ইউজার লগইন

আষাঢ় মাসে আসেন আষাঢ়ে গপ্পো করি। (আপডেটেড)

আষাঢ় মাস আরম্ভ হলো আজ, যদিও বৃষ্টির দেখা নাই। বৃষ্টি আসুক আর নাই আসুক আজ বর্ষা Sad

তা আষাঢ় মাসে আষাঢ়ে গপ্পো না করলে কি জমে নাকি !!! চলেন সবাই মিলে আষাঢ়ে গপ্পো শুরু করি। আমি শুরু টা করলাম, পরের অংশ যোগ করার দায়িত্ব বাকী সবার। সবার লেখা পর্যায়ক্রমে যোগ করে হবে গপ্পো।

`````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````

সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে গেল হাসান রায়হান সাহেবের। আজ অনেক কাজ বাসায়। বন্ধুরা আসবে আজকে বাসায়, বিশাল খানাপিনা হবে। সরকারী দল ও বিরোধী দল আজ যৌথ ভাবে হরতাল ডাকছে। তাদের ২ নেত্রী কে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়েছে , সেই খুশীতে দুই দল যৌথ ভাবেই হরতাল ডাকছে। হরতালে গাড়ী-বাস চলবে শুধু অফিস আদালত বন্ধ থাকবে, সেই সুযোগেই আজ আড্ডার আয়োজন।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেস হয়ে নাস্তা খেয়ে হাসান রায়হান সাহেব বের হয়ে পড়েন বাজারের থলে নিয়ে। বেলা বেশী হয়নাই , বাইরে বেশ রোদ তবুও ঠান্ডা ঠান্ডা একটা ভাব এই ভাদ্র মাসের সকালে। রাস্তা নামতেই দেখেন হরতালের সমর্থনে সরকারী দলের মিছিল। বিরোধী দলের নেত্রীর ছবি বুকে টাঙ্গিয়ে মিছিল করছে তারা।

হাসান রায়হান সাহেব আসলে বুঝে উঠতে পারছেন না কি করা উচিত, মারামারি হবে কি না , পিকেটিং হবে কি না হরতালে !!! দুরু দুরু মন নিয়ে সামনে এগুতে লাগলেন।

বাজারের কাছাকাছি পৌছতেই বিরোধী দলের মিছিল। রাস্তায় পিকেটিং এর বদলে তারা নেচে গেয়ে মিছিল করছে। আশপাশ দিয়ে যাওয়া লোকদের উপর ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছে। সবাই তালি দিয়ে বরন করছে মিছিলকারীদের । তাদের প্ল্যাকার্ডে ২ নেত্রীর ছবি শোভা পাচ্ছে।

এসব দেখে মনে বেশ সাহস বাড়লো হাসান সাহেবের। বাজারে ঢুকতে যাবেন , এমন সময় জ্বিনের বাদশার ফোন । হাসান সাহেব তার নতুন কেনা আইফোন টা বের করেন পাঞ্জাবীর পকেট থেকে। গতকালই কিনেছেন রাপা প্লাজা থেকে এই আইফোন ১৫০০ টাকায়। ওপাশ থেকে জ্বিনের বাদশা কি যেন বললেন আর এ পাশ থেকে জোরে জোরে মাথা ঝাকাতে লাগলেন হাসান সাহেব।

কথা শেষ করে বাজারে ঢুকলেন। প্রথমেই মাছের দোকানে। একটা ৯ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না , দাম জিজ্ঞেজ করলেন তিনি।

দাম শুনে তো তাজ্জব !!!!

রাফিঃ

তাজ্জব হাসান সাহেবের হাত থেকে বাজারের থলে পড়ে গেলো মাটিতে। বলে কি? ইলিশের কেজি মাত্র ১০টাকা!! নয় কেজি ইলিশের দাম তাহলে মাত্র ৯০টাকা!!!

হাসান সাহেবকে চুপ থাকতে দেখে মাছ বিক্রেতা একটু প্রমোশনাল এক্টিভিটিস চালালো।
: বুঝলেন কিনা শার, এই মাশ একবারে পদ্মার তীর ঘেষা এক পুকুরের গো....। লিয়া লেন, বেগুন দিয়া, আলু দিয়া রানতে কইবেন পরিবাররে....

হচকিত হাসান সাহেবকে আমতা আমতা করতে দেখে দোকানী এইবার দাম কমালো, বললো.
:ঠিক আশে শার, দাম একটু কমই দেন। কিন্তু ৭০টাকার নিচে হবে নাকো.....

ততধিক বিভ্রান্ত হয়ে হাসান সাহেব মাছটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে দাম শোধ করে দ্রুত পায়ে হাটা দিলেন সব্জি বাজারের দিকে। ধরেই নিলেন মাছ বিক্রেতা আজ দম দিয়ে দোকানে বসেছে। নেশা কেটে গেলেই এই মাছের দাম বেড়ে যাবে......।

সাঈদঃ

হাসান সাহেব ৫০০ টাকার মধ্যে বাজার সদাই শেষ করে ঠেলাগাড়ীতে করে নিয়ে আসলেন বাসায়। বাসায় ঢুকতেই দেখেন যে মেইন গেট খোলা, পুরো বাড়িতে কেউ নাই। বাসার সবাই গেল কই ? তাড়াতাড়ি তার মিসেস কে কল করেন
ঃবাসা খালী , কেউ নাই বাসায় , কই গেছ তুমি ? বাকী সব কই ?
ওপাশ থেকেঃ আর বলো না , বিশাল ঝামেলা বাঁধছে এদিকে। আজাদ সাহেবের ছেলে কে যে মেয়ে ভালোবাসতো, সেই মেয়ে এখন অস্ত্র নিয়ে হাজির, আজাদ সাহেবের ছেলে কে তার সাথে বিয়ে না দিলে নাকি সবাই রে গুলি করে মারবে
ঃ বল কি ? হাসান সাহেবের চোখ বড় বড় হয়ে যায় শুনে , হার্টবিট বেড়ে যায়।
ঃচিন্তা করনা , আমি ৫ মিনিটের মধ্যেই আসছি।

হাসান সাহেব হাঁপ ছেড়ে বাচঁলেন। রান্নাঘরে ঢুকে মাছ, মাংস বের করে বটি বের করে কুটতে লাগলেন। এরই মধ্যে তাঁর স্ত্রী এসে হাজির। পাশে বসে এক নাগাড়ে বলে যাচ্ছে সেই ঘটনার আদ্যপান্ত আর হাসান সাহেব মাথা ঝাকাচ্ছেন আর রান্নার যোগাড় যন্ত্র করছেন।

রান্না প্রায় শেষ এমন সময় কলিং বেলের শব্দ। হাসান সাহেব দরজা খুলেই দেখে সামনে নজরুল দাঁড়িয়ে । সাথে তার পুরো পরিবার
- আরে বাসা চিনলে কি করে ? এস এস ভিতরে এসো
- ট্রাফিক সার্জেন্ট কে বাসার ঠিকানা দেখাতেই নিজে এসে দেখিয়ে দিয়ে গেল , তাই আর অসুবিধা হয় নাই।

ড্রয়িং রুমে এসে বসে তারা।

মামুন হকঃ

ড্রয়িং রুমে বসে নজরুল নিজেই টিভি ছাড়ে, ফ্যান ছাড়ে। ফ্রিজ খুলে পানির বোতল বের করে শরবত বানায়। সেই শরবতে শুধু পানি, রূহ আফজা আর লেম্বু চিপা। টিভিতে আগের রাতের খেলা পূণঃপ্রচার চলছে। আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে ধরে গুনে গুনে এক হালি রসগোল্লা খাইয়ে দিয়েছে। টিভিতে দুঙ্গার বিষণ্ণ মুখ, দুগগা দুগগা বলে আকাশ পানে তাকিয়ে বিপন্ন চেহারায় ক্রন্দন। ম্যারাডোনার ভাবলেশহীন চেহারা, গোল আরও গোটা চারেক হতে পারতো বলে আফসোস। ডাবল হ্যাট্রিক কেন করলি না বলে মেসিকে চটকানা। মেসি গুস্বা করে ড্রেসিং রুমে গিয়ে কোথাও ফোন করে।

হল্যান্ডে তানবীরা আপার মেজাজ খারাপ। দুলাভাই রান্না করতে গিয়ে সারা বাড়ি মেখে ফেলছেন, এমন মেসি মানুষ হয়? শুধু রান্নাঘরটা না পুরা বাড়িটাই এখন একটা বিরাট মেস বানিয়ে দুলাভাই দাঁত কেলিয়ে হাসছেন। এরই মধ্যে ফোন বেজে ওঠে। নাম্বারটা অচেনা। রং নাম্বার নাকি? ছিঃ এমন মেসি মানুষ হয়, মেসি মেসি বিড়বিড় করতে করতে আপা ফোন ধরেন। ওদিকে ফোনে নিজের নাম শুনে মেসি ডুকরে কেঁদে ওঠে, 'আম্মাগো আইজকা আমারে ওস্তাদে থাবড়াইছে, আমি আর খেলুম না'। এই বয়সেই কারও মুখে আম্মা ডাক শুনে তানবীরা বেগম মুখ ঝাঁমটে ওঠেন, ' ঐ পোলা আম্মা ডাকলি ক্যান? বুবু ডাকতে পারস না? কেডায় তুই? কোন দেশী?' মেসির কান্নার আওয়াজ আরও বাড়ে,'আম্মাগো আমারে চিনলেন না, আমি মেসি, ব্রাজিলরে মাত্র চাইরটা দিসি আরও চাইরটা দিতারতাম।'

'দূরে গিয়া মর বদের হাড্ডি কোথাকার, রাবণের জ্বালাতেই বাঁচিনা, আবার সুগ্রীব দোসর'-ক্ষিপ্ত তানবীরা ফোন রেখে দেন। ওদিকে ব্রাজিলক আরেক হালি না দিতে পারার দুঃখে মেসি ফুঁপিয়েই চলে।

হাসান রায়হানঃ

একে একে লোকজন সব চলে আসছে। মেসবাহ য়াযাদ এসেছেন সপরিবারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে। টিসার্ট আর সর্টস। মনু ভাবির হাতে ফুটবল। ড্রয়নিং রুমেই পরিবারটা ফুটবল খেলা শুরু করে। ভাবি স্ট্রাইকার মেসবাহ গোলকিপার। বিপক্ষ দল নজরুল পরিবার। ওরাও ব্যাগ থেকে ব্রাজিলের জার্সি সর্টস পরে নেমে যায় খেলায়। মেসবাহ ভুয়া কিপার । একটা শটও কিপ করতে পারলনা। অন্যদিকে মনু ভাবি পটাপট গোল দিয়ে খেলায় সমতা আনল। সবচেয়ে ভালো খেলছে মেসবার তিন মাসের ছেলে সমুদ্দুর। সারা মাঠ চষে বেড়িয়ে নিখুত সব পাস দিল স্ট্রাইকারকে। খেলা জমে উঠেছে, তুমুল উত্তেজনা।

এইসময় শোনা গেল হেলিকপ্টারের শব্দ। খুব নীচ দিয়ে উড়ে আসছে। কী? না ছাদে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করল। দরজা খুলে নেমে আসল রায়হান সাঈদ। সাথে লবঙ্গ লতিকার মত ঝলমলে এক তরুনী। কে এই তরুনী? সবাইর এক প্রশ্ন। সাঈদ লাজুক মুখে জানায় অনেক দিন ধরে কান্দাকাটি করার পর গতকাল রাত দেড়টার সময় মন গলেছে ললনার। তাই আজকে ডেটিংয়ে নিয়ে এসেছে। প্রেমিকার আব্দারে হেলিকপ্টার ভাড়া করে এসেছে বেড়াতে।

আমরা যারা প্রত্যকদিন এফবিতে সাঈদের স্ট্যাটস কান্দাকাটি দেখতে দেখতে অলমোস্ট বিরক্ত আলোচনায় বসি। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। মেয়ে যখন পটাতে পেরেছে সাঈদকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে, আর সেটা আজকেই। পরে মেয়ে বিগড়ায় বসলে আবার শুরু হবে সাঈদের কান্দাকাটি। আরিফ জেবতিক বলে আপনারা সব আমার হাতে ছেড়ে দেন। এক ঘন্টার নোটিশে বিয়ে দেয়ার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সাথে সাথেই তিনি ফোন করেন কাজী কে। এদিকে রিমঝিম বিয়ার খবরে খুশিতে নাচছে। মেকআপ বক্স বের করে তখনই সাজাতে শুরু করে কনেকে।

খুশি আনন্দে ঘর মৌ মৌ করে। এমন সময় নুশেরার ফোন আসে চিটাগাং থেকে। খারাপ সংবাদ। ও আসতে পারবেনা। রওনা দেবে এমন সময় দেখা যায় ওদের রোলস রয়েস গাড়িটা স্টার্ট নিচ্ছেনা। জার্মান ড্রাইভার ওলমার জানায় পাপুয়া নিউগিনি থেকে ইন্জিনিয়ার না আসা পর্যন্ত গাড়ি ঠিক হবেনা। সুতরাং নুশেরার আসা হচ্ছে না। আসরের সবাই মন খারাপ করে। নুশেরার চাঁদ বদন কেউ দেখে উঠে পারে নাই। এমনকি চিটাগাং এর লোকেরাও না। এইটা অবশ্য নুশেরার অপরাগতা কিছু নয়। ঐখানের অবস্থা বিটকেলে। পেপারে এসেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে পুরুষে পুরুষে চুমাচুমি করছে। তওবা অস্তাগফিরুল্লা। যাই হোক মেসবাহ য়াযাদ দুইহাত উচু করে দাড়িয়ে ঘোষণা দিল, সে যাবে চিটাগাং, নুশেরাকে নিয়ে আসতে। আমরা বললাম যাবেন আসবেন দিন পার হয়ে যাবে না? য়াযাদ ভাই বলেন হেলিকপ্টার তো ছাদে আছে এইটা নিয়া যাই। আরে তাইতো ! এটাতো সাঈদ সারাদিনের জন্য ভাড়া করেছে।

হাফপ্যান্ট পরা য়াযাদ ভাই হেলিকপ্টারে উঠেন। উদরাজি বলেন উনিও যাবেন মাঝপথে কুমিল্লা নেমে যাবেন শ্বসুর বাড়ির তরমুজ খেতে।

জয়িতাঃ

হেলিকপ্টার মেজবাহ ভাইকে নিয়া রওয়ানা হলো।মেজবাহ ভাই পাইলট কে ঝাড়ির উপড় রাখছে। "মিয়া চালাতে পারেন না তাইলে প্লেন চালান কনে? কাইত হইলো কেন?" পাইলট মনে মনে মহা বিরক্ত। এর মধ্যে নুশেরাপুকে হেলিকপ্টারে করে আনতে যাওয়ার খবর পেয়ে তানবীরাপু, নেদারল্যান্ড থেকে মেজাবাহ ভাইকে ফোন দিলো"নুশেরাকে আনতে যাচ্ছেন আড্ডা দেয়ার জন্য আর আমার কথা মনে পড়লো না? এখনই রওনা দেন, আমি রেডি হয়েছি। আগে নেদারল্যান্ড আসেন , তারপর আমরা দুজন মিলে নুশেরাকে আনতে যাব। " মেসবাহ ভাই পাইলটকে বললো নেদারল্যান্ড যেতে। পাইলট বলে "নেদারল্যান্ড কুন দিকে?চিটাগাং এর আগে পড়ব? নাকি পার হইয়া যাইতে হবে? তাইলে কিন্তু ভাড়া বাড়িয়ে দিবেন"।

এমন সময় নুশেরাপুর ফোন "মেসবাহ ভাই আসতে এত দেরী কেন করছেন? আমি তো রেডী হয়ে বসে আছি। বেশি দেরী হলে সাজগোজ নষ্ট হবে, তখন কিন্তু যাব না।" মেসবাহ ভাই আমতা আমতা করে "হ্যাঁ আসছি,। আরে পাইলট লুক সুবিধার না, রাস্তা ভুল করে ফেলছে।" প্লেন এখন কুথায় যাবে বুঝতে না পেরে বুড়িগঙ্গার উপড়ে খালি পাক খাচ্ছে। মাসুম ভাই ভাবছে, "বাহ। দারু একটা ক্যাচাল লাগলো । এইটা নিয়া নিশ্চয়ই আজকে আমাকে ই টি ভি তে ডাকবে এই ঘটনা নিয়া চাপা পিটাইতে! যাই পারসোনায় ফেসিয়ালটা করে আসি।ফেসবুকে বান্ধবীর সংখ্যা তো বাড়াতে হবে!!!!

শওকত মাসুমঃ

হেলিকাপ্টার বুড়িগঙ্গায় ঘুড়তে ঘুড়তে একটু ডানদিকে চলে আসে। মেসবাহ য়াজাদ উকি দিয়ে দেখে সব বাড়িতে ফ্লাগ আর ফ্লাগ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল না হয ইতালির। খালি একটা বাসায় সাদা কাপড় উড়ানো, সেখানে খালি লেখা এভেইল্যাবল। মেসবাহ পাইলটরে বললো এখানেই থামাতে, যাওয়ার সময় না হয় জেবীনকেই নিয়ে যাওয়া যাক। তা নাহলে আবার রুবাইকে আরেকটা হেলিকপ্টার ভাড়া করতে হবে।
কিন্তু সমস্যা হলো আরেক জায়গায়। আবহাওয়া হঠাত থারাপ হয়ে যাওয়ায় হেলিকাপটার উল্টা পাল্টা আচরণ শুরু করলো। মেসবাহ য়াজাদের মনে হলো ......
মুখোমুখি মাখামাখি
লাফালাফি ঝাপাঝাপি।
মেসবাহ হঠাত চিতকার করে বলে উঠলো, এই পাইলট, হেলিকপ্টার আবার বুড়িগঙ্গার দিকে নিয়ে যান। পাইলট বললো, কেন নুশেরা কিংবা তানবীরা-কাকে যেন আনতে হবে বললেন যে। আবার বললেন অ্যাভাইলেবেল ফ্লাগওয়ালা বাসায় থামতে। কাহিনী কি?
মেসবাহ য়াজাদ বললো- বুড়িগঙ্গার আশে পাশে নামান কোথাও। আমার দোস্ত উদরাজির কাছ থেকে বহু কষ্টে গুলনাহারের ঠিকানাটা নিছিলাম। এখন একটু পাঙ্গাসের পেটি খাইতে ইচ্ছা করতাছে যে.......

জেবিনঃ

সবার এদিক সেদিক দৌড়ঝাপ দেখে খানিক বিরক্তিতার সাথে রাগও দানা বেধেঁ উঠছে মানু’র! মুখ ফুটে বলে নাইতো কি হইছে, রানী’র দেশের লোকের কথা একবারও কারোর মনে পড়ল না!! একেতো জেয়াফতে যাবার বিষয়টা আছে, তার উপর মেজাজ খারাপের আরো একটা ব্যাপার যোগ হইছে। আগে দূর্দান্ত সব কবিতা দিলেই ৪২/৪৩ টা করে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পেন্ডিং থাক্তো, কবি-ক্যামেরা সংক্রান্ত ঝামেলার কারনে সেসব দিনে ভাটা পড়ছে, ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্টতো আসেই না।। তার উপর কাউকে রিকয়েষ্ট পাঠাইলে সেটাও মঞ্জুর হয় না। মাঝে দিয়া তার রিকুয়েষ্ট পাঠানির তোড়ে ফেসবুক গেলো ব্যান হয়ে, পাব্লিকে বুঝতে পারে নাই, নইলে খবরই ছিলো তার। বেশ কিছুদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষনের পর বুঝা গেলো, সেই ভক্তকুল ইদানিং খেলোয়ারদের(ফুটবল, ক্রিকেট এমনকি ফার্মভিলের ও) প্রতি আরক্ত হইতেছে লক্ষনীয়মাত্রায়। তাই জেন্টেলম্যান্স গেইম ক্রিকেটকে বেছে নিয়ে ফটোশপ দিয়ে ক্রিকেটটিমের সাথের একটা ছবি বানাইয়া আপলোড করতে না করতেই দূর্মুখা টেকিবন্ধুগুলা এসে বলে গেলো “ব্যাটা, করলিতো ফূটূশপের কেরামতি”! আরে, তাতে তোদের কি! হোক না কেরামতি, তাতে জানা তো যাইতো কিছু হুরমতিদের মনের গতিমতি!... অন্যদের কথা গোনায় না ধরলেও মাসুম্ভাইরে পর্যবেক্ষনে রাখতেই হিমশিম খাইতে হইতেছে। পেপার, টিভি মিডিয়া কাভার কইরাও তার আশ মেটে না, ম্যাসেঞ্জার আর ফেসবুকেও ছেয়ে যেতে চায়! ফেসবুকেতো ঘোষনাই দিলেন “ফেসবুক ব্যান করা চলবো না, ৩০০’র বেশি বান্ধবীরে হারায়া যাইতে দিমু না” এদ্দিন খালি “আই এ্যম মোবাইল” (যেখানে খুশি পোর্টেবল আর কি) ঝান্ডা দেখাইতেন অফিস বইসা, আর এখন তো ঘরে-বাইরে সবখানেই “এভেইল্যাবল” দেখান। মেসবাহভাই তো এত্তো খবর রাখেন না, দেখা যাইবো জেবীন’রে আনতে গিয়া দাওয়াতে, “এভেইল্যাবল” ঝান্ডা দেখে মাসুম্ভাইরে নিয়া আসবে। মাঝে দিয়া লাগবে ক্যাচাল, অন্যরা বলবে, আনার কথা সব কইন্যাদের মাঝে দিয়া মাসুম্ভাই কেম্নে আসলেন!!

লাগুক ক্যাচাল তাতে এই লন্ডনবাসী’র কি! নিজেরই চিন্তার শেষ নাই, আরো চিন্তার কথা হইল, এই মাসুম্ভাইয়ের শালা বিমা। শালা-দুলাভাই মিলে আন্তর্জাতিক-আভ্যন্তরিন সব্দিক থেকে এ্যটাক করতেছে, যেন তারা আমারে পানিতে মারবে- ভাতে মারবে! কোন পাকা ধানে মই দিছিলাম এদের কে জানে! দুলাভাই যেখানে আন্তর্জালে বিস্তার ঘটাইতেছেন, শালা এখন নজর দিছে সিরাজগঞ্জের দিকে! অফিসের কাজের বাহানায় ঘনঘন যাতায়াত শুরু করছে ওইদিকে! কিযে তার মতিগতি বুঝাই ভার...

যাক, যেটা পয়লা সমস্যা সেটা কেম্নে সমাধান হবে ওইটা নিয়া ভাবার টাইম এখন, মেসবাহভাইরে কেম্নে যে জানান দিবো যে, ‘ভাই হেলিকপ্টারটা এট্টু কান্নি মাইরা লন্ডনের দিকে লইয়া আসেন।‘ মেসবাহভাইয়ের সুখ্যাতি তো সবারই জানা মেসেঞ্জারে মেসেজ দিলে আবার ফোন কইরা তারে জানাইতে হয় “ভাইরে ম্যাসেঞ্জারে ওই কথা বলছি দেখে আসেন প্লীজ!”... তবে কি অচিন’দার ঘরে দাওয়াত খানা হবে না? উনার সাথে এর আগে নূরাভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াত খানা মিস হইছিল, সেই আফসুস এখনো যায় নাই, আবার দাওয়াত মিস হবে??...

শওকত মাসুমঃ

মানু অপেক্ষায় আছে।
এদিকে আকাশে ঘুরপাক খাচ্ছে মেসবাহ য়াজাদ।নুশেরা বা তানবীরাকে আনতে যাওয়ার চেয়ে পাঙ্গাসের পেটিই টানছে তাকে। কিন্তু ঝামেলা বাদালো পাইলট। হঠাৎ বেরসিকের মতো বলে বসলো, বড় পাঙ্গাস হইলে আমারেও একটা পেটি দিয়েন। অনেকদিন পেটি খাই না।
মেসবাহ য়াজাদ বুঝলো-এই লোকরে পথ চেনানো ঠিক হবে না। কথা ঘুরিয়ে বললো, আপনার হেলিকপ্টারের পাঙ্খাটা কই? একটু দেখতাম।
অবাক হয়ে পাইলট বললো, পাঙ্খা দেখার কি আছে।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, যেখানেই যাই, আমি পাঙ্খা ছাড়া যাই না। আই লাভ পাঙ্খা। তাই একটু দেখতে চাইছিলাম।
পাইলট বললো, হেলিকপ্টারে পাঙ্খা তো উপরে থাকে, কেমনে দেখবেন এখন।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, তাইলে থামান এইটা, পাঙ্খা দেখি।
পাইলট বললো, এমনিতেও থামাইতে হবে, হেলিকপ্টারের তেল শেষ হইয়া গেছে প্রায়। ঢাকার বাইরে আর যাওয়া যাবে না।
মেসবাহ য়াজাদ কি মনে করে বললো, তাহলে আবার রায়হান ভাইয়ের বাসায়ই চলেন।
হেলিকপ্টার নামলো রায়হান ভাইয়ের বাসার ছাদে। রুমে ঢুকে দেখে সাঈদ এখনও এই বাসাতেই আছে। কিন্তু চিন্তিত। মেসবাহ য়াজাদ জিজ্ঞাস করলো কি হইছে সাঈদ। সাঈদ বললো, পেপারে একটা খবর পইড়া একটা জিনিষ নিয়া ভাবতাছিলাম।
কি নিয়া?-মেসবাহ জানতে চাইলো।
সাঈদ বললো-পাটের নাকি জন্ম রহস্য আবিস্কার হইছে। আমি ভাবতাছি মানুষের জন্ম রহস্য নিয়া। ভাবছি এইটা নিয়া গবেষণা করবো। কিন্তু এতো টাকা কই পাই।
মেসবাহ য়াজাদ একটা হাসি দিয়া বললো, এই গবেষণার জন্য টাকা পয়সা তেমন লাগে না। ৪ বা ৫ টাকা হলেই হবে। সেইটা থাকলে বলেন ব্যবস্থা করে দেই।
সাঈদ বললো, এই টাকা কোনো ব্যাপারই না। ব্যবস্থা করেন।
মেসবাহ য়াজাদ তখন বললো, এই টাকা খরচ কইরা একটা বিবাহ করেন, খানা পিনা দেন, তারপর ঠিকই জন্মরহস্য জাইনা যাইবেন।
এইটা বলে মেসবাহ য়াজাদ মোবাইল থেকে একটা গান বের করে সাঈদের কানে দিল

তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া
আমি বন্ধ ঘরে অন্ধকারে যাবো মরিয়া..........

সাঈদ এবার মুচকি হেসে বললো, এই কথাটা কত ভাবে বুঝাইতে চেষ্টা করি, কেউ বোঝে না।বান্ধবী পর্যন্ত এখানে নিয়া আসলাম। আসল ব্যবস্থাতো কেউ করে না।

মেসবাহ য়াজাদ বললো, সমস্যা নাই। পাত্রীও রেডি। ব্যাপার না। তয় কিছু টাকা ছাড়েন। তেল নিতে হবে। নুশেরা আর নুপুররে আনতে হবে।
মেসবাহ য়াজাদ আবার হেলিকপ্টারে উঠে পড়লো...........

সাঈদঃ

হাসান সাহেবের বাসার মধ্যে বিশাল ক্যাচাল। একদিকে বিয়ের আয়োজন অন্যদিকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা খেলা।

সবাই একটু ভয়েই ছিল বল লেগে আবার ঘরের কিছু ভাঙে টাঙে কিনা। কিন্তু বল লাগতেই দেখে ঠন ঠন করে আওয়াজ। সবাই দেখে যে হাসান সাহেবের বাসায় সব কিছু স্টীল দিয়ে তৈরী, এমনকি কাপড় চোপড় ও, সেখানে আবার তালা চাবি সিস্টেম ও আছে।

টুটুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল হাসান সাহেবের বাসায় আসার সময় যেন কাজী ডেকে আনা হয়। টুটুল রাস্তায় বের হতেই দেখে সুন্দরী , সুইট একখানা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাসের অপেক্ষায়। তাকে দেখে টুটুলের চোখ আর নামেনা, অবশ্য ছোটবেলা থেকেই তার এই অভ্যাস।

-এক্সকিউজ মি বলে টুটুল এগিয়ে যায় মেয়েটির দিকে
- জ্বী বলুন
- মেয়েটি ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর দেয়।
মেয়েকে দেখে টুটুলের হার্টবিট বেড়ে যায়, কপাল থেকে অনবরত ঘাম ঝড়তে ঝড়তে থাকে। কি বলতে কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।
- না মানে বলছিলাম কাজী অফিস যাবো । আমতা আমতা করে বলে টুটুল।
- হোয়াট ? বলেই ফুঁসে উঠে সন্দরী তন্বী। "তবেরে বুড়ো মিনসে" - বলেই টুটুল কে দুখানা চটকানা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

নিজের গাল ঘষতে ঘষতে , বিড় বিড় করে "কাজীর নিকুচি করি" বলতে বলতে টুটুল হাসান সাহেবের বাড়ীর দিকে পথ ধরে।

ওদিকে দেরী দেখে তানবীরা নাসায় ফোন দিয়ে রকেটের ব্যবস্থা করে ফেলে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রকেট চলে আসবে তার বাসার ছাঁদে ল্যন্ড করবে তারপর সেখান থেকে সোজা ঢাকায়, আসার পথে শুধু নুশেরা কে নিয়ে আসবে সে, এইভাবেই কথা হয়েছে মেসবাহ ভাইয়ের সাথে।

সাঈদ গোমড়া মুখে বসে আছে সোফার উপরে পাশে সুন্দরী নিয়ে, ঢাকায় কোন কাজী পাওয়া যাইতেছে না। এদিকে বেলা শেষ হয়ে আসতেছে প্রায়।

এমন সময় টিভিতে হঠাৎ বিশেষ ঘোষনা । নোয়াখালী থেকে মুকুল নামে একজন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবে।

শাওন ৩৫০৪ঃ

.......ঠিক সময়ে সবাই টিভি ছাইড়াই দেখে, ভুলে ক্যামেরা ধরা হৈয়া গেছে আগেই, মুকুল কোটের সাথে টাই টিক করতাছে, সাথে চেক কাটা বর্মিজ লুঙ্গি। টেবিলে বইসা খবর দেয়ার কথা ছিলো মুকুলের....ইউ নো...

অনুষ্ঠান মূলত বাংলাদেশের একজনের বিশাল এক আবিষ্কার। আবিষ্কারক আর কেউ না, সয়ং মুকুল। সেই সম্পর্কে আলোকপাত করবে মুকুল, যা একযোগে সরাসরি প্রচারিত হৈতাছে BBC, CNN, FOX Channel সহ বিশ্বের নামকরা সব টিভি চ্যানেলে....
কি সেই আবিষ্কার? না, আবিষ্কার টা হৈলো, ম্যাচ ম্যাকিংয়ের থ্রী ডি মডেল, যেইখানে সরকার থেইকাই, অবিবাহিত নর নারীর প্রোফাইল ইনপুট হৈয়া যাবে, আর প্রোগ্রাম বা মডেল টা নিজে নিজেই উপযুক্ত পাত্রের জন্য পাত্রী খুঁইজা দিবে------
অনেককালের খায়েশ এইবার মুকুললের পুরন হওয়ার পথে..
মডেলটা বাই ডিফল্ট সব নিত্য ব্যবহার্য্য যন্ত্রের সাথেই যুক্ত হওয়া শুরু হবে এখণ থেইকা, যেমন কম্পু, ক্যালকুলেটের, মোবাইল, গাড়ীর ইঞ্জিন, হাত ঘড়ি------

এই আবিষ্কার টা প্রোয়োগ কৈরা অভাবনীয় সাফল্য পাইছে মুকুল, সুদুর ঘানা থেইকা হিগুইতা মারিয়ামা আর ভারত থেইকা মল্লিকা শেরওয়াৎ ম্যাচ করছে মুকুলের প্রোফাইলের সাথে-------মুকুলে খুশিতে ডগমগ--------

সমস্যা হৈতাছে, মুকুলকে অনুষ্ঠান টেলিকাস্ট করতে হৈতাছে ঘেরাও অবস্থায় । কারন, মুকুলের আবিষ্কারে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় হৈছে ঘটক পাখিরা । সারা দেশের সব পাখি ভাই জড় হৈছে নোয়াখালীতে, এখন মুকুল কি করবে?
শুধু তাইনা, ঘটক ভাইদের ডাকে সাড়া দিয়া, ঘেরাও কর্মসূচীতে যোগ দিছে সারাদেশের কাজী সাহেবরা। তাই কোথাও এই মুহূর্তে বিয়া হৈতাছেনা সারাদেশে---------কিন্তু এমন অভুতপূর্ব সাফল্যের কথা কি চাইপা যাবে মুকুল?
রায়হান ভাইয়ের বাসায় বৈসা সবাই উৎসুক হৈয়া অপেক্ষায়-------
ঐদিকে চিটাগংয়ে নুশেরা আপু মুকুলের এইরকম হঠকারী আবিষ্কারে জিদ্দের চোটে গজগজ করতাছে/ একেই মেসবাহ ভাই হেলিকপ্টারের লোভ দেখাইয়া রাখছে, গালের রোউজ কুট কুট করতাছে, আবার এইদিকে মুকলা কি আবিষ্কার করলো???

রায়হান ভাইয়ের বাসায় সাঈদ ভাই দরদর কৈরা ঘামতাছে, কি হবে?
ঐদিকে টুটুল ভাইয়ের পিছে পিছে আসতাছে মেয়েটা, টুটুল ভাই ভাবে, খাইছে, আরেকটা মারবো নাকি? আপনাতেই হাত উইঠা যায় গালে-----

এমন সময়, রায়হান ভাইয়ের বাসায় নক করে এক লোক। ভাই জিগায়, কিডারে? উত্তর আসে, আমি আব্দুল্লাহ-----
দরজা খুইলা দেখে এক জন পান খাইতে খাইতে গাল চুলকাইতাছে..।
রায়হান ভাই জিগায়, কাকে চান?
আব্দুল্লাহ উত্তর দেয়, মানে আঁই ইট্টুনি নোঁয়াখালি যাইতাম ছাই, হিয়ানো ইগ্গান ঘিরাও কৈত্তাম আঁরি, আমরা ব্যাকতে মিলি ঐ নালায়েখরে ঘিরি ধৈত্তাম চাঁই। তাত্তাড়ি যাওনের লাই, আন্নেগো ছাদে এক্খান হেলিপট্কার দেইখলাম, ভাইবলাম, ভাঁড়া যাইতো নি? হে হে হে-----
রায়হান ভাইয়ের চোখ বড় বড় হৈয়া যায়----
মাথার উপর টুং কৈরা বাত্তি জ্বইলা উঠে----

রাফিঃ

এদিকে টুটুল ভাইয়ের পেছনে পেছনে আসা রগচটা মেয়েটা হাসান ভাইয়ের বাসার দরজায় দাড়ালো। টুটুল ভাইকে এখানে আসতে দেখে মেয়েটা ক্ষেপে গেলো আরো।জিগাইলো, আপনে আমার দেখা দেখি এখানে এসেছেন?
আমতা আমতা করে টুটুল ভাই বললো: জ্বী না। মানে আমিতো আপনার সামনে ছিলাম।
রগচটা মেয়ে: তা তে কি? সামনে থেকেও ফলো করা যায়। আর এই বাসায় কেনো আসছেন আপনি?
টুটুল: ইয়ে, এইটা আমার বন্ধুর বাসা।

এটা শোনার সাথে সাথে রগচটা মেয়েটার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেলো। অমায়িক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো: তাই ভাইয়া! আচ্ছা সাঈদ নামের কাউকে চেনেন? এই বাসায় আসার কথা।
টুটুলঃ (ভাইয়া ডাক শুনে বিগলিত ও আরেকবার চড় খেতে হবে না বলে নিশ্চিত) হ্যা হ্যা, চিনি তো। ও এসেছে এখানে। হেলিকপ্টারে করে তার হবু বউকে নিয়ে এসেছে। আজই বিয়ে। আমি সে জন্যই তো কাজীর খোজ করছিলাম। আপনি না বুঝেই আমাকে চড় মারলেন।
মেয়েটি পুনরায় অগ্নিশর্মা হয়ে বললো, চড় খেয়ে জানে বেচেছেন। কাজী নিয়ে আসলে আর জানে বাচতেন না।

বাইরে রাগত নারী কন্ঠের হাউকাউ শুনে হাসান ভাই দরজা খুললো। মেয়েটি হাসান ভাইকে প্রায় ধাক্কা মেরেই ঘরে ঢুকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো, "কৈ সাঈদ কৈ? খুব নাকি বিয়া করার শখ হৈছে চান্দু?"

মেয়েটিকে দেখেই সাঈদ ভাই ভয়ে নীল, কোন মতে পাশে বসা লবংগ লতিকার কাছ থেকে উঠে দাড়িয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললো, "আ-আ-মি এখানে। তু-তু-মি এখানে কে-কে-ন আসছো মি-থি-লা?"
মিথিলা: তোমার নাকি খুব বিয়ের শখ হৈছে? এইখানে নাকি আজ তোমার বিয়ে হবে?
সাঈদ: না না, কে বললো। আমি তো ঘুরতে এসেছি। কে না কি বললো, তা নিয়ে তুমি অযথাই খেপে যাচ্ছো।

এতক্ষনে বিভ্রান্ত কাটিয়ে লবংগ লতিকা উঠে দাড়ালো। সাঈদ ভাইয়ের পিঠে চিমটি কেটে জিজ্ঞেস করলো, "এ কে সাঈদ?"
সাঈদ: এ? এ তো আমার কাজিন।
মিথিলাঃ কি? আমি তোমার কাজিন? এতদিনে এই কথা? দেখাচ্ছি মজা। তার আগে বলো এই মেয়েটি কে?
সাঈদ: ও? ওও তো আমার কাজিন। সেকেন্ড কাজিন।
লবংগ লতিকাঃ আচ্ছা, আমিও তোমার কাজিন? কোন দিক দিয়ে?

বাসায় উপস্থিত বাকি সবাই হা করে দেখছে এ তিনজনের কাজকারবার, আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। ইভেন মেসবাহ ভাইয়ের ছোট ছেলেটাও। দুরে দাড়িয়ে টুটুল ভাই গাল ডলছে আর চড় খাওয়ার জন্য সাঈদ ভাইকে দোষী করে শাপ শাপান্ত করছে।

হাসান ভাই আর মাসুম ভাইয়ের চোখাচোখি হলো। দুজনে এগিয়ে গেলো বিবদমান তিনজনের দিকে........

নাহীদঃ

এগুতে এগুতে হাসান সাহেব মাসুম ভাইয়ের হাত চেপে ধরে বলল, দুলাভাই আপনেই এখন ভরসা, কিছু একটা করেন। সাঈদ পোলাডা খারাপ না। কিন্তু ক্যামনে যে এই লবঙ্গ লতিকাদের পাল্লায় পড়ল বুঝতাছি না। মাসুম ভাই পড়ল মহা চিন্তায় কিন্তু বুঝতে না দিয়ে বলল, আরে আরে চিন্তা করেন ক্যান? আমি আছি না।

তিনজনের কাছে গিয়া প্রথমেই মাসুম ভাই সাঈদরে এক ঝারি দিয়া বলল, আরে মিয়া পান-মসলা খাওয়ার সখ হইছে, আমাগোরে বলবা তো। তা না কোথায় কি কইরা বেড়াইতাছো। কাউরে কিছুই কও নাই। (এইবার ভারীক্কিভাবে সবার উদ্দেশ্যে) শোন তোমরা যদি আমারে দুলাভাই মাইনা থাকো তাইলে আমি এই সমস্যার একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করতে পারি।

এই কথা শোনামাত্রই ঐ জনৈক লবঙ্গ লতিকা লাফ দিয়ে মাসুম ভাইয়ের হাত ধরে বলে, দুলা...ভা...ই (কান্নাবিজড়িত কন্ঠে) দেখেন তো এতদিন চটপটি-ফুসকা খেয়ে এখন বলে কিনা কাজিন! মাসুম ভাই কিন্তু বেজায় খুশ। চামে নতুন একটা রেডীমেড শালী পাওয়া গেল। লতিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মাসুম ভাই বলে, চিন্তা করো
না, আমি আছি না? আমার মনে হয় এই সমস্যার একমাত্র সমাধান দিতে পারে মুকুলের নতুন থ্রিডি মডেল। সমস্যাটারে ঐ থ্রিডি মডেলে কায়দা করে ফেলতে পারলেই এই সমস্যার একটা নগদ সমাধান পাওয়া যাবে নিশ্চই। সাঈদ, তোমার ড্রাইভাররে বল হেলিকপ্টার বাহির করতে, এক্ষুনি নোয়াখালী যাইতে হবে।

নোয়াখালী যাওয়ার কথা শুনে আত্‌কে উঠে হাসান সাহেব

বলে, আমি গেলে রান্না-বান্নার কি হবে? কত কাজ। তাছাড়া ও আবার আমার হাতের রান্না ছাড়া অন্য রান্না খেতে পারে না। মাসুম ভাই এক ঝটকায় বলে ফেলল, একা যাওয়া টা তো ঠিক হবে না...নজরুলের বউও যাক আমার সাথে, তাছাড়া কাজীবিদ্যায় তো ওর আবার অগাধ জ্ঞান।

ঐদিকে নজরুল সেই যে ফুটবল খেলা শেষ করে ক্লান্তি দূর করার নামে গেষ্টরুমের বিছানায় গিয়ে অঘোরে ঘুম, সেই ঘুম ভাঙ্গল ভাবীর গড়গড়ানিতে। ভাবী গজগজ করতে থাকে, ঐখানে এত প্রেম কাহীনি হইয়া যাইতেছে, আর উনি কিনা নিশ্চিন্তে ঘুমায়! নজরুল লাফ দিয়ে উঠে বসল। ঘুমের ঘোরে কি বুঝল না বুঝল, ভাবীর দিকে একটা হাসি দিয়েই ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা দিল। ড্রয়িরুমে পা দিয়েই তার প্রথম ডায়ালোগ, দুপুরের খাওন মিস্‌ করি নাই তো? সবাই একসাথে হা হয়ে নজরুলের দিকে তাকালো। নজরুল দেখে সাঈদ মাথা নিচু করে বসা। সাথে দুই পাশে দুই নতুন ফ্রেন্ড মনে হয়। সবার মুখ থমথমে। নজরুল বুঝলো পরিবেশ ভাল না। পরক্ষনেই সে
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে হেসে উড়িয়ে দেয়ার ভান করে বলে, ও হো মাত্র তো ১২টা বাজে। আস্তে য়াযাদ ভাইয়ের কাছে গিয়া চুপচাপ বসে। য়াযাদ ভাই সবাইকে শুনিয়ে মোটামুটি একটু জোরে সোরেই বলে, মাসুম ভাই তানবীরারেও নিয়া গেলে ভাল হইতো না। ও তো রকেট নিয়া রওনা দিছে, তাড়াতাড়িই চলে আসবে। তাছাড়া এই ধরনের সমস্যা আই মিন এই ধরনের ত্রিভূজ প্রেমের ব্যাপারে ডাচ্‌ আইনের ভাষ্য কি সেইটাও জানা যাবে কি বলেন? সবাই রাজি হইল।

এদিকে রকেটের কথা শোনার পর থেকেই নজরুলের ঘুম ঘুম চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল। মনে মনে ভাবে, এইটা তো খুব একটা ভাল সুযোগ, হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। নজরুল একটু ভেবে প্লান করে নিল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে সোজা রান্না ঘরের দিকে রওনা দিল। ভাবীও পিছু নিল কি করে দেখার জন্য। নজরুল রান্না ঘরে উঁকি
দিয়েই দেখে হাসান সাহেব শুঁটকী ভর্তা বানাচ্ছেন। আপনের কাছে কি ফেভিকল আছে? কোন ভনিতা না করেই নজরুলের সোজা প্রশ্ন। ফেভিকল দিয়া কি করবা? হাসান সাহেব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে। “ইয়ে মানে...একটা ফ্ল্যাট বুকিং
দিছিলাম মঙ্গলে, কনকর্ডের ফ্ল্যাট। ভাবতাছি তানবীরার রকেটটা নিয়া গিয়া একটু কাজের অগ্রগতি দেইখা আসি। চিন্তার কিছু নাই, আমি দুপুরের খাওনের আগেই ঠিক ঠিক ফিরা আসব” -নজরুলের উত্তর। তা ফেভিকল লাগবো কিসে? আবারও হাসান সাহেবের প্রশ্ন। এইবার নজরুল পুরা বিগলিত হাসি দিয়া, “হে হে হে বুঝেনই তো
বৃষ্টি-বাদলার দিন, তার উপরে কনকর্ডের ফ্ল্যাট, ঐখানের বিল্ডিংয়েও যদি ফাটল-টাটল
ধরে তাইলে সোজা ফেভিকল দিয়া ... হে হে হে”।

হাসান সাহেব খুশি হয়ে ভাবে, আরে পোলাডার মাথায় তো চরম বুদ্ধি, জব্বর একটা আইডিয়া বাইর করছে। সে উচ্ছসিত হয়ে বলে, হ হ ভাল কথা মনে করাইছো। কয়দিন আগে টুটুলেরও কপাল ফাটছিল, ফেভিকল লাগাইয়া দিছি, ভাল কাজ হইছে। এখন তো দাগ পর্যন্ত বুঝা যায় না। কিন্তু খুব বেশি তো নাই, দেখো ওইটুকুতে তোমার চলে কি না, আমি নিয়া আসতেছি।

নজরুল ফেভিকলের ডিব্বা নিয়া রান্না ঘর থেকে বের হতেই ভাবী ওকে টেনে একপাশে নিয়ে ধমকের সুরে বলতে লাগলো, “এই ফেভিকলও মানুষের কাছ থেকে ধার করতে হয়? তোমার কি আক্কেল জ্ঞান কখনই হবে না! নজরুল তাতে পাত্তা না দিয়েই একটা বুদ্ধিমানের ভাব নিয়ে ভাবীর কাছাকাছি গিয়ে বলল, আরে বুঝ না ক্যান! এত দূর থিকা এতগুলা টাকা ভাড়া দিয়া গরুর গাড়িতে আসছি, খাইয়াও যাব আবার নিয়াও যাব, নাইলে পুষাই কেমনে? আরে রকেটতো মাগনাই পাইতাছি। তাছাড়াআজকে চাঁন্দে ফুল-ডে লোডসেডিং, চাঁন্দের সব মার্কেট বন্ধ। মঙ্গলে গিয়া ফেভিকললাগলে তখন পামু কই?

গর্বে ভাবীর বুক ভরে যায়, এই না হলে পতি? সে খুশিতে গদগদ হয়ে বলে, বুঝবো না ক্যান! আমি ভালই বুঝি, নইলে মাসুম ভাইর নোয়াখালী যাওয়ার প্রস্তাবে রাজী হই? এই সুযোগে মুকুলের থ্রিডি মডেলটার ক্যাম্নে কি একটু বুঝে আসি। বুঝ না ভবিষ্যতে কখন কি কাজে লাগে হি হি হি ...।

দুইজনে খুশি খুশি মনে ড্রয়িংরুমের দিকে
অগ্রসর হলো। নজরুলের হাতে ফেভিকলের ডিব্বা।

বাতেন ছিদ্দিকীঃ

বিশিষ্ট রোমান্টিক কবি মুকুলের এমন আবিস্কারে সবাই টাস্কিত!! বিবাহিতরা রাগে-ক্ষোভে আর অবিবাহিতরা ফুর্তিতে, আনন্দে। নির্যাতিত পুরুষ সংঘঠনের পক্ষে নীড় সন্ধানী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান "এমন একটা আবিস্কার অনেক আগেই দরকার ছিল, যা সমাজে আমাদের মত নির্যাতিত পুরুষের পরিমান অনেকাংশে কমিয়ে দিত। যদিও জনাব মুকুলের এই আবিষ্কার আমাদের সংগঠের জন্য বেশ হুমকি স্বরুপ, তবুও আমরা তাকে আভিনন্দন জানায়।" উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মলিকিউল রেহমান সহ আরো অনেকে। এদিকে বিবিসি, সিএনএন-এ জনাব মুকুলের এই আবিস্কারের খবর প্রচার হবার সাথে সাথে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া সহ প্রথিবীর বাহিরের কয়েকটি গ্রহে আনন্দ মিছিল বের হয়। আমেরিকায়, নিউইয়ার্ক, ওয়াশিংটন স হ কয়েকটি অংগরাজ্যে বিদ্যুৎসমস্যার কারনে লোকজন এই নিউজ দেখতে না পারায় ব্যাপক ভাংচুর করে।

এক জন পথচারী মেয়ের হাতে টুটুলের নির্জাতনের চিত্র ধরা পরে সিসি ক্যামেরায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবাধারে তা ছড়িয়ে পরে অনলাইনের। কয়েকটি পত্রিকা বেশ ফলাও করে স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ফলে খুব সহজেই এ খবর ছড়িয়ে পরে সাড়া বিশ্বে। কাজী সোহেল খবরের কাগজে সেই খবর দেখার সাথে সাথে ফোন করে টুটুলকে। জানতে পারে সাঈদের বিয়ের জন্য কাজী খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কাজী সাহেব সাথে সাথে তার ব্যাক্তিগত জেটের পাইলটকে ডেকে বাংলাদেশের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিতে বল্লো। কিছু দূর এগোতেই বাউলের ফোন!!! বাউল জানালো সেও যেতে চাই কিন্তু বাচ্চাদের ক্লাস, বউয়ের চাকুরি, সকাল-দুপুর-রাতে রান্না, ঘড় গোছানো এসব ফেলে ক্যামনে যাবে সেসব নিয়ে চিন্তিত। অবশেষে বিশেষ কন্ডিশনে বাউল ভাবী রাজি হলেন যে দেশে থেকে ফেরার সময় তার জন্য নিউমার্কেটের চটপটি আর টিএসসি থেকে ফুসকা নিয়ে যেতে হবে। কাজী সাব প্লেন জাপানের দিকে ঘুড়ালেন.....

সাঈদঃ

বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু সূর্য পশ্চিমে হেলে যাবার কোন লক্ষন নাই। মিসেস নজরুল ওরফে নুপূরের পেটের ভিতর ক্ষিদায় চো চো করছে কিন্তু কারো খাবার দেবার কোন উদ্যোগ নাই দেখে নিজেই রান্না ঘরে ঢুকে। গামলা নিয়ে বসতে যাবে এমন সময় মোবাইলে কল।

শাড়ীর পকেট থেকে মোবাইল বের করে নুপূর। জয়িতার কল

- সবাই কি খেতে বসে গেছে ? ওপাশ থেকে জয়িতার প্রশ্ন
- আরে না , কারোরই খাবার ইচ্ছা নাই । সাঈদের বিয়ে নিয়ে সবাই ব্যস্ত। সাঈদ দুই দুইটা লাড়কি লেকে আয়া।
- ইয়া মাবুদ !!! যাক । আমি আইতাছি চিন্তায়েন না। জয়িতার কন্ঠে উচ্ছাস
- আসো আসো। তা এত দেরী কেন ?
- আমি তো রাস্তা ঘাট চিনিনা তাই হাতির পিঠে চড়ে আসতেছি। আমার বাসা থেকে ডাইরেক্ট হাসান ভাইয়ের বাসায়। তাই একটু দেরী হইতেছে। সাথে জেবীন ও আছে।
- জলদি আসো তোমরা , জলদি।

বলেই ফোন্টা আবার শাড়ীর পকেটে রেখে দেয় নুপূর। এক গামলা ভাত নিয়ে খাওয়া শুরু করে রান্না ঘরের চিপায়।

ওদিকে বাসার ড্রয়িং রুমে বিশাল হৈ চৈ। মামুন নামে এক সাপুড়ে আইছে আড্ডায়, হাতে বিশাল বীন, তাই নিয়া সাপ খেলা দেখাইতেছে। ঝোলার ভিতর থেকে একটা বাক্স বার করে , ওর ভিতর থেইকা বার করে সাপ।
-এইটা সাপ না , নাগিন। চাইলেই মানুষ হয় আবার চাইলেই সে সাপ হইতে পারে।

সবাই চোখ বড় বড় করে চায়া থাকে সাপের দিকে। মামুন বীন বাঁজাতে থাকে। এক সময় সাপ থেকে মানুষে রুপান্তর হয়। অবাক হয়ে দেখে আর কেউ নয়, নায়িকা শ্রীদেবী।

এদিকে মামুনের পর পরই বাফড়া ঢুকে হাসান সাহেবের বাসায়। ঢুকেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সাঈদের সঙ্গে আসা লবঙ্গ লতিকার দিকে।

হাসান রায়হান:

ওফ এত সময় নিয়া খান সাজায়! এদিকে তো আড্ডা শেষ হয়ে যাবে। লিনা দিলরুবা তাড়াতাড়ি পারলার থেকে বের হয়। সেই ভোর সকালে উঠে নিজস্ব জেট প্লেনে উঠে চলে এসেছেন মুম্বাইয়ের শাহরুখ খানের বিউটি পারলারে। এক সপ্তা আগে বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন শাহরুখ খানের হাতে সাজবেন বলে। প্লেনে উঠে তিনি ভাবছেন ফ্রাই এর কথা। এত ক্ষণে মনে হয় কমপ্লিট হয়ে গেছে। স্বামীকে তিনটা গরু দিয়ে এসেছিলেন । একটা ফ্রাই, একটা গ্রিল ও একটা রোস্ট করতে। ওর হাতের গ্রিল টা সেই রকম মজা হয়। একবার শ্রেয়ার নানা বাড়িতে মহিষের বার বি কিউ করেছিল। গ্রামের মানুষ খেয়ে ধন্য ধন্য করেছে। আধা ঘন্টার মধ্যেই প্লেন বাসায় চলে আসে। তিনটা ষাড়ই রান্না শেষ। লীনা দেরি না করে আস্ত ষাড়ের গ্রিল, ফ্রাই ও রোস্ট নিয়ে রায়হান ভাইয়ের বাসার দিকে রওনা হয়।

এদিকে রায়হান ভাইয়ের বাসায় পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। সবাই অপেক্ষায় যে মুকুলের থ্রিডি মডেল কী সমাধান দেয়। বিমাকে দেখা যায় সেই থাপ্পড় মারা যুবতীকে কী কী বলতে। আর সেই মেয়ে হেসে লুটিয়ে পড়ছে ওর গায়ে। কিছুক্ষণ পর সবার অলক্ষ্যে বিমা থাপ্পড় মারা যুবতীকে নিয়ে পাশের ঘরে সটকে পরে। ছাদে হেলিকপ্টার আবার চালু হয়েছে। মাসুম ভাই নুপুর গিয়ে বসে। তারপর তারা আকাশে উড়ে যায়।

সোহেল কাজীঃ

পাশের ঘর থেকে হঠাত বিমার আর্ত চিতকারে সবাই সেদিকে ছুটে যায়। কিন্তু সবাই দরজায় পৌঁছানোর আগেই বিমা বেড়িয়ে আসে। চোখে মুখে আতঙ্কিত দৃষ্টি। রায়হান ভাই থাপ্পর ওয়ালির দিকে তাকিয়ে বল, ইয়ে মানে বলছিলামকি! বাচ্চা ছেলেটাকে এতো জোড়ে থাপ্পর না দিলেও পারতেন। কিন্তু থাপ্পরওয়ালীর অগ্নিশর্মা দৃষ্টি দেখে কেউ আর কথা বাড়াতে সাহস পায় নি।
বিমা গিয়ে য়্যাজাদ ভাইয়ের পাশে বসলে য়্যাজাদ ভাই শুধালেন, কি করছিলা যে এত্তো জোড়ে থাপ্পর দিছে। বিমা আমতা আমতা করে বলল, আমারে বলল সাঈদ ভাইকে ডেকে দিতে আমি দেরী করছিলাম বলেই… এই পর্যন্ত বলেই বিমা থেমে গিয়ে পালটা প্রশ্ন করল, আপনেরা এতো শউর হইলেন কেম্নে যে আমারে থাপ্পর দিছে? ঘটনা কি টিভিতে লাইভ টেলিকাষ্ট হইছেনি? য্যাজাদ মুচকি হেসে বললেন আরে বেকুব আয়ায় গিয়া গাল দেখ। বিমা টুটুল ভাইয়ের দিকে ক্যামন করে জানি তাকাচ্ছিল। সব দোষ এই ব্যাটার, কে বলবে এমন থাপ্পর কন্যাকে সেধে পথ চিনিয়ে নিয়ে আসে।

এই দিকে সাঈদ ভাই কুলকল ঘামছে, একদিকে লবঙ্গ লতিকা আরেক দিকে থাপ্পর কন্যা; উফ! কি বিপাকেই না পড়া গেল। এখন কি করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছেন। থাপ্পর কন্যার যা মতিগতি কখন কোন কেলেঙ্কারী ঘটায়া ফেলে।

ঠিক তখন মুকুলের ক্রিষ্টাল টিউবে নেপচুন গ্রহের বিক্ষাত সঙ্গীত শিল্পী "আইতিনা" এর মোহময় সঙ্গীত বেজে উঠল। মুকুল টিউবের একটা বোতাম চাপতেই ওপাশ থেকে সোহেল কাজীর কন্ঠ ভেসে এলো, কি অবস্থা মুকুল ভাই? হুনলাম সাঈদ ভাই নাকি বিশাল কেঁচালে পড়ছে?
কিন্তু ছবি দেখা যাচ্ছে না দেখে মুকুল কয়েকবার টিউব ঝাকাঝাকি করে বিরক্ত হয়ে বলল, আপনের ছবি দেখা যায় না কেন? জবাবে সোহেল কাজী বলল; আরে ফিরিকোয়েন্সি টেরাবল হইতেছে, আমি এখন এন্ড্রোমিডিয়ার বাইরে আছি সামার ভেকেশনে। বর্তমানে E81 গ্রহের একটা বিচে কাইত হইয়া আছি, এইখানের ধুমা পানির বেশ সুনাম আছে বলে শুনছিলাম, আসলেই মিথ্যা শুনি নাই। বাদ্দেন, বলেন ঘটনা কি?
মুকুল সংক্ষেপে ঘটনা বললে উপাশে মৃদু হাসির শব্দ শোনা গেল। হাসি থামলে কাজী বলল, আরে দুই কন্যার লইয়া সাঈদ ভাই পেজগীতে পড়ছে এইতো হেহেহে, সমাধান তো খুবই সিম্পল। সাঈদ ভাইয়ের আজকের ফেসবুক স্টেটাসেই সমাধান রইছে।

এতোক্ষন সবাই উতসুক হয়ে এই বার্তালাপ শুনছিলো। এবার হঠাতই রায়হান সাহেব হামলে পড়ে তার লেপটপ ওপেন করে সাঈদ'এর স্টেটাস দেখে চোখ ছানাবরা করে ফেলল। লেপটপে যে নজরুল ভাইয়ের কাছ থেকে আনা প্রোজেক্টর কানেক্ট করা রয়েছে সেটা তার মনে ছিল না। এতোক্ষণে প্রজেক্টরের স্ক্রীনে সাঈদ ভাইয়ের স্টেটাস সবাই দেখে ফেলেছে। সেখানে লেখাঃ
"কণ্যা তোমার প্রেমে আমি হাবুডুবু খাইলাম না
ও কণ্যা আমার সাতার আগেই আছে যে জানা।"

স্টেটাস দেখে লবঙ্গ লতিকার চোখ ঠিকড়ে বেড়িয়ে আসতে চাইছে দেখে তাকে সান্তনা দেয়ার জন্য মুকুল আর বিমা লবঙ্গ লতিকার দুই পাশে এসে বসল। তারা মনে মনে খোদাকে শুকরিয়া জানাচ্ছে, আল্লা সুজুগ করে দিছে, মাসুম ভাই রুমে নাই।
ওদিকে বাকি সবাই তাকিয়ে আছে থাপ্পর কন্যার দিকে। রুমে পিন পতন নিরবতা।

রাফি:

এদিকে বউ হবার দাবীদার দুই সুন্দরী তরুনীকে নিয়া সাঈদ ভাইয়ের সাথে পুরা জমায়েত চিন্তিত। কি করবে? কাকে রেখে কাকে বিয়ে করবে? কোন যুক্তিতে কাকে বাদ দেবে এই নিয়ে তুমুল ব্রেইনস্টোর্মিং চলছে, কিন্তু অদ্যাবধি কোন উপায় বের হচ্ছে না।

ব্যক্তিগতভাবে সাঈদ লবংগ লতিকারে ভালা পায়, মেয়েটা নরম সরম, আদুরে ভাবভংগী আছে, লাজুক ভাবটাও আবেদনময়। একটাই সমস্যা, সারাক্ষন গায়ের সাথে লেপ্টে থাকে। বিয়ের আগে লেপ্টে থাকলে ভালই লাগে, বিয়ের পর এত লেপ্টে থাকলে তো সমস্যা। হাজার হোক, ঘরকা মুরগী ডাল বরাবর।

আর অন্যদিকে মিথিলা একটা জীবন্ত টাইম বোম। অথচ প্রথমদিকে মেয়েটা কতই না রোমান্টিক ছিলো। কত কিছু গিফট দিতো, বডি স্প্রে, সেফটি রেজর, সেভিং ফোম, আন্ডু, চুলের কলপ। ভাত তুলে খাওয়াতো, কলা ছিলে খাওয়াতো। সেই মেয়ের অতি ভালোবাসায় অতিষ্ঠ হয়ে আর মানচিত্র পরিচিত হওয়ায় লবংগের দিকে যাত্রা, তাতেই মিথিলার এমন রুপ। বিয়ে করলে তো এই মেয়ে লাইফটা কেচো বানিয়ে দেবে। ইভেন বাসায় বুয়া পর্যন্ত রাখতে দেবে না।

এর মধ্যে ডিজিটাল ম্যাচ মেকার মুকুল ভাই একটা কিরিন্চি বুদ্ধি পেলো। সাঈদ ভাই রে হাসান ভাই আর মাসুম ভাই সহ আড়ালে ডেকে নিয়ে গেলো।
মুকুলঃ একটা বুদ্ধি আসছে মাথায় এ বিপদ থেইকা উত্তরনের। তার আগে সাঈদ ভাই বলেন, আমি কোন কন্যারে বিবাহ করতে চান, সেই অনুযায়ী সেটাপ করতে হৈপে।
সাঈদঃ (ইষৎ লাজুক মুখে) আমি তো বর্তমান জনরে মানে আপনেদের ভাষায় লবংগরে ভালো পাই।
মুকুলঃ তাইলে তো হয়্যা গেলো। প্যাচ হৈলো, আমরা কমু বিয়া হৈপে সেই মেয়ের যার এখানে অভিভাবক পাওয়া যাইবে, যার অভিভাবক হৈতে কেউ রাজি হৈপে না তার বিয়া হৈপে না। সুতরাং মাসুম ভাই আর হাসান ভাই, আপনেরা লবংগ বিবির গার্জেন সাজেন, আর বাকী সবাইরে কানে কানে বৈলা দেন কেউ যেন বাহাদুরী দেখায়া মেয়ের অভিভাবক না সাজে। সোজা হিসাব।
বুদ্ধিটা শুনে হাসান ভাইকে খুশি মনে হৈলো, যাক সাঈদের একটা গতি হৈলো, কিন্তু মাসুম ভাইকে কিছুটা অসন্তুষ্ট মনে হলো, কারন লবংগের মত নরম সরম তরুনীরা শালি হিসেবে থাকলেই ভালো, পরিচিত কার বউ হৈলে ফায়দা নাই।
মাসুমঃ কি বললা মুকুল, এইটা খুব ক্রুড একটা বুদ্ধি হৈলো। এমন ভাবে মেয়েটার নরম বুকে আঘাত দিবা, মানে নরম মনে আঘাত দিবা? কাজটা ঠিক মনে হৈতেছে না।
সাঈদঃ না না, কি কন মাসুম ভাই? মুকুল ভাই ঠিক বলছে। এইটা গণতান্ত্রিক পথ। গণতন্ত্রে গ্রহন বর্জন থাকবেই। আর বর্জনের ঘটনা ঘটলে সেই মাইনা নেবার মানসিকতাও থাকতে হৈপে।
হাসান: সাঈদ আবার কিসের মধ্যে কিসের আলাপ আনো। তবে মুকুল ঠিক বুদ্ধি দিছে। এইরাম দজ্জাল মেয়েরে এমনেই সাইজ করতে হৈবো। কত ভয়ংকর মেয়ে, টুটুল আর বিমার গাল লাল বানায়া ফেলছে, সাঈদরে কি করে ভবিষ্যতে সেইটা ভাবতেই তো আমার জ্বর আসতেছে।

দুইজনের আপত্তির মুখে মাসুম ভাই চুপ করে, কিন্তু মনে মনে একটা ঝামেলা লাগায়া দেয়ার প্ল্যান আটে। হাসান ভাই আর মুকুল ভাই যখন জমায়েতের সবাইরে দজ্জাল মেয়েরে বাদ দেবার বুদ্ধি বাতলাইতেছে আড়ালে নিয়া, আর সাঈদ সবার দিকে বিগলিত হাসি দিতেছে, তখন মাসুম ভাই সেল ফোনে দজ্জাল মেয়ের একটা ছবি তুইলা পরিচিত এক টিভি চ্যানেলের মহিলা রিপোর্টাররে ছবি সহ ঘটনার সংক্ষেপে বর্ননা পাঠায়। কিছুক্ষনের মধ্যে সেইটা জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেলগুলোর ব্রেকিং নিউজ হিসেবে টিভিপর্দায় আসতে থাকে।

"অভিভাবকের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না এক বিবাহ যোগ্য মেয়ের।। বাংলাদেশে আর কতদিন এমন চলবে?"

জমায়াতের কেউই বাংলা চ্যানেল গুলো তখন দেখছে না, তাই এই ঝামেলার কথা কেউ জানে না।
এদিকে সবাইকে মানিয়ে বুঝিয়ে ডিজিটাল ম্যাচ মেকার মুকুল ভাই সবার সামনে বিয়ের শর্তগুলো ঘোষনা দিলেন, হাসান ভাই লবংগের অভিভাবক হৈতে ইচছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু মিথিলার অভিভাবক হৈতে কেউ তখনও রাজি হয় নাই। ঐদিকে একটু সময় নষ্ট করার মাসুম ভাই টয়লেটে গিয়ে বসে আছে। এমন সময় বাসার সামে হৈচৈ, পুলিশের বাশির শব্দ শুনে সবাই চমকে উঠলো। তার সাথে দরজায় করাঘাত।

হাসান ভাই ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দেখলো তার সামনে ঠেলাঠেলি করে দাড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছে সংসদের কয়েকজন এমপি, চারজন সরকারী দলের, চারজন বিরোধীদলের। পেছনে পুলিশ আর সাংবাদিকরাও মারামারি করে যাচ্ছে জায়গা পাওয়ার জন্য। সরকারী আর বিরোধী এমপিরা একটু পর পর একে অপরের দিকে তর্জনী উঠিয়ে শাসাচ্ছেন।

হাসান ভাই ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনারা সবাই আমার বাসার সামনে কেনো? কি হৈছে?
এমপি/সাংবাদিকঃ আপনার বাসায় নাকি একটা মেয়ের অভিভাবকের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না? আমরা সেটার প্রতিবিধান করতে এয়েছি।
হাসান ভাইঃ কি বলতেছেন আপনারা, এইটা আপনেরা জানলেন কিভাবে?
কেউ একজন চিৎকার করে বললো, "টিভি খুলেন মিয়া।"
মাসুমভাই টিভির পাশেই দাড়িয়ে ছিলো, অন করে দিলো। সব চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে একটাই খবর, মেয়েটার অভিভাবকের অভাবে বিয়ে না হওয়া, তার সাথে তার ছবি আর বর্তমান অবস্থান।

খবরটা দেখে সাঈদের চেহারা আতংকে নীল, বাকিরা হতবাক, আর দজ্জালের চোখ দিয়ে বের হচ্ছে আগুন।

সরকারী দলের এমপিবৃন্দঃ আমাদের প্রধানমন্ত্রী সৈয়দা হুসনা বানু পাঠাইছেন এইটা বলতে যে উনি সেই মেয়ের অভিভাবক হৈতে চান, অভিভাবকের অভাবে কারও বিয়ে আটকাবে এইটা উনি হৈতে দিতে পারেন না।
বিরোধীদলের এমপি বৃন্দঃ না না, বার বার সেইটা হবে না। এই মেয়ের অভিভাবক হবেন আমাদের নেত্রী বিবি খোদেজা চৌধুরানী। উনি এইবার কুনো আপোষ করবেন না।

কথাগুলো শুনে সবার আক্কেল গুড়ুম, সাঈদ অজ্ঞান প্রায়, হাসান ভাই গুঢ় অর্থ টের পেয়ে মাসুম ভাইয়ের দিকে তাকান, মাসুম ভাই তখন মিটি মিটি হাসছেন।

অভিভাবক এখন দুই কন্যারই আছে, বিয়ে কি তাহলে দুইজনেরই হবে সাঈদের সাথে? সমস্যা একটাই। মিথিলার অভিভাবক হবে কে? সৈয়দা হুসনা নাকি বিবি খোদেজা? কে ? কে ?

---------------------------------------------------------------------------------------------

বাকীটুকু অন্য কেউ লিখেন। তা গল্পে যোগ করে দেয়া হবে।

আগের পোষ্টে কমেন্ট বেশী হয়ে যাওয়াতে সবা লেখা গুলো আপডেট করে নতুন পোষ্ট দেয়া হলো। এখন এখানেই আসেন আমরা এড করি নতুন করে।

আষাঢ়ে গপ্পো

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বাতেন ফকির's picture


ব্যাপক জমছে দেখা যায়!! আবুতে কাজী থাকতে টুটুল ভাই কেন কাজী খুজতে গেল? ইস্রে বেচারা!!!!

অতিথি's picture


Steve Steve Steve

জ্যোতি's picture


হুমমমম। ভালৌছে।

বাতেন ছিদ্দিকী's picture


বিশিষ্ট রোমান্টিক কবি মুকুলের এমন আবিস্কারে সবাই টাস্কিত!! বিবাহিতরা রাগে-ক্ষোভে আর অবিবাহিতরা ফুর্তিতে, আনন্দে। নির্যাতিত পুরুষ সংঘঠনের পক্ষে নীড় সন্ধানী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান "এমন একটা আবিস্কার অনেক আগেই দরকার ছিল, যা সমাজে আমাদের মত নির্যাতিত পুরুষের পরিমান অনেকাংশে কমিয়ে দিত। যদিও জনাব মুকুলের এই আবিষ্কার আমাদের সংগঠের জন্য বেশ হুমকি স্বরুপ, তবুও আমরা তাকে আভিনন্দন জানায়।" উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মলিকিউল রেহমান সহ আরো অনেকে। এদিকে বিবিসি, সিএনএন-এ জনাব মুকুলের এই আবিস্কারের খবর প্রচার হবার সাথে সাথে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া সহ প্রথিবীর বাহিরের কয়েকটি গ্রহে আনন্দ মিছিল বের হয়। আমেরিকায়, নিউইয়ার্ক, ওয়াশিংটন স হ কয়েকটি অংগরাজ্যে বিদ্যুৎসমস্যার কারনে লোকজন এই নিউজ দেখতে না পারায় ব্যাপক ভাংচুর করে।

এক জন পথচারী মেয়ের হাতে টুটুলের নির্জাতনের চিত্র ধরা পরে সিসি ক্যামেরায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবাধারে তা ছড়িয়ে প রে অনলাইনের। কয়েকটি পত্রিকা বেশ ফলাও করে স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ফলে খুব সহজেই এ খবর ছড়িয়ে পরে সাড়া বিশ্বে। কাজী সোহেল খবরের কাগজে সেই খবর দেখার সাথে সাথে ফোন করে টুটুলকে। জানতে পারে সাঈদের বিয়ের জন্য কাজী খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কাজী সাহেব সাথে সাথে তার ব্যাক্তিগত জেটের পাইলটকে ডেকে বাংলাদেশের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিতে বল্লো। কিছু দূর এগোতেই বাউলের ফোন!!! বাউল জানালো সেও যেতে চাই কিন্তু বাচ্চাদের ক্লাস, বউয়ের চাকুরি, সকাল-দুপুর-রাতে রান্না, ঘড় গোছানো এসব ফেলে ক্যামনে যাবে সেসব নিয়ে চিন্তিত। অবশেষে বিশেষ কন্ডিশনে বাউল ভাবী রাজি হলেন যে দেশে থেকে ফেরার সময় তার জন্য নিউমার্কেটের চটপটি আর টিএসসি থেকে ফুসকা নিয়ে যেতে হবে। কাজী সাব প্লেন জাপানের দিকে ঘুড়ালেন.....

সাঈদ's picture


ওরে খোদা !!! কই থেইকা কই যাইতাছে !!!

বাতেন ছিদ্দিকী's picture


আষাড় মাস বৃষ্টি কখন কোথাই নামে তার কি ঠিক আছে? Tongue

বোহেমিয়ান's picture


খাইচে! বিশাআআআআল গল্প! বিশাআআআআল প্যাচ!

তানবীরা's picture


রিয়াল লাইফের নায়ক নায়িকাদের নিয়ে গল্পের অবস্থাতো চরম যাচ্ছে। রাতে আবার চেক করবো কি হচ্ছে ।

চরম চরম চরম Party

তানবীরা's picture


সাঈদ ভাই, মামুন ভাইয়ের রোল কোথায়? মামুন ভাইরের ঢুকান নইলে জমবে না

১০

সাঈদ's picture


আমি আরেকটু যোগ করলামঃ

বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু সূর্য পশ্চিমে হেলে যাবার কোন লক্ষন নাই। মিসেস নজরুল ওরফে নুপূরের পেটের ভিতর ক্ষিদায় চো চো করছে কিন্তু কারো খাবার দেবার কোন উদ্যোগ নাই দেখে নিজেই রান্না ঘরে ঢুকে। গামলা নিয়ে বসতে যাবে এমন সময় মোবাইলে কল।

শাড়ীর পকেট থেকে মোবাইল বের করে নুপূর। জয়িতার কল

- সবাই কি খেতে বসে গেছে ? ওপাশ থেকে জয়িতার প্রশ্ন
- আরে না , কারোরই খাবার ইচ্ছা নাই । সাঈদের বিয়ে নিয়ে সবাই ব্যস্ত। সাঈদ দুই দুইটা লাড়কি লেকে আয়া।
- ইয়া মাবুদ !!! যাক । আমি আইতাছি চিন্তায়েন না। জয়িতার কন্ঠে উচ্ছাস
- আসো আসো। তা এত দেরী কেন ?
- আমি তো রাস্তা ঘাট চিনিনা তাই হাতির পিঠে চড়ে আসতেছি। আমার বাসা থেকে ডাইরেক্ট হাসান ভাইয়ের বাসায়। তাই একটু দেরী হইতেছে। সাথে জেবীন ও আছে।
- জলদি আসো তোমরা , জলদি।

বলেই ফোন্টা আবার শাড়ীর পকেটে রেখে দেয় নুপূর। এক গামলা ভাত নিয়ে খাওয়া শুরু করে রান্না ঘরের চিপায়।

ওদিকে বাসার ড্রয়িং রুমে বিশাল হৈ চৈ। মামুন নামে এক সাপুড়ে আইছে আড্ডায়, হাতে বিশাল বীন, তাই নিয়া সাপ খেলা দেখাইতেছে। ঝোলার ভিতর থেকে একটা বাক্স বার করে , ওর ভিতর থেইকা বার করে সাপ।
-এইটা সাপ না , নাগিন। চাইলেই মানুষ হয় আবার চাইলেই সে সাপ হইতে পারে।

সবাই চোখ বড় বড় করে চায়া থাকে সাপের দিকে। মামুন বীন বাঁজাতে থাকে। এক সময় সাপ থেকে মানুষে রুপান্তর হয়। অবাক হয়ে দেখে আর কেউ নয়, নায়িকা শ্রীদেবী।

এদিকে মামুনের পর পরই বাফড়া ঢুকে হাসান সাহেবের বাসায়। ঢুকেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সাঈদের সঙ্গে আসা লবঙ্গ লতিকার দিকে।

১১

হাসান রায়হান's picture


ওফ এত সময় নিয়া খান সাজায়! এদিকে তো আড্ডা শেষ হয়ে যাবে। লিনা দিলরুবা তাড়াতাড়ি পারলার থেকে বের হয়। সেই ভোর সকালে উঠে নিজস্ব জেট প্লেনে উঠে চলে এসেছেন মুম্বাইয়ের শাহরুখ খানের বিউটি পারলারে। এক সপ্তা আগে বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন শাহরুখ খানের হাতে সাজবেন বলে। প্লেনে উঠে তিনি ভাবছেন ফ্রাই এর কথা। এত ক্ষণে মনে হয় কমপ্লিট হয়ে গেছে। স্বামীকে তিনটা গরু দিয়ে এসেছিলেন । একটা ফ্রাই, একটা গ্রিল ও একটা রোস্ট করতে। ওর হাতের গ্রিল টা সেই রকম মজা হয়। একবার শ্রেয়ার নানা বাড়িতে মহিষের বার বি কিউ করেছিল। গ্রামের মানুষ খেয়ে ধন্য ধন্য করেছে। আধা ঘন্টার মধ্যেই প্লেন বাসায় চলে আসে। তিনটা ষাড়ই রান্না শেষ। লীনা দেরি না করে আস্ত ষাড়ের গ্রিল, ফ্রাই ও রোস্ট নিয়ে রায়হান ভাইয়ের বাসার দিকে রওনা হয়।

এদিকে রায়হান ভাইয়ের বাসায় পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। সবাই অপেক্ষায় যে মুকুলের থ্রিডি মডেল কী সমাধান দেয়। বিমাকে দেখা যায় সেই থাপ্পড় মারা যুবতীকে কী কী বলতে। আর সেই মেয়ে হেসে লুটিয়ে পড়ছে ওর গায়ে। কিছুক্ষণ পর সবার অলক্ষ্যে বিমা থাপ্পড় মারা যুবতীকে নিয়ে পাশের ঘরে সটকে পরে। ছাদে হেলিকপ্টার আবার চালু হয়েছে। মাসুম ভাই নুপুর গিয়ে বসে। তারপর তারা আকাশে উড়ে যায়।

১২

মীর's picture


"সাঈদের বিয়ে নিয়ে সবাই ব্যস্ত। সাঈদ দুই দুইটা লাড়কি লেকে আয়া"

অদ্ভূত গল্প। পইড়ে হাসতেই আছি। পোস্ট প্রিয়তে

১৩

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


শাওন৩৫০৪ এরটা সবচাইতে মজার হইছে Big smile

১৪

সাঈদ's picture


আস্ত গরুর বার্বি কিউ খাইতে মঞ্চায় Sad

১৫

সাঈদ's picture


গপ্পো কি শেষের দিকে ? Shock

১৬

রাসেল আশরাফ's picture


আরে মিয়া এখনো বিয়া করতে পারলেন না।বিয়া আগে করেন।সেই গানডা বাজুক তারপর শেষ হইবো@সাঈদ ভাই

১৭

সাঈদ's picture


কেউ তো আগাইতাছে না আর বিয়া নিয়া Sad(

১৮

রাসেল আশরাফ's picture


ধৈর্য ধরেন আর বুকে সাহস রাখেন।

১৯

সোহেল কাজী's picture


পাশের ঘর থেকে হঠাত বিমার আর্ত চিতকারে সবাই সেদিকে ছুটে যায়। কিন্তু সবাই দরজায় পৌঁছানোর আগেই বিমা বেড়িয়ে আসে। চোখে মুখে আতঙ্কিত দৃষ্টি। রায়হান ভাই থাপ্পর ওয়ালির দিকে তাকিয়ে বল, ইয়ে মানে বলছিলামকি! বাচ্চা ছেলেটাকে এতো জোড়ে থাপ্পর না দিলেও পারতেন। কিন্তু থাপ্পরওয়ালীর অগ্নিশর্মা দৃষ্টি দেখে কেউ আর কথা বাড়াতে সাহস পায় নি।
বিমা গিয়ে য়্যাজাদ ভাইয়ের পাশে বসলে য়্যাজাদ ভাই শুধালেন, কি করছিলা যে এত্তো জোড়ে থাপ্পর দিছে। বিমা আমতা আমতা করে বলল, আমারে বলল সাঈদ ভাইকে ডেকে দিতে আমি দেরী করছিলাম বলেই… এই পর্যন্ত বলেই বিমা থেমে গিয়ে পালটা প্রশ্ন করল, আপনেরা এতো শউর হইলেন কেম্নে যে আমারে থাপ্পর দিছে? ঘটনা কি টিভিতে লাইভ টেলিকাষ্ট হইছেনি? য্যাজাদ মুচকি হেসে বললেন আরে বেকুব আয়ায় গিয়া গাল দেখ। বিমা টুটুল ভাইয়ের দিকে ক্যামন করে জানি তাকাচ্ছিল। সব দোষ এই ব্যাটার, কে বলবে এমন থাপ্পর কন্যাকে সেধে পথ চিনিয়ে নিয়ে আসে।

এই দিকে সাঈদ ভাই কুলকল ঘামছে, একদিকে লবঙ্গ লতিকা আরেক দিকে থাপ্পর কন্যা; উফ! কি বিপাকেই না পড়া গেল। এখন কি করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছেন। থাপ্পর কন্যার যা মতিগতি কখন কোন কেলেঙ্কারী ঘটায়া ফেলে।

ঠিক তখন মুকুলের ক্রিষ্টাল টিউবে নেপচুন গ্রহের বিক্ষাত সঙ্গীত শিল্পী "আইতিনা" এর মোহময় সঙ্গীত বেজে উঠল। মুকুল টিউবের একটা বোতাম চাপতেই ওপাশ থেকে সোহেল কাজীর কন্ঠ ভেসে এলো, কি অবস্থা মুকুল ভাই? হুনলাম সাঈদ ভাই নাকি বিশাল কেঁচালে পড়ছে?
কিন্তু ছবি দেখা যাচ্ছে না দেখে মুকুল কয়েকবার টিউব ঝাকাঝাকি করে বিরক্ত হয়ে বলল, আপনের ছবি দেখা যায় না কেন? জবাবে সোহেল কাজী বলল; আরে ফিরিকোয়েন্সি টেরাবল হইতেছে, আমি এখন এন্ড্রোমিডিয়ার বাইরে আছি সামার ভেকেশনে। বর্তমানে E81 গ্রহের একটা বিচে কাইত হইয়া আছি, এইখানের ধুমা পানির বেশ সুনাম আছে বলে শুনছিলাম, আসলেই মিথ্যা শুনি নাই। বাদ্দেন, বলেন ঘটনা কি?
মুকুল সংক্ষেপে ঘটনা বললে উপাশে মৃদু হাসির শব্দ শোনা গেল। হাসি থামলে কাজী বলল, আরে দুই কন্যার লইয়া সাঈদ ভাই পেজগীতে পড়ছে এইতো হেহেহে, সমাধান তো খুবই সিম্পল। সাঈদ ভাইয়ের আজকের ফেসবুক স্টেটাসেই সমাধান রইছে।

এতোক্ষন সবাই উতসুক হয়ে এই বার্তালাপ শুনছিলো। এবার হঠাতই রায়হান সাহেব হামলে পড়ে তার লেপটপ ওপেন করে সাঈদ'এর স্টেটাস দেখে চোখ ছানাবরা করে ফেলল। লেপটপে যে নজরুল ভাইয়ের কাছ থেকে আনা প্রোজেক্টর কানেক্ট করা রয়েছে সেটা তার মনে ছিল না। এতোক্ষণে প্রজেক্টরের স্ক্রীনে সাঈদ ভাইয়ের স্টেটাস সবাই দেখে ফেলেছে। সেখানে লেখাঃ
"কণ্যা তোমার প্রেমে আমি হাবুডুবু খাইলাম না
ও কণ্যা আমার সাতার আগেই আছে যে জানা।"

স্টেটাস দেখে লবঙ্গ লতিকার চোখ ঠিকড়ে বেড়িয়ে আসতে চাইছে দেখে তাকে সান্তনা দেয়ার জন্য মুকুল আর বিমা লবঙ্গ লতিকার দুই পাশে এসে বসল। তারা মনে মনে খোদাকে শুকরিয়া জানাচ্ছে, আল্লা সুজুগ করে দিছে, মাসুম ভাই রুমে নাই।
ওদিকে বাকি সবাই তাকিয়ে আছে থাপ্পর কন্যার দিকে। রুমে পিন পতন নিরবতা।

২০

জ্যোতি's picture


কাজী সাবরে চা পান খাইতে দেন কেউ ।সাঈদ ভাই ডাইকা আনলো বিয়া পড়াইতে , কাজী দিলো মাইয়া ভাগাইয়া। কাজীরে ঝাঝা।

২১

সাঈদ's picture


তোমারে মাইনাস , আমারে বিয়া না দিয়া উলটা লবঙ্গ লতিকাদের ভাগায়া দিলা !!!

২২

শওকত মাসুম's picture


হাহাহাহাহাহ। জোস হইছে।
এরপর কে?

২৩

রাফি's picture


প্যাচ তো খুলতেছে মনে হয়। আবার নতুন কৈরা প্যাচ লাগানোর দরকার হৈলো বৈলেন, আমি আছি। Big smile

২৪

সাঈদ's picture


পিলিজ লাগে প্যাচ ছুটান । কতক্ষন আর দর দর কইরা ঘামুম।

২৫

হাসান রায়হান's picture


@রাফি, সাঈদের সাথে চড়ওয়ালী ও লবংগ দুইটারই বিয়া দিয়া দেন। তাইলে ঘাম বন্ধ হইব। Cool

২৬

রাফি's picture


এদিকে বউ হবার দাবীদার দুই সুন্দরী তরুনীকে নিয়া সাঈদ ভাইয়ের সাথে পুরা জমায়েত চিন্তিত। কি করবে? কাকে রেখে কাকে বিয়ে করবে? কোন যুক্তিতে কাকে বাদ দেবে এই নিয়ে তুমুল ব্রেইনস্টোর্মিং চলছে, কিন্তু অদ্যাবধি কোন উপায় বের হচ্ছে না।

ব্যক্তিগতভাবে সাঈদ লবংগ লতিকারে ভালা পায়, মেয়েটা নরম সরম, আদুরে ভাবভংগী আছে, লাজুক ভাবটাও আবেদনময়। একটাই সমস্যা, সারাক্ষন গায়ের সাথে লেপ্টে থাকে। বিয়ের আগে লেপ্টে থাকলে ভালই লাগে, বিয়ের পর এত লেপ্টে থাকলে তো সমস্যা। হাজার হোক, ঘরকা মুরগী ডাল বরাবর।

আর অন্যদিকে মিথিলা একটা জীবন্ত টাইম বোম। অথচ প্রথমদিকে মেয়েটা কতই না রোমান্টিক ছিলো। কত কিছু গিফট দিতো, বডি স্প্রে, সেফটি রেজর, সেভিং ফোম, আন্ডু, চুলের কলপ। ভাত তুলে খাওয়াতো, কলা ছিলে খাওয়াতো। সেই মেয়ের অতি ভালোবাসায় অতিষ্ঠ হয়ে আর মানচিত্র পরিচিত হওয়ায় লবংগের দিকে যাত্রা, তাতেই মিথিলার এমন রুপ। বিয়ে করলে তো এই মেয়ে লাইফটা কেচো বানিয়ে দেবে। ইভেন বাসায় বুয়া পর্যন্ত রাখতে দেবে না।

এর মধ্যে ডিজিটাল ম্যাচ মেকার মুকুল ভাই একটা কিরিন্চি বুদ্ধি পেলো। সাঈদ ভাই রে হাসান ভাই আর মাসুম ভাই সহ আড়ালে ডেকে নিয়ে গেলো।
মুকুলঃ একটা বুদ্ধি আসছে মাথায় এ বিপদ থেইকা উত্তরনের। তার আগে সাঈদ ভাই বলেন, আমি কোন কন্যারে বিবাহ করতে চান, সেই অনুযায়ী সেটাপ করতে হৈপে।
সাঈদঃ (ইষৎ লাজুক মুখে) আমি তো বর্তমান জনরে মানে আপনেদের ভাষায় লবংগরে ভালো পাই।
মুকুলঃ তাইলে তো হয়্যা গেলো। প্যাচ হৈলো, আমরা কমু বিয়া হৈপে সেই মেয়ের যার এখানে অভিভাবক পাওয়া যাইবে, যার অভিভাবক হৈতে কেউ রাজি হৈপে না তার বিয়া হৈপে না। সুতরাং মাসুম ভাই আর হাসান ভাই, আপনেরা লবংগ বিবির গার্জেন সাজেন, আর বাকী সবাইরে কানে কানে বৈলা দেন কেউ যেন বাহাদুরী দেখায়া মেয়ের অভিভাবক না সাজে। সোজা হিসাব।
বুদ্ধিটা শুনে হাসান ভাইকে খুশি মনে হৈলো, যাক সাঈদের একটা গতি হৈলো, কিন্তু মাসুম ভাইকে কিছুটা অসন্তুষ্ট মনে হলো, কারন লবংগের মত নরম সরম তরুনীরা শালি হিসেবে থাকলেই ভালো, পরিচিত কার বউ হৈলে ফায়দা নাই।
মাসুমঃ কি বললা মুকুল, এইটা খুব ক্রুড একটা বুদ্ধি হৈলো। এমন ভাবে মেয়েটার নরম বুকে আঘাত দিবা, মানে নরম মনে আঘাত দিবা? কাজটা ঠিক মনে হৈতেছে না।
সাঈদঃ না না, কি কন মাসুম ভাই? মুকুল ভাই ঠিক বলছে। এইটা গণতান্ত্রিক পথ। গণতন্ত্রে গ্রহন বর্জন থাকবেই। আর বর্জনের ঘটনা ঘটলে সেই মাইনা নেবার মানসিকতাও থাকতে হৈপে।
হাসান: সাঈদ আবার কিসের মধ্যে কিসের আলাপ আনো। তবে মুকুল ঠিক বুদ্ধি দিছে। এইরাম দজ্জাল মেয়েরে এমনেই সাইজ করতে হৈবো। কত ভয়ংকর মেয়ে, টুটুল আর বিমার গাল লাল বানায়া ফেলছে, সাঈদরে কি করে ভবিষ্যতে সেইটা ভাবতেই তো আমার জ্বর আসতেছে।

দুইজনের আপত্তির মুখে মাসুম ভাই চুপ করে, কিন্তু মনে মনে একটা ঝামেলা লাগায়া দেয়ার প্ল্যান আটে। হাসান ভাই আর মুকুল ভাই যখন জমায়েতের সবাইরে দজ্জাল মেয়েরে বাদ দেবার বুদ্ধি বাতলাইতেছে আড়ালে নিয়া, আর সাঈদ সবার দিকে বিগলিত হাসি দিতেছে, তখন মাসুম ভাই সেল ফোনে দজ্জাল মেয়ের একটা ছবি তুইলা পরিচিত এক টিভি চ্যানেলের মহিলা রিপোর্টাররে ছবি সহ ঘটনার সংক্ষেপে বর্ননা পাঠায়। কিছুক্ষনের মধ্যে সেইটা জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেলগুলোর ব্রেকিং নিউজ হিসেবে টিভিপর্দায় আসতে থাকে।

"অভিভাবকের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না এক বিবাহ যোগ্য মেয়ের।। বাংলাদেশে আর কতদিন এমন চলবে?"

জমায়াতের কেউই বাংলা চ্যানেল গুলো তখন দেখছে না, তাই এই ঝামেলার কথা কেউ জানে না।
এদিকে সবাইকে মানিয়ে বুঝিয়ে ডিজিটাল ম্যাচ মেকার মুকুল ভাই সবার সামনে বিয়ের শর্তগুলো ঘোষনা দিলেন, হাসান ভাই লবংগের অভিভাবক হৈতে ইচছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু মিথিলার অভিভাবক হৈতে কেউ তখনও রাজি হয় নাই। ঐদিকে একটু সময় নষ্ট করার মাসুম ভাই টয়লেটে গিয়ে বসে আছে। এমন সময় বাসার সামে হৈচৈ, পুলিশের বাশির শব্দ শুনে সবাই চমকে উঠলো। তার সাথে দরজায় করাঘাত।

হাসান ভাই ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দেখলো তার সামনে ঠেলাঠেলি করে দাড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছে সংসদের কয়েকজন এমপি, চারজন সরকারী দলের, চারজন বিরোধীদলের। পেছনে পুলিশ আর সাংবাদিকরাও মারামারি করে যাচ্ছে জায়গা পাওয়ার জন্য। সরকারী আর বিরোধী এমপিরা একটু পর পর একে অপরের দিকে তর্জনী উঠিয়ে শাসাচ্ছেন।

হাসান ভাই ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনারা সবাই আমার বাসার সামনে কেনো? কি হৈছে?
এমপি/সাংবাদিকঃ আপনার বাসায় নাকি একটা মেয়ের অভিভাবকের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না? আমরা সেটার প্রতিবিধান করতে এয়েছি।
হাসান ভাইঃ কি বলতেছেন আপনারা, এইটা আপনেরা জানলেন কিভাবে?
কেউ একজন চিৎকার করে বললো, "টিভি খুলেন মিয়া।"
মাসুমভাই টিভির পাশেই দাড়িয়ে ছিলো, অন করে দিলো। সব চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে একটাই খবর, মেয়েটার অভিভাবকের অভাবে বিয়ে না হওয়া, তার সাথে তার ছবি আর বর্তমান অবস্থান।

খবরটা দেখে সাঈদের চেহারা আতংকে নীল, বাকিরা হতবাক, আর দজ্জালের চোখ দিয়ে বের হচ্ছে আগুন।

সরকারী দলের এমপিবৃন্দঃ আমাদের প্রধানমন্ত্রী সৈয়দা হুসনা বানু পাঠাইছেন এইটা বলতে যে উনি সেই মেয়ের অভিভাবক হৈতে চান, অভিভাবকের অভাবে কারও বিয়ে আটকাবে এইটা উনি হৈতে দিতে পারেন না।
বিরোধীদলের এমপি বৃন্দঃ না না, বার বার সেইটা হবে না। এই মেয়ের অভিভাবক হবেন আমাদের নেত্রী বিবি খোদেজা চৌধুরানী। উনি এইবার কুনো আপোষ করবেন না।

কথাগুলো শুনে সবার আক্কেল গুড়ুম, সাঈদ অজ্ঞান প্রায়, হাসান ভাই গুঢ় অর্থ টের পেয়ে মাসুম ভাইয়ের দিকে তাকান, মাসুম ভাই তখন মিটি মিটি হাসছেন।

অভিভাবক এখন দুই কন্যারই আছে, বিয়ে কি তাহলে দুইজনেরই হবে সাঈদের সাথে? সমস্যা একটাই। মিথিলার অভিভাবক হবে কে? সৈয়দা হুসনা নাকি বিবি খোদেজা? কে ? কে ?

২৭

জ্যোতি's picture


রাফি ভাইরে ধইন্য ১০ কেজি।রাফি ভাই রকস। এমন পেজগি লাগাইছে। সাঈদ ভাই থাকুক পেজগির মধ্যে। ছাড়াছাড়ি নাই। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। অফিসে এমনে হাসলে চাকরি যাইব গা।

২৮

সাঈদ's picture


খাইছে রে ভাই !!! কোন দিক থেইক্যা কই নিয়া গেলেন !!!

২৯

রাসেল আশরাফ's picture


রাফি ভাই@ এইডা একটা কাম করলেন????????বেচারা সাঈদ ভাই কুলে আইসা কুলে উঠতে পারতেছে না।
Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

৩০

হাসান রায়হান's picture


উরাধুরা হইছে রাফি। Crazy

৩১

সোহেল কাজী's picture


ওরে রাফি ভাই বঙ্গিবুঙ্গি সব ফাডায়া দিছেরে Laughing out loud

৩২

জ্যোতি's picture


অবাক হইলাম রাফি ভাই এত সুন্দর করে রায়হান ভাই, মাসুম ভাই আর সাঈদ ভাই এর চরিত্র টা আনছে যে সত্যি মনে হইতাছে সব। মুগ্ধ হইছি।

৩৩

শওকত মাসুম's picture


হাহাহাহাহহা। ব্যাপক হইছে। এর পর কে?

৩৪

সাঈদ's picture


এরপর আপনি।

ফিনিশিং দিয়া দেন, নজ্রুল ভাইরে কইলাম ফিনিশিং দিতে, টাইম পাইতাছেনা উনি।

৩৫

বাতেন ছিদ্দিকী's picture


আমি কাজী সাবরে ডেকে আনলাম আর কিনা বিয়ে হচ্ছে আমাকে ছাড়া???? Devil

এদিকে বিয়েতে যাবো বলে কেনা-কাটা সেড়ে, বউ,বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে বসে আছি............ Waiting

৩৬

সাঈদ's picture


কই বিয়া হইলো !!! প্যাচ তো লাগায়া দিছে রাফি ভাইয়ে। এখন নেত্রী গো চামু আইছে কি যে হইবো এর পর !!!

৩৭

তানবীরা's picture


গল্প আগাচ্ছে না কেনো? কেনো কেনো কেনো?

Party

৩৮

রাফি's picture


হায় হায়, এখনও ঝুইলা আছে সাঈদ ভাইয়ের বিয়া। আমার সময় নাই, কেউ একজন লেখেন.। এখন তো সহজ। দুই কন্যারে দুই নেত্রীর মেয়ে বানায়া সাঈদ ভাইয়ের লগে বিবাহ দিয়া দেন, খোদা যাব দেতা হ্যায়, তাব ছাপ্পর ফারকে দেতা হ্যায়..... মাসুম ভাইও সাইজ হৈপে তাইলে.। Laughing out loud

৩৯

শওকত মাসুম's picture


আমি একটা মাসুম পোলা। আমারে সাইজ কইরা কি হবে? খেলুম না।

৪০

সাঈদ's picture


আষাঢ়ে গপ্পোর সমাপ্তি টানলাম।

শেষ হইয়াও হইলো না শেষ , সেরকমই সাঈদ এর বিয়া হইয়াও হইলো না বিয়া।

সবাই কে আন্তরিক ধন্যবাদ।

৪১

শাপলা's picture


আমার নাম নাই ক্যান? ব্রাট মাইনাস....।

৪২

তানবীরা's picture


চলেন শুরু করি আবার আষাঢ়ে ভূতের গপপো Laughing out loud

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।