ইউজার লগইন
ব্লগ
4
রাত বারটা বাজে। ফেইসবুকে কয়েক ঘন্টা নষ্ট করে ব্লগে আসলাম। মনে হচ্ছিলো যে আমার আর লেখার মতো কিছু নেই। তখন একজনের লেখার মাঝে এই বাক্যটা চোখে পড়লো- "অথবা আমি ঈর্ষান্বিত হই ওরা সব্বাই সুখী বলে।" মনে হলো এটা আমাদের সবার প্রব্লেম। এ নিয়ে কিছু কথা অন্তত লেখা যায়।
অবশ্য যা যা লেখার তা লেখা আছে অনেক আগে থেকেই। নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস থেকে শুরু করে The grass is greener on the other side of the fence বা এলআরবির আসলে কেউ সুখী নয়- সব ভাষাতেই এই কথা লেখা হয়ে আছে অনেক কাল ধরে। তবুও মানুষের এই এক সমস্যাঃ সবাই এতো সুখী আর আমার খালি কষ্ট! আসলে আমরা এ্যাতো জটিল প্রাণী যে আমাদের বেশীদিন সুখে থাকতেও বিরক্ত লাগে।
মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, সবারই ম্যালা কষ্ট আছে। আমার এক বার মনে হইছিলো, পৃথিবীতে সবাই একই পরিমান সুখ এবং দুঃখ পায়। এটা হয়তো একটা হাস্যকর থিওরী, কিন্তু এটা সত্যি হতেও পারে।
3
Now I don't know how much I have left. I do not dare to look inside the poor moneybag. One day after the class, three of them were standing outside, I went to them and asked if each of them could give me a Euro. Joshua gave me two, Kudi one and Keldan only 50 Cents. I gotta pay them back as soon as possible. Later that day I came to the dorm and found Buassaba, he said his account is activated. And he gave me 4 Euros. That day I also found under the kitchen sink a lot of water bottles and cans, each of them worth 25 Cents. Someone told me they were here for last couple of months. I wrote on the whatsapp group, looking for the owner. But I cashed them at Lidl. Now if the owner shows up someday, I gotta pay 4 Euros to that person.
2
Sometimes, on some bad nights like tonight, I conclude to myself that I do not fit into this world, and I am too weak to survive the savanna. Some nights, my knees can't bear me anymore. And I just bring my poor self on the bed. The only thought that surrounds me is the fear- the fear of being unfit, disqualified.
Now my eyes are heavy. I could go asleep, but I push myself to write. I got this letter from the town hall. And it says, I have to fill out some additional documents, because I have not registered in time. I was just about to study, but I had to translate the letter into English and the it made me feel down. I texted Doris, but they were not home. Now the next Monday morning, I have to see Mr Franz, the house master and ask for his recommendation regarding it.
কোনও এক কণিকার জন্য!
শুক্রবার আমার মন ভালো থাকে। ঘুম থেকে উঠি, গান বাজনা শুনি, নাস্তা করি হেলতে দুলতে। স্মুথ একটা দিন। কোনোকিছুর জন্যই তাড়া নাই। সকালটা শুরু হয় দরজার কোনায় পড়ে থাকা পত্রিকা দেখি, একটা পড়ে হয় না, অনলাইনে পত্রিকায় চোখ বুলাই। ফেসবুকের ইস্যু গুলোর সাথে তাল মেলাই। কিছু নিয়ে ইচ্ছে করলে স্ট্যাটাস দেই। বই পড়ি শুয়ে শুয়ে। একটার দিকে বের হই। নামাজে যাই। নামাজ শেষে জম্পেশ আড্ডা দেই অনেকক্ষণ। বাসায় আসি ভাত খাই। আবার সন্ধ্যায় বের হই। কোনো ভালোই রেস্তোরায় খাই, বারেক সাহেবের দোকানে ফিরি, আড্ডা মারি, বাসায় আসি। আজও সেইম কাজ গুলোই করলাম। কিন্তু সব আলগা ভালো থাকা মাটি করে দিলো একটা খবর। মধ্যম আয়ের দেশে, উন্নয়নের মহাসড়কে বুলেট গতিতে মার্সেডিজ চালানো বাংলাদেশের এক পত্রিকার অনলাইনে পাওয়া এক অকিঞ্চিৎকর খবর, শেরপুরে কণিকা নামের এক কিশোরীর আত্মহনন। কিশোরী, বৃদ্ধা, তরুনী,কন্যাশিশু, কারো জন্যেই এইদেশ নিরাপদ না এটা পুরোনো
কোনো এক ধীরগতির পড়ন্ত অক্টোবরের সকালে
১.
শরীরের ওপর থেকে কম্বলটা সরিয়ে দেয়ার কাজকে সকালের সবচেয়ে কঠিন কাজ মনে হয় আমার। ইদানীং এই প্রবণতা আবার বেড়েছে খানিকটা। বেলা ১১টা-১২টা বেজে যায়, তাও পড়েই থাকি বিছানায়। আজও তেমনি বিছানা ছাড়তে খুব আলসেমি লাগছিল। কি করা যায় ভাবছিলাম। সকালের রুটিন হচ্ছে, এক মগ কফি আর একটা সিগারেট। কফির মগটা লাস্ট বান্ধবী উপহার দিয়েছিল। 'স্টার ওয়ার্স: দি ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স'-এর একটা স্যুভেনির মগ। গরম যেকোন কিছু ঢাললে সাথে সাথে মগের রঙ পাল্টে যায়। সাধারণত দুধ গরম করে, আগে থেকে মগের ভেতর দিয়ে রাখা কফির মধ্যে ঢেলে দিই। দ্রুত মগটা কালচে নীল থেকে একটু অফবিটের শাদা রঙ-এ পাল্টে যায়। সকালে ওটা দেখেই মনটা ভাল হতে শুরু করে আস্তে আস্তে।
ভালিটোভা নদীর তীরে
রাত এগারোটার সময় গাড়ির মালিক যখন আমায় জিজকভ টেলিভিশন টাওয়ারের নিচের নামিয়ে দিয়ে চলে গেল, তখন আশপাশে একটা খোলা দোকান কিংবা মানুষ কোনোকিছুই ছিল না। চারদিকে ভিনদেশি ভাষায় লেখা সাইনবোর্ড দেখে ঠিক কোথায় এসেছি ঠাহর করা যাচ্ছিল না। শুধু জিজকভ-এর লোগোটা পড়া যাচ্ছিল। আগেই জানতাম ওখান থেকে কাছেই আমার দুইদিনের প্রাগ সফরে থাকার জায়গা।
১
ওয়েদার
আবহাওয়া বড় সমস্যা নয়, সমস্যা হলো এইভাবে বেঁচে থাকায় অভ্যস্ত হওয়া। বাইরে বাতাসে বসে আড্ডা মারার কোনো সুযোগ নেই। সবাই ঘরের ভেতরে।ফলে যার কোনো বন্ধু নেই তার শীতের রাস্তা বা নিজের ঘরে একা একা বসে থাকা ছাড়া তেমন কিছু করার নেই। অক্টোবর শেষ প্রায়। রুমের জানালাটাও খোলা রাখার উপায় নাই। আমি আসলে একটা ছোট শহরে থাকি। জাঁকজমক বা নাইট লাইফ বলতে তেমন কিছুই নেই। দিনের বেলায় সিটি সেন্টারের দিকে গেলে কিছু মানুষ দ্যাখা যায়। কেউ বাজার ঘাট করে, কেউ ফুটপাতে সাজিয়ে রাখা জামা কাপড় দ্যাখে। রোদ্দুর থাকলে ফুটপাতে পাতানো চেয়ার টেবিলে বসে বীয়ার বা কফি খায় কেউ কেউ। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা বাইরে আমি যত জনকে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে দেখেছি, তারা নিশ্চয়ই বাস বা বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলো।
বুয়াসাবা
দুঃস্বপ্নের ঘণ্টাধ্বনি
জানালা গলে বিচ্ছিরি গন্ধটা ঘরময় ছড়িয়ে পড়লে পেটের ভেতরটা গুলিয়ে উঠলো। বৃষ্টি হলেই এই উৎকট গন্ধটা ঝিল থেকে ডানা মেলে আকাশে, তারপর দৈত্যের মত ছুটে এসে আশপাশের পুরো এলাকা গ্রাস করে নেয়। তখন টিকে থাকাই দায়। ঘরের ভেতরে গুমোট অন্ধকার। কেমন যেন আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে আছে ঘরের কোণে কোণে, চারপাশের টিনের বেড়া আর চালের সাথে। বৃষ্টিটা থেমে গেলেই একটা ভ্যাঁপসা গরম ছাড়ে। কী অসহ্য! ইলেক্ট্রিসিটি নেই এক ঘণ্টা হল। বাঁশের সাঁকোর মোড়ে দু’টো কুকুর একটানা চেঁচাচ্ছিল। কে যেন ধমকে উঠল- অ্যাই চুপ, যাহ!
-উফ! আর তো পারা যায় না- মহিদুলের কণ্ঠে বিরক্তি।
-কী পারা যায় না? মহিদুলের দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করল জয়নাব। ছেলেকে তালপাখায় বাতাস করছিল সে।
-গন্ধে তো বমি হওয়ার দশা। এইহানে আর থাকা যাইবো না।
ক্ষমা করো বাবা
এয়ারপোর্টের ভিতর একটা কোনের চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছি। আর একটু পর চলে যাব হাজার মাইল দূরে। প্রিয়জনেরা গেইট পর্যন্ত দিয়ে গেছে। বুক ফেটে গেছে ছেড়ে আসতে তবু চোখ ফাটে নি। আড়াই বছর পর দেশে ফিরে গেছি। জীবনসঙ্গী করেছি একজনকে। ২২ দিন একসাথে সংসার করেছি। এখন তাকে রেখেই চলে যাচ্ছি। আর পারলাম না। কোলের ব্যাগে মুখ লুকিয়ে কেঁদে ফেললাম। হয়ত অনেকে দেখছে। দেখলে দেখুক। এত কষ্ট প্রিয়জনদের ফেলে দূরে যেতে আগে বুঝি নি। ভাবতে ভাবতে আকাশের দিকে তাকালাম। যেখানে মনের কথা সব বাবাকে বলি।
এই উইন্টারে যারা জার্মানিতে পড়তে আসছেন
এটি একটি উপদেশমূলক লেখা। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে জার্মানিতে উইন্টার সেমিস্টার শুরু হচ্ছে। এখানে উইন্টার সেমিস্টারে সামারের চেয়ে বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রী নেয়া হয়। তাই এই সময়টাতে ছাত্র-ছাত্রীদের জার্মানির পানে ভিড়ও থাকে বেশি। যে বা যারা দুই-একদিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো জার্মানির উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে পা বাড়াচ্ছেন, তারা এই লেখা থেকে উপকৃত হলেও হতে পারেন।
আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে এই দিনটাতে আমি মনে মনে ভাবছিলাম, এখন হাতের কড় গুণে হিসেব করে ফেলা যায় কয় ঘন্টা পর আমার ফ্লাইট; কয় ঘন্টা পর আমি এমন একটা জায়গায় থাকবো, যেখানকার কোনোকিছুর সাথে আমার পরিচয় নেই; কয় ঘন্টা পর আমি প্রিয় পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, এবং আমার স্বদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে চলে যাবো। হিসেব করে ফেলা যাচ্ছিল সবকিছুই। কঠিন ছিল সময়টা, স্বীকার করতেই হবে।
পিএইচডি অ্যাপলিকেশন ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা: পর্ব ১
অনেকেই যখন পিএইচডি করতে যায় তখন বেশ জ্ঞাননির্ভর পোস্ট দিয়ে ব্যাখ্যা করে কিভাবে কিভাবে সে পিএইচডি পেলো। এই জ্ঞানটা নিশ্চিতভাবেই খুব জরুরি। তাদের নিয়মগুলো, পরিশ্রমগুলো থেকে হবু পিএইচডি করতে আগ্রহীরা অনেক কিছু শেখে।
তবে আমার মনে হলো, আচ্ছা ব্যর্থ পিএইচডি অ্যাপলিকেন্টদের অভিজ্ঞতাও জানানো জরুরি। এটাও হবু আগ্রহীদের কাজে দেবে। যদিও যারা আমার মতো পিএইচডি ফান্ড পায় না তারা লজ্জায় বলেও না। আমি তাই ভাবলাম নিজেরটাও তুলে ধরি। ব্যর্থতার কথা কেউ তো বলে না। বলে সফলতার কথা। আমি না হয় ব্যর্থতার কথা বলেই যা যা শিখলাম সেটা জানালাম। বিষয়টা হলো, আমি চেষ্টাটাকে চালিয়ে যাইনি। কেন পস দিয়ে রেখেছি। সে ব্যাখ্যা দ্বিতীয় পর্বে বলবো। আপাতত গল্পটা শুরু করা যাক---
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১১
১.
'যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি তোমার কথা শুনতে পাবো না'। এটা একটা গানের লাইন। ইদানীং খুব শুনছি গানটা। যদিও লুপে আটকা পড়াটা ঠেকিয়ে রেখেছি ইচ্ছে করে। আমি জানি, আমি খুব সহজে লুপে আটকা পড়ে যেতে পারি। ভালবেসে ফেলতে পারি চোখের পলকে। মন দিয়ে নিজেকে খুন করে ফেলতে মুহূর্ত কাল সময় লাগে না। সুযোগটা নেয় নি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তাই আজকাল নিজেকে বন্ধ করে রাখি সন্তপর্নে।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা অভি!
সময়টা যে খুব ভালো তা বলা যাবে না। আমার অবস্থা খুব একটা খারাপ না হলেও দেশের অবস্থা তেরোটা। আগে যেসব দুর্যোগ- দুর্বিপাক ছিল, এখন তা আরো বেড়েছে। রাস্তায় জ্যাম মাত্রা ছাড়িয়ে অনন্তকালের দিকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতা দেখাতে গিয়ে আমরাই কোনো জালে আটকে পড়ে যাচ্ছি কিনা, সে খবর আর কে রাখে। বন্যা হলো, পাহাড় ধ্বসে কত গুলো প্রাণ চলে গেল তখন আমাদের লুকিয়ে থাকা মানবতা অন্য অনেক সময়ের মত লুকিয়ে ছিল। কিন্তু এখন ফেসবুক খুললেই দেখি মানবতার জয়গান। আমি অবশ্য তাতে অসন্তুষ্ট না। আমি চাই এই মানবতা ব্রাদার হুড অন্য সময়তেও খাড়া থাকুক। আবার আরেক পক্ষ আরো সরেস। তারা একাত্তরকে ছাড়িয়ে যাবার ও মেলানোর ধান্দায় বিজি। একাত্তরকে যারা ছোট করতে চায়, তাদের দিয়ে আর যাই হোক মানবতা আশা করা ঠিক না।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১০
রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে এ ক'দিনে অসংখ্য লেখা পড়া হলো। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে অনেক খবরই দেখলাম। বিচার-বিশ্লেষণে যেতে চাচ্ছি না, কিন্তু বিষয়টিকে আর পাঁচ-দশটা স্বাভাবিক ইস্যূর মতোই নিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। কোনো কোনো দিন রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর বিবিসির লিড হচ্ছে, আবার খানিক পরেই ওটা নেমে যাচ্ছে। উঠে আসছে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো খবর। সিএনএন, আল-জাজিরারও একই অবস্থা। মানুষের প্রাণের মূল্য কতোটা কমে গেলে গণহত্যার মতো একটা বিষয়কে পাশে সরিয়ে রেখে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংবাদ নিয়ে অধিক মাতামাতি হতে পারে?
এপিটাফ অফ লাভার'স ফ্রেইগ্র্যান্স
তোমার ঘ্রাণের জন্য আমার স্মৃতিরা বিষাক্ত নীল হয়ে এলে
আমি ক্যাফেটেরিয়ার ভাঙা সিঁড়ি ধরে একদম উপরে উঠে যাই।
দেখি প্রিয় মানুষেরা ডুবে যাচ্ছে ট্রাফিকে,
দেখি সিগন্যালের মতো পালটে যাচ্ছে প্রেমিকার মন।
দেখি এই দালানের ইটেরা কতো চুমু দেখছে অনিচ্ছাতে
তবু সয়ে গেছে,
এই খসে যাওয়া পলেস্তরা-রেলিংও টিকে আছে অনেক দিন;
এইখানে।
শুধু আমরা টিকিনি।
এই জঞ্জাল
এই কবি বেশ্যা খেলা
এই শব্দ বুনন
তোমার শহরের ধুলো চোখে লেগে গেলে,
আমি ছুটে আসি এই ক্যাফেটেরিয়ার ছাদে।
আমি আবার দেখেছি ওরা ছুটছে গোলাপ নিয়ে
গুনেছি প্রতিটা হুইসেল
দেখেছি ব্যস্ত মানুষ আর বেকার,
এসব বিকেলের আগে আগে দেখেছি
তোমার শহরের রোদেরা 'রোববার' ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরছে
শুধু আমরা ফিরিনা আর, আমাদের কাছে।