ইউজার লগইন

তিনি আমার বড় মা ছিলেন

তিনি ১২ বছর বয়সেই আমার নানার মা হয়ে আসেন, নানার আপন মা মারা গেলে নানার বাবা তাঁকে বিয়ে করে নিয়ে আসেন সংসারে। তাঁর ছেলে ছিল তাঁর খেলার সাথী।

দূর্ভাগ্যক্রমে তিনি ১৬ বছর বয়সেই বিধবা হন। নিজের কোন সন্তান হয়নি, অন্য কোথাও বিয়ে বসার কথা তখনকার সমাজে কেউ কল্পনাও করতে পারতোনা বলে তিনি বিধবা হয়েই, সাদা শাড়ী পড়েই সারা জীবন কাটিয়ে দিলেন , নানা কে আগলে ধরে রেখে।

নানাকে বড় করলেন, মানুষ করলেন, বিয়ে দিলেন । এক সময় ঘর আলো করে আমার মা এলো সেই সংসারে। আমার মা বাবার কোল জুড়ে এল বড় বোন তারপর এলাম আমি, মা'র দাদী বা নানার মা তখনও বেঁচে ছিলেন। আমরা ডাকতাম বড় মা বলে।

বড় মা'কে নিয়ে বেশ কিছু কথা মনে পড়লো আজ হঠাৎ করেই।

১৯৮১ সাল। দেশে আদমশুমারী চলছে। আমার নানাবাড়ীতে লোক গেল জরিপ চালাতে। বড় মা কে ডাকা হলো। তাঁকে জিজ্ঞাস করা হলো তাঁর স্বামীর নাম। তিনি গ্রামের বিধবা মহিলা, তারপরে সেই যুগের। স্বামীর নাম মুখে আনা বারন, তাই কোন ভাবেই তিনি তার তাঁর স্বামীর নাম বলবে না জরিপকারী দের কাছে। অনেক পীড়াপিড়ী, জরপিকারীরাও ছাড়বে না, তারাও মজা পেয়ে গেছে। তাদের চাপাচাপি তে শেষ পর্যন্ত বললেন - "ডিমের মধ্যের টা" ।

মানে আমার নানার বাবার নাম ছিল কুসুম মিয়া ।

আমি জন্মানোর পর তিনি অজ্ঞাত কারণে আমারে প্রচন্ড ভালোবাসতেন, বলা যায় তাঁর দুনিয়া একদিকে আর আমি আরেকদিকে। আমাকে খাওয়ানো, গোছল করানো - দেখা শুনা - সব কিছুই করতেন তিনি। তাঁকে মা ঢাকায় নিয়ে এলেন তিনি আমারে দেখভাল করতেন। এখনও মনে আছে, আমাকে গোছল করিয়ে দিয়ে তিনি তাঁর আঁচল দিয়ে আমার গা মুছে দিতেন। আমি তাই আহ্লাদ করেই তাঁর আঁচলে কে বলতাম গামছা আর গামছা কে বলতাম গুমছি। কেন যে গুমছি বলতাম, সেটা আমার কাছে একটা রহস্যই বটে।

তিনি আমাদের বাসায় এসে জীবনে প্রথম টিভি দেখলেন। টিভি দেখতে চাইতেন না, আমার মা'র অনুরোধেই মাঝে মাঝে আসতেন টিভির ঘরে। একবার তিনি টিভিতে খবর দেখছেন সবার সাথে বসেই। সংবাদ পাঠক সংবাদ বলছে আর মাঝে মাঝে মুখ তুলে ক্যামেরা অর্থাৎ আমাদের দিকে তাকাচ্ছে। তাই দেখে বড় মা, যতবার সেই পাঠক সামনের দিকে তাকায়, ততবার মাথার ঘোমটা টেনে বড় করেন কিংবা ঘোমটা ঠিকঠাক করেন । তাঁর ধারনা ছিল সংবাদ পাঠক বার বার তাঁর দিকেই দেখছে টিভির ভিতর থেকে।

এই ছিলেন আমাদের বড় মা। তিনি গত হয়েছেন আজ প্রায় ২৭/২৮ বছর আগে ।

পোস্টটি ২০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অদিতি's picture


আপনার লেখা পড়ে একটা কথা মন পড়ে গেল। আমি একবার আম্মার সঙ্গে বসে 'পরমা' ছবিটি দেখছি, এক সময় নানু এসে বসলেন। একটা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখে খুব রেগে গিয়ে আমার সামনে আম্মাকে চড় মেরেছিলেন!

সাঈদ's picture


তিনি বেঁচে থাকলে কি যে করতেন এখন , আল্লাহ মালুম।

তানবীরা's picture


সাঈদ অসাধারন লিখেছেন।

সাঈদ's picture


ধন্যবাদ তানবীরা।

সোহেল কাজী's picture


পূরানো দিনের মানুষেরা এমন সহজ সরলই ছিলো; তাই জটিলতাও তখন কম ছিলো।
লাইকাইছি

সাঈদ's picture


আসলেই , তাদের সাদা মাটা জীবন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা , ত্যাগ - এইগুলার খুবই অভাব আজ।

নাহীদ Hossain's picture


শেষ পর্যন্ত বললেন - "ডিমের মধ্যের টা"   LaughingLaughing

সাঈদ's picture


Smile

চাঙ্কু's picture


আমার এক বড় মায়ের কথা মনে পড়ে গেল Sad

১০

সাঈদ's picture


শেয়ার করেন আমাদের সাথে।

১১

রাসেল আশরাফ's picture


সাইদ ভাই, কয়দিন ধরে চিন্তা করছি আপনারে আমার ফেসবুক এর বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিবো আর আজ এই গল্প পড়ে মনে হল মডুরে বলে আপনারে ব্যান খাওয়াবো।

কারন এইভাবে মায়ের কথা বড় আপনজনদের কথা মনে করায় দিয়ে চোখ ঝাপসা করে দেয়ার কোন মানে নাই।। কথায় বলে আউট অব সাইট আউট অব মাইন্ড।কিন্তু আমার বেলায় এইরকম হচ্ছে কেন???বুঝতে পারছি না।

১২

সাঈদ's picture


ভাই , আউট অফ সাইট , আউট অফ মাইন্ড - কথাটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।

আমারে ব্যান করবেন, বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিবেন - এইসবের তীব্র পরতিবাদ জানাই।

১৩

রাসেল আশরাফ's picture


আম-জনতা যে কেন হইলাম না?????বড় আফসুস.।.।।

১৪

সাঈদ's picture


কন কি আপনি কি ইশপিসাল জনতার একজন নাকি ?

ডরাইছি।

১৫

রাসেল আশরাফ's picture


আমি কি আপনার কথা কইছি নাকি? আমি তো আমার কথা কয়ছি। Grade Grade Grade

১৬

সাঈদ's picture


আমিও তো তাইই কইলাম - আপনি ইশপিসাল জনতার একজন .। Puzzled

আম্রার মত আম জনতা না ।

১৭

জ্যোতি's picture


লিখা খুব ভালো লাগছে তাই আপনারে যেন ব্যান না করে ভাতিজার কথায় সেইজন্য সুপারিশ করমু।

১৮

রাসেল আশরাফ's picture


চোরের সাক্ষী গ্যাইট কাটা আইছে.।.।.।.।

১৯

জ্যোতি's picture


ভাতিজায় দেখি সাঈদ ভাইরে চুর কইছে। সাঈদ ভাই তাইলে চুর!!!!!!!!!!!!!!!!!!!আপনিও আছিলেন তাইলে সাথে?কি চুরি করছেন দুইজন মিল্লা?

২০

রাসেল আশরাফ's picture


জি না আমি আপনারে গ্যাইট কাটা কয়ছি।।

২১

জ্যোতি's picture


আমি ভালু মেয়ে। দেখেন না রুধীনের পো্ষ্ট!কানা নাকি?

২২

রাসেল আশরাফ's picture


ঠিক কইরা কন কে রুধীন্দির একাউন্ট হ্যাক কইরা লিখছে।।আপনি ভিজা দিনের গল্প লিকপেন.।.।আম-জনতা বুঝে বুঝে সব বুঝে.।.।

২৩

জ্যোতি's picture


কি বুঝলেন? আপেল জনতা? রুধীনরে জিগান কে হ্যাক করছে?আপনি না তো?

২৪

মামুন হক's picture


আমার বড় মা ও এক অসাধারণ মানুষ ছিলেন। খুব নামকরা বংশের মেয়ে, দেশভাগের পরে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মধ্যে জীবন হাতে নিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। সেই সব দিনের গল্প যখন করতেন আমরা কচিকাচারা সম্মোহিত হয়ে শুনতাম। দারুণ সব ছড়ায় ছড়ায় গল্প বলতেন। প্রায় সবই ভুলে গেছি, দেখি বড় বোনকে জিজ্ঞেস করে তার কিছু মনে আছে কি না।

লেখাটা মন ছুঁয়ে গেল সাঈদ ভাই।

২৫

সাঈদ's picture


ধন্যবাদ ভাই।

আমিও অনেক কিছুই ভুলে গেছি , কিছু কিছু কথা অন্যদের কাছ থেকে ধার করে নিয়ে স্মৃতিতে আটকে রেখেছি।

২৬

জ্বিনের বাদশা's picture


লেখাটা পড়ে আপনার বড়মা'র প্রতি আপনার ভালোবাসাটা চমৎকার অনুভব করা গেলো ... ভালো থাকবেন

২৭

সাঈদ's picture


আসলে তিনি আমাকে যে পরিমান ভালোবেসেছেন, তা কোনদিন শোধ হবার নয়।

আপনিও ভালো থাকবেন।

২৮

মীর's picture


স্মৃতিচারণের কষ্ট আছে। হঠাৎ করে শূন্যতাটা টের পাইয়ে দেয়।

পোস্ট পছন্দ হইসে।

২৯

সাঈদ's picture


আসলেই, স্মৃতিচারণের কষ্ট আছে ।

ধন্যবাদ লাইকানোর জন্য।

৩০

হাসান রায়হান's picture


ভাল লাগল । লাইক দিলাম।

৩১

সাঈদ's picture


ধন্যবাদ ভাই।

৩২

নাজ's picture


আপনার বড় মা ভাল থাকুক!

৩৩

সাঈদ's picture


ধন্যবাদ।

৩৪

নীড় সন্ধানী's picture


আমার কোন বড় মা নেই, আপনার বড়মাকে নিয়ে লেখা অতি চমৎকার লাগলো।

৩৫

সাঈদ's picture


ধন্যবাদ নীড় দা ।

৩৬

সাহাদাত উদরাজী's picture


ভাল লাগলো।
আপনাদের গ্রামের বাড়ী কোথায় জানতে পারি।

৩৭

সাঈদ's picture


নড়াইল জেলার অন্তর্গত লোহাগড়া উপজেলায় নানা বাড়ী । ক্যান ভাই ???

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।