ইউজার লগইন
ব্লগ
রামু সহিংসতা : সাম্প্রদায়িক না রাজনৈতিক
সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু এবং চট্টগ্রামের পটিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সঙ্ঘটিত নাশকতার ঘটনা দেশ জুড়ে দুঃখ ও শঙ্কা ছড়িয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এটা ‘পরিকল্পিত’। হতে পারে। প্রশ্ন হলো কার পরিকল্পনা, কী পরিকল্পনা? সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। বলেছেন, এ তাণ্ডবের লক্ষ্য যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করা। শুনে আমরা হতভম্ব এবং কেউ কেউ বিনোদিত হয়েছি। মনে হচ্ছে ঘটনা পরিকল্পিত হোক আর না-হোক, মন্ত্রীর এই ‘বাণী’ যে পরিকল্পিত, তাতে সন্দেহ নেই। কেননা এটা মেনে নিলে ধরে নিতে হবে, যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের মূল উদ্যোক্তা ফেইসবুকে আপত্তিকর ছবি আপলোডকারী ওই বৌদ্ধ যুবক উত্তম বড়ুয়া। সে কেন যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে চাইবে? তাহলে ধরা যাক সে নয়, চেয়েছে অন্য কেউ। কোনো বিরোধী দল? না। কারণ ফেইসবুকে বাজে ছবি দিয়ে আদালতের বিচার বানচাল করা যায়, এমন ছেলেমানুষি ধারণা কোনো রাজনীতিক পোষণ করবেন বলে মনে হয় না। কে তাহলে এ সাম্প্রদায়িক আক্রমণের পরিকল্পক?
ধারাবাহিক রম্য নাটিকা 'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার'
পড়ুন, ভাবুন--এ দেশের বিচার ব্যবস্থা ছোটদের ধারাবাহিক রম্য নাটিকা 'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার' এর মত কিনা। নাটকের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। এ দেশে এখনো অপরাধ ধরা পড়ে না, পড়লেও বিচার হয় না।
স্টপ্, স্টপ্, স্টপ্
সবাই কর চুপ,
আমি হচ্ছি হাতি
সবার দেহের চাইতে বড়
তাইতো বিচার পতি।
সবার বিচার করব আমি
হোক না কেহ আমার নাতি।
বটবৃক্ষ হার মেনে বলে
সে নাকি আমার ছাতি ।
তাহলে নির্বোধ পশুগণ
নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ
আমি কত বড় হাতি!
প্রথমে আমি গরুকে বলছি,
গরু, তোমার কি অভিরুচি
হুজুর, আপনি নিজেই জানেন
আমি কত উপকারী
করি নাকো কারো ধারধারী ।
অথচ বাঘ কেন আমাকে খায়
আমি যে বড় অসহায়!
বাঘ বলে, হুজুর, আমি খেতে চাই হরিণ
বান্দর বড় মলিন
আগে থেকেই বলে দেয়,
বাঘ আসছে হরিণ ভাই
বাঘ আসছে হরিণ ভাই।
হরিণ বলে, হুজুরগো
এই বাঘকে আমার সবচেয়ে বড় ভয়,
ওর জ্বালা নাহি সয় ।
ছাগল, ভেড়া, ঘোরা বলে, হুজুর
ও শুধু আমাদের সবাইকে খায়।
হাতি বলে, না, না, না-
এটাতো বেশী ভাল নয়
কিহে পেটুক বাঘ,
মাথা নিচু করে আছ কেন ভাই!
বুকে ঠ্যাং দিয়ে বল-
এতগুলো কথার মধ্যে
একটুও মিথ্যা নাই।
বাঘ বলে, জেঁ হুজুর
আমার দাদী
৯০উর্দ্ধো দাদী আমার তিন দিনের জ্বরে হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বসেছেন।
কাউকে চিনতে পারছেন না ,কারো কোনো কথার জবাব দিচ্ছেন না।শুধু ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।দাদীর ছোটো ছেলে আমার বাবা।বাবা ভীষণ মা ন্যাওটা।বাবার বয়সই এখন ৬০ছূঁই ছূঁই।
দাদী ছিলেন লক্ষীপুরে আমাদের গ্রামের বাড়ীতে আমার জেঠার কাছে।খবর পেয়ে বাবা নিজের অসুস্থতাকে বৃদ্ধাংগুল দেখিয়ে সাত সকালে শাহী গাড়িতে করে দিলেন লক্ষীপুরে ছুট।গিয়ে তো মায়ের অবস্থা দেখে বিমর্ষ।নিজের প্রেশারই হাই হয়ে গেছে।যখনই ফোন দিই কী অবস্থা।বাবার গলাটা জড়িয়ে আসে।আমি বলি বু’র (দা্দীকে আমরা বু ডাকি) তো বয়স কম হয় নাই,সেজন্যই হয়তো শরীরটা বেশি অসুস্থ।দেখবেন ,বু কয়েকদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবে।
বাবা আমাকে বলে আমার মায়ের বয়স হয়েছে আমিও জানি।কিন্তু আমার তো মা।তাই মন বোঝে না।অস্থির লাগে।নিজের চোখের সামনে নিজের মাকে এমন দেখলে কোনো সন্তানই সুস্থ থাকতে পারে না।
বাবার মন খারাপের সিকি ভাগও হয়তো আমি বুঝি না।কিন্তু আমি অনুভব করার চেষ্টা করি।
সিঁদুর রাঙা স্মৃতি
আমি যখন বিয়ে করি তখন আমার বয়স সাত-আট হবে। যার সাথে আমার বিয়ে হয়, সে আমার চেয়ে তিন মাসের ছোট। তার নাম সিঁদুর। তখন বিয়ে জিনিসটা নিয়ে সিরিয়াস কিছু ঝুঝতাম না। বিয়ে সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল; বিয়ে করলে বউকে ঘোমটা দিতে হবে; স্বামীর পায়ে সালাম করতে হবে; তাকে রান্না-বান্না, কাপড়-চোপড় ধোয়া ইত্যাদি করতে হবে। রাতে একসাথে ঘুমালে সকালে বাচ্চা হবে। আমাদের পাড়ার অনেকেরই সকালে বাচ্চা হয়েছিল। এমন কি আমিও নাকি সকালে জন্মেছিলাম। সিঁদুরও সকালে ভূমিষ্ট হয়েছিল। এর মধ্যে আমাদের একটা বধ্যমূল ধারণা ছিল--স্বামী রৌদ্র থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর নাম ধরে ধমক দিয়ে ডাকবে। খেতে বসে খাবার ভাল না লাগলে থালাসহ স্ত্রীর দিকে ছুঁড়ে মারতে হবে। আমাদের পাড়ায় এগুলো খুব বেশী হত। আমার বাবা ও মা প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া করত। সিঁদুরের মা-বাবার মধ্যে অবশ্য এত বেশী ঝগড়া হত না। এ পাড়ার সব স্ত্রীরাই স্বামীদের হাতে মার খেত।
ফণি-মনসা
পুড়ছে উপাসনালয়, পুড়ছে মন্দির। দাউ দাউ আগুন জ্বলছে মঠে মঠে । মধ্য রাতে মন্দির, উপাসনালয়গুলিতে অবস্থিত মানুষগুলি অসহায় চিৎকার ক্রন্দন আর ছূটোছুটি। কদিন ধরে শুধু তাই দেখছি। কি অসভ্য বর্বর আমরা? জাতী হিসাবে কোন সমিকরণেই ফেলা যায় না আমাদের। এই মানুষগুলি কি বোঝে না শুধু উপাসনালয় পুড়ছে না সেই সাথে পুড়ছে শত শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য। এই ইতিহাসই আমাদের অতীত কে খুঁজে এনে দেয়। আমাদের পরিচয় দেয়।
ধর্ম কী? আগে মানুষ নাকি আগে ধর্ম। মানুষ না থাকলে তো ধর্ম পালন করার কেউ থাকবে না। আগে মানুষ। ধর্মটা মানুষেরই সৃষ্টি। তার আনন্দ বেদনার সাথী, তার আশ্রয়। সে তার সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করে, এক এক নামে এক এক ভাবে। সবার আগে তাদের পরিচয় তারা মানুষ। আমার চেয়ে আপনারা অনেক অনেক জানেন। তা কয়েকদিন ধরেই ব্লগ ফেসবুক খবরের কাগজ পড়েই জানা যাচ্ছে।
আবোল তাবোল - ১৩
#
অনেক দিন হইছে আবোল তাবোল কিছু লেখি না, লেখা হয়ে উঠে না।
চিন্তা করে দেখলাম আমার এই সিরিজটার একটা প্যাটার্ন দাড় হয়ে গেছে। কিছু হাবিজাবি কথাবার্তা, একটা দুইটা গান আর মুভির কথা। একসাথে দেই ঘুটা, ব্যাস!
এইবারও অবশ্য তার বাইরে যাব না। সাথে এক্সট্রা একটু ঘুরাঘুরি ফ্রি!
#
গত শুক্রবারে এবি'র ফটুওয়াক হইল, সবাই মিলে মজা করে ঘুরে ঘুরে কাশফুলের ছবি তুলে নিয়ে আসছে। জেবিন আপু বলছিল যাইতে, আগেই অন্য প্ল্যান করা ছিল বলে যেতে পারিনাই। পড়ে ফটোওয়াক নিয়ে তানবিরা আপুর ব্লগ পড়ে আফসোস কম হয়নাই। অবশ্য, মজাটাও একটু একটু ফিল করতে পারছি!
নেক্সট টাইম এমন কিছু হলে, মিস করব না। ইন শা আল্লাহ।
#
অনেক দিন ধরেই ভাবতেছিলাম এবি'র কিছু প্রিয় মানুষ কে এফবি তেও এড করে নিব, সাহস পাচ্ছিলাম। এই কয়েকদিন আগে হঠাৎ এড দিয়া দিছি বেশ কয়েকজন কে, একসেপ্ট ও করছে।
এখন মজা বুঝবো!
কয়েকদিন একটু ফাঁকিবাজি করলেই শুরু করুম ঘ্যান ঘ্যান, লেখা দেন লেখা দেন!!
হিঃ হিঃ 
‘আব্বা এই যে আমি!!!
সংসারের বড় মেয়ে বড়াপার ছোট ভাই বোনের জন্য আদরের প্রকাশ ছিল এত বেশি যে ছোটরা তার রাগের জন্য খুব একটা ভয় পেতোনা, এম্নিতেও বড়াপা যত গর্জাতো, তত বর্ষাতো না। মেজাপার রাগ ছিল চন্ডালের রাগ, বুঝিয়ে দেবার পর লেখা পড়ায় ভুল করলে মেরে হালুয়া বানিয়ে দিত, বিশেষ করে ক্লাস সিক্সে ওঠা মেজ এবং সেজ দুরন্ত দুই ভাই এর উপরে তার শাস্তির মাত্রাটা এত বেশি ছিলো যে ভাগ্যিস তখন মানব-অধিকার উকিলদের কথা কেউ শোনেইনি, তাদের হিসেবমত ছোট ভাইদের মেরে তক্তা বানানোর অপরাধে মেজাপার কয়েক বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়া যেত অনায়াসেই।
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
কোন একদিন..
রাতভর স্বপ্ন দেখব অনেক,
সত্যি স্বপন..
ঘুম ভেঙে যাবে,
খুব ভোরবেলাতেই..
উঠতেই দেখব
ঝিরিঝিরি রোদ্দুর..
ছোট্ট এক টুকরো
সবুজ মাঠ..
বেড়াল ছানার মত;
তুলতুলে নরম ঘাসে,
হেটে যাব বহুদুর..
দিনভর তুমুল বৃষ্টি হবে,
অঝোর ধারায়..
আমার ছোট্ট ঘরটা;
ভেসে যাবে প্রিয় যত গানে,
আর মাঝে মাঝে চা কফি তো থাকবেই..
বিকেল হতেই ছুটবো পাহাড়ে,
কিছু মেঘ ছুঁয়ে দেখব বলে..
শহুরে বিকেল-ছাদের
চেনা-অচেনা হাওয়া,
না পেয়ে খুঁজে যাবে আমায়..
সময় পেলে হয়ত ঘুরে আসব কিছুক্ষন,
দু'পাশে সবুজ ঘেরা ছিমছাম
পিচঢালা একা রাস্তায়;
স্মৃতির পুরোনো সাইকেলটায়..
ঠিক সন্ধ্যের আগে আগে
যাব বালুকাবেলায়,
সমুদ্দুরের হাওয়ায়
সুর্যাস্তের হাতছানিতে..
সন্ধ্যাঁ পেরুতেই
আকাশ ভরে যাবে লক্ষ কোটি তারায়..
আর নয়তো,
আধাঁর আকাশ ঝলসে যাবে জোছনায়..
মন মাতাল করে দেবে;
রূপার থালার মত,
বিশাল একটা চাঁদ..
একটা মাত্র দিন,
বাঁচার মত করে বাঁচব বলে..
কোন এক দিন,একটা মাত্র দিন..
হয়ত মিলবে,
হয়ত মিলবে না..
তাতে কি,
আশা করতে ক্ষতি নেই তো কোন..
আর এ তো সবার-ই জানা,
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই
ইস্কুলবেলা
কাল
রাতে ঘুমাতে দেরি হইছিলো,স্বভাবতই
উঠতে দেরি হবার কথা।তা না,ঘুম
ভেঙে গেলো এক্কেবারে ভোরবেলায়!
আজব ব্যাপার!
যাই হোক,আর ঘুমালাম না।সকালের
নাস্তা করে একটু বের হতেই
দেখি,একটা পিচ্চি তার মা'য়ের
সাথে স্কুলে যাচ্ছে।মা টা পিচ্চিটার
একটা আঙ্গুল ধরে রাখছেন,আর
উনি মহানন্দে তিরিং বিরিং করে এগুচ্ছেন!
বাউন্সিং বলের মত!অসাধারন
লাগছিলো দেখতে।
সেই থেকে দৃশ্যটা মাথায় ঘুরছে।আমার
ইস্কুলবেলার নানান
কথা ঘুরেফিরে আসছে মাথায়,একটা কিছু
লিখতে ইচ্ছে করছে খুব তাই এই লেখা।
ছোট্ট শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া,তার
মাঝে সবচেয়ে ভালো স্কুল
'অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়'।
সেখানেই ওয়ান টু টেন,আমার দশ
বছরের ইস্কুলজীবন।
স্কুলের প্রথম দিন
ভর্তি হতে গিয়েছিলাম নানার
সাথে,সিক্স পর্যন্ত ভাইয়া'র
সাথে যেতাম।তারপর থেকে,একা একাই।
কখনই আম্মুর সাথে যাওয়া হয়নি।
পিচ্চি নাকি,যে আম্মুর সাথে যাবো!
সেই পিচ্চিবেলাতেই এত্ত
আত্মসম্মানবোধ,মজাই লাগে এখন
ভাবতে।
ছোটবেলা থেকেই আমার সব দুস্টুমি-
বান্দরামি,সবই বাসায়।
স্কুলে গেলেই,শান্তশিষ্ট ভালোমানুষ।
সকাল দশটা থেকে বিকেল
চারটা,কিভাবে যেনো কেটে যেতো রোজ।
কবিতা: যুদ্ধ ধর্ম রক্ষায়
ধর্মের রোষানলে পড়া ধর্মের ধংসের স্তুপে খুঁজি ধর্মরে;
যে সহস্র বছর আগে ফারাও-ট্রয়-ব্যবিলন-বেদুইন
গড়েছিল মহান অন্তরলোক; মহান শাসন কেন সে বিলীন?
ক্রসেড, জিহাদ হীন অজুহাত; তবু সে মহান ধর্মের মন্দিরে।
শান্তির বাণী এনেছিল বুদ্ধ অনন্তের জয় আজিকে ক্ষয়,
যীশুর বুকের ‘পরে বারবার ক্রুশ বিদ্ধ করে; যুদ্ধ বানে
অনুসারী তার রক্তের দাগ মুছিবে কি করে; বাইবেল-কোরানে?
বৌদ্ধ শান্তি-খ্রীষ্ট মানবতা-ইমান-কৃষ্ণে যুদ্ধ ধর্ম রক্ষায়।
শান্তি চাই-শান্তি চাই; এ জন্যও চেয়েছে যুদ্ধ ধর্মের দল,
হউক সে যুদ্ধ শান্তির তরে; তবু সেকি নয় পাপীর ছল।
এইসব ক্লািন্তরা....
আমােদর বাসার পেঁপেঁ গােছ পেঁপেঁ ধরেছে। ইদানীং খুব অল্পতেই স্মৃিত আক্রান্ত হই। সারািদেনর অহেতুক হৈ চৈ, তথাকথিত কাস্টমার সার্ভিস মুখোশ আঁটা কলিগ এসব ক্লািন্ত িবষাদ বিষ সব সরিয়ে দেশের খবর বাসার খবর বিশ্বের খবর কিছুই আমার কাছে পৌঁছায় না।
হঠাৎ তেঁতুল পেঁপেঁ আহ্ মাখােনার কথা মনে পড়লো। তার পাশাপািশ দেখি পত্রিকায় বৌদ্ধ মন্দির পোড়ানোর খবর। আমার মাথা কাজ করে না। সেই নুনু কাটা মুসলমােনর দেশ, েসই গরু খাওয়া মুসলমােনর দেশ রয়েই গেলাম। আগুন দাও, জায়গা খালি েসই ভিটা আসুন দখল করি। তারপর কান্না করি, মানববন্ধন করি। অজুহাত আমার ধর্মে আঘাত, কি আঘাত! না কে জানি মুভি বানিয়েছে, কে জানি ছবি পোস্ট করেছে। আহা মরি মরি...আমার আইন রক্ষা করার বাহিনী ও তো সুসলমান...ওরা তাই দেখেছে রোম পুড়েছে নিরো বাঁশী বাজিয়েছে...মজা মজা...
মুসলমান বাঙ্গালী এরা ছাড়া আর কেউ দেশে থাকেব না বলে দিলেই তো হয়...সবাই দেশ খালি করে চলে যাক...আমরা ডুগডুগি বাজাই...মানববন্ধন করি...
কোন একদিন..
ছোট্ট চায়ের টং-টায় ঢুকেই
এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক
করতে গিয়ে আরো উস্কুখুশ্কু
করে দিলো ইভান।
ভয়ংকর গরম পড়েছে আজ, বাসায় ফিরেই
লম্বা একটা গোসল দিতে হবে।
টানা তিনটা টিউসন পড়িয়ে আর কিছুই
ভালো লাগছেনা। তাও একটা ভালো খবর
হলো আজ মাসের ৭
তারিখে এসে পকেটটা একটু
ভারী হয়েছে। এই কটা টাকার জন্য
বলতে গেলে গায়ের রক্ত
পানি করে খাটা হচ্ছে। গত মাস
থেকে নাইট সিফটে একটা কল
সেন্টারেও ঢুকেছে। রিটায়ার্ড বাবার
পেনসন আর এই কটা টাকায়
মা যে কিভাবে সংসার চালায় আল্লাহই
জানেন।
ইভান ছাত্র খুব একটা খারাপ ছিলোনা।
ঢাকা ভার্সিটি থেকে এম বি এ করেও
যে ভালো একটা চাকরি পাওয়া যাবেনা সেটা কে-
ই বা জানতো? দেশটার যে কী হচ্ছে,
আজকাল 'লাইনঘাট'
ভালো না থাকলে কিছুতেই কিছু হয়না।
অবশ্য, বাসায় ফিরে তার অপেক্ষায়
বসে থাকা মা আর ক্লাস
নাইনে পড়ুয়া পড়ুয়া ছোটবোন যুথীর
দিকে চাইলেই মন ভালো হয়ে যায়
ইভানের।
যুথীর জন্য এক জোড়া রূপার কানের দুল
কিনতে হবে। অদ্ভূত লক্ষ্মী একটা বোন,
ইভান ভাবে, এত্ত দিনের শখ কিন্তু
কখনোই মুখ ফুটে চায়নি। ঐদিন কথায়
কথায় মা-কে বলে ফেলেছে, মনের ভুলে।
মেঘ জীবন.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
তপ্ত দূর্বিসহ দিন..
যেন;
শুষ্ক মরুভুমি,
তৃষিত প্রান্তর..
তার-ই মাঝে কোন একদিন, কোথা থেকে যেনো আসে..
এক টুকরো;
কাঠ-গোলাপের গন্ধ মাখা,
অচীন দেশের মেঘ..
বড়ো আদরের,
খুব ভালোবাসার..
ঠিক যেন;
রূপকথার গল্পে শোনা,
ছোট্ট রাজপুত্তুর..
ভেসেই চলে,
মনের আকাশ জুড়ে..
স্বপনছোঁয়া,
আদরের নৌকা যেন..
দিন যায়,
বেড়ে উঠে উড়ো মেঘ..
দুরন্ত;
দুর্বার তারুন্যে সুবিশাল,
সে যে ভয়ংকর সুন্দর..
ঝর-ঝর ঝরে যায়..
ছুঁয়ে চোখ, ভরে মন..
প্রতিদিনকার হাসি-কান্নায়;
মিশে যায়,
নিঃশর্ত ভালোবাসায়..
তারপর,
কোন একদিন..
সময়ে..
অথবা;
আর সবার চোখে,
অসময় সময়ে..
বুঝি সে হারিয়েই যায়-
হঠাৎ করেই..নেই..
চলে যায় সে..
তবু রয়ে যায়,
তার স্মৃতি মাখা স্মৃতিতে..
বড় বেশি করে,
তার না থাকার মাঝেই..
বুঝি সে,
জানতে-ও পারেনা..
কত না রাত-জাগা চোখ,
পথ চায়..
শুধু আরো একবার,
তার ভালোবাসায় ভেসে যাবে বলে..।।
[সচলায়তন, ০৯-০৮-১০খ্রীঃ]
কাশফুলের ফটোওয়াকে একদিন
আমাদের এবিবাসীদের হুজুগের অভাব নাই। যাকে বলে উঠল বাইতো কটক যাই। কয়দিন পিকনিকতো কয়দিন টাঙ্গুয়া, এরপর ব্লুমুন ট্যুর। বার মাসে চব্বিশ পার্বন। বর্ষা যেতেই শরৎ এর আগমন। আর শরৎ মানেই স্নিগ্ধ মেঘমুক্ত আকাশ, দুর্গাপূজার কাঁসা আর ঢাকের বাজনার সাথে বোনাস হলো শ্বেত শুভ্র কাশফুল। এবি ভর্তি ফটুরে সেটা আজ আর কে না জানে। দিনরাত তারা স্কেল কম্পাস দিয়ে ফোকাস মেপে মেপে ফিজিক্স পড়ে যাচ্ছে। বর্ষার ছবির উৎসব শেষ এখন শরতের পালা। তাই আঠাশে সেপ্টেম্বর, রোজ শুক্রবার বেলা তিনটায় এই ফটোওয়াকের আয়োজন, স্থান আফতাবনগর। যা হয়, ফটোগ্রাফার প্রচুর কিন্তু মডেলের অভাব। আর যে সে মডেল হলে হবে না, বেঁকা হয়ে, কাঁত হয়ে পোজ দিতে পারে এমনসব মডেল হতে হবে। কয়েকজন একাব্যাকা স্পেশালিষ্টকে অনেক তেল মেখে রাজী করানো হলো মডেলিং এর জন্যে। এর মাঝে আবার রিদওয়ান ঘোষনা দিয়ে দিল, ওর আন্ডার টুয়েন্টি মডেল লাগবে। টুয়েন্টি প্লাস মডেল আর কাশফুল নাকি ব্যাড কম্বিনেশন। মোটেই কেউ রাজি হয় না তার আবার টুয়েন্টি, হুহ।
Naadodigal
মন মেজাজ যে খুব একটা ভালো তা বলা যায় না। তবু দিন কেটে যাচ্ছে এইটাই ভরসা। অন্য অনেকের চেয়ে ভালো আছি তাই সান্তনা। সাতক্ষীরা, ভো্লা, রামু, হাটহাজারী পটিয়া এই বছর জুড়ে যত ঘটনা ঘটলো সব কিছু নিয়েই আমি খুব চিন্তিত। তবে চিন্তা করা ছেড়ে দিলাম। অতো ভেবে কাজ নাই। ভেবে আমরা বেশি হলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবো। আরও বেশী হলে প্রেসক্লাবে কড়া রোদে ফ্রুটো খেতে খেতে মানব বন্ধন করবো এতটুকুই আমার সাধ্য। আর লোকজন সব আমার মতই সিরিয়াস। কিন্তু এই সিরিয়াসে কিছুই করা যাবে না। যতক্ষণ ফেসবুকের সিরিয়াসনেস আমরা সমাজে প্রভাব না করতে পারবো ততদিন এই দেশে সিরিয়াস হয়ে কোনো কিছুই ছেড়া যাবে না। আর এমনিতে চিন্তা করে দেখেন এই দেশে হিন্দু মুসলমান চাকমা সাওতাল কেউই নিরাপদ না। প্রতিটা শ্বাস নেয়ার সাথে সাথেই মনে হয় বেচে তো আছি। কারন আজকে একটি ইংরেজী পত্রিকা দুটো জাতীয় বাংলা দৈনিক পড়ে হিসাব করে জানলাম মারা গেছে ১৭-১৮ জনের মতো। এর ভেতরে রোড এক্সিডেন্টে ৩-৪ জন। স্কুল টিচারকে ক্লাস রুম থেকে ডেকে নিয়ে খুন। এক জোড়া কানের দুলের জন্য বুড়ো মহিলা খুন। হাউজ ওয়াইফ খুন। আরও কত খুন যার হিসেব থাকে না। ধরি ১০০০ এর মতো খুন হন ৩০ দিনে। ১০ হাজারের