ইউজার লগইন
ব্লগ
চৈত্রঃ ঝিঁঝিঁর গুঞ্জনে ডুবে যাওয়া বিষন্ন দুপুর
কাল রাতেও ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবো। কিন্তু রাত দশটার দিকে প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রাখতেই ফোন বেজে উঠলো- দ্রুত চলে এসো, সোনালি শিশির ফুরিয়ে যাচ্ছে।
শাহবাগ থেকে জোর কদমে হাঁটা দিলাম। গিয়ে দেখি এখানে ওখানে আসর জমেছে। দূর থেকে শুনতে পেলাম রনি ভাইয়ের গলা- আমার ভালবাসা পিরামিড, আমার দুঃখগুলো নীলনদ। লাইনগুলো সেই যে ঢুকেছে মাথায় আর বের হবার নাম নেই।
পাশেই আর এক দল পাহাড়ে স্থায়ী নিবাস করা সংক্রান্ত এক তুমুল আলোচনায় মগ্ন ছিলো। আমি কিছুক্ষণ ওদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আর মনে মনে ঠিক করে ফেললাম, এবারের বিজুতে ওদের সাথে আমিও যাচ্ছি।
হৈ হল্লা করতে করতে কালো রাস্তা ধরে ভাত খেতে গেলাম। রুমে ফিরতে ফিরতে রাত ২ টা। কম্পিউটারটার কি যে হয়েছে। প্ল্যানেট আর্থ এর জঙ্গল পর্বটা দেখতে দেখতে তিন বার বন্ধ হয়ে গেলো কোনও কারন ছাড়াই। ৩ টার সময় ধরা দিলাম বিছানার কাছে।
মন খারাপের দিনগুলো
খুব উৎসাহ নিয়ে ব্লগে এসেছিলাম; ভেবেছিলাম নিয়মিত লিখতে পারব, সাথে অন্যদের লেখাও পড়তে পারব। কিন্তু নানা ঝামেলা ও সমস্যার জন্য
লিখতে পারিনি, পড়া তো অনেক পরের ব্যাপার। ভর্তি পরীক্ষা, ট্যাব চুরি হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ দুই মাস প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতার জন্য লিখতে পারিনি।
ভেবেছিলাম ভর্তির ঝামেলা শেষ হলেই লিখতে বসব, কিন্তু কিসের কী! আলসেমির জন্য লিখতেই পারছিলাম না। অবশেষে শরীর ও মনের সাথে
তুমুল যুদ্ধে জয়ী হয়ে আজ দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর লিখছি।
প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ ক্লান্তিময় দৌড়াদৌড়ির পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার পেলাম। এত দিন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মনে মনে অনেক রোমান্টিসিজম,
অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভর্তির অদ্ভুত আলস্যে শরীর, মন ভরে গেল; আগের চেয়ে অনেক বেশি হোমসিক হয়ে গেলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
ভালো থাকবে না মানে কি!
ইচ্ছা করে না লিখতে তাও জোর করেই লিখতে বসা। ইচ্ছে না করার কারন খুজে পাচ্ছি না আপাতত। আসল কথা ভালো লাগে না। আমার মুখে ভালো লাগেনা শুনতে শুনতে সবাই টায়ার্ড, বলে উঠে পরিচিত মানুষেরা 'তোর 'ভালো লাগেটা কবে?' আসলেই আমার ভালো লাগে না। এত ভালো আছি, ভালো বই পড়ছি, ভালো হাসি আড্ডার আনন্দময় দিন যাপন তাও ভালো লাগে না। ভালো থাকলেও ভালো লাগে না, খারাপ থাকলেও ভালো লাগে না, তাহলে কি থাকা যায় আর!
পড়ার ছড়া
সকালে পড়ি বিকালে পড়ি
পড়ি রাতের বেলা
এত পড়ার পরেও মেলে
সবার অবহেলা।
সবার মুখে একই কথা
প্ড় পড় পড়।
লেখাপড়া করলেই তুমি
হবে অনেক বড়।
পড়তে হবে লিখতে হবে
এ কথাটা মানি।
তার পরেতেও সবার শুনি
হাজার উপদেশ বানী।
পড়লেই নাকি প্রকৌশলী
নয়ত হব ডাক্তার,
তা না হলে জীবন বৃথা
সবই ছাড়খার।
নজরুল রবি শরৎ বাবুর
পড়ার দৌড় কত?
তার পড়েতেও কজন আছে
বড়, তাদের মত।।
ফেব্রুয়ারী,২৩,২০০৫ খ্রীঃ
ধূসর গোধূলিঃ ৩৫ - হঠাৎ বৃষ্টি
সন্ধ্যার ঠিক পর পরই খেলার পাট চুকিয়ে ঘরে ফেরে সুবল। পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে দেখে কেউ কোথাও নেই। মাঝখানের বড় ঘরের টেবিলের উপর টিমটিম করে জ্বলছে কুপিবাতি। সুবল সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। বাহিরের দিকে চোখ পড়তেই দেখে উঠানের দক্ষিণ প্রান্তে খেজুর গাছটার নিচে তাফালে খেজুরের গুড় জ্বাল হচ্ছে। মা, কাকু, কাকীমা উনুনের কাছে বসে আছে আর গোপালদা খরকুটো এগিয়ে দিচ্ছে। সুবল সোয়েটারটা গাঁয়ে জড়িয়ে উঠানে নেমে আসে। তাফালের আগুনের আলোয় উঠানের অনেকটাই আলোকিত। সুবল পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে কাকার গলা জড়িয়ে ধরে। তারাপদ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়, প্রিয় ছোট ভাতিজাকে দেখে দু’হাত ধরে সামনে নিয়ে আসে। কাকুর কোলের মধ্যে ডুবে যেতেই সুবল হারিয়ে যায় ওমের রাজ্যে। তাফালের চারপাশ থেকে উঠে আসা টকটকে লাল আগুনের শিখা থেকে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশে।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি

"শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন, সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উচুঁতে ছিলো তার মাথাটি, সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই আলোড়িত-বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন, আর তার পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল তার সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ।
জনগণকে ভুল পথেও নিয়ে যাওয়া যায়; হিটলার মুসোলিনির মতো একনায়কেরাও জনগণকে দাবানলে, প্লাবনে, অগ্নিগিরিতে পরিণত করেছিলো, যার পরিণতি হয়েছিলো ভয়াবহ। তারা জনগণকে উন্মাদ আর মগজহীন প্রাণীতে পরিণত করেছিলো। একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল, শুভ প্লাবন, শুভ আগ্নেয়গিরি, নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন বাঙালি মুসলমানকে, যার ফলে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম।"
--হুমায়ুন আজাদ
শরীর কাহিনী
Head মানে মাথা
Eye মানে চোখ
Ear মানে কান জেনো
Chest মানে বুক।।
চুলের বাহার দেখতে ভাল
Hair তাকে বলে
হউক না তা যত ই কালো
সাদা বুড়া কালে।।
Finger মানে আংগুল
Hand মানে হাত
পেটের ব্যাথজায় belly খারাপ।
সবাই কপোকাত।
Back মানে পিঠ
Leg মানে ঠ্যাং
শুদ্ধ বাংলায় পা বলে
নাচে ড্যাং ড্যাং।।
Nose মানে নাক
গন্ধ তাতে পাই।
Mouthমানে মুখ জানি
সকল কিছু খাই।।
Tooth মানে দাঁত
হাড্ডি মাংস খাই
Throat মানে গলা
মধুর গান গাই।
জোনায়েদ
ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, বন্ধু
ছিকল ছিড়িতে না পারে
খাচা ভাংগিতে না পারে
পাখি ছটফটাইয়া মরে,
পাখি, ধর ফরাইয়া মরে।।
যতদুর মনে পড়ে ফারুক ও কবরি অভিনীত ঘর জামাই ছবিতে মরহুম আব্দুল আলীম এ গানটিতে প্লে বেক করেছিলেন।
গানটি শুনলেই বুঝা যায় একজন মানুষ কতটুকু শারিরিক ও মানষিক চাপে থাকলে, আর যে গীতিকার গানটি লিখেছেন তার সাড়ে তিন হাত দেহের পরতে পরতে কত আবেগ থাকলে তবেই দৃশ্যের বাস্তবতায় বিলীন হয়ে এম্ন গান লিখতে পারেন।
সুন্দরবন ভ্রমন ২০১৩ (পর্ব ৫)
সময় সুযোগ পেলে হরহামেশাই কক্সবাজার ঘুরে আসেন প্রায় সকলেই, কিন্তু সেই তুলনায় সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলেও, সুন্দরবন বেড়াতে যাওয়ার নানান নিয়মকানুন আর অমূলক ভয়ের কারনেই অনেকের যাওয়া হয়ে ওঠে না । এই ক্ষেত্রে সুন্দরবন যেতে চাইলে ট্যুর কোম্পানী অথবা অভিজ্ঞ কারো সাথে যাওয়াই ভালো। সুন্দরবন ঢোকার ব্যাপারে হরেক রকমের বাধ্যবাধকতা আর নিয়মকানুনের ঝামেলা পোহাতে হবে না যদি কোন ট্যুর কোম্পানী কিবা অভিজ্ঞ কারুর সাথে যান। অনেকেই আবার বাঘের ভয়ে সুন্দরবন যেতে চাননা। কিন্তু বাঘের এই আকালের সময়ে বাঘের দেখা পেয়েছেন এমন কারুর দেখা মেলাই ভার! আর প্রকৃতির কোন কিছুকে বিরক্ত না করলে তাও নিশ্চয়ই বিরূপ হবে না মানুষের প্রতি। বাঘও বিরক্ত করেনা। তাই এইসবের চিন্তায় সুন্দরবনের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য তা না দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার মানেই হয় না।
জামাই-শ্বশুর
(একটি বাস্তব ঘটনা)
অনেক দিন আগের কথা। পুরান ঢাকা লালবাগে এক হাজি সাহেব ছিলেন। তিনি ছিলেন বেশ রসিক। একদিন হাজি সাহেবের বাড়িতে একজন অতিথি এলেন। সম্পর্কে তার চাচা শ্বশুর। তিনি এবারই প্রথম বেড়াতে এসেছেন ভাতিজি জামাই বাড়িতে। একে নতুন অতিথি, অন্যদিকে স্ত্রীর আত্মীয় তাই অতিথি আপ্যায়নে হাজি সাহেবও কার্পণ্য করলেন না। দুদিন ধরে চলছে অতিথি আপ্যায়ন। এদিকে অতি আপ্যায়নের প্রেমে পড়লেন চাচা শ্বশুর। বাড়ি ফেরার তেমন তাড়া নেই, ভাবখানা এমন তিনি যেন এ পরিবারেরই সদস্য। হাজি সাহেব পড়লেন মহাভাবনায়। কিভাবে তাকে তাড়ানো যায়। যেই ভাবনা, সেই কাজ।
পরদিন সকালে হাজি সাহেব চাচা শ্বশুরের হাতে বাজারের থলেটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘মিঞা সাহেব জরুরি কাজে আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, কষ্ট করে বাজারটা যদি করে দিতেন...। ’ কিন্তু কোনো টাকা দিলেন না।
ভিনদেশকে সমর্থনের নামে সার্বভৌমত্বের অপমান: প্রতিরোধ এখনই
আমরা চেয়েছিলাম এই বাংলার আকাশে চাঁদতারা নয়; বরং লাল-সবুজের একটি পতাকা মাথা উঁচু করে উড়বে। এই পতাকাটির জন্য আমরা বছরের পর বছর ধরে সংগ্রাম করেছি। অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ৪ লাখ মা-বোনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে লাল সবুজের এই পতাকাটি আমাদের হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে একটি পতাকার জন্য এমন চরম মূল্য দেয়ার নজির দ্বিতীয়টি নেই।
ইচ্ছা
তুমি যদি বৃক্ষ হও, আমি হব পাতা।
দু জনে নির্জনে বলিব, মনের কথা।
আমি যদি বৃক্ষ হই, তুমি হবে লতা।
জড়িয়ে থেক আমাই, দিওনা ব্যাথা।
আমি যদি আকাশ হই, তুমি হবে চাঁদ।
কাছা -কাছি থাকব দু জন, অন্য রকম স্বাদ।
আমি যদি চাঁদ হই, তুমি হবে চাঁদের আলো।
একসাথে মোদের জীবন, কাটবে ভাল।
তুমি যদি নদী হও, আমি হব ঢেউ।
বিচ্ছিন্ন করতে পারবেনা, মোদের কেউ।
তুমি যদি পাখি হও, আমি হব ডানা।
দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে, থাকবেনা মানা।
আমি যদি পাখি হই, তুমি হবে নীড়।
এক ঘরে থাকব দুজন, ধরবেনা চীড়।
আমি যদি পাহাড় হই, তুমি হবে ঝর্ণা।
ছেড়ে যাওয়ার বেদনাই, আসবে তোমার কান্না।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা
আদালতের কাগজপত্রে তাকালে প্রতিবার চোখে পরে রাষ্ট্র বনাম রাসেল পারভেজ কিন্তু কখন কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র নামের এই প্রতিষ্ঠান আমার প্রতি বৈরী হয়ে উঠলো, কেনো রাষ্ট্র তার সমস্ত দম্ভ নিয়ে ব্যক্তি "আমি"র মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ শুরু করলো?
ধূসর গোধূলিঃ ৩৪ - সংঘাত

শীতের তীব্রতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ঘন কুয়াসায় ঢেকে থাকে সুর্য্য অনেক বেলা অবধি। রাস্তার দু’পাশের ক্ষেতে শিশিরে ভেজা গাঢ় সবুজ খেসারীর ডগা আর কাঁচা হলুদ সরিষার ফুলগুলোকে অনেক সতেজ লাগে। শীত অয়নের সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। সকালে সদ্য ঝরানো খেজুরের রসের মজাটাই অন্যরকম। সেই সাত সকালে উঠে মন্টুমামা খেজুরের রস নামিয়ে নিয়ে আসে, রান্নায় বসানোর আগে মা কিছুটা কাঁচা রস ওর জন্য রেখে দেয়। মা’র ব্যস্ততা সেই সকাল থেকেই। কাকভোরে উঠে কাজে লেগে পড়ে, প্রতিদিনই কোন না কোন পিঠা তৈরি করে মা।
বইমেলা শেষ!
প্রথম কথা বলি এই পোষ্ট লিখতে চেয়েছিলাম কাল, কিন্তু পাক ভারতের ম্যাচ নিয়ে বঙ্গদেশের মানুষের এত উত্তেজনা দেখে আমি ক্লান্ত। তাই কাল আর লিখতে পারি নাই। ফেসবুকে কিংবা খেলার মাঠে বা চায়ের দোকান ও বাজারে এত উত্তেজনা মানুষের তা দেখে সারাদিন মেজাজটা তিরিক্ষে ছিল। আজ থেকে ১৬-১৭ বছর আগে এমন আমিও ছিলাম, পাক ভারতের ক্রিকেট উত্তেজনায় বুঁদ হয়ে। কিন্তু গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশ যা খেলছে, তারপরে পাক ভারতের ফ্যান হবার দরকারটা কি তা আমি জানি না। আমি এখন আর আগের মত ক্রিকেটের শুদ্ধতা ও সুন্দরের পিয়াসী না। বাংলাদেশ যদি জিতে তাহলেই ভালো লাগে, হারলে মেজাজ গরম হয় এই মুলত আমার অবস্থা। সেখানে পাক ভারতের খেলা হবে, আমি তাঁদের জার্সি পতাকা নিয়ে মাঠে যাবো ওমন ছাগলের বাচ্চা না এখনও হতে পারি নাই। আর বাংলাদেশের মানুষের একটা কমন সমীকরন হলোঃ যারা আওয়ামীলীগ করে তাঁরা ক্রিকেটে ভারতের ভক্ত, আর যারা এন্টি আওয়ামীলীগ তাঁরা সব পাকিস