মনের গল্প

আমার দেহ আমার এ মন
একলা আমি ওরা দুজন !
ঠিক তাই ! প্রকৃতির মত ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া আমার এ অবুঝ মন, কখন যে তার কি হয় বোঝা মুশকিল। কখন যে তার বয়স বাড়ে আর কখন যে কমে তা আমি একদমই বুঝতে পারিনা। তার সাথে তাল মেলাতে যেয়ে আমি মাঝে মাঝে বেতাল হয়ে যাই।
এইতো ধর সেদিন পরিবারের এক গাদা পিচ্চি নিয়ে গেলাম ফ্যান্টাসী কিংডম। টিকেট কেটে চড়ে বসলাম রাইডগুলিতে, পিচ্চিগুলির সাথে মনটাও আমার পিচ্চি হয়ে গেল। আমার এই দেহটা কি আর সব সময় সে ধাক্কা সামলাতে পারে। সারাদিন মাস্তি করে গায়ে হল ভিষণ ব্যাথা, কিন্ত মন ! সে তো ওই পিচ্চিদের মত নির্মল আর সতেজ থাকল!
কখনো মায়ের পাশে বসে থাকি মায়ের কোল ঘেসে ছোট্ট শিশুর মত আর এই বিশাল দেহটা মায়ের কোলে ফেলে দেই। মনটা তখন ছোট্ট শিশু কিন্ত আমার শরীরটাতো আর শিশু নয়, মা কি আর আমায় কোলে নিতে পারে, তবুও মা সেই আগের মতই কাছে টেনে নেন, আমার শিশুমন মায়ের বুকের মাঝে মুখ গুঁজে থাকে।
আরে সেদিনতো আরো ঝামেলায় পড়লাম, এক গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যেয়ে খুব সুন্দর ফুলের গয়না দেখলাম, আমার বেতালা মন কখন যেন আমার দেহ থেকে বের হয়ে সেই গয়না পড়ল, টিপ পড়ল, হলুদ লাল শাড়ি পড়ল তার পর টুপ করে ওই গায়ে হলুদের সাজানো স্টেজে বসে পড়ল, যেই না আসল বঊ চলে এল মনের মুখ ভার হল, ফিরে এল আবার আমার দেহের কাছে।
মা আমাকে মাঝে মাঝে তার জীবনের পাঁচালী শোনান। আমার মায়ের এখন এই বয়সে এসে দেখি জীবন সম্পর্কে শুধু অভিযোগ, কি পেলেন আর কি পেলেন না, কি হতে পারত কি হল না ইত্যাদী। জ়ীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে সারাদিন হিসেব কষেন, আমার মন একজন বয়স্ক মানুষের মত তখন মাকে সামলায়।
কখনো কখনো আমার এই মন দেহ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে আবছায়া সেই স্বপ্ন পুরুষের হাত ধরে, চলে যায় দূরে কোন সবুজ বনে বা ছোট্ট পাহাড়ে কিম্বা সমুদ্রের পাড়ে। সমূদ্রের নীলাভ পানিতে ভাসায় মন পবনের নাও। কখনো নীল জোছনা গায়ে মেখে সাজে নীলাভ রহস্যময়ী, আবার বালুচরের সোনারোদে সোনালী সোহাগী! গাঁয়ের লাজুক কুলবধু কলসি কাঁখে পানির ছলাৎ ছলাৎ নুপুর বাজ়ায় কিম্বা রুপকথার কোন রাজার পাট রাণী, মেঘের দেশের মেঘকন্যা বা রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়িকা ।
মনটা কিন্ত মাঝে মাঝে বড়ই হিংসুক, কারো একটা সুন্দর শাড়ি, সুন্দর বর, খুব সুন্দরী মেয়ে, বেশী সুখ, ভাল বন্ধু দেখলে হিংসা করে। সব কিছুতেই আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, পছন্দমত কিছু না হলে ভীষণ বেঁকে বসে, অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদী হয়। খুব আবেগ প্রবণ এই অভিমানী মনকে নিয়ে আমার যত জ্বালা ছোট ছোট কথায় সে ভীষণ দুঃখ পায়।
আশে পাশে কষ্টে থাকা মানুষদের দেখলে সে কষ্ট পায়, বন্ধু বান্ধব আত্নীয় স্বজনের দুঃখ দূর্দশায় ডুকরে কেঁদে উঠে। রুঢ় বাস্তব তাকে শৃংখলিত করে, মরার আগে তাকে মেরে ফেলতে চায়। কিন্ত তাতেই কি চঞ্চলা বেয়াড়া মন থামে, সে ধেয়ে চলে ঝর্ণা ধারার মত আপন গতিতে, বৃষ্টিতে ভেজে, নদীর মত ঢেঊ তুলে এগিয়ে চলে, খুঁজে ফেরে তার মনের মত মন। পাগল এই মন, পাখির মত ঊড়ে, প্রজাপতির মত রঙ্গিন পাখনা সাজায়, হাসতে দেখলে হাসে, ভাসতে দেখলে ভাসে, নাচতে দেখলে নাচে, বাঁচতে দেখলে বাঁচে।
কত্ত রংঢং যে জানে এই মন, তার গল্প মাঝে মাঝে তোমাদের শোনাব, আজ শুধু ভুমিকা দিলাম, আসলে মনের রং রংধনুর সাতরংকেও হার মানায়। তাই গুন গুন করে মনের ভিতর বেজে উঠে
মন হাওয়ায় পেয়েছি তোর নাম
মন হাওয়ায় হারিয়ে ফেললাম
(মন নিয়ে লেখা খুব সুন্দর কোলকাতার ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর এই গানটা)





আপনার লেখা অসাম লাগে।
লাগলে কি বলবো?
হাওয়া দিবে ছেড়া স্যান্ডাল, ভুল ঠিকানা
মন রে হলুদ আলয় হাওয়ার আবির মাখলাম ক
এ হে হে হে হে হে এহ
মন আলেয়া পোড়াল খালি হাত
মন জাগেনা জাগেনা সারা রাত
প্রতিটা লাইন অসম্ভব ভালো লাগলো। বিশেষ করে..
আসলেই, কত রঙ ঢং যে জানে আমাদের এই মন
আসলেও খুব রঙ্গিলা আমাদের এই মন
মন বুকের ভেতরে যে নরম
মন ছুঁয়ো ছুঁয়ো না এরকম
ছুঁয়ে দিলে কুড়ে কুড়ে খায় সোনা পোকা
জটিল বলেছেন।
==============================
আপনারে এই অধ্ম একটা মেসেজ পাঠায়ছিলো।দেখেছেন কি?
ধন্যবাদ রাসেল ভাইজান
আমি লেখার চেষ্টা করছি, সম্ভবত আপানাকে দিতে পারব
আপনার লেখার আমি সব সময়ই ভক্ত। আপনি আপনার মনের চিন্তাভাবনা/ কল্পনাগুলো খুব চমৎকার করে সহজভাবে ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন। আপনার এই গুণটা আমাকে মুগ্ধ করে। ভালো থাকবেন।
সহজভাবে প্রকাশ কি মানুষ পছন্দ করে? সাহিত্য মান বিচারে সেটা কিন্তু কোন লেখা হয় না, আপনার ভাল লাগল জেনে আমারো ভাল লাগছে
অনেক ধন্যবাদ
লেখা ভালো লাগে। তার থেকে ভালো লাগে অনুভূতির অকপট প্রকাশ।
আরো ভালো লাগবে যদি ঝটপট টাইপোগুলো ঠিক করে ফেলেন। জলদি -
ভাই খুশী হব যদি আপনি আমার টাইপোগুলো ধরিয়ে দেন, আসলে আমি বানানে খুব কাঁচা। কিছু শিখব বলেই ব্লগে আপনাদের সাথে লেখা শেয়ার করা। কিছু মনে না করলে ভুলগুলি ধরিয়ে দিলে খুব খুশী হব আর উপকৃত হব।
সুন্দরী !
তোমারে মিস করি।
পরশুর আড্ডাতেই বলছিলাম-
কতদিন তোমার লেখা দেখিনা...
মন আর শরীর বিষয়ক জটিলতা- বালা পাইলাম !!
জসিম্বাই রক্স
জসিম্বাই রক্স
জসিম্ভাই লীনাপারে মিসায়।
জয়িতা
জসিম্বাই রক্স
আর রায়হান ভাইর পক্স;
আর জয়িতার কি !!
জসিম্ভাই লীনাপারে মিসায় বুঝলা কেমনে।
জসিম্বাই রক্স
তাতে আপনার হইছে কি পক্স?
সুন্দরী !
!!!! 

( 

আমারে মিস করলে মিস কল দিতেন!
পরশুর আড্ডা দিলেন আমারে কইলেন না
কতদিন লেখা দেখেন না...! আমারে দেখনের ইচ্ছা নাই??????
মন আর শরীর বিষয়ক জটিলতা বালা লাগলেই বালা
ভালো লাগছে মনের গল্প। চলুক ...
আপনার ভাল লাগছে শুনে আমারো ভালা লাগতাছে
মন এমনই ফুরফুরা তরুণীই থাকুক সুন্দরী
তরুণী !!!!!!!
সুন্দরী!!!!!
বাইচা থাক বইন !
মন সবসময় ফুরফুরা ,

পর্লাম
জ়ানলাম
মনের গল্প! এই রকম পিচ্চি পিচ্চি ভাবনা গুলো পড়তে ভালু পাই।
থান্কু থান্কু থান্কু !!!!
মনের মিল আছে দেখা যায়। আরো গল্প শোনান দেখি আর কি মিল পাই।
মনের মিল!!!
মায়াবতী, আমিও খুব মায়াবতী এটাও মনের মিল
আরো গল্প আছে শোনাব দেখ কি মিল পাও।
আমরা বন্ধুতে ব্লগিং এর একটা অসুবিধা আমার প্রথম থেকেই চোখে পড়ছে, দেখি তোমরা কেউ এ বিষয়টা নিয়ে কিছু বলো না, তাই আমিও উল্লেখ করিনি।
এখানে সবাই শুধু প্রশংসা করে যা একজন লেখকের জন্য যে সাহিত্য করবে বলে লেখালেখির জগতে এসেছে তার জন্যে খুবই ক্ষতিকর।
সমালোচনা দরকার তা না হলে নিজেকে অতি মূল্যায়নের সম্ভাবনা থেকে যায় প্রবলভাবে।
প্রত্যেকে প্রত্যেকের পিঠ চাপড়াচ্ছে। স্বাস্থ্যকর না বিষয়টা........
ছোট লেখা পড়ে আরাম পেলাম
আপনার লেখা অসাম লাগে।
মন্তব্য করুন