ইউজার লগইন
ব্লগ
মেজর হায়দার ও তাঁর বিয়োগান্ত বিদায়ঃ ব্লগ বুক রিভিউ
অনেক দিন বই পুস্তক নিয়ে পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখি না। লিখি না বলে পড়া বন্ধ নাই বই, ইচ্ছে করেই লেখা হয়ে উঠে না। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত- ভালো বুক রিভিউ লিখতে পারি না, তাই লেখায় এই অনীহা। তবে বই নিয়ে লিখতে কার না ভালো লাগে। ফেসবুকের বইপড়ুয়া গ্রুপেও কখনও লিখতে যাই না, কারন ওখানে কত পারু খা- পড়ুয়া মানুষরা থাকে, সেখানে আমি বই নিয়ে কাকেই বা কি জ্ঞান দিবো। তাই খারাপ হোক ভালো হোক আমার বই নিয়ে লেখার জায়গা তো ব্লগেই। নিজের ইচ্ছে মতো মতামত দেই, বই নিয়ে ডিটেইলসে আলোচনায় যাই কম, ভালো লাগা মন্দ লাগাই আসল কথা। আমি সেই পছন্দ অপছন্দের একচোখা চোখ দিয়েই দেখি লিখি পড়িও।
মার্দাসডে বনাম ওল্ডহোম
মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার প্রায় সারা বিশ্বব্যাপী মাদার্স ডে উদযাপিত হয়। স্কুলে-পড়া বাচ্চাদের উৎসাহ আর উচ্ছ্বাস আর নানা গিফটশপের দোকানগুলোর সাজসজ্জা আর প্রতিযোগিতা হলো এই উৎসবের লক্ষ্যণীয় ব্যাপার। যাঁদের বাড়িতে স্কুলগোয়িং বাচ্চা আছে তাঁরা অনেকটা ঈদ-ক্রিসমাস-পূজার স্বাদ পেয়ে থাকেন এরমধ্যে। রাত জেগে কার্ড-বানানো, ছবি-আঁকা, ফুল-লুকানো, উপহার-লুকানো, সর্তক চলাফেরা, ফিসফাস। বলাই বাহুল্য, এ-উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় নিবন্ধ আসে, ব্লগ লেখা হয় আর ফেসবুক টুইটারতো আছে। আমাদের লোকদের ফেসবুকের অনেক শুভেচ্ছা কিংবা ব্লগের মন্তব্যে প্রতি বছর একটি বিষয় প্রায় ঘুরেফিরে আসে যে, পশ্চিমারা বাবা-মাকে ওল্ডহোমে রেখে দিয়ে মাদার্স ডের ভড়ং করে বছরে একদিন, সারা বৎসর বাবা মায়ের খোঁজ নেয় না। তাহলেতো রোজই মাদার্সডে হতো আর এই পোশাকি ভালবাসার দরকার হতো না।
আমাদের ধর্মচর্চা
ধর্মীয় বয়ান শুধু আরবীতে দেওয়া যাবে না কি স্থানীয় ভাষায় ধর্মীয় বয়ান দেওয়া শুদ্ধ- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইমাম আবু হানিফা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্থানীয় ভাষাতেও ধর্মীয় বয়ান দেওয়া শুদ্ধ। বাস্তববুদ্ধি, কান্ডজ্ঞান দিয়ে ব্যক্তির ধর্মবিষয়ক সংকটের সমাধান খোঁজা ইমাম আবু হানিফার কাছে ভাষা হিসেবে "আরবি"র আলাদা পবিত্রতা ছিলো না। প্রতিটি ভাষায় সমান পবিত্র, সমান গুরুত্বপূর্ণ। আরবি ভাষা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে যতদুর বিস্তৃত হয়েছিলো ইসলাম ধর্ম প্রচারক এবং ব্যবসায়ীদের কল্যানে তারচেয়েও বেশী দূরে বিস্তৃত হয়েছিলো।
নীরবতা
চায়ের দোকানদার এনামুল
আজকাল ওর দোকানেই বসি
মাঝে মাঝে দোকানে এ ও থাকে
তবে না থাকার পাল্লাটাই ভারি
আমি একা বসে থাকি
চা খাই, সিগারেট পুরাই…
আর, আর এনামুলের দিকে তাকিয়ে থাকি
কথা বলতে পারেনা এনামুল, না কানে শুনে
আপন মনে কাজ করেই যায়
মাঝে মাঝে ঠোটে সিগারেট পুরে কি যেনো ভাবে
ওর অস্পষ্ট সজল চোখের কিনারা দেখে ভাবি
ও কষ্টের খেত চষে বেড়াচ্ছে
মাঝে মাঝে ওর ঠোটের প্রান্তে ভেসে ওঠে অস্ফুট হাসি
বুঝতে বিলম্ব হয়না, এ হাসি ব্যঙ্গাত্মক
অনিশ্চিত, দারিদ্রতায় কন্টকিত জীবনের প্রতি
মাঝে মাঝে আশার ক্ষীণ আলোও ভাসে থাকে ওর চোখে
কি জানি কোন নেশায়!
আমি নই, প্রিয়তমা
তোমার নামটা মুছে যাক
আমার বুকটা থেকে
চলে যেতে পারো ইচ্ছেমত
দু'চোখ যায় যেদিকে।
রোজ তোমাকে ফুল এনে দেবে
আমি তো তেমন নই
প্রতি ডাক শুনে ফিরে আসবে
রোজ রাতে শুধু ভালোবাসবে
চোখ বেঁধে রেখে বলবে
আমার সঙ্গে চলো-
আহ প্রিয়তমা বলো
আমি কি করে তোমার হই।
সোনালি রোদ্দুরে প্রিয়তমা
দু'ঠোঁটে করে এনে দিতে পারো
যত প্রেম আর ক্ষমা
পরশে কাঁপিয়ে ডানা আর বুক
নিঃশ্বাস ভরে দিতে পারো সুখ
তবু বন্ধু হতে পারো না।
আমি এখন খুলনায়
আমি এখন খুলনায়
আমি খুলনা এসেছি মে,৫, ২০১৪ খ্রীঃ আজ ১২দিন হয়ে গেল। এ কদিন কিছুই লেখা হয়নি। আবেগ মিশ্রিত গান কবিতা লেখা বাদই দিলাম শুধু আসার পর থেকে দিনলিপিগুলো লেখলেই একটা বিশাল লেখা হয়ে যেত, আর বড় বড় লেখকদের মত চাটনি সদেশ রস সংযোজন করতে পারলে তো সবিশেষ উপাদেয় কিছু পাঠকদের দিতে পারতাম।
একটু একটু করে প্রতিদিন!
গত দু -তিন দিন লেখা হলো না। লেখবো লেখবো করেও আর লেখা হয়ে উঠলো না। আর ব্লগে দেখলাম অনেকের পোষ্ট তাই তেমন জরুরী ভাবলাম না। যখন ব্লগে কেউ লিখে না তখন আমার ইচ্ছে করে সপ্তাহের সাত দিনই লেখি। কিন্তু সব সময় তাও আর হয়ে উঠে না। তবে ঘুরে ফিরে সেই দিনলিপি লেখি বলে আর কোনো লেখার বিষয় যে পাই না ব্যাপারটা এমন না। মাথায় হাজারো বিষয় আসে, অনেক কিছু নিয়েই লিখতে ইচ্ছা করে কিন্তু লেখি না। কি লাভ মাথা খাটিয়ে, এরচেয়ে নিজের যে দিনযাপন তাই ঢুকিয়ে দাও ব্লগে। হেলাল ভাইয়ের এক পোষ্টের উসিলায় গিয়েছিলাম সামহ্যোয়ার ইন ব্লগ। পুরোই হিন্দি চুলের মতো অবস্থা। এত মানুষ লগইন আর অতিথি এত তাও ফার্স্ট দশ পাতায় পড়ার মতো একটা পোষ্ট পেলাম না। মনটা খারাপ লাগলো। নিজের কিছু ভালো লাগার পুরানো পোষ্ট দেখলাম তাতেও দেখি নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য মন্তব্য নাই। তাহলে এত লোক ব্লগে করে টা কি?
ফানুস
এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের সমাজ খুব করে অনুভব করছে ব্যক্তি কেন্দ্রিক জীবন যাপনের সবচেয়ে খারাপ দিকটি। আমাদের এই এককেন্দ্রিক জীবন যাপনের আনন্দ ভুলিয়ে দিচ্ছে একক ব্যক্তি সত্তা বলে কিছু নেই। প্রযুক্তি বা ব্যক্তি প্রতিভা কখন ও ই একক সত্তা কে ্টিকিয়ে রাখতে পারে না। । আর এই না পারা টা ই আমাদেরকে সমাজবদ্ধ জীবন যাপন করতে বাধ্য করে।। কিছু নিয়ম, কিছু জীবনাচরণ, আর কিছু আইন করে নেই প্রয়োজন মাফিক। যাতে সবার ই স্বার্থ রক্ষা হয় এবং পাশাপাশি থাকতে পারি।।
এ বি'র বন্ধুরা
মনে হয় কিছুই দেখিনা আমরা
কিছুই শুনিনা । চারপাশে যত কিছু ঘটুকনা কেন,
আমাদের চোখ-কান থাকে বন্ধ ! আমরা দেখিনা শুনিনা,
আমরা এ বি’র সব বন্ধুরা !
আমাদের নদীর সব পানি মানুষের খুনে লাল হয়ে যাক,
আমাদের পড়শী কেউ গুম হয়ে যাক,
কারো বোন, আত্মজা বা স্ত্রীর সম্ভ্রম লুটে যাক,
আমাদের কি আসে যায় ! আমাদের নিজেরতো কেউ না !
তাইতো আমাদের কিছুই লেখা হয়না এসব নিয়ে !
আমরা মজে থাকি নিজেদের নিয়ে ।
প্রেম, ভালবাসা, ইর্ষা,ঘৃণা, মান-অভিমান,
গান-সিনেমা জাগতিক সব কিছু থাকে আমাদের লেখায় !
থাকেনা শুধু মানুষ ! অবহেলিত মানুষরা !
গেলো বছর হটাৎ কিভাবে যেন জেগে উঠেছিলাম সবাই !
[আমার নিজের কিন্তু সংশয় ছিল, ঘরপোড়া গরু কিনা !]
সে জাগরণ ও একদিন লুট হয়ে গেল ।
যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়লাম সবাই আবার ।
একটা অনৈতিক নির্বাচণ হল, অবৈধ সরকার হলো
আমরা চুপ থাকলাম ।
ভারত আমাদের শুকিয়ে মারার তাবত ব্যবস্থা করল।
উত্তরাধিকার ১
আমার প্রথম সন্তান ঋক । মানসিক ভাবে নিজের ভিতর মাতৃত্ব বোধ টা প্রোথিত হবার বেশ খানিকটা সময় পূর্বে ই আমি সন্তান এর হাসি দেখেছি। প্রাথমিক ভাবে সন্তান ঋক আমাকে যতটা অভিভূত করে রাখতো, তার চেয়ে বেশি রাখতো একটা মানব শিশু। অদ্ভুত একটা অনুভব। সময়ের সাথে সাথে আমি ও আমার সন্তান কে দেখতে শিখলাম, বুঝতে শিখলাম, নিজের মাঝের মা বিষয় টা ধরা দিতে লাগলো। আমার খুব বেশি দায়িত্বশীল আচরণের জন্য অনেকে ই আমাকে দিদি বা আম্মা বলে ডাকতো। অথচ এই আমির নিজের স্বজাতকের "মা" এই বিষয় টা বুঝতে ও বেশ খানিটা সময় পার করতে হয়েছে। জীবনের টানা পোড়নে ছেলে কে আমি ঠিক সময় ও দিতে পারিনি। দেড় বছর ব্যস থেকে সে তার বাবার সাথে এক দেশে, আমি অন্য দেশে। আমাদের যোগাযোগ ফোন আর নেট এ।। বছরে একবার কি দুইবার মাস খানেকের জন্য দেখা যার অধিকাংশ সময় ই চলে যেত বিভিন্ন সামাজিকতা রক্ষা করতে করতে।
মাঝরাতের মাল গাড়ি
লেখাটা অনেক ভালো না লাগা নিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে জানি না।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত সেই মেয়েটিকে ভেবেই এটি লিখব বলে ঠিক করেছি। আমার কি-বোর্ডের উপরে সিগারেটের ছাই জমে যাচ্ছে আর অর্ধমাতাল অবস্থায় আমি লিখে যাচ্ছি।
কেননা আধাবোতল হুইস্কি খেয়ে যখন হলে যাচ্ছিলাম তখন দেখেছিলাম মেয়েটিকে কয়েকটি লোকের সঙ্গে বসে থাকতে। ফুলার রোডে। না, সে ফুটপাতে বসে ছিলো না, বসেছিলো রাস্তায়। আর উঁচু ফুটপাতে বসেছিলো দু চারজন যারা মার্ক্সবাদ কিংবা লেনিনবাদে বিশ্বাস করে।
অগ্রন্থিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
দুনিয়াজুড়ে প্রেমিকদের দল দুইটি। একদল তাজমহল দেখেছে, অন্যদল তা দেখেনি। প্রেমিকদের মধ্যে প্রচলিত এমন কথা আপনারাও নিশ্চয়ই শুনেছেন, প্রিয় পাঠক। ভ্রমণপিপাসুরাও এমন কথা বলেন। আবার, যারা এলিয়েন, ভিনগ্রহ নিয়ে পড়াশুনা করেন,তাদেরও দল দুটি। একদল দানিক্যান পড়েছেন, অন্যদল , যারা পড়েনি। আমার হিসাবে পাঠক মদারুর মতো। দুটি কারণে পড়ে। বৃষ্টি উদযাপন করতে, আবার বৃষ্টি আসেনি এই দু:খে। কিন্তু এ কথা বলতেই হয়, অসাম্প্রদায়িক পাঠকদের দল দুটি। একদল লালসালু পড়েছে অপর দল পড়েনি। পরীক্ষা পাসের জন্য হলেও আমাদের সমবয়সীদের লালসালু পড়তে হয়েছে। ফলে,সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র অগ্রন্থিত রচনা একটি লোভনীয় বই। কিন্তু প্রথমার বইটি যতটা ওয়ালীউল্লাহর অগ্রন্থিত রচনা হয়েছে, তারচেয়ে বেশী অগ্রন্থিত সাজ্জাদ শরিফ,অগ্রন্থিত শহীদুল জহির এবং অগ্রন্থিত শিবব্রত বর্মন হয়েছে। কেন? বলছি। তার আগে অনুবাদ বিষয়ে বলি।
বৃষ্টিবিলাস
অসংখ্য অনুষঙ্গ না থাকলে শুধুমাত্র বৃষ্টি আমার কখনও ভালো লাগে না। আকাশে মেঘ জমলে হৃদয়ে উল্লাস জাগে না আমার। বৃষ্টির সৌন্দর্যের বদলে বৃষ্টিপরবর্তী ঝঞ্ঝাট মনে করে কিছুটা বিরক্তও হই। ছোটোবেলার বৃষ্টির আনন্দ ছিলো, সে আনন্দের সাথে অবধারিতভাবেই " আজকে স্কুলে যেতে হবে না" শর্ত ছিলো। হাফ ইয়ার্লির বৃষ্টির বিষ হজম করে কাদা প্যাঁচপ্যাঁচে মফঃস্বলের রাস্তা ডিঙিয়ে ভেজা ভেজা হাতে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখে বিদ্যাদিগগজ হয়ে যেতে হবে পরিস্থিতির বাইরে ছোটোবেলার বৃষ্টি অনেকটাই সহনীয় ছিলো। এক টানা ৩-৪ দিন বৃষ্টির পরে যখন মহল্লার মাঠ আর হেড়িং বোন সড়কটা আলাদা করা কঠিন সে সময়ে আরও এক ঘন্টা বৃষ্টির অভিশাপ সহ্য করা সম্ভব হতো না কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিতে ভেজা হতো নিয়মকরেই, বৃষ্টিতে ভিজলে ঘামাচি মরে।
২৫০ পেরিয়ে!
নিজের পোষ্ট সংখ্যা কত, তার হিসেব আমি খুব একটা রাখি না, সেরকম ভাবে মনে রাখাই হয় না। মাঝে মধ্যে চোখে পড়লে অবাক হই আহা কত পোষ্ট লিখে ফেললাম এই তিন আড়াই বছরের মধ্যেই। শান্তি পাই, পুরোনো পোষ্টগুলো দেখি। ডায়রীর মতো করে পড়ি, আহা আগে কত কি নিয়ে ভাবতাম। কত সেনসিটিভ সচেতন রসিক মানুষ ছিলাম। তবে আগের পোষ্টগুলোতে বাক্য গঠন ও বিরাম চিন্হে ভুল সিরিয়াস চোখে পড়ে। এখনো যে তা নাই তা বলবো না, কিন্তু আগের চেয়ে কম চোখে পড়ে। আগে ধারনা ছিল ব্লগ লিখতে লিখতে এক ধরনের হাত এসে যাবে, হয়তো নিম্ন মাঝারী মানের গল্প লিখতে শুরু করতে পারবো। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি, যা আশা ভরসা ছিল সব শেষ করে দিয়েছে সৈয়দ শামসুল হক, তিনি বাংলা গল্প উপন্যাস লেখার যে উপায় উপকরণ দেখিয়েছেন তা পড়ে আমি বিস্মিত। লেখালেখি জিনিসটাকে আমরা যত খেলো ব্যাপার হিসাবে ধরি তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রমসাধ্য ও অধ্যাবসায়ের সৃজনশীল কাজ। তাই এই ভালো, ব্লগ লেখি তেমন ক