ইউজার লগইন

অন্তঃর্জালকের ইতিকথা

টেলিফোনের পর তথ্য আদান প্রদানের জন্য তথ্য ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানের সবচেয়ে সফলতম আবিষ্কার হল অন্তঃর্জালক বা ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব(world wide web)। আধুনিক অন্তঃর্জালকের আবিষ্কারের পর এর ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি যে পরিমান লাভ করেছে, বয়সের তুলনায় এখনও তা শিশুকালেই রয়ে গেছে। এখন আসুন আমরা এর পিছনের দিকে কি রকমের ইতিহাস আছে তা একটু দেখি....

কিভাবে অন্তঃর্জালকের আগমনঃ

অন্তঃর্জালকের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৬০ সালে প্যাকেট সুইচিং নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের শুরুর মধ্য দিয়ে। এতে প্রেরকের প্রন্তে ডেটা বা তথ্যকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভেঙ্গে অন্য প্রান্তে প্রেরন করা হয়। পরে প্রাপকের প্রান্তে সেটা জোড়া লাগিয়ে মূল ডেটা পাওয়া যেত। এতে ডেটা কে একটি সোর্স বা উৎস হতে একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানো যেত এবং ডেটা পাঠানোর সময় কোন ব্যাঘাত ঘটলে হারিয়ে যাওয়া প্যাকেট আবার পাঠানো যেত। দ্রুত ও নিরাপদ ভাবে পাঠানোর জন্য এতে ডেটা সংকোচন ও এনক্রিপশনের ব্যবস্থা ছিল।
সেই সময়ের কম্পিউটার গুলো ছিল আকারে বিশাল আর গঠন প্রণালী ছিলো সেকেলে। তখন নেটওয়ার্ক বলতে গেলে বুঝা হত মূল বা মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সাথে তার টার্মিনাল বা ইনপুট/আউটপুট সিস্টেম গুলোর লগইন করা। এর সাথে বর্তমান যুগের ক্লায়েন্ট সার্ভার সম্পর্কের মিল আমরা খুঁজে পাই।

ARPANET এর আগমন ও তার পরবর্তি যুগঃ

সবার আগে প্যাকেট সুইচিং নেটওয়ার্ক স্থাপন করে ইউরোপ। এর পর ১৯৬৮ সালে আমেরিকা একইরকম একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় এবং তার পরের বছরে প্রতিরক্ষা বিভাগের Advanced Research Projects Agency (ARPA) নামে কাজ শুরু করে। ARPANET ১৯৬৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রেরক বা ট্রান্সমিশন প্রোটকল হিসাবে Network Control Protocol (NCP) ব্যবহার করেছে। পরে NCP এখনকার দিনে বহুল ব্যবহৃত TCP/IP দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।

এখন প্রযুক্তিকে তার যায়গায় রাখা হল আর তার সামনে রাখা হল বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা। আমেরিকার সামরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার গুলো একসাথে অঃন্তসংযোগ দিয়ে তৈরী করা হল সর্ব প্রথম বড় আকারের অন্তঃর্জালক। খুব সহজ চিন্তা ভাবনা ছিল, যদি সিস্টেমের কোন এক অংশ আক্রান্ত হয় তাহলে যেন বাকী অংশ তাদের কাজ ঠিকমত করে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় মেইফ্রেম পদ্ধতির সমুহ বিপদের কথা চিন্তা বিকল্প হিসেবে এই কাজ করা হয়েছিল। আসলে তখন বিশ্ব পরাশক্তি গুলোর মধ্যে চলছে ঠান্ডা যুদ্ধ আর একে অন্যের উপর পারমানবিক আক্রমনের আশংকা।

প্রথম বারের মত ইমেইল সুবিধা নিয়ে আসে ARPANET। এর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় বুলেটিন বোর্ড সিস্টেমটি ডেভেলপ হয় ৭০ থেকে ৮০'র দশকের মধ্যে। আবার এই সময়ের মধ্যেই আমেরিকার প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলো একটি আন্ত - অন্তঃর্জালকের অধীনে নিয়ে আসা হয়, যার সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো নিজেদের মধ্যে পরীক্ষামূলক তথ্য ও শিক্ষামূলক উপাদান বিনিময় করত। অবশেষে ১৯৭৩ সালে অন্তঃর্জালকের আন্তঃমহাদেশীয় সংযোগ ঘটে ইউনিভির্সিটি কলেজ অব লন্ডন, ইংল্যান্ডের সাথে সংযুক্ত হয়ে।

USENET এর উত্থানঃ

আজ আমরা অন্তঃর্জালকে যত সুবিধা ভোগ করছি তার অন্যতম পুরোধা হল USENET। এর অবদানের কাছে অন্য যেকোন কিছুর অবদান গ্যালিভারের সামনে লিলিপুটের মত। অন্তঃর্জালকে ইনফরমেশন শেয়ারিং এর ভিত স্থাপনের জন্য একে হলমার্ক ধরা হয়। ১৯৭৯ সালকে USENET এর শুরুর সময় হিসাবে ধরা হয়। বাক স্বাধীনতার ব্যাপারে কিছু সামস্যা ও ব্যাক্তিগত সার্ভার বসানো নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পরে একে বেশ কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধন করা হয়। এর জন্য পরে NNTP (Net News Transfer Protocol) নামের নতুন এক সঞ্চালক প্রোটকল ডেভেলপ করা হয়, যা এখনও ব্যবহৃত হয়।

১৯৭০ সালে পার্সোনাল কম্পিউটারের আগমনে সেই সময়ের উন্নয়নশীল অন্তঃর্জালকে আরও অনেক নতুন ব্যবহারকারী এনে দেয়। তারা বেশিরভাগ ইমেইল, Usenet, Bitnet এবং Fidonet এর মত সার্ভিস গুলো ব্যবহার করত। সেই সময়ে অনেক অন্তঃর্জালিক কমিউনিটি গঠিত হয়েছিল। যার ধারা আমরা এখনও দেখছি। ১৯৮৮ সালে আসে ইন্টারনেট রিলে চ্যাট (IRC)।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সদর্প আগমনঃ

আমরা আজকে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি তার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯১ সনের ১লা আগষ্টে। এটি ডেভেলপ করেন Mr. Tim Berners-Lee সাথে সহকারী হিসেবে ছিলেন Robert Caillau। তখন দুই জনই CERN এ গবেষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কাজ কারার সময় Tim দেখলেন যে এমন একটি সিস্টেমের প্রয়োজন যাতে করে দরকারী তথ্য একসাথে বিভিন্ন প্লাটফরমের মেশিনে দেখা যায়। সেখানে তিনি হাইপারটেক্সটের ধারনা উত্থাপন করেন। এর পর বিভিন্ন রকমের গেবষনা চলে একে নিয়ে। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৩ সালে আমরা সর্বপ্রথম পূর্ণ কার্যক্ষম ওয়েব ব্রাউজার মোজাইক কে পাই। এর পর আমাদেরকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই।

দ্রুত ডোমেইন নিবন্ধীকরন সুবিধার জন্য অনেক ওয়েব সাইট আন্তঃর্জালকে আসতে শুরু করে। সেই সথে শুরু হয় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।

শেষ কথাঃ

এখন প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অন্তঃর্জালকের আরও উন্নতি সাধন হয়েছে। শিক্ষা, ব্যবসা, গবেষনা, প্রসাশনিক কাজে, বিনোদনের জন্য এখন ইহা একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচ্য। অন্তঃর্জালকে এখন বিলিয়নের উপর বিলিয়ন পেজ আছে আর প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় হাজারের উপর হাজার যোগ হচ্ছে। অন্তঃর্জালক এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যা এক রকম অবিনশ্বর আর এর এমনও ব্যবহার বান্ধব মানুষ আছে যারা এখন একদিনও অন্তঃর্জাল ছাড়া চলতে পারেনা।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


অনেক কিছু জানলাম।

শাতিল's picture


ধন্যবাদ ভাইয়া। আরও কিছু লেখা আছে যেগুলো এখানে আনার ইচ্ছা আছে।

টুটুল's picture


ঘটনা সেটাই... ওয়েব ছাড়া একদম চলে না :(

সোহেল কাজী's picture


নেটের পেছনে এতো ইতিহাস জানা ছিলোনা। ধন্যবাদ শ্যায়ারের জন্য :)

তানবীরা's picture


অন্তঃর্জালক এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যা এক রকম অবিনশ্বর আর এর এমনও ব্যবহার বান্ধব মানুষ আছে যারা এখন একদিনও অন্তঃর্জাল ছাড়া চলতে পারেনা।

সবটা পড়লাম কিন্তু শুধু ওপরেরটুকু বুঝলাম

শাতিল's picture


হে হে হে আপু এইখানে বুঝাবুঝির কিছুই নাই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শাতিল's picture

নিজের সম্পর্কে

What sense does it really makes to describe the self. I am too honest to lie, and truth if revealed will create havoc. We all have storms inside, and when we describe we only talk about deep sea water which is all calm. It is actually not calm, it is pretending to be calm, and otherwise battle of wind and water cannot be played on the surface.