ইউজার লগইন
ব্লগ
নষ্ট স্মৃতি
তোমায় রোমন্থন করি
তব ভাষায় নষ্ট
স্মৃতির মাঝে,
যা মম তরে অমৃত
সম।।
তব সকল স্মৃতিকে রোমন্থন করি
মম পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের পরিসীমার সকল
অনুভূতির দিয়ে।।
দোতলার বারান্দা থেকে
বাউন্ডারি ওয়াল বরাবর
লেবু, পেয়ার, পেপে গাছে
থোকা থোকা ফল গুলো
তব শরীর নামক
অবয়ব খানির নির্দিষ্ট
কিছু অংগের স্মৃতি
মানস পটে
জাগরূক করে তোলে।
আমি পলকে রূমাঞ্চিত
হই।
তোমাকে পড়ে মনে
সেটা কি নষ্ট স্মৃতি।।
তবু আমি আমার ভাবনার সাগর
কেন,
পুকুরেও যেতে চাই না।
জানি আমি আমার নিজকে
ধরে রাখতে পারব না।
আমি/ আমরা যে প্রকৃতি দাস
তাকে এড়িয়ে যায়
এ সাধ্য কার??
তাকিয়ে দেখ
বাউন্ডারি ওয়ালের
ওপারে বাঁশের ঝাড়।
দুটি চুড়ুই পাখি
মনে হয় সদ্য বিবাহিত
নইলে এত!
এত,আমোদে মাতবে কেন?
চারদিকে হাজারও পাখির কোলাহল
তাতে ওদের কোনই ভ্রুক্ষেপ নেই।
থাকবেই বা কেন?
ফিরে তাকাও অদুর অতীতে
আমার কথা বাদ দাও,
তব মনে কি জাগবে না স্মৃতি।
তাকে কি তুমি নষ্ট বলবে।
বললে বল, আমি বলব না।
আমি বলব সুখ, মহা সুখ স্মৃতি।
খন্ডখানি জমি পরে
ধরিছে মাছ, কিশোর যুবা,
দেখিছে বৃদ্ধ বৃদ্ধা।
মিষ্টি, দই, রসমালাই
গতকাল একটি কন্সট্রাকশন আইটেম চেক করার সময় ধরা পড়ল আইটেমটির রিকুইজিশনে (চাহিদা পত্র) পরিমাণ কম দেয়া হয়েছে। রেশপেক্টিভ ইঞ্জিনিয়ারসহ অনেকেই একাউন্টেড এর রুমে বসে কথা বলছিলাম। আমি বললাম যা চেয়েছি তাই আসুক পরে দেখা যাবে। একজন বললেন স্যার যে পরিমাণ ওয়েস্টেজ দেয়া হয়েছে কাভার হয়ে যাবে। শ্মশ্রুমণ্ডিত আমার এক প্রিয় সহকর্মী প্রাক্কলন ও সাইটের কাজে পাকা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, উনি যা জবাব দিলেন তা বলার আগে একটু ভুমিকায় যেতে হয়। যদিও ভুমিকাটি উনি বলেন নি, সরাসরিই বলেছিলেন।
এক ব্যাক্তির অন্য আর একজনের সাথে বিরোধ থাকার কারনে সখ হল, সে প্রতিপক্ষের সেরা গরুটি বিষ প্রয়োগে হত্যা করবে। কিন্তু এত বড় গরু মারতে হলে তাঁর জন্য কটটুকু বিষ কিনতে হবে তা তাঁর জানা ছিল না। তাই সে চাচা সম্পর্কিত এক মুরুব্বীর কাছ থেকে পরামর্শ চাইল। চাচাজানটি ছিলেন আবার হাজী মানুষ, তিনি কি করে এহেন খারাপ কাজ করার পরামর্শ দিতে পারেন। তাই তিনি ছন্দাকারে বললেন,
হাজী মানুষ কিছু কইতেও পারি না,
যত বড় গরু এক পোয়ার কম মরবেও না।
বাড়ী থেকে ফিরে, বইমেলা ফার্স্ট লুক!
সবাইকেই ফিরতে হয়, আমাকেও তাই ফিরতে হলো বাড়ী থেকে। যদিও শরীরের কন্ডিশন আশাব্যাঞ্জক না, ঠান্ডা লেগে মাথা খালি ভনভন করছিল গত কাল পরশু। আজ একটু কম, তবে শরীরটা কেমন জানি অসস্তিকর ঠেকছে। এক ডাক্তারকে ফোন দিলাম তিনি বললেন বসে থাকা লোকজনেরই এই সব হয়, শরীর মেজমেজ করে সাথে মাথা ভনভন করবে। যারা কাজের লোক তাদের নাকি এসব হয় না! শুনে পিত্তি জ্বলে গেল, তাই কাজ নিয়ে বসলাম। বই পড়ছিলাম, তার আগে ঘন্টা খানেক চায়ের দোকানে বসলাম, নিউএইজ পত্রিকা কিনে হেডলাইনে চোখ রাখলাম। এই তো বাসায় ফিরে জোহরের নামায পড়ে ভাবলাম একটা ব্লগ লিখতে থাকি- যতদুর লেখা যায়, পছন্দ না হলে পোষ্ট করবো না প্রথম পাতায়!
ভালবাসা কেন এত অসহায় ?
--- এই যে অভিমানী
---- হুমম ৷
-- চিনতে পারছো না ?
- তোমার চেহারাটাতো ভুলের মতো নয় ৷
- অনেকদিন পর দেখা তাই না ?
- হুমম প্রায় ৭ বছর ৷
- কেমন আছো ?
- সবসময় ভালোই থাকি ৷
- আজ এই রাস্তায় ?
- নিশ্চুপ বিকেলে প্রতিদিনে হাটি ৷তুমি হঠাৎই!
- গতকালেই দেশে ফিরেছি ৷মনে আছে এই রাস্তায় হাত
ধরে হাটার কথা ?
- সবই স্মৃতি ৷
- তো অভিমানী বিয়ে করেছ ?
- স্কুল জীবনে কোন এক কিশোরীকে বিশ্বাস
করেছিলাম ৷
- কেন শুধু শুধু অপেক্ষা করছো ?
- কেউ ফিরবে বলেতো কথা দেয় নি ৷ তোমার
কোলে কে?
- আমার ছেলে নির্বাক ৷
- আমার পছন্দের নামটাই রেখেছ?
- চকলেট খাওয়াবানা?
- কতদিন কিটকাট দেখি নি ৷
- এখনো ভালোবাসো ?
- জানিনা তবে এখন আর কারো জন্য কষ্ট পাই না ৷
কারো কলের অপেক্ষা করি না ৷
- আর অভিমান ?
- সেটা সবার উপর করা য়ায় না ৷যার উপর
করি সেইতো ছেরে যায় ৷করে লাভ কী ৷
- এখনও কবিতা লিখো ?
- অবাঞ্ছিত লাইন ৷
- আর গল্প ?
- গল্পের রাণী হারিয়ে গেছে ৷
- নতুন কাউকে খুজে নাও ৷
- কেউতো পুরাতন হয়নি ৷
- কেন শুধু শুধু বাচ্চাদের মতো এমন করো ? ৷
ভালো থেকো ৷নিজের যত্ন নিও ৷
- বলেছি তো কখনো খারাপ থাকি না ৷
ফটোগ্রাফী এবং গবেষণা
একটা অসাধারণ ছবির পেছনে অনেক কষ্টের গল্প থাকে... যা আমরা জানি না। জানতে চাইও না। আমরা কখনো ভাবতে চাইনা ফটোগ্রাফারের ভিউটা। আমরা বই এবং ম্যাগাজিনে দূর্দান্ত সব ছবি দেখি... কিন্তু এইসব ছবিটা দেখেই ওয়াও বলেই আমাদের কাজ শেষ ... কিন্তু কখনো খুজি না যে, ছবিটা তোলার পেছনে একজন ফটোগ্রাফারকে কতদুর যেতে হইছে? কত সময় ব্যায় করতে হইছে? কতটা অর্থ ব্যয় করতে হইছে?
বিখ্যাত সব ফটোগ্রাফারদের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ছবির বিষয় নিয়ে গবেষণায় তার অনেক সময় চলে যায়। যেটা আমরা কখনোই করি না ... আমরা যেই কাজটা করছি... এক দঙ্গল লোক বিশাল বিশাল ক্যামেরা নিয়া বের হইলাম... যাইয়া ধুমাইয়া কোপাইয়া চাইলা আসলাম। এভাবে এক্সিডেন্টালী ভালো ছবি আসে না তা না। অবশ্যই আসে... সেটা উল্লেখ করার মত নয়।
বইমেলা ২০১৪: টুকটাক অভিজ্ঞতার খসড়া
এক.
এত সুখের পৃথিবী ছেড়ে যেতে মন চায় না
আজ ফেব্রোয়ারী ০২, আমার জন্মদিন। তবে আমার সত্যিকার জন্মদিন আমার মনে নেই।আপনারা হয়ত আকাশ থেকে পড়বেন এটা আবার কেমন কথা নিজের জন্মদিন জানে না। আমরা আট ভাইবোন, তদুপরি আমরা গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমাদের গ্রামে কারও জন্মদিন পালন করা হতো না। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কারও মাথাব্যাথা কোনদিন ছিল না। আজকের মত ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটিকর্পোরেশনের কোন বাধ্যবাদকতা তো ছিলই না।
তবু এস এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের সময় হেড স্যার চঞ্চল কুমার কুন্ডু যখন জানতে চাইলেন, আমি পরদিন মার কাছ থেকে বাংলা সনের যে তারিখটা স্যারকে প্রদান করলাম,তা দিলে আমি যখন এস এস সি পাশ করব তখন আমার বয়স হবে প্রায় সতের বছর। আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্যার আজ পৃথিবীতে নেই,উনি আজকের দিনটি আমার জন্মদিন নির্ধারন করলেন যাতে এস এস সি পাশ করলে আমার বয়স হবে পনের বছর। আর সত্যিকার জন্মদিনটি চর্চা বহির্ভূত থাকার ফলে এক সময় তা স্মৃতি থেকে হাড়িয়ে যায়।
কাছেদূরের বইমেলা (১)
ঢাকা থাকতে প্রতিদিনই যে বইমেলায় যেতাম, তা নয়; কিন্তু একটা স্বান্ত্বনা ছিল যে, চাইলেই যেতে পারবো। যাওয়া হতো অধিকাংশ দিনই, হয়তো বই কেনা হতো না, দেখা হতো না কারোর সঙ্গেই; কিন্তু মেলা চত্বরে খামোকাই বসে থাকতে ভালো লাগতো, কিংবা অনর্থক ঘুরাঘুরি।
হৃদ মাঝারে অশ্রুসারি
তখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের হাওয়া লাগছিলো, লহমায় ছুটে যেতাম ঢাকার এ কোণা ওকোণা। সেবার প্রচন্ড শীত পড়েছিলো রাজশাহীতে, কাঁকনহাট শীতের রাতে অদৃশ্যপুরী হয়ে যেতো। দাদা দাদীর কবর উঠোনের কোনায়।রাতভর চুপচাপ বসে থাকতাম, জানালা দিয়ে দেখতাম ঘূটঘূটে আঁধার। প্রতি মঙ্গলবার হাট বসতো। সারা সপ্তাহ যে হাট ঝিমুতো শীর্ণ পাখির মতো, মঙ্গলবার ঠিক উৎসবে সেজে উঠতো। চায়ের দোকানে বসার ঠাই নেই, কুলিদের হাঁকে গমগম অথবা ভ্যানের টুনটুন আওয়াজে কানটা ভরে যেতো।
হাট শেষ হয়ে এল, আবারও সেই নিস্তব্ধতা। সেবার রাত করে হাটে গিয়েছিলাম কেরোসিনের খোঁজে। ঠান্ডায় দাঁত কপাটি একসাথে রাখার চেষ্টার অন্ত ছিলো। দোকান থেকে এক বোতল কেরোসিন কিনে যখন ফিরছিলাম তখন দেখি রসের হাড়ির পাশে একটা ছেলে শুয়ে শুয়ে কোকাচ্ছে। গায়ে ফিনফিনে কাপড়। এতরাতে এভাবে হেটে চলে গেলে রাতে ঘুমাতে পারবো না, তাই ছেলেটাকে ডেকে তুললাম।
: কিরে? শীতে তো মারা যাবি?
: কিছু কইবেন? ঘুম ধরছে। ক্ষুধা আর সহ্য হইতেছে না।
: নাম কি তোর?
: নাম দিয়া কি করবেন? হুদাই আইছে।
বই মেলা প্রিভিউ!
কোনো ভাবেই কেউ আটকাতে পারলো না ফেব্রুয়ারী মাসকে আর, আমি এবার তো ভাবলাম রাজনৈতিক দোলাচলে সব কিছুই আটকে যাবে। কিন্তু আটকানো গেল না ফেব্রুয়ারী মাসকে, তাতে আমি বেজায় খুশী। আমি তো চাই বছরে তিনটা ফেব্রুয়ারী আসুক, তাতে তিনটা বইমেলা হোক। গতবারে বইমেলার শেষ দিনে রাতে যখন রিকশায় বাসায় ফিরছিলাম- একা ভাবছিলাম ফেব্রুয়ারী মাস কেন একত্রিশে হয় না, কেন মেয়াদ বাড়ায় না মেলার কখনো, এইসব যাবতীয় অর্থহীন ভাবনা। কিন্তু আ্মার ভাবনা আমার মতোই ছেলেমানুষ মার্কা। তাই কিছুই হয় না, হবারও কথা না। তবে কাল থেকে ফেব্রুয়ারী এই ভাবতে ভাবতেই আমার মনটা চনমনে হয়ে উঠছে। তবে দুঃখের কথা হলো আমি ঢাকার বাইরে। এখানে অবশ্য আছি স্বর্গ সুখে, কিন্তু মেলা তো কাল শুরু হচ্ছে যেতে পারবো না ভাবতেই সব সুখ মাটি মাটি লাগছে। আমি ঢাকায় যখন থেকে স্থায়ী ভাবে থাকি তার পর থেকে সব মেলাই প্রথমদিনে যাবার একটা বাতিক আছে। প্রাইমিনিস্টার উদ্বোধন করে চলে গেলে, ভিআইপিরা বিদায় নিলে আমজনতাকে লাইন দিয়ে ঢুকানো হয়। সবাই বলে বইমেলার লাইন বিরক্তিকর, লাইন ভেঙ্গে সামনে চলে যায়, আমার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই ভালো লাগে। মধুর এক অপেক্ষা। প্রথম দিনে মেলায় গিয়ে দেখা যায় অনে
শেষ বিদায়
আর না -আসিব আমি তোমারই মাঝে।
ব্যার্থ হয়োনা যেন, তুমি আমাকে খুঁজে।।
আমি চলে গেলে আসিবে নতুন জন।
তারে তুমি করে নিও একান্ত আপন।।
বিদায়ের স্মৃতি বড় বেদনা দায়ক।
আমি চেয়েছিনু তব স্বপ্নের নায়ক।।
বহু আশা নিয়ে এসেছিনু তব দ্বারে।
শত ব্যাথা বুকে নিয়ে আসিলাম ফিরে।।
তোমাকে মনে থাকবে মোর আমরণ।
যতকাল বেঁচে থাকি করিব স্মরণ।।
বিদায় বেলায়, আমি তাই বলে যায়।
অন্যায় যদি করে থাকি তোমার কাছে,
সব টুকু ফেলে দিও মন থেকে মুছে।
এ জীবনে যত দুঃখ যাবে সব ঘুচে।।
পাহাড়-ঝরনা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী-ক্ষূদ্র নৃগোষ্ঠী আর রহস্যময় পাহাড় / ঘুরে এলাম বগালেক-কেওক্রাডং-তাজিংডং-নাফাকুম
পাহাড়-ঝরনা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী-ক্ষূদ্র নৃগোষ্ঠী আর রহস্যময় পাহাড় / ঘুরে এলাম বগালেক-কেওক্রাডং-তাজিংডং-নাফাকুম
--শাশ্বত স্বপন
১ম পর্ব
আমাদের পাঠশালা
আমাদের চোখের সামনে লাইব্রেরীর তাকগুলো থেকে গল্প-কবিতা-উপন্যাসের বইগুলোকে হটিয়ে ক্যারিয়ার গাইড আর "৩০ দিনে সহজে শিখুন" জায়গা করে নিলো। সাফল্যের সহজ পথ খুঁজতে খুঁজতে আমরা পাঠ্যবই বাদ দিয়ে গাইড আর কোচিং এর সাজেশনের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেলাম। স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরামর্শক হয়ে ওঠার তাড়নায় তাদের মৌলিক গবেষণার আগ্রহ কমে গেলো । এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্বাদু পানিতে তেলাপিয়ার প্রজননের ১০টি নিয়ম আর জীববিজ্ঞানের গবেষক উপসম্পাদকীয় পাতায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত লিখে পদোন্নতির সুযোগ পেয়ে যান।
যাদের যা করার কথা ছিলো তারা সে দায়িত্ব পালন করছেন না। অন্তর্বর্তী মেধাশূণ্যতার আঁচর লাগছে শিক্ষায়াতনে, পদলেহী আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন বুদ্ধিজীবী সমাজ কৃষ্টি-সংস্কৃতি চর্চায় মননের উন্নয়নের পথ না খুঁজে নৈতিকতা খুঁজছেন ধর্মগ্রন্থে। সাহিত্য-ইতিহাস-ভাষাবিজ্ঞানের ভালো বইগুলোর তালিকা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার পরবর্তী ৪ দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমী থেকে হাতে তোলার মতো গবেষণাগ্রন্থ খুব বেশী প্রকাশিত হয় নি।
সময়ে সময়ে সময় ভেঙ্গে যেতে থাকে
ধবল গন্ধরাজ আমাকে যেদিন মোহিত করেছিল
শিপ্রার নীল স্কুল ড্রেসে তার ছাপ এঁকে দিচ্ছিল
আমি সুবাস নিতে চেয়েছিলাম তখন
সে না গন্ধরাজ না শিপ্রা – বুঝিনি
বহু বছর পর তার ত্রিমূর্তিতেও আমি মোহিত -
তার জলবৎ কথামালার 'পর ভাসমান পোকারা ছুটে
দিক-বিদিক দ্রুত
পদ্ম পাতার মুক্তোও হঠাৎ উঠে নড়ে
মূহুর্তের বিস্ফোরণে সময় পাখা মেলে
সময় থেকে পৌঁছি আমি অন্য আরেক সময়
বোধ থেকে পৌঁছি আমি অন্য আরেক বোধ
রক্তাভ দালিম দানাগুলো এক এক করে
উন্মুক্ত গ্রাসে যেই ছুট দিলো
অগত্যা আমার ডানা মেলে উড়তেই হলো
নিকষ আলোর পাপ
ফিনিক্স জন্মের বোধোদয় নয়
শরীরের মাঝে যদি জেগে যায় অশরীরী কিছু
তবে তো তারস্বরে চীৎকারও ক্ষয়ে যায়
আহ্ শব্দহীন এক আস্ফালন কেন যে ভেতর ভেতর জেগে উঠে
কান্নার সঘন তারস্বর ভেসে আসে না
আমার হৃদয়ের ডান বাম সম্মুখ পশ্চাৎ সব দেখেছি
