ইউজার লগইন
ব্লগ
ধূসর গোধূলিঃ ২৯ - মুক্তির স্বাদ

চাচা-চাচী চলে গেলে ঘরের সামনের উঠানে কিছুক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে বিভা। তারপর ঘুরে পিছনে তাকিয়ে দেখে জ্বর শরীর নিয়ে প্রভা ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে। মেয়েকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দেয়। অনেক যত্নে সাজিয়ে তোলা কুড়েঘরটির দিকে তাকায় আর ভাবে খুব তাড়াতাড়িই ছেড়ে যেতে হবে এই আশ্রয়টুকুও। ঘরের প্রতিটা কোণে কোণে জমানো হাজারো স্মৃতিরা ভিড় করে মনে। অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় এই নির্জন ঘরের নিভৃত প্রান্তে কাঁদে দুটি অসহায় প্রাণ। কেউ জানে না তাদের মনে কি ঝড় বয়ে যায়। কোথায় যাবে? কে তাদের আশ্রয় দেবে?
-আমার লাইগা তোমার অনেক কষ্ট, তাই না মা? প্রভার কন্ঠ শুনে ঘোর কাটে বিভার
-নারে মা, তোর কি দোষ? সবই আমার ভাগ্য। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে বিভা।
-আমি মইরা গেলেই ভাল হইত, তোমার এত কষ্ট হইত না
-তুই মইরা গ্যালে আমি কারে নিয়া বাচুম? তুই একটু ভাল অইলে আমরা উজানিচরে চইলা যামু
-হেইহানে গিয়া কি অইবো মা? আমগো লাইগা সব জায়গাই সমান
তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
তুমি চোখ মেললেই ফুল ফুটেছে আমার ছাদে এসে
ভোরের শিশির ঠোঁট ছুঁয়ে যায় তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
আমার ক্লান্ত মন ঘর খুঁজেছে যখন
আমি চাইতাম পেতে চাইতাম শুধু তোমার টেলিফোন
ঘর ভরা দুপুর আমার একলা থাকার সূর
রোদ গাইতো আমি ভাবতাম তুমি কোথায় কত দূর
আমার বেসুর গিটার সুর বেঁধেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ চাঁদ চিনেছে তোমার হাসি হেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
অলস মেঘলা মন আমার আবছা ঘরের কোণ
চেয়ে রইতো ছুটে চাইতো তুমি আসবে আর কখন
শ্রান্ত ঘুঘুর ডাক ধুলো মাখা বইয়ের তাক
যেনো বলছে বলে চলছে থাক অপেক্ষাতেই থাক
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।

তিক্কি!
'তিক্কি' শব্দটা জামালপুর- শেরপুরের মানুষদের মুখেই বেশি শুনেছি আমি। আমার আম্মুও ইউস করে, এর অর্থ হলো খুব মনে লাগছে যাকে বলা যায় আঁতে ঘা লাগা। কিছুটা 'সাময়িক উত্তেজনায় মেজাজ খারাপ' এমন কিছু। ঢাকার আম জনতার ভাষায় বলতে গেলে 'বিগাড়' উঠা। গতকালকে আমারও তেমন 'তিক্কি' উঠছিলো নিজের উপরেই। প্রচন্ড শীত জামালপুরে, ঘুম থেকে উঠতে হলো দেরী, মোবাইলে ও ল্যাপটপেও চার্জ নাই এক ফোটা, অনেক দিন পর ভাবলাম বাংলাদেশের খেলা দেখবো টিভিতে তা আর হলো কই?
বড় হতে চাইনা
বড় আমি হতে চাইনা,
হতে চাই ছোট।
আবার যদি হতাম ছোট,
তাহলে কেমন হত ?
ফিরে পেতাম আবার সব !
হারিয়েছে যত-
দুঃখ হাসি কান্না আর পাগলামি।
ছোট ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলা,
আর শয়তানি।
যে ভাবে খেলতাম কানামাছি,
আর পলাপলি,
দোকানদারী করতাম যত,
নিয়ে ধুলা বালি।
কাদার পুতুল দিয়ে বানাইতাম,
বউ আর - বর
সবাই মিলে হৈ চৈ করে বলতাম,
ধর ওরে ধর ;
পাল্কী থেকে পড়েনা যেন নিচে।
আসলে সব কিচু ছিল তো মিছে।
মিছে হলেও ছিলাম যত সুখে।
বড় হয়ে মরি এখন দুখে।
rape as genocide
This is not rape out of control. It is rape under control. It is also rape unto death, rape as massacre, rape to kill and to make the victims wish they were dead. It is rape as an instrument of forced exile, rape to make you leave your home and never want to go back. It is rape to be seen and heard and watched and told to others; rape as spectacle. It is rape to drive a wedge through a community, to shatter a society, to destroy a people. It is rape as genocide. In this genocide through war, mass rape is a tool, a tactic, a policy, a plan, a strategy, and an instrumentality, as well as a practice.
Catharine A. MacKinnon, Rape, Genocide, and Women's Human Rights, 17 HARV. WOMEN'S L. J. 5, 11-12 (1994).
বাবা
নিজের মতো, নিজের ইচ্ছায় বাঁচতে শিখেছি সেই ২০০৭ থেকে। নিজের উপার্জিত অর্থে নিজে চলতাম আর পড়ালেখা করতাম। মনে আছে তিনটা টিউশনি করতাম। মাস শেষে বেশ ভালোই কামাতাম। ভালোই চলে যেতো।
ছোটোবেলা থেকেই ঠান্ডায় কাবু। টনসিল, সাইনাস, মাইগ্রেন সবই ছিলো। এখনো আছে। কান ঢেকে বেড় না হলে ভয়াবহ সমস্যা হতো। কিন্তু স্বভাবসুলভ ঘাউড়ামি করে কখনই মাফলার ব্যাবহার করতাম না। মাঝেমাঝে কানটুপি ব্যাবহার করতাম।
আমাদের পরিবারের একজন মানুষ ছিলেন। যার সাথে আমার দূরত্বই বোধহয় সবচেয়ে বেশি ছিলো। কক্ষনো ফোনে বেশি কথা হোতো না। কল করলেই বলতেন, "নে তোর মা'য়ের সাথে কথা বল।"
জানিনা অত্যাধিক স্নেহ করতেন বলেই হয়তো সচরাচর বেশি কথা বলতেন না।
তবে শীত এলেই প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার কল করতেন। প্রতিবারই একটাই কথা, "মনা, কান গলা পেঁচিয়ে বেড় হইস তো?" কত যে মিথ্যা বলেছি, "হুম, বেড়হই"।
কত যে বিরক্ত হয়েছি!!!
বয়ঃসন্ধির প্রেম

তুমি তখন বয়ঃসন্ধিকালে
বাঁধনহারা মুক্ত পাখির মত
নীল আকাশে মেলে রঙিন ডানা
উড়ে বেড়াও নিজের খেয়ালে,
চোখ দু’টো যে শান্ত নদীর জল
ঘাস ফড়িঙের স্বপ্ন ডানায়
কাটছিলো দিন রৌদ্র ছায়ায়
পায়ে তোমার বাজতো রূপোর মল।
আমি কেবল পেরিয়েছি কৈশোর
ভাবনাবিহীন অলস অবসরে
তোমায় দেখে থমকে দাঁড়াই
দু’চোখ ভরা স্বপ্নমোহের ঘোর,
মনের মাঝে স্বপ্ন হাজার বুনি
রাত্রি দিনের হিসাব নাহি রাখি
দুরন্ত মন বাঁধ মানেনা
তোমায় দেখার প্রহর শুধু গুণি।
প্রায়ই আমার স্কুল হত ফাঁকি
লেখার খাতায় কেবল আঁকিবুঁকি
উথাল পাথাল মনের অস্থিরতায়
পড়ালেখা শিকেয় উঠতে বাকি,
ভরদুপুরে নিরবধি কত অধীর ক্ষণ
স্কুলগেটে তোমার অপেক্ষাতে
বিবর্ণ সব উদাস প্রহরগুলো
বুকের ভিতর তুলতো আলোড়ন।
ভুল বয়সের ভ্রান্ত কালের স্রোতে
রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে
কোন খেয়ালে জড়িয়ে ছিলাম
অবাধ্য এক মাতাল প্রেমের ফাঁদে,
নজরবন্দী রাজকন্যা উড়তে তোমার মানা
স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট বুকে নিয়ে
অনেক পরে বুঝেছিলাম- তুমি ছিলে
অচিন দেশে যাত্রা( দ্বিতীয় পর্ব)
স্কুলে আসা যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে কিছু রিফিউজির বসবাস। এরা ৪৭ এ দেশ ভাগের পর ইন্ডিয়া থেকে এসেছে। এরা দিন মুজুরী, বছর মারী, মাটি কাটা ইত্যাদি আর মেয়েরা বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালায়। রিফিউজি হবার সুবাদে, আমরা যারা স্থানীয় তাদের অনেক অত্যাচার সহ্য করতে দেখেছি। রিফিউজি পল্লীর পাশ দিয়ে যাচ্ছি, এমন সময় জোর কান্নার সোরগোল শোনা গেল। আমার মনে হল কেউ বুঝি মারা গেছে। অগত্যা সাইকেল থেকে নেমে ভিতরে ঢোকলাম। রাস্তার পাশে এলোপাথারি খড়ের বেড়া ও খড়ের চালের ঘর। দুই ঘরের মাঝে চিকন গলি। মাটির কুয়াতে রান্না বান্না ও পান করার পানির ব্যবস্থা। এক আধটা পায়খানা থাকলেও না থাকার মত। প্রাকৃতিক ক্রিয়া কর্ম চলে রাতের আধারে বা দিনের বেলায় ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে একে অপরকে আড়াল করে।
পরিচয় যখন সাংবাদিক
১.
একজন সম্পাদকের কথা বলি। তার মূল ব্যবসা হচ্ছে পত্রিকা বের করার জন্য মালিক খোঁজা। তারপর এক সময়ে টাকা পয়সা নিয়ে ভেগে যাওয়া। তবে ডাকাতেরও বাপ থাকে। ধরা খেয়েছেন অবশ্য একবার। পত্রিকা হারিয়ে দখলে রেখেছেন একটা অনলাইন পোর্টাল, আগের পত্রিকার নামে। তার কাজ হচ্ছে অন্য মিডিয়া থেকে নিউজ চুরি করা। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে চুরি করার সময় আবার তারা নিজেদের ইচ্ছামত সংবাদটি টুইস্ট করা। হিট পাওয়ার জন্য নিজেদের মতো করে সংবাদটি তৈরি করা হয়।
নিজস্ব কোনো রিপোর্টার নেই, কয়েকজন আছে কেবল নিউজ চুরি করার দায়িত্বে। অথচ প্রতিটি রিপোর্টে একজন করে রিপোর্টারের নাম দেয়া আছে। সব নাম ভুয়া।
এই হচ্ছে ওই সম্পাদকের নৈতিকতা, মান ও সাংবাদিকতা। তার আবার সাংবাদিকতা শেখানোর একটা দোকানও আছে। নিজে যা জানেন না, মানেন না, তাই শেখান অন্যদের।
কুলি
এয়ারর্পোট রেলস্টেশন, চাতকের মত তাকিয়ে আছে একদল মানুষ। কখন আসবে ট্রেনটা...উফ ৫ মিনিট দেরী করেছে ট্রেনটা । এগার সিন্দুর আন্তঃনগর ট্রেন, আসছে কিশোরগঞ্জ থেকে।সবাই ভোঁ দৌড় দিল একসাথে ।হুইসেল বেঁজেছে মানে আসছে ট্রেনটা ।
হিরণ এই স্টেশনের পাশে থাকে।ভাঙ্গা একটা ঘরে।হতবাগা বেচাড়া কুলির কাজ করে
স্টেশনে।কথায় বলে না কপালে কষ্ট থাকলে ফেরায় কে?
বাবা বাসের ড্রাইভার ছিল । হরতালে গাড়ি চালাতে গিয়ে পুড়ে মরেছে।আর মেরে গিয়েছে একগুচ্ছ স্বপ্ন আর তাজা প্রাণ দুটোকে। এখন মা আর ছোট বোনের আহার জোটাতে হিরণকেই নামতে হয়েছে এই পেশায় ।
কত আর বয়স ছেলেটার...১২ কী ১৪ হবে।
জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকতে এখন প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে হিরণ ।আগে ট্রেনে উটতে হবে,চলন্ত ট্রেনে।না হলে খদ্দের পাওয়া যাবে না। এখানেও জীবনের প্রতিযোগীতা প্রচন্ড।প্রাণ হাতে রেখেই সবাই উটে ট্রেনে।আশা একটাই দিন
শেষে অন্তত একবেলা পেট পুরে আহার করা যাবে । হিরণের আশা এবং প্রচেষ্টাও অন্য সবার মতই ।
অনেক কষ্টে বড়দের ফাঁক ফোকর দিয়ে ট্রেনে উটেছে হিরণ । কিন্তু কেউই মালামাল চাপাবে না ওর মাথায়।বাচ্চা ছেলে বইতে পাড়বে না ?
হারিয়ে গিয়েছি এইতো জরুরী খবর
ইদানীং আমার একটা সমস্যা হয়েছে। কোন কিছুই এখন আর বিশ্বাস করতে পারিনা। চোখের সামনে যা দেখি সব কিছুকেই ভন্ডামি মনে হয়। আরেকদিন এক প্রোগ্রামে গেলাম বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক নারী নির্যাতনের উপর একটা রিপোর্ট এর কথা বলছিলেন যে রিপোর্টে বলা আছে, বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয় তার গৃহে, তার স্বামীর দ্বারা।রিপোর্টটি শুনছিলাম আর মনে হচ্ছিলো যে এই লোক আজকে সকালে তার স্ত্রীকে পিটিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছেন। জানিনা এটা কেন মনে হলো। হয়তো আমার এই মনে হওয়াটা অমূলক হয়তো বা না। কেননা আমার আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ঘরে স্ত্রীকে এমনভাবে পিটায় যে মারের চোটে স্ত্রীর দাঁত নড়ে যায়, ঠোঁট খুব বাজে ভাবে কাটে। এবং সেই কাটা ঠোঁটে আবার হয়তো সেলাইও পড়ে। অথচ এই মানুষগুলো বাইরের দুনিয়ায় এসে প্রগতিশীল সেজে বড় বড় নীতিবাক্যের ধুয়া তুলে, নারী অধিকার বিষয়ে তারা সবসময় সোচ্চার, বিভিন্ন সামাজিক সাইটগুলোতে তাদের প্রেরণা সবাইকে খুব অনুপ্রানিত করে। কি আশ্চর্য এই পৃথিবী, এই মানুষগুলোর হয়তো দিন শুরু হয় স্ত্রীকে পিটানোর মধ্য দিয়ে। স্ত্রীকে পিটিয়ে পরিবারের সবার কাছে নিজের পৌরষত্ব জাহির করে এরা আরামসে ব্রেকফাস্ট
ধূসর গোধূলিঃ ২৮ - দোররা

মফিজ মিয়া সালিশের বেশ ভাল ব্যবস্থাই করেছে। খালেক মেম্বারকে দিয়ে তার পক্ষে কথা বলার জন্য অনেক লোকজনই জড়ো করে ফেলেছে। সে যেটা বলবে এরা সবাই তার পক্ষেই সমর্থন দিবে। কেবল ব্যতিক্রম সাত্তার মাষ্টার, কাজেম মাঝি আর আতিক। এরা কিছুটা ঝামেলা করতে পারে। তবে জনমতের ভিত্তিতে তাদের মতামতই গুরুত্ব পাবে বেশী।
একশ দোররা! মৌলভী সাবের ফতোয়া শুনে বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে বিভার। ছুটে গিয়ে মফিজ মিয়ার পা জড়িয়ে ধরে
– চাচাজান আমার মাইয়াডারে বাচান, ওরে এত বড় শাস্তি দিয়েন না। ও বাচবো না, মইরা যাইব।
-আমি কি করমু কও? আমার মান সন্মান তো মাটিতে মিশাইয়া দিছো তোমরা। ভাইয়ের মাইয়া বইলা থাকতে দিছিলাম, তার ভালই মূল্য দিছো। বিচারে সবাই যা ঠিক করবে তাই হইবে, আমার কিছু কওনের নাই।
-তোমরা এই কচি নির্দোষ মাইয়াডারে এত বড় শাস্তি দিতাছো, আর যে বদমাইশ এই মাইয়াডার সর্বনাশ করল তার কি বিচার করলা? সভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে সাত্তার মাষ্টার বলে ওঠে।
উনিশ শত ৫২
শীতকাল !
চারদিকে ঘোর কুয়াশার চাদর। কয়েকদিন ধরে র্সূয রশ্নিরও ক্ষমতা হচ্ছে না এই চাদর ভেদ করার। ঘন কুয়াশায় নিমজ্জিত জনপদ যেন নীরবতার অতল গহ্বর। মাঝে মাঝে জনপদের এই নীরবতা ভাঙ্গে ঠান্ডায় কেঁপে ওঠা কুকুরের আর্তনাদে।তারপর আবার সেই সুনশান অবস্থা ।
ষ্টেশনের পাশে ঝুপরির মত একটা তাল পাতার কুটিরে শুয়ে আছে মানস। গায়ে র্জীণ কম্বলের আচ্ছাদন।শীতের নির্মম কষাঘাত পারলে তার পাজর ভেঙ্গে দেয় ।
টুপ টুপ করে শিশির ঝরছে আর তা তার তাল পাতার নীড় বেয়ে নেমে আসছে এই পৃথিবীতে।মাঝে মাঝে দুই এক বিন্দু শিশির ছিদ্র আন্বেষণ করে ঝরে পড়ছে অন্তঃপুরিকায়। আর এই শিশির ভেজা কম্বলের অস্তিত্ব অনুমান করেই কেঁপে ওঠছে মানস ।
বয়স বাড়ছে দিনের।বের হয়ে যেতে হবে জীবন যুদ্ধে। কষ্টমাখা পৃথিবীর কৃত্রিম জীবন আর যুদ্ধ !
মানস ভিক্ষুক ! তবে অন্য সকলের মত সে কারো কাছে হাত পাতে না।সকালের এক কাপ চা হাতে লোকদের পত্রিকা পড়ে শোনায়,গল্প করে আর উপদেশ বাণী শোনায়।
সামনে একটা কার্টুন রাখা এক পা হারানো এই বৃদ্ধের।একটা লেভেলে লিখা "সাহায্য প্রত্যাশী" ।
চলে যায় দিন আরামের অঞ্চলে!
নামটা খুব এক ভারিক্কি হয়ে গেল, তবে ঠিকই আছে এই নামই বলা উচিত। মাসুম ভাইয়ের বই ছিল- রঙ্গরসের জীবনযাপন নয়তো দিন যাপন যেকোনো একটা ( নামটা এক্সেক্টলি ভুলে গেছি)। সেখানে এক ছাত্রের কথা বলা আছে যে বলেছিল, বেহেশত- আরাম আর আরাম, দোযখ- মাইর আর মাইর। আমি বড়ই আরামে আছি তাই বলা যায় বেহেশতের কোনো এক লেভেলেই অবস্থান করছি এখন। তবে বেহেশতে ১৮+ অনেক সুযোগ সুবিধা আছে এখানে তার কিছুই নাই, তবুও এর বাইরে যা থাকা দরকার কম বেশী সবই আছে। আর বাঙ্গালী মধ্যবিত্তের গ্রামের বাড়ী নিয়ে মিডলক্লাস অবসেশন আছে তা মেলালে তো আমার এখানে রীতিমত স্বর্গে থাকারই আনন্দ। বাড়ীতে এসে মনটাও ভালো, আমার এক বন্ধু ছিল সে শহুরে থাকা গ্রামের মানুষ, সে আমাকে সব সময় বলতো দুনিয়ার সব চেয়ে শান্তিময় স্থান হলো নিজের গ্রামের বাড়ীতে থাকা, আমি বলতাম হ তোরে কইছে, ক্ষেত কুথাকার। আমার গ্রাম ভাল না লাগলেও এই শহরতলী মার্কা গ্রামের বাড়ীটা খুব ভালো লাগে।
মজার দুষ্টুমিগুলো !!
লেখাটি মজার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করা নিয়ে। শৈশবের দুরন্ত দিনগুলো কিংবা আরও পরে তারুণ্যে ভরপুর সময়গুলো কখনো পুরনো হয় না, বার বার ফিরে আসে। কখনো আনন্দে দোলায়, আবার ভারাক্রান্ত করে গভীর বিস্বাদে। তবুও সে সময়গুলোই আমাদের জীবনে সোনালী অধ্যায় হিসেবে গণ্য হয়। আসুন দুঃখ ভুলে সবাই মিলে কিছুক্ষণ মজার মজার ঘটনাগুলো শেয়ার করি।
১.