ইউজার লগইন

নীড় সন্ধানী'এর ব্লগ

দুর্বিসহ ভ্রমন কান্ড (দুই)

চরম হতাশার মধ্যেও দুটো সুখবর পাওয়া গেল। এক. এই ট্রেনটা চট্টগ্রামেই যাচ্ছে। দুই. ট্রেনটা সামনের একটা স্টেশানে থামবে যেখানে নেমে গিয়ে সুবর্ন এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করা যায়, যদিও সুবর্ন এক্সপ্রেস ওখানে থামবে না।

আকাশের ওপারে আকাশ, বাতাসের ওপারে...........

সেই আট বছর বয়সে আবদুল্লাহ-আল-মুতির বই থেকে আকাশ নিয়ে কৌতুহলের যে অভিযাত্রা, আজও তা অব্যাহত আছে। ৪০ হাজার কিলোমিটার ব্যাসের কমলালেবুটা লক্ষকোটি জীবজড়প্রানসমেত সেকেন্ডে ২৯ কিলোমিটার গতি নিয়ে সুয্যিমামার চারপাশে যে ঘুরে মরছে তার মায়া ছাড়িয়ে মহাশুন্যে উড়াল দিতে সেকেন্ডে ১১কিমি শক্তি লাগে, কী নিদারুন ভালোবাসা বুকে তার!

দুর্বিসহ ভ্রমন কান্ড (এক)

এয়ারপোর্ট স্টেশানে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই ট্রেনের হুইসেল শুনলাম যেন। জানুয়ারীর তীব্র শীতের বিকেল। সেবার সত্যি খুব শীত পড়েছিল, কয়েক বছর আগে। জোব্বা জ্যাকেটে শীত মানছিল না। টেক্সী থেকে নেমেই হাতের ব্যাগ আর কাঁধের ব্যাগ শক্ত করে ধরে ছুট দিলাম প্ল্যাটফর্মের উপর দিয়ে। ট্রেন ছেড়েই দিচ্ছিল।

ন'কবির কবিতা প্রচেষ্টা

১.
তোমার সকল উপেক্ষা
যেন আমারেই লক্ষ্য করে।

ঠিক যেমন তোমার প্রতীক্ষা
আমাকে লক্ষ্য করে না।

*************************************************

পাদটীকাঃ

উল্টে দেখাঃ রক্তাক্ত একটা স্মৃতি

২২শে ডিসেম্বর ১৯৯০। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড ইয়ার অনার্সে পড়ি তখন। ভার্সিটিতে কী একটা পরীক্ষা ছিল সেদিন। কিন্তু হবে না বোধহয়। কারন ইসলামী ছাত্র শিবির অবরোধ ডেকেছে। দাবি ভিসির পদত্যাগ। অথচ যৌক্তিক কোন কারন নেই। ব্যাপার হলো এই ভিসি শিবিরের পছন্দ না। কিন্তু যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের নিয়ন্ত্রনে, মসজিদের ইমাম থেকে রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়নটা পর্যন্ত সবকিছু শিবিরের পছন্দের হতে হবে। সবাই বাধ্য শি

সুশীলতম উৎপাত

সবাই সুশীল হতে পারে না। একবার না পারিলে শতবার চেষ্টা করেও কেউ কেউ পুরোপুরি সুশীল হয় না। সুশীল হতে হলে জীনের সাহায্য লাগে। মানে জেনেটিক্যালি হয়ে আসতে হয়। ট্রেনিং, শিক্ষাদীক্ষা ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি নিয়ে কেউ সুশীল হতে পারে না। আমি ভদ্রসমাজে সুশীল ভান করে থাকি ঠিকই। কিন্তু রাস্তায় মেজাজ খারাপ হলে মুখ দিয়ে যা বের হয় তার সাথে সুশীলতা মেলানো যায় না। বিপরীত দিকে বখে যাবার জন্যও যোগ্যতা লাগে। আমি বাল্যকালে অতীব

বিক্ষিপ্ত এক টেলিফোন সংলাপের স্মৃতি ভগ্নাংশ

 - হ্যালো, তুমি কি আছো অচিন দা?

- আমি আছি, এতক্ষন পর এসেছো তুমি?

 - রাত গভীর হবার অপেক্ষায় ছিলাম। তোমাকে উইশ করবো বলে। একটা কিছু দেবার খুব ইচ্ছে ছিলো তোমাকে জন্মদিনে....হলো না রে!

- বস্তু কে চায় তোমার কাছে?

- কেন?

- বস্তু হলো নশ্বর, আমি তো চাই অবিনশ্বর কিছু

- তবু মাত্রই তোমার কথা মনে করে একটা ছবি তুলেছি

একুশের ফটোব্লগঃ সাতরাস্তার মাথা ঘুরে শহীদ মিনারে

রাতেই কথা দিয়ে রেখেছিলাম কন্যাকে সকালে শহীদ মিনারে নিয়ে যাবো। ভোরে যাবার  ইচ্ছে থাকলেও চা নাস্তা পর্ব শেষ হতে হতে দশটা বেজে গেল। ওশিনকে নিয়ে রিকশায় উঠতেই  খুশীতে গান গেয়ে উঠলো সে। রিকশা হলো তার একমাত্র প্রিয় বাহন। বাকী দুনিয়ার  সমস্ত গাড়ী চোখের বিষ।

একজন দীপা এবং ভুলে যাওয়া একটা প্রেম

১.
জাকের মাষ্টারের অর্ধপ্রকাশিত ইতিহাসটা অনেক রহস্য অমীমাংসিত রেখে চাপা পড়ে গিয়েছিল তাঁর মৃত্যুর পরেই। ঘটনাটা তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর আমার কানে আসার পর উত্তরপুরুষ হিসেবে কৌতুহল দমিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না। কারন জাকের মাষ্টার যে সময়ের মানুষ সেই সময়ে ওরকম একটা ঘটনা উপমহাদেশে বিরল। তবে জাকের মাষ্টারের চেয়েও যাঁর কারনে কৌতুহলটা চিড়বিড় জেগে উঠলো তিনি হলেন দীপালী চক্রবর্তী বা দীপা আহমেদ।

পহেলা ফাল্গুনে জ্যৈষ্ঠের স্মৃতিচর্বন

ভয়ানক গরম পড়ছে আজ। জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা দুপুর। ক্লাস শেষে কোনমতে ষ্টেশানগামী শেষ বাসটা ধরে ঝুলে পড়লাম। ষ্টেশানে এসে দেখি ট্রেনে ঠাসাঠাসি ভীড়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুপুর দেড়টার ফিরতি ট্রেনের যাত্রাটা মোটেও সুখকর নয়, বিশেষ করে এই দাবদাহে। কোন বগিতেই সুঁচ ঢোকার জায়গা নেই। বগির পাদানি গুলো পর্যন্ত দুজন করে বসে দখল করে রেখেছে। হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে যাবার আশাও মাঠে মারা গেল।

একটি ভেলা, একটি ঝরনা এবং একটি ভ্রমনের সারসংক্ষেপ

লোকটা কাঠুরে। পাহাড়ী বৃক্ষ থেকে জ্বালানী সংগ্রহ করার জন্য ভেলা বানিয়ে উজানে গিয়েছিল। হিমালয়ের বরফ গলা খরস্রোতা নদী। নদীতীরে বসে ভেলাটা দড়ি দিয়ে ধরে রেখে কাঠুরে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিল খানিক। দিবানিদ্রার ঝিমানিতে দড়িটা কখন ফসকে গেল হাত থেকে কাঠুরে টেরই পেল না।

দুম করে মিলিওনিয়ার হয়ে গেলাম দুফর বেলা!!!

শনিবার, মেইলের উৎপাত কম। দুপুরে বসে বসে স্প্যাম ঝাড়ু দিচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো এগুলা কখনো উল্টিয়ে দেখলামো না ছাই, কত শত মেইল পাঠায় ওরা। হাজারের মধ্যে একটাও কি সুখবর থাকতে পারে না? উড়াইয়া দেখিবে ছাই, পাইলেও পাইতে পারো মানিক রতন......বেছে বেছে কয়েকটা খুললাম-
 

কপিতা: মিস কল

হে অচেনা, আমি তোমাকে একটুও মিস করি না।
তবু অচেনা কোন নম্বর থেকে মিস কল এলে
ব্যাকুল হয়ে দেখি এটা সেই অজানা নাম্বার কিনা।
নেটের কসম আমি তোমাকে কখনোই মিস করি না।

বেঁচে থাকাটাও যখন অমানবিক!!

আমার গ্রামের হতদরিদ্র আবদুল আলীম অনেক কষ্টে আমার বাসাটা খুঁজে যে ঘটনাটা জানালো, আমি লা জওয়াব ছিলাম অনেকক্ষন। তার তেরো বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে কোথাও থেকে আসার পথে বাসের চাপায় তার স্ত্রীর তাৎক্ষনিক মৃত্যু হয় এবং ছেলেটা মারাত্মক আহত হয়। উরু থেকে নীচের অংশের হাড় গুড়িয়ে যায়।

অতিথি পাখি হবার সাধ জাগে একবার

আড্ডাপ্রিয় মানুষ আমি। ব্লগে আসার প্রধান কারন আড্ডা দেয়া। গড়ে ১৪ ঘন্টা যাকে অফিস করতে হয় তার জন্য আড্ডা জিনিসটা হারাম হয়ে যাবার কথা। হয়ে গেছেও একরকম। বন্ধুদের সাথে মাসে একবারো দেখা হয়না।