ইউজার লগইন

সামছা আকিদা জাহান'এর ব্লগ

দ্বীপভূমি

ব্যস্ত খগোশের নিরীহ চঞ্চল চোখ
কাঠবেড়ালী কালো ছাই উষ্ণ লোম
অথবা নিপাট ভদ্রলোক ঘুঘুর পেলব পাখা
হঠাৎ চঞ্চল হয়ে বিস্ময়াভূত।
একি শরতের হাত, ভেঁজা সোঁদা গন্ধ!
সেই চিরপরিচিত , গ্রীবার স্ফীত রক্তনালী।

এখন তো কোজাগরী মৌ জোছনার আবাহন
আলো আধাঁরীর বিস্ময়কর অনুভূতি
লাজুক মুহূর্তে বেদনা আনন্দের খন্ডিত দহন
ঘাসফুলে জড়ানো, তারপর---
দ্বীপময় সবুজভূমি বজ্রাহত।

শরত ভালবাসি তোমাকে
জুঁইয়ের গাঢ় গন্ধ, অলকানন্দা,
কলাবতী, কেয়া ঝোপ আর
বাগান বিলাসের স্বচ্ছতা নয়ে
আমি তোমাকে পেতে চেয়েছিলাম।

চিকলী নদী তীরে গোধূলী বেলায়।

photo0996.jpg চিকলীর পথে।

photo1053.jpg চিকলীর পূর্বের আকাশ।

photo1054.jpg চিকলীর পশ্চীম আকাশ।

Image0477.jpg শ্যামলে শ্যামল গাছ।

Image0478.jpg একি অপরূপ সৃষ্টি।

এবারে প্রান্তরে প্রান্তরে হারিয়ে যাবার পালা।
photo1112.jpg

প্রকম্পিত ভূমি।

দেড়শ বছরের পুরনো বাসভবনের দ্বিতল এর এক প্রান্তে বসে প্রথম আলো পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছিলাম। পত্রিকার একটি পাতা উড়ে খাটের ঐ পাশে পরেছে। সেটা নেবার জন্য উপুর হচ্ছি আর মনে মনে ভাবছি বাচ্চা দুটি তো পাশের ঘরে টিভি নিয়ে ব্যাস্ত। তবে কে এই প্রকান্ড অট্টালিকা কাঁপিয়ে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। উপুর হবার সাথে সাথেই কি যে হলো, পিছনের এক অদৃশ্য ধাক্কায় মাথা যেয়ে আঘাত করলো দেয়ালে। ঊঃ বলার ও সুজোগ পেলাম না। তার আগেই বুঝলাম ভূমিকম্প হচ্ছে।

জানু খবর শুনছিল। এই সময় পৃথিবী উড়ে গেলেও তার টের পাবার কথা না। এই ধারনা ভুল প্রমানিত করে 'ভূমিকম্প ভূমিকম্প' চিৎকার করতে করতে ছোট দুইটা বাচ্চাকে চিৎকার করে বাইরে যেতে বলে নিজেও দৌড়।

আই এ্যাম লোনলি ব্রোকেন এঞ্জেল----

"চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো" গানটা আমার বড় মেয়ের ঘরে বাজছে বার বার। ওর ঘরে উঁকি দিতেই বললো ---মা গানটা কেমন যেন না? মনে হয় শিল্পীটাই বেলাকে প্রান ধরে ডাকছে।
আমি বললাম ---গানটা শুনলেই মনে হয়, যেখান থেকে পারি বেলাকে ধরে এনে ওদের বিয়ে দিয়ে দেই।
আগে তো টেলিফোনে লাইনই পাওয়া যেত না, খালি রং নাম্বার যেত।
---তা হলে তুমি আমাকে মোবাইল ফোন কিনে দাও না কেন?

নিরুত্তর আমি বসে রইলাম পাথরের মত কিছুক্ষন।
---তোমাকে তো ফোন দেব বলেছিই, তোমার বয়স আঠারো হবার পর।

সারাদিন গুন গুন করে গলায় ভাজছি "কজ দিস ইস পিয়র লাভ-"-- মাঝে মাঝে কানে হেড ফোন লাগিয়েও গানটা শুনছি। আমার গান শোনবার বহর দেখে বাড়ির সবার যে চোখ কপালে উঠেছে তা বুঝতেই পারিনি। তাই বলে এটা ভাববার কোন কারন নেই যে আমি গান শুনি না বা মাঝে মাঝে গুন গুন করি না।

একদিন স্বপ্নের দিন---

আসকার আলী। সারা দিন ভিক্ষা করে বেড়ায়। হত দরিদ্র। চৌধুরী সাহেবের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত একখানা ঘর পেয়েছিল এরশাদ মামুর গুচ্ছগ্রামে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই প্রতিদিন সকালে চৌধুরী বাড়ি থেকেই ভিক্ষাটা সে শুরু করে।

অঞ্জলী পেতেছি, জল দাও

অফিসে আসবার সময় মার ফোন এল। মা খুব উদ্বিগ্ন কন্ঠে জানাল ---শোন লাইজুর না হার্ট এ্যাটাক করেছে। খুব ভাল করেই চিনি তবুও জিজ্ঞাসা করলাম---কোন লাইজু?
---আরে ডাঃ লাইজ়ু।
---ও আচ্ছা।
---ওকে ইউনাইটেডে ভর্তি করেছে।
---ভাল তো।
---ভাল তো? কী বলছিস তুই? মিনুকে বলেছি গাড়ি নিয়ে আসতে। আমি হাসপাতালে যাব। লিপি খুব কান্না কাটি করছে। ---করাই তো স্বাভাবিক। ওর তো আর একটা বর নাই।
--- তোর কি হয়েছে? এভাবে কথা বলছিস কেন?
--- ডাঃ লাইজুর হার্ট এ্যাটাকের খবরে খুব কষ্ট পেয়েছি তাই এভাবে কথা বলছি। আমি অফিসে চলে এসেছি মা রাখি। ফোনটা কেটে দিলাম জো্র করেই।

কবে আমরা প্রথম হেঁটেছি সেই স্মৃতি আমাদের কারোরই মনে নেই। যেমন মনে নেই কবে প্রথম নিজ হাতে খেয়েছি বা কবে লজ্জা হয়েছে অন্যের সামনে কাপড় না খোলার। কিন্তু সেই সময়ের একটি স্মৃতি আমার মনে মাঝে মাঝেই ভেসে উঠে।

বৃষ্টি বারান্দা

আমার একটি বৃষ্টি বারান্দা ছিল। বারান্দাই বলবো কারন এর দুই দিক জুড়ে ছিল অর্ধ দেয়াল। অর্ধ ঠিক নয় তার চেয়ে নিচু । আর এর অর্ধেকটায় ছিল ছাদ। সবুজ টিনের ছাদ। একে আমি জোৎস্না বারান্দাও বলতাম। কারন এখানেই আমি জোৎস্নার জলে গা ভেজাতাম। পাশে নিম গাছের ঝিরঝিরে পাতাগুলি অপূর্ব ছন্দ তুলে গুনগুনাতো যখন বাতাস বইতো।

যখন প্রচন্ড বৃষ্টিতে চরাচর ভিজে একাকার তখন আমি বারান্দায় আমার পা ভেজাচ্ছি বৃষ্টির জলে। কারন বাগানে ঘুরে ভিজে ভিজে এক সময় তো ঘরে ফিরতেই হয়। তখন যদি মন মাতানো বৃষ্টি থাকে আমি কেমন করে রইব ঘরে। গভীর রাতে যখন আকাশ ভেঙ্গে নামে তখন আমার মন চলে যায় বারান্দায়, ধীরে ধীরে আমি নিজেই চলে যেতাম সেই বারান্দায়।

ন্যাড়া বার বার বেল তলায় যায়

আমার জানের জান জানুর সব কিছু হাতের কাছে বেড় করে দিলেও সে কিছুই খুঁজে পাবে না যতক্ষন না পর্যন্ত সেই জিনিস তার চোখের সামনে ঝুলানো না হয়। কথাটা একটু বুঝিয়েই বলি। জানু অফিসে যাবে। সে জানে তার কোন জিনিস কোথায় আছে। সেই সব ড্রয়ার সে তন্ন তন্ন করে খুঁজবে এবং যথারীতি কিছু খুঁজে না পেয়ে চিৎকার করে আমাকে ডাকবে। এই কাজ তার সারা জীবনেই চলে আসছে। আল্লাই জানে যখন আমি ছিলাম না তখন সে কাকে ডাকতো? তাই বলে ভাবার কোন কারন নাই যে, সে মায়ের আদরের দুলাল। সেই ক্লাশ সেভেন থেকেই উনি হোস্টেলে থাকেন।

আমারও কাজ থাকে। অফিস আছে , বাচ্চাদের স্কুল আছে , বাড়িতে সারাদিনে কী কী করতে হবে তা কাজের লোকদের বুঝিয়ে দেয়া আছে। উনি তো সকালে ঘুম থেকে উঠে তার কাজটুকু সেরে অফিসে যাবে। বাড়ির আর কোন খবরে বা কাজে তিনি নাই।

পাপ-পুণ্য

জলি তার ছেলের বিয়ে নিয়ে ভীষন ব্যস্ত।। ছেলেরা বড় হবার পর জলির অনেক অবসর । ও একা হয়ে পড়েছে। তাকে দেবার মত সময় কারোরই নেই। এটা জলির অভিমানের কথা নয় এটা বাস্তবতা। জলির স্বামী রফিকুল ইসলাম ব্যাবসা নিয়ে ব্যস্ত। বড় ছেলে চলে গেছে নিউ ইয়র্ক এ পড়াশুনা করতে , ওখানেই থেকে যাবে । ফেরার কোন তাগিদ বা ইচ্ছে নেই। ছোট ছেলেটিও ভার্সিটিতে। তার জগৎ তৈরী হয়েছে আলাদা। সেখানে জলির কোন প্রবেশাধিকার নেই।

এত দিনে জলি কাজ পেয়েছে। তার ছেলে বিয়ে করবে বলে জানিয়েছে। মেয়ে সে নিজেই পছন্দ করেছে। একই ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করে। মেয়ের বাবা- মা সবাই নিউ ইয়র্কেই থাকে। তারা মেয়ের বিয়ে দিতে দেশে এসেছেন । সামনের শুক্রবারে মেয়েদের বাড়িতে যেয়ে ছেলের বাবা-মা ও মেয়ের বাবা-মা পরিচিত হবেন এবং বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করা হবে। সম্ভবত সামনের মাসেই বিয়ের দিন ঠিক হবে।

গল্প বলা ও তার শেষ--

Image0548.jpg

কাল রাতে ছিল প্রচন্ড গরম । সেই সাথে পোকা আর মশা। সমস্ত বাড়ির লাইট অফ করে দিয়ে বারান্দায় শিতল পাটি বিছিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম বাচ্চাদের নিয়ে। আমাদের জায়গা হয়েছে মেঝেতে কারন শীতল পাটি জুড়ে ওরা দুইজন। পিচ্ছিগুলির জ্বালায় নিজেদের কোন কথা বলার উপায় নেই। ওদের কথাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং বিশেষ জিরুরী যা সেই মুহুর্তেই শুনতে হবে। তার জবাবও দিতে হবে।

আমার ছয় বছরের ছেলের প্রশ্ন --আচ্ছা মা ছেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া কি ঢাকায় থাকে?
--- হ্যাঁ ঢাকায় থাকে।
--- ও তাই জন্যে বুঝি সব ভাল ভাল জিনিস ঢাকায় পাওয়া যায়?

শিখতে চাই

আমি সারাক্ষন চেষ্টা করেই যাচ্ছি কি ভাবে ইমো ব্যাবহার করতে হয় তা শিখতে । কিন্তু কিছুতেই পারছি না। কোন ভাবেই না । কত সুন্দর সুন্দর ইমো কিন্তু আমি পারছি না। স্বাভাবিক ভাবে ইমোর গায়ে ক্লিক করলেই আসার কথা আসে না। ড্রাগ করে টেনে আনলে http://amrabondhu.com/sites/all/modules/smileys/packs/Roving/crazy.png এই ভাবে আসে । কপি করে পেস্ট করলে http://amrabondhu.com/sites/all/modules/smileys/packs/Roving/glasses.png এটা আসে। কিভাবে ইমো পোস্টে দেব ? কেউ কি শেখাবেন বন্ধুরা।

ছোট গল্প ১

বৃষ্টির ছাট এসে গায়ে পরতে ঘুম ভেঙ্গে গেল রফিকের। মাথার কাছের জানালাটা খোলা। খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, তাই কখন বৃষ্টি এসেছে টেরই পায়নি। উঠে জানালাটা বন্ধ করে দিল। ডাইনিং রুমের জানালা বন্ধ কিনা দেখবার জন্য ডাইনিং রুমে এল। রাস্তার ম্লান আলোতে দেখলো জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছে নিপা। বৃষ্টিতে ভিজছে দেখে ওকে ঘরে যেতে বললো। নিপা কিছু শুনতে পেল কিনা বোঝা গেল না। একেবারে পিছনে এসে কাঁধে হাতটা রাখলো। সাথে সাথে নিপা রফিকের গায়ে হেলান দিল। কিছুটা অবাক হয়েই রফিক মৃদু স্বরে বললো ----ঘরে যাও ঠান্ডা লাগবে। কেঁপে উঠলো নিপা, চমকে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। কোন দিকে না তাকিয়ে চলে গেল ওর ঘরে। নিপা ওর গায়ে হেলান দিয়েছে বলেই কি রফিক তাকে ভাবী ঘরে যাও কথাটা বলতে পারলো না।

খেলা শেখা---

Photo0339.jpg

বিলিয়ার্ড আমি কখনওই খেলিনি। যখন খেলা শেখার সময় ছিল তখন বিলিয়ার্ড খেলবার জায়গা পাইনি। বিলিয়ার্ড সম্পর্কে আমার জ্ঞান এই টিভির পর্দা পর্যন্তই। মঝে মাঝে ইচ্ছা করেছে খেলাটা শিখতে কিন্তু তেমন আগ্রহবোধ করিনি।

একদিন লনটেনিস খেলে ফিরে এসে চা এর কাপটা নিয়ে বিলিয়ার্ড রুমে চলে এলাম। দুই জন খেলছে কয়েকজন দেখছে। হেল্প বয় রেস্টার হাতে দাড়িঁয়ে আছে। একজন পয়েন্ট বোর্ডের কাছে পয়েন্ট কাউন্ট করছে। বেশ রাজকীয় খেলা। সবুজ বোর্ড , ঠিক মাঝাখানে মাথার দুই হাত উপরে চারটি নিয়ন বাতি। বোর্ডের উপর হলুদ ও লাল বল। খেলোয়াররা ঘুরে ঘুরে খেলছে। প্রত্যেকের হাতে একটি করে কিউ (যে স্টিকটি দিয়ে খেলা হয় তাকে কিউ বলে)। খুব গম্ভীর গম্ভীর সবাই। আমার বেশ মজাই লাগলো।

সকলকে মৌসুমী ফলের আমন্ত্রন

কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভাল। সামনে আসছে মধুমাস। আমার বাগানে আছে দশটি কাঁঠাল গাছ, আটটি আম গাছ ও চারটি লিচু গাছ। প্রতিটি গাছে অসংখ্য ফল। কাঁঠাল গাছের শিকর হইতে শুরু করিয়া আমের মত থোকায় থোকায় কাঁঠাল গাছে ঝুলিতেছে। আম গাছের ও একই অবস্থা। গাছে পাতার চাইতে ফল অধিক। লিচুর গাছ গুলির দিকে তাকাইলে মন ভরিয়া যায়। ফলের ভারে গাছগুলি নত হইয়া এমন উচ্চতায় আসিয়া স্থীর হইয়াছে যে আমার ছয় বছরের ছেলেও উহা হাত দিয়া ধরিতে পারে।

সবাইকে আমার বাসায় আন্তরিক আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

এবারে লিচু কাহিনী। লিচু যে অত্যান্ত লোভনীয় ফল তাহা আর বলিবার অপেক্ষা রাখে না। আমি বাজারেই লিচু দেখিয়াছি। লিচু গাছ দেখিয়াছি নার্সারীতে। আমার এই বাসায় যত বড় বড় লিচু গাছ ইহা আমার এই প্রথম দেখা। জানিলাম ইহা দিনাজপুরের বোম্বাই জাতের লিচু।

-----স্বাধীনতা সে আমার স্বজন হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন------------।

এই ভদ্রলোকটিকে কি কেউ চেনেন?---- এর নাম আবদুর রশিদ।

এর কথা আমি কিভাবে লিখব, কোথা থেকে শুরু করব? ভাবতে ভাবতেই দিন চলে যাচ্ছে। শুধু এটুকু বলতে পারি আবদুর রশিদ বেঁচে আছেন। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে ফেরেন--যেন তাদের মাঝেই তিনি খুঁজে পান তার দাদা, বাবা, চাচা, বড়ভাই, মেজভাই, ছোটভাই, বড় বোন, ছোটবোন, মা ও দাদীকে।

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের এক বৃহষ্পতিবার সে এক রক্তাক্ত দিন রক্তাক্ত সময়। -------কে আমার ঘর ভেঙ্গেছে স্মরন আছে? সে আমার রক্তে ভেজা দিন।? চেতনায় হানছে আঘাত------------------

“আপা সরকার যে বলে ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন সেই ৩০ লক্ষের মাঝে কি আমারা আছি? যদি থাকি তবে কোথায়? আর যদি না থাকি তবে বলে না কেন ওরা ছাড়া ২০ লক্ষ , আমরা ১০ লক্ষ নিজেদের নিজেরাই লালন করব।“