ইউজার লগইন
ব্লগ
শীতকালীন অলিম্পিক এবং কিছু কথা
আমারা সবাই কমবেশি অলিম্পিক এর সাথে পরিচিত। তবে অনেকেই হয়তো জানেনা যে অলিম্পিক দুই ধরনের হয়। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এর সাথে আমরা ভালভাবেই পরিচিত কারন এখানে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে থাকে। অপরদিকে কিছুদিন আগেই আর একটি অলিম্পিক হয়ে গেলো যা শীতকালীন অলিম্পিক নামে পরিচিত এবং এর সম্পর্কে আমরা অনেকেই ওয়াকিবহাল নই। এই অলিম্পিক তো প্রতি ৪ বছর পরপরই হচ্ছে কিন্তু কেন এবারের অলিম্পিক নিয়ে এই লেখা? এবারের শীতকালীন অলিম্পিক নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বিশ্বমিডিয়াতে। তারই কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবো এই লেখাতে। প্রথম বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে এবারের আয়োজনটি শীতকালীন অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন। 
বাংলাদেশের আদিবাসি পরিস্থিতি
পাহাড়ে কিংবা সমতলে কোথায় আদিবাসীরা নিরাপদ নয়। রাজনৈতিক দুবৃত্বরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে তাদের উ্চ্ছেদ করছে, তাদের বাপ-দাদার ভিটা দখল হয়ে যাচ্ছে। বড় পরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হলে অধিকাংশ ঘটনাই সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসে না। অন লাইন সংবাদপত্র-ব্লগ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদিবাসীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সম্পাদকের সচেতন উপেক্ষায় লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা অমানবিকতার ইতিহাস প্রত্যক্ষ না করলেও একটি জনগোষ্ঠীর উপরে এর পরোক্ষ প্রভাব ঠিকই অনুভব করতে পারছি।
ভালোবাসা কারে কয়
টেনশন হচ্ছে?
- হুম
কেন?
- জানিনা
এতো বছর প্রেম করে, এতো চিন্তা ভাবনা করে একটা ডিসিশান নিলাম। আর তুই টেনশানে আধমরা হয়ে যাচ্ছিস। কেন? আমার উপর বিশ্বাস পাচ্ছিসনা?
- না
কেন? কি মনে হচ্ছে? বিয়ের পর আমি তোকে ফেলে চম্পট দিব?
- হুম
হা হা করে হেসে উঠলো রাতুল। তিতলী অবাক হয়ে ওর হাসির দিকে তাকিয়ে আছে। একটা মানুষের হাসি এতো সুন্দর হয় কিভাবে কে জানে?
- আমার মনে হচ্ছে বিয়ের পর তুই আমাকে আর ভালোবাসবি না। তখন শুধু অন্য মেয়েদের দিকে কুতকুত করে তাকায় থাকবি। আর সত্যিই যদি তাই হয় আমি কিন্তু তোকে জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলবো।
এই কথা শুনে রাতুল আবারো তার ভুবন কাঁপানো হাসি হাসলো। আর তিতলী বিরক্ত হলো। এতো টেনশানের সময়ে একটা মানুষ এতো রিল্যাক্স থাকে কিভাবে কে জানে?
পছন্দের কবিতা
'একবার বলেছি তোমাকে'
-আহসান হাবীব
একবার বলেছি, তোমাকে আমি ভালোবাসি।
একবার বলেছি, তোমাকে আমি, তোমাকেই ভালোবাসি।
বল
এখন সে কথা আমি ফেরাব কেমনে !
আমি একবার বলেছি তোমাকে ...
এখন তোমাকে আমি ঘৃণা করি।
এখন তোমার
দৃষ্টির কবলে এলে ক্ষতস্থান জ্বলে জ্বলে ওঠে।
তোমার সান্নিধ্যে এলে তুমি উষ্ণ নাভিমূল থেকে
বাতাসে ছড়াও তীব্র সাপিনীর তরল নিঃস্বাস। আমি
যতবার ছুটতে চাই, তোমার দৃষ্টির বাইরে যেতে চাই, তুমি
দু চোখে কী ইন্দ্রজাল মেলে রাখ ! আমি ছুটতেও পারি না
আমি ফেরাতে পারি না কথা
আমি একবার বলেছি, তোমাকে ...
সম্রাজ্ঞীর বেশে আছ। নতজানু আমি
দাসানুদাসের ভঙ্গি করপুটে, দেখি
তোমার মুখের রেখা অবিচল, স্থির জঙ্ঘা তোলে না টঙ্কার,
তুমি পবিত্রতা পবিত্রতা বলে
অস্পষ্ট চিত্কার কর, তুমি
কেবলি মালিন্য দেখ, অশ্লীলতা, ক্রমান্বয়ে ঘৃণা
ক্রোধ বাড়ে, উত্তেজনা বাড়ে
নামে উষ্ণ জলস্রোত। তুমি
ধূসর গোধূলিঃ ৩৩
আজ বিজয় দিবস। দিনের শুরু থেকে গ্রামের সর্বত্রই যেন উৎসবের সুর বেজে ওঠে। সন্ধ্যায় শুরু হবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। ডিসেম্বরের হিম শীতের রাতে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে কলাবতী বাজার সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে বিকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। এটা যেন গ্রামবাসীর প্রাণের আয়োজন। প্রতি বছর বিজয় দিবসটিতে হাসি আনন্দে মেতে ওঠে এরা, যেমনি করে উঠেছিল দশ বছর আগে একাত্তরের এইদিনে। শীতের প্রকোপ থেকে দর্শকদের কিছুটা আরাম দিতে মঞ্চের সামনের খোলা জায়গাটির উপরে সামিয়ানা আর চারপাশে কাপড়ের ঘেরাও দিয়ে দর্শকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে ইলেক্ট্রিসিটির অভাব দূর করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বেশ কিছু হ্যাজাক বাতির।
জানালা প্রেম
মেয়েটা প্রতিদিন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে। এক দৃষ্টিতে ; ড্যাব ড্যাব করে। মাঝে মাঝে আমিও তাকাই; ভর্য়াত চোখে। আসলে এই রকম হয় ঢাকা শহরের প্রতিটি বহুতল বাড়ির জানালাতেই। একে কী বলা যায়? জানালা প্রেম? হু, চালানো যায়। জানালা প্রেম ; কথাহীন, রিক্সাহীন, ঘোরাঘুরিহীন নির্বাক প্রেম।
আমারো একটা জানালা প্রেম আছে। একান্তই আমার। তখন থাকতাম বাড্ডায়। একটা ৭ তলা ভবনের ৩য় তলায়। ব্যাচেলর বাসা। নিজের রুমে থাকতাম তিনজন। আমার বেড জানালার পাশে, দক্ষিনমুখী। বাতাস আসত। সুশীতল বাতাস।
জানালার সাথে বরাবরই আমার সর্ম্পক শীতল। জানতাম না জানালার প্রেমে পড়া যায়। তাই হয়ত সপ্তাহান্তে একবার জানালা খুলতাম আকাশ দেখার জন্য। কালো আকাশ, আলোময় আকাশ, মেঘলা আকাশ ! মধ্য রাতেও উটে মাঝে মাঝে হোসেন র্মাকেটের উপরে লেখা এ জি হাইয়েস্ট লেখা লাল আলোটা দেখতাম। দিনগুলো যাচ্ছিলো ভালোই।
বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রিয় লেখক আহমাদ মোস্তফা কামালের 'প্রেম-অপ্রেমের গল্প'
আবারও লিখতে বসলাম, কারন না লিখলেও রাতটা চলে যায় আর লিখলেও চলে যায় রীতি মেনে। তাই লেখা শেষের অনুভুতিটাই ভালো, রাতে ভালো ঘুম আসে। সকালটাও আনন্দময় কাটে। যদিও শরীরের অবস্থা বিশেষ ভালো না। টুকটাক শরীর খারাপ, গলা ভেঙ্গে কাঠ, নিজের কন্ঠস্বর নিজেরই অচেনা লাগে। বলি টিএসসি, শুনে রিকশাওয়ালা কেএফসি। কী যে বিপদময় অবস্থা তাও আমার তাফালিং কমে না দৈনন্দিনের। সোমবারে এক বন্ধুর বাসায় গেলাম সন্ধ্যের দিকে। আড্ডা জমলো, দারুণ নাস্তা হলো, ফেরার সময় তিনটা বইও ধার আনলাম। ধার করে ও বই কিনতে কিনতে টেবিলে অপঠিত বইয়ের স্তুপ। এত বই আমার পড়ার অপেক্ষায় বসে আছে তা ভাবতেও অনেক শান্তির। তবে শান্তি নাই মানুষের, বিভিন্ন কাছের দুরের মানুষ সমন্ধে আমার কিছু উচ্চ উচ্চ ধারনা থাকে, নানান ঘটনার কারনে সেই উচ্চ ধারনার কাচ গুলো ভেঙ্গে পড়ে হুট করে, তখন নিজের উপর তীব্র মেজাজ খারাপ হয়। আমি না হয় সুবিধের লোক না, কিন্তু সবাই কেন আমার মতই হব
সর্বনাশ, জহির রায়হান ইসলাম-বিদ্বেষী!!
মাদ্রাসা শিক্ষার সেকাল এবং একাল
"হেফাজতের মূল আস্তানা হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তির সময় সব ছাত্রকে উর্দুতে লেখা একটি হলফনামায় সই করতে হয়। মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরা কতটা দাসত্বশৃঙ্খলে আবদ্ধ তা বুঝতে এ হলফনামাই যথেষ্ট। এতে ছাত্ররা শপথ নেয়,কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিবে না,কোনো ছাত্র সংগঠনে যুক্ত হবে না,অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত সংবাদপত্র,সাময়িকী ও বই পড়বে না,অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষা দেবে না, টেলিভিশন দেখবে না,খেলাধূলাসহ যে কোনো ধরনের পাঠ্যবহির্ভূত কাজে (এক্সট্রা কারিকুলার) অংশ নেবে না, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবে ইত্যাদি!” দেশের সব কওমি মাদ্রাসায় একই ব্যবস্থা চালু আছে বলে জানিয়েছেন হ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুমতাজ আহমদ।"
(মাদ্রাসায় দাসত্বের অবসান হোক, মুজতবা হাকিম প্লেটো, মে ১১, ২০১৩)
একজন কারিগর
বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো ইতিহাস। এক সাগর পরিমাণ রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার ইতিহাস। সবার নাম হয়তো লিখা নেই ইতিহাসের পাতায়, তবুও কি তাদের অবদান অস্বীকার করা যায়?

দেখছিলাম, টেলিফিল্ম "কারিগর"। আর্টফিল্ম বলে শুরুর দিকে বেশ ধীরগতির কারণে একটু বিরক্ত লাগছিলো। তবুও, ধৈর্য্য নিয়ে বসে থাকি মূল কাহিনীর অপেক্ষায়। মূলকাহিনী খুব বেশী কিছুনা আবার অনেক কিছু। একগ্রামে ছিলেন একজন "ওস্তাকার" যাকে সবাই "কারিগর" বলে ডাকতো। গ্রামের ছেলেদের খৎনা করানো ছিল তার পারিবারিক পেশা। তাই, বাচ্চা ছেলেরা তাকে দূর থেকে দেখলে ছুটে পালাতো ভয়ে, পরিবারের বয়স্করা দেখলে শ্রদ্ধা করতো আর খৎনা হয়ে গেছে এমন ছেলেরা দেখলে সালাম দিত।
বইমেলা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ একদিন অহনার অভিবাসন
এত অপেক্ষার বইমেলাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। জীবন থেকে তরতর করে খালি দিন গুলো চলে যাচ্ছে, ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। অনেকে বলে সময় তাদের কাটে না, আমি তো দেখি সময় থাকেই না কোনোক্রমে। যেভাবেই থাকি, যাই করি সময় দ্বিগুন গতিতে চলে যায়। সে কথা যাক, সময় নিয়ে হতাশা আগের অসংখ্য পোষ্টে করেছি। এখন বাদ দিয়ে অন্য কথা বলি। ধুলোর সমুদ্রের যে বই মেলা, যাচ্ছি নিয়ম করে। কিন্তু সমস্যা হলো- মেলায় কোনো কাজ থাকলে তা মিস করে ফেলি, অথচ এমনিতে মেলায় যাই প্রায় প্রতিদিনই। যেমন কালকের কথাই ধরুন না, বাংলাদেশের খেলা দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, মেলায় আর যাবো না। কিন্তু কি মনে হলো হুট করে বাসায় আসলাম, বুয়া রান্না করে নাই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে গেছে চাল নাই। আমি বের হয়ে গেলাম সাথে সাথেই। রহীমকে ফোন দিলাম, রহীম হলো গিয়ে সেই রিকশাচালক যার ফোন নাম্বার আমার মোবাইলে সেইভ করা আছে, দূরে কোথাও যাবার নাম নিলেই রহীমকে ফোন দেই। পুলক ও আস
অনৈসলামিক স্ট্যাটাস - ৩
বাংলায় কি পড়ানো হয় মাদ্রাসাগুলোতে? শুধু অ আ ক খ? বাংলা সাহিত্য পড়ানো হয়, যেমন স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে বাংলা সাহিত্য রয়েছে। ওটার কথা উঠলে তো নাউজুবিল্লাহ। রবীন্দ্রনাথ ওনাদের কছে বিধর্মী। এমনকি জাতীয় কবি নজরুলও যায়েজ নয়। আর সাহিত্যচর্চা মানেই বেশরিয়তি কাজ। সুতরাং যা বাংলা শিখতেছে, তা তাদের আরবী-উর্দুর প্রচারের কারণে।
যে শিক্ষায় নিজেকে চেনা যায় না, নিজের জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-মুক্তিযুদ্ধকে জানা যায় না, সেটা কুশিক্ষা। মাদ্রাসাগুলোতে মানুষ তার নিজের জাতিকে চেনা তো দূরে থাক, নিজেকে চেনার সুযোগ নেই। কেননা ধর্মের নিম্নমানের এবং স্থান বিশেষে বিকৃত চর্চার মাধ্যমে এক ধরণের দাসত্বের বেড়াজালে নিজেদের এবং নিজেদের মানুষদের বন্দী করার রুচিহীন শিক্ষা চলে। এ বন্দীত্বটা মনোজগতের, চেতনার।
দেখুন তো আপনাদের এম ন হয় কি??
আজ কিছুতে যায় না,
যায় না মনেরও ভার
এটা কবি গুরুর একটি গানে স্থায়ী তাও পুরোটা না।আমি জানি না তাই লিখতে পারলাম না।কবি গুরুর কেন মন খারাপ হয়েছিল জানিনা।
বিনা কারনে কারও কি মন খারাপ হয়, হয়ত বা হয়, হয়ত বা না।আমার কখনও কখনও বিনা কারণে মন খারাপ হয়।আমাকে তখন মনের গভীরে খুজে বেড়াতে হয়,কেন মনটা খারাপ।বউ ছেলে মেয়ের সাথে আছি তখনও হয়ত ভাল লাগছে না।
আবার হয়ত ওদের ছেড়ে দূরে আছি,অনেক চাপে আছি,কিন্তু মনে অনেক ফুর্তি।কাজ করছি, গাড়ী ড্রাইভ করছি, গান করছি,এম্ন কি একেবারেই নিঃসঙ্গ,রাত্রি গভীর, তা আলোময় বা অন্ধকারাচ্ছন্ন তাতে কি, আমার মনের অফুরন্ত অপ্রকাশাতীত আবেগ,আবেশ মহাকাশের গন্ডি পেরিয়ে কোন অজানা অচেনা গ্রহে বিচরন করছে।আমি তখন আমার মনের রাজা।এ পৃথিবী সম হাজারটা পৃথিবী যেন আমার করতলগত।
তখন ও আমার একটা অভাব থাকেই তা হল আমি কেন কবি গুরু বা কোন লেখক কবির মত লিখতে পারি না,
ধূসর গোধূলিঃ ৩২ - লড়াই
ধীরে ধীরে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শিউলি। দু’জনের ছোট্ট সংসারে ঝক্কি-ঝামেলা নেই বললেই চলে। দুপুরের পর একাকী ঘরে শিউলির অফুরন্ত অবসর যেন আর ফুরোতেই চায় না। সময় কাটানোর সঙ্গী রেডিও কিংবা বইও একসময় একঘেয়ে হয়ে যায়। তখন শুরু হয় নাহিদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। বেশীর ভাগ দিন সন্ধ্যা নাগাদ ঘরে ফেরে নাহিদ, টোনাটুনির ছোট্ট সংসার তখন হাসি গল্পে ভরে ওঠে। নাহিদের ফিরতে দেরী হলেই একা ঘরে অস্থির হয়ে ওঠে শিউলি। অজান্তেই ওর মনটা তখন চলে যায় শ্যামলপুরে। সবুজ শ্যামল গ্রামটা ওকে প্রায়ই হাতছানি দিয়ে ডাকে। বাবা-মার আদর, বকুল আর অয়নের খুনসুটি, আর বাড়ির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতির মধ্যেই ঘুরে বেড়িয়েই পার করে অলস সময়গুলো। মাঝে মাঝে মনে হয় একটা সঙ্গী হলে বেঁচে যেত এই একাকীত্ব থেকে। ও প্রায়শঃই স্বপ্ন দেখে কচি দু’টি হাত, নরম তুলতুলে গাল, বড় বড় দু’টি চোখ আর খিলখিল হাসির ঝংকার। নাহিদ অনেকটাই চাপা স্বভ
শুধু ফুরিয়ে যাবার এই ভয়
হাত পা ধুয়ে ব্যালকনিতে বসে একটা সিগারেট জ্বালানোর পর দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার দৃশ্যগুলো ফিরে আসে।
ঘুম ভেঙ্গেছিলো দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। অথচ সেই সকাল ৮ টায় লিজা নামের বান্ধবী ফোন করে ডেকে দিয়েছে, আমি বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে ওর সাথে ৫ মিনিট কথা বলেছি। দুপুর দুটোয় পরীক্ষা। বিনিয়োগের কঠিন দুটো চ্যাপ্টার পড়তে হবে। তবুও হেরে গেলাম আলসেমির কাছে।
পরীক্ষাটা খারাপ হল যথারীতি। আরেকজনের খাতার দিকে তাকিয়ে একটা অংক দেখার চেষ্টা করার সময় ম্যাডাম চীৎকার করে উঠলেন- এই যে ঝাঁকড়া চুল, আপনাকে কিন্তু পরীক্ষা দিতে দেবো না।
যখন থাকব নাকো অবনী পরে
আজি হতে বহু বছর পরে
আমি থাকব নাকো এ অবনী পরে
আমার রক্তহীন শরীর,হাড় মাংস
গলে পচে হবে সবুজ সার
খাটিয়ায় উপর দেয়া মাটিতে
ত্র তর করে বেড়ে উঠবে সবুজ ঘাস
হয়ত বা কোন বড় কোন বৃক্ষও
কবর নামক আমার ঘরটিতে
আমার এ সুন্দর দেহ খানি হবে বিলীন
কেউ জানবেও না আমার নাম ধাম।
আমার ও আছে ছবি, পোট্রেট, আছে লেখনী,
আমার গুলো কেউ কি এভাবে করবে সংরক্ষন?
না, কক্ষনো না।
কেন করবে?
আমি কি শেখ মজিব,
আমার কি আছে বজ্র কন্ঠ
আমার কি আছে দেড় যুগ জেলে
পচার সুখ অভিজ্ঞতা,
আমার চিত্ত কি তার মত নির্ভিক।
আমার জন্য ছাগল দোয়ানু এক গ্লাস দুধ,
চার আনা পয়সা নিয়ে কোন ভিখারিনী
রাস্তায় দাড়িয়ে কি অপেক্ষা করে?
আমার কন্ঠ শুনে লাখ লাখ মানুষ তো
দুরের কথা,
একটি পিপড়াও ছুটে আসে না।
আমি কে পেরেছি আমার উত্তসুরীর জন্য
একটি দেশ,
সে তো সুদুর পরাহত,
এক খন্ড নিরাপদ ভুমির ব্যবস্থা করতে।
না পারিনি।