ইউজার লগইন
ব্লগ
ভালোবাসার কাঁসুন্দি
ভালোবাসা একটি ভালো বাসা
ভালোবাসা জনম জনম ধরে
ভালোবাসা বিধাতার প্রতি
ভালোবাসা গর্ভধারীণির তরে।
ভালোবাসা বাবা আদম (আ.)
ভালোবাসা মা হাওয়াকে ঘিরে
ভালোবাসা যেন গোটা পৃথিবী
ভালোবাসা বিশ্বমানবের তরে।
ভালোবাসা সে তো ভালো বাসা
ভালোবাসা বিশ্ব সৃষ্টি রহস্য ঘিরে
ভালোবাসা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে
ভালোবাসা সন্তানের তরে।
ভালোবাসা শুধুই ভালো বাসা
ভালোবাসা আত্মা-প্রেতাত্মা ঘিরে
ভালোবাসা জন্মদাতার প্রতি
ভালোবাসা ভাইয়ের তরে।
ভালোবাসা একটি বাস্তবতা
ভালোবাসা জন্ম-জন্মান্তরে
ভালোবাসা বিশ্বমানবের প্রতি
ভালোবাসা সৃষ্টজীবের তরে।
ভালোবাসা ইহকাল-পরকালে
ভালোবাসা আদি-অনন্ত ঘিরে
ভালোবাসা দুনিয়ার প্রতি
ভালোবাসা নর-নারীর তরে।
ভালোবাসা ইউসুফ-জুলেখার
ভালোবাসা ইতিহাস গড়ে
ভালোবাসা লাইলি-মজনুর
ভালোবাসা প্রেমিকার তরে।
ভালোবাসা পৃথিবী সৃষ্টির
ভালোবাসা যুগ-যুগান্তরে
ভালোবাসা প্রেমিক ফরহাদের
ভালোবাসা শিরির তরে।
ভালোবাসা আগ্রার তাজমহল
ভালোবাসা প্রেমিক যুগল ঘিরে
ভালোবাসা সম্রাট শাহজাহান
ভালোবাসা মমতাজের তরে।
ভালোবাসা যেন প্রভাতফেরি
ভালোবাসা মাতৃভাষাকে ঘিরে
একটি বইয়ের জন্মকথা
আমার মেজো ভাই রিমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে প্রতিবছর বই মেলায় যেত ।আর রাতে আমাকে ফোন করে বলতো আপু আজ বই মেলায় গিয়েছি।এই এই (বই এবং লেখকের নাম উল্লেখ করে) বই কিনেছি, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন দেখেছি,খুব ভাল লেগেছে।এর পরই বলতো আপু তোমার বই কখন বের হবে? যখন তোমার বই বের হবে তখন মেলায় তোমার বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সময় আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে অনেক মজা করব।কারণ তখন মনে হবে এই মেলায় আমারও একটা অধিকার আছে।এই মেলায় আমার আপুর একটা বই আছে।আপু তুমি লিখছ না কেন? চমৎকার একটা গল্প নিয়ে একটা বই লিখে ফেলো তো।
আমার ভাইয়ের উচ্ছ্বাস দেখে আমি উচ্ছ্বাসিত হতাম।আর ভাবতাম অন্তত ছোট ভাইয়ের উচ্ছ্বাস সত্যি করার জন্য হলেও আমার একটা চমৎকার গল্প লেখা উচিৎ।
রিমন শুধু বই বের করার ব্যাপারেই উচ্ছ্বাসিত ছিল না।ও বলতো আপু ,তোমার কাজ হচ্ছে অসাধারন একটা গল্প লেখা,বই বিক্রি নিয়ে তোমাকে একটুও টেনশন করতে হবে না।আমার বন্ধুরা তোমার সব কিনে ফেলবে।তারপর একে একে বন্ধুদের নামও বলে যেত।
এ বছর বই মেলায় আমার প্রথম বই(আমার ভাইয়ের সে কাঙ্ক্ষিত বই) বের হচ্ছে। তবে এখন আর রিমন ঢাকায় থাকেনা।পড়ালেখার পাট চুকিয়ে কর্মজীবনে পা দিয়েছে।
বইমেলা ২০১৪ ---- একদিন অহনার অভিবাসন (মোড়ক উন্মোচন)
খুব সাধারণ একটা মেয়ের গল্প “দ্যা গার্ল নেক্সট ডোর”। এই গল্পে গল্প সুলভ কোন গল্প নেই, টুইষ্ট নেই, ক্ল্যাইমেক্স নেই, নেই কোন পরিনতি। সিনেমার নায়িকার মত কোন নায়িকাও নেই যার কোন অচেনা যুবকের সাথে দেখা হয়ে যাবে আর সব সমস্যা, দুঃখ একটা গানে অন্যদিকে পালটে বা ঘুচে যায়। তাহলে কী আছে? আছে রোজ দিনের যুদ্ধ, টানা-পোড়েন, কষ্ট, কান্না, অভিমান যেমন সাধারণ মানুষের জীবনে থাকে। বইটা যারা সংগ্রহ করবেন, আমার অগ্রীম ধন্যবাদ জানবেন, পড়ার পর মতামত জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৩য় শ্রেণী।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাপাঠ্যক্রম অদ্ভুত রহস্যময় নৈরাজ্যে পরিপূর্ণ। সমাজের মান্য-গন্য-বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মানুষেরা পাঠ্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, অসংখ্য আলোচনার পর প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের নামে কয়েকটি অশ্বডিম্ব প্রসব করেছেন। অবশ্য পাঠ্যপুস্তকের গায়ে লেখা আছে পরীক্ষামূলক সংস্করণ। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ন্যুনতম ৫০ লক্ষ শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন করছে। দুর্বল- পরস্পরের সাথে সম্পর্কহীন আত্মজ্ঞানের চুড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে যে পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়েছে তা শুধুমাত্র কয়েকটি পাইলট প্রজেক্টে ব্যবহার করে, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার মাণ শিক্ষাগবেষকদের দিয়ে যাচাই না করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সবাইকে নিয়ে নিরীক্ষা করার গুরুত্বপূরণ কর্মকান্ড একেবারে কান্ডজ্ঞানবিবর্জিত আচরণ মনে হয়েছে।
টুকটাক অসুখের দিনগুলো!
শিরোনাম থেকেই বোঝা যায় আমার শরীরটা ভালো নাই। তবে তেমন কোনো জটিল অসুস্থতা না, এমনিতেই শরীর ভালো লাগে না। ঠান্ডা বাড়ী থেকে লাগিয়ে আসছি, তার ভেতরে নতুন যুক্ত হয়েছে মাথা ব্যাথা ও জ্বর জ্বর ভাব! এইসব টুকটাক রোগবালাই নিয়ে একটূ অসুবিধাতেই আছি কয়েকদিন। আমার অবশ্য তেমন একটা রোগে শোকে কাটাতে হয় না। সেই কবে একবার টাইফয়েড হয়েছিল; তারপর গত আট নয়বছর ধরে শরীরটা বেধড়ক ভালোই কাটছে। টুকটাক ঠান্ডা লাগা আর জ্বর এই মুলত আমার এখনকার অসুস্থতার একমাত্র গন্তব্য। তাও তা- বিধাতার অপরিমেয় রহমতে আসেও কম। তবে যখন আব্বু আম্মুর সাথে থাকতাম, তখন মজা ছিল। সামান্য জ্বর হলেই যে সবার এটেনশন পেতাম তাতে অবাক লাগতো। আমার অসুস্থতায় সব চাইতে বেশী চিন্তায় পড়তো আম্মু, আম্মুর সেই উদ্বিগ্ন মুখের কথা এখনও চিন্তা করলে চোখে পানি এসে যায়। এই চার পাঁচদিন ধরে হালকা ঠান্ডা আর মাথা ব্যাথাতেই ভাবি বাড়ীতে থাকলে কত মজা হতো। কিন্তু কি আর করা, মামা নেই বাসায় একা একাই দিনগুলো কাটছে!
বাবার জন্য কয়েক ছত্র...
পিতৃশোক কি মৃত্যর চেয়ে ভারী ? জানি না,তবে বাবাকে স্মরণ করলে মনে মনে সাহস পাই।শক্তি অনুভব করি।মনে হয় মাথার উপর একটা শীতল হাত অহর্নিশ ছায়া দিয়ে যাচ্ছে।না হয় এতো প্রতিকূলতা সামলে উঠি কিভাবে ?
২০০৬ সালের ২৭জানুয়ারী যেন আমাদের মাথার উপর থেকে যেন আকাশ সরে গিয়েছিল।
বাবাকে নিয়ে লিখা হয়নি কখনো।আমার বাবাও বিখ্যাত কোন ব্যক্তি নন তবে আমার বাবা ছিলেন সাধারণের ভিড়ে অসাধারণ একজন মানুষ।আত্মকেন্দ্রীকতা কখনো বাবাকে স্পর্শ করতে পারেনি।কারো জন্য কিছু করে বাবা কখনো প্রতিদান আশা করতো না।বলতো কারো জন্য কিছু করতে পারার আত্মতৃপ্তি টুকুই আসল।বাবাকে দেখে আমি বুঝতে শিখেছিলাম –মানুষ মানুষের জন্যে।
.পরজন্ম বিশ্বাস করি না;না হয় বলতাম-বাবা বার বার যেন তোমার ঔরসে জন্মাই।।
জন্তু জানোয়ার না সৃষ্টির সেরা মানুষই মানুষের শত্রু।
গত ফেব্রোয়ারী,০৫,২০১৪ তারিখ রাতে রেকর্ড করা ভুত এফ এম শুনছিলাম। এখানে এফ এম ব্যান্ড শুনা যায় না, তাই এবার ঢাকা গেলে, ছেলে ৭টি রেকর্ড করা ভুত এফ এম দিয়ে দেয়। শুনতে শুনতে নিদ্রাদেবী এসে চোখের চারপাশে ঘুরঘুর করছিল। সারাদিনের কাজের শেষে ঘুমুতে যাবার এ সময়টা আমার সব চাইতে প্রিয়। আমার এক চাচা আমাকে শিখিয়ে ছিলেন যখন ঘুমুতে যাবি, সাড়া দিনের সকল জঞ্জাল মাথা থেকে কিক আউট করবি। দেখবি সহজে ঘুম এসে যাবে। উনি আরও একটা কথা বলতেন, তুই যেদিন এ দুনিয়াতে এসেছিলি কি নিয়ে এসেছিলি, তাই কোন কিছু নাই বা কিছু পাওয়ার জন্য নিজের অন্তরের শান্তি নষ্ট করার প্রয়োজন আছে কি? আর যখন যাবি যেমন এসেছিলে, তেমনি যেতে হবে। সারাদিন কর্মের খাতিরে কিছু চিন্তা তো আসবেই কিন্তু আল্লাহ্ রাতটাকে দিয়েছেন বিশ্রামের জন্য, তাই সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মস্তিস্কটা ফাকা করে নিবি তবেই নিদ্রাদেবী উজার করে তাঁর কোলে টেনে নেবে। আমি যতদুর পারি এটা করার চেষ্টা করি।
ঘর
এক জীবনে এই সত্য বারবার জেনেছি
প্রবল ঘরের নেশাই মানুষকে ঘরছাড়া করে।
শেষবেলা
মোমের ফোঁটার মতো ঝরেছিল চোখ
চৌকাঠে আজো তার দাগ পড়ে আছে।
কোন না কোন বিকেল জুড়ে ঘর-বারান্দাময় প্রখর কৃষ্ণচুড়ার ঘোর ;অন্ধকারের তর্জনী ভেদ করা দুর্দান্ত চাঁদনী এবং স্বপ্নের ঝালরে মোড়া অলৌকিক কোন রাত।
যে জীবনে স্বপ্নগুলো ঘাসফড়িংয়ের মতো পেলবমোহনসবুজ ছিল ;ছিল কুয়াশার সিঁড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে ফুটে ওঠা স্নিগ্ধ রোদের মতো; সেইসব সুদূরের স্পর্শাতীত দৃশ্যকল্প
ফ্রেমবন্ধী ছবি-ইতিহাস।মায়ার কাজল মুছে গেলে পৃথিবীর ভিন্ন রং ,ভিন্ন রূপ-রস।স্মৃতির কবরে ঢাকা আনন্দের আয়ু।
বাড়ীটা তেমনি আছে। জানালার শার্সির ফাঁকে ঢুকে পড়া শিশুস্কুলের সমস্ত কলরব-খুনসুটি; শৈশব-শৈশব নস্টালজিয়ার বিকেল-দুপুর ; ঝুলবারান্দায় চড়ুইয়ের হুটোপাটি, আলস্যে গড়িয়ে পড়া এক খন্ড রোদ।
সব অবিকল।
শুধু আমিই আর এই বাড়িতে থাকিনা।
বইমেলা ২০১৪: টুকটাক অভিজ্ঞতার খসড়া-২
নয়. বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীজীবন সমাপ্তির পর প্রতিদিনের বইমেলায় কারণে-আকারণে ঘুরঘুর করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ব্যক্তিগত রেওয়াজটা একেবারেই পাল্টেগেছে। সে অনেকদিন আগে। বইমেলায় এ অনিয়মিত উপস্থিতির অন্যতম কারণ কর্মকাবিননামার দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান কঠিন শাসন। তার সাথে অতিনগরায়নের ফল-ট্রাফিকজ্যামবন্দী এ নাগরিক শহর। এ নগরজীবনে বিকেল পাঁচটা নাগাদ চুক্তিভিত্তিক শ্রমঢেলে, গুলশান থেকে বাংলা একাডেমি চত্বর কিংবা এবারের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ পৌছানো, তাও আবার মেলার সরকারি বাতি বন্ধকরে দেয়ার শেষসীমা- রাত আটটা-সাড়ে আটটার আগেই, মোটাদাগে অসম্ভব। অতএব শুক্র-শনি- এ দু’দিনই ভরসা। কিন্তু মাঝেমাঝে সে সম্ভাবনাও বেহাত হয়ে যায় দুর্লঙ্ঘনীয় সংসারী-জীবনের দাপুটে কর্তব্যে। ব্যতিক্রম ছিল গতবছর। সংসারকাবিন আর কর্মকাবিন, কোনটাই আটকাতে পারে নি। বরং সংসার জীবনের নিত্যপ্রতিপক্ষ-কন্যা-স্ত্রী মিলে ঘুরঘুর করেছি। প্রায় প্রতিদিন। তবে বইমেলায় নয়; শাহবাগ-এ। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-সহপাঠি মিলে এক নতুন বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আর সেকারণে গত বছর, মেলার খুব কাছে থেকেও মেলায় যাওয়া হয়নি বললেই চলে।
keno
বিয়ে শুধুমাত্র অঙ্গীকারপত্রে সাক্ষর করে নতুন জীবনধারার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া নয় বরং একটা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। প্রাক-কৈশোরে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই যে পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়। শাররীক আগ্রহের বদলেকৈশোরকাল শুরু হওয়ার আগেই সামাজিক প্রেষণাতে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়। তারপর সময়ের সাথে সেই পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট, আরও সংবদ্ধ হয়। বিবাহ উদযাপনের প্রতিটি সামাজিক উৎসব এই পরিকল্পনায় নতুন নতুন অনুসঙ্গ যোগ করে। সুতরাং যৌবনকাল শুরু হওয়ার আগেই নিজের জীবনসঙ্গী এবং বিবাহ উৎসবের খসরা ছবিটা মোটামুটি আঁকা থাকে কল্পনায়।
দাপুটে খিস্তি
রফিক মুদীর দোকানে হাসিমুখে এগিয়ে গেলো। গা থেকে ভুড় ভুড় করে বের হওয়া বিরানীর গন্ধ শুনে শামসু জিজ্ঞেস করে বসলো,"কিরে, হাজীর বিরিয়ানি?"
রফিক মুচকি হাসি দিয়ে বললো,"নিজ হাতে বিরানী পাকালাম। চল সবাই। মেলা দিন এক সাথে খাওয়া হয় না।"
শামসুর সাথে বসে ছিলো ঝন্টু, ফনু, কচি স হ উঠতি বয়সের বখাটেদের দল। সবাই রফিককে অনুসরন করলো তার নতুন ফ্লাট বাড়িতে। সবার মুখে মুচকি হাসি। রফিক নীচতলার কেচীগেটের তালা খুলবার সময় ঝন্টু জিজ্ঞেস করলো,"রফিক, ফারুকের সাথে আর তর কথা হইছিলো? তোরা দুই জন যে রাতে চান্দার টাকা নিয়া ঝগড়া করলি এরপর তো আর এলাকায় দেখলাম না। দুই দিন ধইরা পোলাটার খবর নাই।"
রফিকের গেট খুলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,"আমারও আর দেখা হয়নি। আছে কোথাও হয়তো। তোর ৫০০ টাকা এখনও দেয় নাই?"
ঝন্টু কিছু বলার আগে শামসুর অট্ট হাসি দিয়ে মুখ ফসকালো,"আর ৫০০! দেখ কোথায় গিয়া চান্দার টাকা নিয়া মৌজ মাস্তি করতাছে।"
বিজ্ঞাপনে নারীর অবস্থান ও কিছু ভাবনা
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন নিয়ে নাই বা বললাম, এসব সবাই জানে। পুরুষতান্তিক এই সমাজে নারীদের প্রতি মনোভাব কতোটা নিচু, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে দেশ কতোখানি এগিয়ে যাবে, তা সহজেই অনুমেয়। মানসিকতার পরিবর্তনে মিডিয়ার করণীয় অনেক হওয়া সত্ত্বেও মিডিয়া অনেক আপত্তিকর কাজও করে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গ মিডিয়ায় নারী ও বিজ্ঞাপনে নারীদের অবস্থান। মিডিয়া জগতে যেসব নারীদের পদচারণা ঘটছে তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা একটু ভিন্ন হয় সচরাচর। আর দশটা সাধারণ মেয়েদের মতো তাদের ভাবা হয়না কারণ আমাদের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তারা যথেষ্ট স্বাধীনতার বদৌলতেই আজ মিডিয়ার মতো জায়গায় অবস্থান করে নিয়েছেন। দেশের মানুষ বিশেষত নারীরা তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়, তাই তাদের গুরুত্ব আছে বৈ কি।
বই মেলা ঘিরে কিছু টুকরো স্মৃতি
প্রতিবছরের মতো এবারও এসেছে ফেব্রুয়ারী মাস। ভাষার মাস,ভালোবাসার মাস,বই মেলার মাস।
একুশের বইমেলা ঘিরে আমার খুব সামান্যই স্মৃতি। যখন ভার্সিটিতে পড়তাম একুশের বইমেলা উপলক্ষে বিভিন্ন চ্যানেলে বিকাল ৩টার পর থেকে সরাসরি মেলা প্রাঙ্গন থেকে বইমেলা দেখানো হতো।প্রতিদিন মেলায় আসা নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হতো।আবার কবি সাহিত্যিকদেরকে তাদের অনুভূতি সম্পর্কে উপস্থাপক অনেক কথা জানতে চাইতেন।আমি বুভুক্ষের মতো সেই অনুষ্ঠান গুলো দেখতাম।আর ভাবতাম আহ কবে যে একটু বই মেলায় যেতে পারব।
সেই প্রাণের মেলায় প্রথম গিয়েছি ২০০৮ সালে।সাথে ছিল আমার মেজো ভাই রিমন,ভাতিজা আরাফাত এবং ভাতিজি আরিফা।খুব সম্ভবত সেদিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারী।শুক্রবার।বন্ধের দিন থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই ভিড় ছিল মাত্রাতিরিক্ত বেশি।তার ওপর ছিল ভালবাসা দিবস।
এরপর আমি মিলিয়ে যেতে পারি, কোনোদিন ফিরে আসবো কিনা জানি না!
হুমায়ুন আহমেদের একটা বই ছিল নাম 'তুমি'। সেই বইয়ের ভুমিকায় লেখা ছিল নাম 'তুমি' নাম দিতে ইচ্ছে হলো তাই দিলাম, উপন্যাসের সাথে কোনো মিল নেই শিরোনামের। সেরকম এই পোষ্টের শিরোনামের সাথেও আমার পোষ্টের বক্তব্যের কোনো মিল নেই। তাও দিয়ে দিলাম নাম অযথাই, ইচ্ছে হলো তাই। তাহলে এই নামের উৎপত্তি কোথা থেকে?
আমাদের ক্যালকুলাস
নানুর বাসা বলতে বেশীর ভাগ মানুষের হয়তো গ্রামের বাড়ি, মেঠো পথ, চারদিকে সবুজে ঘেরা সুন্দর কোন প্রকৃতির কথা মনে পড়ে। কিন্তু আমার কাছে নানুর বাসার কথা মনে হলে কোন সুন্দর প্রকৃতি, চাঁদের নরম আলো গায়ে মাখা কিংবা মজার কোন খাবারের কথা মনে পড়েনা। আমার কেবলই মনে পড়ে একটি মুখ। খুউব সুন্দর দেখতে একটি মুখ। যে মুখটি এই ইট, পাথর, সিমেন্টে ঘেরা জরাজীর্ণ ঢাকা শহরের একাকীত্ব গায়ে মেখে সারাক্ষণ শুধু আমাদের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনতো। মাফ করে দিও নানু আমাকে। যে তুমি আমাকে এতো বড় করেছো সেই তোমার বৃদ্ধ বয়সে তোমার জন্য আমার হাতে কোন সময় ছিলোনা।
