ইউজার লগইন
ব্লগ
বৃষ্টি ভেজা পুরনো শহরে একদিন
সেই সন্ধ্যে থেকে বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। ইলেকট্রিসিটি নেই, ঘুটঘুটে অন্ধকার। সাধারণ দিন বাড়িটা সরগরম থাকে, দাদু, নাতি, নাতনী, চাচা, কাকিদের হৈ চৈ এ। আজ অস্বাভাবিক নিরিবিলি। রান্নাঘরটা একদম বাড়ির পিছনের দিকে। তারপাশেই খাবারের ঘর। বৃষ্টি সাথে আছে অন্ধকার, রান্নাই হয়নি ঠিক করে। তাই আজকের রাতের খাবার একদম সাধাসিদে। বাচ্চাদের সবার জন্যে আলুর ভর্তা, ডিমের কোর্মা আর ডাল। বড়দের জন্যে হয়তো কোন একটা মাছ টাছ কিছু ভাজা টাজা হয়েছে। খাওয়া হওয়া মাত্রই সবাইকে ওপরে যার যার ঘরে যেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তে হবে, নীচে নামা, লাফালাফি দৌড়াদৌড়ি সব কঠিনভাবে নিষেধ। বৃষ্টির ছাঁট লম্বা টানা বারান্দার গ্রীল ভেদ করে এসে সিড়ি, বারান্দা, বারান্দার কাছাকাছি কোন কোন ঘরের কিছু অংশ ভিজিয়ে একদম পিচ্ছিল করে দিয়েছে। বাড়িতে ফুট ফরমাশ খাটার ছোট ছেলেটা যে নুরু, বৃষ্টির ছাঁট আটকানোর জন্যে সব ঘরের জানালা বন্ধ করতে যেয়ে দুবার পা পিছলে আলুর দম হ
রন ভা'য়াকে
ব্লগ খুললে প্রায় দেখা যায় আপনি আছেন অনলাইনে । অথচ দীর্ঘদিন আপনার কোন লেখা দেখিনা ব্লগে । ইচ্ছে করে জিজ্ঞেস করতে, কেন লিখেননা ইদানিং ? আপনার শেষ লেখা ছিলো গেলো বছরের ৮ এপ্রিল, " আমার শেখ মুজিব " শিরোনামে । এরপর আর কোন লেখা পাইনা আপনার । অথচ আপনি নিয়মিত ব্লগে বসেন ! আরো একজন প্রিয় ব্লগার, 'মীর ভাই' চুপ মেরে আছেন বহুদিন । আমার আন্তরিক কামনা অচিরেই আপনারা ফিরে আসবেন ব্লগে !
আপনার শেষ লেখার চুম্বকীয় অংশটা উদ্ধৃত করলাম । মনে হয় এর ইম্পেক্ট এখন আরো বহুগুণ বেশি ।
লিখবেন আশা করি । ব্লগীয় ভাই হিসেবে এই অনুরোধ !
মান সম্পন্ন শিক্ষা- ২
পূর্বের লিখা মান সম্পন্ন শিক্ষা ১ এর মন্তব্যে দুইটি বিষয় উঠে এসেছে, ১। শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজনীতি ২। সমাধান।
১। মানুষ মাত্র ই রাজনৈতিক। রাজনীতি মানে ই দেশের ক্ষমতা দখল না। শিক্ষায় রাজনীতির সংস্রব রোধ করা গেলে ও, শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজনীতি দূর করা সম্ভব হবে না। কোথাও হয় নি। এই দেশে ও হবে না।
২। সমাধান কি?
-সমাধান অনেক সহজ। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল কর এবং নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি গ্রহন কর।
আজ আমি এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর ই দিব।-
------------------------------------------------------------------------------------------------
আষাঢ়...
অনেক দিন পর এই ব্লগে কিছু লিখতে যাচ্ছি। দুই মাস পেরিয়ে গেছে। তবে মাঝে মাঝেই ব্লগে আসি, অন্যদের লিখা পড়ি তারপর ভাল লাগলে পোষ্টটি পছন্দ করুন অপশন চেপে বের হয়ে যাই। যখন ব্লগে প্রথম এসেছিলাম তখন ভেবেছিলাম নিয়মিত কিছু লিখতে চেষ্টা করব। কিসের কী এখন নিয়মিত পোষ্ট পড়ে মন্তব্যই করতে পারি না। বড় অবাক লাগে নিজের দিকে তাকালেই। মানুষ কিভাবে বদলে যায় সময় আর্বতনে। এক সময়ের সেই চটপটে আমি কিভাবে পাল্টে যাচ্ছি অনায়াসে। এক সময় লেখা লেখি নিয়েও আগ্রহ ছিল অনেক। দিনকে দিন যেন তাও কমে যাচ্ছে। আমিও যেন হারিয়ে যাচ্ছি আমার থেকে অজানা কোন এক বিশ্বে। যেখানে স্বপ্ন নেই, সুখ নেই, জীবনের রং নেই, ভালবাসাও নেই। কেমন যেন আধার ভরা র্নিলিপ্ত হাহাকার শুধু। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে এই হাহাকার বিভীষিকাকে গলা চেপে ধরি কিন্তু সে এত সহজে কাবু হবার নয়, উল্টো আমাকেই কাবু বানিয়ে মজা নেয়। যেন আমি শুধু তার দুঃখকেই বুকে ধারণ করতে জন্মেছি।
এলোমেলো কিছু ভাবনা
লম্বা একটা সময় কোন জাতিকে নিজেদের পায়ের তলে রাখতে পারলে সেই অঞ্চলের সবকিছুই বদলে দেয়া সম্ভব। যেমন ব্রিটিশরা বদলে দিয়েছে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ভাবনা, আচরণ। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশরা ছেড়ে যাবার এত সময় পরেও এখনো আমাদের চিন্তা-ভাবনায় তাদের প্রতি আনুগত্যের ছাপ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে জাহাজে করে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলেতে যেত সামর্থ্যবান পরিবারের সন্তানরা। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে একটা বড় অংশ মনে করে বিশ্বের আর যে কোন দেশের চেয়ে যুক্তরাজ্যেই সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের বাহিরে যারা থাকেন, তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডে থাকলেই তারা অনেক কিছু। বাকী সবদেশেই যারা থাকেন তারা সবাই শ্রমিক শ্রেণীর লোকজন। এই যে শ্রেণীভেদ মানসিকতা, এটাও আমরা ব্রিটিশদের কাছ থেকেই পেয়েছি। অবশ্য, তার আগে আরো বেশীই ছিল। এটা নিয়ে মতপার্থক্য আছে বেশ। অনেকের ধারণা, ব্রিটিশদের আগে যেই ধরণের শাসনব্যবস্থা ছিল আ
কামনাসিক্ত প্রার্থনা
১.
ঘরে লেবু ছিলো না, বীট লবনও নেই। পাশের ফ্লাটে হুড়োহুড়ি শুরু হলো মাত্র। পুরো বিল্ডিংটা ফাঁকা, শুধু পাশের জনাকীর্ন ফ্লাট, আর রুমে নিঃসঙ্গ আমি। সুইডিশ এবসলুট পড়ে আছে তাকে। সীবাস রিগ্যাল শেষ, জ্যাক ড্যানিয়েলসও নেই। পাশের রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে ভাবছি নক করবো কি না। এখানে আর কোলাহল নেই, হার্ড রক মিউজিকের সাথে সাথে চলছে নারী পুরুষের সম্মিলিত যৌন কর্মের চিৎকার। ঠিক কতজন বা কতজোড়া এরকম ফুল ভলিউমে যৌন কর্মে লিপ্ত ধারনার বাইরে। দরজায় টোকা দিয়েই বসলাম।
দরজা খুলে দাড়ালো একজন যুবতী। বা পাশের সুঢৌল স্তন ঝুলে আছে, সাদা শার্টের বোতাম নেই, কোমড়ে নেই কোনও অন্তর্বাস। সিক্ত হয়ে আছে জায়গাটা। দরজাটা পুরোটাই খোলা, আমি বাইরে থেকেই মেঝের ওপর এক নগ্ন যুবতীর ওপর নগ্ন যুবক। আমি মুখে হাসি দিতেই বলে বসলো মেয়েটা,"এই ভারতীয়! কি চাও বলো।"
এমন বৃষ্টি দিনে.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
এমন বৃষ্টি দিনে,
কি এমন ক্ষতি হতো?
আমি যদি তোমার হতেম,
আর;
সেই তুমি-ই আমার হতে?
কি এমন ক্ষতি হতো?
মিছিমিছি ভালোবাসায়,
আলতো হেসে;
হুট হারালে -
আমার তোমার অচিনপুরে।
কি এমন ক্ষতি হতো,
ছন্নছাড়া কথকতায়?
হঠাত্ হোঁচট,
চেনা অচেনা চাহনিতে;
বুকের ভেতর সুদুর দুরে।
দিনের শেষের চাওয়ায় পথে,
আমি নয় রয়েই যেতাম -
আরও এক বৃষ্টি দিনের অপেক্ষাতে;
আকাশ ছোঁয়া মেঘ দুয়ারে।
এমন বৃষ্টি দিনে,
কি এমন হতো ক্ষতি;
আমি যদি হতেম দুরের মেঘ?
নয় -
বৃষ্টি হয়েই হারিয়ে যেতেম,
তোমায় ছুঁয়ে।
এমন বৃষ্টি দিনে..
আজ খেলা শেষ, আর জমছে না!
আমার এক ক্লাসমেট ছিল, আমার সাথে নামের মিল। ওর মেইন নাম আরাফাত, আমার নাম আলী আরাফাত জাকারিয়া। খুলনাতেও এক সাথে ক্লাস করেছি, চট্টগ্রামেও তাই। বন্ধু ছিলাম না তেমন, দেখা হলে কথা হতো। আমরা যখন টেন্ডুলকার বনাম লারা কে সেরা তা নিয়ে ঝগড়া করতাম, তখন তাঁরা কলোনীর কোন গাছের পেয়ারা চুরি করা যায় তা নিয়ে ওয়ার্কআউট করতো। ইন্টারের পর সেই ছেলে বাপের টাকার জোরে নরম্যাল সিম্যান হিসেবে জয়েন মার্চেন্ট শীপে। আস্তে আস্তে নানান লম্বা সফর দিয়ে দিয়ে টাকা পয়সা ভালোই কামায়, পদোন্নতি হয়, ট্রেনিং করে জাপান থেকে। তাঁর বাবাও বড়লোক, নেভীর মিশনে কুয়েতে গিয়ে চিটাগাংয়ে এক তিনতলা বাড়ী করেছে। বোন একটার বিয়ে হয়ে গিয়েছে নেভীর এক অফিসারের সাথে। যাই হোক সেইসব জিনিস আলোচনায় আসবে না। আলোচনায় আসবে সে কঠিন দূঃসাহসিক মুডে পালিয়ে বিয়ে করেছিল বছর ছয়েক আগে। তাঁর মা শত চেষ্টা করেছে, সিনেমার কায়দায় ছেলেকে লোক পাঠিয়ে পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া কর
বুঝিনি
ছোট বেলার কথা ! কিন্তু আজো মনে হয় এই সেদিনের ঘটনা ! বাবা থাকতেন কোলকাতায় । সেখানে ব্যবসা ছিল । ব্যবসার কাজে নানা দেশে যেতেন বাবা । কাছে পেতামনা খুব একটা ! ভালমতো মিস করতাম তাকে ! কাছে না পাওয়ার এই যন্ত্রণা বাবা কিন্তু পুষিয়ে দিতেন অন্যভাবে । নানা দেশ হতে আনা নানা রঙের জামা- কাপড় নিয়ে আসতেন আমাদের জন্য । একবার এনেছিলেন হালকা গোলাপি রঙের একটি হাফ সার্ট, ফুল-পাখি- মানুষ-জীব-জন্তুর নানা ছবিতে ভরা ! ছোটবেলা যত জামা কাপড় পরেছি, আজও মনে পড়ে ওটিই ছিল সবচেয়ে প্রিয় জামা আমার । সমবয়সীরাতো বটে বড়রাও অনেকে খুঁটিয়ে দেখতেন ছবিগুলো !
ঢুলু ঢুলু নেশাতুর
১.
: ইয়াক! এসব ছাইপাশ গেলো কিভাবে? আমি তো এক গ্লাসই শেষ করতে পারি না।
: তুমি ইচ্ছে করলেই এক বোতল এক বসায় গিলে ফেলতো পারো।
: পাগল হয়েছো? সিবার রিগ্যালের ৭৫০ এমএল কিভাবে?
: এই দেখো। গ্লাসে কিছু বরফের কুচী নাও। কিছু স্পাইসি চিপস। একটা স্পাইসি চিপস, পুরো গ্লাস। অল্প অল্প সীপ।
: আর?
: এক সীপ, মিউজিকের তালে তালে শরীরটা ছেড়ে দাও। আমি ঢুলতে ঢুলতে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো।
: আর?
: আরো একটা সীপ। তোমার ঠোট আমার ঠোটে। তোমার দুস্ট জিহবা আমার মধ্যে দুস্টুমি। আরো একটা সীপ। তোমার দুস্ট হাত আমার ব্লাউজের নীচে
: আর?
: আমি তোমার জিহবা কামড়ে দেবো.....হা হা হা হা।
চিরন্তন ভালবাসার স্বপ্ন ।

আমি ছিলাম তখন আমার কলেজের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আর মেয়েটি ছিল এইচ এসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ।
একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল সে ছাতা ছাড়া ভিজে ভিজে রাস্তায় হাঁটছিল কোন রিক্সা পাওয়া যায় কিনা । আমি এগিয়ে এসে তাকে ছাতা মেলে ধরে সাহায্য করি রিক্সা পেতে । সে তখন কোনভাবে একটি রিক্সা ঠিক করে বাসাতে চলে যায় । পরেরদিন আবার তার সাথে আমার কলেজে দেখা আমি তাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম , এভাবে না ভিজে পরে বাসাতে গেলেইতো পারতে এত্ত তারাহুড়ো কি ছিল ?
সে বলেছিল আপনি যদি সেদিন আমাকে সাহায্য না করতেন আমার হয়তো আরও দেরি হত বাড়িতে পৌছাতে কারণ আমার মা অসুস্থ ছিলেন । কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে আমি জানলাম সে আমাদের কলেজের এইচ এসসির ছাত্রী । তার নাম ফারহানা ।
Don't Cry For Me Argentina!
শিরোনাম দেখে কেউ অবাক হবেন না। আমার জন্য আর্জেন্টিনা তো দূরে থাক নিজ দেশ কিংবা শহরেই কান্নাকাটির লোক নগন্য। এইটা অতি বিখ্যাত এক ব্রডওয়ে মিউজিক্যালের গান। ১৯৭৬ সালে 'ইভিটা' নামের এই মিউজিক্যালটা মুলত নির্মাণ হয়েছিল আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জুয়ান পেরন এর সেকেন্ড ওয়াইফ বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ইভা পেরনের জীবনের উপর। ইভা পেরনের প্রেম- ভালোবাসা, রাজনীতি- সমাজসেবা, আকস্মিক ডেথ সর্বোপরি তাঁর জীবনের ট্রাজেডী উপর ভর করে এই মিউজিক্যালটা বানানো । ব্যাপক ভাবে পুরস্কৃত ও বানিজ্যিক ভাবে হিট এই প্রোডাকশন। ম্যাডোনার একটা সিনেমাও আছে একই মিউজিক্যালের উপর ৯৬ সালে। এই গানটাও অসম্ভব জনপ্রিয়। প্রায় দুই ডজন নানান সময়ের বিখ্যাত শিল্পী এই গানটা কাভার করেছে। আমি এই গানটা প্রথম শুনি ইউটিউবে কারেন কার্পেন্টার্সের কন্ঠে। তবে আমার সব চেয়ে ভালো লাগে জোয়ান বায়েজেরটা। এই গানটা শুনলে এক ধরনের বিষাদে আচ্ছন্ন হতে হয়।
জ্ঞ
আই এম সো আনলাকি দ্যাট আই হ্যাভ এ ফাদার লাইক ইয়্য্যু-
ইয়্যু আর এ গ্রাম্পি ওয়ান, অলওয়েজ সো গ্রাম্পি আই ডোন্ট নীড এনি গ্রাম্পি ওস্কার এরাউন্ড মি
ইয়্যু ডোন্ট স্মাইল। আমি যাই করতে চাই সেটাতেই বলো এইটা কোরো না, ঐটা কোরো না- এই হেট ইয়্যু
গত এক মাসে ঋকের অনুভুতির ধারাবাহিক বিবর্তনের ধরণটা এমন। আমরা অনেক কিছু প্রত্যাশা করি, ভাবি ও আর স্কুলে গিয়ে জিনিষ হারাবে না, ও কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখবে সময় মেপে, ও টেবিলের খাওয়া পরিস্কার করে ফেলবে, পানির গ্লাসটা গুছিয়ে রাখবে-
কপি বুক প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে এমনটা সম্ভব- সেখানে যৌথ পরিবারের বিলাসিতা নেই, বন্ধুদের হাতে ধরে, মাত্র ১ ঘন্টার জন্যে দেখে রাখো অনুরোধ আছে-
বাবাকে নিয়ে
বাবা দিবসে বাবাকে শুভেচ্ছা জানানোর মতো অতটা আবেগী আমি কোনো কালেই ছিলাম না। বাবার প্রতি কতটা ভালোবাসা কাজ করতো সেটাও নির্ণয় করতে পারিনি কখনো। অন্যসবার যেমন বাবা থাকে তেমনই আমারও ছিলো। আমার বাবার প্রতি যতটা না ভালোবাসা কাজ করতো তার চেয়েও অনেক বেশি কাজ করতো শ্রদ্ধা। বাবাকে ভয় পেতাম প্রচন্ড। কক্ষনো তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পাইনি, স্পর্ধাও দেখাইনি। সে যা ই বলতো তাই ছিলো আইন আমাদের ভাই-বোনদের কাছে। সবারই অনেক মজার স্মৃতি থাকে তাদের বাবাকে নিয়ে। যেমনঃ বাবার কাঁধে চড়ে মেলায় যাওয়া, বাবার আঙ্গুল ধরে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি। আমার এসব কিছুই নেই। হয়তোবা এমন স্মৃতি আমারো ছিলো যেগুলো মনেনেই। ওই যে বললাম, কতটা ভালোবাসা যে ছিলো বাবার প্রতি সেটা কখনো নির্ণয় করতে পারিনি। আর বাবারই বা কতটা ভালোবাসা ছিলো সেটাও বুঝিনি কখনো। তবে কিছু স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বল করে চোখের সামনে। যে স্মৃতিগুলো শুধুই বা
মৃতপ্রায় ছুটোছুটি
১.
ঠিক কতদিন পর মনিটরের সামনে বসলাম মনে করতে পারছি না। কীবোর্ডের প্রতিটা কী যেনো আমার কাছে অচেনা। টাইপ করতেও ভুলে গেলাম প্রথম কয়েক সেকেন্ডের জন্য। ধাতস্হ হলাম এই ছোট্ট ল্যাপটপ নামের যন্ত্রটার সামনে। ল্যাপটপটার স্টার্ট বাটনটায় প্রতিদিন একটা করে চাপ দেই। মনিটরের "ওয়েলকাম" লেখাটা আসবার আগেই নেশাগ্রস্হ হয়ে লুটিয়ে পড়ি। কাজ থেকে ছুটে এসে পেট ভরে বোতলের শেষ বিন্দুটা ঢেলে দিয়ে ল্যাপটপটা খুলে শুধু পুরোনো ছবি দেখতে ইচ্ছে করে। দেখা হয় না। সকালে এলার্মে ঘুম ভাঙ্গে, দেখি ল্যাপটপটাও ঘুমিয়ে থাকতো আমার সাথে। কিন্তু আজকে আমি পুরোদস্তুর নেশাহীন ফুরফুরে। নিজেকে মনে হলো আবদ্ধ নেশাময় বৃত্ত থেকে টেনে তুলি, পুরোনো ছবিগুলো দেখতে থাকি। প্রায় সারাটা দিন সব ছবি ভিডিওগুলো দেখলাম। সোনিয়ার হাসিমুখ, অন্তরঙ্গ মুহুর্ত সবকিছু। সোনিয়া বলেছিলো মুছে ফেলতে, মুছতে পারিনি। মুছবো কিনা বুঝতে পারছি না।