ইউজার লগইন

নীড় সন্ধানী'এর ব্লগ

কীবোর্ডবাজি, কিছু একটা না লিখলেই নয়, তাই লেখা

১.
অফিসের একটা ক্যাচালে ব্লগ নেট সবকিছু থেকে প্রায় নির্বাসনে বেশ কদিন ধরে। অনেককিছুই মিস। গেল সপ্তাহ এবং তার আগের সপ্তাহেও একই অবস্থা। এই সপ্তাহে কি হবে এখনো জানি না। পত্রিকা পড়া বাদ দিলেও ফাঁকে ফাঁকে যা দেখেছি তাতে মনে হয়েছে বাংলাদেশের এখন ইভ টিজিং জ্বর চলছে।

২.

যখন অন্ধকারও আলোময়ঃ টাইগারপাস-৪

পালিয়ে থাকার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ফরিদের জন্য ঠিক করা হলো নদীর ওই পারের চরণদ্বীপে। ফরিদের ফুপুর বাড়ী সেখানে। জায়গাটা একেবারে নদীতীর ঘেঁষে বলে ফরিদের পছন্দ, খুশীতে লাফিয়ে উঠলো সে। নদীর ওপারে দুরের করলডেঙ্গা পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়ার পাশের বিরান গ্রাম চরণদ্বীপ।
.
চরণদ্বীপে যাবার সাম্পানটা সাত সকালে পাথারঘাটা ছেড়ে পুবদিকে এগোতেই মনটা একটু উদাস হলো ফরিদের। সাম্পানে একা সে। পরিচিত মাঝি তাকে পেয়ে বকবক করে যাচ্ছে। কিন্তু ফরিদের মধ্যে ভিন্ন একটা আকুলতা ঘাট ছেড়ে আসার পর পর কেমন করতে লাগলো। ভাবনাটা অন্যায় হয়ে যায় তবু।
.

যে আগুনে পরাজিত অন্যায়ঃ টাইগারপাস-৩

সতেরো বছর বয়সী ফরিদ কাজী বাড়ীর কনিষ্ঠ সন্তান। পল্টন থেকে আসকার দীঘি যাবার মেঠো রাস্তাটা ধরে সামান্য পুবদিকে গেলেই হাতের ডানে কাকচক্ষু জলের যে পদ্মপুকুরটা পড়বে তার দক্ষিনের বাড়ীটাই ফরিদের ঠিকানা।
.
আশ্চর্য ব্যাপার হলো রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হয়েও পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ে ফেলেছে এবং বন্ধু মহলে পড়ুয়া হিসেবে পরিচিত লাভ করে ফেলেছে। স্কুলে পড়ার উৎসাহটা মামার কাছ থেকে পেলেও পড়ুয়া হবার কৃতিত্ব সম্পূর্ণই প্রদীপের। প্রদীপ তার ঘনিষ্ঠতম বাল্যবন্ধু এবং প্রতিবেশী। শহরের অন্যতম অগ্রসর পরিবারের সন্তান সে।
.
পড়ুয়া সুনাম থাকলেও ফরিদ আসলে নিতান্তই এক ভবঘুরে। এই বৈশিষ্ট্য তাকে সংসারে একজন অকর্মা পুরুষ হিসেবে হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম থেকে দুরে রেখেছে।
.

যখন বাঘেরাও নির্ভয় নয়ঃ টাইগার পাস-২

এই বাঘটা আসলে পথ ভুল করে আসা বাঘ নয়। জঙ্গলে শিকার অপ্রতুল হওয়ায় দুপেয়ে শিকারের আশায় অপেক্ষমান বাঘ। এক শতক আগেও এই এলাকাটা ছিল বাঘেদের অভয়ারণ্য। দুই পাহাড় চিরে যে পথটা চলে গেছে নদীর দিকে সেই পথটা ছিল একটা ঝরনার ধারা। সেই ঝরণায় দুপাশের জঙ্গল থেকে সুপেয় পানির লোভে ছুটে আসতো হরিনের দল এবং পেছন থেকে আচমকা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রীতিভোজের আসর বসাতো কালো কিংবা কালো-হলদে ফুটফুটে চিতার দল।
.
দুপেয়ে বসতি ছিল দুরে দুরে। তাদের নিয়ে ভাবনার কিছু ছিল না। বরং দুপেয়েগুলো তাদের ভয় পেয়ে চলতো। কিন্তু দিন পাল্টে গেল একদিন যখন ওই নদী বেয়ে কোন এক ভোরবেলা অনেকগুলো বড় বড় ভাসন্ত কালো কুচকুচে জানোয়ারকে সাগরের দিক থেকে কুলের দিকে ছুটে আসতে দেখলো।
.

যে পথে বাঘের ভয়: টাইগার পাস-১

আদিগন্ত নীল বঙ্গোপসাগর আর টলটলে খরস্রোতা পাহাড়ী নদী কর্নফুলীর ভালোবাসায় ধোয়া ছোট ছোট টিলাময় নিটোল শহরটি বসবাসের জন্য বৃটিশদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে উঠছিল দ্রুত।
.
শহরের এখানে ওখানে অনুচ্চ জংলা টিলাগুলো দখল করে বিলাতী সাহেবদের ইট সুড়কির লাল দালানগুলি ছবির মতো দাঁড়াতে শুরু করেছিল। ব্যস্ত কোলাহলময় কোলকাতার বিপরীতে পুরোদস্তুর অবকাশ যাপন শহর চট্টগ্রাম।
.
সিপাহী বিদ্রোহের আগুন ছাইয়ের নীচে চাপা পড়ার কয়েক বছর পর। বিলাতী ভদ্রলোকেরা কোলকাতার পরে উত্তম বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের দিকে নজর দিয়েছে মাত্র। চা বাগানের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হওয়াতে নতুন বানিজ্য সম্ভাবনায় আনন্দিত। বিদ্রোহের আঁচ চট্টগ্রামে খুব বেশী আগুন জ্বালেনি বলে শান্তিপ্রিয় পরিবেশের নিরাপদ শহর হিসেবেও জনপ্রিয়।
.

আমি আমার বউকে ভীষণ ভালোবাসি

রাতের খাবার শেষ করে বারান্দায় বসেছিলাম কয়েকটা 'টু বি অর নট টু বি'র হিসেব মেলাতে, তখুনি অচেনা নাম্বার থেকে একটা ফোন এল। অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলে আশংকিত থাকি একটা বাজে ঘটনার পর থেকে। কিন্তু কন্ঠটি আমার জড়তাকে পাত্তা না দিয়ে বললো, " দোস্ত আমি লাবু। বিয়া করতেছি, তোর আসতে হবে। আগামী ১৭ তারিখ হলুদ। হলুদে তো অবশ্যই আসতে হবে। বিশেষ দরকার আছে।"

লাবু.......লাবু......স্মৃতি হাতড়ে যে মুখটা পেলাম সেটা আমাকে ফোন করার মতো কেউ না। লাবু নামের এক সহপাঠী ছিল স্কুল জীবনে, কিন্তু বন্ধু বলা যায় না তাকে। সেই লাবু কি?

একটি অপ্রকাশিত আবিষ্কারের কাহিনী

গ্রহ নক্ষত্রের ফেরে আমার বিজ্ঞানী হওয়াটা ঠেকে গেল। নইলে হাফপ্যান্ট থেকে ফুলপ্যান্টে প্রমোশন পাবার আগ পর্যন্ত কেবলমাত্র বিজ্ঞানী হবারই স্বপ্ন দেখতাম।

যদিও পড়াশোনায় একবিন্দু মন ছিল না কখনোই। সেটার জন্যও আংশিক দায়ী বিজ্ঞানী হবার বাসনা। কারণ পরিচিত যে তিনজন বিজ্ঞানী ছিলেন তাদের কাউকে স্কুলে যেতে দেখিনি বা শুনিনি। একজন আপেল বাগানে গিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে থাকতো, আরেকজন চৌবাচ্চায় গোসল করতে গিয়ে পানি উপচে পড়াতে ইউরেকা বলে চেঁচাতে চেঁচাতে রাস্তায় ছুটে যেতো, শেষের জন দুরবীন হাতে দুর আকাশের অগুনতি নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে থাকতো আর কে কার পিছে ঘুরে সেটা আবিষ্কার করতো।

পাআআআআআআআআআআআ

বাসায় পৌঁছে কলিংবেল বাজাতেই সবচেয়ে কাংখিত যে শব্দটা ভেতর থেকে ভেসে আসে সেটা হলো “বাবা এসেছেএএএএএএ………..”।

.

বলাই বাহুল্য ওটা কার গলা। সদ্য চতুবর্ষ পেরুনো ওশিন। ছুটে এসে ছোট ছোট দুহাতে জড়িয়ে ধরবে কিংবা এক লাফে গলায় ঝুলে পড়বে। ইদানীং তার পেছন পেছন আরেকজনও আসার চেষ্টা করে। ইনি এখনো হাঁটতে পারেন না, কিন্তু ওয়াকারে করে সারা ঘর দাপিয়ে বেড়ান সাই সাই করে। তিনিও কলিং বেল শোনামাত্র হৈ হৈ শব্দ করা শুরু করবে, দুহাত বাড়িয়ে যদ্দুর সম্ভব ছুটে আসবে। তারপর আলতো করে বলবে, ‘পা…’। কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আরেকটু জোর দিয়ে “পাআআ…..”। কেউ শেখায়নি, এই শব্দ নিজে নিজে তৈরী করেছে। তার নিজস্ব তিন চারটে শব্দের ভান্ডার তৈরী করেছে ১৩ মাস পেরুনো ড.শিহান রিশাদ।

.

একটি কৌতুক, দুটো নগদ পাইরেটেড পদ্য এবং এক চিমটি ভ্রমনাচার

নিউ ইয়র্কে হাজব্যান্ড ষ্টোর নামে একটা দোকান খোলা হয়েছে যেখানে খোলাখুলি স্বামী বিক্রি করা হয়। ছয়তলা দালানে নানান ক্যাটাগরীর সোয়ামী ভাগ করা আছে। একেকতলায় একেকরকম স্বামী বিক্রি করা হয়।

কড়াকড়ি নিয়ম হলো ক্রেতা যে কোন ফ্লোর থেকে স্বামী পছন্দ করতে পারবে, তবে একজন একবারই পছন্দ করতে পারবে, এবং সেই পছন্দ অপরিবর্তনীয়। আরেকটা নিয়ম হলো নীচতলা থেকে উপরে যাওয়া যাবে, কিন্তু উপর থেকে নীচে নামা যাবে না।

তুমি কে?

সেই যে তুমি
মাঝে মাঝেই দেখা পাই তোমার
যতক্ষণ থাকো সমস্ত জুড়েই থাকো
মগজের আনাচে কানাচে তখন কেবলই তোমার অস্তিত্ব
যখনই আসো
আমাকে আষ্ট্রেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখো দিনরাত
কতোরাত নির্ঘুম কেটেছে তোমাকে পেয়ে
কত ভোর হয়েছে দুপুর........

একবার এলেই,
সহজে যেতে চাওনা তুমি আমাকে ছেড়ে

বলতো তুমি কে
তুমি কি সেই স্মৃতিময় ... ... ... ন?

ইফতারাড্ডা নিয়ে ফজুল পোষ্ট

রোজার দিনের সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো ইফতারের দাওয়াত। ঘরের ডাইনিং চেয়ারে হাঁটু মুড়িয়ে বসে লেবু/দই/আমের সরবতের সাথে প্রচুর সালাদ দিয়ে ছোলা মুড়ি পিয়াজু মাখিয়ে খেতে যে তৃপ্তি তার সাথে ফাইভ ষ্টার হোটেলের ইফতারিও পাত্তা পায় না। কারো কোন দুইমত থাকলে আওয়াজ দিয়েন। Cool

হারানো লাটিম, হারানো লেত্তি, হারানো সময়ের কাতর গল্প

লাটিমের পেটে লেত্তিটা পেঁচিয়ে তর্জনী আর বুড়ো আঙুলের মাঝে সবুজ-লালে মসৃন আঁকা লাটিমটা চেপে ধরে যখন 'হুপপপস' বলে সামনের মাটিতে দাগানো গোল চক্করে ছুড়ে মারলো আবেদ, তখনো বোঝেনি শুক্কুরের চালটা।

অপূর্ব এক তিতকুনে রাঙানো আকাশ

গরম পানির মগে ধূসর সাদা ছোট্ট টি ব্যাগটা চুবিয়ে দিলাম। মগের তলানিতে গিয়ে বসে গেল টি-ব্যাগটা চুপচাপ। কয়েক মুহূর্ত পরেই টিব্যাগের তলা থেকে সোনালি রঙের ঢেউ খেলানো লিকার মগের তলদেশ আলোকিত করতে শুরু করে। অপূর্ব এক দৃশ্য। আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকি। জলের ভেতর ভেজা ধোঁয়া যেন, কুন্ডলী পাকিয়ে ওঠা রঙিন লিকারগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা মগে।

অনাঘ্রাত দীর্ঘশ্বাস

এইসব প্রেম কি মিথ্যা ঘটনা? রটনার বাইরেও গোপনে গোপনে প্রেম চরে বেড়ায় আকাশে বাতাসে। আমাদের কতদিন কথা হয় না জানো তুমি চাঁদ?। হয়না দেখা কতোটা কাল!

আমি বাতাসের কাছে প্রান খুলে দেই....হাওয়ার শীতল পরশে ভেতরে লুকোনো ব্যাথা বুদবুদ হয়ে উড়ে চলে যায়। ঘুমঘরের চর্চিত মাটি ছুঁয়ে ফিরে আসে তার দীর্ঘশ্বাস।

ওপেন সোর্স ভালোবাসা

পাসওয়ার্ড ছাড়াই অবাক লগ ইন করলাম তোমার জীবনে-
ঠিক করে বলোতো,
এই উন্মুক্ত দ্বার কি কেবল আমারই জন্য?
নাকি সকল হ্যাকার পুরুষের জন্য!

ভেবেছি তুমি এক ওপেন সোর্স ভালোবাসা-
তাই ডিজিটালি আমি কেবল তোমাকেই চেয়েছি

...............................................................

এরর মেসেজ....ওরা বলছে ৫০ শব্দের কমে কোন অনুভুতি প্রকাশ নিষিদ্ধ।