অপেক্ষা......................
জুন ১৯৮৫, এক মা তার সন্তানের আগমনের দিন গুনছেন। এটি অবশ্য তার পঞ্চম সন্তান। এর আগে তিনি চার বার গর্ভ ধারন করেছেন। তার কোল জুড়ে এসেছে দুটি মেয়ে এবং দুটি ছেলে। যার মাঝে একটি মেয়ে সন্তান জন্মের কিছুক্ষন আগে মারা গিয়েছিল। তাই তার খুব ইচ্ছা তার পঞ্চম সন্তানটি মেয়ে হোক। তার চতুর্থ সন্তান জন্মের সময় তাকে অনেক সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়েছিলো বলে ডাক্তার এর পরামর্শ ছিলো, তিনি যেন আর গর্ভ ধারন না করেন। করলে তাকে আরও অনেক সমস্যার সন্মুখীন হতে হবে। তাই হলো। বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে লাগলো তার মাঝে। শেষমেশ জুন মাসের শেষের দিকে তাকে হসপিটালাইজড করা লাগলো তার রক্তের প্রয়োজন বলে। দেয়া হলো রক্ত। তবুও সমস্যার শেষ হলো না। কিন্তু মা বলে কথা। এত শারীরিক সমস্যা থাকা’র পরও সেই মা অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন, কবে আসবে জুলাই মাস আর কবে দেখতে পাবেন তার সেই বহু কাঙ্খিত সন্তানের মুখখানি?
অবশেষে এলো জুলাই মাস। সেই মা’য়ের কোল জুড়ে এলো তার বহু কাঙ্খিত সন্তানটি.. হ্যাঁ, তার বহু কাঙ্খিত কন্যা সন্তানটি। তার জগৎ পুর্নতা পেলো।
জুন ২০১০, সেই মা’য়ের জগতের পরিপুর্নতা দানকারী সেই মেয়েটি আজ মা হতে চলেছে। সেই মা’য়ের সেই মেয়ে.. এই আমি, আজ আমার সন্তানের আগমনের দিন গুনছি। প্রতিটি মুহুর্তই কাটছে এই ভেবে যে, কেমন হবে সামনের দিন গুলি? একটা সময় ভাবতাম, না জানি মা হতে কত কষ্ট! হ্যাঁ, মা হতে অনেক কষ্ট। কিন্তু, এর মাঝে যে কি এক স্বর্গীয় অনুভুতি লুকায়িত আছে এটা কেবল একজন মা-ই বুঝতে পারবে। এই অনুভুতি কেবলই অনুভব করা যায়। কাউকে বলে বুঝানো যায় না। তবুও বলি.. যে মানুষটিকে ভালবেসে আমার সমস্ত কিছু দিয়েছি, সেই মানুষটির আরেক অস্তিত্ব’কে প্রতিনিয়ত অনুভব করছি নিজের মাঝে। এই সন্তান যে আমাদের দুজনের শরীরের বর্ধিতাংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই অস্তিত্ব, তার ছোট ছোট হাত-পা, তার ছোট্ট শরীর দিন দিন পুর্নতা লাভ করছে আমারই ভিতর। সেই হাত-পা কাজে লাগিয়ে আজ-কাল সে আমাকে জানিয়ে দেয় যে সে দিন দিন বড় হচ্ছে। আগে ভয় হতো, যখন সে আমারই ভিতর নড়াচড়া করবে, তখন কেমন লাগবে? ব্যাথা লাগবে না তো? হ্যাঁ, অনেক ব্যাথা লাগবে, রাতে ঠিক মত ঘুমও হবে না। কিন্তু, এখন যে এটাই স্বাভাবিক মনে হয়। বরং এখন সে ব্যাথা না দিলে, রাতে আমার ঘুম না ভাঙ্গালে আমার ভয় হয়। তখন বার বার তাকে ডাকি, জিজ্ঞেস করি সে ঠিক আছে কিনা।
সে এখনও ঠিক আছে। কিন্তু আমি ঠিক নেই। জানি এটাই হয়তো স্বাভাবিক। তবুও ভয় লাগছে। কারন, প্রথম বারের মত এই সমস্যা গুলোর সন্মুখীন হচ্ছি আমি। তবু এই আমিও অধীর হয়ে অপেক্ষা করছি, কবে আসবে জুলাই মাস আর কবে দেখতে পাবো আমার সেই বহু কাঙ্খিত সন্তানের মুখখানি?
আর কয়েকটা দিন। আশা করি আপনাদের দোয়ায় বাকি দিন গুলিও ঠিকঠাক ভাবে কেটে যাবে। পুর্নতা পাবে আমার জগৎ খানিও!





অনেক অনেক দোয়া তোর আর তোর বাবুটার জন্য
আমারতো বাপ হওনের কথা শুনলেও ভয় লাগে। মা হওয়াটা আরো পরিশ্রম আর কষ্টের...তুমিতো কষ্টের সময়টা বেশ ভালোমতোই পার করলা...
হুমম.........
লেখাটা পড়ে কি বলব বুঝতে পারছি না। দোয়া করি তোমার কষ্টের সময়টার শেষে এক পৃথিবী সমান সুখের আবির্ভাব হোক। ভালো থাকো ।
ভালো আছ তো?
নাহ!
তোমার জন্ম ৮৫তে? দেশে দেখি বাল্য বিবাহ এখনো আছে!
বাপ-মা, পাসপোর্ট আর সব রকম সার্টিফিকেট তো বলে ১৯৮৫
আমার জন্ম ৮৬ তে এখনো বিয়াই হইলো না! বাপ হমু কবে আর?!!!
লেখাটা খুব ভালো লাগল ভাবি , শুভকামনা ।
শুভ হোক। শুভ কামনা।
অনেক অভিনন্দন আর শুভকামনা।
আরে ব্যাপার না.।.।.।।আর তো কয়েকটা দিন, তার পর পংক্ষীরাজে চড়ে রাজকুমার আসবে।সেই রাজকুমার আবার মা কে নিয়ে অনেক দূরে যাবে।সেই কবিগুরুর কবিতার মতো।
শুভকামনা রইলো।।
আচ্ছা রাজকুমার আমাকে কি বলে ডাকবে?মামা না চাচ্চু????
মাচা/চামা ডাকলে কেমন হয়?
তাইলে মাচা ডাকতে কইয়েন।চামা ডাকলে কেমন জানি চামার চামার মনে হয়।

ফিকার নট...।
ইনশাল্লাহ সব ভাল মত হবে। দোয়া রইলো এই ভায়ের। পিচ্চির নাম ঠিক হইছে?
অনেক অনেক শুভ কামনা রইল নাজ
শুভ সংবাদটা শোনার অপেক্ষায় রইলাম
লেখা ভাল হইছে
অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো ........। দুই জনের জনের জন্য....... না থাউক তিন জনের জন্যই
নাজ বোনটি,
একদম দুশ্চিন্তা করবা না। দেখবা কেরমে কেরমে সব ম্যানেজ হইয়া যাবে। আমরা এত্তগুলান মামা, চাচা, খালা ফুপু থাকতে কিসের ডর? সবার দোয়ায় দেখবা সব ঠিকঠাক মত সম্পন্ন হবে। সর্বাবস্থায় ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হেঝিটেড করবা না। আল্লাহ ভরসা।
ডায়রী লিখলে ভালো। এখন এমন লাগছে পরে আবার এখনের কথা ভাবতেই ভালো লাগবে।
একজন মায়ের মা হওয়ার অনুভূতি কখনই অন্য কেউ বুঝবে না ... অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য। পূর্নতা পাক আপনার অপেক্ষাগুলো।
মিস্টি খাওনের অপেক্ষায় আছি। হুনছি সিলেট আর বিক্রমপুরের মিস্টি সেইরকম

মা হওয়ার অনুভূতির সাথে এই দুনিয়ার কিছুর সাথে তূলনা চলেনা। শুভ কামনা রইল।
শুভ কামনা রইলো।
টেনশন করেন না।
মাইয়া হৈলে বুকিং দিলাম...
রোদ্দুরের মায়ের অনেক শারীরিক ঝামেলা স্বত্তেও আল্লার ইচ্ছায় সব ভালো ভাবে শেষ হয়েছে। নো টেনশন ! আমরা সবাই আছি না ? এই সময়টা বেশি বেশি ফুরফুরে থাকবে। একটু সাবধানে চলাফেরা করবে। গহীন থেকে শুভকামনা রইলো...
আমার জানামতে, নাজ ভাবীর ছেলে আসতেছে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ।
শুভকামনা রইল মা ও অনাগত ছেলের জন্য ।
মাইয়া পাইতে আরো বড় কপাল লাগবে
শুভেচ্ছা আবারও। ভালোয় ভালোয় পার হোক সময়টা।
তানবীরা ভালো বলছে। বাচ্চা হওয়ার পরপর যতো ঝামেলা, আমার তো মনে হচ্ছিলো আবার যদি পেটে চালান দেয়া যেতো
পেটে চালান দিয়া দিয়া লাভ কি? দুই দিন আগে হোক আর দুই দিন পরেই হোক, ঝামেলা তো পহাতেই হবে!
এটা এবি'র জন্য একটা দারুণ সুখবর। আপনার জন্য এক কোটি টু দি পাওয়ার একশ কোটি শুভকামনা।
টুটুল ভাই-নাজ ভাবি দুইজনকেই শুভেচ্ছা। নিরবচ্ছিন্ন সুখ আর সমৃদ্ধি হোক আপনাদের চলার পথের পাথেয়।
এবং সফলতার দোয়াভর্তি ডালিখানা তোলা থাকলো বাবু'র জন্য।
ভালো থাকুন. সুস্থ থাকুন।
ওই নাজ।তোমার জন্মদিন কবে?জুন নাকি জুলাই?আমার মেয়ের ছোট্ট বন্ধুর জন্যে শুভেচছা।
জুলাই
টুটুল ভাই-নাজ ভাবীর জন্য অনেক শুভকামনা রইলো
হেপ্পি অপেক্ষায়িং...
আমি হিংসিত। ভাবীর ৮৫ তে আগমন আর আমার ৮১, মাগার অহন পর্যন্ত একা। পোড়া কপাইল্যা বিয়া করমু কবে আর বাপ হমু কবে? সে যাই হোক নিজের বিয়ার মিষ্টি না খাইতে পারলাম, কিন্তু ভাতিজা , ভাতিজীর জন্ম দিনের মিষ্টি তো ভাগ্যে জুটবে। তাই কম কি। তিন জনের জন্য শুভ কামন।।
শুভকামনা রইলো
সবার এত এত শুভকামনা আর দোয়া পেয়ে মনটা ভরে গেল! সবার শুভ কামনা আর দোয়া নিয়ে অপেক্ষা'য় রইলাম
মন্তব্য করুন