ইউজার লগইন
ব্লগ
কবিতা: সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ইদানীংকার
সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। আজকাল প্রায়ই রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় অকারণে। বসে বসে ভাবি- কেমনে কি? আর মাত্র ১১ সপ্তাহ। এর মধ্যে পুরো একটা থিসিস পেপার লিখে জমা দিতে হবে। চাকুরীও একটা খুঁজে বের করতে হবে। এই রকম দুইটা চাপ মাথায় থাকলে, দিশাহারা অবস্থা কাকে বলে বুঝতে আর কিছু লাগে না। অথচ আমার আরও অনেক ছোট-খাটো কাহিনী আছে। ভাগ্যটা ভাল যে বড় কাহিনী ওই দুইটাই। আরেকটা কাহিনী ঘটতে যাচ্ছিল। বিশাল ভাগ্য নিয়ে এসেছিলাম পৃথিবীতে বলেই কিনা হয়তো, খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসেছি। তবে শিক্ষাটা ভালই হয়েছে। অনিরাপদ যৌনতার মধ্যে আমি আর নেই। নেই তো নেই-ই, একদম নেই।
তারেক মাসুদের গানে শ্রেণি, রাজনীতি ও জেন্ডার চেতনা: একটি সূচনামূলক আলাপ
এক.
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৬
গেল মাসের শেষ দুই সপ্তাহে সামার জব করতে গিয়েছিলাম একটা বিয়ার ফ্যাক্টরীতে। ইলমিনাউয়ের লোকাল বিয়ার, নাম ইয়েকলাইন (Jäcklein)। বাসা থেকে ১৫ মিনিট সাইকেল চালিয়ে গেলেই ফ্যাক্টরী।
প্রতিদিন সকাল পৌনে আটটায় ফ্যাক্টরীতে গিয়ে পৌঁছুতে হতো। তারপর সবার সাথে বসে এককাপ কফি, পান করলে করলাম- না করলে নাই, কিন্তু বসতে হবে অবশ্যই। সবাই একসাথে বসে হাসি-ঠাট্টায় ঘুমটা হালকা করে নিয়ে, আটটা থেকে কাজ শুরু। জার্মানদের সম্পর্কে অনেক স্টেরিওটাইপই চালু আছে পৃথিবীজুড়ে। আমি নিজে দেশে থাকতে একাধিকবার শুনেছি ওরা নাকি পানির বদলে বিয়ার খায়। শুনে শুনে হয়তো বিশ্বাসও করেছিলাম খানিকটা। অথচ এখানে এসে শুনলাম, জার্মান ভাষায় প্রবাদ চালু আছে- কাইন বিয়ার ফর ফিয়ার। মানে হলো, বেলা চারটার আগে কোনো বিয়ার নয়।
কাপুরুষ
দেখো, একদিন আমি লিখে ফেলবোই সেই অমর কবিতা!
কি করে তোমার বেড়াজ্বালে বন্ধি হয়ে আমি আমার জীবনের সব উচ্ছ্বাস হারিয়েছি!
কি করে আমি লেখক কিংবা সাধারন জীবনের ইতি টেনেছি!
কি করে আমি জীবনের সরল পথ হারিয়ে অন্ধকারে প্রবেশ করেছি!
দেখো, একদিন আমি বলেই ফেলবো!
তোমাকে ভাল রাখতে গিয়ে, কি করে আমি আমাকে গুটিয়ে নিয়েছি!
কি করে আমি নিজকে আমার সমাজের বাইরে টেনে ফেলেছি!
কি করে আমি ভুলে গিয়েছি আমার অতীত কিংবা শিশুকাল!
দেখো, আমি একদিন চিৎকার করে বলবোই!
কেন আমি আর মধ্য রাতের চাঁদের আলোয় আলোকিত হতে পারি না!
কেন শেষ রাতের শিয়াল গুলো জ্বলজ্বল চোখে আমাকে অবজ্ঞা করে যায়!
কেন আমার প্রিয় নীল আকাশ দূরে আরো!
দেখো, আমি একদিন জেগে উঠবোই!
বলবো কেন অর্থের প্রয়োজনে আমি এতটা বিভোর হয়েছি!
যদিও তোমাকে দেখলে আত্মহত্যার স্বাদ জেগে উঠে!
কিংবা কি করে আমি আমার যৌবন হারিয়েছি!
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৫
একটা বই লিখার ইচ্ছা আমার বহুদিনের। নিজের ভাষায় কিংবা বিদেশি ভাষায়- যেটাতে হয় সেটাতেই। শুরু করি করি করে করা হচ্ছে না। শুরু করে ফেলে রাখার চাইতে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে শুরু করা ভাল, নাকি আগে শুরুটা করে পরে দেখা ভালো যে লেখা হয় কি হয় না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি এখন।
তুমি রবে নীরবে
দেশের খবর দেশে থাকতেও পত্রিকা আর টিভিতেই বেশি পেতাম, এখনও তাই। বিশ্বজিত হত্যামামলার রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। দুইজন বাদে কারোই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় নি। রায়টা সম্ভবত দেশবাসীর যেকোন মাত্রার একটা সরলীকৃত প্রত্যাশার বাইরে গেছে। যে কারণে ফেসবুক খুব গরম। যদিও ইদানীং বিশ্বব্যপী মৃত্যুদণ্ডকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, এবং উন্নত দেশগুলোতে তা সুফলদায়ক হিসেবে প্রমাণও রাখছে, তবুও বলবো আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজিত হত্যামামলার রায় আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল। তাছাড়া দুর্নীতির চোরাপথ ধরে ক্ষমতা বা বিত্তশালীদের তো জেল থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ হরহামেশাই থাকে। বিচারের রায় যখন এমনিতেই ভঙ্গুর, সেখানে বিচারও যদি হয় এমন; তাহলে সেটাকে অপরাধীরা কিভাবে নেবে তা বুঝতে অপরাধবিজ্ঞানী হতে হয় না।
ভিনদেশী থ্রিলার
সিনেমা জনরের মধ্যে সম্ভবত থ্রিলারের দর্শক সবচেয়ে বেশি। অবসর কাটাতে একটি জম্পেস থ্রিলার থাকলে আর কি লাগে। এই থ্রিলারগুলোর অবশ্য একটা আলাদা বিশেষত্ব আছে, সবগুলো ভিনদেশী থ্রিলার। অবশ্যই আমার দেখার মধ্য থেকে বাছাই করা।
১. টেল নো ওয়ান: ফ্রেঞ্চ মুভি। আলেক্সান্দ্রে বেক একজন ডাক্তার। ৮ বছর আগে স্ত্রী নিহত হয়েছিল। স্ত্রীর বাবা এ জন্য তাকেই সন্দেহ করে। আট বছর পরে জোড়া খুনের সন্দেহ পড়ে আলেসান্দ্রের ওপরে। ঠিক একই দিনে একটি অদ্ভুত মেইল পায় আলেক্স।

আদুরে বাবুর রিডিং অ্যাপস, শিশুদের জন্য ডিজিটাল শিক্ষাউপকরণ ও তার সম্ভাব্য অভিঘাত বিষয়ে একটি সতর্ক প্রতিক্রিয়া
বউয়ের প্রয়োজন কখন বেশী, যৌবনে না বৃদ্ধ বয়সে
সাত/আট বছর আগের কথা। বাংলা নব বর্ষের প্রথম সন্ধা। বারান্দায় বসে আছি। অনেক ছেলেরা সামনের রাস্তা ও মাঠে পটকা ফুটাচ্ছে। হরেক রকম পটকা। এক একটা পটকা ফুটে আর সবাই সমস্বরে চিৎকার করে উঠে। চিৎকার তো নয় যেন কার গলার আওয়াজ কত বড় তার প্রতিযোগিতা চলছে। কখনো কখনো আবার একসাথে অনেক গুলো পটকা ফুটা এবং সম্মিলিত চিৎকারে যে উচ্চ শব্দ হচ্ছে এই শব্দ শক্তি যদি মেকানিক্যাল শক্তিতে রুপান্তরিত হত তবে আশপাশের আধাপাকা বাড়িঘর গুলোর চেহেরা অবিকৃত থাকত কিনা বলা যাচ্ছে না।
আমার ছেলে এবং যাদের চিনি তাদের কয়েকবার বল্লাম,অনেক হয়েছে এবার বন্ধ কর।
যাদের বললাম তারা ভয়ে হউক বা সন্মান করেই হউক,স্থান পরিবর্তন করল বটে তবে খেলায় ক্ষান্ত দিল না।
হ য ব র ল
মানুষের শরীর। কখন যে কি হয় বলা মুশকিল। কদিন আগে সকালে প্রজেক্টে গেলাম ভালই। দশটার দিকে কেন যেন ভাল লাগছিল না। কিন্তু সাড়ে দশটার দিকে পারচেজার ফোন দিল স্যার বিদ্যুৎ এর মেইন লাইনের কেবল টা কিনতে যাব, আপনার সময় হবে কি?
একে তো শরীর ভাল লাগছে না,তার উপর সকাল থেকে সার্টেল স্টাইলে বৃষ্টি হচ্ছে। যখন হচ্ছে অনেকটা সাপে নেউলের যুদ্ধের মত। এই বৃষ্টির জন্য প্রজেক্টের কাজ প্রায় বন্ধ।তবু কেন যেন বৃষ্টিটা আমি এবার ভীষন উপভোগ করছি।
আমার মনে হয় স্থান কাল পাত্রভেদে মানুষের অনুভুতিও ভিন হয়।এই যে বৃষ্টিটা এত ভাল লাগছে তার কারন আমার বর্তমান অবস্থান। চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি।এই শহরকে যত দেখছি সৃষ্টি কর্তার অপরূপ সৃষ্টি কৌশলে মুগ্ধ হয়ে প্রতি ক্ষণে সিজদা করছি।
চিয়ার্স ফর তাতাপু!
গত দুদিন আমার মন খুব ভালো। কারন ব্যক্তিগত। জানতে চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। কিছু খবর আবার আশাপ্রদ না। তাও বলতে চাচ্ছি না। তবে দুদিন ধরে মন ভালো। এর বাইরেও ছয় বছর পর এক বন্ধুর সাথে আলাপ করে ভালো লাগছে। অনেক কথাই ছিল বলার, আগের মত সব বলতে ইচ্ছে করে না। কিছুই ইচ্ছে করে না। কিছু ব্লগ লেখার প্ল্যান ছিল তাও লেখা হলো না সময়ের আর ইচ্ছার অভাবে। তবে লিখবো। ব্লগে কেউ আসুক না আসুক, ব্লগেই লিখতে আমার শান্তি। আর বছর ঘুরে আজকেও আসলো দিন। আজ তানবীরা আপুর জন্মদিন। তানবীরা আপুকে নিয়ে লিখতে আমার ভালো লাগে। নতুন করে লেখার নেই কিছু, সেই পুরাতন কথা গুলো আবার বলা। কোথায় পড়েছিলাম, দুনিয়ার সব গল্প বলা হয়েছে, খালি প্রেজেন্টেশন আর রিকনস্ট্রাকশনের খেলা। আমার কথা গুলো সেরকমই। ঘুরে ফিরে বলে যাওয়া বারবার।
পাহাড়ে উঠার সাধ
কবে কেন যে পাহাড়ে উঠার সাধ হয়েছিল
মনে করতে পারছি না।
পাহাড় সে তো বইয়ে পড়েছি
বাস্তবে কখনো দেখিনি।
আমাদের যেখানে বাস, তাতে
আমার সাধ্যের পরিসীমায় কোথাও
পাহাড় নেই।
তাই
চাইলেই তো আর পাহাড়ে উঠা যায় না।
মনের আকুলতা, ব্যকুলতা
নদী বা সাগরের ঢেউ হয়ে
মনের তীরে আছড়ে পড়ে,
সেজন্যই কিনা জানিনা
প্রায়ই স্বপ্নে পাহাড়ে উঠতে থাকি।
কিন্তু খাড়া পাহাড়ে উঠা সেকি
আমার সাধ্যি।
প্রায়শই প্রারম্ভেই ইতি টানতে হয়।
কিন্তু মনে যাকে সাধন করার
বাসনা জেগেছে
সহসাই হাল ছাড়া কি ঠিক।
আমিও হাল ছাড়িনি।।
পুরষ্কার হিসেবে একদিন
পাহাড় চুড়ায় উঠেই গেলাম।
মনের আবেগ মাপার যন্ত্র
সে কি কেউ আবিস্কার করেছে,
জানিনা,
তবে কারও না কারও আবিস্কার করা উচিত ছিল।
আমার মনের এখন যে অবস্থা
তা প্রায় নিয়ন্ত্রনের বাইরে।
ক্ষনিকে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ
বা অন্য কিছু ঘটে যেতে পারে,
যা আমি জানিনা।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৪
খেয়াল করে দেখেছি, যখন আমি কোনো বিষয়ে সত্য মতামত প্রকাশ করি, হোক না সেটা অতিতুচ্ছ; কেবল তখনই আমি সেটাকে পছন্দ করি। যেমন কেউ যদি জিজ্ঞেস করে 'কেমন আছো?'; আমি উত্তরটা দেয়ার আগে ভাবার চেষ্টা করি, আসলে কেমন আছি। ভাল থাকলেই কেবল 'ভাল' বলে ভাল বোধ করি। ভাল না থাকলে 'ভাল' বলি না। এমনকি যদি জানিও, যে জিজ্ঞেস করেছে, তার কাছে আমার ভাল থাকা না থাকার গুরুত্ব খুব বেশি না; তারপরও নিজের জন্য আমি সৎ থাকি।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৩
১.
'যদিও হারিয়ে গিয়েছি এইতো জরুরি খবর' লিখার জন্য কয়দিন ধরে সময় বের করার চেষ্টা করছলাম কিন্তু হয়ে উঠছিল না। কেন সেটা বলবো, তবে তার আগে একটা চিন্তা শেয়ার করে নিই। ইদানীং এই সিরিজের শিরোনামটা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছি।
শুরুতে ভেবেছিলাম 'হারিয়ে গিয়েছি এই তো জরুরি খবর' কথাটা এই লেখাগুলোর মেজাজের সাথে সবচেয়ে ভাল যায়। তবে শিল্পী অর্ণবের গানের কথা এটা। যতোই যুৎসই হোক, এটাকে নিয়ে বেশি দূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব না। কেননা এটা আমার নিজের আবিস্কার না। আরেকজনের আবিস্কারের উপর নিজের চিন্তা-ভাবনা আরোপ করা। শিল্পী অর্ণবের ভক্ত আমি চিরকালই। অসংখ্য ধন্যবাদ তাকে তার সৃষ্টিশীলতা আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
কিন্তু এই পর্ব থেকে সিরিজটার নাম পাল্টে "অসমাপ্ত বাস্তবতা" রাখছি। ধার করা নাম নিয়ে চলাফেরা আর না।
২.
ইদানিং জীবনযাপন
শামসুর রাহমান প্রসঙ্গে হুমায়ুন আজাদের বক্তব্য মনে পরে-
ঘরোয়া আড্ডায় তিনি কিভাবে কথা বলতেন জানা নেই কিন্তু তার প্রথানুরক্ত প্রথাবিরোধিতা নিয়ে, বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব অবস্থান প্রসঙ্গে তার উচ্চমন্যভ্রান্তি সমেত তিনি তার কষ্টচর্চিত শুদ্ধউচ্চারণশুঁচিবাই নিয়ে জনসমক্ষে উপস্থিত হতেন। তার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনের পার্থক্য সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন এবং সামাজিক পরিবেশে নিজের বুদ্ধিজীবী মুখোশ এঁটে গম্ভীর মুখে উপস্থিত হতেন।
