতার দণ্ডি দিতে হয় গুনে গুনে - উপরন্তু আছে ম্যানেজারের গালাগালি - না - মাসুম অসতর্ক নয় - কাজের সময় সাধ্যমত সাবধানতা অবলম্বন করে - কাজেও সে দক্ষ - তবু নিয়তির মার তো এড়ানো যায় না.
মাসুম পেমেন্টে বসে - তার দায়িত্বটাও বেশি - রিসিভের ছেলেটি একেবারেই নতুন - মাসুম তাকে চোখে চোখে রাখে - পাছে বেচারা বিপদে পড়ে - কিন্তু আজকের বেচারা যে সে নিজেই.
হাসপাতালে কতিপয় চিকিৎসকদের দূর্ব্যবহারের প্রতিকার কী? আসুন অন্তত একজন করে কুলাঙ্গার চিকিৎসককে চিহ্নিত করি
‘এই এগুলোকে ভাগাও, এগুলোকে এক্ষুনি ভাগাও’
উদ্ধত ভঙ্গিতে ডাক্তার এসে আমার সমনে আমার প্রতি আঙুল নির্দেশ করে ওয়ার্ড বয়কে কথা গুলো বলে। আমি বিষ্ফোরিত চোখে চেয়ে থাকলাম। যেন মনে হলো কেউ একজন কুকুর-বেড়াল তাড়াচ্ছে। সম্বিত ফিরে পেতে কয়েক মুহুর্ত সময় লাগলো আমার।
বললাম, ‘ডাক্তার! এটা কোন ধরনের ব্যবহার হলো? আমরা কি কুকুর-বেড়াল নাকি?’
তিনি কথার উত্তর করলেন না। গটগট করে হেঁটে গেলেন। তাঁর হাঁটবার ভঙ্গিতে ভাবখানা এমন যেন মনে মনে ভাবছে সে মানুষের চেয়ে উচ্চস্তরের কোন অভিজাত প্রাণী সে। সাথে সুন্দরী ইন্টার্নি নিয়ে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে চারপাশের রোগীদের যেন পোকামাকড়ের মতো দেখছে।
এটা যে একটি পাবলিক মেডিকেল হাসপাতাল সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললাম, ‘আপনি তো রোগীদের সাথে এমন ব্যবহার করতে পারেন না।’
তিনি ঘুুরে এসে আবার বলতে থাকেন, ‘ এগুলোকে ভাগা। কোথায় দাড়োয়ান? এগুলোকে এক্ষুনি ভাগা।’
জিজ্ঞেস করলাম, ‘ডাক্তার আপনার নাম কি?’
তিনি উত্তর দিলেন না।
আবারও তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে নিজের নাম না বলে বললেন, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট শুনে নেবেন।’
জয়নব
মাঝরাতে দরজায় কে ধাক্কা দিচ্ছে এমন জোরে জোরে? ফাগুনের মাঝামাঝি কিন্তু ঠিকই সন্ধ্যা নামলে জারের চাদর মোলায়েম বিছিয়ে থাকে চারপাশে আর ফিনফিনে মশারীর মতো কুয়াশা ঢেকে রাখে চারপাশে। কুপির আলো উসকে জয়নাব বিছানা ছাড়ে, মিলের চাদরটা জড়িয়ে বারান্দায় থামে, শব্দটা আবার পায়, ঠিকই কেউ দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে।
জয়নাব ত্রস্ত গলায় হাঁক দেয় কে?
আমি, দরজা খুল।
এই সময় তো তার আসবার কথা না, জয়নাব নিজেকে সামলে নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করে আপনি?
হ্যাঁ, এখন দরজাটা খুল।
জয়নাব পাখীর মতো উড়ে উড়ে দরজার দিকে গেলো যেনো। দরজা খুলে মানুষটাকে অবাক হয়ে দেখে জয়নাব, চোখে প্রশ্ন
শহরের অবস্থা খারাপ রে বৌ, সব বন্ধ, হাতে কাজ নাই তাই চলে আসলাম বাসায়
দাঁড়ান আপনাকে পানি গরম করে দেই, এত রাইতে আবার কলঘরে যান ক্যান? এই রাইতে ঠান্ডাপ ানিতে গোসল করে একটা জ্বর বাধান আর কি তারপর যমে মানুষে টানাটানি হউক। আপনি দাঁড়ান আমি চুলাটাতে এক হাঁড়ি পানি বসায় আসতেছি।
ও বন্ধু আমার(বন্ধু নিয়ে আমার লেখা গান)
ও বন্ধু আমার হারানো আকাশের নীল
পুরোনো হাসিতে মলিন
ওবন্ধু আমার কত চেনা!
ও বন্ধু আমার কোথায় আছিস কেমন?
হারানো দিন কেন আজ ফিরে চায় এ মন!
ওবন্ধু আমার ভাল থাকিস কেমন?
সময় কি ছাড়াতে পারে পুরোনো হাতের বাঁধন!
কবেকার কোন্ শ্রাবণে কবেকার কোন্ সুখ
কোথাকার কোন মেয়ে ভাসিয়ে দিয়েছিল বুক।।
অবসরের অলস মুহূর্তে মনে পড়ে সেইক্ষন...
ওবন্ধু আমার কোথায় আছিস কেমন!
বন্ধু আমার ভালো থাকিস কেমন!
কবেকার কোন ফাগুনে পলাশ বেলার মেলা
স্কুল পালিয়ে হারিয়ে গিয়েছি সারা দুপুর সন্ধ্যাবেলা।।
অবসরের অলস মুহূর্তে খুঁজে ফিরি সেইক্ষন...
ও বন্ধু আমার কোথায় আছিস কেমন!
সময় কি ছাড়াতে পারে পুরোনো হাতের বাঁধন!
শীত বার্তা ২
খেয়াল করে দেখলাম শীতের কাপড় সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়াটা বিষদভাবে লেখা তেমনভাবে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ব্যাপারটা জানলে অনেকেই নিজেরা কাপড় সংগ্রহ করে বিতরণ করতে পারেন। আমি সংগ্রহ প্রক্রিয়া জানি। বিতরণের জন্য পরিচিত মানুষ খুজে বের করতে হয়। আমি সংগ্রহ প্রক্রিয়াটা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিষদভাবে জানাচ্ছি। বিতরণ প্রক্রিয়া জন জনে আলাদা হতে পারে।
সবচেয়ে ভালো হয় ব্যাপারটা দুই ভাগে ভাগ করলে।
১। সংগ্রহকারীরা এবং ২। বিতরণকারীরা।
সংগ্রহকারীরা যা করতে পারেন
ধাপ ১ (চিঠি লেখা)-
*এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে একটা ছোট্ট চিঠি লিখুন যেখানে সংক্ষেপে লেখা থাকবে আপনারা এই এলাকাবাসী, আপনারা বন্ধুরা শীতের কাপড় সংগ্রহ করছেন, বিতরণের জায়গার নাম, কাদের বিতরণ করা হচ্ছে।
*তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছে কাপড় না থাকলে তারা যে কোন পরিমাণ টাকা দিয়ে অংশ নিতে পারেন সেটাও জানিয়ে দিন।
*চিঠির শেষে একটি ভালো কাজে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের শুভেচ্ছা দিয়ে, ধণ্যবাদ দিয়ে চিঠি শেষ করুন।
*চিঠি প্রিন্ট করুন এবং প্রাথমিকভাবে ২০ কপি ফটোকপি করতে পারেন।
মনে রাখা দরকারঃ
পরস্পর
জীবনের এতগুলো পথ পেছনে ফেলে এলেও তাকে মানসিক সঙ্গ দেওয়ার মতো কাউকে পায়নি আজাহার। হতে পারে সে নিজেই ততটা জরুরি মনে করে সন্ধান করেনি বা সেই সময়গুলোতে এগিয়ে আসতে আগ্রহ বোধ করেনি কেউ। মোটকথা প্রেম বলতে যতটা বোঝায় তার ছিঁটেফোঁটাও তার জীবনে নেই বললেও চলে। যদিও একজন ভালো আর দায়ীত্ববান স্বামী হয়ে দুটো সন্তানের যাবতীয় নির্ভরতার স্থল হয়ে উঠতে পেরেছিলো। প্রেম যে একেবারেই নেই তা বলাটাও হয়তো মিথ্যারই নামান্তর হবে। প্রেম বলতে আছে দাম্পত্য প্রেম। আর সে প্রেমও যেই সেই নয়। কখনো কখনো নিদারুণ অশান্তির দ্রোহে জ্বলে ওঠে সেই প্রেমের লকলকে বহ্নি। যে কারণে এক সময় নিজের সঙ্গেই ক্রমশ যুঝতে যুঝতে এক সময় আপস করে নিয়েছিলো। যে আপসের ফল স্বরূপ নিজেকে ভাগ করে নিতে বাধ্য হয়েছিলো দুটো সত্ত্বায়। তখনই আরো ভালো করে সে অনুভব করতে পেরেছিলো যে, প্রতিদিনকার ঔজ্জ্বল্যের ভেতরও আছে আরেকটি আজাহার। যে বড্ড নিঃসঙ্গ। লাজুক। মিতভাষী। আশপাশের যাবতীয় দুখ-যন্ত্রণা যাকে মোটেও স্পর্শ করে না।
আগুণ কি আর বোঝে, কে মালিক কে শ্রমিক!
কিভাবে আগুণ জ্বললো? কেনো আগুণ জ্বললো? কার বা কাদের চক্রান্তে অথবা দোষে আগুণ ছড়িয়ে পড়লো? তাজরীন ফ্যাশন্স নামের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীতে সরকারী হিসাবে ১১২ আর অনুমেয় দুই শতাধিক আগুণে পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার আগেই এসব প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে। সরকারী মহলে যখন জোরেসোরে রব উঠেছে এই আগুণ লাগার ঘটনা বিরোধী দলের নাশকতা তখন বেসরকারী মহলেও আগুণের বিষয়টাই মূখ্য হয়ে উঠেছে। শ'য়ে শ'য়ে আগুণে পোড়া লাশের জন্য দায়ী করা হচ্ছে ফায়ার এস্কেপের অভাব আর কর্তৃপক্ষের আগুণ সম্পর্কীত জ্ঞানের অপ্রতুলতা।
শীত বার্তা-১
শীত এসে যাচ্ছে। অনেকেই শীতে কষ্ট পাওয়া মানুষের কথা মনে করে সমব্যাথী হন। এই সুন্দর মনের মানুষদের জন্য একটা সুখবর হচ্ছে, আপনারা চাইলেই এখন এই শীতে কিছু মানুষের কষ্ট লাঘবের ব্যবস্থা করতে পারেন। সহজ পদ্ধতিটা হল-
১। নিজের পুরানো শীতের কাপড় খুজে বের করুন।
২। সম্ভব হলে বন্ধুদের নিজের ব্যবহৃত/অব্যবহৃত পুরানো শীতের কাপড় আনতে বলুন।
৩। কাপড়টি/গুলি একসাথে (চাইলে আলাদাও পাঠাতে পারেন) কাছের কোন কুরিয়ার
সার্ভিস-এ নিয়ে যান।
৪। এস.এ. পরিবহন, কলিতলা ব্রাঞ্চ, দিনাজপুর। প্রাপক ইমন। মোবাইল ০১৮১৮২১৪৭৮৭ এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন কাপড়গুলো।
যারা সত্যি কাপড় পাঠাতে চান, তারা কাপড় যোগাড়-এর পর এই ইমেইল-এ যোগাযোগ করে (কাপড় পাঠাতে আগ্রহী জানিয়ে) তারপর পাঠান। shahreen.rahman4@gmail.com
(অনুগ্রহ করে টাকা পাঠাবেন না। চাইলে পুরানো কম্বল, শাল যেকোন শীতের কাপড় কিনে দিতে পারেন।)
কাপড়গুলি দিনাজপুরে ইমন নামের একটা ভাইয়ার কাছে পৌছে যাবে। এস.এ. পরিবহন তার বাসার বেশ কাছে, তাই ভাইয়া সেখান থেকে কাপড় নিতে পারবেন। তিনি শীতের কাপড়গুলি কিছু এতিমখানায় বিলি করবেন।
নাশকতার ভিডিও ফুটেজ আশুলিয়ার দেবনায়ারের, তাজরীনের নয়
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনী অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। আর গণমাধ্যমকর্মীরা ঝাপিয়ে পড়েন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, নোটবুক। আশুরার কারণে ২৭ নভেম্বর মুদ্রণ সংবাদ মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকায়, তারা এবার সংবাদ পরিবেশনে সুবিধা করতে পারেনি। তবু পত্রিকাগুলো অনলাইন সংস্করণ সচল রেখে সংবাদটি পরিবেশনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। অন্যদিকে টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমগুলো বিরতিহীনভাবে অগ্নিকান্ডের নানা সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে। আবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরকার ও পোশাককল মালিকদের মুন্ডুপাত চলছে একযোগে। এতে আবার ঘি ঢেলে যাচ্ছে সস্তা জনপ্রিয়তা প্রত্যাশী গণমাধ্যমগুলো। আমাদের প্রধান রপ্তানিখাত অচল থাকলেই যেন, দেশটা বেঁচে যায়!
তৃষ্ণা
তৃষ্ণা আরো প্রবল হয়ে ওঠে ,
পানের পর পান চলতে থাকে ,
পানের পর পান অবিরত,
কাপের পর কাপ ,
উষ্ণ হাহাকার ,
গলবিল বেয়ে পাকস্থলি ,
সব ছারখার করে ,
শীতল হয় হৃতপিন্ড ।
তবু আবার ,
প্রাণের তৃষ্ণা জাগে ,
প্রাণের তৃষ্ণা প্রবল হয় ,
প্রবল থেকে প্রবলতর হয় ,
জেগে ওঠে রক্তের মোচড় ,
বাড়তে থাকে হৃদস্পন্দন ,
নীলাভ হতাশা নির্বিঘ্নে বেয়ে চলে ,
রক্তের সাথে মিলে মিশে চলে ,
ধমনী থেকে ধমনীতে ,
হৃদয় থেকে হৃদয়ে ,
হৃতপিন্ড উষ্ণ হয়ে ওঠে ,
উষ্ণতা বাড়তে থাকে ,
বাড়তে থাকে অদৃশ্য ক্ষত ,
হৃদয়ের ক্ষত ।
পানের বস্তু সুপেয় না হতে পারে ,
তবু তৃষ্ণা জাগে ,
পানের তৃষ্ণা ,
তৃষ্ণা আরো প্রবল হয়ে ওঠে ,
পানের পর পান চলতে থাকে ।
কিন্তু প্রাণের তৃষ্ণা
প্রবল থেকে প্রবলতম হয় ,
প্রাণের তৃষ্ণা মেটেনা কোনো কালে ।
সহ্যসীমার কাঁটাতারে বিদ্ধ শরীর
সময়টা কাটছে প্রতিকূল। আগুন, ভাঙচুর, অস্থিরতা সবকিছু একসঙ্গে ঝাপিয়ে পড়েছে। প্রতিটি দিন এমনভাবে কাটছে যে, দিনশেষে নিজেকে আনন্দিত মনে হয়; আরেকটা দিন পার করে দিতে পারার জন্যে। দি ডে আই গ্ল্যাড টু সার্ভাইভ।
শীত শুরু হচ্ছে। এখন চলছে আগুন পোহানোর কাল। ব্যাডমিন্টন খেলার কাল। পার্কে দেখলাম জটলায় জটলায় আগুন পোহানো চলছে। দু'টো ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হয়েছে। এখনকার শীতে আগুন জ্বালানোর এবং সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে থাকার আলাদা মজা আছে। কিন্তু ক'দিন পরেই এ মজাটা থাকবে না। তখন আগুন জ্বালানোর মতো জ্বালানি থাকবে না। মানসিক ইচ্ছা থাকবে না। শুধু বদ্ধ কুঠুরিতে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে। মানুষও কি এককালে শীতনিদ্রায় যেতো নাকি?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) বিষয়ক বৈশ্বিক অধিবেশন
নেদারল্যান্ডস-এর হেগ শহরে গত ২১ নভেম্বর রোম সংবিধি-এর আওতাধীন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)-এর রাষ্ট্রপক্ষসমূহের সম্মেলনের (Assembly of States Parties) অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি)-এর ওপর বিশেষ একটি অধিবেশন আয়োজিত হয়। মূলত দেশীয় আইনের প্রক্রিয়ায় দেশীয় ট্রাইবুনালে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের উদাহরণ হিসেবেই আইসিটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই আগ্রহ। এখানে উল্লেখ্য, রোম সংবিধি কেবল এ-ধরনের দেশীয় বিচারের উদ্যোগের অনুমোদনই করে না, উৎসাহিতও করে। রোমভিত্তিক সংগঠন “নো পিস উইদাউট জাস্টিস (NPWJ)”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশনে আইসিটি-র বিচার প্রক্রিয়া এবং এর সহায়ক কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত পক্ষসমূহের মধ্যে নির্ধারিত বক্তা হিসেবে প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউশনের প্রতিনিধি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম তারেক, আসামী পক্ষের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ব্যারিস্টার টোবি ক্যাডম্যান, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস বার কাউন্সিল মানবাধিকার কমিটির প্রতিনিধি মিস সোনা জলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড.
আত্মমগ্ন কথামালা ১৮
(মূলতঃ এটাই লিখবার কথা ছিলো আজ)
শীত এসেছে।
আমার অপছন্দের ঋতু।
এখন যেই শীতটা পড়ছে সেরকম যদি সারাটা শীতকাল জুড়ে থাকতো, তাহলে হয়তো শীত আমার প্রিয় ঋতুই থাকতো।
পরশু সন্ধ্যায় বছরের প্রথম কুয়াশা দেখলাম। গ্রাউন্ড লেভেলে যেইটা অদৃশ্য, ২৩ তলার উপর থেকে সেইটাই দেখলাম চাদরের মতো শহরটাকে জড়িয়ে ধরে আছে। দারুণ একটা সন্ধ্যা কাটলো সেদিন। রাত নামতে নামতে tipsy... অনেকদিন পর tipsy হতে আসলে খুব খারাপ লাগে নাই। এই অবস্থায় রিকশায় ঘোরা... আরও আরও আনন্দের...
আজ দেখলাম সকালের কুয়াশা। গাছের ডালে ডালে জড়িয়ে আছে। সুর্য উঁকি মারছে ডাল আর পাতার ফাঁক ফোকড় দিয়ে। সেই আলোগুলো ছায়াগুলো কুয়াশায় মিশে অপার্থিব একটা আমেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে সকালে ব্যাস্ততার ভেতর।
আত্মমগ্ন কথামালা ১৮
*
মৃত্যু
ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু কি ভয়ানক বিষণ্ণ... কি ভয়ানক একাকীত্বের একটা শব্দ...
**
অনেকগুলো মানুষের মৃত্যু হ'লো গত ক'দিনে। বিভৎস, ভয়ংকর মৃত্যু। ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে, আগুনে পুড়ে। সেদিন চট্টগ্রামে যখন ফ্লাইওভারের গার্ডার খসে পড়ছিলো; তখন হয়তো আমি উত্তরার পথে, নির্মিয়মান ফ্লাইওভারের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটার ভেতর বসা কিংবা দাঁড়িয়ে আছি...
***
অনেকগুলো বছর আগে প্রায় এরকমই একটা ঘটনা ঘটে গেছিলো চোখের সামনে। সাইন্সল্যাবের ওভারব্রীজটার একটা গার্ডার খসে পড়েছিলো, আর চাপা পড়েছিলো একটা পাজেরো গাড়ি... এখনো মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে স্লো মোসান সিনেমার মত সেই ভয়ানক দৃশ্যটা চোখে ভাসে...
****
মানবতার ডান্ডা
সাদ্দা হক এত্থে রাখ।
কি চিনতে পারছেন না ? আমি ফেবুর এক জনপ্রিয় লাইকবাজ ব্লগার। আমি সমাজের কোথাও অনিয়ম অনাচার দেখতেই পারিনা। অনিয়ম দেখলেই আমার মনে পরে যায় এ আর রহমানের সূরে মোহিত চৌহানের গাওয়া সেই গানটি, সাদ্দা হক এত্থে রাখ। আমার মানবতার ঈমানী দন্ডটা খারায়া ওঠে । আমি সহ্য করতে পারিনা। আর তাই গেয়ে উঠি সাদ্দা হক এত্থে রাখ।
যখন মালালার মত এক কচি পাকির মাথায় ধর্মান্ধরা গুলি করেছিলো, তখন আমি বীর বিক্রমে পাকি পতাকা উঠিয়ে বলেছিলাম, সাদ্দা হক এত্থে রাখ।
যখন মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদেরকে বের করে দেওয়া হচ্ছিলো আর তাদেরকে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিলনা , তখনও আমার মানবতার দন্ড খাড়া হয়ে গেছিলো আমি চেচিয়ে উঠেছিলাম সাদ্দা হক এত্থে রাখ বলে।
যখন গাজায় ইহুদিরা নির্মম ভাবে মারে ফিলিস্তিনি শিশুদের তখন আমার মানবতা দন্ড খাড়া হয়ে যায়, আমি চেচিয়ে উঠি সাদ্দা হক এত্থে রাখ বলে।