ইউজার লগইন

টোকাই'এর ব্লগ

নিউইয়র্কের সামার

বলা যায় নয় মাস শীতের শহর নিউইয়র্ক।হাড় কাঁপানো শীতের পর বসন্তের আমেজ একটু খানি দিয়েই অনেক প্রত্যাশিত গরমের দেখা মিলে জুন মাসে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে এই শহরের মানুষেরা অল্প দিনের এই সামারের জন্য।সামার আসলেই ঝকঝকে রোদের তাপ যেমন বাড়তে থাকে এই শহরের মানুষগুলিও হাসি খুশি আর আনন্দে মেতে উঠে।

পুরো শীতকাল জুড়ে সব গাছ গুলি ন্যাড়া হয়ে কঙ্কালের মত সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তা ঘাটে প্রয়োজন না হলে মানুষ খুব কম বের হয় , বরফ জমে পিচ্ছিল হয়ে থাকে সব কিছু। অনেক শীতের কাপড়, টুপি, মাফ্লার, মোটা জুতা, মোজা অনেক কিছুর ভিতর নিজেকে লুকাতে হয়, আকাশ হয়ে থাকে প্রায় সময় গোমড়া মুখে। যখন তখন শুরু হয়ে যায় হীম শীতল বাতাস কিংবা বরফ পড়া।এই সময়ে ঠেকায় না পড়লে ঘর থেকে বের হতেই ইচ্ছা করেনা। যদি জীবিকার প্রয়োজন না হত তাহলে আমি এই সময়ে ঠিক দেশে গিয়ে কাটিয়ে আসতাম, কিন্তু উপায় নাই গোলাম হোসেন।

বিড়ম্বনা

এখন এটা করে কিনা জানিনা কিন্তু আমাদের ছোটবেলায় হাইস্কুলের টিচাররা এস,এস,সি পরিক্ষার ফর্ম ফিল আপ করার সময় আমাদের অভিবাবকদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের জন্ম তারিখ আসল থেকে কমি্যে দিতো, কারন হিসেবে দেখানো হত সরকারী চাকুরির ক্ষেত্রে এটা হেল্প করবে,ভাল কথা। দুঃখের বিষয় হল ওই টিচাররা সবাই এতই বেকুব আর মাথামোটা ছিল যে কোন চিন্তা ভাবনা না করেই সবার জন্মতারিখ করে দিতো জানুয়ারীর পহেলা দিন , যেমন ০১-০১-০০। এখনএ

এখন যদি একই পরিবারের দু ভাইবোন বা চাচাতো, খালাতো ভাইবোন একসাথে পরিক্ষা দেয় সেক্ষেত্রে তাদের সবার জন্মদিন একদিনে হয়ে যাচ্ছ সবার জন্মদিন যদি এক হয় তাহলে চাকুরির ক্ষেত্র ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহা ঝামেলার সৃষ্টি হয়। বিসেশ করে বিদেশে এটা অনেক অস্বস্তিকর অবস্থার ভিতর ফেলে দেয়।

অনুতপ্ত

তখন মগবাজার মোড় থেকে সূর্যসেন হল পর্যন্ত রিক্সা ভাড়া ছিল ২টাকা। মাসের শেষে খরচের টাকা আনতে বাসায় গেলাম। ্বন্ধুদের মধুর ক্যান্টিনে অপেক্ষা করতে বলে আমি বাসায় রওনা দিলাম। ২ টাকাই ছিল, তাই নিশ্চিন্তে ভাড়া জিজ্ঞেস না করেই রিক্সায় চেপে বাসার সামনে এসে ২ টাকা বের করে দিলাম। রিক্সাওয়ালা আরো ৫০ পয়সা চাইলো। এমনিতে পকেটে আর কোন ফুটা পয়সাও ছিল না তার উপর ভাড়া বেশি চাওয়াতে মাথা বিগড়ে গেলো। ঠাস করে একটা চড় দিয়ে আমি বাসায় ঢুকে গেলাম। একটু পর বাইরে হৈ চৈ শুনে বারান্দা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি ২০/৩০ জন মানুষ, সবাই রিক্সাওয়ালা খুব চিৎকার করে আমাকে বের হতে বলতেসে।ঢাকা বিস্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দল বেঁধে ঘুরা টগবগে ভয় ডরহীন যুবকের মনে বিশাল ভীতি জন্মালো এই ভেবে যে বাসা থেকে কেমন করে বের হব, বের হলেই তো পিটিয়ে ভর্তা বানিয়ে দিবে।

অপেক্ষায়

সবকিছুতে খুব বেশি বাড়াবাড়ি দেখতে দেখতে বড় বেশি ক্লান্ত, বিরক্ত, আশাহীন।
কবে এসব খেলা শেষ হবে আমাদের দেশে। সবাই এখন অনেক বড় মাতবর।
শুধু সরকার আর বিরোধীদল নয়। এই মাতবরিতে এখন অংশগ্রহন করছে সুশীল সমাজ নামের ভন্ডরা, অবসরপ্রাপ্ত রা, সাংবাদিক রা, কে নয়?
তাই আজকাল আর কারো কোন কথাই বিশ্বাস হয়না, সবাইকে মনে হয় ভন্ড আর মিথ্যাবাদী।
নেতাদের কথা, সুধীজনের কথা , স্বপক্ষের , বিপক্ষের সবার কথা শোনা হয়ে গেছে। সব ভেল্কিবাজি। আমি এসব বুঝি। নির্লজ্জ আর চরম বেহায়া হয়ে গেছে সবাই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আর ক্ষমতায় যাবার আকাঙ্খায় দল্ গুলি বেপরোয়া। আর আমাদের দেশের বোকা সোকা নাকি অতি চালাক মানুষগুলি এদের পিছনেই ঘুর ঘুর করছে, অন্য কথা ভাবছে না, কিংবা বিগড়ে যাচ্ছেনা সব কিছু বুঝেও।

এলোমেলো কথা

ছোটবেলায় নামায পড়া, আরবী পড়া এসব বাধ্যতামুলক ছিল আমাদের বাড়িতে।
ছোটদের জন্য রোযা রাখা বাধ্যতামুলক না হলেও আমি রাখতাম কারণ বাড়িতে যারা রোযা রাখতো তাদের জন্য অনেক মজা'র খাবার তৈরি হত, আর যারা রোযা রাখতো না তাদের খেতে হত আগের দিনের বাসি খাবার, তাই ভাল খাবারের লোভেই সব সময় রোযা রাখতাম।

যুদ্ধের সময় আমরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেলাম সবাই। তখন নতুন নতুন এক অভিজ্ঞতা হল। মসজিদে ইফতার করলে অনেক রকমের ইফতার, সরবত, মিষ্টী, বিরিয়ানি এসব খাওয়া যেতো।
তাই আমি কখনোই মাগরেবের নামাযের সময় মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও থাকতাম না,যদি ইফতার মিস হয়ে যায় এই চিন্তায়।

সেই থেকে রোযা রাখার অভ্যাস আর নষ্ট করি নাই, যদিও নামায পড়ার বেলায় আমি অনেক অলস। আমার দুই ছেলে আমার স্ত্রী'র বদৌলতে ভিন দেশে জন্ম নিয়েও নামায রোযা আর হালাল খাবারের প্রতি যত্নবান। তবে আমি খুব খেয়াল করি আর সব সময় ছেলেদের বলি যেন ওরা স্কুলে কিংবা অন্য কোথাও কোন ধর্মিয় আলোচনায় অংশ না নেয়। কারণ অনেক কিছু হতে পারে।

দেশ প্রেমিক

আমি যুদ্ধ দেখি'নি। গল্প শুনেছি। শুনেছি ওরা নাকি অনেক খারাপ ছিল। আমাদের কোণঠাষা করে রাখতো। অনেক ছোট ছিলাম, কোন স্মৃতি নেই তখনকার সময়ের।স্বাধীন দেশে বড় হয়েছি। দেশের নাম করা সরকারী স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলতে গেলে একরকম বিনে পয়সায় পড়াশুনা শেষ করার সুযোগ পেয়েছি ( বেতনের পরিমান খুবি কম ছিল)। দেশের

স্বাধীন দেশে বিনে পয়সায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি (যা কিনা পৃথিবী'র আর কোন দেশে আছে কিনা আমার অন্তত জানা নাই) নিয়ে দেশ ছেড়ে নিজের জীবন আরো সুন্দর করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়ে দেশের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম।বিদেশে আছি , ভাল কামাই, ভাল থাকি, আর ফেসবুকে জ্ঞ্যান গর্ব স্ট্যাটাস লিখি। দেশ আমাকে সব কিছুই দিলো বিনে পয়সায় কিন্তু আমি কিছুই দেই না তার বিনিময়ে। আমি প্রয়োজন হলে হুন্ডি করে টাকা পাঠাই, সোনালী একচেঞ্জে যাইনা, হুন্ডি করলে বেশি লাভ পাওয়া যায়।

আমি দেশের জন্য কিছু করিনা, নিজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি , আর তাই বিদেশে বসেও দেশের রাজনিতি;র সাথে সম্পর্ক রাখি যদি কখনো কাজে লেগে যায়।

হারানো সেই দিনের কথা

যেই দিন চলে যায় পরে সেটাই অনেক মধুর মনে হয়। মনে হয় যদি ফিরে পেতাম সেই দিনগুলি।
আজকাল্কার কান্ডকলাপ আমার কাছে মনে হয় যেন বাস্তব কিছু নয়। যেন কোন হীরক রাজার গল্প টাইপ মুভি দেখছি হলে বসে। ভাল লাগেনা। যেহেতু আমিও একজন সচেতন নাগরিক তাই মনে কষ্ট পাই। দূর দেশে বসে অন লাইন আর টি,ভি'র বদৌলতে দেশের সব খবর পেয়ে যাই সাথে সাথেই।
বিশ্বাস হতে চায়না, মন মানেনা, তবুও জানি এটাই সত্যি।

তাই বসে বসে ভাবি, ইস যদি এখনকার দিন গুলি আগের মত হত!
মানুষ মানুষকে কুপিয়ে মারতো না, অনেক মিত্থ্যাচার ছিলনা, পারস্পরিক সন্মানবোধ অনেকটাই বজায় ছিল। ধর্ম নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি ছিল না। ধার করা কোন সংস্কৃতি নয় বরং আমাদের নিজেদের যা আছে তাই নিয়ে খুশি থাকা।
দেশ একটাই, জাতিও একটা। কিছুটা মত বিভেদ থাকবেই, কিন্তু তাই বলে স্বপক্ষে আর বিপক্ষে বলে জাতিকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়ে কি আনন্দ, বুঝি না।
আচ্ছা, আমরা আসোলে কবে মানুষ হব, কেউ বলতে পারেন?