ইউজার লগইন

টোকাই'এর ব্লগ

রোযার মাসের হাল চাল

নিয়মিত নামায না পড়লেও ছোটবেলা থেকেই কেন জানিনা আমার রোযা রাখার অভ্যাস হয়ে গেসে। আর সেই অভ্যাস দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও বাদ যায় নাই। দেশে থাকার সময়ে ঘটা করে সেহরি খাওয়ার ব্যাপার ছিল। কিন্তু এখন আর সেহরি খেতে পারিনা। সন্ধ্যা রাতেই যা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি । আর ভোর রাতে উঠা হয়না।

বাচ্চাদের স্কুল সামারের দীর্ঘ বন্ধ। ওরা সবাই দেশে চলে গেসে রো্যার শুরুতেই। আমি মনে মনে প্ল্যান করসিলাম, থাক খাওয়া দাওয়ার কষ্ট হবে, তাই এবার আর রোযা করবো না। আর এমন ভেবে প্রথম দুই রোযা রাখি নাই। আমি কোন বিশাল ধার্মিক মানুষ নই, বরং ওসব পালনের বেলায় চরম অলস। কিন্তু রোযার মাসে রোযা না রাখলে এত খারাপ কেন লাগে আমি বুঝি না। নিজেকে খুব অপরাধি মনে হয়।

বন্ধুরা / ভাবীরা ফোন করে ইফতারের দাওয়াত দেয়। কিন্তু ইফতার খেতে কারো বাসায় যেতে আমার মহা আপত্তি । কাজের যায়গায় প্রথম দুই দিন রোযা না রাখাতে লাঞ্চ কিনতে যেতে হোলো। কিনে ফেরার সময় রাস্তা'র আফ্রিকান মুসলমান হকার যে কিনা আমাকে দেখলেই প্রতিদিন হাত তুলে বিশাল হাসি দিয়ে বলে "হাও আর ইউ মাই ব্রাদার।

যে কথা বলা হয়নি

আড্ডাবাজ আর ভবঘুরে ছেলেটির হটাত নাজনিনকে দেখেই ভাল লেগে গেলো, যা কিনা তার চারিত্রিক বৈশিষ্টের বিপরিত।
বাংলা ডিপার্টমেন্টের মেয়ে নাজনিন আর দশটা মেয়ের চেয়ে ভিন্ন । ছিপ ছিপে লম্বা, সব সময় চুড়িদার সালোয়ার কামিজ আর পাতলা চটি স্যান্ডাল পায়ে, কাঁদে চটের ঝোলা ব্যাগ, সামান্য প্রসাধন আর লম্বা বিনুনি সব মিলিয়ে অদ্ভুত সুন্দর যা দেখলেই মন ভাল হয়ে যায় এমন কিছু।চরম আড্ডাবাজ,নিজের সম্পর্কে উদাসিন যুবক তার দৈনন্দিন জীবনের রুটিন ভুলে যখন তখন বাংলা বিভাগের বারান্দায় ঘোরাঘুরি শুরু করে, অপেক্ষায় থাকে কখন নাজনিন পাশ কাটিয়ে যাবে। ছেলেটির তখন আর কিছুই ভাল লাগেনা, শুধুই নাজনিন কে দেখতে ইচ্ছা করে, দেখলেই বুকের ভিতর ধুক পুক আওয়াজ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু সাহস করে আর বলা হয়ে উঠেনা নাজনিন কে নিজের পছন্দের কথা।

ভিন্নমত

৪/৫টা পৌরসভার নির্বাচনে জিতে বিএনপি নিজেদের খুব জনপ্রিয় ভেবে নিজেরাই নিজেদের পিঠ চাপড়াচ্ছে আর ভাবছে জাতীয় নির্বাচনেও বিজয় সুনিশ্চিত। আসল ব্যাপার দেশের মানুষ যেমন জানে ,ওরাও জানে।এটা কারোই জনপ্রিয়তার ফল নয়, এটা দিশেহারা মানুষের খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টার বহিঃপ্রকাশ।

স্বাধীনতার পর থেকেই সব কয়টা সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে যখুনি নির্বাচন হয়েছে মানুষ বিরোধি দলকে ভোট দিয়ে স্বস্তি পেতে চেষ্টা করেছে। এটা কারোই জনপ্রিয়তার কারণে নয়, যদিও মানুষ খুব ভাল করেই জানে যে যারা ক্ষমতায় আসছে তারা মোটেও ধোয়া তুলসি পাতা নয়, তবুও মন্দের ভাল এটাই ভাবার চেষ্টা করে।

আজ যারা বিরোধি দলে আছে ওরাই পাঁচ বছর আগে ক্ষমতায় ছিল । চুরি ডাকাতিতে আমাদের দেশের রাজনিতিবিদরা বিশ্বের নাম করা। সেটা যেই হোকনা কেন। অতীতের রেকর্ড ভুলে গিয়ে নতুন করে আবার ক্ষমতায় যাবার আশায় যখন হৃদয় স্পর্শি বক্তৃতা দেয়, আমি অবাক হয়ে ভাবি , এরা কি সত্যি রক্ত মাংশের স্বাভাবিক মানুষ নাকি কান্ড জ্ঞ্যানহীন দানব !

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম

জীবনে অনেকদুর পাড়ি দিয়ে এসে আজ যখন পিছনে ফিরে তাকাই আর জাবর কাটি তখন মনে হয় আহা, কতই না সহজ আর সুন্দর দিনগুলি ছিল।যদি ফিরে পাওয়া যেতো সেই দিন গুলি ,কতই না ভাল হত !

তখন মনে হত , ইস কেন আরো তাড়াতাড়ি বড় হচ্ছিনা, লেখা পড়া শেষ হচ্ছেনা, বিদেশ যেতে পারছিনা কেন? আর এখন মনে হয় যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ।

ছেলেবেলায় অল্প কিছু পেলেই মনের ভিতর একটা অন্যরকম আনন্দের অনুভুতি হোতো, যেটা এখন অনেক বড় কিছু পেলেও আর হয়না। সখের জিনিস জমানোর শুরু হয় বিদেশি সিগারেটের প্যাকেট জমানো দিয়ে।

বনানি আর গুলশানের দুতাবাস আর বিদেশীদের আবাসিক বাসাগুলির আশে পাশে খুজে বেড়াতাম সিগারেটের প্যাকেট , পেয়েও যেতাম, তখন কাগজের ঠোঙ্গার নীচের সাপোর্ট দিত সিগা্রাটের প্যাকেট দিয়ে আর তাই বাসায় বাজার আনলে সব ঠোঙ্গা উল্টায়ে দেখতাম নতুন কোন সিগারেটের প্যাকেট আছে কিনা। নতুন কিছু পাইলেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাইতাম।

একজন সিরাজ ভাই

আমার খুব বড় অসুখ বিশুখ হয়না , এই হাল্কা পাতলা ঠান্ডা লাগে, সর্দি, কাশ্‌ হাঁচি এসব হয় এ্রর বেশি সিরিয়াস কিছু না।

এমনিতে আমি হাল্কা পাতলা, কখনোই বেশি মোটা হই না যতই খাই না কেন, কিন্তু বেশি বসে থাকলে এই চিকন শরীরের ভিতর একটা পেট বের হয়ে যায়, খুব দৃষ্টিকটু ব্যাপার। পেট যাতে বের না হয় তাই একটু হাটা হাটি করি পার্কে গিয়ে। অসুখ না থাকলেও বয়স বাড়ছে, বন্ধু দের অনেকের খবর পাই হটাত করে হার্টের সমস্যা নিয়ে দেশ বিদেশের হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে, ওপেন হার্ট করতে হয়েছে কয়েকজনের, আর ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার এসব তো খুব কমন ব্যাপার সবার ।সকাল বিকাল এক গাদা ট্যাব্লেট খায় সবাই ।

শুনেছি পরিবারের কারো কঠিন অসুখের ইতিহাস থাকলে নাকি সেটা পরের জেনারেশনের উপর আছর করতে পারে। তাই নিয়ম করে বছরে ২ বার ডাক্তারের কাছে যাই সব পরিক্ষা করে দেখতে যে যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা, আচমকা যেন বড় ধাক্কা না খাই। জীবনের প্রতি কার না মায়া আসে কন ? আর নিজেরে নিজে সবাই সব চাইতে বেশি ভালবাসে আর আয়নায় বার বার দেখে এটা হয়ত কেউ স্বীকার করেনা, কিন্তু সত্যি কথা।

সিগারেট সমাচার

এ বছরের গরমকাল কেমন জানি ফাজলামি করতেসে আমার সাথে খুব। ২ দিন ফাটা ফাটি গরম পড়ে আবার তাপমাত্রা নেমে যায় ধুম করে, দিনের বেলায় অনেক গরম আর রাতের বেলায় রিতিমত লেপ গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। এত বছরের বইদেশ জীবনে এমন অবস্থা আর দেখি নাই। জুন মাস এলেই গরম হয়ে যায় সব কিছু, সব কিছুই পাখনা মেলে বের হয় আড়াল থেকে, নারী পুরুষ সবাই শরীর দেখানোর প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয় যেন, তাতে আমার কোন ই আপত্তি নাই। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া এমন একটা ভাব নিয়া দেখে যাই।

বিজ্ঞাপন বার্তা

দেশের টিভি চ্যানেল দেখি আমি খুব। আর মজার ব্যাপার হল এইসব চ্যানেল এ মুল অনুষ্ঠানের প্রতি আমার আগ্রহ খুব কম। মানে আগ্রহ কমে গেছে কারন গতানুগতিক জিনিস হয় যেন ভাড়া করা মানুষ নিয়ে এসে কারো গুন গান শোনানো টক শো নামক অনুষ্ঠাণ গুলিতে, গানের অনুষ্ঠান গুলিতেও খুব কম পাই কাউকে যার গান ঘন্টা ধরে শুনতে ইচ্ছা করে আর খবরে তো দেখার কিছুই নাই কারণ ওখানে থাকে শুধুই সূয়োরানী আর দূয়ো রানীর কিসসা কাহিনী আর বক্তিমা , দেখলেই মনে হয় বলে উঠি " আ জাইগা ", কারন আমার খালি মনে হয় আমি যেন বাংলা সিনেমা দেখছি ।

অনেকদিন আগের কথা, তখন বাংলা সিনেমায় রানী সরকার নামের একজন ভদ্রমহিলা অভিনয় করতেন যিনি বেশিরভাগ ছবিতেই সৎ মা, চাচী কিংবা মোড়লের হিংসুক বউ এই ধরনের চরিত্রে, ওনার অভিনয় এতই নিখুত হত যে মনেই হত না সিনেমা দেখছি , যেন বাস্তবে কিছু দেখছি আর ইচ্ছা করত ওনাকে ধরে ওখানেই পিটাই, এতটাই বাস্তব সম্মত অভিনয় ছিল।

আমি ও আমার বিশ্বাস

এখন আর কোন খবরেই মনের ভিতর আগের মত সেই ফুরা ফুরা ভাব আসেনা। আগে যেমন যেকোন ছোট খাট ভাল খবর শুনলেই মনের ভিতর শিহরন জাগতো, এখন চারিদিকে এত বেশি অন্যায় অবিচার আর কাঠ খোট্টা মনোভাব দেখে সত্যি খবর ও বিশ্বাস হতে চায়না, আমার কি দোষ!

দেশের পত্র পত্রিকায় যদি দেখি কেউ খুব অসুস্থ হয়ে সাহায্য চেয়ে একেবারে ব্যাঙ্ক একাউন্ট নাম্বার ও একাধিক মোবাইল নাম্বার দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় , দেখে আগে মনে হত আহারে সত্যি ই মনে হয় মানুষটা অনেক অসহায়, আর এখন মনে হয় এটা নিশ্চয় ই ফাও পয়সা কামানোর কোন ফন্দি। কে জানে হয়তো সত্যি কেউ অসুস্থ আর নিরুপায় হয়ে এমন বিজ্ঞাপন দিয়েছে কিন্তু যেহেতু এমন বিজ্ঞাপন ভন্ডরাও দিয়ে থাকে তাই মানুষ আর আজকাল কোনটাই বিশ্বাস করেনা। আর বিশ্বাস হবেই বা কেমন করে?

প্রকৃতি প্রেম

একদিন নিউইয়র্ক টাইমস এ একটা খবর চোখ আটকে গেলো। একটু ব্যতিক্রমধর্মী মনে হয়াতে
খবরটা ভাল করে পড়লাম।এটা মনে হয় ১৯৯৪/৯৫ সনের সামারের কথা। খবরটা ছিল এমনঃ
" গাছের কাছে যুবকের ক্ষমা প্রার্থনা"

ম্যানহাটানের সেন্ট্রাল পার্কে এক যুবক বাইক চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে গাছের সাথে তার বাইক্ টা চেইন দিয়ে বেঁধে পাশের বেঞ্চে ঘুমাচ্ছিল। পার্ক পুলিশ এসে যুবক কে ডেকে তুলে জিজ্ঞেস করল যে বাইক টা তার কিনা, জবাবে যুবক হ্যাঁ সুচক মাথা নাড়লে পুলিশ তাকে হাতকড়া পড়িয়ে পার্ক প্রিসেন্টে নিয়ে যায়। এই দেশে গাছ পালা পশু পাখির ব্যাপারে মানুষের সহানুভুতি এবং আইনের প্রয়োগ খুব কঠিন।

যুবক তার ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে পার্ক কমিশনারের কাছে আবেদন করে।পার্ক কমিশনার ছিল তখন এক প্রকৃতি প্রেমিক রসিক আর কট্টর ইহুদি বুড়ো।বুড়ো সেই যুবক কে পার্কের সেই গাছের কাছে নিয়ে গেলো, তারপর সবার উপস্থিতিতে গাছকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বললো।
যুবক তাই করলো এবং পরবর্তি ৬ সপ্তাহ অই যুবক্ কে স্বেচ্ছায় পার্ক পরিচর্যার জন্য সময় ব্যয় করতে হল।তারপর তার আইনের বেড়াজাল থেকে নিস্কৃতি মিললো।

আমি

প্যাল্ টকে চ্যাট করতাম অনেকদিন ধরে, কিন্তু মজা নষ্ট হয়ে গেসে। ফেসবুকে গেলাম, কিছুদিন ভাল লাগ্লো, সবাই ছবি আপ্ লোড করে আর স্ট্যাটাস দেয়, আর গাছের আগায় আল্লাহু লেখা দেখা গেসে, তাই ওখানে খালি লাইক দিতে বলে, বিরক্তিকর। তাই আর ফে বু ভাল লাগেনা। লেখা লিখি জীবনেও করি নাই, এক আদটু পড়ার অভ্যাস ছিল। হটাত খুঁজে পেলাম এই ব্লগ।

এসেই কিছু না বুঝেই কারো অন্যমতি না নিয়ে, কারো সাথে পরিচয় না হয়ে ধুম ধাম করে কিছু লিখে ফেললাম ভুল ভাল অর্থহীন কথা বার্তা। ওমা আমাকে প্যাল টক বা ফেসবুকের মত কেউ বাঁকা চোখে (যেটা আমাদের দেশের জাতিয় চরিত্র) না দেখে দুই চার জন সহৃদয় ব্যাক্তি উতসাহ দিয়ে কমেন্টস দিলো, দেখে তো আমি বেশ ফুলে ফেঁ[পে গেলাম। মনে হল বাহ, এখাঙ্কার মানুষগুলি অদ্ভুত ভালো তো। সাহস আরো বেড়ে গেলো।

কিন্তু অবাক হচ্ছিলাম, এত কম লেখা আসছে কেনো, আর মানুষ জন কই? পরে আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম, মানুষজন এখানে অনেকেই আছে, হয়তো কোন কারনে কম লিখছে অনেকে।

হাবিজাবি

আরাফাত শান্ত'র দিনলিপি পড়ে আমি এলোমেলো হয়ে যাই।ফিরে চলে যাই অনেক পিছনে যখন আমিও ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় টোকাই'র মত ঘুরে বেড়াতাম মনের আনন্দে।আসোলেই শান্ত আপনি আমাকে মনে করিয়ে দেন আমার অনেক প্রিয় সেই দিনগুলির কথা।

প্রতিবছর নভেম্বর এলেই আমি দেশে যাবার জন্য ব্যাগ গুছাতে শুরু করি।নভেম্বরে যাই কারণ তখন একটু শীত শীত ভাব আসে দেশে, অনেক আরাম লাগে , বিশেষ করে গ্রামে গেলে ভোরের কুয়াশায় ভিজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটতে।খেজুরের রসের সিরনি , চাদর মুড়ি দিয়ে উঠোনে চুলার পাশে বসে গরম গরম হাঁসের মাংশ আর খোলা পিঠা খাবার কথা মনে হলেই আবার ছুটে যাবার জন্য পাগল হই।এবার যেতে পারবো কিনা জানিনা ।

পরাধিনতা থেকে মুক্তি চাই

এই ব্লগের সুন্দর মনের মানুষগুলির লেখাগুলি পড়লে মনে হয় সবাই কম বেশি বিরক্ত দেশের অবস্থায়। খুব ভাল লাগে এই সচেতন মনোভাবে। এমন মনোভাব যদি দেশের বাকি মানুষগুলির হত তাহলে মনে হয় এত অন্যায় অবিচার দেশে হতে পারতো না।

কে যেন এই ব্লগে লিখেছিল " দেশের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আর স্রষ্টা দেশ স্বাধীন করে যখন নিজেই একনায়ক হয়ে গেলেন তখন মানুষ সেটা পছন্দ করে নাই, আর তাই দেশের মানুষের হাতেই দেশ স্বাধীনের অল্পদিন পরেই উনি মারা যান। তেমনি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান পরবর্তিতে রাজাকারের পক্ষ নিলে তার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদানও ম্লান হয়ে গেল, আর ওনাকেও প্রান দিতে হল অল্পদিনেই।"

এরশাদ ক্ষমতায় আসার আগে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল, কিন্তু ক্ষমতায় এসে সব ভুলে গেলো। ২০০৮ এর সেনা শাসিত তত্তাবধায়ক সরকার যখন ক্ষমতা নিয়েছিল দেশের মানুষ হাঁফ ছেড়ে খুশিতে আত্মহারা হয়েছিল। ওরা সুযোগ পেয়েছিল ভাল কাজ করে দেশের মানুষের মনে স্থান করে নিতে, যদিও নির্বাচিত ছিল না। শুরুটা ভালই ছিল, কিন্তু অল্পদিন পরেই ওদের মনেও সেই চিরাচরিত লোভ বাসা বাঁধলো আর সেজন্য ওদেরও ধিক্কার নিয়ে বিদায় হতে হল।

বন্ধু - ২

আড্ডাবাজি চলে যখন তখন, ক্লাসের ফাঁকে, ক্লাসের পরে , দিনে রাতে, যখন যেমন ইচ্ছা তেমন। বাঁধা দেবার কেউ নাই, শাসন করার কেউ নাই, কোন নিয়ম কানুনের বালাই নাই। সে যেন এক আদিম উল্লাসের সময় । আজ এত বছর পর মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ কয়টা বছর যেন ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। ভাবি, ইস, যদি আরেকবার ফিরে পেতাম ! তাইলে মনে হয় একদম সব কিছু প্রোগ্রাম করে করতাম যেন কোথাও কিছু বাদ না পড়ে।

বন্ধু

আমার লেখার বয়স হাতে গোনা যায়। বলা যায় মাত্র কয়দিন আগে ফেসবুকে রাসেল এর একটা লেখা পড়ে ওই লিঙ্ক থেকে এই ব্লগে আমার প্রবেশ। এর আগে সত্যি বলতে আমি আর কোন ব্লগ কখনো পড়ি নাই, লেখা তো দুরের কথা। এই ব্লগের সুন্দর মনের মানুষদের অদ্ভুত সব লেখা পড়ে শুধু মুগ্ধ নই, নিজেও কিছু লেখার সাহস পেলাম। যদিও খুব ভাল করে জানি আমার লেখা কিছুই হয়না, তবুও যখন কেউ সেটা পড়ে সুন্দর মন্তব্য করেন অদ্ভুত ভাল লাগে , অনেকটা ছেলের হাতে লাঠিওয়ালা চকোলেট দিলে যেমন খুশি হয় ঠিক তেমন। সত্যি !

যতই ব্যস্ত থাকি মোবাইল দিয়ে হলেও যখন তখন লগিন করে দেখি নতুন কে কি লিখল, নিমিশে পড়ে ফেলি। ভাল লাগে। রাসেল, আরাফাত শান্ত, তানভীরা, আহসান হাবীব, বিষন্ন বাউন্ডুলে আরো কতজন , কি অদ্ভুত সব সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখেন, পড়ি , মুগ্ধ হইআর নিজে কিছু লেখার সাহস খুঁজি। অনেক ভুল ভাল লিখি। সবাই ক্ষমা করবেন প্লিজ।

শ্রেষ্ঠত্তের দাবীদার ধর্মে নয় , কর্মে !

সামার শুরু হলেই নিউইয়র্কে শুরু হয় বিভিন্ন দেশের প্যারেড। আর এই প্যারেডগুলি বেশিরভাগ হয় ম্যানহাটানের ফিফথ এভিনিউতে। ফিফথ এভিনিউ হল ম্যানহাটানের সবচেয়ে দামী জায়গা। সবাই পারমিশন পায়না এখানে প্যারেড করার, শুধু প্রভাবশালী দেশগুলির প্যারেড দেখি এই এভিনিউতে।

আগে থেকে জানতাম না, জানলে আর গাড়ি চালিয়ে আজ ম্যানহাটানে না এসে বাসে ট্রেইনে আসতাম। ব্রীজ পার হয়ে শহরে ঢুকতেই অনেক বেশি বিশেষ পুলিশের উপস্থিতি দেখে ভাবলাম আবার কোথাও কোন সন্ত্রাসী হামলা হোলো কিনা !অমন কিছু হলেই পুরো শহর জুড়ে পুলিশি ততপরতা অনেক বেশি দেখা যায়। আমি যেই রুট ধরে সব সময় যাই, সেই সাইড রোডগুলি সব ব্লক করে রাখা, গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে। মহা ঝামেলায় পড়লাম ! ভয়ে ভয়ে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম কেন রাস্তা বন্ধ, আবার কিছু হইসে নাকি? পুলিশটা হেসে উত্তর দিল, না কিছু হয় নাই , কিন্তু আজ "ইস্রায়েল ডে প্যারেড" হবে ফিফথ এভিনিউতে , আর তাই পুরো শহর জুড়ে ওদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা।