ইউজার লগইন
ব্লগ
ফেরারি
অপলার মুখে রোদ পড়ছে। বিরক্তিতে বাঁকা ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেছে ওর। কোলের উপর খোলা বইটার পাতায় চোখ রাখলাম আমি। শেষ লাইনটা খুঁজে পাচ্ছি না, আতিপাতি করে খুঁজতে শুরু করলাম। এবার দুলুনির বেগে অপলার মাথাটা আমার কাঁধে হেলে পড়ল। শেষ লাইন খোঁজা বাদ দিয়ে বইটা ব্যাগে ভরে রাখলাম। ট্রেনের দুলুনিতে আমারও ঝিমুনি ধরে যাচ্ছে। কামরা ফাঁকা। অপলার ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে দেখি রোদ সরে গেছে, কিন্তু একগোছা চুল মুখের উপর পড়ে আছে, হাওয়ায় দুলছে। আলতো করে চুলটাকে সরিয়ে দিতেই চোখ খুলে ফেলল ও। শাড়ির আঁচলটাকে গুছিয়ে নিয়ে কেজো গলায় বলল
-কটা বাজল?
-পৌনে দুটো।
-কতদূর এলাম বল তো?
-আরো ঘণ্টা দুয়েক লাগবে বোধ হয়, মধুপুর ছাড়িয়ে এসেছি।
ব্যাগ থেকে খাবার, জলের বোতল বের করছে অপলা। হঠাৎ মনে পড়তেই বলল
-ওষুধগুলো খেয়েছিলে?
-ওহ্ একদম ভুলে গেছি...দাও তো
বিরক্ত চোখে তাকালো ও। আমি তাড়াতাড়ি গিলে ফেললাম ওষুধগুলো।
খাবার খাওয়ার পর অপলা ম্যাগাজিন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল। এদিকে আমি উসখুস করছি কথাটা বলব বলে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ও বলল
-বলে ফেলো
আমি খুক খুক করে একটু কাশলাম।
-ইয়ে…তেমন বিশেষ কিছু না অপলা।
শেষ বলে কিছু নেই!
ভেবে ছিলাম টানা অবরোধ ও হরতালেই দিনগুলো কেটে যাবে সামনের সময়, কিন্তু তা হলো না অসীম অবরোধেরও একটা আপাত শেষ ঘটলো। অবরোধহীন এই দিনগুলো কেমন যেনো ম্যারমেরে লাগছে। যদিও আমার জন্য সবই একই রকমের দিন, অবরোধ হতে হতে কেমন জানি আমড়া কাঠের অলসতা ভর করেছে শরীরে। ভুড়ি বাড়ছে শুধু, অবরোধ নেই, আগুন নেই তাও কোথাও যাই না খালি ঝিম মেরে বাসায় বসে থাকি আর দুবেলা করে চায়ের দোকানে চার ঘন্টা, এই আপাতত এক্টিভিটি। আবীর ছিল বাসায়, দিন গুলো কাটলো আনন্দেই। শনিবারে যখন চলে গেল এবার আর তুলে দিতে যাই নি, বাসে তুলে দিয়ে এসে মন খারাপের সেই উদাসী রিকশা ভ্রমন ছিলনা, সিএঞ্জি খুজে চলে গেলো কমলাপুর আর আমি বাসাতে। সেই শনিবার ব্যাপক হাসাহাসির ভেতরে ছিলাম সারাদিন, সন্ধ্যায় আদনান জন্মদিনের পার্টি দিল ক্যাম্পে- ব্যাপক খেলাম। ক্যাম্পে দলবেধে গেলে বিপদ। রিকশা থামালেই ছেকে আসে পোলাপাইন, মামা আমাদেরটায় আসেন, ভাইয়া আমাদেরটায় আসেন, কেউ বলে উঠে এতো আমাদের ভাই আসেন ভাই মুসলিমে, কেউ বলে সারাজীবন মুসলিম মুস্তাকিমে তো বহুত খাইলেন এবার আমাদেরটায় খান রহীম নতুন আসছে। ডিসিশান নেয়া খুব বিপদ হয়ে যায়, তবে দেখা গেছে ঘুরে ফিরে সেই মুসলিমের দোতালা
আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম!
প্রকৃতির পাঠশালায় পড়ে থাকি…
সবুজ প্রান্তর ছাপিয়ে বিস্তৃতি তার কতই অবাধ
সবুজ পাতাকে পড়ি, ঘাসফুল তুলে নিই হাতে,
দু'পায়ে মেখে নিই দূর্বাদলে লেগে থাকা ভোরের শিশির,
শৈশবের 'সবুজ-সাথী' দুলে উঠে স্মৃতির ঝালরে।
খুঁজে-খুঁটে দেখি বৃক্ষ-লতা-পাতা,
বয়সী বটের মতো আমিও সুস্থিত হই, শেকড় ছড়াই।
বৃক্ষের বাকলে খুঁজি প্রপিতামহীর মুখের ভাঁজ
নীড়ে ফেরা পাখিদের ঝুমঝুমি কোলাহলে ভারী হয়ে আসে
গোধুলির গোলাপী আকাশ।
অতঃপর সন্ধ্যা হলে ঝিঁ ঝিঁ ঢাকে
মন্ত্রের মতো প্রাচীন সংগীত এক, মস্তিস্কের কোষে কোষে
ধ্যানী হয়; থেকে থেকে সন্ধ্যের সুরেলা আযান ভেসে আসে
রাত্রিতে পুঁথি পাঠ গানের আসর
রহমান বয়াতির ধরণে আমাকে জানান দেয়
"আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম!"
বিধি বাম!
তোমার সবুজ প্রান্তরে বিষাক্ত সীসার মতো
কে যেন ছড়ায় সন্ত্রাস, ভাঙ্গে নীড়,
ঘর-মন-গেরস্থালি তছনছ, পোড়ামাটি, বিধ্বস্ত মন্দির
কে যেন নিমেষে গুঁড়িয়ে দেয় স্বপ্নসাধ, আমাদের সম্প্রীতি অবাধ।
প্রতিমার ভাঙা হাত, দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে…
এ কোন 'রক্তাক্ত প্রান্তর' দেখি আজ?
হে প্রিয় মাতৃভূমি, জননী আমার!
এক মাহাথিরের সন্ধানে
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় অনুষ্ঠিত ০৫ জানুয়ারীর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটবিহীন একতরফা নির্বা চনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবগঠিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বা চিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন ক্রীড়াপ্রেমী ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৮-২০১৩ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন সুযোগ পেলেই তিনি মাঠে গিয়ে লাইভ খেলা দেখেছেন খেলোয়াড়দের উত্সাহ জুগিয়েছেন অনেক অনেক পুরস্কার ও প্রণোদনা দিয়েছেন তারই শাসনামলে বাংলাদেশ সহযোগী আয়োজক হিসাবে সফলভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন করেছে
সুন্দরবন ভ্রমন ২০১৩ (পর্ব ৪)
সকালের নাস্তা খেয়ে উঠতে না উঠতেই সবাইকে ট্রলারে চাপিয়ে আবারো বেড়িয়ে পড়া হলো কটকা বীচের উদ্দেশ্যে। কাদা, শ্বাসমূল এড়িয়ে চলার জন্যে কাঠের ব্রিজ তৈরী করা, কিছুদূর যেতেই কয়েকটা দেখা মিলে বনবিভাগের তৈরী করা কিছু কটেজ, লাল-শাপলায় পরিপূর্ন পুকুর। কয়েকগ্রুপে ভাগ হয়ে কেউ কটেজের দিকে, কেউ বাঘের আশায়, কেউ বীচের দিকে আগাতে থাকলাম। হাল্কা গাছের সারি পেরিয়ে গেলে গোলপাতা আর আরো নানান গাছেরসারির মাঝে দেখা মেলে সার সার হরিণের দল। চারদিনের ট্যুরে যত হরিণ দেখেছি এখানকার হরিণের পাল দেখতে বেশি আকর্ষনীয় লেগেছে। চঞ্চল নয় অপেক্ষাকৃত শান্ত, ছোটবড় অবাক হয়ে চেয়ে থাকা প্রানীগুলোর সৌন্দর্য্যতা মুগ্ধতা এনে দিবে যে কাউকেই নিঃসন্দেহে।

বুক পকেট
-------- বুক পকেট
আমার একটা আকাশ আছে ৷
যখন সবাই ঘুমিয়ে পরে তারাগুলো জেগে উঠে ৷
ছোট্ট করে ভাজ করে,আকাশটাকে বুক
পকেটে ডুবিয়ে রাখি আলতো করে ৷
পকেটে তো স্বপ্নগুলো দিনের বেলায় করে খেলা ৷
স্বপ্নগুলোর জোসনা দিয়ে আকাশটাকে রাঙিয়ে তুলি ৷
সবাই যখন ঘুমিয়ে পরে মাঝরাতে নিজ নিরে ,
জোসনাগুলো মেখে নিতাম শরীরটাও ডুবিয়ে নিতাম ৷
কেউ জানেনা বুক পকেটে আরো কিছু কষ্ট ছিলো ৷
কষ্টগুলো নিজ মনে জলত সে যে ক্ষণে ক্ষনে ৷
ছোট্ট একটা নদীও ছিল বুকপকেটের মাঝখানটে ৷
কষ্টগুলো জ্বলত যখন নদীর পানি আপন ধারায় ছুটতে তখন আবেগ হারায়
৷
সাথে কিছু দুঃখ ছিল চুপটি করে বুক পকেটে থাকত সেতো নীরব
মনে ৷
নদীর পানি শুকিয়ে গেলেই দুঃখ তাকে ভরিয়ে তোলে ৷
লোনা পানির আপন ধারায় ছুটত নদী নিজ গতিতে ৷
আকাশটা আজ অনেক বর ৷ পুব আকাশে মেঘ জমেছে ৷ তারাগুলোও
হারিয়ে গেলো ৷ আকাশের
পানে তাকিয়ে দেখি জোসনাগুলোও নেই সেখানে ৷ আবার
কবে ভরবে আকাশ ?
জোসনাগুলো করবে খেলা ৷
আমি তখন সুখের ধারায় গুনবো আকাশে কয়টি তারা ৷
দারুন একটি বাংলাদেশী ই - কমার্স সাইট HotOfferBD.COM
আজ আপনাদের একটি বাংলাদেশি ই-কমার্স সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো । যেখান থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পছন্দ করে কিনতে পারেন সহজেই । এখানে পাওয়া যাবে সব ধরনের Pen drive , Memory Card , Headphone , All Kind Of Electronics , আকর্ষণীয় T-Shirt , পছন্দের মানুষটিকে দেওয়ার মত নানান Gift , বাচ্চাদের প্রিয় খেলনা সহ আরো অনেক কিছু !!
পছন্দের পণ্যটি কিনতে কে না চায় ?? আর তাও যদি হয় অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী দামে !! তাহলে তো আর কথা-ই নেই !!
অতঃপর বহুদিন পর
বহুদিন পর লিখতে বসলাম। বহুদিন পর মনে হলো আমি ঠিক যে বিন্দু থেকে হাটতে শুরু করেছিলাম ঠিক সে বিন্দুতে ফিরে আসলাম। তখন বুক ভরা স্বপ্ন ছিলো, এখন স্বপ্ন ভাঙ্গা বেদনা। স্বপ্ন ভাঙ্গা গড়ার আঘাতটা বাহ্যিক নয় বলেই আমরা আবার শুরু করতে পারি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা কিছু একটা গড়ার জন্য ছুটতে থাকি। মৃত্যুর শীতল পরশ যখন চুমু দিয়ে যায়, তখন এক লহমায় ফিরে দেখি অতীতের ক্ষনগুলো। জন্মের পর হুট করে আধার থেকে প্রচন্ড আলোয় কান্না জুড়ে দিলাম, মৃত্যুর পর সেই অন্ধকারে ফিরে গেলাম চোখের শুকনো অশ্রু নিয়ে।
যখন যা মনে হয় ২
প্লেনে আর বিমানবন্দরে ধূমপান নিষিদ্ধ কিন্তু ডিসকাউন্টে সিগ্রেট বিক্রি আইনসিদ্ধ।
কিছু বিখ্যাত লোকের সংস্পর্শে এসে অনুভূতি হয়েছে, আরমানী গুচ্চি বাহিরে কেবল, ভিতরে সবাই সমান নাঙা
প্রতিদিন সকালে অফিস যাওয়ার আগে কাবার্ড খুললে খুঁজে পাই না কোন কাপড় পরবো। সবগুলোইতো কতোবার পরা। আবার সপ্তাহান্তে কাবার্ড গুছাতে গেলে মনে হয়, একী অবস্থা, কি করেছি, জায়গা হয় না। বাহান্ন সপ্তাহই একী অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাই। কোন অনুভূতিটা সত্যি নাকি আমি অস্বাভাবিক?
ভালবাসা একটা বায়বীয় পর্দাথের নাম, যেটা অনুভব করতে পারায় আর না পারায় দৈনন্দিন জীবনে অনেক পার্থক্য হয়ে যায়।
মদ খাওয়া হারাম কিন্তু ঘুষ খাওয়া হালাল।
সংসার হলো কারগিল সীমান্ত যেখানে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের শান্তিপূর্ন সহাবস্থান। বর্ডার লাইন ক্রস করলেই গোলাগুলি।
অনুপ্রেরণামূলক কিছু কথা
যখন একা থাকার
অভ্যাস হয়ে যায়,
ঠিক তখনি স্রষ্টা কিছু মানুষের
সন্ধান দেন ।
যখন তাদেরকে নিয়ে ভাল
থাকার অভ্যাস হয়ে যায়,
ঠিক তখনি আবার
একা হয়ে যেতে হয় |
________জর্জ বার্নাড
অভিমান হল হৃদয়ের অতি গোপন
প্রকোষ্ঠের ব্যাপার,যে কেউ
সেখানে হাত
ছোঁয়াতে পারে না
.........সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ছোট্ট বেলায় অভিমান
করলে অনেক কিছু পেতাম,
আর এখন অভিমান করলে অনেক কিছু
হারাই..
কারণ তখন ভালবাসায় ছিল পূর্ণতা,
আর এখন ভালবাসা পায় শূন্যতা !
অপ্রিয় হলেও সত্য !
__হুমায়ুন আহমেদ
প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই
প্রেম করার আগ্রহ থাকে,
কিন্তু এর বাস্তবায়ন
খুব কম মানুষই করতে পারে|
আর যারা করতে পারে
তারা আসলেই ভাগ্যবান|
_____পি.এইচ.রুপক
দুঃখ কখনো একা আসে না- দল
বেধে আসে
- সেক্সপিয়ার
"আজকালকার মেয়েদের
ডায়েরি লেখার মত
সময় নেই। নিজেদের কথা তারা শুধূ
গোপন
করতে চায়। লিখতে চায় না"
---হুমায়ূন আহমেদ
"মানুষের জীবনটা হচ্ছে একটা সরল
অংক। যতই দিন যাচ্ছে,ততই
আমরা তার সমাধানের
দিকে যাচ্ছি।"
হুমায়ূন_আহমেদ
প্রত্যেকেই বিশ্ব বদলে দেয়ার
চিন্তা করে কিন্তু
নিজেকে বদলানোর চেষ্টা কেউ
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিকেলবেলা বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। বিমান থেকে বঙ্গবন্ধু দেখলেন গোটা ঢাকা শহরের সব মানুষ যেন বিমানবন্দরকে ঘিরে আছে। একজন বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর পাশেই বসা ছিলেন। দেখলেন বঙ্গবন্ধু হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনার তো আনন্দের দিন। আপনি কাঁদছেন কেন?' বঙ্গবন্ধু কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, 'এত মানুষ যে আমার অপেক্ষায়। আমি ওদের খাওয়াব কী? পাকিস্তানিরা তো সব ধ্বংস করে গেছে।' জাতির পিতা না হলে ওই মুহূর্তে এ রকম কথা বলা যায় না। বঙ্গবন্ধুর উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক। রাস্তা নেই, ব্রিজ নেই। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোনো টাকা নেই। আজ ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি মজুদ আছে। কীভাবে শুরু হয়েছিল আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার?
ধূসর গোধূলিঃ ২৬ - মেলা...

সকালে উঠে চারটা মুখে দিয়েই কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাচ্ছিলো বিভা। পিছন থেকে প্রভার কথা শুনে ফিরে তাকায়। প্রভা বলে,
-মা, কাইল রাইতে তোমারে যা কইছিলাম মনে আছে?
বিভা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। মন খারাপ হয়। মেয়ের ছোট খাট আবদার পূরণ করারও সামর্থ্য ওর নেই। কাল রাতে মেলা থেকে চুড়ি, ফিতা কিনে দেবার জন্য আবদার করেছে প্রভা। বিভা ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার সময় অনেকটা দায়সায়রাভাবেই বলে,
-দেহি, টাকা পাইলে আনুমনে
-তোমার কাছে কিছু চাইলেই খালি এমন কর, প্রভা অভিমানের সুরে বলে।
-এত্তবড় মাইয়া, তুমি বুঝনা এইগুলান কিনতে টাকা লাগে। ভাতই জোডেনা, তায় আবার সখ পূরণ!
-থাউক, লাগবে না
-কইছি না টাকা পাইলে আনুমনে, বলে বাজারের উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকে বিভা।
অরাজনৈতিক স্ট্যাটাস - দুই
আওয়ামীলীগ সাংবিধানিক শূন্যতার অজুহাতে হোক, অথবা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার অজুহাতেই হোক ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।
আর বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগণতান্ত্রিক নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে এবং নির্বাচন বর্জন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।
অতএব বাংলাদেশের বড় দুই জোটই গণতন্ত্র রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে কি সিকিমের মত বাংলাদেশকে পুরোপরি ভারতের হাতে তুলে দেবো? ওটা তো বিশাল জনসংখ্যার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ।।
[বি: দ্র: আমার গত পোষ্টটা মুছে দেবার কোন কারণ ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাজ থেকে পাওয়া গেল না। পোষ্টটা সরানোর পর অন্ততঃ কারণ জানানোর প্রয়োজন মনে করছি। অথচ অন্য এক ব্লগে এই পোস্টটাতে ৯ জনের মন্তব্য পেয়েছি, যাতে পোস্টটাতে কোন সমস্যা আছে বলে কেউ বলেন নি। "আমরা বন্ধু"-র কর্তৃপক্ষের আচরণে মর্মাহত।]
হাজি সেলিম ফঠিকছড়িতে
১।
উদ্ভিগ্ন ছিলাম খুব ! দু’মেয়েই সরকারি চাকুরে । নির্বাচনে ডিউটি পড়েছে । পুরো রাত প্রায় নির্ঘুম কেটেছে, চোখ লেগেছিল ভোরের দিকে । ঘুম ভাংতে ভাংতে তাই সকাল দশটা । দেশে বারটা । মেয়েরা আগের দিন বলে দিয়েছিল ফোন নীরব থাকবে বেলা২টা পর্যন্ত । এখনো পুরো দু’ ঘন্টা বাকি । টি ভি অন করলাম । নির্বাচন লাইভ দেখাচ্ছে । ভোটার উপস্থিতি নগণ্য । সহিংসতার কিছু কিছু ঘটনা লাইভ দেখাচ্ছে । একজনকে কয়েকজনে মিলে পেটাচ্ছে, কিছু নির্বাচনিী সামগ্রী জ্বলছে, বেশক’টা নির্বাচন কেন্দ্রও । টেলপের দিকে চোখ দিলাম । হতভাগ্য একজন নির্বাচন-কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা । একজন সহকারীর কব্জি কেটে নিয়েছে । বুক ধক্ করে উঠল । কম্পিত হাতে বড় মেয়েকে রিং দিলাম । আমার আশার বিপরীতে ফোন ধরলো মেয়ে ।
-হ্যলো ।
-হ্যালো আব্বু, সালাম আলায়কুম ।
-ওয়ালায়কুম, কেমন আছো মামণি ?
-ভালো আব্বু ! তুমি তোমরা ?
-আল্লা্ রহমতে ভাল । ফোন সাইলেন্স থাকবে বলেছিলে !
রিস্টকাটার্স: আ লাভ স্টোরি
মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে?
এটা আলোচনার বিষয় হিসাবে আকর্ষণীয় কিন্তু অনেক বড়। তারচেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ভাবি। সেই মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে? সেদিন রাজধানীর হাতিরঝিলে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ঝাপ দিয়েছিলো একটি যুগল। তাদের মাঝে ছেলেটা মারা গেছে। সাঁতার জানতো না কেউই। প্রেমে বাঁধা পেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিলো দু'জন। নিশ্চই খুব কষ্ট হচ্ছিলো তাদের। প্রেমিকার বাগদান হয়ে গেলে প্রেমিকদের কি এমন কষ্টই হয়? পৃথিবীর সব কষ্ট কি তখন তুচ্ছ মনে হয়? কোথায় যেন পড়েছিলাম, সবচেয়ে কষ্টের মৃত্যু হলো আগুনে পুড়ে মরা। শরীরের প্রতিটি কোষ পুড়তে থাকে এবং আলাদা আলাদা যন্ত্রণার জন্ম দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম কয়েকদিন যন্ত্রণা ভোগের পর মরে। দ্বিতীয় কষ্টের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে মরা। ফুসফুস পানিপূর্ণ হয়ে যাবার পর সেটা ফেটে যায়। সেই কষ্ট বুকের মধ্যে নিয়ে মানুষ বাধ্য হয় মারা যেতে, কেননা একবার পানিতে তলিয়ে গেলে আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। এসব জানা আজকাল কঠিন কোনো বিষয় না। কঠিন হচ্ছে এসব জানার পরও স্বেচ্ছামৃত্যুকে আহ্বান করা। বুঝে হোক বা না বুঝে, সেই কঠিন কাজটি মানুষ কখন করে? কতটা নিরূপায় হলে?