ইউজার লগইন
ব্লগ
সাপলুড়ু
শিউলি চিরকুটে চোখ বুলিয়েই বলে উঠলেন-
-উনি কোথায়? হ্যাঁ, চলে আসতে বলুন।
-স্যার বাসার গেটে; গাড়িতে । আপনি একটু আসবেন?
দুতলার সিঁড়ি ভেঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন তিনি। আজ মৃত্তিকা আর আকাশের প্রথম সাক্ষাৎ।
তাঁর পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে- কাঁপুনির মাত্রা এত তীব্র হতে পারে তিনি তা ঘূণাক্ষরেও ভাবেননি। ভাবতে পারার কথাও নয়। দীর্ঘ আঠারো বছর পর এ রকম কেউ ভাবতে পারে না। শিউলি কাঁপছেন আর ভাবছেন- কীভাবে তাঁকে রিসিভ করবেন ।
২.
অঞ্জন বলছে - 'টিভি দেখো না!"
অঞ্জন দত্তের অতি বিখ্যাত গান, কবীর সুমনের এক সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম তিনি বলছেন-- এই গানটা ছাড়া বাচ্চাদের জন্য কোনো সিমপ্লিস্টিক গান আর তিনি শুনেন নাই বাংলায়। বাচ্চারাও অঞ্জনের কথা শুনে নাই, আমিও শুনি নাই। শয়তানের বোকা বাক্সটা দেখেই চলছি। আর এবার টিভির পর্দাতেই ধরা দিলো অঞ্জন দত্ত। অনুষ্ঠানটা দেশ টিভির পর্দাতে দেখতে যে কি কষ্ট হলো তাই একটু ভাবি। বাড়ীর সবাই ঘুমাচ্ছে, শিয়ালের ডাক চারিপাশ থেকে, একদম গ্রামীন নিঝুম নিস্তব্ধতা। এর ভেতরে টিভি দেখা বিশাল ঝামেলার। কানে হেডফোন রাখতে রাখতে আমি অল্প সাউন্ড শুনি না আবার। তাই আমার সাউন্ডে হয়তো সবার ঘুমে সমস্যা হয়েছিল, তবে কেউ কিছু বলে নাই, খালি আব্বু এসে বকা দিয়ে ছিল- তাও টিভি অফ করি নাই। বিজ্ঞাপন বিরতির জ্বালায় যদিও খুবই অতিষ্ঠ ছিলাম তবুও পুরো অনুষ্ঠানটাই দেখলাম মুগ্ধ হয়ে। অঞ্জন দত্তের সব পুরোনো গানই তো প্রায় মুখস্থ তাই আমার কাছে নিজেই নিজের এক্সাম নিই।
টু ডু লিস্ট
আমাদের বাসায় অনেক পুরোনো একটা হারকিউলিস কিংবা হার্ভে সাইকেল ছিলো, সেটার সামনের হেডলাইট জ্বালানোর জন্যে আলাদা একটা ডাইনেমো ছিলো, সাইকেলের চাকার সাথে কোনো একটা প্রক্রিয়ায় সেই ডাইনেমো জুড়ে দেওয়া যেতো আর হেড লাইটের আলোর উজ্জ্বলতা নির্ভর করতো সাইকেলের গতির উপরে। যত দ্রুত চাকা ঘুরতো তত বেশী উজ্জ্বল হতো হেডলাইটের আলো। তবে আমি যখন কিছুটা বড় তখন সাইকেলটা প্রায় বাতিল, কোম্পানীর নামের ঐতিহ্যের বাইরে সেখানে আর বিশেষ কোনো সম্বল ছিলো না। কিছুদিন আমার আগ্রহের বিষয় ছিলো ডায়ানেমো লাগানো হেডলাইটটা- ডায়ানেমো সম্পর্কে অল্প-স্বল্প পড়াও হয়েছিলো বাবার কল্যানে- যদিও এর পেছনের তাত্ত্বিক কারণ জানতে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও এক যুগ। তবে ডায়ানেমোর সরল গঠন, সেটা কারা তৈরী করলো এইসব সাধারণ জ্ঞান আমার ছিলো। শৈশবের আগ্রহে ডায়ানেমোটা ভেঙে ফেলতে খুব বেশী সময় লাগে নি। অযান্ত্রিক হলেও এই হার্ভে হারকিউলিস টাইপ সাইকেলগুলোতে
তপ্ত স্বাধীনতা
হাসপাতাল জিনিসটা আমার মনে বেশ সুখকর অনুভূতির জন্ম দেয়। ছোটবেলায় যখন দাদাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করালো তখন দেখা গেলো বাসায় একটা উৎসবের মেজাজ চালু হয়ে গেলো। বাবার তেমন কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিলো না, কিন্তু মা এর কাজের শেষ নেই। যেখানে বাসায় সপ্তাহে একবার গোস্ত রাঁধা হতো সেখানে দুদিন পর পর মুরগীর স্যুপ। মুরগীর স্যুপ বানানো হলে বাকী কলিজা গোস্তের টুকরো দিয়ে ভাত খেতাম আর মনে মনে ভাবতাম স্বর্গে কি এত সুন্দর খাবার পাওয়া যায়? সমস্যা নেই, দাদা বুড়ো মানুষ। একবার যেহেতু হাসপাতালে পা দিয়েছেন সেহেতু বার বার দেবেন। কচি লাউ শাকের ডগার চচ্চরী, সাথে শিং মাছের ঝোলে কাচা পেঁপের কোমল রং পেটের ক্ষুধাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দিতো। আমার মা কেমন রাধুনি সেটা কাউকে বিচার করতে হবে না, তার হাতের রান্না যে আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে সেই ছোটবেলা থেকেই এই ভেবেই আমি চিরসুখী।
ক্রিয়াভিত্তিক ছয়তলা ভবন,ভবানিদির বাড়ির সামনে কৃষ্ণচূড়া,রাধা কি বৃক্ষে থাকেন ! নাকি রাধা ঐ ভবানিদি
(ক্রিয়াভিত্তিক ছয়তলা ভবন,ভবানিদির বাড়ির সামনে কৃষ্ণচূড়া,রাধা কি বৃক্ষে থাকেন ! নাকি রাধা ঐ ভবানিদি)
বাতাসে ইস্কাপন
মধ্যমাতাস
বিদুৎ গজিয়েছে মাঠে ঘাটে।
গজাল মাছটা দিয়েছে ডুব
উর্দ্ধাকাশ সন্ত্রাস
সম্ভ্রম হয়ে থাক ভুতের শরীর।
পূর্বেভুত কোনো ছায়াতলা
অন্ত:স্থ হা হু তাস
কলকব্জা মানে লাঙলের গতিবিধি।
আগামী মাস কার্তিক
কর্তৃত বিহ্বলতা যেন উত্থান গ্রন্থের নাম হয় আউলিয়া।
এইখানে কারো নামের সাথে ইতিহাস নাই,শুন্যের সাথেও না।
আমিও জানি আমি গেঁথে গেছি আলপিনে, কত কি ছুটে চলে দুপাশে!
শরীরটা কেমন জানি ভালো লাগছে না। অবশ্য ঢাকায় ফেরার আগের রাত আমার শরীর মন কোনোকালেই ভালো থাকে না। তবে এবার বেশী খারাপ। পোলাও মাংস, ভাত গোশত খেতে খেতে মুখে রুচি নাই। চা পানেও টেষ্ট নাই। বাড়ীর চিনি দেখতে ভালো না। কিন্তু কেমন জানি একটা গন্ধ। তাই সেই গন্ধওয়ালা চিনির চা খেতেও খুব একটা ভালো না। তাও খেয়ে গেছি সমানে। এখন তা বিস্বাদের চুড়ান্ত অবস্থা। পুলকের মত চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ভালো হতো। কিন্তু লিকার কড়া করে চা খেলেও, চিনি আমার সামান্য হলেও চাই। ভালো লাগে না প্রথম আলো ঈদ সংখ্যাটাও পড়তে। মোটামুটি পাঠযোগ্য লেখা আগেই পড়া শেষ। বাকী আছে উপন্যাসগুলো আর কয়েকটা গল্প। উপন্যাস পড়তে গেলে গাঁ জ্বলে, কি লিখে এইসব। সাগুফতা শারমীন তানিয়া কিংবা বদরুন নাহারদের উপন্যাসের এক পাতা গত দুই দিন চেষ্টা করে শেষ করতে পারলাম না। এর চেয়ে অভিনয় শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদারের-- 'আমার অভিনয় জীবন' স্মৃতি কথাটা এক মুহূর্তেই
গল্পঃ পাঁচ পুরুষের ভিটা

১ম পর্বঃ রমজানের হাঁটযাত্রী
‘রোজাদাররা ওঠো--, সেহরীর সময় অইছে...।’ দিঘলী বাজারের পাহাড়াদারদের চিৎকারে, দরজা বা দোকানের ঝাপের আওয়াজে, কারো না ওঠে উপায় নেই। যারা রোজা রাখার নিয়ত করত, তারা ওঠে সেহেরী খেয়ে নামাজ পড়ত, তারপর আবার ঘুমাত। কেউ ঘুম ঘুম চোখে কোন রকম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত, আর যাদের রোজা রাখার নিয়ত নাই, তারা উঠে, বিরক্ত হয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ত।
আপনারা বলবেন কি?
ঈদের ছুটিতে খুলনা থেকে দিনাজপুর যাব। বি, আই, ডব্লিউ, টি, এ ঘাটের ইজারাদার, সিলেট থেকে জাহাজে করে আসা মোটা বালি আনলোড এবং কেরিং করে আমার নির্মাণ সাইটে পৌছানোর ঠিকাদার, আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল সাহেবকে টিকিট সংগ্রহের জন্য বললাম। উনার বাবা রেলের একজন অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা, তাই উনার জন্য রেলের টিকিট সংগ্রহ করা দুধ ভাত খাবার মতই সহজ ব্যাপার।আগে ভাগে দিন তারিখ জানিয়ে দিলাম যেন উনার জন্য টিকিট পেতে সহজ হয়।
একদিন শুভক্ষন বা কুক্ষন যাই বলি না কেন, ফোন দিয়ে জানালেন স্যার, ঐ দিনের কোন টিকিট নেই।প্রথম শ্রেণী, বাথ, বাথ বাদ দেন শোভন শ্রেণী হলেও সমস্যা নেই।উনি জানালেন আমি মাস্টার সাবের সাথে উনার অফিসে বসে আছি,উনি যেহেতু দিতে পারছেন না, অন্য কোথাও টিকিট পাবার সম্ভাবনাও নেই।
একটি রোমান্টিক স্মৃতি কাহিনী!
আমি একটি মেয়েকে চার বছর যাবৎ মনে মনে ভালবেসেছি, মেয়েটি একজন সরকারী প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা! সামনা-সামনি কোন দিন ভালবাসার কথা বলিনি,শুধু ভয় হতো ভালবাসার কথা বললে না জানি কি হয়! তবুও মনের ভীতর সবসময় সাহস রাখতাম একদিন না একদিন মনের লুকানো কথা বলবোই বলবো! এভাবে অনেক দিন চেষ্টা করলাম কিন্তু মনে সাহস আনতে পারলাম না! প্রাইমারী স্কুলের পিছনে একটা পুকুর আছে,আমি যখন গোসল করতে যেতাম, তখন আমি তার পানে অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকতাম সেও আমার পানে অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকতো! মনে মনে তাকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবতাম এমনকি অনেক কিছু কল্পনা করতাম, তাকাতাকি আর চোখাচোখিতে দিন মাস পার করি! চৈত্র মাসের খরার মতো আমার মনের কথা গুলো শুকিয়ে যেতে লাগলো!*এভাবে আমার জীবনে ৩ টি বছর পার হয়ে যায়! শেষের বছর মনের ভীতর পর্বতসম সাহস আনলাম যে কোন ভাবে আমি ওর সামনে মনের কথা গুলো বলবোই, যেই কথা সেই কাজ!
ভাষা সংশয়
ভাষার গাঠনিক কাঠামোতে এক ধরণের সারল্য আছে। শব্দের পর শব্দ জুড়ে অর্থদ্যোতনা তৈরীর প্রক্রিয়াটিতে গাণিতিক ধাঁচ আছে কি না গত শতকের মাঝামাঝি এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ভাষাবিজ্ঞানীরা। শিশুরা যেই পরিবেশেই বেড়ে উঠুক না কেনো তাদের গঠিত বাক্যগুলো নির্দিষ্ট একটি অর্থবোধকতা তৈরী করে। "সবুজ রঙ এর স্বাদ চাঁদ" এমন বাক্য কাঠামো উত্তরাধুনিক কবি এবং ভাষাতত্ত্ববিদেরাই নির্মাণ করে, স্বাভাবিক শিশুরা এসব সংকট থেকে মুক্ত। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্রে রেখে নোয়াম চমস্কি ভাষার ভেতরের অন্তর্নিহিত ধাঁচের একটা সাধারণ সূত্র অনুমাণ করেছেন- সেটার পক্ষে-বিপক্ষে অসংখ্য বিতর্ক আছে। এতসব বিতর্কের পরেও অস্বীকার করা যাবেনা মানুষের ভাষা ব্যবহারের ধাঁচে আঞ্চলিক পার্থক্য থাকলেও সেই ভাষাভাষী প্রতিটি শিশুই একই প্রকরণ মেনেই ভাষার ব্যবহার শিখে যায় শৈশবে।
তিন অধ্যায়
১)
ছাদের আকাশে নক্ষত্রের কনফারেন্স। কিন্তু আজ আমার নক্ষত্রে মন বসছে না। মনটা ভারী হয়ে আছে। চয়নকে ফিরিয়ে দিলাম। চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে ফিরে গেল ও। ফেরানো সহজ হত না। তাই ওকে জানালাম অগ্নির কথা। বললাম-‘তুমি ভুল বুঝেছ, আমি নই, বরং অগ্নি তোমাকে পছন্দ করে। তোমাকে বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবি নি আমি কখনো। ’
ঘোরগ্রস্তের মতন চলে গেল ছেলেটা। চয়নকে আমার মত অগ্নিও ভালবাসবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি দুঃখ পেয়েছি কিন্তু রাগ করিনি। সেই কবে থেকে আমি আর অগ্নি একই রকম, অবিকল। সব হাসিকান্না, পছন্দ-অপছন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি দুজন। কিন্তু কিছু ব্যাপার কখনোই কারো সাথে ভাগ করা যায় না। কিছু অধিকার বুঝে নিতে হয় নয়ত ছেড়ে দিতে হয়। অগ্নি আমার এত কাছের, আমার আরেকটা স্বত্তা, তাই অধিকারটা ছেড়ে দিলাম। অগ্নির চোখের কোলে মেঘ দেখার চেয়ে চয়নকে ভুলে থাকা আমার জন্য অনেকটা সহজ।
২)
ঠাকুরগাও এ ৩৬ ঘণ্টা (প্রথম পর্ব)
ঠাকুরগাও এ ৩৬ ঘণ্টা (প্রথম পর্ব)
চোখের সামনে নতুন মটর সাইকেলটা দেখে মধ্য বয়সে যেন শরীরে যৌবন
জোয়ারের ছলছল গতীটা বিদ্যুৎ গতিতে রূপান্তরিত হল। ছোট ভাইকে বললাম দে তো চাবিটা। আমি যে সকল মটর সাইকেলটা চালাতাম তার মধ্যে ইয়ামাহা ১০০, ছিডি-৮০ হোণ্ডা-১১০, এই ব্র্যান্ডগুলো আজ আর মার্কেটে পাওয়া যায় না। তবে এই ব্রান্ডের মটর সাইকেল গুলোর মধ্যে আমার প্রিয় ছিল, সি ডি-৮০, যার তেল খরচ ছিল খুবই কম, আর আমার শরীরের সাথে মানান সই, সর্বোপরি আমার মতে সৌখিন একটি বাহন।
ছোট ভাই বলল পারবেন তো চালাতে, না পারার কিছু আছে কি? না অনেক দিন চালান নি তো? আমি গেয়ার গুলো সব সামনে কি না জিজ্ঞেস করলাম। কারন ইদানিং কিছু মটর সাইকেলের গেয়ার প্রথমটা সামনে তো দ্বিতীয়টা পিছনে। ও বলল সব গেয়ার সামনে।
চাকরি!
চাকরি এখন হয় না জেনো
থাকলে শুধু মেধা
থাকেও যদি মামা চাচা
লাগবে সাথে চাঁদা।
এমন দেশে বসবাস
বলতে লজ্জা নেই
আসনটি চেপে আছে
হনুমান যেন সেই।
দেশ থেকে দেশান্তরে
ঘুরছে মেধার দল
যদি একটি চাকরি মিলে
পাবে বুকে বল।
ঘুরে ঘুরে হয় পেরেশান
মূল্যায়ন তো নেই
অবশেষে নাস্তানাবুদ
হারিয়ে ফেলে খেই।
মেধা যখন ছিল নাতো
চাকরি ছিল ঢের
মেধারা সব ছুটে পালায়
চিংড়ি মাছের ঘের।
চাকরি নাকি সোনার হরিণ!
কেউ ভেবো না তাই
চাঁদা ছাড়া চাকরির আশা
আনবে ব্যর্থতাই।
চাকরির বাজার বড়ই ফাঁকা
যদি থাকে মোটা চাঁদা!
থাক যতোই মামা কাকা
কাজ হবে না ঝাঁকানাকা।
*চাঁদা- ঘুষ, উৎকোচ, নগদ নারায়ণ, উপঢৌকন, দালালি, নজরানা, কন্ট্রাক্ট মানি।
০১.০৮.২০১৪
তোমাদের জন্য ভালবাসা.........
বড় হয়ে যাওয়ার জন্য মাঝে- মধ্যে নিজেকে অভিশাপ দেই। মনে হয়, কেন বড় হলাম? অথচ ছোটবেলায় এই আমার মধ্যেই বড় হওয়ার জন্য কি চরম আকুতি কাজ করতো! ছোটবেলায় আম্মু যখন মারতো তখন মনে মনে বলতাম, “মেরে নাও। যত খুশী মেরে নাও। আমি যখন বড় হব তখনতো তুমি আর আমাকে মারতে পারবানা। তখন আমি তোমার কোন কথাই শুনবোনা”। খালামণি যখন আঙ্কেলের হাত ধরে ঈদের দিন বেড়াতে বের হতো তখন দেখতাম আর ভাবতাম, “বড় হই। তখন ঘোড়ায় চেপে একটা রাজপুত্র এসে আমাকেও এভাবে নিয়ে যাবে। আমি তার প্রিন্সেস হব আর সে আমাকে অনেক অনেক ভালবাসবে। আমি সারা পৃথিবী দেখবো তার হাত ধরে”। আর এখন যত বড় হচ্ছি জটিলতাগুলো ততোই আষ্টেপৃষ্টে বাধঁছে।
অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি ।
( সবাইকে ঈদের উপহার হিসেবে গল্পটা দিলাম )

মেয়েটির সাথে ছেলেটির পরিচয় ওদের স্কুলের একটি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে । ছেলেটির নাম ছিল রাজ ।
তখন ওরা দুজনই পড়ত ক্লাস এইটে । প্রেম কি জিনিস ঠিক মত বুঝতেও পারত না । ওদের পরিচয় স্কুলের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ।
মেয়েটি যখন পুরষ্কার নিতে এসেছিল ছেলেটি আগ্রহ হয়ে মেয়েটিকে তার নাম জিজ্ঞেস করে বসে ।
তোমার নাম কি ?
মেয়েটি উত্তর দেয় , আমার নাম নাজরিন সংক্ষেপে নাজ বলে ডাকতে পারো ।
দুজনের নামের ছিল অনেক মিল । এভাবেই ওদের পরিচয় হয়ে যায় ।